Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমি আমার স্নিগ্ধ ফুলতুমি আমার স্নিগ্ধ ফুল পর্ব-৩৬

তুমি আমার স্নিগ্ধ ফুল পর্ব-৩৬

#তুমি_আমার_স্নিগ্ধ_ফুল
#নুসাইবা_ইসলাম_হুর
#পর্বঃ৩৬

বিকেলে ছোটরা সবাই ঘুরতে বের হবে সেই প্লান করা হলো। মূলত ঘুরতে যাওয়ার বায়নাটা প্রীতি এই ধরেছে। আবার যেহেতু সব কিছু ইয়ানার অপরিচিত তাই সবাই ভাবলো এখন বের হলে ইয়নার ও সব জায়গায় দেখা হবে ভালো লাগবে। তাই বড়রা শাফিনদের বললো ওদের নিয়ে ঘুরে আসতে।

বসার ঘরে এক সাথে পারফি, শাফিন আর রাফি বসে ছিলো তখন সবার এই কথা শুনে ওরা প্রীতি আর ইয়ানাকে রেডি হতে বললো। মেয়েদের এমনি ও রেডি হতে হতে কম করে হলেও এক ঘন্টা সময় ব্যয় করবে তাই আগে ভাগেই রেডি হতে বললো।

প্রীতি খুশি হয়ে ইয়ানাকে নিয়ে উপরে চলে গেলো। উপরে এসে ইয়ানা ব্যাগ থেকে থ্রিপিস বের করতে নিবে তা দেখে প্রীতি বলে উঠলো,

এই না না থ্রিপিস পড়ে আজ যাবো না।

ইয়ানার ভ্রু কুঁচকে বলল,

তাহলে কি পড়ে যাবি?

ইয়ানার কথায় প্রীতি উৎসুক চোখে ইয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো দোস্ত চলনা শাড়ি পড়ে যাই।

প্রীতির কথায় ইয়ানার চোখ কপালে উঠে গেলো। চোখ বড় বড় করে বলল,

কি বলছিস? মাথা ঠিক আছে তোর?

একদম মাথা ঠিক আছে। চলনা জানু শাড়ি পড়ে যাই। যেখানে আজ ঘুড়তে যাবে সেখানে একটা পুরোনো রাজবাড়ী আছে। শুনেছি বহু যুগ আগে ওখানে রাজারা রাজত্ব করতো। জায়গাটা জোস দোস্ত চারেদিকে সবুজে ঘেরা তার মাঝ খানে বিশাল রাজবাড়ি। এতো সুন্দর একটা জায়গায় শাড়ি না পড়ে গেলে হয় বল? শাড়ি পড়ে যাবো ঝাক্কানাক্কা পিকচার তুলবো উফফ ভাবতেও ভালো লাগছে।

প্রীতির মুখে এতো এতো বর্ণনা শুনে ইয়ানার ও ইচ্ছে জাগলো শাড়ি পড়ার। কিন্তু শাড়িতো আনে নি তাই প্রীতি দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে বললো দোস্ত শাড়ি তো আনা হয় নাই চল এর থেকে থ্রিপিস এই পড়ি।

ইয়ানার কথার শুনে প্রীতি এবার ভাবনায় পড়ে গেলো আসলেইতো শাড়ি আনা হয় নাই। পরক্ষণে কিছু একটা মনে পড়তে বললো সমস্যা নেই তোর মামি তো সব সময় শাড়ি পড়ে তাই তার কাছে অনেক শাড়ি আছে। তার থেকে দুটো নিয়ে আসছি তুই বস আমি এখনি নিয়ে আসছি এ বসে ছুটে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। সিঁড়ির
কাছে এসে উপর থেকে দেখতে পেলো নিচে সবার সাথে বসে রিমা বেগম গল্প করছে তাই আর কষ্ট করে নিচে না গিয়ে উপর থেকে ডাক দিলো মামি বলে।

কারো ডাকে সবাই এক সাথে উপরে তাকালো। উপরে তাকাতে চোখে পড়লো প্রীতিকে।
রিমা বেগম প্রীতির দিকে তাকিয়ে বললো আমায় ডাকছো?

প্রীতি সম্মতি দিয়ে বলল,

হ্যা তোমাকেই ডাকছি। একটু উপরে আসবে? দরকার ছিলো তোমাকে একটু।

রিমা বেগম মুচকি হেসে বসা থেকে উঠতে উঠতে বলল আসছি। তারপর উপরে যেতে প্রীতির থেকে জানতে পারলো শাড়ি পড়বে তাই শাড়ি লাগবে।

রিমা মুচকি হেসে প্রীতিকে নিয়ে নিজের রুমে যেয়ে আলমারি খুলে দিয়ে বললো তোমার যেটা যেটা লাগবে এখান থেকে নেও।

প্রীতি সব শাড়িতে একবার চোখ বুলিয়ে দুটো শাড়ি তুলে নিলো। দুটোই কালো কালার শাড়ি বেছে নিলো। ভাবলো আজ দুই বান্ধবী একি কালার শাড়ি পড়বে। শাড়ি বের করতে প্রীতি রিমা বেগমের উদ্দেশ্যে বললো মামি তুমিতো অনেক ভালো শাড়ি পড়তে পারো। হাতে সময় কম চলো না একটু ইয়ানাকে শাড়ি পড়িয়ে দিবে। আমি শাড়ি পড়তে পারি, ওই ইয়ানাটা আবার শাড়ি পড়তে পারে না।

রিমা বেগম সম্মতি দিয়ে প্রীতির সাথে যেতে লাগলো। প্রীতিকে তার বরাবর এই খুব ভালো লাগে। মেয়েটা অনেক চঞ্চল কিন্তু খুব সহজসরল। নিজের আগে অন্যের কথা চিন্তা করে। এই যে নিজের চেয়ে যেনো ইয়ানার জন্য ওর চিন্তা আরো বেশি। প্রীতির এই বাচ্চাসুলভ চঞ্চলতা খুবি ভালো লাগে।

প্রীতির সাথে এসে রিমা বেগম নিজ হাতে ইয়ানাকে শাড়ি পড়িয়ে দিলো। সাথে প্রীতিকেও হেল্প করলো পড়তে তারপরের কাজ গুলো ওরা নিজেরাই করে নিতে পারবে তাই তিনি নিচে চলে গেলো।

রিমা বেগম যেতে প্রীতি সাজতে বসে গেলো। বরাবর এই প্রীতির গর্জিয়াস সাজ পছন্দ তাই নিজে সেজে নিলো মন মতো।
আর ইয়ানাতো মোটেও সাজগোছ পছন্দ করে না। তাই বেশি সাজতে চাইলো না কিন্তু প্রীতি জোর করে ঠোঁটে গারো করে লিপস্টিপ দিয়ে দিলো। চোখে আইলেনার দিয়ে দিলো। ব্যস এতেই যেনো পরীর চেয়ে কোনো অংশে কম লাগছে না।
প্রীতি ইয়ানার থুতনি ধরে বলল,

মাশা আল্লাহ তোকে এই অল্প সাজেও ঝাক্কাস পরীর মতো লাগছে। নে এবার চুল বেঁধে নে।

প্রীতির কথায় ইয়ানা মুচকি হেসে চুল বাঁধায় মন দিলো। লম্বা চুল ছেড়ে রাখতে ঝামেলা তাই চুলগুলো একটা কাঁকড়া দিয়ে উপরে বেঁধে নিলো। ইয়ানার দেখা দেখি প্রীতিও ওর চুল বেঁধে নিলো কারণ দুজন আজ একি রকম সাজবে। দুজনের সাজ কমপ্লিট হতে প্রীতি ফোন বের করে ফটাফট ইয়ানার সাথে দুটো সেলফি তুলে নিলো। এতো কষ্ট করে সেজেছে এখন ছবি না তুললে হয় নাকি।

তখন দরজার নক দিলো কেউ। প্রীতি যেয়ে দরজা খুলে দিয়ে পারফিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পারফিকে ভিতরে আসতে বলে ও চলে গেলো নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে হাত ব্যাগ নিতে।

পাফি রুমে ডুকতে এক ঝটকা খেলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রমনীকে দেখে। রুমে এসে যে এমন একটা ঝটকা খাবে কল্পনা ও করে নি। মনে পরে গেলো সেই প্রথম দিনের কথা যেদিন প্রথম ইয়ানাকে দেখেছিলো। সেদিন ও ঠিক এভাবেই থমকে গিয়েছিলো স্নিগ্ধ ফুলকে দেখে। আজো ঠিল একি ভাবে থমকে গেলো পারফি। বুকের বা পাশে হাত রেখে বড় করে নিঃশ্বাস নিলো। আস্তে করে বলে ফেললো মাশা আল্লাহ।

এদিকে পারফিকে হঠাৎ রুমে আসতে দেখে ইয়ানার বুকের ভিতর ধড়াস করে উঠলো। তারপর এভাবে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে হার্টবিট বেড়ে গেলো। তখন শুনতে পেলো পারফির আস্তে করে বলা মাশা আল্লাহ শব্দটা। শব্দটা কানে যেতে মনের ভিতর বয়ে গেলো এক ভালোলাগার শিহরন।

পারফি নিজেকে সামলে ইয়ানার দিকে তাকিয়ে বলল, শার্ট-প্যান্ট বের করো রেডি হবো।

ইয়ানা বাধ্য মেয়ের মতো ব্যাগ থেকে পারফির জন্য শার্ট প্যান্ট বের করতে নিবে তখন ভাবতে লাগলো কোনটা নিবে।

এদিকে ইয়ানা পিছু ঘুরে ব্যাগের কাছে যাচ্ছিলো তখন পারফির চোখে পড়লো ইয়ানার উন্মুক্ত ঘাড়ে গারো কালো তিলটার দিকে। তিলটা দেখে শুকনো ঢোক গিললো পারফি।

ইয়ানা অনেক ভেবে চিন্তে নিজের শাড়ির সাথে মিলিয়ে কালো কালার শার্ট বের করলো। তারপর শার্ট-প্যান্ট নিয়ে এগিয়ে গেলো পারফির কাছে। পারফির কাছে এসে মুচকি হাসি উপহার দিয়ে শার্ট প্যান্ট বাড়িয়ে দিলো।

পারফি শার্ট-প্যান্ট হাতে নিয়ে ইয়ানার দিকে গভীর দৃষ্টিতে একবার তাকিয়ে বলল,চুল গুলো ছেড়ে দেও।

পারফির বলা কথায় ইয়ানা আমতা আমতা করে বলল,

বড় চুল সামলাতে কষ্ট হয় তাই বেঁধে রেখেছি। কেনো কোনো সমস্যা এভাবে থাকলে?

পারফি কপালে কাছে এক হাত দিয়ে চুলকিয়ে শুঁকনো ঢোক গিলে বললো চুল সামলানোর জন্য আমি আছি এ বলে আস্তে করে ইয়ানার মাথা থেকে কাঁকড়াটা খুলে ফেললো। সাথে সাথে ইয়ার সিল্কি চুল গুলো সারা পিঠ জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো। এতে যেনো ইয়ানা সৌন্দর্য আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেলো।

পারফি মুগ্ধ চোখে কিছুক্ষণ ইয়ানাকে দেখলো তারপর সামনে আসা চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিয়ে বললো এখন সুন্দর লাগছে।

পারফির কথায় ইয়ানা মাথা নিচু করে মুচকি হাসলো।

ইয়ানার হাসি দেখে পারফি ও হাসলো তারপর ইয়ানাকে ছেড়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ করার জন্য।

পারফি যেতে ইয়ানা রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। তারপর প্রীতিকে নিয়ে আস্তে ধীরে নিচে নামলো।

নিচে আসতে সবাই মিলে এক সাথে বলে উঠলো মাশাআল্লাহ। সবাই অনেক প্রশংসা করলো দু’জনের। ওরা দুজন যেয়ে সোফায় বসলো। অপেক্ষা করতে লাগলো পারফিদের আসার।

শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে নিচে নামছিলো শাফিন তখন সামনের সোফায় বসে থাকা প্রীতির দিকে চোখ পড়তে হাঁটার গতি কমে গেলো। থমকানো চোখে তাকালো প্রীতির হাস্যজ্জ্বল মুখের দিকে। এতো সময় প্রীতির উপর ভয়ংকর রকম রেগে থাকাটা বেমালুম ভুলেই গেলো। এতক্ষণের রাগটা পরিণত হলো মুগ্ধতায়। মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ ওই চঞ্চল মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিলো। তারপর ধীর পায়ে নিচে নেমে এসে প্রীতি আর ইয়ানার উদ্দেশ্যে বললো চল।

প্রীতি আর ইয়ানা উঠে দাঁড়ালো শাফিনের সাথে যেতে নিলে সেখানে উপস্থিত হলো রাফি। রাফি এসে প্রীতি আর ইয়ানার দিকে একবার তাকিয়ে বললো বাহ্ দুজনকে একি লুকে ফাটাফাটি লাগছে।

রাফি কথাটা মজার ছলে বললেও শাফিনের রাগ লাগলো খুব। কেনো যেনো রাফিকে দেখলেই তরতর করে রাগ বারতে থাকে শাফিনের।
আপাতত কোনো রাগ দেখাতে চায় না তাই চুপচাপ সামনের দিকে পা বাড়ালো।
শাফিনের পিছু পিছু প্রীতি, ইয়ানা, রাফি ও গেলো। বাসার বাহিরে এসে দাঁড়াতে রাফি বাইক নিয়ে এসে প্রীতি আর ইয়ানার সামনে দাঁড়িয়ে ওদের উদ্দেশ্যে বললো ইয়ানাতো পারফি ব্রোর সাথে যাবে। প্রীটি উঠে পর বাইকে।

প্রীতি রাগি লুকে তাকালো রাফির দিকে ওকে আবার ও প্রীটি ডাকার জন্য। রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগে শাফিন এসে প্রীতির হাত ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে যেতে যেতে রাফিকে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

ও বাইকে উঠতে ভয় পায় তাই গাড়িতে যাবে এ বলে প্রীতিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গাড়ির দরজা খুলে সামনে বসিয়ে দিলো। তারপর ইয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো তুই পিছে বোস পারফি আসছে এ বলে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো।

ভাইয়ের কাজে মুখ টিপে হাসলো ইয়ানা। আসার পর থেকে খেয়াল করছে ওর ভাইটা রাফিকে নিয়ে প্রচুর জেলাস ফিল করছে। মুখে কিছু না বললেও ওর ভাই যে প্রীতির প্রতি ভয়ংকর ভাবে আসক্ত তা খুব ভালো করে বুঝতে পারছে ইয়ানা। মনে মনে ঠিক করলো নানু বাসা থেকে যেয়ে সবার সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবে। যেহেতু দুজন দুজনকে ভালোবাসে সেহেতু এখানে কিছু একটা তো এবার করা যায় এই। এতো দিন প্রীতির এক পাক্ষিক ভালোবাসা দেখে এসেছে আর আজ সিওর হয়ে গিয়েছে ওর ভাইটাও কতটা আসক্ত ওর জানের বেস্টুর উপরে।

এদিকে শাফিন গাড়িতে উঠতে প্রীতি অবাক হয়ে বলল,

আমি আবার কবে থেকে বাইকে উঠতে ভয় পাই?

প্রীতির কথায় শাফিন দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

খুব শখ না ওর সাথে বাইকে যাওয়ার?

শাফিনের দাঁতে দাঁত চেপে কথা বলতে দেখে শুঁকনো ঢোক গিললো প্রীতি। তবুও হার মানলো না শাফিনকে আরেকটু জ্বালানোর জন্য বলল, আমি বাইকে যাবো।

এমনিতে শাফিনের মেজাজ চোটে ছিলো এবার প্রীতির কথায় মেজাজ আরো চোটে গেলো। এবার আর নিজেকে সামলাতে না পেরে দিক বেদিক ভুলে প্রীতির হাত ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে এনে দাঁত কটমট করে বলল,

শাড়ি পড়েছিস কার জন্য? ওকে দেখানোর জন্য? আবার ওর সাথে বাইকে যাওয়ার জন্য লাফাচ্ছিস। তোকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি প্রীতি আর একবার যদি ওর সাথে তোকে দেখি তাহলে আমি ভুলে যাবো ও আমার মামাতো ভাই।

শাফিনের কাজে প্রীতি ভড়কে গেলেও নিজেকে সামলে নিলো। বুঝতে চাইলো শাফিনের চোখের ভাষা। ওই চোখের ভাষা বুঝে উঠতে ঠোটের কোনে সুপ্ত হাসির রেখা ফুটে উঠলো। তবুও নিজের কানে সত্যি কথাটা শুনতে চায় তাই প্রীতি আস্তে করে বলে উঠলো,

রাফি ভাইয়ার জন্য শাড়ি পড়ি বা তার বাইকে উঠে ঘুরতে যাই তাতে তোমার কি? বাই এনি চান্স তুমি আমাদের নিয়ে জেলাস নাকি?

প্রীতির কথায় শাফিন রেগে গিয়ে বলল,

জেলাস? হ্যা আমি জেলাস। অন্যের জন্য তুই কেনো শাড়ি পড়বি? তুই শাড়ি পড়বি আমার জন্য। একান্ত আমার জন্য বুঝতে পেরেছিস এ বলে এক ঝটকায় প্রীতিকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসে রাগে ফুঁসতে লাগলো।

এদিকে প্রীতির মনে ছেয়ে গেলো এক খুশি ঢেউ। অবশেষে, হ্যা অবশেষে এতো এতো অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত মানুষটার মুখে কাঙ্ক্ষিত কথাটা শুনতে পেলো। পুরো কথাটা না বললেও বুঝে নিলো এই অধিকারবোধের মানে। বুঝে নিলো মানুষটা কখনো প্রকাশ না করলেও ভয়ংকর ভাবে ওতে আসক্ত। কথাগুলো ভাবতেই এক ভালোলাগার শিহরণ বয়ে গেলো মন প্রাণ জুড়ে। আবেশে চোখ বন্ধ করে নিয়ে ফের চোখ খুলে তাকালো শাফিনের রাগে লাল হয়ে যাওয়া রক্তিম মুখশ্রীর দিকে। ওই মুখের দিকে তাকাতে ঠোঁট কামড়ে হাসলো প্রীতি।

শাফিনের হঠাৎ খেয়াল হলো ওর দিকে তাকিয়ে প্রীতি ঠোঁট কামড়ে হাসছে তা দেখে শাফিনের হুঁশ আসলো বুঝে গেলো এতক্ষণ প্রীতি ইচ্ছে করে ওকে রাগিয়েছে। এবার রাগি লুকে প্রীতির দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তখন দেখলো পারফি আসছে তাই কথাগুলো গিলে ফেললো আর কিছু না বলে।

পারফি ইয়ানার কাছে এসে ইয়ানাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,

কি হয়েছে ম্যাডাম গাড়িতে না উঠে এখানে দাঁড়িয়ে কি ভাবা হচ্ছে?

পারফির কথা শুনে ইয়ানার ভাবনা থেকে বের হলো তারপর বেখেয়ালি ভাবে বলল,

হ…হ্যা? হুম চলো এ বলে সামনে এগোতে নিবে অমনি পা জোড়া থেমে গেলো কি বলেছে ভেবে। বেখেয়ালি ভাবে তুমি করে বলে ফেলেছে খেয়ালে আসতে একরাশ লজ্জা এসে হানা দিলো মন জুড়ে। আরো চোখে পারফির দিকে তাকাতে দেখলো ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে তা দেখে ইয়ানার লজ্জা যেনো আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। তারাতাড়ি পা ফেলে গাড়িতে যেয়ে উঠে বসলো আর কোনো দিকে না তাকিয়ে।

পারফি মিটিমিটি হেসে ইয়ানার পাশে উঠে বসলো। পারফি উঠতে শাফিন গাড়ি স্টার্ট দিলো। কিছুক্ষণ পর পারফি খেয়াল করলো আজ প্রীতি আর শাফিন ঝগড়া না করে দুজন এতো শান্ত হয়ে বসে আছে কি করে বিষয়টা যেনো ঠিক হজম হচ্ছে না পারফির তাই ইয়ানার দিকে কিছুটা ঝুকে ফিসফিস করে বললো সামনের দুটোর কি হয়েছে? আজ এতো চুপচাপ যে?

পারফির কথায় ইয়ানা একবার সামনে তাকালো দেখলো আসলেই প্রীতি আর শাফিন একদম চুপ। বিষয়টা আসলেই কারো চোখে পড়ার মতো কারণ এই দুজন এক জায়গায় হলে ভুলেও কোনোদিন চুপ থাকে না ঝগড়া লাগিয়েই থাকে। ইয়ানা একবার ভাবলো ওদের বিষয়টা নিয়ে পারফির সাথে আগে কথা বলবে ঢাকা ফিরে। তারপর পারফির প্রশ্নসূচক দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছোট করে বলল, হয়তো ঝগড়া করেছে দুজন তাই কারো সাথে কেউ কথা বলে না।

ইয়ানার কথাটা শুনে পারফি আর কথা বাড়ালো না কারণ ওদের কাজ এই এমন ঝগড়া করে কেউ কারে সাথে কথা বন্ধ বলবে না । ঝগড়া করতেও সময় লাগে না আবার মিশতেও সময় লাগে না।

#চলবে?

ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
হ্যাপি রিডিং….🥰

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ