Friday, June 5, 2026







ফুলকৌড়ি পর্ব-২২+২৩

#ফুলকৌড়ি
(২২)কপি করা নিষিদ্ধ
#লেখনীতে_শারমীন_ইসলাম

সেদিন ঝড়বর্ষনের রাত থেকে আজ ক’টা দিন ইভানকে বেশ ব্যস্ত দেখাচ্ছে।দিনরাতের অধিক সময়টা তাকে বাহিরের ব্যস্ততায় কাটাতে দেখে,নীহারিকা বেগম একটু চিন্তিত হলেন।সবসময় দুষ্টুমির ছলে মজে থাকা ছেলেটাকে হঠাৎ ক’দিন ধরে উদ্বিগ্ন দেখায়।ব্যাপারটা উনার চোখে লেগেছে।কি হয়েছে ছেলেটার?সবার সাথে ছেলেটা মনখোলা হলেও,নিজের বিষয়ে বেশ চাপা স্বভাবের।স্বভাবটা আগে ছিলো না, হঠাৎই পরিবর্তিত হয়েছে।সকালে খাবার টেবিলে ইভানকে পেতেই তিনি খাবার দিতেই, জিজ্ঞেস করলেন।

‘আজ কদিন ধরে তোকে চোখের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে না।ব্যাপার কি বলতো?ঝড়বৃষ্টি বলেও কোনো বাঁধা বিঘ্নতা নেই,বাড়িতেই থাকছিস না।কোথায় ঘুরে-ঘুরে বেড়াচ্ছিস?সত্যি করে বলতো,ঠিক কি হয়েছে তোর?

একগাল হেসে দিলো ইভান,সেই হাসিটা কোনো কারনে যেনো উদাসীন দেখালো।যেটা নীহারিকা বেগমের মোটে-ও ভালো লাগলো না।সেই ভালো না লাগাতে আর-ও একটু ঘি ঢালার মতো কাজ করলো ইভানের কথাগুলো—আমাকে সন্দেহ করছো?যে আমি অলস মস্তিষ্কে থেকে থেকে খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে সঙ্গ দোষী হয়ে যাচ্ছি কি-না?আমি তোমার বড় ছেলের মতো খুব ভালো নাহলে-ও একবারে মন্দ নই।আমাকে ওরকম সন্দেহ না করতে পারো।পুরোটা নাহলে-ও তোমার ছেলেতো একটু বিশ্বাস রাখতে পারো।

তরকারির বাটিতে চামচটা একটু জোরে শব্দ করে রাখলেন নীহারিকা বেগম।ফের রাগান্বিত স্বরে বললেন- ‘এই আমি কখন তোকে ওরকম ছেলেদের সাথে মেশার ইঙ্গিত দিলাম।আজ কয়দিন সেভাবে বাড়িতে দেখছিনা তাই জিজ্ঞেস করলাম কোথায়’কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিস! আর তুই কেনো ও-কে নিয়ে সবসময় সকল কথার মধ্যে ঢুকিয়ে এভাবে খোঁচা দিয়ে কথা বলিস?তোর এটা কেনো মনেহয়,আমি শুধু নিভানকে বিশ্বাস করি ভরসা করি,ভালোবাসী,আদর করি, তোকে নয়।কেনো মনেহয় বল?এই তোদের মা আমি।একই পেটে লালিত-পালিত করে জন্ম দিয়েছি।আমি কিকরে তোদেরকে আলাদা আলাদা ভাবতে পারি! তোদের সবাইকে যে সমান ভালোবাসী,এটা কেনো বুঝিস না তোরা!কেনো মনে হয়না তোদের।কেনো মনে হয়না বল?কিজন্য মনেহয় ও-কে আমি বেশি ভালোবাসী,আর তোদেরকে কম।তবে কি এবাড়িতে পা রাখার আগে,সত্যিই কি ও-কে আমার ওবাড়িতে রেখে আসা উচিত ছিলো?

‘মা।

চেচিয়ে উঠলো ইভান।মায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মায়ের মুখের দিকে বিস্ময় নিয়ে চেয়ে রইলো কিয়ৎদক্ষন।আজ হঠাৎ মায়ের কি হলো?যে তার কথাগুলো সিরিয়াসলি নিয়ে নিলো।আশ্চর্য!মা তো কখনো এরকম সিরিয়াসলি নেয়না।তবে?তবে কি ফুপুমনি আবার উল্টাে পাল্টা কোনো কথা শুনিয়েছে?নিশ্চয় তাই হবে।তা নাহলে মা এতোটা সিরিয়াস হয়ে যাওয়ার কথা না।হয়ে যেতোও না।মায়ের আরও কাছাকাছি হলো ইভান।মমতভরা ছলছল চোখদুটো দিকে নজর দিতেই বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠলো ইভানের।মা কষ্ট পেয়েছে!কিন্তু সে তো মা’কে কষ্ট দেওয়ার জন্য কথাগুলো বলেনি।
দ্বিধাহীন হাতদুটো মায়ের কোমল মুখের দু-চোয়ালে রেখে আজলে নিলো ইভান।সহসা কেঁপে উঠলেন নীহারিকা বেগম।ইভানের এতো কোমল আচরনের সাথে তিনি পরিচিত নন।যদিও ছেলেটা সহসা উনার সাথে কখনো খারাপ আচারন করেনা। তিনি মনেমনে একটু বিচলিত হলেন।তবে মুখায়বে প্রকাশ করলেন না।মায়ের রাগান্বিত মুখ মিইয়ে মায়ামায়া করে চাওয়া নজরের দিকে তাকিয়ে বললো।

‘এতোটা রেগে যাচ্ছো কেনো,মা?আমি তো সিরিয়াসলি কথাগুলো বলিনি।তুমিতো খুবভালো করে জানো,আমি দাদাভাইকে ঠিক কি পরিমাণ ভালোবাসি।এটা নিশ্চয় বলে,চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে তোমাকে বোঝাতে হবেনা।তবে কেনো এসব আবোলতাবোল কথা বলে চলেছো মা!তুমি জানো না,পৃথিবীর সবাই এসব বিষয়ে উল্টোপাল্টা কথা বললে আমি সহ্য করতে পারলেও, তুমি বললে আমি সহ্য করতে পারি-না।আমার ভিষন কষ্ট হয়।খারাপ লাগে.. মা।তুমি যেমন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করো,ভাবো।তোমার পেটেধরা সব সন্তানেরা তোমার কাছে সমান,কেউ উঁচুনিচু না।তেমন আমি-ও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি,ভাবি।আমার মায়ের পেটে লালিতপালিত হয়ে জন্ম নেওয়া,আমরা ভাইবোনেরা।কেউ আলাদা নই।প্রতিজন মায়েরই একেকটা অংশবিশেষ।মায়ের সন্তান।সেখানে তফাৎ বলে কিচ্ছু নেই।তবে তুমি আমাকে জেনেশুনে কিকরে একথা গুলো মুখে আনতে পারলে?সত্যি তুমি আমাকে দাদাভাইয়ের মতো ভালোবাসো না কমই ভালোবাসাে।না হলে দাদাভাইয়ের সামনে এই কথাগুলো বলার ক্ষমতা ছিলো তোমার?

ইভানের অভিমানী কথায় মমতাময়ী মন আর-ও গলে পড়লো।রাগান্বিত খোলসটা ছেড়ে এবার তিনি ঠান্ডা গলায় বললেন।

‘তবে কেনো উল্টো পাল্টা বলে আমাকে রাগিয়ে দিস?কোথায় যাস,কেনো যাস।আমাকে কেনো বলে যাস-না।
আমি মা না তোদের?তবে কেনো নিজের ভালোমন্দ তোরা মাকে একটু জানাতে পারিস না।কেনো এই বয়সে এসেও অন্যের কাছে আমাকে শুনতে হয়,আমি আমার নিজের পেটের ছেলেমেয়েদের একই নজরে দেখিনা।কে কখন বিপদ আপদ মাথায় নিয়ে কোথায় যাচ্ছে।খেয়াল রাখিনা।শুধু স্বার্থপরের মতো পরের বাড়ী থেকে নিয়ে আসা ছেলেটার প্রতি ভালোমন্দ নজর দেই,খবর রাখি।এসব কেনো শুনতে হয় আমাকে বল?

‘কেউ তোমাকে উল্টোপাল্টা কথা বলে উস্কানোর চেষ্টা করলো আর তুমিও বাচ্চা মেয়েদের মতো অভিমানী হয়ে আবোলতাবোল বলতে শুরু করলে।তবে তুমি-তো দেখি নাফিমের চেয়ে বাচ্চা হয়ে গেলে।তুমি অল্পস্বল্প নয়,উপযুক্ত বিবাহিত বয়স্ক তিন ছেলেমেয়ের মা।এখনকার যুগের ছেলেরা যেসব বয়সে বিয়ে করছে,
তোমার বড় ছেলেকে সেই বয়সে বিয়ে দিলে,এতোদিনে নাতী নানতীর বিয়েটাও তুমি খেতে পারতে।সেই তুমি বাচ্চা মেয়েদের মতো কান্ডকারখানা করছো?

কথাগুলো বলতে বলতে মায়ের সম্মুখ থেকে সরে গিয়ে ফের চেয়ারে বসলো ইভান।নীহারিকা বেগম হতাশ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।এই ছেলের জীবনে সিরিয়াস বিষয় বলে হয়তো কিছুই নেই।কখনো কোনো কিছু যেন
সিরিয়াসলি নিতেই পারেনা।পারেনা কি!নিতে চায়ই-না!নাহলে সিরিয়াস জিনিসটাকে মূহুর্তেই কচুরিপানার মতো ভাসিয়ে দিয়ে বিষয়টা কোনো ব্যাপার না টাইপ গাছাড়া ভাবটা নেয় কিকরে!এই দেখো আবার শুরু করে দিয়েছে।আর নড়েচড়ে সেই নিভানের পিছু লাগা।যদি-ও তিনিও বাচ্চামো করে ফেলেছেন।তবে ধৈর্য্য তো আর মানুষের সবসময় এক রকম থাকেনা।শুনতে শুনতে তিনিও অধৈর্য্য হয়ে পড়েছেন।আর গতকাল তো ইভানের এই বিষয়টা নিয়ে কতোকিছু শোনালেন উনাকে।এটাও শোনাতে বাদ রাখলেন না।-পরের বাড়ির ছেলে সব দখল করে নিয়ে বসে আছে অথচ নিজেদের বাড়ির ছেলের খোঁজ নেই।থাকবে কিকরে!যে মা নিজ সন্তানদের মধ্যে দুইদুই নজরে দেখে,তার কি আর খোঁজ রেখে লাভ আছে।

কালও ধৈর্য্য নিয়ে কথাগুলো শুনেছিলেন।কিছু বলেন নি।আজও ইভানকে এসব কথাগুলো বলতেন-না।তবে কেনো জানেননা ধৈর্যচ্যুত হয়ে গেলেন।আর সেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যবান থেকে কথাগুলো বেরই হয়ে গেলো।

‘কি হলো।খেতে দেবে-না নাকি?নাকি আবার-ও বড়ো ছেলের ভবিষ্যৎ ছেলেমেয়ে নিয়ে ভাবতে বসলে।

ইভানের পিঠে জোরে একখান চাপড় মারলেন তিনি।ফের মিছেমিছে রাগ দেখিয়ে বললেন-*আবারও শুরু করে দিয়েছিস?নড়েচড়ে তোর ওর পিছু লাগতে এতো ভালো লাগে কেনো?বলতো একটু?

‘কারনটা হলো,তোমার বড়ো ছেলে প্রচুর ঘাড়ত্যাড়া তাই।আর পিছু লেগেও কি,তাতে তার কোনো হেলদোল আছে!কাজ হয়!কার-ও কথা যেনো তার কানে ঢোকেই না!তাই তাকে তো বলতে পারিনা,তোমাকে বলে নিজের সাধ পূর্ণ করি।বুঝেছো,নিভান ইভানের মা।এবার খেতে দাও।কাজ আছে,যেতে হবে।

ইভানের বলার ভঙ্গিমা দেখে নীহারিকা বেগম সন্দিহান গলায় শুধালেন।–কি কাজ আছে?

‘তোমার বউমাকে উদ্ধার করা।

‘মানেটা কি?বউমা?

‘মা খেতে দাওনা।প্রচুর ক্ষুধা লেগেছে। ওসব মানে-টানে পরে উদ্ধার করো।আগে তোমার ক্ষুধার্ত ছেলের পেট উদ্ধার করো।

নীহারিকা বেগম আর দাড়ালেন না।রান্নাঘরে দিকে এগোলেন ছেলের জন্য খাবার আনতে।টেবিলের খাবার আপতত শেষ।সবাই খেয়েদেয়ে বেরিয়ে গেছে।ইভান এসেছে দেরীতে।নীহারিকা বেগম চলে যেতেই সেখানে হাজির হলো কৌড়ি।কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়েই বেরিয়েছে সে। নীহারিকা বেগমকে বলেই বের হবে বলে ডাইনিংয়ের দিকে আসতেই দেখলো ইভান বসা।কিন্তু চুপচাপ।মনেহয় গভীর কিছু নিয়ে চিন্তিত ভাবান্নিত।না হলে তাকে দেখে চুপ থাকার বান্দা তো নয় সে।তাই আজ নিজে থেকে খুঁচিয়ে কথা বললো।

‘কি ব্যাপার বলুন তো?কার বউ ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন বসেবসে?

মনের কথা যেনো পড়ে নিলো কৌড়ি।ভিতরে ভিতরে একটু চমকালো ইভান।ফের বললো—-নিজের বউকে, কিকরে অন্যের হাত থেকে ভাগিয়ে নিজের কাছে আনা যায় সেই প্লানিং করছি।

‘আপনার মতো ইতুড় মানুষেরও গার্লফ্রেন্ড আছে?

‘না-তো।আমার মতো ইতুড় মানুষের গার্লফ্রেন্ড টেকে, তুমি বলো?তবে তিন কবুল না বলা একটা বউ আছে।সেই না কবুল বলা বউটাকে অন্যের থেকে উদ্ধার করে কিকরে কবুল বলিয়ে নিজের করবো,সেটাই আপতত ভাবছি।

ইভানের প্যাচ লাগানো কথাগুলো সব কৌড়ির মাথার উপর দিয়ে গেলো।কি বলবে কথা পেলো না।তবে মনে মনে ভাবলো,ইভান মনেহয় ফাজলামো করছে।সে-ও আর দাড়লোনা,রান্নাঘরের দিকে যেতে উদ্যোক্ত হতেই ইভান দুষ্ট হেসে বললো—তা তোমাদের প্রেম-সেম কতোদূর এগোলো ফুলকৌড়ি।যদিও ব্যাপারটা প্রেমময় টাইপ নয়,তবে তুমি বললেই কবুল।

মূহুর্তেই সেদিনের হুমকিমুলক কথাগুলো মনে পড়ে গেলো কৌড়ির।হাসফাস করে উঠলো বুকের ভিতরটা।কিছু না বলে ফের চলে যেতে উদ্যোক্ত হতেই মজার ছলে ইভান ফের বললো।—সামথিং সামথিং মনেহচ্ছে?

সহসা উত্তর দিলো কৌড়ি।–সামথিং সামথিং না কচুর মাথা!আপনিতো দারুন খারাপ,সাথে আপনার ওই দাদাভাইটাও সাংঘাতিক খারাপ।

‘কেনো,ওর দাদাভাই তোমাকে কি করলো?

গম্ভীর কন্ঠটা কানে আসতেই বক্ষস্থল ভুমিকম্পের ন্যায় কেঁপে উঠলো।কলিজাটা লাফিয়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো।ইন্নালিল্লাহ,এই মানুষটা এখনও বাড়িতে।জানলে জীবনেও সে এই মানুষটার বিরুদ্ধে একটা শব্দও উচ্চারণ করতো না।এটাই বলে মহা-দূর্ভাগ্য।ভাগ্য কখনো তার ভালো কথা-কাজে সায় দেয়না কেনো?মূহুর্তেই নজর পাংশুটে ধারন করলো তার।মুখাবয়ব হলো ফ্যাকাশে।সেই নজরে ইভানের দিকে তাকাতেই দেখলো,সে মিটিমিটি হাসছে।অসভ্য ছেলেটা সবসময় এভাবেই তাকে ফাঁসানোর ধান্দায় ব্যস্ত থাকে।নিশ্চয় জানতো মানুষটার তার পিছনে।জেনে-বুঝেই তাকে ফাঁসিয়েছে!এখন কি বলবে সে?

‘তুই আবার বাড়িতে।কোনো সমস্যা?

নীহারিকা বেগমের গলা পেতেই হাফ ছেড়ে বাচলো কৌড়ি।বুকে হাত চেপে ঘনোঘনো শ্বাস ফেললো।যাক তবে তাকে আর উত্তর দিতে হবেনা।বাচলো সে।নিভান উত্তর দিলো—প্রয়োজন ছিলো একটু,তাই ব্যাক করতে হলো।

‘ওহ।

মায়ের ওহ শব্দটা শুনে নিভান আর দাঁড়ালো না।নিজের রুমে চলে গেলো।নীহারিকা বেগমও ইভানকে খাবার দিতে ব্যস্ত হলেন।তার ফাঁকে কৌড়িকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন–তুই রেডি হয়ে বেরিয়েছিস?আচ্ছা একটু দেরি কর,নিভান আসুক।আপতত আজ ওর সাথে যা,ও-ই পৌঁছে দেবে তোকে।

কৌড়ি তড়িঘড়ি করে বললো–না না বড়মা।উনাকে আমায় নিয়ে যেতে হবেনা।উনার কতো কাজ,উনাকে আর আামকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফালতু ঝামেলায় জড়িওনা।আমি একা যাই-তো,আজ-ও
যেতে পারবো।কোনো সমস্যা হবেনা।

‘আমি জানি তুই পারবি।তবুও,ও যখন এসময়ে বের হচ্ছে।তখন আর অযথা রাস্তাঘাটের ঝামেলা পোহানোর দরকার কি?ওর সাথে চলে যা।ও পৌঁছে দিয়ে অফিস চলে যাবে,এটাতে ফালতু ঝামেলা কোথায় মনে হলো তোর?

‘ঠিকই তো বলেছে মা।অযথা রিকশা সিএনজির ঝামেলা না পোহায়ে,চলে যাও দাদাভাইয়ের সাথে।আর
তুমি নিজেকে দাদাভাইয়ের ফালতু ঝামেলা মনে করলেও, দাদাভাই কিন্তু একেবারেই সেটা মনে করেনা।

বলেই দুষ্ট হাসলো ইভান।সেটা দেখে মনেমনে কৌড়ির ভিষন রাগ হলো।মনেমনে ইভানকে ইচ্ছেমতো বকলোও সে।ওই লোকটা আশেপাশে থাকলে তার এমনিতেই অকারণে দম বন্ধ হয়ে যায়,আর সেখানে সে যাবে ওই লোকটার গাড়িতে।কখনো না।যদিও বড়মায়ের মুখের উপর কথা বলা অসভ্যতামী মনে করলো।তবুও নিচু গলায় উনাকে উদ্দেশ্য করে বললো-বড়মা,আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।আমি যেতে পারবো,আসছি।

‘চলো আমি এগিয়ে দিচ্ছি।

পিছে ফিরার আগেই ফের গম্ভীর গলার কথাটা শুনতেই
ফের বুকের ভিতর উথাল-পাতাল শুরু হলো।নজর ব্যথাতুরের ন্যায় অসহায় হলো মূহুর্তেই।সেই অসহায় নজরে ইভানের মুখের দিকে তাকালো।ছেলেটা এমন ভাবে খাচ্ছে,যেনো কতো বৎসরের অভুক্ত সে।আশেপাশে কোথায় কি ভেসে যাচ্ছে ডুবে যাচ্ছে কোনো দিকে খেয়াল ধ্যান নেই তার।

‘তুই এসেছিস।আমি আর-ও তোরসাথে যাওয়ার কথা বলছিলাম।তুইও যখন বলছিস,নিয়ে যা তো সাথে করে ও-কে।কলেজে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যাস।

নিভানের উদ্দেশ্য কথা শেষ করে।ফের কৌড়িকে উদ্দেশ্য করে বললো–‘আরেহ দাঁড়িয়ে রইলি কেনো?ওর সাথে চলে যা।

দীর্ঘশ্বাস ফেললো কৌড়ি।উপায় না পেয়ে নিভানের পিছু পিছু এগোতে হলো তাকে।আজ যে কার মুখ দেখে ঘুম থেকে উঠেছিলো!যে এমন একটা মানুষের সঙ্গ পেতে হলো তাকে।যাকে সর্বক্ষণ সর্ব অবস্থায় এড়িয়ে যায়,আজ তারই সঙ্গ।ভেবেই নিঃশ্বাসের চলার গতি ধীমে আসছে তার।ভাবনা সমেত লন এরিয়ায় পা রাখতেই দেখলো,কালো রঙের টয়োটা গাড়িটার ফ্রন্ট সিটের দরজাটা খোলো।অস্বস্তিতে দম বন্ধ হয়ে এলেও পা বাড়িয়ে,আশেপাশে না তাকিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো সে।সঙ্গে সঙে পরিচিত সেই মিষ্টি ঘ্রাণটা যেনো গাড়ীর ভিতরময় সর্বত্র ছড়িয়ে তীক্ষ্ণভাবে নাকে এসে ঠেকলো তার।বেশ কিছুদিন গাড়ীতে উঠার দরূন সিটবেল বাঁধাটা অভ্যস্ত হয়ে গেছে তার।ত্রস্ত হাতে সেটা বেঁধে নিয়ে চুপচাপ বসে রইলো সে।বাড়ি ছেড়ে গাড়ী চললো তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে।শহুরে রাস্তা ধরতেই ভিতরে ভিতরে করা হাসফাস অবস্থাটা কিছুটা কম হলো কৌড়ির।ব্যস্ত রাস্তা।ঘনোঘনো চলা বিভিন্ন যানবাহন।বহু মানুষের চলাচল।বিচিত্রময় দোকানপাট।রঙ বেরঙের বহুতল ভবন।সবকিছু হাসফাস করা মনকে কেমন স্বস্তি দিলো।সেদিকে তাকিয়ে পাশে কে আছে ভুলে যেতে চাইলো কৌড়ি।কিন্তু পাশের জন হয়তো সেই ভুলে যাওয়াটাকে মোটেই মেনে নিতে চাইলোনা।পাশের বসা রমনীটাকে একটু খোঁচাতে ইচ্ছে করলো তার।গম্ভীর নয় বরং স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করলো।

‘বললে না-তো,ইভানের দাদাভাই খারাপ কেনো?তা-ও আবার একটু আধটু নয়, সাংঘাতিক খারাপ!কেনো?সে তোমাকে কি করলো,যে এতো অভিযোগ?

বাহিরের পানে চেয়ে থাকা কৌড়ির,কথাগুলো কানে যেতেই চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো সে।কেনো,কথা না বললে চলছিলোনা তার।কথা না বলে ভালোই ভালো কলেজের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলে তো পারতো।
তা না!উফফ,কথা বলাটা কি খুব প্রয়োজন ছিলো!আর বললো যখন,এই কথাটাই জিজ্ঞেস করতে হলো!তবে পাশে বসা মানুষটার কথার উত্তর না দেওয়াটা বেয়াদবি মনেহলো, তাই তড়িৎ করে উত্তর দিলো সে।

‘আমি কোনো অভিযোগ করিনি।

মৃদু হাসি ফুটলো নিভানের ঠোঁটে।শ্যামবর্ণ আদলে চমৎকার দৃশ্যমান হওয়া সেই হাসিটা নজরে পড়লো-না কৌড়ির।তবে কৌড়িকে ভৎসনা করতে ছাড়লো না নিভান।বললো।-তুমি হয়তো সত্যি বলছো।আমি হয়তো শুনতে ভুল করেছি।

ফের হাসফাস করে উঠলো কৌড়ির ভিতরের সর্বত্রটা।নড়নচড়ন যেনো ভুলে গেলো সে।খিঁচে বন্ধ রাখা চোখজোড়া খুলে,দুহাত কচলাতে থাকলো সে।গাড়ী চালানোর ফাঁকেও সেটা লক্ষ্য করলো নিভান।কৌড়ির অস্বস্তি আরও একটু বাড়িয়ে দিতে বললো।–তবে ইভানের দাদাভাইয়ের প্রতি অভিযোগ জানালে ইভানের দাদাভাই কিন্তু তোমার প্রতি একটু-ও কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া দেখতো না।বরং সে জানতো,নিশ্চয় সেই অভিযোগে অভিযোগী সে।না-হলে ইভানের শান্তশিষ্ট বউম….

‘সেদিন ছেলেগুলো ওভাবে আপনি মেরেছিলেন তাই না?

নিভানকে কথা শেষ না করতে দিয়ে হঠাৎই কথাটা বলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে দিতে চাইলো কৌড়ি।যদিও কথা বলতে তার কঠিন অস্বস্তি হচ্ছিলো,তবুও কথা না এড়ালে নয়।এই মানুষটা যে ওই বেফাঁস মুখো ইতুড়ে ইভানের ভাইয়ার ভাই।এটা ভুলে গেলে তো চলবে না!তাই কখন কি বলে বসে,আর তার প্রতিনিয়ত চলা নিঃশ্বাসটা একেবারে বন্ধ করে দেয়।বলার উপায় আছে!মূহর্তেই গম্ভীর হয়ে উঠলো নিভানের মুখাবয়ব।তীক্ষ্ণ নজরটা পিচঢালা রাস্তায় রেখেই দৃঢ়কণ্ঠে বললো।

‘কেনো?মারাটা ভুল ছিলো নাকি?নাকি তুমি বলতে চাইছো ওরা যে বেঁচে আছে এখনো সেটা ভুল?

আন্দাজে ঢিল মারার মতো কথাটা বলেছিলো কৌড়ি।কিন্তু কথাটা সত্য হবে,এটা যেনো অভাবনীয় না হয়েও অভাবনীয়।সুস্থ হওয়ার পর যখন কলেজে গেলো সে।সেদিনই জানতে পেরেছিলো,ওখানের পরিচিত কিছু লাফাঙ্গা গুন্ডাপান্ডা ছেলেদের কেউ মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে।তারমধ্যে থেকে দু’জনের মরমর অবস্থা।আইসিইউতে লাইফ-সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাদের।ছেলেদের নাম আর চেহারার বিবরণ শুনে কৌড়ি বুঝতে পেরেছিলো,সেদিন ঝড়বৃষ্টির দিনে তার সাথে ঘৃনিত কর্মকাণ্ড করা ছেলেগুলো।মুখে আলহামদুলিল্লাহ বলে মনেমনে সবার মতো সে-ও সেই মানুষটার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলো,যে ওই মানুষরূপে পিশাচগুলোকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে তাকে আল্লাহ হায়াত দান করুক।পরমূহর্তে হঠাৎই ,এই মানুষটার কথাও মনে পড়েছিলো তার।তবে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি।অথচ সেই ভাবনা থেকে মুখ ফসকে বলে ফেলা কথাটা সত্যি হবে,এটা সত্যিই তার ভাবনাতিত ছিলো।ঘাড় ফিরিয়ে অবাক নজরে,নিভানকে দেখলো সে।একমনে পিচঢালা রাস্তায় নজর নিবিষ্ট রেখে গাড়ি চালিয়ে চলেছে মানুষটা।কতোটা স্বাভাবিক তার মুখাবয়ব। যেনো ছেলেগুলোকে মেরে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দিয়েও কোনো আফসোস নেই!নেই কোনো অপরাধবোধ!আশ্চর্যতায় মুখ ফসকে কৌড়ি ফের বলে বসলো।

‘ওরকম নিষ্ঠুরভাবে কেউ মারে?কেনো মেরেছিলেন?

গাড়ি থেমে গেলো।রয়েসয়ে কৌড়ির দিকে ফিরলো নিভান।নিজের জায়গায় অবিচল থেকে শান্তকন্ঠে বললো।—কেনো মেরেছিলাম,জানো না তুমি?ওরা তোমার কোথায় ছুয়োছিলো বা ছুঁতে চেয়েছিলো জানা নেই আমার।জানতে চাইওনা আমি।শুধু একটু জেনেছি,ওরা তোমাকে ছুঁতে চেয়েছিলো।আর সেই ছুঁতে চাওয়াটাই ওদের পাপের পুকুরটা পূর্ন করে দিয়েছে।যার ফলসরূপ ভোগটা ওরা পাচ্ছে।আর সেটা তোমার কাছে নিষ্ঠুরতা মনে হলেও,আমার কাছে ওদের মৃতুটাই শ্রেয়!তোমার হয়তো জানা নেই,ওরা নিভানের কোথায় ছুঁতে চেয়েছিলো?

চলবে..

#ফুলকৌড়ি
পর্ব(২৩)কপি করা নিষিদ্ধ।
#লেখনীতে_শারমীন_ইসলাম

ঋতুতে সময়টা হেমন্তকাল।হালকা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব পড়েছে।রুমের পশ্চিমের জানালা দিয়ে বিকালের নিভে আসা স্বর্নালি রোদটা শরীরে কেমন মিঠামিঠা ভাব দিচ্ছে।নিজের রুমের ছোটোখাটো বেলকনির চেয়ারে বসে আছে কৌড়ি।মান্যতা আপু এখনো ভার্সিটি থেকে ফেরেনি।মৌনতা এই সময়টাতে আপতত ব্যাচে থাকে।আসার সময়টা অবশ্যই হয়ে গেছে।আর নাফিম, তাকে হয়তো বকে ধমকিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে ছোটো-মা।নাহলে বাড়িতে থাকাকালীন ছেলেটা তার রুমেই থাকে।আজ ছেলেটাকে কলেজ থেকে ফিরে এখনো দেখিনি কৌড়ি।খোঁজ নেওয়া উচিত ছিলো।যদিও কৌড়ি খোঁজ নেয়।তবে আজ মনটা তার কোনো কিছুতেই বসছে না। একজন নিজের গম্ভীর কথাকাজ দ্বারা তার মনমস্তিষ্কে জ্বালা বাঁধিয়ে দিয়েছে।বিধায় আজ কলেজের ক্লাসটাও ঠিকঠাক মতো করতে পারেনি সে।শুধু ওই মানুষটাকে আর তার কথাকাজগুলো ভেসে বেড়িয়েছে মন মস্তিস্কের অলিগলিতে।কিসব কথাবার্তা বলে তার ছোট্ট মনটাকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দিলো মানুষটা!ওই গম্ভীর মানুষটাকে,ভাবলেই তার দম বন্ধ হয়ে আসে।সেখানে তাঁকে ঘিরে ওই মানুষটার শান্ত চাহুনি,কিসব আবোলতাবোল বার্তা!উফফ,কখনোই তা কি সম্ভব!কিভাবে সম্ভব!ওই মানুষটা আর সে!ওরে আল্লাহ, কখনোই সম্ভব’না।আর সে-সব কিভাবে ভাবতে পারে মানুষটা।ক্ষনে ক্ষনে এসব মনমস্তিস্কে ঘুরছে,আর বুকটা তার অস্বাভাবিকভাবে কেঁপে কেঁপে উঠছে।বিধায় মন স্থির বসাতে পারছেনা কোথাও।উফফ কি এক জ্বালা বাঁধিয়ে দিলো!অদৃশ্য ভঙ্গিতে মাথা ঝেড়ে মনেমনে বললো–সে আর ভাববে না এসব নিয়ে।আর না সহজে ওই মানুষটার সামনে পড়বে।ফের মনেমনে নিজের মনকে বুঝ দিলো,শহরের ছেলেরা মোটেই ভালো হয়না।আর বড়োলোকর বাপের ছেলেরা তো মোটেই নয়!

মূহর্তেই আবার মনমস্তিস্কের ভাবনা পাল্টে গেলো কৌড়ির।এবাড়ির ছেলেগুলো তো তেমনটা নয়।বিগত দু-মাসে কারও সেরকম কোনো অসংগত আচার ব্যবহার তো পায়নি সে।তবে অকপটে কিকরে বলতে পারে, শহরের ছেলেরা ভালো নয়।পৃথিবীতে ভালোমন্দ মিলে মানুষ।কে ভালো কে খারাপ তার যেনে-বুঝে লাভ আছে কি!দাদিআপা বারবার এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে।কখনো যেনো এসব বিষয়ে মন-কান না দেওয়া হয়।এমনকি যখনই উনার সাথে ফোনে কথা হয়,বরাবরই একটাই সতর্কতা।–খবরদার আপা,ওসব ফাঁদে কখনো পা দিসনা যেনো।পরের বাড়িতে বাপের মান রাখিস।ওসবে জড়িয়ে বাপ মায়ের সম্মান যেনো নষ্ট করিস না।কেউ কখনো যেনো তোর দিকে বা তোর মরা বাপ মায়ের দিকে আঙুল তুলে কথা বলতে না পারে,এমন কোনো কাজ করিসনা মনের ভুলেও।নিজের আচার ব্যবহার নম্র রেখে সবসময় সাবধানে চলাফেরা করবি।আর খবরদার ছেলেদের মন ভোলোনাে কথায় কখনো দূর্বল হবি-না।

হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেলো কৌড়ির।কেনো সে নিজেও যানে না।ফোনের আওয়াজে ভাবনা ছেঁদ হলো তার।উঠে দাঁড়ালো সে।রুমে গিয়ে ফোনটা হাতে নিতেই দেখলো, তার বান্ধবী বিথী ফোন দিয়েছে।মেয়েটার সাথে যোগাযোগ করেছিল,মান্যতা আপুর ফোন দিয়ে।তারপর মাঝেমধ্যে কথা হতো।এই ফোনটা পাওয়ার পর বিথীকে জানিয়ে দিয়েছে।তারপর প্রায় বিকালে কথা হয় তাদের।কলটা রিসিভ করে সালাম দিয়ে ভালোমন্দ কথাবার্তা সারলো দু’জনে।ফের এটাওটা নিয়ে কথা বলতে থাকলো।কথার একপর্যায়ে বিথীর মনেহলো কোনো কারনে কৌড়ির মন খারাপ।মেয়েটা আজ হা হু ছাড়া সেভাবে কথাই বলছে না।বরং বিথীকে বারবার বলতে হচ্ছে,কৌড়ি শুনছিস?মেয়েটা তখন অমনোযোগীর মতো বলছে,কি বলেছিস আমি খেয়াল করিনি,বুঝতে পারিনি আবার বল।অথচ মেয়েটা এমন তো নয়।তবে আজ কি হলো।কথা প্রসঙ্গে বিথী বললো।

‘এই কৌড়ি কি হয়েছে তোর?,আজ কোনো কারনে কি মন খারাপ?

একটু চমকালো কৌড়ি।কথার মধ্যে নিজের অমনোযোগীতা টের পেলো।সহসা বললো।–আরেহ না।মন খারাপ কেনো থাকবে!

কৌড়ির সহসা উত্তরেও স্পষ্ট দ্বিধা।সেটা বুঝতে পেরে
ওপাশ থেকে বিথী কিছুটা অনুযোগী স্বরে বললো–আগে কিন্তু তুই আমার কাছ থেকে কিচ্ছু লুকােতিস না, আমাকে তোর সবটা বলতিস।একবারে এ টু জেট।আর এখন দূরে গিয়ে পর হয়ে গিয়েছিস,কিচ্ছু বলতে চাস না।

দীর্ঘশ্বাস ফেললো কৌড়ি।সত্যি বলতে বিথী আর তার বন্ধুত্ব শিশু বয়স থেকে,বলতে গেলে স্কুলে পড়ার আগে থেকে।স্কুল যাওয়ার আগ থেকেই মেয়েটা তার খেলার সঙ্গী ছিলো।তারপর একসাথে স্কুল পড়াকালীন গভীর বন্ধুত্ব তৈরী হয়।সেই বন্ধুত্বের জোরে,আলাদা আলাদা বিভাগে পড়া সত্ত্বেও একই কলেজ ভর্তি হয়েছিলো।দুজনের এমন কোনো খুটিনাটি বিষয় নেই।যে তারা দুজনে একে অপরেরটা জানেনা।দু’জনে একজায়গায় হলেই একে অপরের ভালো মন্দটা মন খুলে বলতো, জানাতো।প্রান খুলে গল্প করতো।দুজন দু’জনের যেনো একটা বিশ্বাস,একটা ভরসার জায়গা ছিলো।আর সেই বিশ্বাস ভরসার জায়গাটা সবসময়ের জন্য দু’জনেই অটুট রাখার চেষ্টা করেছে।রেখেছে-ও।তবে নিভানের কথাটা বিথীকে বলতে তার যেনো কেমন একটা অনুভব হচ্ছে। তাই ভিতর থেকে চেয়েও বলতে পারছে না।তবে প্রিয় বান্ধবীটাকে অনুযোগ তো করতে দেওয়া যায়না।তাই বললো।

‘আরেহ তেমন কিছুনা?এমনিতেই মনটা কেমন কেমন করছিলো।কেনো যানি কিচ্ছু ভালো লাগছে না।

‘কিন্তু কেনো?

বলবে না বলবেনা করে-ও কৌড়ি সময় নিয়ে রয়েসয়ে নিভানের ইদানীং তার-প্রতি করা আচার ব্যবহার এবং তার বলা কথাগুলো বিথীকে জানালো।বিথীও চুপচাপ শুনলো।যেদিন থেকে কৌড়ির সাথে যোগাযোগ হয়েছে, সেদিন থেকেই ওবাড়ির সবার কথা টুকটাক শুনছে সে।ইদানীং ওবাড়ির সবার বিষয়ে মোটামুটি ধারণা এসে গেছে তার। সবাই বেশ ভালো মনের মানুষ।তবে যে মানুষটার কথা আজ কৌড়ি বলছে,তারকথা এতোদিনে কোনোদিন কৌড়ির মুখে শোনেনি সে।কি জানি কেমন ছেলেটা।তবে কৌড়ি শান্তশিষ্ট হলেও অবুঝ নয়।যথেষ্ঠ বুঝদার মেয়ে।নিশ্চয় বুঝেশুনে পা এগোবে।তবুও প্রিয় মানুষটার ভালো বিবেচনা করে সর্তকতা সরূপ বললো।

‘তোর কথা শুনে-তো মনহচ্ছে উনি তোকে বেশ পছন্দ করেন।তবে কৌড়ি সাবধান।এটা যদিও আবেগের বয়স যারতার কথায় গলে যাস না যেনো।ওরা শহরের ছেলে।আর শুধু শহরের ছেলে বলে কথা নয়,কার মনে কি আছে বলা তো যায়-না।এখন কিন্তু প্রায়শই মেয়েরা ছেলেদের এমন কথায় দূর্বল হয়ে নিজেদের সবকিছু খুইয়ে চরিত্র হারাচ্ছে।তাই সাবধান।

নিভানকে তার কখনো খারাপ মনের ছেলে বলে মনে হয়নি কৌড়ির।এমনকি সারাক্ষণ তার পিছে লেগে থাকা ইভানকেও না।বিথীর সবকথা মানতে পারলে-ও, কেনো জানি উনি ভালো ছেলে নাও হতে পারে!এই কথাটা মন কিছুতেই মানতে চাইলো না।সেটা বিথীর কথার প্রেক্ষিতে বলেই ফেললো।

‘আমার মনে হয়না,উনি তেমন ছেলে।

আশ্চর্য হলো বিথী।তবে কি ছেলেটার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়লো কৌড়ি।আশ্চর্যতা গলায় জিজ্ঞেস করলো–তবে তুই কি তাকে প্রশ্রয় দিতে চাইছিস?

তড়িঘড়ি করে বললো কৌড়ি–আরেহ না।আমি প্রশ্রয় দেওয়ার কথা বললাম কখন!তবে আমার কেনো জানি মনে হয়-না,তিনি খারাপ মন- মানসিকতার ছেলে।

কথাটা বলে চোখ বুঁজে ফেললো কৌড়ি।সত্যিই কি সে প্রশ্রয় দিতে চাইছে?না-হলে সারাদিন সবকিছু ফেলে ওই মানুষটা মাথার প্রতিটি নিউরনে নিউরনে ঘুরছে কি করে! আর কেনোই বা সে ওই মানুষটার হয়ে সাফাই গাইছে?হোক ভালো বা মন্দ তাতে তার কি!সে তো ওসবে মনোযোগ দিতে চায়না।ডালিয়া ফুপির ভাস্যমতে লোভী হতে চায়না সে।তবে কেনো ওই মানুষটার বিরুদ্ধে উল্টো পাল্টা কথা শুনতে পারছে-না।চাইছেনা মন শুনতে।উফফ,এ কেমন জ্বালা বাঁধলো মনে।বিথীর কথায় ভাবনা কাটলো তার।

‘তুই যে উনার পক্ষ নিয়ে মন্দটা ভাবার আগে ভালো মনোভাবটা প্রকাশ করছিস ওটাইকেই প্রশ্রয় দেওয়া বলে কৌড়ি।তবে সাবধান।ভালো মন্দ বুঝেশুনে।যেমনটা নাহিদ ভাইয়ার ক্ষেত্রে বুঝশুনে চলতিস।তেমনভাবে চলিস,পাখি।আমি কখনো তোর খারাপ খবরটা শুনতে চাই না।এমনকি তুই কোনোপ্রকার পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছিস সেই খবরটা-ও না।তোকে আমি নিজের আপনজনের মতোই ভালোবাসি।এইটা অন্তত বিশ্বাস রাখিস পাখি।

‘আমি বিশ্বাস এবং ভরসা দুটোই করি তোকে।তুই আমার খারাপ চাইবিনা কখনো,এটাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।তোকে সেটা বলে বোঝাতে হবেনা।আর সত্যি বলতে,তুই আর দাদিআপা হলো আমার সহজ সরল পথের বন্ধু, সঙ্গীনি।তাদের কথা না মানি কি করে?আমি নিজেকে সাবধানে রাখার চেষ্টা করবো।প্রতিটি পদক্ষেপে পা বাড়ানোর আগে বুঝে-শুনে পা বাড়াবো।ভাবিস-না আমাকে নিয়ে।

‘লাভ ইউ সো মাচ্ পাখি।আমি সত্যি তোর খারাপ চাই না,আমার কথাগুলো তুই অন্যভাবে নিস না।

‘লাভ ইউ সো মাচ্ ট্যু বিথীরানি।আমি জানি সেটা।আর আমি মোটেও তোর কথাগুলো অন্যভাবে নেয়নি।নিচ্ছিও না।

কথার একপর্যায়ে দুই বান্ধবী আবার-ও বিভিন্ন কথায় মত্ত হলো।কথা শেষ হতেই ফোনটা চোখের সামনে নিতেই আবারও,সেই মানুষটার খেয়াল মনের নজরে ভেসে উঠলো।পশ্চিম আকাশে হেলে পড়া তপ্তহীন সূর্যের দিকে তাকিয়ে রইলো নির্বিশেষে।ফের চোখ বন্ধ করে নিতেই ভেসে উঠলো,সেই ধারালো স্থির শান্ত বাদামীবর্ন নজরজোড়া।সুডৌল কাটকাট শ্যামবর্ণ মুখাবয়ব।সেদিন বৃষ্টিভেজা দিনে,তাকে দেখে মানুষটার ক্ষীন হাসি।দুহাত হাটুতে ভর দিয়ে জোরেজোরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা।কাছে গিয়ে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করা,খুব ভয় পেয়েছো তাইনা?এইতো আমি এসে গেছি আর ভয় কিসের?তার নিজ চোখে দেখা সবটা কিকরে ছলনা হয়?তাকে হেনস্তা করার জন্য ওই ছেলেগুলােকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার মতো অবস্থা করা।সকালের সোজাসাপ্টা উত্তরটা,ওরা নিভানের ঠিক কেথায় ছুঁতে চেয়েছিলো তোমার হয়তো জানা নেই।এই ইঙ্গিতপূর্ন কথাগুলো তার মনমস্তিস্কে আজ সারাদিন পীড়া দিয়ে চলেছে।এখনো দিচ্ছে।তবে বিথীর বক্তব্য অনুযায়ী তার কেনো জানি মনেহয়,ওই মানুষটার ব্যাক্তিত্বের আড়ালে অন্য কোনো মানুষ নেই।আর যদিও থেকে থাকে তবে কৌড়ির জানি বিশ্বাস সেখানে কোনো ছলনা নেই।এমন বিশ্বাস ভরসা কেনো তৈরী হতে চাইছে?কেনো মনে হচ্ছে মানুষটা একটুও খারাপ নয়?

সৃষ্টিকর্তার ধরাবাঁধা নিয়মানুযায়ী আবারও একটা সকালের সূচনা হলো।নিয়ম অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া সেরে যে যার মূখ্য গন্তব্য চলে গেলো।সকাল থেকেই কৌড়ির শরীরটা কেমন যেনো ভালো লাগছে না।ক্ষনে ক্ষনে অসম্ভব পেটব্যথা করছে সাথে পিরিয়ড হওয়ার পূর্বলক্ষণীয়।বিধায় আজ কলেজে যায়নি সে।যেতে মন চাইনি তার।বড়মা,আঙ্কেলের চেকআপে জন্য সকাল সকাল হসপিটালে ছুটেছেন।যাবার আগে তাকে দেখে বলে গিয়েছেন–বেশি শরীর খারাপ লাগলে যাওয়ার দরকার নেই।বাড়িতে পড়াশোনা কর।বিশ্রামও হয়ে যাবে সাথে পড়াশোনাও।

সকালের খাবারটা খেতে একটুও রুচি হচ্ছেনা কৌড়ির।তবুও ছোটোমা কয়েকবার ডাকতে পাঠিয়েছেন।তার না যাওয়াতে শেষমেশ নিজে-ও এসে ডেকে গিয়েছেন।বিধায় নিজের ভালো না লাগাটা একরকম একপাশে ফেলে রেখে ডায়িংয়ের উদ্দেশ্য ছুটলো সে।তবে খাবার উদ্দেশ্য নয় ছোটোমাকে বুঝিয়ে বলার উদ্দেশ্য।ডাইনিংয়ে এসে স্বান্তনা রহমাকে না পেয়ে রান্নাঘরে ঢুকল।কৌড়িকে ঢুকতে দেখেই স্বান্তনা রহমান তড়িঘড়ি করে বললেন।

‘কিচেনে কেনো তুই।ডায়নিংয়ে খাবার দিয়েছি খেয়ে নে।

মানুষ গুলোর ব্যবহার দেখলে মনেহয়,কতো চিরচেনা পরিচিতি তারা।কত-শত আপনজন।অথচ এবাড়িতে এসেছে সে মাস দুই হবে।কিন্তু নিজদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আর তারমধ্যে কোনো বিষয়ে কখনো তফাৎ করে দেখেনি।কখনো তাদের আচার ব্যবহার তারপ্রতি বিরূপ দৃষ্টি ফেলেনি।কৌড়ির ইদানীং মনেইহয়না,সে এবাড়িতে এই মাস দুয়েক আগে এসেছিলো।তার মনেহয়,সে জন্ম থেকে এবাড়িতে থেকে আসছে।

‘কি হলো,দাঁড়িয়ে রইলি কেনো?কতো বেলা হয়েছে খেয়াল আছে?টেবিলে সব গুছানো,যা খেয়ে নে।

‘আমার খেতে ইচ্ছে করছেনা, ছোটোমা।

চুলায় নরম ডাল খিচুড়ি পাকাচ্ছিলেন স্বান্তনা রহমান।হুট করে শ্বাশুড়িমা খেতে চেয়েছেন।অসময়ে তারই বন্দবস্ত করছিলেন তিনি।কৌড়ি কথাটা বলতেই হাতের কাজ ফেলে রেখে,তার সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালেন।সহসা কপালে গলায় হাত উল্টে পাল্টে রেখে বললেন।

‘কেনো ভালো লাগছে-না খেতে?হঠাৎ কোনো কারনে শরীর খারাপ লাগছে নাকি?

‘তেমন কিছুনা।এমনিতেই ভালো লাগছেনা খেতে।

কৌড়ির মুখের দিকে দৃষ্টি ফেললেন স্বান্তনা রহমান।শুভ্র মায়াভরা মুখটা আজ কেমন মলিন মলিন ভাব,সাথে ক্ষনে ক্ষনে কপাল কুঁচকে মেয়েটা ব্যাথা হজম করছে মনেহচ্ছে।ব্যাপার কি?কিছু আন্দাজ করতে পেরে বললেন–পেট ব্যাথা করছে নাকি?

দৃষ্টি নত রেখে কৌড়ি বললো —ওই একটু।

কৌড়ির কথার সুরেই যেনো বাকিটা বুঝে নিলেন স্বান্তনা রহমান।দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।প্রত্যেক মাসে এই সময়ের ব্যথা বেদনা দিয়ে বিভিন্ন সমস্যা পার করার থেকে একটা করে বাচ্চা প্রসব হয়ে যাওয়া ভালো। এটা উনার পিরিয়ড টাইমের জন্য মনে হয়।জানেন না মেয়েটার কি হয়।তবে নিজেরটা দিয়ে উপলব্ধি করে বললেন।

‘অন্যকিছু বানিয়ে দেবো?খাবি?না খেলে আরও খারাপ লাগবে তো!

‘আমার টোটাল খেতে ইচ্ছে করছেনা ছোটোমা।বিশ্বাস করো,খাবার গালে তুললেই বমি আসবে মনেহচ্ছে।

ফের বিড়বিড় করে বললো —বমি আসবে কি,এই সময়টাতে পেটব্যথা মাথাব্যথা হাতপা চিবানো।খাবারে অরুচি এমনকি বমিটাও বাদ যায়না তার।দুনিয়ায় শত অসহ্যতা সব এসে ভর করে শরীরে।

স্বান্তনা রহমান কিছু একটা ভাবলেন।ফের বললেন –আচ্ছা ঠিক আছে।আপতত খেতে হবেনা।তোর দাদুমার জন্য নরম খিচুড়ি রান্না করছি,হয়ে যাক।পাঠিয়ে দিচ্ছি তোর রুমে।খাবার চেষ্টা করিস,নাহলে আরও বেশি শরীর খারাপ লাগবে।মৌনতাকে দেখিস না,এসময়ে তিনদিন বিছানার সাথে লেগে থাকে।যা রুমে গিয়ে বিশ্রাম নে।

এই সময়টাতে তারপ্রতি দাদিআপার যত্ন ছিলেও অমায়িক।অথচ সেই যত্ন এখানেও পাবে আশা রাখেনি কৌড়ি।যদিও মানুষগুলো তার প্রচন্ড খেয়াল রাখে, ভালোবাসে।স্বান্তনা রহমানের কোমল গলার কথাগুলোতে আবেগপ্রবণ হলো সে।খিচুড়ি নাড়াচাড়া করা রান্নারত স্বান্তনা রহমানকে খুব কাছে দাঁড়ালো। দ্বিধান্বিত হয়েও,হঠাৎ পিছে থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগপ্রবণ গলায় বললো।—তুমি, বড়মা সবাই এতো ভালো কেনো ছোটোমা।

শান্তশিষ্ট মেয়েটা সহজে পাশ ঘেঁষে না।যদিও সম্পর্কটা তাদের অনেকটা আপনজন টাইপ নর্মাল হয়ে গিয়েছে।তবুও মেয়েটা তাদের দেওয়া নেওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে।আগ বাড়িয়ে নিজে থেকে কোনো কিছু চাওয়া পাওয়ার চেষ্টা করেনা। এমনকি উনাদের আদর যত্নটাও নয়।সেই মেয়ে আজ উনাকে নিজ ইচ্ছেতে জড়িয়ে ধরেছে।কাছে এসেছে।মমতাময়ী মন আরও নরম হলো উনার।হাতের খুন্তি ছেড়ে,নিজের কাঁধে রাখা কৌড়ির মুখে হাত দিয়ে বললেন।-মা যে তাই।তোদের ভালোমন্দ বোঝাটাই তো আমাদের মায়েদের দায়দায়িত্ব।আমরা না বুঝলে কে বুঝবে শুনি!এখানে মায়েদের বিশেষ ভালো হওয়া লাগেনা।প্রয়োজন পড়েনা। মায়েরা ভালো হোক বা মন্দ,সন্তানের সুখসুবিধা, ভালোমন্দতে তারা কোনো বেনিফিট ছাড়াই মমতাময়ী,স্নেহভাজন যত্নশীল,দরদী।বুঝলি?

‘হুমম।বুঝলাম।

স্বান্তনা রহমানকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় কিছু সময় কেটে গেলো।তিনিও সরতে বললেননা,কৌড়িও সরলো না।কিছুসময় যেতেই তিনি বললেন–এভাবে জড়িয়ে থাকলে আমি কাজ করবো কিভাবে?রুমে গিয়ে বিশ্রাম নে,যা।একটু পরে আমি খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি।

রয়েসয়ে সরে দাঁড়ালো কৌড়ি।বললো–কি করতে হবে বলো?আমি তোমাকে করে দিচ্ছি।

‘তুই বললি না তোর খারাপ লাগছে,এখন আবার কাজ করতে মন চাইছে?আর এখানে আপতত কোনো কাজ বাকী নেই,শুধু এই রান্নাটুকু ছাড়া।আর কাজ থাকলেও করা লাগবেও না তোকে।আর যেটুকু আছে,রানি একটু বাহিরে গিয়েছে এসে করে নেবে।

‘আমার খারাপ লাগছে,খেতে ইচ্ছে করছেনা।তবে কাজ করার মতো অসুস্থতা আমি অনুভব করছিনা।

কৌড়ির পানে চাইলেন স্বান্তনা রহমান। কপাল কুঁচকে কিছুটা রাগ দেখিয়ে বললেন–এই তুই মৌনতার মতো মুখে মুখে তর্ক করতে শিখে গেছিস?শিখবি না কেনো, সঙ্গ দোষ বলে কথা।যাই হোক রুমে যেতে বলছি,রুমে যা।

কৌড়ি মুখ ছোটো করে ফেললো।বললো-আচ্ছা যাচ্ছি।

রান্নাঘর থেকে ধীরপায়ে বেরিয়ে এলো কৌড়ি।বেরিয়ে
ডায়নিং স্পেস।সেখানে নজর পড়তেই দেখলো,ইভান চুপচাপ খাবার খাচ্ছে।ছেলেটাক বেশ কয়দিন ধরে সেভাবে বাড়িতে দেখা যায় না।ইদানীং সকালে খাবার টেবিলে ছাড়া তাকে খুব একটা বাড়িতে দেখা যায় না।তবে আজ আর খুঁচিয়ে কথা শুনতে চাইলো না বলে নিজের রুমের দিকে চুপচাপ হাঁটা দিলো কৌড়ি।খেতে খেতে ইভানের নজরে সেটা পড়তেই তিরস্কারপূর্ন গলায় বললো।—বাড়ির বড় বউ।অথচ কোনো দিকে তার নজর নেই।কে খেলো,কে না খেলো।কোথায় কি আছে, কোথায় কি নেই।সেদিকে তার কোনো মন কান নেই।সে আছে নিজের খেয়ালে।বাড়িতে দেবর ননদের মেলা।তাদেরও তো খাতির যত্ন করা বড় বউয়ের দায়িত্ব অথচ তার সেদিকে মন নেই।এ-কেমন বড়ো বউ তুমি ফুলকৌড়ি?আমার দাদাভাইকে দেখো,সে কেমন সব দিকের দায়িত্ব পালন করে চলেছে।অথচ তুমি?সেই দাদাভাইয়ের ব….

কৌড়ির পা থেমে গিয়েছে অনেক আগেই।আর মুখ করুণ করে ইভানের কথাগুলো শুনছিলো।তবে ছেলেটা বলে যাচ্ছে লাগামহীন।যদিও লাগাম রেখে বলে কখন!তাই তাকে থামিয়ে দিতে বললো।

‘ইভান ভাইয়া।আপনার কি সারাদিন এসব উল্টো পাল্টা কথাবার্তা ছাড়া আর কোনো কথা মাথায় আসে-না?

‘এগুলো তোমার উল্টো পাল্টা কথাবার্তা মনেহলো?আশ্চর্য!আর বাড়ির বড় বউ হয়ে দায়িত্বে অবহেলা করলে তো অবশ্যই দেবর ননদের বেশি কথা শুনতেই হবে।এখন থেকে অভ্যাস করে নাও।যাই হোক আমাকে একজগ পানি এনে দাওতো বাড়ির বড় বউমা।

টেবিলের দিকে তাকালো কৌড়ি।সত্যিই জগে একফোঁটাও পানি নেই।সহজভাবে বললেই তো হতো।তারজন্য এতো উল্টো পাল্টা কথা বলার প্রয়োজন ছিলো?দীর্ঘশ্বাস ফেললো কৌড়ি।টেবিলে বসা ছেলেটা ইভান,মাথায় রাখা উচিত ছিলো তার।এগিয়ে যেতে যেতে বললো।

‘পানি লাগবে বললেই তো হতো।আবোলতাবোল বলার কি দরকার ছিলো?আমার না মাঝেমধ্যে আপনার উপর ভিষণ রাগ হয়,কিন্তু রাগটা কিভাবে দেখাবো সেটা বুঝে উঠতে পারিনা বলে রাগটাও আর দেখাতে পারি না।

চমৎকার হাসলো ইভান।কৌড়িকে আরও একটু ক্ষেপাতে বললো–তুমি রাগতেও জানো!এটা তো জানা ছিলোনা আমার।তা রেগে দেখাও দেখি একটু,ভবিষ্যতে আমার দাদাভাইয়ের কপালে কি আছে একটু বুঝে নেই।যদি-ও আমার দাদাভাইয়ের প্রচুর ধৈর্য্য,তোমার মতো শান্তশিষ্ট ফুলকৌড়ির রাগ সহ্য করাটা তার একটা তুড়ির ব্যাপার।যদি-ও আমার সেটা কোনো ব্যাপার বলেই মনে হয়না।

কৌড়ি কোনো জবাব দিলোনা।ডাইনিং টেবিলের কাছা- কাছি রাখা ফ্লিটার থেকে একজগ পানি এনে রেখে দিলো টেবিলে।ফের হুমকি সরূপ বললো–আপনি এই বিষয় নিয়ে আর একদিনও উল্টো পাল্টা কথা বললে আমি বড়মাকে বলে দেবো।

‘আরেহ,তুমি যে এবাড়ির বড় বউমা,এটা তোমার বড়মা ও জানেন।আর তোমার বড়মাকে থোড়াই না আমি ভয় পাই।তবে তুমি যদি দাদাভাইয়ের ভয় দেখাতে,যে দাদাভাইকে বলে দেবে তুমি তবে হয়তোবা কিছুটা ভয় পেতাম।যদিও তুমি বরের কান ভাঙানো টাইপ বউ নও এটা বুঝেই তো আমি তোমাকে আমার বউমনি আর দাদাভাইয়ের বউ বলে মেনে নিয়েছি।

‘আপনি আসলেই খুব খারাপ?

‘সত্যি তুমি রেগে যাচ্ছো দেখি!আচ্ছা রেগে যেও-না।তবে তোমাকে একটা কথা জানানোর আছে?শুনতে চাও?শুনতে না চাইলেও,বাড়ির বড়বউ হিসাবে শোনাটা দায়িত্ব তোমার।

ইভানের ফাজলামো সম্বোধন কানে না তুলে কৌতুহল বশত কৌড়ি বলে ফেললো। –কি?

‘আমার বউটার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি আমার শ্বাশুড়ি আর শালাবাবু। এখন বলোতো উপায় হিসাবে,আমার কি বিয়েটা ভেঙে দেওয়া উচিত?নাকি তাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসা উচিত?

‘সত্যি আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?আর আপনি বিয়ে করবেন?

‘কেনো?আমি কি দেখতে শুনতে খারাপ, যে আমার গার্লফ্রেন্ড থাকতে পারেনা? নাকি আমার বিয়ে করতে মানা?

কৌড়ি বেজার মুখে বললো–আমি কিন্তু সেটা মোটেই বলিনি।আপনি শুধু শুধু কথা ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বাড়ান।আমি বলতে চাইছি, আপনার সত্যি গার্লফ্রেন্ড আছে কি-না?

আবার-ও গাল ভরে হেসে দিলো ইভান।ফের বললো–‘আরেহ,মুখ ওরকম পেঁচার মতো করে ফেললে কেনো ফুলকৌড়ি।তুমি আমার বড় বউমনি না,মায়ের মতো ধৈর্য্য রাখবা সবসময়।আর সেদিন না বললাম আমার গার্লফ্রেন্ড নেই আর ও গার্লফ্রেন্ড নয়।বিয়ে না করা বউ,বুঝলে?আমি তাকে গার্লফ্রেন্ড নয় বউ বানাতে চেয়েছিলাম।এখন কি করা যায় সেটাই বলো?বিয়ে করে তোমার জা বানিয়ে নিয়ে আসি,কি বলো?

‘আপনি আপনার দাদাভাইয়ে আগে বিয়ে করবেন বলছেন?

‘কেনো,দাদাভাইয়ের আগে বিয়ে করলে সমস্যা কোথায়?মান ইজ্জত যাবে বলছো?সে যায় যাক,তবে যাকে বউ করবো বলে ভাবছি তাকে তো আর অন্য কারও হতে দেওয়া যায়-না।মানা মুশকিল হয়ে যাবে।
সেজন্য বিয়ে তো আমাকে করতেই হবে।আর দাদাভাইয়ের জন্য তুমি টেনশন নিও-না।তারজন্য তো তুমি কনফার্ম সিলেক্টেড।সে এখান থেকে দশসেকেন্ড পরে হোক বা দশবছর পরে,বউতো তুমি দাদাভাইয়েরই হবেই।

কৌড়ির যেনো সয়ে গেছে ইভানের এসব কথাবার্তা।তবে আর ভালো লাগছে না ঘুরেফিরে সেই মানুষটাকে নিয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে কথা বলাগুলো শুনতে।কেনো জানেনা,মন খারাপ হয়ে যায় তার।বিথীর কথাগুলো মনে পড়ে যায়।তবে মন এটাও বলে আর যাই হোক,মানুষটা চারিত্রিক দিক দিয়ে মোটেই খারাপ নয়।
কৌড়ির ভাবনার মধ্যে নিভান এসে চেয়ার টেনে বসে পড়লো।চেয়ার টানার মৃদু শব্দ কানে যেতেই খেয়ালী হলো কৌড়ি।ইভানের সম্মুখীন অপরপাশের চেয়ারটাতে,পুরো ফর্মাল ড্রেসআপে সেই মানুষটাকে দেখে অযাচিত কারনে বক্ষস্থল কেঁপে উঠলো তার।সঙ্গে সঙ্গে নজর ফিরিয়ে নিয়ে,নিজের রুমের দিকে যাবার উদ্যোগ নিতেই ভারী কন্ঠের আওয়াজে থেকে গেলো পা।

‘কৌড়ি,আমার খাবারটা ছোটোমাকে দিতে বলো-তো?

আপনি আমার নাম ধরে কখনো ডাকবেন নাা।আপনার মুখে আমার নামটা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ!না-হলে অকালে আমার মৃত্যুর জন্য আপনি দ্বায়ী থাকবেন। কথাগুলো ওই মানুষটাকে উদ্দেশ্য করে খুবই বলতে ইচ্ছে করে কৌড়ির।তবে চাইলেই কি আর সব ইচ্ছেটা পূর্ণ হয়।যেমনটা সে মনেমনে ইচ্ছে পোষণ করেছিল,এই মানুষটার সামনে সহজেই পড়বেনা।অথচ পড়তেই তাকে হলো।উফফ..

পিছে ফিরলো না কৌড়ি।আবারও রান্নাঘরের দিকে হাঁটা দিলো।অন্যদিন গলা চড়িয়ে রানিসাহেবাকে ডেকে বলে আর আজ তাকে ঘটক ধরলো কেনো?ধরবে নাই বা কেনো!এদের দু-ভাইয়ের জন্মশত্রু তারসাথে।তাকে না জ্বালালে হয়!তাহলে শান্তিতে থাকবেন কিকরে উনারা।একজব জ্বালাতে জ্বালাতে সবে ক্ষান্ত দিয়েছে।তো আরেকজন এসে হাজির।মনেমনে কতশত প্রলাপ বকতে বকতে রান্নাঘরে গিয়ে স্বান্তনা রহমানকে জানালো,তাদের নবাবপুত্র এসেছে।ভাত রুটি বাদ দিয়ে তাহার স্পেশাল খাবার চাইছে।সকালের ভারী খাবারটা নাকি তাহার মুখে রোচে না।হালকা খাবারেই তিনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পার করে দেন।এই স্যান্ডউইচ জেলি আর একমগ কফি।এই সাধারণ অল্প খাবারেই নাকি তিনি অভ্যস্ত।কৌড়ির বুঝে আসেনা,এটুকুও খাওয়ার দরকারটা কি!না খেলেই তো পারে।যদিও উনার ইনকাম,তিনি খাবেন নাকি বাঁচাবেন সেটা তিনি বুঝবেন।তবে তাকে মাঝখানে ঘটক ধরে অস্বস্তিতে ফেলার প্রয়োজন কি?

‘ধর।

ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বে-ও খাবার ট্রেটা হাতে নিলো কৌড়ি।স্বান্তনা রহমান বললেন—ট্রে-তে পানির গ্লাস দেই-নি।পানিটা একটু কষ্ট করে ওকে ঢেলে দিস।ছেলেটা সহজে বাড়িতে খায়না।আর খেলেও সীমিত।সেখানে ত্রুটি রাখলে চলে?আর অন্যদের মতো সামনে পেলেই খেয়ে নেবে।এমনটা নয় ও।নিজে তো কিছু নিয়ে খাবে না, এমনকি পানিটুকু টেবিলে না পেলে সেটা না খেয়ে চলে যাবে।তাই ওর বেলায় একটু খেয়াল রাখতে হয়।

আশ্চর্য হলো কৌড়ি।-পানিটাও ঢেলে খেতে পারবে-না।যেখানে ইভান ভাইয়া,খাবার সামনে পেলেই চুপচাপ খেয়ে যায়।সেখানে ইনিতো দেখি নাফিমের চেয়ে আরও দুকাঠি উপরে।

‘যা।আবার দেরী হলে না খেয়ে চুপচাপ চলে যাবে!

মনের ভিতরে একগাদা অস্বস্তি নিয়ে আবার ডায়নিংয়ের দিকে পা বাড়ালো কৌড়ি।এই নবাব সাহেবের বউ যে হবে।তাকে তো সেবাযত্ন করতে করতে জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যেতে হবে।খাবারের ট্রেটা কোনোমতে নিভানের সামনে টেবিলের উপর রেখে চলে যেতে উদ্যোগক্ত হতেই ফের নিভান বললো।

দাঁড়াও।

পুনরায় পা থেমে গেলো কৌড়ির।সামনে বসা ইভানের দিকে তাকালো সে।মিটিমিটি হাসছে আর খাচ্ছে ছেলেটা।সেই মিটিমিটি হাসিটা তাকে যেনো অদৃশ্য ভঙ্গিতে ভৎসনা করে বলছে–কি ব্যাপার ফুলকৌড়ি!দাদাভাইয়ের কথা দেখি অক্ষরে অক্ষরেই পালন করে চলছো।ব্যাপার স্যাপার কি বল-তো,ফেঁসে গেলে নাকি?নাকি ভিতরে ভিতরে কিছু-মিছু চলছে?হুমম?

মনেমনে ভাবলে-ও দুই ভাইয়ের ভাবসাব এমন যেনো কেউ করাও কথাকাজে নেই।ইভান খেয়ে উঠে চুপচাপ চলে গেলো।যাবার আগে কৌড়ির দিকে ফিরে একগাল হেসে দিয়ে গেলো।ইভান চলে যেতেই নিভান বললো।

‘বসো।

কথাটা স্পষ্ট শুনতে পেলেও কৌড়ি গাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।সেটা বুঝতে পেরে খাবারের ট্রে থেকে নজর হাঁটিয়ে কৌড়ির পানে চাইলো নিভান।সঙ্গে সঙ্গেই সামনের চেয়ারে ধপ করে বসে পড়লো কৌড়ি।মনেমনে হাসলো নিভান।এইতো বাধ্য মেয়ে।ফের অতি স্বাভাবিক গলায় বললো।

‘যার দৌলতে শ্বশুর শ্বাশুড়ি ননদ দেবরের সেবাযত্ন করে চলেছো,তাকে সেবাযত্ন করতে সমস্যা কোথায়? আমার জানামতে আগে তাকে সেবাযত্ন করে সময় বাঁচলে তারপর,ননদ দেবর বা অন্যঅন্য পারিপার্শ্বিকতা।কিন্তু তুমি দেখি ভিন্ন পথের যাত্রী। আগে পারিপার্শ্বিকতা তারপর যার দৌতলে ননদ দেবর শ্বাশুর শ্বাশুড়ি পেলে,শেষে গিয়ে সে।তবে তুমি মানলেও,এটা কিন্তু সে মানতে নারাজ।প্রিয় মানুষটা বলতে সে কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে হিংসুক ছেলেটা।

কৌড়ির মনেহলো,সে মরে যাক।অবশ্যই বুকের যন্ত্রটা যে বেগে লাফাতে শুরু করছে,মরণ তার হতে সময় লাগবেনা।অথচ সামনের মানুষটা নির্বিকার খাবারের দিকে মনোযোগী।তারদিকে চেয়ে নেই।অথচ পৃথিবীর সমস্ত অস্বস্তি লজ্জা যেনো ঠেলে তার সমস্ত অঙ্গে মাখিয়ে দিয়েছে।কেনো বলছে এমন মানুষটা!কেনো বুঝতে পারছেনা,সে লোভী হতে চাইছেনা!

স্যান্ডউইচ খাওয়া শেষে কফির মগটা হাতে নিলো নিভান।মাথা উঁচু করে কফির মগটা ঠোঁটে ছোঁয়াতেই, অস্বস্তিতে গাট হশে বসে থাকা কৌড়ির পানে নজর স্থির করলো।সঙ্গে সঙ্গেই চোখ নামিয়ে নিলো কৌড়ি।
এখান থেকে উঠার জন্য হাত পায়ের কচলানো বাড়লো যেনো।সেটা দেখে,সময় নিয়ে নিভান বললো।

‘তোমার পরামর্শ দাতা খুবই অনেস্ট।সাথে বিশ্বাসযোগ্যও।আর তারপ্রতি তোমার বন্ধত্বের ভরসা ও বিশ্বস্ততা মুগ্ধকর।বিধায় আমার দিকে তোমাকে একধাপ বাড়িয়ে দেওয়ার বদৌলে পিছিয়ে দেওয়াটাকে কিছু বলছিনা,আর বলবোও আমি।তবে তুমি আমাকে বিশ্বাস করেছো, এটা তোমার দিকে আর-ও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে আমাকে।

বিস্মিত হলো কৌড়ি।একটু নয় অনেকখানি।অস্বস্তি লজ্জা ভুলে নিভানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো সে।
মানেটা কি?প্রথমে কথাগুলো না বুঝলেও,নিভান কথা এগোতেই বুঝতে পারলো।কালকে বিথী আর তার কথোপকথনের কথা বলছে মানুষটা।তবে তাদের কথা শুনলো কোথা থেকে?আর কিভাবে?আশ্চর্য! তার রুমে কখনো মানুষটা আসবে বা আসতে পারে এটা কখনোই বিশ্বাস করে না সে।আর আসিওনি যে।এটা নিজের চোখে দেখা।তবে কি করে?শত প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো কৌড়ির।তবে না সামনের ব্যক্তিটাকে প্রশ্ন করতে পারলো আর না তার সমাধান মিললো।কৌড়ির আশ্চর্য হওয়ার কারন বেশ বুঝলো নিভান।মৃদু হাসলো সে।কফি শেষ হতেই উঠে দাঁড়ালো।
তখনও কৌড়ি বিস্ময় নিয়ে হা হয়ে তাকিয়ে।সেই ডাগরডাগর কাজল কালো সচ্ছ চোখের পানি তাকিয়ে হঠাৎই তারদিকে ঝুকলো নিভান।সঙ্গে সঙ্গে চোখজোড়া বন্ধ করে পিছে সরে গেলো কৌড়ি।সেটা দেখে নিভানের মৃদু হাসি চওড়া হলো।চাপাস্বরে বললো।

‘তোমার ফ্রেন্ড ভুল কিছু বলেনি,শুধু ভুল মানুষের দিকে অবিশ্বাসের আঙুল তুলে দিয়েছে।তবে আমাকে বিশ্বাস করার জন্য,আমার পক্ষ থেকে তোমার পাওনা উপহারটা আপতত আমি সযত্নে আমার কাছেই গুচ্ছিত রাখলাম।তোলা রইলো।আমাদের কাছাকাছি আসাা যতো দেরী হবে, ততোই সুদের হারটা বাড়তে থাকবে।আর অপেক্ষার প্রহর যেদিন অস্তমিত হবে,সেদিন উপহারের আসলটাসহ শতগুনরূপে সুদটা ফেরত পাবে তুমি।খুব সযত্নে হালালরূপে ফিরিয়ে দেবো আমি।যতোই পিছু হাঁটো না কেনো,নিভানের দিকে এগোনো ছাড়া পিছাতে পারবেনা তুমি।

চলবে…..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ