Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"লাভ আফটার ম্যারেজলাভ আফটার ম্যারেজ পর্ব-২৫+২৬

লাভ আফটার ম্যারেজ পর্ব-২৫+২৬

#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_২৫

গল্প তার বিস্ময় কাটিয়ে শুভ্রর কথামতো একটা শাড়ি পড়ে নিচে এসেছে ঠিকই; কিন্তু তার সাবধানী চোখ বাড়ির চারদিকে ঘুরাফিরা করছিল তখনও। একবার যদি কেউ দেখে নেয় সে এতো রাতে এখানে শুভ্রর সাথে দেখা করতে এসেছে তাও আবার সেজেগুজে কুইন হয়ে! তখন সে কি করে মাথা তুলে থাকাবে –যেখানে তাদের বিয়ে আর দুটো দিন বাদেই। গল্পর চোখ বারবার সদর দরজার দিকে দেখলেও শুভ্রর চোখ ছিলো তার উপরই নিবদ্ধ। গল্প এবার অধৈর্য হয়ে বলল,

‘দেখা হয়েছে? শান্তি! আমি এবার গেলাম।’

গল্প ঘুরতে নিলেই শুভ্র খপ করে তার হাতটা ধরে ফেললো। মিচকে হাসি দিয়ে বলল,

‘ওহো, এতো অধৈর্য হলে হয় ওয়াইফি! এখনো তো কিছুই দেখা হয়নি….অ্যাই মিন তোমার শহরের কিছুই দেখিনি।’

গল্প অবাক কন্ঠে শুধালো,

‘তো এখন কি আপনি শহর দেখতে বের হবেন নাকি।’

শুভ্র মিষ্টি হেসে উপর-নীচ মাথা দুলাল। গল্প বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো। এই লোক বলে কি? এই মাঝরাতে কিনা তার শহর দেখার শখ জেগেছে যে ঢাকা থেকে সোজা ময়মনসিংহ চলে এসেছে! এমনেতেই সে টেনশনে আধমরা –বাবা যদি একবার খুঁজ পায় সে এতো রাতে এখানে; তবে লজ্জায় সে মাটিতে মিশে যাবে। সে এবার শুভ্রকে বুঝানোর মতো করে বলল,

‘প্লিজ শুভ্র দোহাই আপনার এই রাতবিরেতে আর পাগলামো করবেন না। আমার শহর দেখার ইচ্ছে হলে দিনের বেলায় আসবেন; রাতের এই নিকষ আধারে কি আর শহর দেখা যায় নাকি?’

শুভ্র যেনো গল্পর চালাকি বুঝে ফেললো। বলল,

‘যায় তো খুব যায়। মিথ্যা যে বলিনি সেটা তো এখন আমার সাথে গেলেই দেখতে পাবে –এই ঘুটঘুটে আঁধারেও কতো সুন্দর শহর দেখা যায়।’

শুভ্র এবার একটু আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবুক হয়ে বলল,

‘তাছাড়া আজ তো আঁধার রাত না আজ তো একেবারে ফকফকা জোস্না রাত। দেখো আকাশ কেমন জোস্নায় ভেসে যাচ্ছে।’

গল্প বুঝতে পারছে শুভ্র তাকে না নিয়ে যাবে না। হলোও তাই শুভ্র এবার তার ডান হাতটা গল্পর বা হাতের আঙুলের ভিতর গলিয়ে হাঁটা ধরলো। গল্প অধৈর্য নিয়ে বলল,

‘এখন কি হেঁটে হেঁটে শহর ঘুরবেন নাকি? চলুন গাড়িতে যাই!’

‘গাড়ি সামনেই আছে।’

গল্প অবাক হয়ে বলল,

‘কি বলেন সামনে কিভাবে? গাড়ি তো আমাদের বাসার সামনে; এইতো দেখা যাচ্ছে।’

শুভ্র গল্পর মুখটা সামনে ঘুরিয়ে বলল,

‘ওইযে দেখো।’

‘রিক্সা!’

‘হ্যাঁ রিক্সা, আজ রিক্সার দিয়ে ঘুরি কেমন!’

দুজনেই রিক্সায় চেপে বসলো। শুভ্র রিক্সায় উঠেই গল্প হাতটা আরেকটু শক্ত করে ধরে বসলো। গল্প এটা দেখে বলল,

’আমি কি বাচ্চা? যেভাবে ধরে রেখেছেন মনে হচ্ছে একটা রিক্সায় উঠে একটা পাঁচ বছরের বাচ্চার হাত ধরে রেখেছেন -যাতে না পরে!’

শুভ্র হাত ছাড়লো না বলল,

‘তুমি বাচ্চা হতে যাবে কেনো? তুমি হবে আমার বাচ্চার মা। রিক্সা থেকে মাথা ঘুরে পরে যাওয়া তো তোমার আবার অভ্যাস; তাই সেফটি হিসেবে ধরে রেখেছি।’

গল্প গাল ফুলিয়ে বলল,

‘আমি একদিনই পরে ছিলাম শুভ্র। তার জন্য কি আপনি সবসময় রিক্সায় উঠলেই আমাকে এভাবে ধরে রাখবেন নাকি!’

শুভ্র গল্পর বাহু আগলিয়ে নিঃসংকোচ বলল,

‘প্রয়োজনে তাই রাখব। আর এখন ঝগড়া করো না তো। দেখ রাস্তা টা কত সুনশান! ভালো লাগছে না?’

গল্প এবার সত্যিই খেয়াল করলো তাদের চারপাশটা কি চমৎকার সুন্দর! আকাশ ভরা জোস্নার আলোকছটায় তার নিচে রাস্তার হলদে নিয়ন বাতির আলো আর সঙ্গে ঝিরিঝিরি বাতাস; কোথা থেকে জানি হাসনাহেনার একটা মিষ্টি ঘ্রাণও ভেসে আসছে –বিষয় গুলো চমৎকার। আর তার চেয়েও চমৎকার একটা বিষয় হচ্ছে এই মাঝরাতে সে তার বরের পাগলামোতে সায় দিয়ে শহর ঘুরতে বেরিয়ে পড়েছে।

শুভ্রদের রিক্সাটা এসে থামলো ভ্রমপুত্রের দ্বারে। গল্প এখানে আসায় ব্যাপক খুশি হয়েছে; কতদিন পর আসলো এখানে। গল্প একটু সামনে এগিয়ে বাতাসে দু’হাত প্রসারিত করে চোখ বন্ধ করে মুক্ত শ্বাস নিলো। শুভ্র তার পাশে এসে দাঁড়াতেই গল্প উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,

‘উফফ কতোদিন পর এখানে আসলাম! জানেন শুভ্র, আগে প্রায় সময়ই আমরা বেশ কিছু ফ্রেন্ড মিলে এখানে ঘুরতে আসতাম। থ্যাঙ্ক ইউ এখানে আনার জন্য।’

শুভ্র হুট করেই বলল,

‘তাহিয়াত চোখ বন্ধ কর তো!’

‘চোখ কেনো বন্ধ করবো?’

‘একটা ম্যাজিক হবে তাই। আহা তুমি চোখ টা বন্ধ করই না!’

শুভ্রর জোড়াজুড়িতে গল্প চোখ বন্ধ করলো। শুভ্র তাকে একহাতে আগলে ধরে সামনে এগুতে থাকলো। গল্প এবার অধৈর্য হয়ে বলল,

‘আর কতক্ষণ শুভ্র? এবার চোখ খুলি!’

‘একদমই না; আমি না বলা অব্ধি একদম চোখ খুলবে না।’

গল্প শুনল সবটা তারপর সে হঠাৎই নিজেকে শূন্যে অনুভব করলো। গল্প চোখ না খুলেই শুভ্র শার্টের কলার আর বাহু আঁকড়ে ধরে চেঁচাল,

‘এটা কি করছেন শুভ্র? কোলে তুললেন কেনো? নামান।’

শুভ্র দুষ্ট হেসে তার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল,

‘এখন তোমাকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলবো তাহিয়াত। কি ফেলে দিবো?’

গল্প শুভ্রর মশকরা বুঝে বলে,

‘আপনার কলিজায় কুলোবে তো? যদি কুলোয় তবে দেন!’

শুভ্র বললো না কিছু, হাসলো আনমনেই। দু’পা এগুতেই সে সামনে ঘাটে বাঁধা নৌকায় পা দিতেই শুভ্রর পুরো শরীর ঝাঁকিয়ে উঠে। গল্প ভয় পেয়ে শুভ্রকে আরও ঝেকে ধরলো। ভয়ার্ত গলায় বলল,

‘আপনি এমন নড়ে উঠছেন কেনো?’

শুভ্র এবার গল্পকে নৌকায় নামালো আর মাঝিকে চোখের ইশারায় নৌকা চালাতে বলল। গল্প নিচে নেমেই বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে গেলো। তারা এখন নদীর মাঝ বরাবর আছে –আর সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় টা হচ্ছে তাদের পুরো নৌকা টা বেলুন দিয়ে চমৎকার ভাবে সাজানো। গল্প মুখে হাত দিয়ে বলল,

‘ওয়াও কি সুন্দর! আপনি সাজিয়েছেন?’

শুভ্র গল্পর দিকে একটু ঝুঁকে বলল,

‘কি পছন্দ হয়েছে? এতো রাতে ঘুম ভাঙানো টা খুব সম্ভবত বেকার যায় নি?’

গল্প শুভ্রর দিকে তাকাল পরপরই তার বাহু জড়িয়ে ধরে বলল,

‘এমন সারপ্রাইজের জন্য রোজ আমার ঘুম ভাঙানোর অনুমতি দেওয়া হলো আপনাকে।’

শুভ্র আর গল্প দুজনেই নদীর স্বচ্ছ জলে নৌকায় বসে পা ডুবালো। চাঁদের আলো নদীর উপর পড়াতে নদীর পানি অসম্ভব রকমের চিকচিক করছে; আর গল্প সেই পানিতে পা নাচাতে ব্যস্ত। হঠাৎই শুভ্র বলল,

‘তাহিয়াত দেখেছ আকাশে আজ কতো স্টার!’

গল্প তাকাল সেদিকে আসলেই আজ আকাশটা তাঁরায় তাঁরায় ভরপুর। কিন্তু হঠাৎই একদম আচমকাই একটা আতশবাজির মতো কি জ্বলে উঠলো –এবং তারচেয়েও বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে ওই আতশবাজি টার রশ্মির ভিতর থেকে কিছু লেখা ভেসে উঠছে। তাতে লেখা— My dear wife, Happy Birthday.!

গল্প বিস্ময়ে বাকহারা। সে অবাক চোখে শুভ্রর দিকে তাকাতেই শুভ্র তার পাশ থেকে রজনীগন্ধার একটা তোড়া গল্পর সামনে ধরে চমৎকার হেসে বললো,

‘আমার ব্যাক্তিগত নিশিগন্ধাকে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তার জীবনটায় নিশিগন্ধার সুবাসের মতোই ভরপুর হয়ে উঠুক! এবং অবশ্যই সেই সুবাস ছড়ানো মানুষ টা যেনো তার একমাত্র বর শেহজাদ আহমেদ শুভ্রর উপরেই বর্তায়।’

গল্প তখনও বিস্ময় কাটিয়ে বের হতে পারেনি। শুভ্র আবারও তার দিকে রজনীগন্ধার তোড়া টা এগিয়ে দিয়ে বলল,

‘আমার নিশিগন্ধা কি তার জন্য বরাদ্দকৃত নিশিগন্ধা গুলো গ্রহণ করবে না?’

গল্প এবার ঘোর কাটিয়ে শুভ্রর থেকে ফুলগুলো নিলো। তার ঘ্রাণ নিতে নিতে বললো,

‘আমার লাইফের বেস্ট সারপ্রাইজ ছিলো এটা শুভ্র। বেস্ট বেস্ট…. এসব জন্মদিন নিয়ে আমি কখনোই মাথা ঘামাই না বলতে গেলে ভালোই লাগে না বিষয় টা। কিন্তু আজ সত্যিই এই দিন টা আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল মনে হচ্ছে –যার জন্য স্পেশাল ফিল হচ্ছে সেই মানুষ টা আবার আমার কাছে সবথেকে স্পেশাল। আর এই স্পেশাল মানুষের থেকে স্পেশাল দিনের স্পেশাল একটা সারপ্রাইজ পেয়ে কি বলতে হয়; কি বলা উচিত আমি তা সত্যিই জানি না।
তবে একটা কথা বলতেই পারি আপনার সাথে কাটানো প্রতিটা মুহুর্তই আমার কাছে আলাদা আলাদা রকমের স্পেশাল। এভাবেই স্পেশাল হয়ে থাকুন গল্পর জীবনে।’

কথাগুলো বলেই গল্প শুভ্রর কাঁধে মাথা রাখল। কেটে গেলো অনেকটা মুহুর্ত। শুভ্র হুট করেই কিছু একটা মনে পড়ার ভঙ্গিতে বললো,

‘ওহ নো! আমি তো বার্থডে গার্লের জন্য বার্থডে স্পেশাল কেক টাই আনি নি! তবে চিন্তা নেই চকলেট এনেছি অনেক।’

কথাটা বলেই শুভ্র তার পাশ থেকে কয়েকটা চকলেট বক্স বের করে দিলো। গল্প খুশিতে বাক-বাকুম করে বলল,

‘ওওও… এতো চকলেট! থ্যাঙ্ক ইউ।’

শুভ্র বলল,

‘এবার যাওয়া যাক! অনেক সময় পেরিয়েছে।’

গল্প মাথা নাড়ে সম্মতি দিয়ে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু শুভ্র তখনও বসে। গল্প শুভ্রকে তাড়া দিয়ে বলল,

‘কি হলো উঠুন যেতে হবে তো।’

‘উঠছি, ওয়ান সেকেন্ড।’

শুভ্র পকেটে থেকে একটা পায়েল বের করে তা গল্পর পায়ে পরিয়ে দিল। গল্প আরেক দফা সারপ্রাইজড হলো। তার পায়ে শুভ্র অসম্ভব সুন্দর একটা পায়েল পরিয়ে দিয়েছে –পায়েলের ডিজাইন টাও অনেক ইউনিক। গল্প মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইলো সেদিকে। শুভ্র তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তার হাত ধরে সামনে হাঁটতে লাগলো। গল্প ভাবনায় আসে –এই পুরুষটি এতোটা চমৎকার কেনো? গল্প তো এই চমৎকার পুরুষটির প্রতি অবেসসড হয়ে পড়ছে দিনকে দিন —কি মুশকিল!!

______________________________
গল্পদের বাসার গলির মোড়েই রিক্সা টা থামলো। রিক্সা থেকে নেমে দুজন একে-অপরের হাত ধরে হেঁটে চলছে। পিচঢালা রাস্তায় জোস্নার আলোটা যেন ঠিকরে পড়ছে। গল্প হঠাৎই শাড়ির কুঁচিতে পা বেজে পড়তে নিলে শুভ্র তাকে আগলে নেয়। গল্প না পড়লেও পায়ে হালকা একটু ব্যাথা পেয়েছে কিন্তু তার মনে হঠাৎই একটা অন্য চিন্তা আসে। চোখ মুখ কুঁচকে গল্প খোঁড়াতে খোঁড়াতে হাঁটতে লাগলো। শুভ্র উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,

‘পায়ে বেশি ব্যাথা পেয়েছো তাহিয়াত? কই দেখি তো?’

কথাটা বলেই শুভ্র রাস্তায় হাঁটু মুড়ে বসে পড়লো। গল্পর পায়ের গোড়ালি টা ভালো মতো দেখে বলল,

‘কই কিছুই তো বুঝা যাচ্ছে না?’

গল্প মুখ কুঁচকে বলল,

‘আপনি কি ডাক্তার যে একটু দেখতেই সব বুঝে যাবেন। মনে হচ্ছে পা টা মচকে গেছে; ইশশ এখন আমি বাসা পর্যন্ত কিভাবে যাবো –আরও তো কিছুটা হাঁটতে হবে।’

শেষের কথাটা গল্প ঠোঁট উল্টে বলল। শুভ্র দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড কিছু একটা ভেবেই গল্পকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো। গল্প ঠোঁট চেপে বিজয়ী হাসি হাসলো শুভ্রর অগোচরে –যেনো এতোক্ষণ সে এইটারই অপেক্ষায় ছিলো। এতো ভালো অভিনয় করার জন্য গল্প নিজেই নিজেকে বাহবা দিলো বারকয়েক। সুকৌশলে শুভ্রর গলাটা আগলে ধরে তার বুকে মাথা রাখে মিশে রইলো।

গল্পর বাসার সামনে আসতেই শুভ্র বলল,

‘তুমি কি ভিতরে যেতে পারবে তাহিয়াত? নাকি আমি যাবো?’

পাগল নাকি শুভ্রটা! এখন এভাবে ভিতরে গেলে সবাই কি ভাববে? শুভ্রর তো আর কিছু হবে না; লজ্জায় মাথা কাটা যাবে গল্পর। তাই সে চট করেই উত্তর দিলো,

‘না, না। ভিতরে আমি একাই যেতে পারবো -নামান আমাকে।’

শুভ্র তাকে সাবধানে নামাল কোল থেকে। গল্প গলায় কৃতজ্ঞতা ডেলে বলল,

‘থ্যাঙ্ক ইউ শুভ্র, থ্যাঙ্কস ফর এভরিথিং। অনেকটা কষ্ট হলো তাই না –আমাকে কোলে করে আনাতে!’

শুভ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই গল্প বলে উঠে,

‘কষ্ট হলেও কিছু করারও তো নেই তাইনা? যতই হোক বউ তো আপনার, তাই বইতেও হবে আপনার।’

গল্পর কথা বলার টোন টা কেমন জানি অন্য রকম লাগলো শুভ্রর কাছে। তবে সেসব পাত্তা না দিয়ে গল্পর কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে সেখানে ঠোঁট ছুয়ালো পরম আবেশে। বলল,

‘এবার ভিতরে যাও। একটু পরেই ফজরের আজান দিবে।’

গল্প শুভ্রর গালে ওই টোল টার দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ্র কথা বললেও তার গালের বা পাশটায় মৃদু ভাবে কি চমৎকার ভাবেই না ডেবে যায়! শুভ্র যখন কথা বলে গল্প বেশিরভাগ সময়ই তার বা গালের ডিম্পল টার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে –সেটা শুভ্রর অগোচরেই। এই মুহূর্তে তার মনে একটা তীব্র ইচ্ছে জাগলো। গল্প আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,

‘শুভ্র ওই দেখুন কি সুন্দর!’

শুভ্র গল্পর দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাতেই দেখে কিছুই নেই। গল্পকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই অনুভব করলো একজোড়া নরম তুলোর মতো উষ্ণ ঠোঁট তার বা গাল ছুঁয়েছে। তার গালে সেই ঠোঁটের স্থায়িত্বকাল ছিলো কয়েক সেকেন্ড –তারপরই তা হাওয়া! গল্প ছুটে গেটের ভিতর ডুকলো। শুভ্র সব ভুলে উদ্বিগ্ন হয়ে চেঁচাল,

‘তাহিয়াত! কি করছো আস্তে যাও, একটু আগেই পায়ে ব্যাথা পেয়েছ। ভুলে গেলে নাকি?’

গল্প তখন গেটের ভিতর থেকে মাথাটা বের করে হেসে বলল,

‘ওটুকু অভিনয় ছিলো সাহেব! এখন নিশ্চিন্ত মনে সাবধানে ড্রাইভ করে বাড়ি যান।’

শুভ্র কিছুক্ষণ আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে রইলো। গল্প ততক্ষণে ভিতরে চলে গেছে। শুভ্রর হাতটা আপনা-আপনি গল্পর অধর ছুঁয়ানো গালে চলে যায়। আনমনেই বলে উঠে –অভিনয় ছিলো?
কথাটা বলেই সে ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেললো।

#চলবে

#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_২৬

বেলা বাজে সারে এগারোটা গল্প তখনও ঘুমে বেখবর; আজ আবার তার গায়ে হলুদ। নীলুফার এই মেয়েকে নিয়ে বড়োই চিন্তিত। এই মেয়ে যদি শ্বশুর বাড়িতে গিয়েও এভাবে ঘুমায় তখন কি হবে সবাই কি বলবে সেই চিন্তা করেই তিনি অতিষ্ঠ প্রায়। বাড়ি ভর্তি বিয়েতে স্বাগত মেহমান আর কনে কিনা এখনো ঘুমে! নীলুফার এবার কল্পকে হাঁক ছেড়ে ডাকলেন,

‘এ্যাই কল্প, যা না মা বোন কে ডেকে তুল গিয়ে। এই মেয়ের তো কোনো আক্কেল জ্ঞানই নেই কেনো! বাড়ি ভর্তি মেহমান আর সে কনে হয়ে এখনো ঘুমে।’

কল্প কাজ করতে করতে মুখে হাসি টেনে বলল,

‘কেউ কিছু ভাবছে না আম্মু। শুধু তুমিই চেঁচামেচি করছো; আচ্ছা আমি ডেকে দিচ্ছি।’

কল্প দোতলায় এসে গল্পর রুমে ডুকে দেখে গল্প তখনও পাশবালিশ জড়িয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। কল্প তার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ডাকল,

‘গল্প এই গল্প উঠ! আরে উঠ না বোন; আম্মু কখন থেকে ডাকছে –তুই কি কানে তালা দিয়ে ঘুমাচ্ছিস নাকি?’

গল্প একটু নড়েচড়ে বলে,

‘আহ আরেকটু ঘুমাতে দে তো! রাতে ঘুমাতে পারিনি…. ’

কল্প বোনের কথা শুনে কপাল কুঁচকালো। সন্দিহান গলায় বলল,

‘রাতে ঘুমাতে পারিস নি মানে? নাইট ওয়াক করতে গিয়েছিলি নাকি?’

গল্প ঘুমে তখনও অচেতন। তাই গুঙিয়ে অস্পষ্ট বলে,

‘হু…

কল্প একটু ঠোঁট চেপে হাসলো। ফিসফিসিয়ে বলল,

‘কার সাথে? শুভ্রর সাথে বুঝি?’

শুভ্রর নাম শুনে ঘুমের মধ্যেও গল্পর মুখে হাসি এলো ঘুম ঘুম রেশেই বলে,

‘হু….
কিন্তু পরক্ষণেই গল্প মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে যায়। চোখ খুলে বোনকে দেখেই তড়াক করে উঠে গেলো। কল্প তখনও কিউরিসিটি নিয়ে গল্পর দেখে চেয়ে আছে।

‘কি রে বল?’

গল্প না বুঝার ভান করে বলল,

‘কি বলব আপা? কিসের কথা বলছিস?’

‘ওমা একটু আগেই না বললি রাতে শুভ্রর সাথে বের হয়েছিলি! এখন বল পুরোটা।’

গল্প মনে মনে নিজের জ্বিব কাটলো নিজের উদ্দেশ্যই কিছু ভয়াবহ গালিও ছুড়লো। বলল,

‘কি বলছিস আপা? এখানে শুভ্র আসবে কোথ থেকে? ঘুমের ঘোরে কি না কি বলেছি তুই সেটা নিয়ে পড়ে আছিস –তুই নিচে যা আমি আসছি।’

কল্প আর বেশি কিছু ভাবলো না বোনকে তাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হবে তখনই দেখে গল্পর ড্রেসিং টেবিলের উপর একটা রজনীগন্ধার তোড়া। কল্পর তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বোনকে দেখলো পরপরই ফুল গুলো হাতে নিয়ে তার ঘ্রাণ শুকল। ঘ্রাণ টা এখনো তাজা –এবার সে গল্পকে ভালো করে পরখ করে জিজ্ঞেস করে,

‘গল্প! এই ফুল কোথ থেকে ফেলি? মনে তো হচ্ছে বেশি সময় হয়নি বেশ তাজা।’

গল্প মনের অজান্তেই একটা ফাঁকা ঢোক গিলল। তবে কনফিডেন্সের সাথে একটা বানোয়াট কথা বলে দেয়,

‘এগুলো… এগুলো তো কাল কিনে এনেছিলাম। সন্ধ্যায় এনেছিলাম তো তাই এখনও একটু তাজা তাজা লাগছে আরকি হে হে।’

কল্পর বিশ্বাস হলো না গল্পর কথাটা। তবে সে কিছু আরও বলতে যাবে তখনই নিচ থেকে ইমতিয়াজ রহমানের ডাক শুনা গেলো। গল্প সুযোগ বুঝে কল্পকে তাড়া দেখি বলে,

‘এই আপা তাড়াতাড়ি যা আব্বু ডাকছে শুনিস নি!’

কল্প তার হাতের ফুলগুলো গল্পকে দিয়ে দ্রুত নিচে গেলো। বোন যেতেই গল্প বুকে হাত দিয়ে একটা শ্বাস লম্বা শ্বাস নিলো; তার এই আপাটা ব্যাপক চালাক আরেকটু হলেই বুঝে ফেলতো সবটা। কাল রাতেও সে ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে ছিলো। সেটা মনে হতেই গল্প আরেকটা ঢোক গিলল।

কাল শেষ রাতে যখন গল্প ঘরে ডুকল তখন আশপাশ ভালো করে দেখে উপরে উঠছিলো। কিন্তু দুতলার করিডরে যেতে সে আচমকা বাবার সামনে পরে যায়। আকস্মিক বাবাকে দেখে গল্পর হার্ট বেরিয়ে আসার উপক্রম তখন। ইমতিয়াজ রহমান বেশিরভাগ দিনই তাহাজ্জুদ এর নামাজ আদায় করতে শেষ রাতের দিকে উঠেন। সেই অনুযায়ী কালও উঠেছিলো কিন্তু এই অসময়ে মেয়েকে দেখে তিনি দারুণ চমকান। বলেন,

‘গল্প মা, এতো রাতে এখানে কি করছো?’

গল্পর কপাল বেয়ে তখন ঘাম ছুটছে। একটা ঢোক গিলে কোনোমতে বলল,

‘পানি খেতে নিচে গিয়েছিলাম আব্বু। রাতে রুমে পানি রাখতে মনে ছিলো না তো তাই।’

গল্প হাত কচলাতে রিতীমত। ইমতিয়াজ মাথা দুলান কিন্তু হুট করেই তার চোখে পরে গল্প শাড়ি পড়ে আছে আর হাতে ফুলের তোড়াও একটা। তিনি কপাল কুঁচকে বলেন,

‘তা তো বুঝলাম। কিন্তু তুমি এতো রাতে শাড়ি পড়ে আছো কেনো আর ফুল কোথা থেকে ফেলে?’

গল্পর মনে হচ্ছে এবার তার হার্ট এটাক হবে শিউর; আর এখুনি বুঝি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে। এই মুহূর্তে এসে সে শুভ্রকে মনে মনে ভয়াবহ কিছু গালি দিলো –এই পাগল লোকের জন্যই তাকে এই সিচুয়েশনে পড়তে হয়েছে। মেয়েকে চুপ থাকতে দেখে ইমতিয়াজ আবারও বলল,

‘কি ভাবছ, কথা বলছ না কেনো?’

গল্প চমকে থাকায় বাবার দিকে আমতা আমতা করে কোনোমতে বলে,

‘আ…আসলে আব্বু রাতে হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙে গেছিলো। আর তখন…. তখন শাড়ি পড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল তাই পড়ে ফেলেছি। আর এই ফ…ফুলগুলো বিকেলে যখন বের হয়েছিলাম তখন কিনে আনি।’

মাথা নিচু করে গল্প নিম্ন গলায় এই প্রথম বাবার কাছে মিথ্যে কথাগুলো বলে গেলো। মনে মনে আবার তার জন্য বাবার কাছে সরিও বলল বারকয়েক। ইমতিয়াজ রহমান মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মুখে হাসি টেনে বলল,

‘ঠিকাছে মা, এখন তবে রুমে যাও তবে নামাজটা পড়ে ঘুমিও কেমন! একটু পড়েই আজান দিবে।’

গল্প যেনো হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে সেখান থেকে দ্রুত পায়ে রুমে এসে দোর লাগাল। রাতে ওমন ভয়াবহ এক্সপেরিয়েন্সের পর গল্পর নিজেকে চোর মনে হচ্ছিল –যে চুরি করতে গিয়ে মালিকের কাছে টুপ করে ধরা পড়ে যায়।

______________________________
‘শাওন তোকে কিন্তু ধরে এখন পিঠাবো। কি করেছিস এটা? হলুদ লাগিয়ে ভুত বানিয়ে দিয়েছিস আমাকে! সর এখান থেকে।’

শাওন দাঁত বের করে শব্দ করে হাসলো। আরাফ শাওনের হয়ে সাফাই গাইল,

‘শুভ্র ওকে একদম বকবি না। হলুদের দিন গয়ে হলুদ দিবি না! মনে নেই আমার হলুদের দিন তরা সবাই মিলে আমাকে কেমন হলুদে চুবিয়ে ছিলি; এখন নিজের বেলায় তো এমন চলবে না।’

আরাফের কথায় সায় জানিয়ে ফাহিম, সাব্বির এরা সবাই এক সমন্বয়ে বলে উঠে,

‘ঠিক ঠিক ঠিক।’
আরাফ আবারও বলে,

‘তাছাড়া তুই জানিস না বিয়ের দিন বর-কনে দের চুপচাপ থাকতে হয়! সিনিয়রদের মুখে মুখে একদম কথা বলবি না।’

আরাফের শেষ কথাটা শুনে শুভ্রর চোয়াল ঝুলে গেলো বলল,

‘তুই আমার সিনিয়র?’

আরাফ বেশ ভাব নিয়ে কলার ঝাঁকিয়ে বলে,

‘ইয়েস ব্রো আ’ম ইউর সিনিয়র। মনে করে দেখ তর কতো আগে আমি বিয়ে করেছি –তো সেই হিসেবে তো আমি তর সিনিয়রই বটে।’

শুভ্রর কোনো কথাই তার বন্ধুগণ কানে দিলো না। পুরো বিকেলটা কেটে গেলো হৈহল্লা করে –শুভ্রকে তার ফাজিল বন্ধু কমিটি হলুদ লাগিয়ে লাগিয়ে একপ্রকার ভুত বানিয়ে ছেড়েছে। জীবনের এই প্রথম শুভ্র বন্ধুদের অত্যাচার মুখ বুঝে সহ্য করেছে। তবে নিজেও বেশ এনজয় করেছে।

হলুদের পাঠ চুকিয়ে শুভ্র রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে মাত্র ওয়াশরুম থেকে বের হলো। তার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে; এর কারন গতকাল সারারাত সে নির্ঘুম তারউপর আবার এতোক্ষণ ড্রাইভও করেছে –আর বাসায় ফিরে নানান ঝামেলায় আর ঘুমানোর সময়টুকুও পায়নি। এখন সে ঘুমাবে বলে মনস্থির করেছে মাথাটাও হালকা ঝিমঝিম করছে!

হুট করে শুভ্রর ফোনে একটা নোটিফিকেশন আসে। টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে ফোন হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ডুকতেই তার জ্বলন্ত চোখ দুটো স্থির হয়ে এলো। এতোক্ষণ ধরে দপদপ করা মস্তিষ্কের নিউরন গুলো এবার শীতল হয়ে আসতে লাগলো –স্কিনে ভেসে উঠা ছবিটির দিকে তাকিয়ে। গল্প –শুভ্রর বউ যে হলুদের সাজে এখন সেজে আছে একটা পরী হয়ে। একটা হলুদ শাড়ি আর গলায়, মাথায় হাতে সাদা জারবেরা ফুলের গহনায় কাওকে বুঝি এতোটাও মিষ্টি লাগতে পারে! শুভ্রর মন তখনই উত্তর দিলো –পারে তো এইযে প্রমাণ তর সামনেই তর পুতুল পুতুল বউটা!

ওপাশে তার পুতুল পুতুল বউটি বোধ হয় অপেক্ষায় ছিলো তাকে হলুদের সাজে দেখে বরের মন্তব্য শুনার। কিন্তু সাহেবের তো কোনো খবরই নেই গল্প নিজেই কল করলো শুভ্রর ফোনে। রিসিভ হলো নিমিষেই। গল্প কোমল স্বরে বললো,

‘আপনি কি বিজি ছিলেন?’

শুভ্র সহসায় উত্তর দিলো,

‘হ্যাঁ কিছুটা তো বিজিই ছিলাম। কেনো বলো তো?’

গল্পর কেনো জানি মন খারাপ হলো। শুভ্র কি তবে তার পাঠানো ছবিটি দেখেনি? বলল,

‘কি করছিলেন? কোনো ইম্পর্ট্যান্ট কাজ বুঝি?’

‘হু খুব ইম্পর্ট্যান্ট কাজ।’

‘তাহলে বরং রাখি! পরে কথা বলব।’

শুভ্র গল্পকে কথার মধ্যে আঁটকে দিয়ে বলে,

‘শুনবে না কি কাজ করেছিলাম?’

‘বলুন।’

‘একটা পুতুল দেখছিলাম।’

গল্প অবাক হলো শুভ্রর এমন কথায়। পুতুল দেখছিল? এটা আবার তার ইম্পর্ট্যান কাজ –পুতুল দেখা কারও ইম্পর্ট্যান্ট কাজ হয় বুঝি?

‘এ্যাহ! পুতুল দেখছিলেন? আমাকে একটা ছবি তুলে পাঠান তো দেখি, কি পুতুল!’

শুভ্র ঠোঁট চেপে হাসলো,

‘পুতুল টা এখনো বাসায় আনিনি তাহিয়াত। কালকে আনবো পারমানেন্টলি –একদম লাল টুকটুকে একটা পুতুল। বুঝলে তাহিয়াত; পুতুলটা সূদুর ময়মনসিংহ থেকে কাল বাসায় আনবো। শুনলে অবাক হবে একটা পুতুল আনার জন্য আবার আমার কত-শত অপেক্ষা; আয়োজন পুরো বাড়ি লাইটিং আর ফুলে ফুলে সাজানো– ভাবা যায়! অনেক দামি পুতুল কিনা তাই এতো আয়োজন।’

ফোনের ওপাশে থাকা গল্প মুগ্ধ হয়ে শুনে গেলো শুভ্রর বলা কথাগুলো। কেউ এতোটা গুছিয়ে কীভাবে সবকিছু বলতে পারে –মনে হচ্ছে সে কবিতা শুনছে! শুভ্র আবারও বলে,

‘পুতুলটা এনে কি করবো জানো?’

গল্প কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে,

‘কি করবেন?’

শুভ্র বেডে হেলান দিয়ে আরাম করে শুলো। বলল,

‘যেহেতু আমার মোস্ট ওয়ান্টেড একটা পুতুল তাই নিয়ে এসেই তাকে নিজের সামনে বসিয়ে শুধু কিছু সময় দেখেই যাবো। তারপর ….. ’

শুভ্র কথার মাঝে থেমে যায়। গল্প জানতে চায়,

‘তারপর?’

শুভ্র এবার ঠোঁট কামড়ে হাসলো দুষ্ট একটা হাসি। বলল,

‘তারপর… তারপর পুতুল টাকে অনেক অনেক আদর করা হবে সে যাতে এটা মনে না করে তাকে আমি অনাদরে রেখেছি। যতই-হোক পুতুলের বাবার থেকে তার প্রিন্সেস নিয়ে আসব একটু তো কুইন ট্রিটমেন্ট দিতেই হবে, তাই-না!’

একরাশ ভালো লাগায় গল্পর ছোটমোটো মনটার আনাচে কানাচে ভরে উঠল। শুভ্রর এতো কথার পিছে কিছুই বলতে পারল না। শুধু বলল,

‘সবাই ডাকছে আমায় –এখন যাই পরে কথা হবে। খোদাহাফেজ!’

#চলবে

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ