#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_২৯
সারাদিন ঘুরাঘুরির করে গল্প বাসায় ফিরেছে সন্ধ্যার দিকে। নিলুফার চা করছিলেন মেয়েকে এই অসময়ে বাড়ি ফিরতে দেখে তিনি বেশ বেজার হলেন। গল্প আজ সকাল থেকে বেড়িয়েছিল আর এই মাত্র ফিরল সারাদিন কি না কি খেয়েছে তা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত। এর মধ্যেই গল্প হাঁক ছেড়ে ডাকল,
‘আম্মু যেহেতু চা করেছো আমাকেও এক কাপ দাও তো।’
অথচ সে বাহির থেকে কিছুক্ষণ আগেই চা খেয়ে এসেছে –চা তার ভীষণ আবেগের একটা বিষয়। দেখলেই খেতে ইচ্ছে করে। নিলুফার বিরক্ত হয়ে বলল,
‘চা খাবে মানে? তুই বাহির থেকে এসে এখনো ফ্রেশ হোসনি আর বলছিস চা খাবি! মানুষ তো বাহির থেকে আসলে প্রথমে পানি-টানি কিছু খায় আর তর উল্টোটা।’
গল্প মায়ের কথায় পাত্তা না দিয়ে সোফার হেলান দিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে বসে বলে,
‘পানি-টানি পরে খাব এখন এক কাপ তাজা তাজা চা দাও গলা ভিজাই। আর চা খেয়ে তারপর ফ্রেশ হবো।’
নিলুফার মেয়ের যুক্তিতে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে রইলো কিছুক্ষণ। অতঃপর তার কাজের সাহায্যকারী মেয়েটার হাতে এক কাপ চা দিয়ে বলে,
‘এই বিনু চা টা গিয়ে মহারানীকে দিয়ে আয় তো –এই মেয়ের নবাবি হাল তো জিন্দেগীতেও যাবে না।’
বিনু গল্পর হাতে চা’র কাপ টা দিতেই গল্প এক চুমুক চা খেয়ে স্বস্তিতে চোখ বন্ধ করে। এর মধ্যেই নিলুফার আবারও বলে উঠলো,
‘এ্যাই গল্প, শুভ্র আজ আমাকে ফোন দিয়ে তর কথা জিজ্ঞেস করলো –তুই নাকি ওর ফোন ধরছিস না! তোদের মধ্যে কি ঝগড়াঝাটি হয়েছে?’
গল্প যেনো একটা বিষম খেলো। তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ থেকে ফোন বের করতেই দেখে ভদ্রলোক ইতিমধ্যে তাকে –১১০ বার স্মরণ করে ফেলেছে। লাস্টে একটা ম্যাসেজও ছিলো ঠিক ম্যাসেজও না এটাকে বড়োজোর বলা যায়- হুমকি! যেখানে লেখা— “মাই ডিয়ার ওয়াইফ আজ আমিও দেখতে চাই তোমার ঠিক কয়টা পাখা গজিয়েছে যে আমার কল পিক করার টাইম অব্ধি পাচ্ছো না।”
ম্যাসেজটা পড়ে গল্প শুকনো একটা ঢুক গিলল। নিলুফার এবার চিন্তিত হয়ে বলে,
‘কিরে তোদের মধ্যে কি সত্যিই ঝামেলা হয়েছে? হলে এখনই মিটিয়ে নে –এসব স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো ঝামেলা সেটা বেশি ধরতে নেই। এতে করে সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।’
গল্প তার মায়ের এতো আগ বাড়িয়ে চিন্তা ভাবনায় বেশ বিরক্ত হলো। বলল,
‘আম্মু তুমি একটু বেশি বেশিই ভাবো সবসময়। ঝগড়া হবে কেনো? কিছুই হয়নি; আমার ফোন টা সাইলেন্ট ছিলো তাই বুঝতে পারিনি তাছাড়া আজ ফোনও সারাদিন হাতে নেওয়া হয়নি।’
নিলুফার সন্তুষ্ট হতে পারলেন না মেয়ের কথায়। এই মেয়ের দায়িত্বজ্ঞান কবে হবে!
‘তুই সবকিছুতেই এমন উদাসীন কেনো বলবি আমাকে! এখনই ফোন কর।’
গল্প -করছি’ বলে শুভ্রর নাম্বারে ডায়াল করতে যাবে ঠিক তখুনি তার ফোন টা অফ হয়ে গেলো। ফোনটার চার্জও এখনই শেষ হতে হলো! গল্প মনে মনে ভীষণ তিতিবিরক্ত হয়ে এই জড় বস্তুটির উপর ভয়াবহ কিছু গালি ছুড়লো। বসা থেকে উঠতে উঠতে বলল,
‘চার্জ শেষ হয়ে গেছে আম্মু পরে কল ব্যাক করে নিবো। শুনো, রাতে আমি খাব না এখন গোসল করে ঘুম দিব –পরে আবার ডাকাডাকি করো না।’
‘এই অবেলায় গোসল করে দেখো অসুখ-বিসুখ নাকি বাঁধাতে পারো! আর রাতে খাবে না কেনো সারাদিন কি না কি খেয়েছো। আমি বিনুকে দিয়ে রাতের খাবার তোমার ঘরে পাঠিয়ে দিবো অল্প হলেও খেতে হবে।’
________________________
‘বাসায় আসবি না মানে? কই তুই?’
শুভ্র ড্রাইভ করতে করতেই মায়ের প্রশ্নের উত্তর দিলো,
‘তাহিয়াতদের বাসায় যাচ্ছি।’
ফোনের ওপাশে জাহানারা অবাক হয়ে বলল,
‘তুই এই অসময় ময়মনসিংহ যাচ্ছিস! তারউপর এতদূর একা একা ড্রাইভ করে যাচ্ছিস –ড্রাইভারকে বলতি। আমি তোকে মানা করেছিলাম না শুভ্র; তুই এতো দূরের পথ নিজে ড্রাইভ করবি না! কথা শুনিস না কেনো তরা!’
শুভ্র অস্থির মাকে শান্ত করার প্রয়াস চালিয়ে বলল,
‘তুমি শুধু শুধু টেনশন করো না তো আম্মু। আমি সাবধানেই ড্রাইভ করব তোমার ছেলে গাড়ি চালানোতে এতোটাও আনাড়ি নয় কিন্তু।’
জাহানারা চিন্তা কমালো না। বলল,
‘চিন্তা কি আর এমনই করি তরা কি বুঝবি। আচ্ছা এখন ড্রাইভ করার সময় এতো কথা বলার দরকার নেই সাবধানে ড্রাইভ করবি আর হ্য গাড়ির স্পিড একদম হাই করবি না। মনে থাকে যেনো!’
শুভ্র মায়ের এতো এতো সাবধানী উপদেশ শুনে হেসে ফেললো। বলল,
‘আচ্ছা আচ্ছা অবশ্যই মনে থাকবে। এখন রাখি রাতে মনে করে ঔষধ গুলো খেয়ে নিয়ো।’
জাহানারা ফোন রাখতেই শাওন একচোট হেসে বললো,
‘আম্মু আমার এতোক্ষণ মনে হলো তুমি হাইস্কুলে পড়া তোমার এক ছেলেকে এতো এতো এভবাইস দিলে।’
জাহানারা ছেলের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বললো,
‘একদম হাসবি না বেয়াদব ছেলে; তোদের তো তাই মনে হবে। মা দের যে কতো ঝালা সেটা তরা কি বুঝবি!’
শাওন হাসি থামিয়ে মাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,
‘আরে রিল্যাক্স আম্মু রিল্যাক্স। তোমার ছেলে তার বউকে দেখার জন্য মরিয়া হলেও আপাতত সে মায়ের কথা মেনে সাবধানেই গাড়ি চালাবে। এখন আমাকে তাড়াতাড়ি খাবার দাও তো –নাহলে তোমার হিটলার বর এসে কাজের ব্যাপারে হ্যানত্যান পাঁচশ কথা শুনাবে।’
জাহানারা ছেলের বাহুতে থাপ্পড় মেরে বলল,
‘বাদড় ছেলে হিটলার কি রে! বাবা হয় না –তর ভালোর জন্যই বলে। বস আমি খাবার দিচ্ছি।’
শাওন ঝটপট টেবিলে বসে পড়ল তার এখন একটাই চিন্তা সেটা হলো –যত তাড়াতাড়ি খাবারটা খেয়ে এখান থেকে বিদায় নেওয়া। আজ সে অফিসের বেশ কিছু কাজ কমপ্লিট না করেই বেড়িয়ে পড়েছিল বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। তার ধারণা অনুযায়ী তার হিটলার বাবা ওরফে মি.শাহিনুজ্জামান নিশ্চয়ই রেগেমেগে বোম হয়ে আছে। আর সেই বোম তার দিকে ধেয়ে আসার আগেই সে খেয়েদেয়ে এখান থেকে বিদায় নিয়ে ঘরে গিয়ে দোর এঁটে শান্তিতে ঘুম দিতে চায়।
___________________________
রাত তখন প্রায় সারে বারোটা বাজে আর ঠিক তখুনি গল্পদের “বাবুই নীড়” বাসাটায় স্বশব্দে কলিং বেলটি বেজে উঠলো। ইমতিয়াজ রহমান চোখে চশমা পড়তে পড়তে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেন। এতো রাতে কে হতে পারে ভেবে দরজা খুলতে খুলতেই দেখে তার ছোট কন্যার জামাতা হাসিমুখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। শুভ্র সালাম দিতেই ইমতিয়াজ রহমান তার উত্তর দিয়ে ভিতরে আসার জন্য জায়গা করে দিলো। নিলুফার এবং ইমতিয়াজ দুজনেই এতো রাতে মেয়ে জামাইকে দেখে হতবাক। নিলুফার চিন্তিত হয়ে বলল,
‘বাবা তুমি এতো রাতে! না মানে আসবে সেটা তো জানাওনি তাই।’
শুভ্র মিষ্টির প্যাকেট গুলো নিলুফার এর হাতে দিতে দিতে বলল,
‘আসলে হুট করেই ডিসিশন নিলাম এখানে আসব তাই আর বলা হয়নি।’
নিলুফার মুখ ভরে হাসলেন বলল,
‘ভালো করেছ এসে। তুমি উপরে যাও আমি খাবার রেডি করছি।’
শুভ্র যেনো এটারই অপেক্ষায় ছিলো। আর তাই তো নিলুফার বলা মাত্রই সে মাথা নেড়ে দ্রুত পায়ে উপরে উঠে গেলো। নিলুফার হাত থেকে মিষ্টির প্যাকেট গুলো রেখে তাড়াতাড়ি করে রান্না বসালেন। মেয়ের জামাই এসেছে বলে কথা স্পেশাল কিছু তো করতেই হবে।
শুভ্র ঘরে ডুকেই দেখে গল্প একটা টেডি জড়িয়ে পরম শান্তিতে ঘুমোচ্ছে। তার ঘুম হারাম করে নিজে শান্তিতে ঘুম দিচ্ছে। শুভ্র জার্নি করে এসে এই ধুলোবালি মাখা কাপড় নিয়ে গল্পর কাছে আর যায়নি। ড্রয়ার থেকে তার টি-শার্ট আর টাউজার বের করলো যেগুলো এখানেই থাকে।
মিনিট দশেক ধরে ওয়াশরুম থেকে একেবারে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে বের হলো। গল্প তখনও ঘুমে।
শুভ্র বিস্ময় নিয়ে ভাবে একটা মানুষ এতোটা ডিপ ঘুম কীভাবে ঘুমায়! একজন জলজ্যান্ত মানুষ তার ঘরে ডুকে এতোক্ষণ ধরে আছে আর এই মেয়ের কোনো খবরই নেই। শুভ্র গল্পর ঘুমন্ত মুখটার ঠিক সামনে বসলো। উপুড় হয়ে তার ভিজা চুলগুলো নাড়াতেই তা থেকে টুপটাপ কিছু পানি ছিটকে গল্পর চোখে মুখে পড়তেই সে কিছুটা নড়ে উঠে। কিন্তু পরপরই আবারও টেডিতে মুখ গুঁজে আরাম করে ঘুমায়। শুভ্র হেসে ফেললো তা দেখে।
শুভ্র এবার বেডে গল্পর পাশে শুয়ে পড়লো গুটিশুটি হয়ে একদম গল্পকে নিজের বুকের সাথে পিষে ধরে। এবার বোধ হয় মেয়েটার টনক নড়ল। ঘুমের মধ্যেই বেশ নড়েচড়ে উঠলো তার এতো সাধের ঘুমের রফাদফা হওয়ার কারনে বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে তাকাতেই একটা ঝটকা খেলো। বিস্ময় নিয়ে বলল,
‘এটা সত্যিই আপনি?’
‘তো সন্দেহ আছে নাকি? আমি ছাড়া আমার বউয়ের এতোকাছে আসার অন্য কারও কলিজা আছে বুঝি!’
গল্পর ঘুম এবার পুরোপুরি তার চোখ থেকে বিদায় নিলো বলল,
‘আপনি এতো রাতে? কই, আসবেন যে আমাকে তো বলেননি!’
শুভ্র এবার গম্ভীর গলায় বললো,
‘তাই? আপনাকে তো আজকাল ফোন করে পাওয়াই দুষ্কর। কতোগুলো কল দিয়েছি চেক করেছো? আর তুমি বলেছিলে দুদিন থাকবে; আর এখন কয়দিন হলো! তারউপর আবার আপনাকে ফোনেও পাওয়া যায় না এতো বিজি থাকছেন আজকাল।’
গল্প অপরাধীর মতো মুখ করে বলল,
‘সরি। আসলে আজ সারাদিনই বাহিরে ছিলাম আর আমার ফোনটাও সাইলেন্ট ছিলো। তাই বলে আপনি এতো রাতে আমাকে না জানিয়ে এখানে চলে আসবেন!’
‘কি করব বলো! চিন্তা হয় তো আমার।’
গল্প নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে বলল,
‘আচ্ছা এখন ছাড়ুন; আমি আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসি নিশ্চয়ই রাতে খাননি! দেখি, ছাড়ুন।’
শুভ্র ছাড়লো না বরং আরেকটু আষ্টেপৃষ্টে সাপের ন্যায় জড়িয়ে ধরলো। গল্পর গলায় মুখ গুঁজে বলল,
‘আগে আমাকে রেস্ট নিতে দাও পরে খাব। একটু বরের সেবা করো তো –মাথাটা দপদপ করছে।’
গল্প উদগ্রীব হয়ে বলল,
‘মেডিসিন দেই তাহলে সেরে যাবে।’
শুভ্র নড়লও না। বলল,
‘আমার মেডিসিন আপাতত আমার সঙ্গেই আছে। যার স্পর্শে আমার শরীরের সমস্ত ক্লান্তি -অবসাদ; এমনকি মস্তিষ্কের নিউরন গুলোও শীতল হয়ে আসে। সো চুপচাপ শুয়ে থাকো। একদম নড়চড় করবে না –আমাকে রিফ্রেশ হতে দাও তো।’
গল্প আর গাইগুই করল না চুপচাপ শুভ্রর বাচ্চামো আবদার মেনে তার একান্ত পাশে চুপচাপ অবস্থান করলো। যতোটা কাছে থাকলে একে-অপরের নিশ্বাসের শব্দও ঝংকার তুলে আওয়াজ হয় কানে; ঠিক ততটাই কাছে।
#চলবে
#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_৩০
‘আমার মেডিসিন আপাতত আমার সঙ্গেই আছে। যার স্পর্শে আমার শরীরের সমস্ত ক্লান্তি-অবসাদ; এমনকি মস্তিষ্কের নিউরন গুলোও শীতল হয়ে আসে। সো চুপচাপ শুয়ে থাকো। একদম নড়চড় করবে না –আমাকে রিফ্রেশ হতে দাও তো।’
গল্প আর গাইগুই করল না চুপচাপ শুভ্রর বাচ্চামো আবদার মেনে তার একান্ত কাছটায় গুটিশুটি হয়ে অবস্থান করলো। যতটা কাছে থাকলে একে-অপরের নিশ্বাসের শব্দও কানে ঝংকার তুলে আওয়াজ হয়; ঠিক ততটাই কাছে। গল্প ওভাবেই জিজ্ঞেস করলো,
‘টেডিটা কি করেছেন? ওপাশেও তো নেই!’
‘ওটাকে নিচে ফেলে দিয়েছি।’
শুভ্রর কথায় গল্প যেনো আঁতকে উঠল। শুভ্রর বুক থেকে মাথাটা হালকা উঁচিয়ে বলল,
‘আপনি টেডিটা নিচে কেনো ফেলেছেন? ওটা আমার ফেবরিট টেডি শুভ্র!’
শুভ্র তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বললো,
‘হোক ফেবরিট। নিজের বর থাকতে তোমার ওটাকে জড়িয়ে কেনো ঘুমাতে হবে!’
গল্প ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে বললো,
‘এটা কেমন কথা! যখন ঘুমিয়ে ছিলাম তখন তো আর আপনি ছিলেন না।’
শুভ্র গল্পর মাথাটা তার বুকে পুনরায় মিশিয়ে বলল,
‘তখন ছিলাম না; কিন্তু এখন তো আছি। তাই ওই টেডি-ফেডির এখন আর আমাদের মধ্যে কোনো কাজ নেই।’
গল্প আর কিছু বলবে তার আগেই নিচ থেকে নিলুফার গলার আওয়াজ ভেসে এলো। তিনি গল্পকে ডাকছেন শুভ্রর খাবার রেডি তাই। গল্প শুভ্রকে হাতে ঠেলে সরাতে চেয়ে বললো,
‘আহ্! কি করছেন ছাড়ুন এবার; আম্মু ডাকছে শুনতে পাচ্ছেন না!’
শুভ্র সেভাবে থেকেই বলল,
‘আপাতত কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।’
‘শুভ্র উঠুন এবার; আম্মু বসে আছে খাবার নিয়ে। অনেক রাতও হয়েছে; আম্মুর আবার ভালো ঘুম না হলে বিপি হাই হয়ে যায়।’
শুভ্র এবার চট করেই উঠে পড়ল। বলল,
‘তাহলে উনাকে কেনো এতো রাতে কষ্ট করে রান্না করতে দিলে? যা ছিলো তাই দিতে!’
গল্প তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে থাকিয়ে বলল,
‘এমন ভাবে বলছেন যে আমি আগে থেকেই জেনে বসেছিলাম আপনি এই মাঝরাতে হুট করে আসবেন!’
শুভ্র আর কথা বাড়াল না চুপচাপ বাধ্য ছেলের মতো ডাইনিং এ গেলো। নীলুফার হাসিমুখে শুভ্রকে পাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন। এর এক ফাঁকে মেয়েকে রান্নাঘরে নিয়ে চোখ রাঙিয়ে বলল,
‘তর কি কোনো কান্ড-জ্ঞান নেই গল্প! শুভ্র যে আসবে এটা আগে কেনো আমাকে বললি না!’
গল্প বেচারা মুখ করে বলল,
‘আমি কি বলব! আমাকে কি জানিয়ে এসেছে নাকি? ও তো হুট করেই এখানে এসেছে।’
নিলুফার টেবিলের কাছে আসতেই দেখে শুভ্র এখনো খাওয়া শুরু করেনি। বলল,
‘ওমা খাচ্ছো না কেনো বাবা! খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে তো।’
শুভ্র ইতস্তত করে বলল,
‘এইতো খাবো। মা আপনি এখন গিয়ে শুয়ে পড়ুন নয়তো শরীর খারাপ করবে। আর রাত জাগবেন না তাছাড়া এখানে তাহিয়াত তো আছেই।’
নিলুফার আরও কিছু বলবেন কিন্তু শুভ্রর জোড়াজুড়িতে অবশেষে গল্পর কাছে দায়িত্ব দিয়ে তিনি ঘরে গেলেন। নিলুফার যেতেই গল্প তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বললো,
‘কি ব্যাপার খাচ্ছেন না কেনো?’
শুভ্র সহজ ভঙ্গিতে বলল,
‘হাত ব্যাথা করছে তাই।’
‘হাত ব্যাথা করছে?’
‘হু, কতোটা পথ নিজে ড্রাইভ করে এলাম সেটাই তো স্বাভাবিক।’
গল্প শুভ্রর দিকে কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করে বলল,
‘বললেই হয় খাইয়ে দিতে হবে!’
শুভ্র হেসে বললো,
‘কেউ বুঝে নিলেই তো পারে।’
গল্প ঠোঁট চেপে হেসে শুভ্রকে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দিতে লাগলো। শুভ্র অবশ্য সুযোগে সুযোগে গল্প আঙুলে টুকুস টুকুস করে কামড় বসাতে ভুলছে না।
‘এটা কি হচ্ছে? এভাবে কামড় দিচ্ছেন কেনো?’
শুভ্র খেতে খেতে ভীষণ সাবলীলভাবেই উত্তর দিলো,
‘পানিশমেন্ট। আমার কল রিসিভ না করার।’
গল্প তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে রইলো শুভ্রর দিকে। কি ধুরন্ধর লোক একে তো সে খাইয়ে দিচ্ছে তারউপর আবার তাকে পানিশমেন্টও দেওয়া হচ্ছে!
নিলুফার মেয়ে জামাইকে এমন দেখে মুখে চাপা হাসি লুকিয়ে এড়িয়ে গেলেন। তিনি এসেছিলেন মূলত গল্পকে এটা বলতে যে খাওায়র পর যেনো শুভ্রকে মিষ্টি জাতীয় কিছু দেয় ফ্রিজ থেকে। কিন্তু এখানে এগুতেই গল্পর শুভ্রকে হাতে তুলে খাইয়ে দেওয়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্যটি দেখে আর এগুলেন না।
________________________________
গল্পরা ঢাকা ফিরেছে এই এক সপ্তাহের মতো হবে। গল্প ইদানিং লক্ষ্য করছে তার শরীরটা থেকে থেকেই বেশ খারাপ করছে । এই বিষয়টা আবার শুভ্রর থেকে খুব সন্তপর্ণে চেপে গেছে। কারন মহাশয় যদি একবার জানে তার শরীর খারাপের কথা তাহলে খামোখা দুশ্চিন্তায় অস্থির হবে। তারউপর তার খাবার-দাবার নিয়ে হাজারটা কথা শুনাবে। তারপরও ভদ্রলোক তার চোখমুখ দেখে কিছু একটা আন্দাজ বোধ হয় করেই ফেলেছে তাই তো সকালেই অফিসে যাওয়ার সময় কেমন জানি ত্যছড়া নজরে চেয়ে বলল,
‘ইদানিং তোমাকে একটু উইক মনে হচ্ছে। তোমার কি কিছু হয়েছে? একদম সত্যি টা বলো।’
গল্প শুভ্রর কথা কাটাতে বলল,
‘কোথায় উইক লাগছে? আমি তো একদম ফিট এন্ড ফাইন আপনি অযথাই ভাবেন।’
শুভ্রর সন্দেহ তখনও পুরোপুরি যায়নি সেটা তার দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা দেখেই আন্দাজ করে নিলো গল্প। তারপর হুট করেই শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় অদ্ভুত এক আবদার করে বসল,
‘শুভ্র আজকে অফিস থেকে আসার সময় আমার জন্য মনে করে একটা আলতা আনবেন তো! আমার ভীষণ আলতা পরতে ইচ্ছে করছে।’
শুভ্র গল্পর মাথায় হাত বুলিয়ে হেসে বলল,
‘আলতা! ওকে নিয়ে আসব।’
গল্প নিশ্চিন্তমনে শ্বাস ফেললো। যাক শুভ্র টার মাইন্ড ডাইভার্ট তো করা গেছে। শুভ্র তখন হাতে করে অফিসের ব্যাগ টা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। কিন্তু মিনিটের মধ্যেই দ্রুত পায়ে আবারও ঘরে ডুকে। গল্প বিছানার কুশন গুলো ঠিক করছিল শুভ্রকে ফিরে আসতে দেখে বলে,
‘ফিরে এলেন যে, কিছু কি ভুলে গেছেন?’
শুভ্র এগুতে এগুতে বলে,
‘হু… ভীষণ ইম্পর্ট্যান্ট কিছুই।’
গল্প আবারও কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই তার কপালে শুভ্রর উষ্ণ দুটো ঠোঁট এসে ঠেকলো। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে শুভ্র সরে এসে বলল,
‘কি ভীষণ একটা ইম্পর্ট্যান্ট কাজ; আমি কি করে ভুলে গেলাম তাহিয়াত! আমার তো কাজেই মন বসত না আজ –ভাগ্যিস সিঁড়ি অব্ধি যেতেই মনে হলো।’
গল্প কিছু বলবে তার আগেই শুভ্র যেমন ঝড়ের গতিতে এসেছিল ঠিক তেমনই ঝড়ের গতিতে আবার চলে গেলো।
সকালের কথাগুলো মনে করেই গল্প হেসে উঠলো আপনমনে। তার মধ্যেই ডক্টরের চেম্বার এর ভিতর থেকে কেউ একজন ডেকে উঠলো,
‘মিসেস আহমেদ আপনার রিপোর্ট রেডি। ভিতরে আসুন প্লিজ।’
গল্প সব ভাবনা ঠেলে উঠে দাঁড়াল। হুট করেই তার বুকটা অস্থির ভাবে কাঁপতে লাগলো সে তার ধুরুধুরু বুক নিয়েই ডাক্তারের চেম্বারে ডুকল।
_____________________________
গল্প খুশিতে রীতিমতো কাপচে। এতোটা খুশি বোধ হয় তার লাইফে অন্য কিছুতে আর হয়নি। রিপোর্ট টা যতবার চোখের সামনে ধরছে ততবারই অদৃশ্য কোনো এক সুখকর অনুভূতি যেনো তার চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। বোধ করি সে কারনেই তার চোখ দুটি ক্ষণেক্ষণে ছলছল করে উঠছে। আচ্ছা শুভ্রকে যখন এই মিষ্টি নিউজটা দিবে তখন তার কেমন অনুভূতি হবে? সে কিভাবে রিয়েক্ট করবে তখন? কথাগুলো ভাবতেই তার মনটা কেমন জানি ছলকে উঠলো।
গল্প কি মনে করে যেনো কাভার্ড থেকে সিল্কের মধ্যে একটা লাল দেখতে শাড়ি বের করে সুন্দর করে পরে নিলো। শাড়িটা পড়ে অধীর আগ্রহে শুভ্রর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। মহাশয় আজ এখনো আসছে না কেনো? এই সময়টাও যাচ্ছে না কেনো? এসব কতসব হাজারও প্রশ্নবান নিজেই নিজেকে ছুড়ছে।
শুভ্র যখন ফিরল তখন রাত নয়টা বাজে। অন্যদিনের তুলনায় আজ যেন সে একটু দ্রুতই বাসায় এসেছে। কাজ থেকে আজ জলদি ফিরার কারন হয়তো সকাল বেলায় বউয়ের ওমন নিবোনিবো চাহনি-ই ছিলো। যদিও গল্প বলেছে সে একদম ঠিক আছে তবুও তার কোথাও একটা যেনো মনে হয়েছে গল্প ঠিক নেই –অন্তত গল্পর চোখমুখ তো তাই বলছিল। আচ্ছা শুভ্র তো কাজের চাপে গল্পকে ইদানীং খুব একটা সময়ও দিতে পারছে না গল্প কি সেটা নিয়েই নিজেকে লোনলি ফিল করছে! শুভ্র এসব চিন্তা করেই আজ কাজ থেকে একটু দ্রুত বিরতি নিয়ে বাড়িতে আসল। আসার সময় অবশ্য মনে করে গল্পর কথা অনুযায়ী আলতা আনতে ভুলল না আর তারও সঙ্গে নিয়ে আসলো গল্পর প্রিয় এক চড়া রজনীগন্ধা।
গল্প তখন বারান্দার রেলিঙ ধরে আকাশ দেখতে ব্যাস্ত। শুভ্র চুপিচুপি গিয়ে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। গল্পর নরম কাঁধে থুতনি টেকিয়ে বলল,
‘এতো মনোযোগ দিয়ে কি দেখা হচ্ছে?’
গল্প শুভ্রর দিকে ফিরে একগাল হেসে তার গলায় দু’হাত জড়িয়ে বলল,
‘আকাশ দেখা হচ্ছে। লুক…আজকের আকাশটা দারুণ। কি সুন্দর গোলগাল একটা চাঁদ আর আশেপাশে তাঁরাদের কত-শত ভীর!’
শুভ্র গল্পর নাক টেনে বলল,
‘আজ একটু বেশিই খুশি মনে হচ্ছে। কোনো কিছু নিয়ে আবদার আছে নাকি!’
গল্প আবারও মিষ্টি করে হাসে। শুভ্র এবার ত্যাছড়া নজরে তাকিয়ে রইলো গল্পর দিকে। মহারানী তো যখনই বাপের বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে তখনই এমন গদগদ হয়। এবারও কি তাই নাকি! শুভ্র সতর্ক গলায় বললো,
‘লিসেন, যদি এই মিষ্টি মিষ্টি হাসির পিছনে তোমার বাপের বাড়ি যাওয়ার ধান্ধা থাকে দেন আমি আগেই বলে দিচ্ছি –ইউুর সুইট ট্রিকস ওন্ট ম্যাল্ট মি দিস টাইম। বুঝা গেলো ওয়াইফি!’
গল্প শুভ্রর কথা শুনে একপ্রকার হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলো। অভিমানী গলায় বলল,
‘তারমানে আপনি বলতে চাইছেন আমি বাপের বাড়ি যাওয়ার পারমিশন চাওয়ার সময়ই শুধু আপনার সাথে সুইট বিহেভ করি! অন্য সময় করি না?’
‘ইশ… রাগ করলে নাকি? আমি তেমনটা বলিনি। বাট মোস্ট অব দ্যা টাইম তুমি তো তাই করো। সত্যি করে বলো তো। দেখি এদিকে আসো তো কথায় কথায় গাল ফুলালে হয়!’
‘শুনন, আজ আমার মোড খুব ভালো তাই বেঁচে গেলেন! নয়তো….’
শুভ্র গল্পকে একটনে নিজের কাছে নিয়ে এসে গাঢ় চোখে চেয়ে বললো,
‘নয়তো? নয়তো কি ওয়াইফি? বলুন শুনি!’
গল্প নিজেকে শুভ্রর থেকে ছাড়িয়ে তাড়া দিয়ে বলল,
‘নয়তো কি সেটা পরে শুনবেন। আগে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আসুন। আর দেখি ফুলগুলো দিন।’
গল্প শুভ্রর থেকে রজনীগন্ধা গুলো নিয়ে মুখের কাছে ধরে চোখ বন্ধ করে -তার থেকে একদম টাটকা একটা ঘ্রাণ আসছে। শুভ্র বলল,
‘পুরো শাহবাগ চষে এই অবেলায় তোমার জন্য টাটকা এক চড়া নিশিগন্ধার খোঁজ পেলাম। এবার খুশি তো!’
গল্প তখনো ফুলে মুখ ডুবিয়ে। সেভাবেই বলল,
‘ভীষন।’
শুভ্র ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে গল্প তখনও বারান্দায়। বেতের চেয়ার টায় হেলান দিয়ে ফুল গুলো কুটছে আর মিটিমিটি হাসছে। শুভ্র দরজায় হেলান দিয়ে এই সুন্দর দৃশ্যটি কিছুসময় দেখলো। পরপরই টি-টেবিলের উপর থেকে প্যাকেট টা নিয়ে কিছু একটা বের করে বারান্দায় গেলো। গল্পর সামনে হাঁটু মুড়ে বসে তার একটা পা নিজের উরুতে রাখতেই গল্প চমকে উঠলো। পা সরাতে চেয়ে বলল,
‘আরে এটা কি করছেন? শুভ্র আপনি নিচে কেনো বসলেন তাও আবার আমার পায়ে কেনো হাত দিলেন?’
শুভ্র গল্পর পা টা আরেকটু শক্ত করে ধরে বলল,
‘আহ তাহিয়াত ডিস্টার্ব করো না তো! চুপচাপ বসো একদম নড়বে না।’
গল্প আর কিছু বলবে তার আগেই দেখে শুভ্র তার পায়ে আলতা দিয়ে দিচ্ছে। গল্প অবাক হয়ে বলল,
‘আপনার মনে ছিলো আলতার কথা! আমি নিজেই তো ভুলে গিয়েছিলাম।’
‘ছিলো বলেই তো আনলাম। এখন চুপচাপ থেকে আমাকে কনর্সানটের্ট করতে দাও।’
শুভ্র ঠোঁট চেপে খুব মনোযোগ দিয়ে গল্পর ফর্সা পা দুটো আলত দিয়ে রাঙিয়ে দিচ্ছে –গল্প মুগ্ধ চোখে তা দেখে হাসলো। তার ভাবতেই হৃদয় দোলে উঠছে অদ্ভুত ভাবে যে এই চমৎকার পুরুষটি তার বর।
শুভ্র খুব মনোযোগ সহকারে গল্পর দুপায়েই নিপুণ ভাবে আলতা পরানো শেষ করে তার পাশে বসলো। গল্প হুট করেই বলল,
‘শুভ্র জানেন আজকের দিনটা আমার জন্য ভীষণ ভীষণ স্পেশাল।’
শুভ্র অবাক হয়ে তাকাল গল্পর দিকে; নিজে মনে করার চেষ্টা করলো আজ কি কিছু স্পেশাল নাকি? কই তার তো কিছুই মনে পরছে না আপাতত। একটু কিউরিসিটি নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
‘স্পেশাল ডে? কই আমার তো কিছু মনে পড়ছে না।’
গল্প একটু রহস্য চোখে হাসলো। বলল,
‘আপনার মনে পরারও কথা না। কারন সে সর্বপ্রথম আমার কাছেই আসবে তাই।’
শুভ্র এবার একটু সিরিয়াস হয়ে বলল,
‘হেয়ালি করছ তাহিয়াত। কার আসার কথা বলছ?’
গল্প কিছু বলল না মুচকি হেসে শুভ্রর একটা হাত তার আঁচলে ডাকা পেটের উপর রেখে –শুভ্রর কানে ফিসফিসিয়ে বলল,
‘সামওয়ান ইজ কামিং ফ্রম হেয়ার।’
শুভ্র হতবাকের ন্যায় কিছু সময় ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো। পরমুহূর্তেই যখন কথাটা তার বোধগম্য হলো একপ্রকার তড়াক করে উঠে দাঁড়াল। গল্পর দিকে পিঠ করে রেলিঙ ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। গল্প ভীষণ আপসেট হয়ে এলো এই মুহূর্তে –শুভ্র কি তবে খুশি হয়নি নিজের বাবা হওয়ার সংবাদে! ওর রিয়াকশন এমন কেনো তবে?
গল্প উঠে দাঁড়িয়ে শুভ্রর কাঁধে হাত দিয়ে ভীতু গলায় শুধালো,
‘শুভ্র আপনি এমন করছেন কেনো? আপনি কি খুশি হননি? আমাদের সন্তান আসছে শুভ্র ব…..’
গল্প আর কিছু বলার আগেই শুভ্র তাকে জড়িয়ে ধরলো। অস্থির গলায় বললো,
‘এটা কিভাবে হতে পারে তাহিয়াত যে আমাদের সন্তানের আগমনে আমি খুশি হবো না! লাইফের ফাস্ট টাইম এতোটা শকিং নিউজ শুনে আমি এতোটাই অবাক হয়েছি যে –কিভাবে রিয়েক্ট করবো সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। সরি হ্য!’
গল্প স্বস্তির শ্বাস ফেললো। শুভ্র ওকে জিজ্ঞেস করলো,
‘কবে জানলে? বাসায় জানে?’
গল্প মাথা নাড়িয়ে বলে,
‘আর কাউকে বলিনি। এই নিউজ টা প্রথমে আপনাকেই দিতে চেয়েছিলাম। আর আমিও আজকেই জানতে পারলাম।’
শুভ্র গল্প হুট করে গল্পর সামনের চেয়ারটায় বসে পরলো। তারপর আচমকা গল্প পেট থেকে সিল্কের লাল শাড়ির আঁচল টা সরিয়ে উন্মুক্ত উদরে পরম আশ্লেষে চুমু খেয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
‘জলদিই আমাদের কাছে চলে আসো বাবা। আর শুনো মা কে কিন্তু একটুও পেইন দিবে না মা খুব আদুরে তো ব্যাথা পাবে, হু! বাবা লাভ’স ইউ লট।’
গল্প হেসে ফেললো শুভ্রর কথা শুনে। বলল,
‘আপনি কি পাগল শুভ্র? যেভাবে বলছেন মনে হচ্ছে পাঁচ-ছয় বছরের একটা বাচ্চাকে বুঝাচ্ছেন।’
কথাগুলো বলেই গল্প আবারও হাসতে লাগলো। শুভ্র মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইলো সেই তার মনকাড়া সেই হাসির দিকে।
#চলবে
