#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব_১১
ফিরোজা সবে মাত্র নিজের রুমে এসে বসলো, এর মধ্যেই দরজায় কারো উপস্থিতি টের পেয়ে সেই দিকে তাকালো, কোনো এক মানুষ কে দেখে সে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, বাইরে কেনো আব্বু ভিতরে এসো,
তখনই অপর পাশের মানুষটি বললো, তুমি কি এখন ফ্রি আছো মা,
তোমার সাথে আমার কিছু গুরত্ব পূর্ণ কথা ছিলো,
ফিরোজা: হ্যাঁ, আব্বু বলো,
আসলে মা আর কত দিন এভাবে থাকবে, এবার,
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই ফিরোজা বুঝে গেলো তার বাবা কি বলতে চাইছে
ফিরোজার আব্বু আনোয়ার সদ্দার এবার বলল,
“দেখো মা এবার আর না করো না, আমি তোমার জন্য ভালো এক জন ছেলে দেখছি, তুমি এবার বিয়ে টা করে নেও”
ফিরোজা কিছু বলতে যেয়েও থেমে গেলো, শুধু বলল, “যেটা তোমার ভালো মনে হয়”
আনোয়ার আর কোনো কথা বাড়ালো না, চলে গেল রুম থেকে বেরিয়ে,
রাতের দিকে ফিরোজার রুমে তার মা আনোয়ারা বেগম আসে,
মাকে আসতে দেখে ফিরোজা উঠে বসে,
ফিরোজার কাছে গিয়ে বসে সে, আর বলে,
“আমার মেয়েটা কত বড় হয়ে গেছে, এতো তাড়া তাড়ি বড় হয়ে গেলি টেরও পেলাম না,”
ফিরোজা কিছুই বলে না, সে আবার বলে,
“শোন মা কাল তোকে দেখতে আসবে”, তাই তোর আব্বু বলছে তোকে অফিসে না যেতে, আর শুধু কাল না যতো দিন বিয়ে হচ্ছে তোর ততো দিন না বের হতে,”
এটা শুনে ফিরোজা এবার বললো,”এটা কেমন কথা মা”, হ্যাঁ কাল না হয় অফিসে না গেলাম, তাই বলে এই কয়দিন বের হতে পারবো না “,
আনোয়ারা বেগম বললেন,”আমি কিছুই জানি না”, তোমার আব্বু আমাকে যা বলছে আমি তো তাই বললাম, এখন তোমরা, বাব মেয়ে বুঝো,”
বলেই সে চলে গেলেন,
ফিরোজা আর কথা বাড়ালো না,
কি বলবে সে, তার তো মাথায় কিছুই আসছে না, তার কেনো এতো খারাপ লাগছে, সে তো এখন আর তার কথা ভাবে না, তার পরও কেনো?, কেনো কেনো, এমন হচ্ছে, অজানা তার কাছে,……
শাড়ি পরে বসে আছে এক রমনী, মাথায় শাড়ির আঁচল দিয়ে ডেকে রাখা, মাথা নিচু করে বসে আছে সে, কোনো দিকে তাকাচ্ছে না, না কারো সাথে কথা,
এই সব কোনো এক জোড়া চোখ দেখছে, আর মিটি মিটি হাসছে,
ছেলে পক্ষ চলে গেলে , তার মা তাকে এসে বলে, যে সে কেনো কোনো কথা বললো না,
এটার কোনো উত্তর ই দেয় না সে,
ফিরোজার সাথে দেখা করতে আসে আরোহী, আর তার সাথে মজা করেই বলে,
“কিরে দুলাভাই কেমন লাগলো? হ্যাঁ ”
কথাটা শুনার সাথে সাথে তার মাথা গরম হয়ে গেল, সে বললো,
“দেখ এখন মজা করছিস না একদম, আমার কিছুই ভালো লাগছে না,
তার মধ্যে এসব মজা, একদমই ভালো লাগছে না ”
আরোহী এবার প্রশ্ন করলো,
“কেনো ভালো লাগছে না শুনি?, তুই তো তাহির ভাই কে আর…
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই ফিরোজা বললো,
ওই কথা আবার তুলছিস কেনো তুই, আমি এসব আর শুনতে চাচ্ছি না, তুই যা তো এখন,
বলেই তাকে তার রুম থেকে বের করে দিল জোর করে,
আসলে ও থাকলে তাকে আরো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো,
বিয়ের দিন সকালে ফিরোজা কে, সাজিয়ে দিচ্ছে তার মা, আর অনেক কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে সে,
বর পক্ষ চলে এসেছে, ফিরোজা কে নেওয়া হয়েছে সেখানে, তার মাথায় ঘোমটা দেওয়া,
সে সামনের দিকে তাকাতেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, পাত্রের জায়গাই বসে আছে তাহির,
সে বসার জায়গাই এসেই তাকে জিজ্ঞাসা করে,
“আপনি এখানে কি করছেন?”
তাহির সোজা সাপটা তার দিকেই প্রশ্ন ছুড়ে বলে,
“কেনো কাকে দেখবে ভাবছিলে?”,
ফিরোজা এই প্রশ্ন শুনে, তার অনেক টা মেজাজ গরম হলো, সে আবার কাকে দেখতে চাইবে, সে তো সেদিন দেখেই ই নি যে কারা তাকে দেখতে এসেছিল,
ফিরোজা প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই আবার প্রশ্ন করলো,
“আপনি এখানে কি করছেন, সেটা আগে বলেন ”
তাহির এবার একটু ভাব নিয়েই বললো,
“বরের জায়গাই বর থাকবে না তো কে থাকবে শুনি?”
ফিরোজা অবাকের চরম পর্যায় এ পৌঁছে গেলো, যে তার বাবা নিজে থেকেই তার সাথে তাহির এর বিয়ে ঠিক করছে,
সে খুশি হবে নাকি রাগ দেখাবে বুঝলো না,
তার ভাবনার মাঝেই বিয়ে পড়ানো শুরু হলো,
বিয়ে টা সু সর্ম্পূণ হলো,
এবার ফিরোজার আব্বু তার কাছে আসে, এসে সে তার পাশে বসে,
আর কিছু পুরানো কথা বলতে থাকে,
যা ফিরোজার অজানা, সেসব শুনে অবাক হয় , যে তার অগোচরে এতো কিছু ঘটে গেছে,
এমনই সময় গান ভেসে আসে, ফিরোজার চিরো চেনা কন্ঠ স্বরে ,
“ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে
আমার মনের ঘরে চাঁন্দের আলো চুইয়া চুইয়া পড়ে”
পুষে রাখবো রাখবো রে বন্ধু তোমায় যতনে
ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে
“দুধে আলতা গায়ের বরণ রূপ যে কাঁঞ্চা সোনা
আঁচল দিয়া ঢাইকা রাইখো চোখ যেন পড়ে না
দুধে আলতা গায়ের বরণ রূপ যে কাঁঞ্চা সোনা
আঁচল দিয়া ঢাইকা রাইখো চোখ যেন পড়ে না”
“আমি প্রথম দেখে পাগল হইলাম
মন তো আর মানে না”
“কাছে আইসো আইসো রে বন্ধু প্রেমের কারণে
ভালোবাইসো বাইসোরে বন্ধু আমায় যতনে”
তাহির গান গাওয়া থামালে সবার হাত তালি দেওয়ার শব্দে ফিরোজার ধ্যান ভাঙ্গে, সে তো এতক্ষণ ধরে এক ধ্যানে তার প্রিয় মানুষ টার গান শুনছিলো,
তার ব্যাপারে তার সব ভুল ধারণা ভেঙ্গে গেছে আজ, সে এতোদিন কত ভুল ভাল না ভেবে বসে ছিলো,
তাহির তো গান গাওয়ার পুরো সময় সে তার সদ্য বিয়ে করা বউটার দিকে তাকিয়ে ছিলো,
পাশে আতিক এর কথায় তার হুস ফেরে,
আতিক বলে,
“ভাই এখন তো তোরই বউ হয়েছে, এতো মানুষের মাঝে এভাবে দেখিস না, আমাদের সিঙ্গেল দের কথাটাও ভাব একটু”
আতিক এর কথা শুনে তাহির ওকে বলে,
“তুই একটু চুপ করবি ভাই”
আর এই দিকে……………
চলবে……..
#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব_১২
এই দিকে তো ফিরোজার সাথে মজা করার জন্য আরোহী তাকে জিজ্ঞাসা করছে;”কিরে দুলাভাই পছন্দ হয়েছে কি?”
আরোহী যে এটা তার সাথে মজা করার জন্য বলছে এটা বেশ ভালোই বুঝতে পারে সে,
তাই সে আরোহীকে একটা ধমক দেয়
সব শেষে কনে বিদায় পর্বে ফিরোজার বাবা মা তো কেঁদেই যাচ্ছে, যদিও এটা দুঃখের না আনন্দের কান্না, তাদের মেয়ে কত বড় হয়ে গেছে, আর সে এতো সুন্দর জীবন সঙ্গী পেয়েছে আর কি,
বিদায়ের শেষ মুহুর্তে ফিরোজার নয়ন বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু ঝরে,
এই চোখের পানি সবার কাছে স্বাভাবিক লাগলেও, এর কারণ জানা শর্তেও কারো এক জন এর এতেই অনেক খারাপ লাগলো,
লাল রঙের শাড়ি পরে বসে আছে এক রমনী মাথায় ঘোমটা দিয়ে, ঘরে মৃদু আলো, খাটের চারি দিকে ফুল ছড়ানো, তার ঠিক মাঝ খানে বসা সে, ঘরের পরিবেশ শান্ত ,
এমনই সময় ঘরের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো, সুঠাম দেহের এক পুরুষ,
সে ধীরে ধীরে খাটের কাছে যেয়ে দাঁড়ায়,
ফিরোজা তার দিকে একবার তাকিয়ে দেখে আবার মাথা নিচু করে বসে থাকে,
তাহির তো এক দৃষ্টে তর দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ,
তাহির কি বলবে ভেবে পাচ্ছিলো না, সে কিছু একটা মনে হতেই বলতে যায়,
তখনই তাকে থামিয়ে ফিরোজা বলে,”তোমাকে কিছু বলতে হবে না আব্বু আমাকে সব বলেছে”
আসলে তখন ফিরোজার বাবা তাকে পূর্বের ঘটনা খুলে বলে,
কিছু পূর্বের ঘটনার স্মৃতিচারণ,,,,,
সময়টা তখন
সবে তারা কলেজ শেষ করেছে,
ভার্সিটিতে পড়ার জন্য কার্যাদি করে চলেছে,
রেজাল্ট বের হওয়ার পর দেখা গেল তাহিরের ফলাফল অনেক ভালো হয়েছে,
সে স্কলারশিপ পেয়েছে, তাহির যেতে চাইনি প্রথমে সবাই তাকে বুঝিয়েছে, কিন্তু সে তার কথায় অনড়,
সে ফিরোজা বলে নি কারণ সেও যদি তাকে যেতে বলে,
ফিরোজার আব্বু জানতো তাদের সর্ম্পকে,
তার কানে তাহিরের স্কলারশিপ কথা , সে যায় তাহিরের কাছে, এবং তাকে বলে,
“তাহির বাবা আমি জানি তুমি অনেক ভালো, কিন্তু তোমার একটা সুন্দর ভবিষ্যতের দরকার আছে তো তাই না,
তুমি হতে পারে ভাববে, যে তুমি চলে গেলে ফিরোজা কে পাবে না, কিন্তু আমি তোমাকে বলছি যে তুমি যাও, যখন দেশে আসবে আবার আমি নিজে তোমাদের বিয়ে দিবো,
এই দিকে আমার মেয়েও তার পড়াশোনা করবে,
তোমাদের সামনের দিন ভালো থাকতে চাইলে আমার রেখো বাবা, আর ফিরোজাকে না বলেই চলে যেও,”
সে কথা গুলো বলে চলে আসে,
তাহির এই কথা গুলো শুনে সে ভাবে কথা গুলো, তার সে তাই করে,
ওই দিন তাদের দেখা করার কথা ছিল, কিন্তু তাহির না বলেই চলে যায়,
ফিরোজা তো এটা ভেবে বসে ছিলো, সে যাবে যাক কিন্তু বলে তো যাবে , সে তো পরে তাহিরের বন্ধু আতিক এর কাছ থেকে শুনতে পায় তাহির বিদেশ চলে গেছে,
বর্তমান,
এই সব কথা তাকে তার আব্বু বলেছিল তখন, যা সে এখন তাহির বলে,
তাহির সব শুনে বলে,
“সব তো তাহলে জেনেই গেছো ”
থেমে গিয়ে আবার বলে,
“তো ম্যাডাম এখনো কি আপনি আমার উপর রেগে আছেন?”
তাহিরের কথা শুনে ফিরোজা হেঁসে দেয় আর বলে,
“কি জানি?”হতেও পারে ”
তাহির এটা শুনে বলে,
“বুঝছি”যা বুঝার”
ফিরোজা:”কি বুঝছেন স্যার?”
তাহির এবার ফিরোজার কথাটা তাকেই বলে, “কি জানি ”
ফিরোজা তা শুনে বলে,”কি জানি আবার কি”
তাহির আর কিছু না বলে,
তার পকেট থেকে একটা বক্স বের করে,
তা খুলে একটা বেজলেট বের করে,
তার পর নিজে ফিরোজার হাতে পরিয়ে দেয়,
ফিরোজা তা দেখে অবাক হয় ,
আর বলে, এটা তো..
তার বলা শেষ হওয়ার আগেই তাহির বলে,
“হ্যাঁ,এটা ওই বেজলেট টাই ”
আসলে তাদের সম্পর্কের শুরুর দিকে ফিরোজা তাহির কে একটা বেজলেট দেখিয়ে বলে ছিলো, তাকে ওটা দিতে,
তাহির তখন তাকে বলে ছিলো,
“এখন তো আমার কাছে টাকা নাই, যখন হবে ইনশাআল্লাহ আমি এটা তোমাকে দিবো,”
আজ তাহির সেই পুরোনো কথা মনে রেখে তাকে এই উপহার দিয়েছে, দেখে ফিরোজা তো আর অভিমান করে থাকতে পারলো না,
ভেঙ্গে গেলো সব অভিমান, ভেঙ্গে গেলো সব দুরত্ব,
এক ভালোবাসার গল্প লেখা হলো দুজনের,
চলবে………..
