Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রণয়িনীপ্রণয়িনী পর্ব-কল১৩+১৪

প্রণয়িনী পর্ব-কল১৩+১৪

#_প্রণয়িনী_
#_১৩_তম_পর্বে__

কক্ষখানা নিস্তব্ধ! তার লেশ ফিকে করে প্রাণ গিয়ে চেয়ারে ধপ করে বসল। দাঁড়িয়ে থাকার বল পাচ্ছে না। প্রণয় মাথা উঁচালো এদফা। নরম গলায় বলে,
–”ফ্যান’টা চালু করে দিন তো।

প্রাণ মৃত প্রায়। সে আর কিছুই ভাবতে পারছে না। কানেই যায়নি বোধহয় কথাটা। এদিকে কামড়ার আবহ উষ্ণতর। টেকা যাচ্ছে না গরমে। প্রণয় আর থাকতে না পেরে নিজেই উঠল। পাখার সুইচ অন করে দিল। অচিরেই ভেসে এলো,
–”ভাইয়া,

প্রণয় দরজা খুলে পরাণের থেকে সিগারেটের প্যাক নিল। পরাণ মিটিমিটি হেসে ভাইয়ের গাল টেনে দিল। প্রণয় চোখ পাকাল। তবে পাত্তা পেল না। পরাণের দুষ্টু কণ্ঠ,
–”হ্যাভ আ সুইট টাইম!

–”তবে রে,
প্রণয়ের বলতে দেরি পরাণের ভো দৌঁড় দিতে বিলম্ব হলো না। প্রণয় সুন্দর করে ফিসফিসিয়ে হাসল। ভাইয়ের গমন পথে চেয়ে গলা চড়া করল,
–”বাজে আড্ডায় না গিয়ে সোজা বাড়ি যাবি।

প্রণয় দরজা লক করে ফিরতেই দেখল প্রাণ একভাবে মাথা নমিত করে বসে আছে। প্রণয় বিষাদ বায়ু বের করল নাসা পথ দ্বারা। কষ্ট পেল একটু। এই মেয়ে তার সঙ্গ একেবারেই নিতে পারে না। সেকি এতই নগণ্য? খুব বাজে ছেলে? মানুষ হিসেবে তার জুড়ি মেলা ভার! অন্তত তাকে সুযোগ তো দিতে পারে। একটু ভরসা করাই যায়। সে প্রাণকে বিন্দু পরিমাণ অবহেলার আচ পেতে দিবে না।

প্রণয় গিয়ে প্রাণের সামনে হাঁটু ভেঙে পায়ের আঙ্গুলে ভর রেখে বসল মুখোমুখি হয়ে। রমণির কোলে রাখা হাত আয়ত্বে নিল। নিজ মুঠোয় ভরে মুখের কাছে এনে মসৃণ হাতের পিঠে চুমু খেল। প্রাণ কেঁপে উঠল। সর্বাঙ্গ জড়িয়ে গেল ওর। জলে টইটম্বুর আঁখি তুলে প্রণয়ের নজরে চোখ স্থির করল। কণ্ঠ নিগূঢ় ভারাক্রান্ত,
–”আমাকে একটু শান্তি দিন। কেন মানুষের কাছে হাসির পাত্র বানাচ্ছেন আমাকে? আমি এমনই কলঙ্কিত পুনরায় চরিত্রে কালি লেপন সয়ে নেওয়ার তিল পরিমাণ শক্তি নেই। চলে যান আপনি।

–”মানুষ কলঙ্ক দেওয়া দূর এই প্রণয় নিজেই রুক্ষ স্পর্শ করবে না আপনাকে।
প্রণয় আশ্চর্য না হয়ে পারল না! এই মেয়ে সর্বপরি তাকে ফেলনাই ভাবছে। তার বাহ্যিক হাল পর্যন্ত খেয়াল করল না। আজ তার উপর সহানুভূতি দেখাতে পারতো। কিন্তু না তাকে দূর ছাই করছে। আর নরম হওয়া যাবে না। পুনশ্চ বলল,
–”আমার জন্য তা সুখকর হবে। আপনাকে পেতে আর বাঁধা থাকবে না। মানুষের ধার ধারে না এই প্রণয়। বরঞ্চ তাদেরকে বলে দিব আপনি আমার বউ, রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন। আর রইল সত্য কথা বলা, আপনি চাইলে আমি তাই বলব। মিথ্যে তো নয়, আমরা শালিক জুটি, জোট বাঁধিনি এখনো। তখন মানুষই বিয়ে পড়িয়ে দিবে আমাদের।

প্রাণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল। উপচে আসা জল দু’ফোঁটা গড়াল কপোল বেয়ে। প্রণয় যত্নের সহিত মুছে দিল তা। যে নারীর মন একবার পুরুষ বিমুখ হয়েছে তাতে এত সহজে প্রণয় ফুল ফোটানো যাবে না। প্রণয় চায়ও না। সে আস্তে- ধীরে মনে জায়গা করে নিবে। কিন্তু এই নারী অন্তপুটে লুকিয়ে রাখে নিজেকে। সহ্যই করতে পারে না প্রণয়কে। তাহলে কি এই নারী এভাবে পালিয়ে বেড়াতো?

–”দেখি, উঠুন তো ফ্রেশ হয়ে নিন। আমার খিদে পেয়েছে।
প্রণয়ের কথার পিছে প্রাণ হাত ছাড়িয়ে নিল। শক্ত স্বর ওর,
–”বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি কিন্তু নিজের ক্ষতি করব।

রাগ করার বদলে উচ্চ সুরে হাসল প্রণয়। যেন কৌতুক শুনল সে। ভ্রু নাচিয়ে,
–”আমি বুঝি হতে দিব? স্মরণে রাখবেন, আপনাকে আর সেকেন্ড সময় চোখের আড়াল করব না। এই এক রাত, এক দিনে বুঝে নিয়েছি আপনাকে ছাড়া আমার একদন্ড চলবে না। নিন উঠুন।

প্রাণ উঠল না। পর্বতের ন্যায় জমে রইল সেখানেই। চিত্ত জুড়ে দোটানা ভাব! এসব ঠিক হচ্ছে না। অদ্বিতার মনোভাব ফেলে দেওয়ার নয়। তার ভাগ্য ভালো হলেও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ তো অন্ধকারে ডুবে যাবে। আজকাল স্বার্থ ছাড়া বাবা’রাও হাত তুলে নেয় সন্তানের মাথার উপর থেকে। সেখানে সে তো পরের অংশ গর্ভে ধরে আছে।

প্রণয় নির্দ্বিধায় প্রাণের উঁচু পেটে হাত রাখল। সেথায় আলতো করে বুলিয়ে দিতে দিতে মোলায়েম গলায় পিতৃত্বের ভরসা দিল,
–”প্রাণ, আপনার অংশকে আমার ঔরসের উপহার হিসেবে চিনবে সমাজ।

প্রণয় মাথা এগিয়ে প্রাণের উঁচু পেটে প্রগাঢ় চুম্বন বসাল। দীর্ঘ করল তা। প্রাণ ডুকরে উঠল। অঝোরে বইয়ে দিল অবাধ্য অশ্রু। নারী মন আজ হিসেব কষতে দিশেহারা।

প্রণয় মুখ সরিয়ে নিল। সে উঠে দাঁড়িয়ে কিঞ্চিৎ ঝুকে প্রাণের ঘাড়ের পেছনে এক হাত দিয়ে অপর হাত হাঁটুর নিচে গলিয়ে দিল। মুহুর্তেই পাজা কোলে তুলে নিল প্রাণকে। প্রণয় দু’কদম এগিয়ে গিয়ে প্রাণকে বেডে বসাল।

প্রাণ কেঁদেই যাচ্ছে। অতঃপর, প্রণয় মন রমণির কোলে মাথা রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে পরল। প্রাণ যতক্ষণ না কান্না থামাবে সে নিজেও কিছু করবে না। নাতো চুপ করাবে ওকে।

„কাঁদতে কাঁদতে মাথা ধরে গেছে প্রাণের। ওর মিছেই এই কান্না। কেঁদে কি ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়? তার মতো বুঝদার মেয়ের কি এসব শোভা পায়? কেমন ছেলেমানুষি করছে সে। মুখের উপর বলে দিবে যা মনে রয়েছে। প্রাণ ওড়না দ্বারা ভেজা চোখ মুছল। সিক্ত লেচন ঝাপটে পূর্ণ দৃষ্টি ফেলল প্রণয়ের আদলে।

প্রণয় ক্লান্তি, সারাদিনের নিরব তোলপাড় চলা উচাটনের ভাড়ে চোখের পাতা বুজতেই নিমগ্ন তন্দ্রা বশ করেছে। ঘন শ্বাসে বুকের ওঠা-নামা উত্তাল। প্রাণ লাজে রাঙা হলো। গাল দু’টো টসটসে লাল হয়েছে। সে আড়ে আড়ে প্রণয়ের ঘুমন্ত আননে চেয়ে চোখ বন্ধ করে নিল। মনে পরল কিছু বিস্মৃতি মুহুর্ত। সেই কবে এক পুরুষের বুকে নিজেকে সপে দিয়েছিল, এখন ভাবতেই ঘৃণা লাগে। মনে চায় চামড়া পর্যন্ত উঠিয়ে ফেলতে। সে ছোঁয়ায় বিষ ছিল। ভালোবাসার অস্তিত্ব তো ছিলই না, সে কেবল কাম ক্ষুধা মেটানোর যন্ত্র ছিল।

প্রাণের চোখ পুনর্বার ঝাপসা হয়ে এলো। মনের গহীনে উথিত হলো কিছু অমোঘ সত্য কথা, ‘সবাই সবার জীবনে অযাচিত। কেবল নিজের আছে বলতে এক অভিমানিনী মন, একটা অসৌমরুপিণী নশ্বর দেহ। অন্যথায়, যার যার নিয়ে সে সে ব্যস্ত! শুধু কিছু স্মৃতি নামহীন ঠিকানা হয়ে পড়ে রয় জীবনপৃষ্ঠায়। যেটা মনে রাখাও বেমানান, ভুলতে পারাও যন্ত্রণাতুল্য!

প্রাণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ খুলল। সে বহুকাল পর এই নিরালা রাতে আবার কোন পুরুষের অতিব সন্নিকটে। ভীষণ লজ্জা ঘিরে ধরেছে তাকে। প্রণয়ের উন্মুক্ত শরীর, খাজে খাজে বলিষ্ঠতা। বেজায় ফর্সা পুরুষটা। প্রাণের বেখেয়ালি চোখ গেল প্রণয়ের শর্টসের উপর দিয়ে বেরিয়ে আসা কেলভিন ব্রান্ডের বক্সারে। হাসফাস করে উঠল ওর তনু-মন। শিহরিত হলো সর্বাঙ্গ। খিঁচে নিল সুশ্রী আনন।

„পা ব্যথা করছে প্রাণের। এমনই তার পায়ে পানি জমেছে। রাতে ঘুমাতে পারে না। পা জোড়া ঝিনঝিন করছে। অসাড়তা মুড়ে নিয়েছে যেন! প্রণয়কে না উঠালেই নয়। কক্ষে পাখা চলছে তবুও ঘামছে প্রণয়। এসির কৃত্রিম হিমে থাকা অভ্যাস যে! প্রাণ প্রণয়ের বক্ষে চিকচিক করা শ্বেত তরল আড়ষ্ট হাতে ওড়না দিয়ে মুছে দিল। হাত কাঁপছে ওর। কালক্রমে পুরুষের স্পর্শে জড়তা কাজ করছে একটু একটু। মুখে ডাকল ক্ষীণ কণ্ঠে,
–”উঠুন,

কাজ হলো না। প্রাণ এবার জোড়েই কাঁধ ধাক্কা দিল। ‘প্রাণ, প্রণয় খানিক প্রখরতা নিয়ে নাম সম্বোধনে ডেকে ধরফরিয়ে উঠে বসল। শ্বাসের গতি দ্বিগুণ হয়েছে ওর। যখন দেখল প্রাণ তার সামনে বসে আছে তখন হাফ ছাড়ল সে। প্রাণ নির্বিকার!প্রণয় সুস্থির ভাবে দাঁড়িয়ে গিয়ে চোখ কচলে নিল। লম্বা হাই তুলে শুধাল,
–”তোয়ালে কই? দিন দেখি। আর খাবার গরম করে নিন।

আহা! জমিদারের আবদার। প্রাণ নত মুখে ওড়নার প্রান্ত খুটছে। প্রণয় ফের তাগাদা দিল,
–”বাড়িতে আসা মেহমানকে না খাইয়ে রাখবেন নাকি! রোজ তো বাঘিনী রুপে ঘুরে বেড়ান, আজ এমন মিনি বিড়াল হয়ে গেছেন কেন?

এই মানুষটা অবুঝ? নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছে?দেখছে তার উপস্থিতিতে প্রাণ হায়ায় নুইয়ে পরছে। প্রণয় খুব করে উপভোগ করছে মন রমণির বিবশ অভিব্যপ্তি। ওর ইচ্ছে তো করছে ওই মেদুর গালে মন ভরে প্রণয় পরশ এঁকে দিতে। কিন্তু না, তা হবে অনধিকার। বিয়ের আগে তার জন্য হারাম। প্রণয় ত্যক্ত গলায় বলে,
–”কি হলো?

প্রাণ এবার নড়ে উঠল। চোখ না তুলেই হাত উঁচিয়ে দেয়াল হ্যাংগারে থাকা গামছা দেখিয়ে দিল। প্রণয় সেই হাতের দিক বরাবর চেয়ে এগোল সেপানে। গামছা হাতে নিয়ে বলল,
–”একটাই আছে? পরব কি তাহলে?

প্রাণ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী একটাই গামছা নিয়েছে। সে তো আর জানতো না তার বাড়িতে অনিমন্ত্রিত অতিথি আসবে কখনো। প্রণয় উপায় বের করল। প্রাণের পাশ থেকে ওর ওড়না নিয়ে লুঙ্গির মতো করে পড়তে শুরু করল। প্রাণের দশা মরি মরি! ‘এসব কি করছেন, মুখ ফুটে এ’কথা বলাও যেন দুষ্কর। প্রণয়ের গলা স্বাভাবিক,
–”লজ্জা পেতে হবে না আর। দুই, চার দিন পর থেকে এসব আপনাকেই ধুতে হবে।

প্রাণ আড়ালে মুখ ভেংচি দিল। ইতর বলে গাল-মন্দ করতেও ভুলল না। কি অধিকারবোধ! সে তো এখনো প্রণয়কে আশা দেওয়া দূর পজেটিভ কিছু বলেও নি। প্রণয় শর্টস, ব্রিফ সব প্রাণের পাশে বেডে রেখে বালতি, মগ হাতে তুলে নিল। সে গোসল দিবে। কক্ষের বাইরে যেতে যেতে তাড়া লাগাল,
–”এসে যেন দেখি আমার খাবার বেড়ে রেখেছেন।

প্রাণ প্রণয়ের রেখে যাওয়া জাঙ্গিয়া খানা দেখে হতাশার নিশ্বাস ফেলল। উঠে দাঁড়াল। একটা মানুষকে তো আর না খাইয়ে রাখা যায় না। ভাত গরমই আছে। শুধু তরকারি গরম করতে হবে। প্রাণ কড়াই চুলায় বসিয়ে মহা চিন্তায় পরল। মানুষের চিন্তা না। তাদের মুখ বন্ধ করতে মিথ্যা কথা বললেই যথেষ্ট। কিন্তু প্রণয় কই থাকবে? একটা সিংগেল বেড়ে দু’জন মানুষের জায়গা হবে না। মেঝেতে বিছানা করে দিবে? কিন্তু থাকতে পারবে বড়লোকটা? মস্তিষ্কে জট পাকলো প্রাণের।

প্রাণ প্লেটে ভাত, ভর্তা, তরকারির সঙ্গে এক টুকরো মাছ নিল। বিছানায় পরিষ্কার ওড়না বিছিয়ে খাওয়ার জায়গা প্রস্তুত করল। তার উপর প্লেট রাখল। অন্য প্লেটে গ্লাস রাখল। তাকে কাল সকালে আবার রান্না বসাতে হবে। অফিস যাওয়ার আগে রান্না করা ঝক্কির কাজ হয় তাই সে আজ রাত আর কাল সকালের রান্না করেছিল। এখন তাতে রিজিক জুটলো অন্য কারোর।

প্রণয় তাড়াতাড়ি গোসল দিয়ে ফিরল। এখন শরীর ফুরফুরে লাগছে। সে বালতি নির্দিষ্ট স্থানে রাখল। পরণে গামছা। প্রণয় আন্ডার হাতে নিতেই প্রাণ বালতি থেকে ভেজা ওড়না শুকাতে দেওয়ার ফাঁকে বলল,
–”এগুলো নিয়ে বাথরুমে যাওয়া যেত না।

প্রণয় কানেই তুলল না। বরং খুবই বেহায়া কাজ করে বসল। ব্রিফ পড়া হতেই গামছা খুলে ফেলল। প্রাণের চোখ কপালে উঠে গেছে। বিহ্বল চিত্তে চকিতেই উল্টো ঘুরে গেল সে। শক্ত গলা ওর,
–”অসভ্যের মতো কারবার করছেন কেন? ভুলে যাবেন না আমি আপনার বউ নই।

বউ না হলেও প্রাণপ্রণয়িনী তো। সে মোটেই লজ্জিত নয়। তার উপর দিয়ে যা ঝড় গেছে তার শোধ তুলল ছোট্ট উপায়ে প্রাণকে বিব্রত করে। প্রণয় স্বাভাবিক ভাবে প্যান্ট পরল। কাজ শেষ করে প্রফুল্ল কণ্ঠে বলল,
–”আমাকে খাইয়ে দিন। আমি মাছের কাটা বাচতে পারি না।

প্রাণ তড়াক করে ঘুরল। বিস্মিত সে! তবে তর্কে গেল না। ছুতো হোক বা সত্য কথা, প্রণয় যে নিজ হাতে খাবে না সে বেশ ভালো করে বুঝল। অগত্যা বেডে বসল। প্লেট তুলে নিল হাতে। প্রণয় গিয়ে মেঝেতে বাবু হয়ে বসল। হুকুম করল,
–”আপনিও খান, আমাকেও খাইয়ে দিন। শুনেছি এক প্লেটে খেলে নাকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মহব্বত বাড়ে।

তাজ্জব বোনে গেল প্রাণ। ঠোঁট নাড়ার পূর্বক্ষণেই প্রণয় নিজেই পুনরায় বলল,
–”এখন আবার এটা জিজ্ঞেস করবেন না যে আমরা হাসবেন্ড-ওয়াইফ হলাম কবে থেকে। আমি তো স্বপ্নে আপনার সঙ্গে ইয়ে পর্যন্ত সেরে ফেলেছি।

বেশি, বেশি রেসপন্স করবেন। হ্যাপি রিডিং…..
#কলমে_নাহিদ_রহমান_
#চলবে_________________________________________

#_প্রণয়িনী_
#_১৪_তম_পর্বে__

প্রাণ একেবারেই নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছে। সে আর কোন রুপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। প্রণয়ের ঠোঁটকাটা কথায় যত বেশি সাড়া দিবে তত হেনস্তা হতে হবে ওকে। এর চেয়েও অধিক প্রাণকে পীড়া দিচ্ছে তাদের অবৈধ মেলামেশা। সে এইসব বিষয়ে সংকীর্ণমনা। ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে চলে। সর্বপরি, প্রণয়ের এহেন সান্নিধ্য তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

বিয়ের আগেই এইভাবে রাত কাটানো, বিবাহ বহির্ভূত ভাবে এক কামড়ায় রাত্রি যাপন, ভেবেই প্রাণ মরণ যন্ত্রণায় বিদ্ধ হচ্ছে। এদিকে প্রণয় মুখে লোকমা নিয়ে এক চাবানি দিতেই সব উগলে ফেলে দিল। গলায় মাছের কাটা লেগেছে। প্রাণকে অন্যমনস্ক দেখে বেজার কণ্ঠে বলল,
–”ধ্যান কই আপনার? কাটা বিধিয়ে মারবেন নাকি?

প্রাণ অনুতপ্ত হলো। কি আজব! সে নিজেকেই ধিক্কার দিল।স্পর্শ দিচ্ছে, পরপুরুষের অধিকারবোধে নিরব সায় দিচ্ছে, তাতে কিছু না! রাতে ঘরে থাকতে দিবে এতেই রাজ্যের চিন্তা। প্রণয় প্রাণের আচরণ পরোখ করে হয়তো তার মনোভাব ধরতে পারল। সে প্রাণের বাম হাতের আঙ্গুল ভাজে নিজের ডান হাতের আঙ্গুল গলিয়ে দিয়ে মুঠোয় ভরল। নিজ স্বরে আওড়াল,
–”কোন বান্দা যদি বিয়ের আগে পাপ করে থাকে তাহলে তিন কবুল পড়ে তারা পবিত্র বন্ধনে বেঁধে যায়, মহান রব তাদের আগের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। প্রাণ, আমরা কি জঘন্য ব্যভিচার করছি? না তো। আমি মেপে মেপে আপনাকে ছুঁয়ে দিচ্ছি তাও আপনার অবহেলার জন্য। আপনি যদি আমাকে বুঝতেন, আমার চাওয়াকে সম্মান করতেন তাহলে আমাদের ঝুলিতে এত পাপ জমতো না।

প্রণয় হাত ছেড়ে দিল। প্রাণ চোখ নামিয়ে নিল। সে তাকাতে পারছে না প্রণয়ের স্বচ্ছ, পবিত্র চাহনিতে। সেই দৃষ্টিতে কোন কামুকতা নেই, নেই কলুষতা। সেথায় তার প্রতি অসীম মোহ, আর ভালোবাসা দেখতে পাওয়া যায়। সে দ্বিতীয় সুযোগ দিবে জীবনকে? কিন্তু তার সন্তানের কি হবে? সেকি নিজের স্বার্থ উদ্ধার করছে না? হ্যাঁ, করছেই তো। একজন অবিবাহিত যুবককে জড়াতে চাইছে নিজের জীবনে। এটাও খাঁটি সত্য, কোথাও তো নিষেধ নেই প্রণয়-প্রাণের পরিণয় অন্যায়।

প্রাণ বিষাদ বায়ু বের করল বুকের গহীনে জমা। মাছের কাটা বেছে লোকমা তুলে বলল,
–”নিন ধরুন।

প্রণয় মুখে নিল। প্রাণ কথা পারল। ভীষণ শীতল সে স্বর,
–”আমি সমস্তই বুঝতে পারি। ছোট্ট কাল হতেই বাস্তবতার সাথে লড়াই করে এসেছি। প্রথমে মায়ের চলে যাওয়া, বাবার বিয়ে, সৎ মায়ের অত্যাচার, অনাথ আশ্রমে বড় হওয়া, স্বামীর ধোকা। চলার পথে এক একটা দিন গিয়েছে পরিণাম সয়ে সয়ে। যাইহোক, সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাকে ঠকায় না। আমার কিছু দিন সময় চাই।

প্রণয় চোখ জোড়া বুজে নিল। অদেখা হাসিতে ঠোঁট দ্বয় তার প্রসার ঘটল। ওর কান কি ঠিক শুনল? সে প্রাণকে নিজের করে পাবে? এটা ধোকা নয় তো! প্রণয় তড়াক করে বন্ধ নয়ন মেলে তাকাল। সন্দেহভাজন গলায় শুধাল,
–”আপনি আবার আমার থেকে দূরে যাওয়ার ফন্দি করছেন নাতো?

–”আপনি এই কয় দিন আমাকে বিরক্ত করবেন না।
প্রাণের আদেশ সূচক বাক্য। প্রণয়ের মন অলিন্দে প্রজাপতির নাচ শুরু হলো। আননখানা অতি প্রজ্জ্বল দেখাচ্ছে। তার তো ইচ্ছে করছে প্রাণকে কোলে নিয়ে উল্লাস করতে। পাছে পেটের অংশ কষ্ট পাবে ভেবে দমিয়ে রাখল মনঃবাঞ্চা।

প্রাণ দেখল তাকে পাওয়ার সুখকর প্রাপ্তি প্রণয়ের চাহনিতে স্পষ্ট প্রকাশিত। কিন্তু সে তো বলে দিল, এখন কিভাবে কি করবে? ঠান্ডা মাথায় সব পদক্ষেপ গুছিয়ে পালন করতে হবে ওকে। কাল অবসর সময়ে পরিকল্পনা করে নিবে এখন।

কথায়, ভাবনায় খাওয়া হলো দু’জনের। প্রাণ অল্পই খেল বৈপরীতে প্রণয় একাই হাড়ির ভাত সাবাড় করে দিয়েছে। পেট তো আরও খেতে চাইছে কিন্তু সেটা বললে প্রাণের দুঃখের আর শেষ থাকবে না। প্রণয় প্রাণের পরণের পোশাক দিয়ে মুখ মুছল। প্রাণ কঠিন দৃষ্টিতে শাসাল। প্রণয় নিঃসৃত করল বাক্য,
–”আপনি আমার বউ হলে এত সুস্বাদু খাবার রেঁধে-বেড়ে খাওয়ানোর জন্য দারুণ উপহার দিতাম। খুশিতে কান্না করতেন।

প্রাণ সরল ভাবেই নিল দুষ্টু ইঙ্গিত পূর্ণ কথাটা। সে স্বাভাবিক চিত্তে উঠে দাঁড়াল। এঁটো থালা, হাড়ি গোছগাছ করল। প্রণয় হতাশ হলো। প্রাণ বুঝতে পারেনি। সে চেয়েছিল খাওয়ার পর একটু রাগ, অভিরাগ পর্বে মজতে। কিন্তু সব পন্ড হলো। প্রণয় বিরবির করল,
–”আস্ত নিরামিষ একটা।

–”কিছু বললেন?
প্রাণের জানার স্পৃহা নিমিত্তে প্রশ্ন করল। প্রণয় থমথমে গলায় বলল,
–”যখন বললাম তখন বোঝেননি। কিন্তু এখন কিছু বলিনি আর আপনি শুনতে পেলেন।

প্রাণেরই ঘাট হয়েছে। সে বাইরে গেল। প্রণয় দু’কদম এগিয়ে গিয়ে র‍্যাকে রাখা কাপড় হাতড়ে একটা কাথা বের করল। ব্যাচ! এতেই হয়ে যাবে। সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা পোশাক হতে বড় মাপের ওড়নাও নিল। প্রাণ ততক্ষণে ফিরল কক্ষে। হাত-মুখ ধুতে গিয়েছিল সে। প্রণয়ের আজগুবি কাজ দেখে দৃষ্টি ছোট হয়ে এলো ওর।

প্রণয় কাথা দুই ভাজ করে মেঝেতে বিছিয়ে দিয়ে শোয়ার জন্য বিছানা করল। বেড হতে বালিশ নিয়ে মাথার দিকে রাখল। প্রাণ সস্থির শ্বাস নিল। তার ধকল কিছুটা কমলো। প্রণয় ওড়না গায়ে চাপিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পরল। এসি চালিয়ে কম্ফোর্ট গায়ে দেওয়া অভ্যাস হয়ে গেছে। সেই অভ্যাস বশত ওর এই কাজ। নাহলে ঘুম ধরবে না। প্রাণ অবাক হলো। তেমনই কণ্ঠ,
–”থাকতে পারবেন?

–”আপনি কি আমার বুকে ঘুমাতে চাইছেন?
প্রণয়ের পাল্টা প্রশ্নে প্রাণ ফোস করে শ্বাস নির্গত করল। সে তড়িঘড়ি রুমের লাইট নিভিয়ে দিয়ে বেডে উঠে গেল। প্রণয়ের দিকে পিঠ করে কাত হয়ে শুয়ে পরল। ওড়না জড়িয়েই রাখল গায়ে।

প্রণয় মাথা উঁচিয়ে ওকে একবার দেখল। আপসোস! সে যদি পেছন হতে তার একান্ত নারীকে আগলে নিতে পারত। প্রণয় বালিশে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজল। আজ শান্তির ঘুম হবে ওর। তার আসা অবধি যা পেয়েছে একজন সুপুরুষ বিয়ের আগে তা পায় নাকি!

.
গভীর যামিনী। রাতের তৃতীয় প্রহর বিরাজমান। ঢাকা শহর পর্যন্ত এখন ঘুমন্ত। কোথাও কারো অস্তিত্ব নেই। সেসময় রিং বেজে উঠল আপন স্বরে। বালিশের নিচে ফোন ছিল বিধায় অল্পতেই ঘুম ভাঙ্গল প্রণয়ের। গাঢ় তন্দ্রার রেশ কাটিয়ে মাথা ভাসিয়ে দেখে নিল প্রাণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাল নাকি। প্রাণ ঘুমাচ্ছে নিশ্চিন্ত হয়ে ফোন বের করল সে। তীব্র আলোয় চোখ বন্ধ হয়ে গেল ওর। প্রণয় আন্দাজেই কল রিসিভ করল চোখ না খুলেই। তখনই ভেসে এলো,
–”আব্বা,

লিপির উদ্বেগ জনিত গলা। মায়ের মন! প্রণয় বুঝল তার ছোট ভাই কথা অমান্য করে লেট নাইট আড্ডা দিয়ে বাড়ি গেছে। মায়ের কাছে প্রণয়ের ব্যাপারে সবিস্তরে জানাতেই লিপির এই সময় ফোন দেওয়া। প্রণয় প্রশান্ত হাসল। ঘুম জড়ানো কণ্ঠের উত্তর,
–”জি, আম্মু।
–”তুমি ঘুমোচ্ছিলে বাবা?
–”হুম,

প্রণয় শোয়া হতে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। এগোল জালানার কাছে। একটা পাল্লা শব্দহীন ভাবে খুলে দিল। ঠোঁটে সিগারেটের শলাকা চাপিয়ে এক হাতে ফোন রেখে অপর হাতে ধরাল তা। লিপির আওয়াজে আক্ষেপ,
–”দেখো তো, তোমার ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে দিলাম।

সিগারের ধোঁয়া ছেড়ে প্রণয়ের ঠোঁটের হাসি সুবিস্তৃত হলো। বলল,
–”আমিই দুঃখিত, আম্মু! তোমাকে টেনশনে রেখেছিলাম। আসলে,

প্রণয় কথা পুরো শেষ করতে পারল না পুনরায় লিপির চিন্তা গ্রস্থ প্রশ্ন,
–”আব্বা, রাতে খেয়েছো? মিথ্যে বলবে না।
–”হ্যাঁ। প্রাণের হাতের রান্না লাজবাব!

মা-ছেলের কথা বিস্তর গড়ালো। অচিরেই প্রণয় গোঙ্গানির ধ্বনি শুনল। সে চটকের ন্যায় ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকাল বিছানায়। প্রাণ ছটফট করছে। প্রণয় দ্রুতই আধা খাওয়া সিগার জানালা গলিয়ে ফেলে দিল। বলল,
–”আম্মু কল কাটছি। প্রাণ কেমন যেন করছে।

লিপি শংকিত হলেন না। প্রেগন্যান্সির সময় হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তিনি ছেলেকে বললেন,
–”আব্বা, সারাদিন মানষিক টানাপোড়নে ছিলে, জায়গা নড়েছে, ধকল সামলেছো। একটা নাপা এক্সট্রা খেয়ে নিও। নাহলে ভোর রাতে তোমার জ্বর আসবে। তখন তোমাকে সামলাতে একজন লোক লাগবে।

–”ঠিক আছে, আম্মু।
প্রণয় কল কাটল। জানালার পাল্লা লাগিয়ে দিতেই ঘরটা ডুবে গেল তিমিরে। প্রণয় ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বলিয়ে নিল। সে প্রথমে মায়ের কথাই পালন করল। প্রাণের ওষুধের বক্স খুঁজে নাপা এক্সট্রা খেয়ে নিল। অতঃপর, গিয়ে বসল প্রাণের বেডে।

প্রাণ একবার এপাশ হচ্ছে, আবার ওপাশ হচ্ছে। কিন্তু উঁচু পেটের জন্য সুবিধা করতে পারছে না। প্রণয় আলতো ভাবে ডাকল,
–”প্রাণ,

প্রাণ চোখ খুলল। হাত, পা প্রবল ব্যথা করছে। রোজ রাতেই হয় এমন। সে দাঁত খিচে সহ্য করে নেয়। কখনো মাত্রাতিরিক্ত যন্ত্রণা হলে নিজেই নিজের পা টিপে। ডক্টর জানিয়েছে শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতির ফলে হয় এমন। আবার প্রেগন্যান্সিতে পানি জমেছে পায়ে। প্রাণ বালিশের উপর পা রাখে, এতে কিঞ্চিৎ উপশম পায়। আজ তো বালিশ নেই। তাই বেশি টেনে ধরেছে পা জোড়া। সে আজ চোখের সামনে অস্থির একজনকে পেল। প্রণয় তাড়াস যাওয়া চোখে চেয়ে রয়েছে।

–”ঠিক আছি আমি।
প্রাণ ধীর-স্থির ভাবে উঠে বসল। প্রণয়ের বিচলিত কণ্ঠ,
–”পানি খাবেন?

–”না,
প্রাণ পা ঝুলিয়ে দিল। বিছানা হতে নামবে সে। মেঝেতে ওর পা ঠেকতেই মস্তিষ্ক অবধি ঝিনঝিন করে উঠল। প্রাণ দাঁতে দাঁত পিষল। তীব্র ক্লেশে মুখ রক্তিম হয়েছে। বেজায় জড়িয়ে গিয়েছে আবরু। অবশতায় শরীর নুইয়ে এসেছে। ঘামছে প্রচুর। প্রণয় অসহায় বোধ করছে। প্রাণের ওড়না নিয়ে পাশে রেখে দিল। ফ্যাকাসে গলায় শুধাল,
–”বাথরুমে যাবেন?

–”জি,
প্রাণের ছোট্ট উত্তর। প্রত্যহ এসব সহ্য করে থাকতে হচ্ছে। তাই আজও ব্যতিক্রম নয়। সময় নিয়ে নিয়ে নিজের কাজ করে সে। প্রণয় উঠে দাঁড়াল। চকিতেই প্রাণকে পাজা কোলে নিল। সোজা চলল বাথরুমের দিকে। প্রাণ পরাস্তের ন্যায় মাথা রাখল প্রণয়ের প্রশ্বস্ত বুকে। কেন যেন এটুকু যত্ন লুফে নিল। এ জন্যই হয়তো স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক।

প্রণয় কমন বাথরুমের সামনে এসে প্রাণকে নামিয়ে দিল। সে ভেতরের লাইট অন করলে প্রাণ কাজ সারতে ঢুকল। প্রণয় চৌকিদারের মতো পাহারায় রইল বাইরে। স্মোকের ক্রেভিংস এখনো পূরণ হয়নি ওর। মাথাটা ধরেছে। হয়তো ঘুম ভাঙ্গার জন্য।

প্রাণ বেরিয়ে এলো। বিষ ব্যথার চোটে ওড়না নেওয়ার কথা মাথাতেই ছিল না। এখন অপ্রকৃতস্থ বোধ করছে। প্রণয় তাকে কোলে তুলতে যাবে প্রাণ মুখের উপর বলে দিল,
–”রুমে থাকতে দিয়েছি জন্য এই নয় আপনি যা-তা গিলবেন সেখানে। আমার সন্তানের ক্ষতি হচ্ছে।

অপরাধী ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল প্রণয়। মানলো সে ভুল করেছে। তার উচিত হয়নি এটা করা। প্রাণ পেটের নিচে হাত চেপে হেঁটেই চলল। প্রণয় মনরমণির গমন পথে চেয়ে কুণ্ঠিত স্বরে বলল,
–”কোলে নিব?

–”প্রয়োজন নেই। অনেক করেছেন।
প্রাণ নাকোচ করল আদর মাখা প্রস্তাব। প্রণয়ের চিত্তে মন খারাপের রেশ প্রকট হলো। সে তো কিছুই করেনি। বার দুয়েক দুষ্টুমি করে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে। শ্রান্ত কদম মাড়িয়ে সেও কক্ষে গেল।

কামড়ায় ফ্ল্যাশ লাইটের মৃদু আলো। প্রণয় কক্ষের লাইট জ্বালায়নি। প্রাণ বহু কষ্টে ঝুকে গেল। বেডের নিচ হতে একটা বোয়াম বের করল। প্রণয়ের গমগমে গলা,
–”আমাকে বললেই তো পারতেন। নিজেকে আবর্জনা মনে হচ্ছে।

প্রাণ বেডে পা সোজা ভাবে মেলে রেখে বসল। তার ক্ষুধা লেগেছে এবেলা। একবার প্রণয়ের রাগান্বিত মুখে তাকাল। প্রণয় এগিয়ে গিয়ে বোয়াম ঘেটে দেখল। জবান হতে বের হলো,
–”আপনি এইসব বাইরের খাবার খান? এসব স্বাস্থ্যকর?

প্রাণের ভ্রু জড়ো হলো। তার যে হাল হয়েছিল এতদিনে কবরে ঘাস জন্মাতো। নয়তো তার সন্তান পেটেই মারা যেত। ভাগ্যিস তার বাপের সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে। তাকে টাকা পাঠাচ্ছে, তাই ভালো মন্দ খেতে পারছে। প্রাণের চোখ ছলছলে হলো। সেসব দিনের কথা মনে করতে চায় না।

–”দিন, এসব খেতে হবে না। আমি,
প্রণয় বোয়াম খানা কেড়ে নিতে ধরেছে হুট করে মনে পরল সে তো ওয়ালেট নিয়ে আসেনি। মুখের কথা গিলে নিল ও। এমন নিকৃষ্ট খারাপ লাগা কোনদিন অনুভব করেনি সে। প্রাণ নিজেকে আরও নিষ্ঠুর রুপে উপস্থাপন করল,
–”কাল ভোর রাতেই চলে যাবেন। আমি যোগাযোগ না করা পর্যন্ত আমার আশে-পাশে ঘেষবেন না।

বেশি, বেশি রেসপন্স করবেন। হ্যাপি রিডিং…..
#কলমে_নাহিদ_রহমান_
#চলবে_________________________________________

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ