#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব____৭
তাহির এসে দেখে একটা মেয়ে পড়ে আছে যার পরনে একটা মেরুন রঙের শাড়ি, কানে এয়াররিং , যার সাজ খুব বেশি না তবে, প্রথম দেখায় কারো মনে জায়গা করার মতো,
যেই না তাহির এসে দাঁড়ালো ফিরোজার সামনে, সে এক পলক তার দিকে দেখেই বলা শুরু করলো, “দেখে চালাতে পারেন না? চোখ কি উপরে দিয়ে চাচ্ছিলেন নাকি?, গাড়ি চালাতে পারেন না তো চালান কেনো?,”
এরকম আরো অনেক কথা শুনিয়ে দেয় সে,,,
আর এই দিকে তাহির তো এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে সামনের রমণীর দিকে,,, তার তো এ খেয়ালও নাই যে তার পায়ে হাঁটু থেকে পায়ের নিজ পর্যন্ত অনেকটা কেটে গেছে,,,
আতিক তাহিরের পাশে এসে ওর কাঁধে হাত রেখে বলে, ভাই তোর পা মেলা কেটে গেছে,,,
আতিকের কথায় তাহির তার পার দিকে তাকায়,
ফিরোজার হাতে ও পায় সামান্য চোট লেগেছে,
তাহির তাদের উদ্দেশ্য করে বলল, “আপনারাও চলেন হাসপাতালে আমাদের সাথে”
ফিরোজা:”কেনো আপনাদের সাথে কেনো যাবো?”
তাহির:” না যেতে চাইলে যাবেন না, কিন্তু আপনার তো চোট লেগেছে তাই বলছিলাম যেতে আমাদের সাথে ”
ফিরোজা: “ঝামেলা করে এখন ভালো সাজা হচ্ছে, হুউ আসছে এখন আদিক্ষেতা দেখাতে
“বলেই মুখ ভেংচি কাটলো সে,,,
তাহির তো এটা দেখে হা হয়ে গেলো,,, সে ভেবে ছিলো মেয়ে টা মনে হয় নরম স্বভাবের কিন্তু এতো তার বিপরীত,,,
এই দিকে আরোহী ফিরোজা কে থামাতেছে ,,,
আরোহি: “এভাবে ঝামেলা করিস না ফিরোজা”
ফিরোজা: কিসের ঝামেলা, ঝামেলা আমি করছি, নিজে এসে,,,,,
এর মধ্যেই এক পুরুষালী কন্ঠ স্বর শুনে থেমে যায় ফিরোজা ,,,
সে আর কেউ নয় ফিরোজার আব্বু আনোয়ার সদ্দার,,,
আসলে ফিরোজা বাইরে ঘুরতে বের হবে বলে তার বাবার কাছে বায়না ধরেছিল,,, কিন্তু তাকে তার মা বের হতে নিষেধ করেছিল,,,
যার কারণে সে রাগ করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরে ঘুরতে,,,
তাকেই খুঁজতে বের হয় আনোয়ার সদ্দার,,,
খুঁজতে খুঁজতে সে এই পার্কে এসে দেখে কি যেনো মানুষ বিড় করে দেখতেছে,তাই দেখ তে গিয়েই সে,,, ফিরোজা কে দেখতে পায়,
যে তার এক পা উচু করে ধরে বসে আছে,,, আর হাতের কুনুই পর্যন্ত আঘাত প্রাপ্ত,,,
তা দেখে সে তৎক্ষণাৎ সে তার মেয়ের কাছে ছুটে যায়,,,
এমন অবস্থায় ফিরোজা তার বাবা কে দেখে, তার রাগ দেখাবে নাকি কি করবে বুঝতে না পেরে চুপ করে রইলো,,,,,
আসলে আজকে তাদের অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে, তাই তারাতারি যেতে হবে, কিন্তু সে অলরেডি আধ ঘণ্টা লেট,,,
যে মেয়ে নিজে দেরি করা পছন্দ করে না,,, সে কিনা আজকে লেট,,, এসব ভাবতেছে আর, নিজের গন্তব্যের পথে যাচ্ছে সে,,,
আজ কে তার অফিসে যে এ বিষয় নিয়ে কথা হয়নি তা না,,, সবাই তো এটা নিয়েই কথা বলছিলো,,, এমন সময় অফিসের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ফিরোজা,,, আরকি সবার মুখ শুপসে যায়,,, চলে এসেছে তাদের কথার আগে কাজ থেকে ফাইয়ার করা ম্যাম,,,,,
ফিরোজা এসেই এমনি সবাই নিয়ে মিটিং সেরে ফেলে,,,
তাহির সবে মাত্র অফিসে ডুকলো,,, এসেই পছন্দের মানুষের দেখা,,, ফিরোজা মাত্র মিটিং শেষ করে রের হলো,,,,,
#হঠাৎ_তার_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব___________৮
সে তাহির কে বার বার বুঝাচ্ছে, কিন্তু সে তো বুঝেও না বুঝার ভান করতেছে,
যেনো কাজ শিখার বাহানায় ফিরোজার কাছে থাকতে পারে, এই তো ছিলো তার এই কোম্পানিতে ডোকার উদ্দেশ্য, পুরানো সম্পর্ক টা ঠিক করে নিতে চায় সে,
ফিরোজা এতো বার বলতেছে, তবুও এই ছেলে কিছুই বুঝতেছে না, নাকি বুঝার চেষ্টা করতেছে না, এটা ভেবে পাচ্ছে না সে,
ফিরোজা এবার অনেকটা রেগে গিয়ে বলল,”এই তুমি কবে থেকে এতো বোকা হয়ে গেলে বলো তো?”
সে তো রাগের বসত এটা বেপাত্তা ভুলে গেছে যে সে আপনি না বলে তুমি করে বলতেছে,
কিন্তু সে ভুলে গেলেও কেউ একজন যে এটা শুনে, তার পরিকল্পনা কাজ করছে এটা ভেবেই মুচকি হাসে, যা সে লক্ষ ও করে না,
ফিরোজা আবার বলল,”কি হলো বলো?”
এই বার বলাতে সে নিজেই বুঝতে পারে সে কি বলতেছে, সে কিছু বলতে যাবে তার আগেই,
তাহির বলল,”যবে থেকে তুমি আপনি বলা শুরু করছো তবে থেকে”,”এখন মনে হচ্ছে আবার বুদ্ধি মান হয়ে যাবো কি বলো?”বলেই এক বুরু উঁচু করে ফিরোজার দিকে তাকায়,
ফিরোজা তো বেশ ভালোই বুঝতে পারে তাকেই এখন তার ভুলের মাশুল গুনতে হবে, ভেবেই সে নিজেকে গাল মন্দ করে,
কিন্তু আবার তাহিরের ভুরু উচানো দেখে, সে তো অবাক, কতকাল পরে সেই প্রিয় মানুষটার , যেটা সে খুব পছন্দ করত তাই দেখলো, আসলে তাহির যখন বুরু নাচায় তাকে মারাক্তক সুন্দর লাগে,
ফিরোজা তাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে, সে তো এবার চোখ মেরে দিলো,
কিন্ত না এবার ফিরোজা নিজেকে সেই তার পুরানো রূপে নিয়ে বলল,
“দেখুন মানুষের বলতে ভুল হতেই পারে, তাই বলে তো সেটা ধরে বসে থাকলে হবে না তাই না”
তাহির: “হ্যাঁ, আমিও তো সেটাই বলতেছি যে একটা মানুষ নাই বুঝতে পারে, তাই বলে তো তাকে আর বুঝানো যাবে না, তাতো নয় ”
ফিরোজা: “হেহ, একটা মানুষ কে সামান্য একটা বিষয় দশবার বুঝানোর পরও যদি সে বলে বুঝি নি, তাকে আর কিবাই বলা যায়” হু,”
যাক গে আপনি কি এটা বুঝতে পারছেন না যে , আপনাকে বুঝানো আমার শুধু কাজ না, আমার আরও অনেক কাজ আছে,
তাহির: “তাইলে আজ এ পর্যন্তই থাক, কাল নয় আবার,” কেমন ”
ফিরোজা: “আরে আপনি তো মহা মুশকিল, শুনেন আমি আর আপনাকে বুঝাতে পারবো না” আপনি যার কাছ থেকে পারেন, বুঝে নিয়েন”
বলেই সে সেই স্থান ত্যাগ করে,
তাহির তার যাওয়ার পানে চেয়ে, মুচকি হেসে, মনে মনে বলতে থাকে, শিখাতে তো তোমাকেই হবে, আমার রাগী রানী, আগেও যতো বার রাগ করেছো আমিই ভাঙিয়ে ছি, এবারও আমিই ভাঙ্গাবো, হতে পারে এবার দূরত্ব টা বেশি, তাতে কি তুমি যে এখনো আমাকে সেই আগের মতো ভালো বাসো সেটা তো তোমার আমার থেকে এভাবে পালানোই তেই বোঝা যায়,
তার ভাবনার মাঝেই আতিক আসে তার অফিস রুমে , এসেই সে বলল,
“কি ভাই কত দূর আগালি”
তাহির: “আর আগানো দেখতেছিস ,” “আমাদের পরিকল্পনা কত দুর যায় কে জানে”
আতিক:”কেনো ভাই কি হইছে”
তাহির:” ম্যাডাম বলতেছে সে নাকি আমাকে আর আজ দেখাবেনা,”
আতিক: হুম, বুঝলাম, কিন্তু তুই ম্যাডাম বলতেছিস কেনো এখন “আমাকে তো মানা করলি”
তাহির: “তুই যাকে ডাকার তাকে ডাকিস এই ভাবে, কিন্তু ওকে শুধু আমিই বলবো ”
আতিক:”হ্যাঁ হ্যাঁ “পুরো অফিসের সবাই কে মানা কর এখন,”
তাহির:” হ্যাঁ, দরকার পড়লে তাই করবো ”
“আচ্ছা বাদ দে এসব, আগে বল তোর কি খবর আগালো সামনে”
আতিক:” আমার কথা আর বলিস না ভাই, সে তো কথা বলার সুযোগই দিচ্ছে না, আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে “কি করবো বল তো?”
তাহির: “তুই যে কি করছিস তুই জানিস,” “আমি না হয় না বলে চলে গেছিলাম,”তুই কি করলি থেকেও”
আতিক : “হু , তার রাগতে কিছু করা লাগে না, এমনই”এটা তো তোর থেকে ভালো কেউ জানে না তাইনা”
তাহির,”হ্যাঁ ভাই”আচ্ছা চল, আজ তো একটা জরুরি মিটিং আছে তাই না, এটেন্ট করতে হবে তো”
আতিক এবার মজা করেই বললো,” তুই কিছু বুঝিস না, তাইলে মিটিং এ এটেন্ট করবি কি করে ”
তাহির,”হ্যাঁ আমি তো কিছু বুঝি না, কিন্তু সেটা শুধু তার সামনে,”
আতিক:”হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝেন যেখানে বুঝবেন বুঝেন আপনাদের মধ্যে আমি নাই “নাহলে তো সব দোষ আমার হয়ে যাবে নে”
তাহির:” চিন্তা নাই সব দোষ এমনিতেই আপনারই হবে, ” যদি না আমি যে কাজ দিছি না করতে পারেন”
আতিক:”হ্যাঁ রে ভাই হয়ে যাবে নে, তুই কোনো কাজ দিছিস, আর আমি তাই করি নাই, এমন হয়েছে ”
ফিরোজার মিটিং এ আসতে একটু সময় লাগে, সে এসে যেই না মিটিং রুমে প্রবেশ করে , সে দেখে……….
চলবে………..
