#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব_________৯
ফিরোজার মিটিং এ আসতে একটু সময় লাগে, সে এসে যেই না মিটিং রুমে প্রবেশ করে , সে দেখে তাহির মিটিং এ বসে সবাইকে সব বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে, কাজ বলে দিচ্ছে,
যা দেখে ফিরোজার গরম মাথা আরো গরম হয়ে গেছে,
সে এখন বেশ বুঝতে পারে তাহির ইচ্ছা করেই তখন না বুঝার ভান করছে, তার সঙ্গে থাকার জন্য,
তার তো আজকে অনেক কাজ বাকি ছিল, তারপরও তাকে সময় দিছে, তার পিছনে সময় দেওয়ার জন্যই তো এখন তার আসতে দেরি হলো , আর সে কিনা ইচ্ছা কিত তার সময় নষ্ট করলো,
যাই হোক সে আর এবিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে, মিটিং এ আটেন্ট করলো,
তাকে আসতে দেখে তাহির কিছু টা ভিত হলো, সে কাজে এতো বেশি মনোযোগ দিয়ে ছিলো, যে ফিরোজা কখন এসেছে সে খেয়ালই করেনি,
সে তো এখন ভাবনায় পড়ে গেলো ফিরোজা কি থাকে আবার ভুল বুঝলো , সে তাদের মধ্যে কার সম্পর্ক ঠিক করার জন্য এটা করতে চেয়েছে ,
তো সবাই সবার নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত,
কিন্তু এক জোড়া চোখ কাউকে সেই প্রথম থেকেই দেখে যাচ্ছে, আর তার মস্তিষ্ক ভাবছে কি করে তার ভালোবাসার রাগ ভাঙ্গানো যায়,
সে তো এক দৃষ্টে তাকিয়ে ছিলো, এমন সময় আরোহী আতিকের দিকে তাকায়, আর তাদের চোখে চোখ পরে, আতিক তো তাকিয়েই থাকে, কিন্তু আরোহী আর তার গভীর দৃষ্টে আর অভিমান এক করে, আর তাকিয়ে থাকতে পারে না , সে তৎক্ষণাৎ তার চোখ নামিয়ে ফেলে,
কিন্তু এখনো তাকিয়ে আছে আতিক , এই গুলো কেউ না খেয়াল করলেও এক জন সব দেখেছে, মিটিং রুমের বাইরে থেকে, দেখে সে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চলে যায়,
মিটিং শেষে সবাই চলে যাচ্ছিলো, আরোহীর কিছু ফাইল ঠিক করে বের হতে সময় লাগে, যার কারণে সবাই চলে যায়, সে ছিল
আর এক জন ছিল, সে হলো আতিক,
আতিক তো কিছু টা খুশি হয় আজ সে একান্তে আরোহির সাথে কথা বলতে পারবে, কারণ এর আগে যতো বার কথা বলতে চেয়েছে, কেউ না কেউ এসে বিরক্ত করছে,
সে আরোহীর বসে থাকা চেয়ারের দিকে এগিয়ে যায়,
আরোহীর এতক্ষণে কাজ গুছানো শেষ প্রায়,
আরোহী যেই না উঠবে তার আগেই তার সামনে এসে দাঁড়ায় আতিক,
আরোহী চারিদিকে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই আতিক ছাড়া,
সে প্রতিবারের মতো চলে যেতে চায়, কিন্তু এবার আতিক নাছোড় বান্দা, সে এবার আরোহী কে কিছুতেই যেতে দিবে না এবার,
আরোহী চলে যেতে চাচ্ছে দেখে আতিক এবার বলল,
“দেখো আমার কথা টা তো শোনো, আমি…
আতিকের কথা শেষ করার আগেই আরোহী বলল,
“আর কি বলবে তুমি, কি বাকি রেখেছো করার আর বলার, দেখো এর আগেও তুমি অনেক বার ক্ষমা চেয়েছো, আমি তোমাকে করেওছি কিন্তু এবার আর না,
রাস্তা ছাড়ো আমার, আমার অনেক কাজ আছে”
কিন্তু আতিক কোনো কথা না শুনেই বলল,
“হ্যাঁ, তুমি প্রতিবার মাফ করছো, এবারও করো”
আরোহী তার কথায় অনট,
আতিক ও তার কথায় স্থির,কেউ কারো থেকে কম নয়,
আরোহী বসে ছিল চেয়ারে, আতিক এবার সোজা মেঝেতে বসে পড়লো ঠিক আরোহীর পায়ের কাছে,
হঠাৎ তার পায়ের কাছে আতিক কে বসতে দেখে সে কিছুটা ভরকে গেল, কিন্তু তার চেহারায় তা প্রকাশ করলো না, পূর্বের ন্যায় কঠোর মুখ করেই বসে রয়েছে, যেনো কিছুই হয়নি,
আতিক আরোহীর দিকে করুণ চাওনি দিয়ে এবার বলা শুরু করলো,
“হ্যাঁ, আমি ভুল করেছি, এক বার না বার বার করেছি, কিন্তু তুমি তো বার বারই ক্ষমা করছো এই বার শেষ বারের মতো করো, এবার সত্যি বলছি তোমাকে আর দূরে যেতেই দিবো না, ভুল বুঝাবুঝি তো পরের কথা ,
তুমি জানোই তোমাকে পাওয়ার জন্যই আমার কোম্পানি তে কাজে ডুকা, এখন তুমিই যদি আমার না থাকো তাহলে, আমি তো অফিস কেনো, দেশেই থাকবো না, এতে করে তো তোমারই ভালো, তোমাকে জ্বালানোর জন্য আর এই তোমার চোখে খারাপ মানুষ টা আর থাকবে না”,
কথা গুলো বলতে বলতেই আতিক এর গলার স্বর কাঁদো কাঁদো হয়ে ওঠে,
কিন্তু সে থামে না, আবারও বলা শুরু করে , “তুমি বলো শেষ বারের মতো তুমি কি আমাকে এবারেও ক্ষমা করবে নাকি আমি আমার পথ দেখবো”,
আতিক এর চলে যাওয়ার কথা শুনে তার কঠিন মনটা কিছু নরম হলো হয়তো বা,
আরোহী এবার বলল,
“তুমি আর বদলালে না, সেই আগের বারের মতোই…..
বলতেছো , কেনো এবার কি তুমিও তাহির ভাইয়ের মতো করবে নাকি, না বলে চলে যাবে, ”
আতিক:”আমি তো বললামই, যে তুমি যদি বলো থাকতে থেকে যাবো না হলে তো….
আতিক কে আর কিছু বলতে না দিয়েই আরোহী বলল,
“এবার আর তোমাকে আমি আটকাবো না, চলে যেতে চাও তো,
আচ্ছা ভালো যাও”
আতিক কিছুটা অবাক প্রায় যে মেয়ে তাকে, এই কথা বলতে সবসময় নিষেধ করতো, তার তাকে হারোনোর ভয় হতো, আজ সে কিনা তাকে এই কথা বলছে, ভেবেই সে বেশ অবাক,
তার ভাবনার মাঝেই আরোহী তার বসে থাকা চেয়ার কিছু টা সরিয়ে নিয়ে উঠে চলে গেলো সেই রুম থেকে,
আর এই দিকে আতিক এখনো বসে আছে মেঝেতে,
এই দিকে সেই কখন তাহির অপেক্ষা করছে ফিরোজার সাথে কথা বলার জন্য, কিন্তু তার তো কাজই শেষ হচ্ছে না,
তাহির সেই সময় বের হয়েই তার সাথে কথা বলতে চেয়ে ছিল, কিন্তু ফিরোজা ইচ্ছা করেই ব্যস্ত হয়ে যায় আরকি,
যে কাজে তার করলেও চলে, যে ধরনের কাজ সে কখনো করে নাই, আজ সে ইচ্ছা করে তাই করতেছে,
তাহির এতক্ষণে এটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছে,যে ফিরোজা ইচ্ছা করে দেরি করতেছে, যেনো তার সাথে কথা না বলা লাগে,
তাহির আর দাঁড়ালো না সে ওই স্থান ত্যাগ করলো,
এটা দেখে ফিরোজা দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে গেল, সে আজ ভীষণ ক্লান্ত,
তাহির মিটিং রুমে আসে, আসলে তখন ফিরোজার সাথে কথা বলবে বলে তাড়া তাড়ি বের হয়ে যায়, যার কারণে সে তার দরকারি ফাইল নিতে ভুলে যায় , সে সেটা নিতে সেই রুমে ঢুকেই দেখে, আতিক মেঝেতে বসে আছে,
সে দ্রুত তার দিকে এগিয়ে যায়, আতিক তার পাশে কাউকে টের পেয়ে মুখ উপর করে তাকায়, আর দেখে তাহির তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে
আতিক এবার তাহির কে প্রশ্ন করে বলে, তুই কখন আসলি,
তাহির: “এইতো মাত্র,
সেসব বাদ দে আগে বল , তোর প্ল্যান কি কাজ করে নি”,
আতিক: “নারে ভাই, সে তো এবার কোনো ভাবেই কথা শুনতেছে না, এবার আর কি করবো বলতো দেশে থেকে, ভাবতেছি চলে যাবো,”
বলেই সে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলল,
তাহির তার কথা শুনে কিছুটা রেগে গিয়ে বলল,
“হ্যাঁ, তোকে যাওয়াবানি বিদেশে,”
এই কথা শুনে আতিক বলল,
“তো তুই বল থেকে কি করবো, যার জন্য থাকতে চাইছি সেই তো, আমাকে রাগতে চাইছে না,”
তাহির এবার কিছুটা নিচু হয়ে আতিকের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“তুই চিন্তা করিস না, আমি দেখি কি করতে পারি,”
তার কিছু একটা মনে পড়তেই থেমে গিয়ে আবার বলল,
“তোকে যে কাজ টা দিছিলাম, তুই কি সেটা করছিস, সে আসবে কবে?”
আতিক :” হ্যাঁ রে ভাই করছি, চিন্তা নাই সে কালকের মধ্যেই চলে আসবে”
তাহির আর কথা না বাড়িয়ে, আতিক কে নিয়ে ওখান থেকে চলে আসে,
এই দিকে,
সবে রুমে এসে বসে ফিরোজা, এর মধ্যেই আরোহী তার রুমে প্রবেশ করে,
আরোহীর চেহারায় ফুটে উঠেছে যে সে কান্না করেছে,
ফিরোজা আরোহীকে দেখেই বললো,
“কি হয়েছে তোর?, কান্না করেছিস কেনো?”
আরোহী কোনো রকম উত্তর না দিয়েই ফিরোজার খাটে গিয়ে তার পাশে বসে,
সে কোনো উত্তর দিলো না দেখে ফিরোজা আবার একই প্রশ্ন করে,
আরোহী এবার সব ঘটনা খুলে বলে ফিরোজা কে,
যা শুনে ফিরোজা কিছু টা রেগে গিয়ে বলে,
“এবার ও শুরু করে দিছে নাকি ওর বন্ধুর মতো,” তুই চিন্তা করিস না আমি ওর আর বন্ধু কে এবার ছাড়ছি না, অনেক হয়েছে, কিন্তু আর না”
থেমে গিয়ে আবার বলে, কি ভাবে কি ওরা, ওরা যা করবে তাই সঠিক আর আমারা করলে দোষ,”
আরোহী তো কিছু বলতেছেই না, শুধু ফিরোজার কথা শুনে যাচ্ছে,
চলবে………..
#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব_১০
এয়ার পোর্টে দাঁড়িয়ে আছে আতিক, দৃষ্টি তার কারো আসার অপেক্ষায়, আর বার আর হাতের ঘড়ি দেখতেছে,
দীর্ঘ অপেক্ষার পর এসে পৌঁছাল যার জন্য এখানে আসা, সে আসার সাথে সাথে আতিক থাকে ওয়েল কাম করে,
অপর পাশের মানুষটি আতিকের কাছে তাহির এর কথা জিজ্ঞাসা করলে সে বলে , সে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, চলুন,
সে আর কথা না বাড়িয়ে আতিকের সাথে চলে গেল,
তাদের গাড়ি এসে থামলো, একটা বড়ো রেসটুডেন্ট এর সামনে, যেটা আগে থেকেই বুক করে রেখে ছিলো তাহির,
ভিতরে যেতেই তাহির তাকে ওয়েল কাম করে,
তাহির:”Welcome Mrs. Olivia”
এই কথার প্রতি উত্তরে অলিভিয়া বলে উঠে,
“Yes, thank you, but where is the person you were talking about, Mr. Tahir?”
তাহির:”Yes, we will meet him too, but you have been traveling so much, so take a rest first,
এটা শুনে আর কথা বাড়ায় না সে ছোট করে জবাব দেয়,
“okay?”
পরের দিন অফিসে তাহির অলিভিয়া কে নিয়ে যায় সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য, সবার সাথে পরিচয় করানো হলেও হয় না ফিরোজার সাথে, আসলে ফিরোজার আসতে দেরি হয়ে যায়,
সে আসলে তাহির আতিক কে দিয়ে পাঠায় তাকে ডাকার জন্য,
আতিক গিয়ে দেখে ফিরোজা আর আরোহী কথা বলতেছে,
তো আতিক কে দেখেও না দেখার ভান করে আরোহী, আতিক তা লক্ষ করে,
আতিক যে কাজে গিয়েছে তাই করে, ফিরোজা কে বলে তাহির তাকে তার অফিস রুমে ডাকতেছে,
এটা শুনে ফিরোজার মুখে বিরক্তির ছাপ পড়ে, আসতে না আসতেই তার সাথে দেখা করতে হবে ভেবে, এমনিতেই সে কাল কের ঘটনা নিয়ে বিরক্ত, তার পর আবার
তো সে এসব ভাবতে ভাবতেই এসে পড়ে তাহিরের রুমে, তার সাথে আরোহী ও এসেছে,
তো ভিতরে ডুকতেই তার নজর পড়ে এক বিদেশি নারীর উপর, যার চুল গুলো সাদা রঙের, পোশাক ও আমাদের দেশি ফ্যাশনের না, যার সাথে তাহির হেসে হেসে কথা বলতেছে
সে এসে ছে দেখে সে তার দিকে ঘুরলে, ফিরোজা তাকে দেখে বয়স মনে হয় পঁয়ত্রিশ এর বেশি তো হবেই ,
অলিভিয়া ফিরোজা কে দেখেই জিজ্ঞাসা করলো তাহিরের কাছে,
“This is the girl you were talking about.?”
এই কথার প্রতি উত্তরে তাহির বলে,
“Yes, Mrs. Olivia.”
এটা শুনে অলিভিয়া ফিরোজার কাছে গিয়ে বলল,
“You are even more beautiful than I had heard about you”
তার কথা শুনে ফিরোজা তাহিরের দিকে তাকায়, তার দৃষ্টি দেখেই তাহির বুঝে যায় ফিরোজা তার সামনে থাকা বিদেশি মানুষ টি কে চিনতে পারে নেই, সে কে?, আর সে ওর সম্পর্কে জানলোই বা কি করে?
তাহির এবার ফিরোজার কাছে এসে বলে,
“এ হলো লন্ডনের সব থেকে বড় ওয়েব ডিজাইনার, যার কাছ থেকে তুমি কাজ শিখতে চাই ছিলা,”
ফিরোজা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে তাহিরের দিকে, তার বলা কথা গুলো এখনো তার কানে বাজতেছে,
সে তো কখনো ভাবেই নি যে তার দেখা পাবে,
সে এবার তার সাথে পরিচয় হয়ে নে, বেশ অনেক সময়ই ধরেই তারা কথা বলে,
চলবে………..
