Friday, June 5, 2026







হৃদয় জুড়ে শুধু আপনি ২ পর্ব-১৯+২০

#হৃদয়_জুড়ে_শুধু_আপনি[২]
#পর্ব_১৯
#জান্নাত_সুলতানা

-” কি শুরু করেছিস তুই?
আজ সারা দিন রুমে কেন আসিস নি?”

-“ছাড়ুন তো।
বিরক্ত করবেন।”

মিশান চোখ বড় বড় করে সায়রার দিকে তাকালো।
কি বলছে এই মেয়ে মিশান নিজে ওকে বিরক্ত করছে নাকি ও নিজেই ছোট বেলা থেকে মিশান কে বিরক্ত করছে?

-“থাপ্পড়ে তোর সব বিরক্তি আমি ছুটিয়ে দেবো, ইডিয়েট।”

-“ভয় দেখাচ্ছেন?”

কথা শেষ করার আগেই মিশান ওর কোমর টেনে নিজের কাছে আনে।
গালে হাত দিয়ে আঁকিবুঁকি করতে করতে বলে

-“ভয় তোকে?
না আমি তো শুধু আদর করবো।”

-“এই দূরে সরেন।
একদম এখন নেকামি করতে আসবেন না।”

সায়রা মিশানের থেকে নিজে কে ছাড়িয়ে নিলো।
আলমারির দিকে এগিয়ে গেলো।
সেটা খোলে কিছু খুঁজতে খুঁজতে বিরবির করে

-“এখন ঢং করতে এসছে, হু।
যখন একটা জিনিস চাইলাম আর অমনি না করে দিলো।
হনুমান, টিকটিকি।”

-“সব তোর বর।”

সায়রা মিশানের কথা শুনে পেছন ফিরে ধাক্কা খেলো মিশান এর শক্ত চওড়া শরীর টার সঙ্গে।
তৎক্ষনাৎ নাকে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো।
ব্যথা পেয়েছে।
তবে মিশানের বুকে আরেক হাত দিয়ে ধাক্কা দিতে দিতে বলল

-“আপনি এখানে কি করছেন?
যখন তখন যেখানে সেখানে চলে আসেন।”

-“হু, ধাক্কাই এই অবস্থা।
নিজেই এখনো বাচ্চা।
আবার বাচ্চা নেওয়ার জন্য উতলা হয়ে আছে।”

মিশান কিছু টা তাচ্ছিল্যের সুরে কথা টা বলে।
সায়রা একটু খারাপ লাগে। কিন্তু তা প্রকাশ করে না।
নিজেও তেজ নিয়ে বলে উঠে

-“দেখুন,,

-“এখন দেখার সময় নেই, সুইটহার্ট।
একটু বের হচ্ছি।
ফিরতে রাত হবে। রাতে এসে সব দেখবো।
ঠিক আছে?”

কথা শেষ মিশান নিজের প্রয়োজনীয় সব নিয়ে ওয়াশ রুম চলে গেলো।
সায়রা মুখ ভেংচি কেটে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে গেলো।
রুহির কাছে যাবে আর রাতেও আজ সেখানে থাকবে বলে মনে মনে ঠিক করে নিলো।
কিন্তু করিডর সবটা শেষ করে রুহির রুমে যাওয়ার আগেই মিশান এসে ওকে ঝট করে পেছন থেকে কোলে তুলে নিল।
সায়রা হকচকিয়ে উঠলো। ভয় চোখ বন্ধ করে মিশানের গলা জড়িয়ে ধরে।

-“এই আপনি না ফ্রেশ হতে গিয়েছিলেন?
ফ্রেশ না হয়ে আবার আমাকে কেন কোলে নিয়েছেন?”

-“উফ,আমি তো বলতেই ভুলে গিয়েছি আমি একা না।
তুইও যাচ্ছিস আমার সাথে। ”

-“আম,,,

-“চুপ আর একটাও কথা না।
বোরকা পড়ে রেডি হয়ে নে।”

সায়রা কে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজেও আবার ফ্রেশ হতে যায়।
সায়রা বিছানায় সে ভাবে বসে থাকে।
মিশান মিনিট পাঁচের মাথায় বেরিয়ে আসে।
কিন্তু সায়রা কে এখনো আগের যায়গায় বসে থাকতে দেখে চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।

ঝড়ের বেগে এগিয়ে গিয়ে এক টানে বসা থেকে টেনে তুলে।

-“কি সমস্যা তোর?
এমন কেন করছি?”

দাঁতে দাঁত চেপে বাহু ঝাঁকিয়ে প্রশ্ন করে।
সায়রা ব্যথা পায়।
নিজের হাত দিয়ে মিশানের হাত সরানোর চেষ্টা করে।
চোখ চিকচিক করে।
মিশানের মন বউয়ের চোখে পানি দেখে গলে।
আস্তে করে হাতের বাঁধন হালকা করে।
চোখ বন্ধ করে নিজের মাথার চুল খামচে ধরে।
রাগ কমানোর চেষ্টা করে।
অতঃপর নিজের দু হাতের আঁজলে বউয়ের মুখ নিয়ে নেয়।

-“আজ ডক্টর এর কাছে যাব।
ওনি বলেছে একটা টেস্ট করবে।
যদি দেখে সমস্যা পজিটিভ হয়েছে তবে আমরা বেবি নিতে পারবো।
তুই,,,

-“আর যদি নেগেটিভ আসে?”

মিশানের সব টা কথা না শুনেই প্রশ্ন করে বসে সায়রা।
মিশান হাসে আলতো করে হেসে জবাব দেয়

-“তোর ইচ্ছে আমি পূরণ করে দেবো।”

সায়রা বিস্ময় নিয়ে তাকায় মিশানের দিকে পরক্ষণে মুচকি হেসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে স্বামী কে।
মিশান নিজেও হাত রাখে বউয়ের পিঠে।
আর মনে মনে ভাবে”আল্লাহ যেনো তোর ইচ্ছে পূরণ করে জান। আমিও চাই একটা বেবি যে তোকে মা আর আমাকে বাবা ডাকবে আদো আদো কণ্ঠে। পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখবে। কিন্তু তোর কিছু হয় গেলে আমি কি করে বাঁচব। তুই থাকলে আমার আর কিছু চাই না”।

-“যা রেডি হ।”

সায়রা মিশান কে ছেড়ে দেয়।তার পর আলমারি থেকে বোরকা বের করে পড়ে নেয়।
তার পর রেডি হয়ে নিচে চলে আসে।
প্রিয়তা মির্জা মাইশা চৌধুরী দুবোন মিলে রান্না ঘরে নাস্তা বানাচ্ছে।
রুহি, আরভী, সোহান,প্রহর লিভিং রুমে বসে টিভিতে কাটুন দেখছে। আর রাহান আহামেদ ডাইনিং এ বসে কফি খাচ্ছে। সারা আহামেদ নাস্তার জন্য সব ব্যবস্থা করছে।
সায়রা আর মিশান এগিয়ে গিয়ে সারা আহামেদর কাছে বলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পরলো।

————

সায়রা মিশান বসে অপেক্ষা করছে ডক্টর এর জন্য।
ডক্টর ওটিতে আছে।
অপারেশন শেষ করে এসে রোগী দেখবে।
অনেক রোগি এখানে কম বেশ সব মহিলাদের পেট উঁচু।
দেখে বোঝা যাচ্ছে ওনাদের দেহ আর একটা প্রাণ বেরে উঠছে।
সায়রা সবাই কে দেখছে।
মুগ্ধতা নিয়ে। আর ভাবছে ওরও তাদের মতো এক দিন পেট টা এমন উঁচু হবে।
সায়রা মাথা ঘুরিয়ে মিশানের দিকে চাইলো যে নিজের মনে ফোন ঘাঁটতে ব্যস্ত।
সায়রা মিশানের দিকে তাকিয়ে মুখ টা শুকিয়ে যায়।
এই লোক চাইলে এতো দিনে তার ইচ্ছে গুলো পূরণ হয়ে যেতো।
সব দোষ এই মিশান নামক হনুমানের।

এর মাঝে ডক্টর এর এসিস্ট্যান্ট জানলো ডক্টর এসছে।
দুই এক জন কেবিনেও গেলো।
প্রায় আধঘন্টার পর সায়রার সিরিয়াল এলো।
মিশান ওকে নিয়ে ডক্টর চেম্বারে ভিতর এলো।
ওরা এসেই আগে টেস্ট করে নিয়েছে।
তাই রিপোর্ট দেখালো।
ডক্টর রিপোর্ট দেখে জানালো সমস্যা টা ঠিক হচ্ছে।
তবে এখন বেবি নিতে পারবে।
কিন্তু রোগীর যত্ন নিতে হবে।
সব সময় চোখে চোখে রাখতে হবে।
মিশান ডক্টর এর সঙ্গে কথা বলে সায়রা কে নিয়ে হসপিটাল থেকে সোজা একটা রেস্টুরেন্টে চলে এলো।
এর মধ্যে একবারও মিশান কথা বলে নি সায়রার সঙ্গে। তবে সায়রা সে সব পাত্তা দিচ্ছে না সে নিজের মতো করে বকবক করেই যাচ্ছে।
বেচারি ভীষণ খুশি কি না।
তার পর ওরা রাতের ডিনার করে এর পর বাড়ি ফিরে এলো।
রাত তখন নয় টা। সবাই ডাইনিং টেবিল খাবার খাচ্ছে।
সবার সাথে হালকা কথা বলে মিশান রুমে চলে যায়।
আর সায়রা তখনি বোরকা খোলে সোফায় রেখে গিয়ে মা, মনি দের সাথে কাজ করতে করতে ডক্টর এর বলা সব কথা ফাশ করে দিতে লাগলো।
সবার খাবার খেয়ে লিভিং রুমে বসে আবারও একদফা আড্ডা দিলো।
রাত সাড়ে দশ টার দিকে সায়রা ঘরে এলো মিশানের জন্য কফি নিয়ে।
এটা মিশানের অভ্যাস রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে এক মগ কফি খাবেই খাবে।
যদি মা, বউ, মনি ব্যস্ত থাকে তবে নিজে বানিয়ে নেয়।

এসেই মিশান কে রুমে পায় না সায়রা হাতে থাকা কাপড় গুলো সোফায় রেখে হাতে থাকা গরম ধুঁয়া উঠা কফির মগ টা নিয়ে বেলকনির দিকে এগিয়ে গেলো।
বেলকনির লাইট অফ।
শুধু চার দিকের চাঁদের আলো এসে পড়ছে।
যার মধ্যে মিশানের হাতে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা সিগারেট টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে

-“আগে তো কখনো দেখি নি?”

সায়রা মগ টা রেলিং এর উপর রেখে কণ্ঠে অভিমান নিয়ে বলে কথা টা।

-“আগে কখনো তোকে হারানোর ভয় ছিল না।
তাই দেখিস নি।”

শান্ত কণ্ঠে সহজ উত্তর।
কিন্তু সায়রার কাছে এটা বেশ কঠিন আর বিরক্তিকর উত্তর মনে হলো।

-“কি হয়েছে আপনার?
এমন উদাস কেন?
আমি এখন সুস্থ আপনার তো খুশি হবার কথা। ”

মিশান সিগারেট ততক্ষণে ফেলে দিয়েছে।
ঝট করে ঘুরে আচমকাই জড়িয়ে ধরে সায়রা কে। সায়রা আকস্মিক ঘটনায় একটু চমকে উঠলো।
কিন্তু ঘটনা বুঝতে পেরে নিজেও জড়িয়ে নিলো মিশান কে।
কিন্তু মিনিট দুই এক পেরোতেই কাঁধে ভেজা অনুভব করলো।

-“তোকে আমি হারাতে পারবো না কলিজা।
আমরা না হয় বাচ্চা না নেই।
প্লিজ। ”

ধরে আসা গলায় মিশান কথা গুলো বলে সায়রা কে ছেড়ে দিয়ে নিজের বাহুর সাহায্য চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া জল মুছে নিলো।
অতঃপর আলতো করে সায়রার কপালে নিজের সিগারেটে পোড়া গোলাপি ঠোঁট জোড়া ছুঁয়ে দিল।
সায়রা এতোক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিল।
একটা পুরুষ কতাটা ভালেবাসলে তার শখের নারীর জন্য চোখ দিয়ে পানি আসতে পারে সায়রা জানে না।
কিন্তু ওর আজ মনে হচ্ছে ও সত্যি ভাগ্যবতী।
সায়রা চোখ বন্ধ করতে বাম চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে।

মিশান নিজের অধর জোড়া দিয়ে বেশ অনেক টা সময় নিয়ে গাঢ় একটা ভালোবাসার পরশ দিলো বউয়ের কপালে।

-“আপনার ভালোবাসার জোরে আমাকে আল্লাহ ছাড়া কেউ কেরে নিতে পারবে না মিশান।
আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন আমার কিছু হবে না।”

-“তবুও আমার ভয়,,,

-“প্লিজ।”

মিশান কে সব টা কথা শেষ করতে না দিয়ে সায়রা অনুরোধের সুরে বলে উঠে।

মিশান আর কিছু বলে না রেলিং এর উপর থেকে কফির মগ নিয়ে সায়রার হাতে দেয়।
সায়রা এক চুমুক দিয়ে তা আবারও মিশানের হাতে মগ ফিরে দেয়।
মিশান দুটা চুমুক দিয়ে মগ টা ওখানে থাকা পাশের সেন্টার টেবিলে রেখে।
সায়রা কে কোলে নিয়ে রুমে চলে আসে।

#চলবে…..

#হৃদয়_জুড়ে_শুধু_আপনি[২]
#পর্ব_২০
#জান্নাত_সুলতানা

-“তোর কিছু হলে আমি নিজেও শেষ হয়ে যাব, কলিজা।”

সায়রা কে বিছানায় শুয়ে দিয়ে মিশান সায়রার গালে হাত রেখে করুন কণ্ঠে কথা টা বলে উঠে।

-“ভরসা রাখুন কিছু হবে না আমার, মিশান।”

সায়রা ভরসা দেয় স্বামী কে নিজেও বাম হাত মিশানের খুঁচা খুঁচা দাঁড়ি ভরতি গালে হাত বুলিয়ে
কথা টা শেষ করে সায়রা মিশানের অধরে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে সরে আসতে নিলেই মিশান সায়রার মাথার পেছনে হাত দিয়ে নিজের অধর দ্বারা সায়রার অধর চেপে ধরে ভালোবাসার পরশ দিতে থাকে সায়রাও চোখ বন্ধ করে তা গ্রহণ করে।
কিন্তু হাত তার মিশানের সার্ট এর বোতামে।
আস্তে আস্তে সব কটা বোতাম খোলা নেয়।
মিশান সায়রা কে ছেড়ে দিয়ে গায়ে থাকা সার্ট টা খোলে ছুঁড়ে ফেলে মেঝেতে।
সায়রা পরিহিত মেয়েলী পাতলা টি-শার্ট টা সরিয়ে চুমু আঁকে পেটে, গলা।
আর নিজের মতো করে ভালোবাসতে থাকে বউ কে।
সায়রাও সুখের জল গড়িয়ে পড়ে চক্ষু হতে। সায়রা কিছু সমস্যা থাকায় যতবারই স্বামী স্ত্রীর মতো করে ভালোবাসা আদান-প্রদান করে ঠিক ততবারই মেয়ে টা ব্যথায় নুয়ে পরে।মিশান যে সেটা বুজে না তেমন নয়।কিন্তু সায়রা মিশান কে দূরে যেতে দেয় না। নিজের কষ্টে তা কখনো মিশানের সুখে বাঁধা হয় না।কিন্তু এবার কষ্টের চেয়ে আনন্দ বেশি হচ্ছে কেন না সে হয়তো
এবার সে তার ইচ্ছে পূরণ, মা হওয়ার আনন্দ সুখের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেলো।

————–

-“আমি বলি কি সারা তোরা বরং এখানে থেকে যা।
তাছাড়া সামনে মাসেও তো ইনিয়া টার বিয়ে।
সাদনান ভাই আপনি কি বলেন?”

-“আমি কি বলবো।
বাবা মা চলে যাওয়ার পর থেকে তো সব সময়ই বলে এসছি যেনো এখানেই সেটেল্ড হয়।
কিন্তু ওনি তো ওনার জন্মস্থান ছেড়ে আসবে না।
যেনো ঢাকা থেকে কুমিল্লা টা বেশি দূর।
চাইলে যখন তখন যাওয়া যাবে।
আমি আর এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।”

সাদনান মির্জা কথা গুলো বলেই গটগট পায়ে লিভিং রুম থেকে প্রস্থান নিলেন।
সবাই মুখ টিপে হাসে।
শুধু সারা অসহায় চোখে তাকিয়ে স্বামী রাহান আহামেদ এর দিকে।
কিন্তু ব্যবহার টা হলো তিনিও হাসছে।

-“আমি এবার ঢাকা থেকে আর কোথাও যাচ্ছি না।”

সায়রা আহামেদও কথা শেষ হনহনিয়ে লিভিং রুম ছেড়ে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে চলে গেলো।
ওনার পেছনে রাহান আহামেদও চলে গেলো।
যা দেখে আয়ান হো হা করে হেসে দিলো।
আর বাকিরা ঠোঁট টিপে হাসে।

-“এই রাহান টা এখনো আগের মতোই রয়ে গিয়েছে।”

কথা গুলো বলে তিনি মাইশা চৌধুরী কে ইশারা করে নিজেও লিভিং রুম ছাড়ে।
প্রিয়তা মির্জাও চলে নিজের রুমে জামাই তার নিশ্চয়ই খেপেছ। এতোক্ষণ রুমে একা একা তিনি কিছুতেই থাকতে চায় না।
বুড়ো হয়েছে কিন্তু বউ তার সব সময় আশেপাশে চাই।
আর এই বুড়ো বুড়ির কাণ্ডে দেখে লিভিং রুমে বসে থাকা সব কয় টার ছেলে মেয়ে হেসে কুটিকুটি হতে লাগলো।
————-

সাদনান মির্জা বোনের সাথে কিছু টা রাগ সাথে অভিমান বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ওনাকে ঢাকাতে থাকতে বলা হয়েছে।
ওনি বলেছিল বাপের বাড়ি থাকলে লোকে খারাপ বলবে আর নিজের দাম থাকে না।
সবাই কথা টায় মনে মনে কষ্ট পেয়েছে কারণ প্রিয়তা মির্জা বা মাইশা চৌধুরী কেউ এমন না তবে মুখে তা কেউ প্রকাশ করে নি। তবে সারা আহামেদও কথা টা তেমন কাউ কে উদ্দেশ্য করে বলে নি। কিন্তু তিনি হয়তো এটাই জানে না তার এই ভিত্তিহীন কথা টাতে তার অজান্তেই কেউ কেউ ভীষণ ভাবে কষ্ট পেয়েছে।
আজ্জম মির্জা গত হওয়ার পর ওনার স্ত্রী সালেহা বেগমও বেশি দিন বাঁচে নি। স্বামীর শোকে শোকে তিনি বছর ঘুরেতে স্বামীর কাছে চলে যায়। তখন সাদনান মির্জা মা-বাবা দু’জন কে হারিয়ে সাদনান মির্জা বলেছিল বোন সারা আহামেদ যেনো আলাদা ফ্ল্যাট এ থাকে তবুও যাতে সবার কাছাকাছি থাকে কিন্তু তিনি তাতেও রাজি হয় নি।
ছেড়ে আসে নি শশুরের আগের পুরোনো ভিটা।
এটা নিয়ে সারা আহামেদের উপর কিছু টা রাগ থেকেই আর আগের মতো বোনের সাথে তেমন আর ওতো টা গদগদ ভাব নেই।
কথাও কম বলে খুব প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না।
তবে সারা আহামেদ এর এতে কিছু আসে যায় না সে এক মাস পনেরো দিন পর পর সপরিবারে ঢাকা চলে আসে।
এতে সবাই খুশি হয় কিন্তু এক্কেবারে না থেকে যাওয়ার জন্য সবাই খুশি টা প্রকাশ করে না।

——–

আজ থেকে রুহির টেস্ট পরীক্ষা শুরু। সকালে রুহি কলেজের জন্য এক্কেবারে রেডি হয়ে এসছে।
সবাই নাস্তা করছে।
এখন আর আগের মতো আরভী, সায়রা আগে আগে নাস্তা করতে বসে যায় না। মা দের সাথে এটা সে টা এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করে।যা দেখে রুহির ইচ্ছে হয় সেও এমন কাজ করবে পড়া লেখা করবে না।
এসব পড়া লেখা ভালো লাগে না তার।
কিন্তু এই ইচ্ছের কথা প্রহর এর কাছে জানানোর পর সে এক কথায় বলে দিয়েছে “কম পক্ষে অনার্স শেষ করা লাগবে না হলে সে এই মেয়ে কে বিয়ে করবে না।সে একজন ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট স্কুল থেকে শুরু করে সে সব সময় টপ করেছে। আর সেখানে তার বউ কি না সামান্য ইন্টার পাস।এটা সে কিছুতেই হতে দিবে না। যত যাই হোক সে এই মেয়ে কে পড়া লেখা করাবেই।”
ব্যস রুহি সেই থেকে মন দিয়ে পড়া লেখা করছে।
প্রহর এর ভার্সিটিতে তাকে চান্স পেতেই হবে।
এসব ভাবতে রুহি খাবার শেষ আয়ান চৌধুরী সাথে কলেজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ে।
সবাই যার যার কাজে চলে গেলো।
মিশান আজ এখনো ঘুম থেকে উঠে নি কাল অফিস থেকে দেড়ি করে ফিরেছে।
কিছু মিটিং থাকার সুবাদে।
তাই এখনো ঘুমে সে।
সারা আহামেদ একটা থালায় নাস্তা নিয়ে সে টা সায়রার হাতে ধরিয়ে দিয়ে মিশানের রুমে পাঠিয়ে দেয়।
সে বসেছিল মাত্র প্রহর,সোহান,আরভীর সাথে আড্ডা দিবে বলে কিন্তু তা আর হলো না।
মনির থেকে নাস্তা নিয়ে নিজেদের রুমে চলে আসে।
এসে দেখলো মিশান মহাশয় এখনে কম্বল মুড়ি দিয়ে খালি গায়ে উবুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে।
কম্বল অর্ধেক নিচে পরে আছে।
সায়রা ফোঁস করে শ্বাস ফেলে এগিয়ে গিয়ে খাবার থালা সেন্টার টেবিলে রেখে মেঝেতে পড়ে থাকা কম্বল এর অংশ উঠিয়ে বিছানায় রাখে।
অতঃপর নিজের ঠান্ডা হাত টা মিশানের পিঠে রেখে হালকা করে ডাকে

-“উঠুন।
খাবার খেয়ে আবার ঘুমাবেন না হয়।”

মিশান নড়েচড়ে সায়রা হাত নিজের পিঠের উপর থেকে নিজের বুকের মধ্যে চেপে ধরে আবারও ঘুমিয়ে পড়ে।
সায়রাও চুপ করে স্বামীর মুখে পানে চেয়ে থাকে।
আর ভাবে “কে বলেছে ঘুমিয়ে থাকলে শুধু মেয়েদের সুন্দর লাগে।শুধু মেয়েদের না ছেলেদেরও লাগে। এই যে তার স্বামী কে এখন আস্ত একটা মায়ার খনি মনে হচ্ছে।”
এসব ভাবতে ভাবতে সায়রা মিশানের চুলের ফাঁকে হাত ঠুকিয়ে ঘুমন্ত মিশানের এলোমেলো চুল গুলো আরও একটু এলোমেলো করে দেয়।
মিশান ঘুমের মাঝে ভ্রু কুঁচকে নেয়। এটা তার মোটেও পছন্দ নয়।
সায়রার পিড়াপিড়িতে মিশানের ঘুম ছুটে গেলো।
উঠে বসলো কম্বল সরিয়ে ঘুম চোখে জিজ্ঞেস করলো

-“কি হয়েছে, সুইটহার্ট?
জ্বালানো হচ্ছে কেন?
কাল অনেক কাজ করেছি।অনেক বড় এক টা ডিল ফাইনাল করেছি।”

-“আমি জানি তো।
ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে হবে না?”

মিশান ততক্ষণে নেশাক্ত দৃষ্টিতে বউয়ের দিকে তাকায়।
সায়রা কথা শেষ উঠে যেতে নিলেই মিশান খপ করে বউয়ের হাত ধরে আটকে দেয়।
সায়রা পেছন ফিরে মিশানের দিকে জিজ্ঞেসা দৃষ্টিতে তাকায়
আর অমনি মিশান একটানে বউকে নিজের কোলে এনে ফেলে শক্ত করে কোমর জড়িয়ে ধরে নেশাতুর কণ্ঠে বলে উঠে

-“এখন খাবার নয় অন্য কিছু চাই।”

সায়রা নাক মুখ কুঁচকে নেয় মিশানের কথা।
ভ্রু কুঁচকে বলে উঠে

-“আপনি তো ফ্রেশ হন,,

পুরো টা শেষ করতে পারে না সায়রা মিশান তার আগে নিজের পুরুষালী শক্ত অধর দ্বারা সায়রার অধর চেপে ধরে।
নিজের হাতের এলোমেলো স্পর্শে পাগল করে বউ কে।
সায়রা বাধ্য হয়ে হারমানে স্বামীর ভালোবাসার কাছে।
নিজেও সঙ্গ দেয় স্বামীর।
মিশান নিজেও নিজের ভালোবাসার চাদরে মুড়ি নেয় বউ কে।
অবহেলিত পরে রয় সেন্টার টেবিলে থাকা খাবার থালা।
সাথে দুট মনের অস্তিত্বের ভালোবাসার মিলনের সাক্ষী হয় এই শীতের সকালে পর্দার ফাঁক ভেদ করে আসা মিষ্টি রোদ টা।

#চলবে…

[ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ।]

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ