Friday, June 5, 2026







ফ্লুজি পর্ব-১৮

#ফ্লুজি
#অনুপ্রভা_মেহেরিন
[পর্ব ১৮]

আরশাদ তার ফ্লুজির জন্য রান্নায় মশগুল।পাশে বসে ফ্লুজি অনিমার সাথে বিশেষ আলাপে মত্ত আছে।তাদের আলাপটা আজ নির্ধারিত কোন বিষয় নিয়ে নয়।হুটহাট এটা ওটা মাথায় আসছে মা মেয়ে সেই কথা নিয়েই গল্প জুড়েছে।কড়াইতে চিংড়ি মাছগুলো ভেজে একটি প্লেটে নিল আরশাদ।চিংড়ি ভাজার ঘ্রাণে খুশবুর নাকে যেন সুড়সুড়ি দিল।একবার আরশাদের দিকে আরেকবার তাকালো চিংড়ি মাছের দিকে।

আরশাদ বুঝলো তার ফ্লুজির চাওয়া।প্লেট বাড়িয়ে দিয়ে সে বলে,

” যতগুলো খেতে পারো খাও কোন নির্দিষ্টতা নেই।”

একগাল হাসে ফ্লুজি।অনিমা তখন বলে বসলেন আরেক সাংঘাতিক কথা,

” এই খুশবু রোহানের বিয়ে গতকাল আবার ভেঙেছে জানিস?ছেলেটার নাকি কাল কাবিন ছিল।”

” এবারের বিয়ে তো ভাঙার কথা না।”

কথাটি বলে আড়চোখে আরশাদের দিকে তাকালো খুশবু।আগের বার রোহানের গার্লফ্রেন্ড বাড়ি অবধি এসে ঝামেলা করার সাহস পাওয়ার মূল মন্ত্র ছিল আরশাদ।
সেই মেয়েটাকে আরশাদ ইন্ধন দিয়েছে বলেই তো মেয়েটা নিজের সাহসিকতা দ্বিগুণ অনুভব করে মাঠে নেমে পড়ে।তাহলে এবার কে ঝামেলা পাকালো?

আরশাদ তার ফ্লুজির চাহনিতে ঠোঁট বাঁকায়।খুশবু তখন অনিমার কথায় মগ্ন।

” এবারের কাবিন মেয়েদের বাড়ি গিয়ে ভাঙা হয়েছে।তবে আগেরবার যে প্রেমিকাটা এসেছিল ও নাকি সে নয় এই মেয়েটা আরেকজন।”

খুশবু ভিষম খেল।কি সাংঘাতিক কথা এই ছেলে কয়টা নিয়ে চলে?

আরশাদের ভিলায় তখন উপস্থিত হয় এলিনা মেয়েটার হাতে এক বাটি চিকেন ফ্রাই।এলিনাকে দেখেই খুশবু একগাল হাসলো,

” ভাবিমনি ফুপ্পি পাঠিয়েছে তোমার জন্য।”

আরশাদ টমেটো কিউব করছিল এলিনার কথা শুনে ফোঁড়ন কেটে বলে,

” কেন আমার জন্য দেয়নি?”

” ফুপ্পি তো তোমার কথা উল্লেখ করেনি।তোমার বউকে দিয়েছে তাতে হ্যাপি থাকো।”

” রেগে আছো কেন কিউটি?”

আরশাদের প্রশ্নে এলিনার রাগ যেন আরো তীব্র হলো।খুশবুর কাঁধে মাথা দিয়ে অভিমানে তাকিয়ে রইলো অন্যদিক।এই স্বাভাবিক ব্যপারটা আরশাদের ভালো লাগলো না।তার ফ্লুজির কাঁধে এই মেয়ের স্থান কেন?আরশাদ হাতের ছুরিটি নিয়ে এগিয়ে এলো এলিনার কাছে এবং কৌশলে মেয়েটিকে ভয় দেখাতে ছুরি বুক বরাবর তাক করতে এলিনা চিৎকার দিয়ে ছিটকে সরে যায়।এলিনার চিৎকারে খুশবুর কানের পর্দা যেন ফেটে গেল।এত জোরে কেউ চিৎকার করে!

“ভাইয়া মে রে ফেলবে তো।”

এলিনা ভয় নিয়ে বললো আরশাদকে।আরশার ছুরিটা দিয়ে ইশারা করে বলে,

” না মা রবো না। আগে বলো রেগে আছো কেন?”

” তোমাদের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবো?ভেনিস যাবে না?আমাকেও তো ফিরতে হবে বোঝার চেষ্টা করো।”

” ভেনিস তো বললেই যাওয়া যায় না।যাব যখন বলেছি অবশ্যই যাব আগে হাতের কাজটা গুছিয়ে আনতে দাও।”

এলিনা যেন অসন্তুষ্ট হলো।পিটপিট চোখ করে তাকিয়ে রইলো আরশাদের পানে।
.

ইতিহাস ঘেরা রোম শহরটাত পর্যটনের অভাব নেই।পুরোনো ইতিহাসকে জানার আগ্রহে দর্শনে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে এই শহরে।আরশাদের আজকের যাত্রা পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের বস্তু কলোসিয়ামে।

ঘুরতে যাওয়ার নাম উঠতে এই স্থানটি খুশবু নিজেই পছন্দ করে।সে জানে কলোসিয়ামের ইতিহাস।সবচেয়ে বড় ব্যপার পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি বিষয় তার সচক্ষে দেখার সুযোগ এসেছে।এই সুযোগ মিস করা মানে অনেক বড় বোকামি।

আরশাদের যাত্রা শুরু হয়েছে সকাল থেকে।অনেকটা রাস্তা যাওয়ার পর খুশবু দেখতে পেল বিশাল একটা প্রাচীর।মেয়েটার পুথিগত বিদ্যা জানান দিল হ্যাঁ এটাই কলোসিয়াম।খুশবু পুলকিত হলো তার চাহনি আরশাদকে আরো বেশি রোমাঞ্চিত করে।এই মেয়েটাকে নিয়ে দেশ বিদেশ ঘুরলে কেমন হয়?
আরশাদ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলো তার ফ্লুজিকে নিয়ে সে দেশ বিদেশ ঘুরবে।

গাড়ি পার্কিং করে কলোসিয়ামের দিকে অগ্রসর হলো আরশাদ।ফ্লুজির হাত জড়িয়ে প্রশ্ন করে,

” গ্লাডিয়েটর মুভিটা দেখেছিলে?”

“হ্যাঁ দেখেছিলাম?”

” তাহলে নিশ্চয়ই কলোসিয়াম সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে?”

” তা তো আছেই।”

আরশাদ এবং ফ্লুজি একসাথে প্রবেশ করলো কলোসিয়ামে।আরশাদের তেমন ভাব আবেগ না দেখা গেলেও ফ্লুজির চোখ জুড়ে আনন্দরা ঠিকরে পড়ছে।আরশাদ মেয়েটার চোখে তাকিয়ে যে তৃপ্তি পাচ্ছে সেই তৃপ্তি জনম ভর ফুরাবে না।

কলোসিয়ামের সিমানায় যত প্রবেশ করছিল ততটাই অবাক করেছে খুশবুকে,
আজ ২০০০ বছর পরেও রোদ বৃষ্টি ঝড় জাহান কাঁপানো ভূমিকম্প আর পাথরচোরদের দৌরাত্ন উপেক্ষা করে কালের ভয়ংকর গ্রাসের নানান সাক্ষী আপন শরীরে নিয়ে আমাদের সামনে তা গর্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অতীত ও আধুনিক যুগের মিলনকেন্দ্র হয়ে।

অবশেষে কলোসিয়ামের ভিতরে ঢুকার সৌভাগ্য হলো খুশবুর।সেএক গায়ে কাটা দেওয়া অনুভূতি!
সারি সারি গ্যালারী, কুলীন আর সাধারণ জনগণের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা আর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সিজার আর সিনেটরদের জন্য আলাদা আলাদা বিলাসবহুল কক্ষ।

কলোসিয়ামের কেন্দ্রস্থলে প্রায় গোলাকৃতির এক মাঠ থাকার কথা যেমনটা পুথিপত্রে পড়া হয়েছিল বা মুভিতে এবং শিল্পির চিত্রকর্মে দেখানো হয়েছিল তা কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলোসিয়ামটির পাটাতন ভেঙ্গে পড়েছে অনেক অনেক আগেই।

আরশাদ খুশবুর সঙ্গে কিছু ছবি তুলল।চারদিকে কাপল ওয়েস্টার্ন পড়া বিদেশীদের ভিড়ে কয়েকজন বাঙালিও দেখা গেল।এই বিদেশের বুকে বাঙালিদের মায়াবী মুখখানী দেখলে খুশবু শান্তি পায় স্বস্তি পায়।তার পাশে দাঁড়ানো আমৃত্যুর সাথি আরশাদ যে কি না নিজেও ভিনদেশী।

খুশবু আরশাদের পাশাপাশি হাটছিল।মেয়েটা আরশাদের দিকে তাকিয়ে বলে,

” কলোসিয়াম যদি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের বিষয় হয় তবে আমার কাছে অষ্টম আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন?আজ সকাল থেকে আপনি আমার পাশাপাশি ছিলেন কিন্তু একবারেও চুমু খান’নি, খেতে বাধ্য করেন’নি, আশ্চর্য!এতো মহা আশ্চর্য!”

আরশাদ থমকে যায় ভ্রু কুচকে তাকায় খুশবুর পানে।হ্যাঁ তাই তো মেয়েটাকে সারাদিন অস্থির করে রাখা আরশাদ আজ এতটা ভালো হয়ে গেল!মূলত সে সময় পায়নি, কলোসিয়ামে আসার আগে যে তাকে কতটা তাড়াহুড়ো করে আসতে হয়েছে একমাত্র সে নিজেই বুঝে।আরশাদ খুশবুকে সন্নিকটে আনলো মেয়েটার পিটপিট চাহনিতে মাদকতা মিশিয়ে আনলো বহুগুন।

” হানি এই কথা বলা কি খুব জরুরি ছিল? চলো গাড়িতে ইচ্ছে মতো হবে।”

” আরশাদ ঘুরতে এসেছি রোমান্স করতে নয়।”

” আমার এনার্জি জিরোতে নেমে গেছে ফুল করে দাও জান।”

” আরশাদ দূরে যান।”

” তুমি কাছে এসো।”

আরশাদ ভিড়কে পরোয়া করলো না চট করে অতিদ্রুত ঠোঁটে ঠোঁট মেশালো সে।যদিও কয়েক সেকেন্ডের ব্যপার কারো নজরে আসেনি।খুশবু তেঁতে উঠলো আরশাদের পিঠে ঘুষি দিয়ে বলে,

” আপনি আস্ত একটা নির্লজ্জ।”

” আমার আশেপাশে সব নির্লজ্জ তাই আমিও একই ধাঁচের।”

আরশাদ এবং খুশবু তারা ক্রমশ সামনের দিকে গেল।কত কি অজানা সব তাদের চোখে পড়ে সব তো তারা জানে না তাদের ধারণাতেও নেই।প্রাচীরের ভেতরে সারি সারি ছোট কামরাগুলো ব্যবহার হত পশুর খাঁচা, খাদ্যের গুদাম আর গ্ল্যাডিয়েটরদের বিশ্রামাগার ও শরীরচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে।

খুশবু যতটা দেখছিল ঠিক ততটাই অবাক হচ্ছিল।এত এত বছর পূর্বে এত নিখুঁত গড়নের মঞ্চ তাও কি না কালের পর কাল টিকে আছে।
বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি হলো ইতালির রোম শহরে অবস্থিত ‘কলোসিয়াম’। এটি মূলত একটি ছাদবিহীন মঞ্চ। চারতলা অনেকটা বৃত্তাকার মঞ্চটি তার নির্মাণশৈলীর কারণে এখনো মানুষের বিস্ময় জাগায়। এখানে বসেই মানুষ ও প্রাণীদের নানা ধরনের খেলা, প্রদর্শনী ইত্যাদি উপভোগ করতেন তৎকালীন রোম সম্রাটরা।কলোসিয়ামে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক একসঙ্গে বসতে পারত। বিস্ময়কর এই মঞ্চটি অনেক করুণ ও বীভৎস কাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। এই কলোসিয়ামেই অনুষ্ঠিত হতো যোদ্ধাদের লড়াই প্রতিযোগিতা। লড়াইরত এই যোদ্ধাদের বলা হতো গ্ল্যাডিয়েটর।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একজন গ্ল্যাডিয়েটর আরেকজন গ্ল্যাডিয়েটরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করত। লড়াই করতে করতে এই গ্ল্যাডিয়েটররা রক্তাক্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। গ্যালারিতে বসে এই দৃশ্য দেখে উল্লসিত হতেন সম্রাটসহ অন্য দর্শকরা। অমানবিকভাবে এমন অসংখ্য মানুষের প্রাণহরণের সাক্ষী এই কলোসিয়াম।

কলোসিয়ামটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে। ফেরিয়াস বংশের সম্রাট ভেসপাসিয়ান এটি নির্মাণ করেন। তিনি এটির নাম রেখেছিলেন এমফি-থিয়েটারিয়াম ফেভিয়াম। সাত বছরে তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করে আকস্মিকভাবে মারা যান ভেসপাসিয়ান।

পরে তাঁর ছেলে সম্রাট টাইটাস এর নির্মাণকাজ শেষ করেন। টাইটাস ফেভিয়ামের নাম পাল্টে নতুন নাম রাখেন কলোসিয়াম। পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম সম্রাটদের একজন ছিলেন টাইটাস। তিনিই কলোসিয়ামে গ্ল্যাডিয়েটরদের মরণপণ লড়াইয়ের সূত্রপাত করেন। প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এই কলোসিয়ামটি অতীতের নিষ্ঠুরতা আর বিস্ময়ের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

কলোসিয়ামের কারণে রোম নগরীকে রক্তের আর হত্যার শহর বলেও ডাকা হতো এক সময়। বিশ্বের অনেকেই হয়তো জানেন না, লাখো রাজবন্দি, যুদ্ধবন্দি, ক্রীতদাস আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অসহায়দের রক্তে সিক্ত হয়েছে কলোসিয়ামের মাটি এবং প্রতিটি ধূলিকণা। অদ্ভূত কাঠামোর ইমারতটির প্রতিটি ইট,কাঠ,পাথরে মিশে আছে নিহতদের অন্তিম নিঃশ্বাস।

রক্ত-পিপাসু রোম সম্রাটদের বিকৃত আনন্দের খোরাক যোগাতে গিয়ে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এই বধ্যভূমিতে,
ইতিহাস তার সঠিক হিসাব রাখেনি।

শুধু মানুষই নয়, কলোসিয়ামের মাটিতে অজস্র্ বন্য জীবজন্তুর রক্তও মিশে আছে। সম্রাটদের নির্দেশে রাজকোষের অর্থে সেই সময় এক বিশেষ খেলার জন্য উত্তর আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমদানি করা হতো হাজারে হাজারে হাতি, গন্ডার এবং সিংহ। ভাল্লুকের সঙ্গে হাতি, হাতির সঙ্গে বুনো মহিষ বা গন্ডারের সঙ্গে হাতির লড়াই দেখত হাজারো বিশ্ব সম্ভ্রান্তরা।

পশুদের মৃত্যুবেদনার হুংকারের সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ত পুরো গ্যালারি। কলোসিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৯ হাজারেরও বেশি পশুর প্রাণ গিয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন পশুর লড়াই আর এগুলোর করুণ মৃত্যু দেখতে দেখতে একঘেয়েমি বোধ করেন সম্রাট টাইটাস। পশুর স্থলে মানুষে-মানুষে লড়াইয়ের ধারণা এলো তার মনে। আর পশুর খেলা বন্ধ করে, শুরু করা হলো মানুষের রক্তের হলি খেলা।

শুরু হলো মানুষের মৃত্যুর করুণ ও বীভৎস কাহিনী। যুদ্ধ বন্দিদের মরণপণ লড়াই যতক্ষণ না দুইজনের একজনের মৃত্যু হতো, ততক্ষণ পর্যন্ত চলত সেই দ্বৈত লড়াই। কিন্তু মাত্র একশটি খেলা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল টাইটাসের।

এরপর হঠাৎ করেই একদিন বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যান তিনি। বন্ধ হয়ে যায় এই খেলা। লম্বা বিরতির পর ৬৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রুটাস ভ্রাতৃদ্বয় ফের চালু করেন ঐতিহ্যবাহী ওই খেলা। তারা “গ্ল্যাডিয়াস” বা খাটো তরবারির লড়াই চালু করেন। লড়াইকারীদের বলা হতো “গ্ল্যাডিয়েটর”। লড়াই চলাকালে কোনো এক “গ্ল্যাডিয়েটর” আহত হয়ে পড়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ত পুরো কলোসিয়াম।

মৃত্যু ভয়ে ভীত, ক্ষত-বিক্ষত “গ্ল্যাডিয়েটর” রেওয়াজ অনুযায়ী হাত তুলে সম্রাটের করুণা প্রার্থনা করত, প্রাণভিক্ষা চাইত।
মঞ্জুর করা বা না করা সম্পূর্ণ সম্রাটের মন-মেজাজের ওপর নির্ভর করত। সম্রাটের বাম হাতের বুড়ো আঙুল আকাশ নির্দেশ করলে অপর “গ্ল্যাডিয়েটর” বুঝে নিত যে “তাকে ছেড়ে দাও”। কিন্তু ভূমির দিকে নির্দেশ করার অর্থ, “তাকে শেষ করে দাও”।

রোমের দুর্ধর্ষ শাসক জুলিয়াস সিজার এখানে বসেই ৩০০ গ্ল্যাডিয়েটরের লড়াই উপভোগ করেন। আর সম্রাট ট্রাজান উপভোগ করেন পাঁচ হাজার দ্বৈত যুদ্ধ। খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হতো এ কলোসিয়ামে।

সেখানে ভ্যাটিকানের সর্বোচ্চ খ্রিস্টান ধর্মগুরুরা উপস্থিত থাকেন। অংশ নিতেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও।

সেখানে এক ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিত প্রত্যেককে কলোসিয়ামের এক মুঠো করে মাটি উপহার দিতে চেয়েছিলেন পোপ গ্রেগরি। কিন্তু কেউই তা নিতে রাজি হননি। তাদের অভিযোগ, এই মাটি হাতে নিয়ে চাপ দিলে এখনো বের হবে তাজা রক্ত।এবং এই মাটিতে রয়েছে রক্তের গন্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যত রক্ত ঝরেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি রক্ত ঝরেছে রোমের কলোসিয়ামের এই মাটিতে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা সেই বিভৎস, জঘণ্যতম প্রাণ সংহারী দ্বৈত যুদ্ধের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে বিশেষ নির্মাণশৈলীর এ কলোসিয়াম।
.

সময় যত গড়িয়ে গেল সূর্যের তেজ তত প্রখর হলো।খোলা মঞ্চ কলোসিয়ামে সব রোদ যেন খুশবুর মাথায় ঢুকে পড়ছে।টগবগ করে উঠছে উত্তপ্ত মস্তিষ্ক।খুশবু আর দাঁড়াতে চাইলো না।চোখের পিপাসা মিটিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে তার।সামনে যত অগ্রসর হলো ততটাই পেছনে ফেলে এলো কালের ইতিহাসের কলোসিয়াম।রহস্যে ঘেরা রোম শহরের ইতিহাস যদি বলতে হয় তবে মাসের পর মাস ফুরিয়ে যাবে।রোমানরা ছিল উন্নত জাতি,বর্ণমালা সৃষ্টি, সাহিত্য স্থাপত্য, শিল্প, দর্শন ইতিহাস, ভাস্কর্য শিল্প এবং আইন কোন অংশে তারা পিছিয়ে ছিল না।
.
কলোসিয়াম ভ্রমণ শেষে বিকালে বাসায় ফিরে ঘুম দিল খুশবু।আরশাদ তাকে আর জ্বালায়নি।খুশবুকে ঘুমে রেখে আরশাদ তার ভিলার টুকটাক কাজ করেছে।ইতালির বুকে যখন আধার নামলো তখন ঘুম ভাঙলো খুশবুর।মেয়েটা আড়মোড়া কাটিয়ে উঠে বসতে দেখতে পেল আরশাদ তার জামা কাপড় গুছিয়ে বিছানায় রাখছে।হঠাৎ মনে প্রশ্ন জাগে খুশবুর,

” আরশাদ এসব নামালেন কেন?”

” ফ্লুজি আমার বন্ধুরা তোমাকে ডিনারে ইনভাইট করেছে।”

খুশবুর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো।মুহূর্তে পালটে গেল মুখের ভাব।খুশবুর আতঙ্কেগ্রস্ত চাহনি আরশাদের চোখ এড়ালো না।

” না না আমি যাব না।”

আরশাদ এগিয়ে এলো খুশবুর হাতের ভাজে নিজের হাত পুরে বলে,

” জান এত না না করছো কেন?আমি আছি তো।ওরা এত বার বলছে না করতে পারলাম না।তাছাড়া দেখা তো হবেই হোক সেটা আজ আর কাল।’
চলবে…..

#ফ্লুজি
#অনুপ্রভা_মেহেরিন
[পর্ব ১৮ বাকি অংশ]

ব্লাক জিন্স,ব্লাক টপস,গলায় ঝুলানো ব্লাক স্কার্ফ, দু’ঠোঁট ন্যুড লিপস্টিকে রাঙানো।আরশাদ আগাগোড়া দেখলো তার ফ্লুজি তার উদ্দীপ্ত চাহনি খুশবুকে জানান দেয় আরশাদ কতটা এক্সাইটেড।আরশাদ কিঞ্চিৎ হাসে,খুশবুর গালে ঠোঁট মিশিয়ে বলে,

” লুক লাইক ব্লাক কুইন।”

” আর কিছু? ”

“মাই ব্লাক কুইন?”

” আর কিছু?”

” ব্লাক ডায়মন্ড।”

” আর কিছু? ”

” সো হট…”

হাতের ব্যাগটা আরশাদের দিকে ছুড়ে মা রলো খুশবু।কথা থামিয়ে ব্যাগটি ধরে ফেললো আরশাদ।খশবুর গোমড়া মুখখানি দেখে বোঝাই যাচ্ছে মেয়েটা কতটা বিরক্তি নিয়ে আছে।আরশাদ হাত বাড়িয়ে দিল খুশবুর দিকে খুশবু সেই হাতে হাত রাখতে মেয়েটাকে টেনে আনলো সে।

” এবার তো যাওয়া যাক?”

” আরশাদ আমি উনাদের সাথে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নেব!আমার কেমন কেমন যেন লাগছে।”

” ওরা ফ্রেন্ডলি দেখবে তুমি সহজ হতে পারবে ওদের সাথে।

আরশাদ যতই অভয় দিক খুশবু তো জানে তার মনে কী চলছে।অচেনা মানুষ অচেনা পরিবেশে এদের সামনে নির্ঘাত সে দম ব ন্ধ হয়ে ম রবে।আরশাদ ফ্লুজির কোমড়ে হাত রাখলো সে আজ নিজেও ব্লাক শার্ট পরেছে।আজ দুজন ম্যাচিং, দেখতেও তাদের পারফেক্ট লাগছে।
.
আলিশান রেস্টুরেন্ট চারিদিকে মোটামুটি নিরবতা, তেমন কারো কোন কথার আওয়াজ আসছে না।সবাই মন দিয়ে খাবার খাচ্ছে টুকটাক আলাপ সারছে কিন্তু এই আলাপে আওয়াজ অনেক কম।
খুশবু মাত্র রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলো একটি লম্বা টেবিলে একদল ছেলেকে দেখে তার আর বুঝতে বাকি নেই আরশাদের বন্ধু নিশ্চয়ই এরাই।হলোও তাই আরশাদ বন্ধুদের দেখেই হাত মেলালো বন্ধুদের মাঝে উল্লাস শেষে সবার মনোযোগ ভিড়লো ফ্লুজির দিকে।সবাই যেন চিড়িয়াখানার বাঘ দেখছে অবাক পানে সবাই তাকিয়ে আছে আরশাদের ফ্লুজির পানে।একদল ছেলে পর পর হাত বাড়িয়ে বলে, “হ্যালো আ’ম ডিলান।”, ” হ্যালো আ’ম অ্যাডেন”
,”হ্যালো আ’ম কডি”, হ্যালো আ’ম এলোন।”

খুশবু ঘাবড়ে গেল সবার হাস্যজ্বল মুখটা তাকে বারবার নার্ভাস করে তুলছে।সবার সাথে পরিচিত হলো খুশবু।এর মাঝে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে জন।লম্বা চওড়া দেহের অধিকারী জন এগিয়ে এসে সবার উদ্দেশ্যে সরি জানালো।জনকে দেখে আরশাদ কিছুটা অবাক হলো, কই সে তো জানে না জন আসবে!
ফ্লুজি জনের পানে তাকালো জন মুহূর্তে অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো।যদিও সে জানতো আজ সে এই মেয়ের মুখোমুখি হবে কিন্তু হঠাৎ তার ঘাবড়ে যাওয়ার কারণটা নিজেই খুঁজে পেল না।

জন হাত বাড়ালো খুশবুর দিকে।

” হ্যালো আ’ম জন।ইয়ু লুক লাইক ব্লাক কুইন।”

জনের মন্তব্য আরশাদের মুড পালটে গেল।জনের প্রতি তার প্রকাশ পেল ক্ষোভ।ডিলান আরশাদের চাহনি বুঝতে পেরে জনকে বলে,

” জন ভাইয়া প্লিজ বসুন।কেমন আছেন আপনি?অনেকদিন পর এলেন।”

জন বসলো। আরশাদ ডিলানের পানে তাকিয়ে বলে,

” জন ভাইয়ার কি আসার কথা ছিল?না মানে আজ তো বন্ধুদের মিট করার কথা।”

” তোমার ওয়াইফ কি সবার ফ্রেন্ড? না মানে তাহলে সে এখানে কি করছে?আজ নাকি ফ্রেন্ডরা মিট করবে।”

আরশাদ পালটা জাবাব দেওয়ার আগে এলোন বলে,

” এই তোমরা চুপ করবে?আজকের মিট শুধুই আমরা ভাবির সাথে করতে এসেছি।প্লিজ সবাই চুপ কর।”

আরশাদের পানে তাকিয়ে সবাই ঢোক গিললো এই ছেলে একবার যদি রেগে যায় তবে সবটা লন্ডভন্ড করে ছাড়বে।ডিলান,কডি,অ্যাডেন সবাই ফ্লুজিকে দেখছে জহুরি চোখ।জন কলগার্ল বলে যেই মেয়ের ছবি দেখিয়েছিল তার সাথে খুশবুর হুবহু মিল।আশ্চর্য তারা তো আশা করছিল জন এবং ফ্লুজি মুখোমুখি হলে বিস্ফোরণ ঘটবে কিন্তু ফ্লুজির ভাবাবেগে স্বাভাবিক।মেয়েটা শুরুতে যেমন নার্ভাস আছে এখনো ঠিক একই অবস্থা।

জন সবার সহিত চোখাচোখি করলো।আরশাদ নিজের মেজাজ সামলে খাবার অর্ডার করলো।বন্ধুরা সবাই ইতালিয়ান ফুড অর্ডার করলো এদিকে খুশবু এসব খাবারে অভ্যস্ত নয় তাই মেয়েটার জন্য বেছে বেছে খাবার অর্ডার করলো আরশাদ।

জন আরশাদের সিনিয়র তাই চাইলেও কিছু বলতে পারবে না সে।সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি অন্তত যায় না।কডি ভদ্রতার হাসি দিয়ে খুশবুকে বলে,

” আপনি পড়াশোনা করছেন?”

প্রশ্নটা যেহেতু এবার খুশবুকে সরাসরি করা হয়েছে তাই মেয়েটা ঢোক গিললো।ইংরেজিতে টুকটাক কথা বলতে পারে সে কিন্তু এদের সামনে যদি আটকে যায় মান সম্মান জানলা দিয়ে পালাবে।খুশবু ধীরে ধীরে বলে,

” জি।”

” আপনার বাড়িতে কে কে আছে?”

” মা বাবা এবং আমি।”

” আরশাদের সাথে আপনার পরিচয় কীভাবে?না মানে প্রেমটা শুরু হলো কি করে?”

খুশবু থমকে গেল এবার সে কী বলবে?সে তো আরশাদের ফ্লুজি নয়।আরশাদ তো এসব কথা মানতেও চায় না।মূলত আরশাদের সাথে তার আগের ফ্লুজির পরিচয় কীভাবে খুশবু সেসব কিছুই জানে না।
খুশবুর নীরবতা আরশাদ বুঝতে পারে।সবার উদ্দেশ্যে আরশাদ বলে,

” আমাদের পরিচয় রিলেশনের সব কারো অজানা নয় নতুন করে জেনে কি করবি?”

সবাই মাথা দুলালো।অ্যাডান ফ্লুজির উদ্দেশ্যে বলে,

” আরশাদের মাথার তার দুই তিনটা যে ছিড়ে গেছে আপনি সেটা জানেন?সে তো মেন্টালি সিক যদিও সেটা তার ফ্লুজি জন্য অর্থাৎ আপনার জন্য হয়েছে।”

খুশবু বিষম খেল।আরশাদ বন্ধুদের দিকে তাকাতে সবাই দাঁত কেলিয়ে হাসে।সবাই তো খুশবুর উত্তরের আশা করছে।মেয়েটা গ্লাস ভরতি পানি গিলে বলে,

“পাগল হলেও আমার,ভালো হলেও আমার।সব মিলিয়ে সে আমার।”

আরশার ফ্লুজির কাছে এমন উত্তর আশা করেনি হয়তো সে এড়িয়ে যেত।কিন্তু তার ভাবনা মিথ্যা হলো ফ্লুজির দু’লাইনের একটা উত্তর তার বুকে প্রশান্তির ঢেউ খেলে গেছে।মস্তিষ্কে আজ আন্দোলন করছে, এই মেয়েটাকে আরো আরো ভালোবাসতে হবে,যতটা ভালোবাসলে অতীত আর ভবিষ্যৎ ভুলে জীবনটা শুধু আরশাদের সহিত লেপ্টে থাকে।

বন্ধুরা সবাই হই হই করে উঠলো।নীরব রেস্টুরেন্টে তাদের চেচামেচিতে আশেপাশের সকলে একবার করে আড়চোখে তাকালো।জন কোন প্রতিক্রিয়া জানালো না।অর্ডারকৃত খাবার আসতে সবাই খাবারে মনোযোগ বসালো।

সবাই স্বাভাবিক হতে পারলেও জন স্বাভাবিক হতে পারে না।তার চোখে ভেসে উঠছে সেই রাতের কথা।ফ্লুজির উন্মুক্ত শরীরের ভাজে ভাজে কীভাবে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে ভাবতেই মনটা পুলকিত হয়।দু’টো মেয়ের সাথে সে লিভ ইনে ছিল কই তাদের জন্য জনের মন এতটা খচখচ করেনি যতটা ফ্লুজির জন্য করছে।
বাঙালি মেয়েটা জনকে যে তৃপ্তি দিয়েছে এই তৃপ্তি আর কি কেউ দিতে পারবে?এই জন্যই কি আরশাদ এই মেয়েকে নিজের গুহায় এনেছে?
আচ্ছা আরশাদ কি সবটা জেনেশুনে এমন করেছে?নাকি ফ্লুজি কলগার্ল ক্যারিয়ার ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে?
জন এসব ভাবতে পারে না।আচমকা তার দেহের ক্ষুদা বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত আর একটা রাতের জন্য ফ্লুজি যদি তার হতো…এসব ভাবা হয়তো বৃথা।

জন ফ্লুজিকে বাজিয়ে দেখতে বলে,

” আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম কক্সবাজার।এক সাপ্তাহ থেকেছি অনেক সুন্দর প্লেস।আপনি কক্সবাজার গিয়েছেন?”

” না।আমার কখনো দূরে কোথাও যাওয়া হয়নি।”

জন সহ বাকিরা চোখাচোখি করে।জনের সাথে ফ্লুজির দেখা হয়েছিল কক্সবাজার বিলাশ বহুল এক হোটেলে।
জন সন্দিহান কণ্ঠে বলে,

” সিরিয়াসলি!মিথ্যা বলছেন কেন?কক্সবাজার আপনি জাননি?”

” না।”

অকপটে স্বীকার করলো খুশবু।সে কখনো কক্সবাজার যায়নি।
জন উত্তেজিত হলো তার গলার স্বর ক্রমাগত বাড়লো,

” আপনি কক্সবাজার গেছিলেন মিথ্যা বলছেন কেন?নাকি স্বীকার করতে চাইছেন না।”

ফ্লুজি ঘাবড়ে গেল দ্রুত পানি গিলে তাকালো আরশাদের পানে।জনের এমন আচরণ আরশাদের ভালো ঠেকলো না সে বিরক্ত হয়ে বলে,

” ও যখন বলেছে যায়নি তাহলে আপনি এমন করছেন কেন জন ভাইয়া?”

জন বুঝতে পারে সে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে।কথা ঘুরাতে সে বলে,

” আশ্চর্য এত সুন্দর একটা জায়গায় উনি যায়নি তাই আমার ভীষণ অবাক লাগলো।”

সবার মাঝে ঠেকলো নীরবতা।এলোন জনের হাত চেপে ধরলো ইশারায় বোঝালো কোন প্রতিক্রিয়া না জানাতে।খাবার শেষে সবার মাঝে টুকটাক কথা হচ্ছিল।এলোন সবার মাঝে বলে,

” চলো নাইট ক্লাবে যাই।”

জন শার্টের হাতা ফোল্ড করে বলে,

” আজ যেতেই হতো চলো সবাই একসাথে যাই।”

ডিলান সহ অনন্যরা সাড়া দিল।মুহূর্তে খুশবুর চোখে মুখে ছড়িয়ে গেল আতঙ্ক।আরশাদ কি তাকে এখন ক্লাবে নিয়ে যাবে?সেদিনের বিশ্রি অভিজ্ঞতা তার আর যাওয়ার ইচ্ছে নেই।অথচ সবাই সম্মতি দিলেও আরশাদ যেতে রাজি হলো না।ফ্লুজিকে নিয়ে তো কখনোই বন্ধুদের সহিত সে ক্লাবে যাবে না।এরা এখন ক্লাবে গিয়ে ঠিক কি কি করবে সবটাই আরশাদের জানা।ফ্লুজি এসব স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারবে না তাই আরশাদ যেতে চায় না।
জন বিরক্ত হলো আরশাদের অসম্মতিতে। সে তার বিরক্ত ধরে রেখে ফ্লুজিকে বলে,

” কেন আপনাদের দেশে কি এসব নেই?নাকি আপনি কখনোই যাননি?”

” আমি ভদ্র ফ্যামিলির মেয়ে এসব আমি ভাবতেও পারি না সেখানে আমি এসব জায়গায় যাব?আপনারা যান আরশাদ আমাকে বাসায় পৌঁছে দেবে।”

” ভদ্র অভদ্র জানিনা।এসব আমাদের কাছে ডাল ভাতের মতো।আপনিও চলুন ইতালিতে যখন এসেছেন অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।”

আরশাদ গম্ভীর মুখে সবার উদ্দেশ্যে বলে,

” তোমরা সবাই যাও আমি যেতে চাই না।”

এলোন আরশাদকে সম্মতি দিয়ে বলে,

” ভাবি না গেলে আরশাদের যাওয়ার প্রয়োজন নেই।আমরা যাই।”

আরশাদ বিল মিটিয়ে রেস্টুরেন্টে থেকে বেরিয়ে এলো।আরশাদ চলে যেতে বাকিরা চলে গেল নাইট ক্লাবে।এর মাঝে কেউ কোন কথাই বললো না।সবার মাঝে চলছে ঘোর।
নিঃসন্দেহে ফ্লুজি মেয়েটা সুন্দরী তবে সে যে কলগার্ল কারো কোন দিক দিয়ে মনে হলো না।ক্লাবে এসে দ্রুত রেড ওয়াইন অর্ডার করলো জন।সবাই ওয়াইনের গ্লাস হাতে তুলে বসলো সমালোচনার উদ্দেশ্যে।
সবার আগে ডিলান প্রশ্ন করে,

” এই মেয়েকে কলগার্ল মনে হচ্ছে না।”

জন হাসে।ওয়াইনের গ্লাসটা ঘুরিয়ে বলে,

” ক্লেভার গার্ল।নিজের খোলসটা বাইরে আনতে দিল না।দেখলে নিজেকে কীভাবে গুটিয়ে রাখলো।”

কডি সম্মতি জানিয়ে বলে,

” দেখলে মেয়েটা কেমন যেন নার্ভাস ছিল।তার চোখে মুখ অস্বস্থির ভাব ছিল।”

জন হাসে।পকেট থেকে ফোন বের করে একটি ছবি ধরে সবার সামনে।যেখানে দেখা যাচ্ছে রেড ইনার পরাহিত ফ্লুজি অন্য একটি যুবকের সহিত চুম্বনরত অবস্থায় মগ্ন।আরেকটি ছবিতে মেয়েটার বুকের খাঁজ অন্য পুরুষের বুকের সহিত মিশে আছে।এমন ছবি দেখে সবাই নজর সরালো।আরশাদের স্ত্রী তাদের কাছে সম্মানীয় ব্যক্তি অথচ সেই সম্মানীয় ব্যক্তির কুকীর্তি তারা মানতে পারছে না।সব প্রমাণ তো জনের কাছে আছেই।

এলোন বিস্ফোরিত নয়নে বলে,

” জন ভাই এসব ছবি কোথায় পেলে?”

“বলেছিলাম না সিনিয়রদের সাথে কক্সবাজার গিয়েছিলাম।এরাই সেই সিনিয়র।তোমাদের যদি আমাকে বিশ্বাস না হয় তাহলে আমি তাদের উপস্থিত করবো।”

” তারা হ্যাপি কাপল আমাদের কি উচিত তাদের সংসার ভাঙা?”

” আমি এতকিছু জানি না।বাট এই মেয়েকে আরেকটা রাতের জন্য চাই প্রয়োজনে ডাবল পেমেন্ট করবো।”

ডিলান রেগে গেল জনের দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে বলে,

” প্লিজ জন ভাইয়া এসব বলবেন না।আগে আমাদের এসবের মুখোমুখি হতে হবে।আরশাদের ওয়াইফকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার পরিণাম কতটা ভয়াবহ তা আর নিশ্চয়ই বলতে হবে না।আমি এসব ভাবতেই পারছি না এর সমাধান চাই।”

ডিলানের কথায় দু’একজন সম্মতি জানাল।জন ঠোঁক বাকিয়ে হেসে উঠে যায়।একটি মেয়ে তাকে এতক্ষণ ইশারায় ডাকছিল সেই মেয়েটার কাছে গিয়ে জন ঠোঁটে ঠোঁট মেশায়।মেয়েটির সাড়া পেয়ে জন আরো বেশি উত্তাল হয়।শুরু হয় দুজনের মগ্নতা।আশেপাশে কেউ আছে কি নেই এসবে পাত্তা দিল না জন।

চলবে….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ