Friday, June 5, 2026







মিঠা রোদ পর্ব-৬৬+৬৭

#মিঠা_রোদ
#পর্ব:৬৬
#লেখা:সামিয়া খান প্রিয়া

“দিনটি কতো সুন্দর।”

তোশা লম্বা একটি শ্বাস টানলো।নাকের ভেতর তরতাজা গোলাপের সুবাস ঢুকে গেলো।কী সুন্দর দিন।মনোরম পরিবেশ।তার নানা নেয়ামত তখন বাগানে দাঁড়িয়ে বেলা বারোটায় গাছে পানি দিচ্ছিলো।নাতনির মুখে থেকে বের হওয়া বাক্যটি কর্ণকুহর হতে সে মেয়েটির দিকে তাঁকালো।হালকা গোলাপি রঙের শাড়ী পরেছে।তার মনে পড়ে গেলো ষাটের দশকের এক নায়িকার কথা।নামটা যদিও এখন মনে পড়ছেনা।

“তোশামণি দিনটি আসলেও সুন্দর।তুমি কোথায় যাচ্ছো?”

“আহনাফের সঙ্গে ঘুরতে নানা।আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে দেখতে।”

নেয়ামত হাসলো।তাহিয়ার মেয়েটিকে তার নির্বোধ মনে হয়।দিনে দুপুরে বুড়ো মানুষটিকে সুন্দর বলে দিচ্ছে।বিয়ের পর মাথাটা গেলো নাকী?

“তোমাকেও সুন্দর লাগছে।সময় মতো চলে এসো।”

মায়ের গাড়ীটা নিয়ে বের হয়ে পড়লো তোশা।একবার ভাবলো রিক্সায় যাবে।কিন্তু গেটের বাহিরে মানুষের চাহনি দেখে সে ইচ্ছাটাকে পাশে সরিয়ে রাখলো।আজকে দিনটা তোশার নিকট অন্যরকম লাগছে।সে বিবাহিত।যতোবার নিজের ফোলা ফোলা মুখটা দেখছে আয়নায় ততোবার শিহরিত হচ্ছে শরীর।মিনিট বিশেক বাদে শপিং মলে পৌঁছে গেলো সে।

“একা কেন এসেছো?”

স্বামী হওয়া কবীর শাহ কে দেখেও তোশার অন্যরকম লাগছে।তামাটে মুখশ্রীটার বয়স যেন আরো কমে গেছে।তোশা মুখ গোমড়া করে বলল,

“আপনি কেন? আমার ও আহনাফের একা ঘুরার কথা ছিল।”

“আহনাফের নিজস্ব ক্রেডিট কার্ড নেই বেলাডোনা।তো আপনাদের নিজস্ব ব্যাংক হয়ে এসেছি।”

“এই কথা বললে হবেনা।”

“অবশ্যই হবে।চলো এখন।”

তোশা মিষ্টি হেসে কবীরের হাতখানা জড়িয়ে ধরলো।এই মানুষটা তার।একমাত্র নিজস্ব বলা হোক কিংবা ব্যক্তিগত পুরুষ।কবীরের ফোনে কল আসায় সে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।তোশা খেয়াল করলো সকল মানুষ তাদের দেখে কৌতুহল হয়ে তাঁকাচ্ছে।সেটা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে একটি শপের ভেতর ঢুকলো তারা।

“আহনাফ।”

“আইসক্রিম।তুমি লেট করেছো দশ মিনিট।”

“আহনাফ তুমি তোশাকে এখনও আইসক্রিম বলে ডাকবে?”

“সবসময়।”

কবীর ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।আহনাফ তোশাকে অনেক আগেই নিজের মায়ের আসনে বসিয়েছিলো।যে ছেলেটা সহজে কারো সাথে ঠিকঠাক মিশতো না কিংবা মা শব্দটাকে ভয় পেতো।সেই ছোট বাচ্চাটা আজ কতো সহজে মিশে গেলো আরেক লিটল চেরীর সাথে।তোশার দিকে তাঁকালো কবীর।নিজস্ব বেলাডোনার মধ্যে তফাৎ খুঁজলো বিয়ের পরের।কিন্তু এখনও তো সেই দস্যু ভাব রয়ে গেছে চোখেমুখে।অথচ গতকাল রাতে তাকে অনেকটা গভীরভাবে ছুঁয়েছে কবীর।সেজন্য কোনো ক্লান্তি ভাব নেই।উল্টো প্রদীপের ন্যয় দ্বীপশিখা ছড়িয়ে যাচ্ছে।কবীর নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিলো এমন একটা সুন্দর ফুল তার জীবনে এসেছে তাই।

“চলো তোমরা এখন।শপিং শুরু করা যাক।”

তোশা ও আহনাফের উচ্ছাস ছোট ছোট হাসি এই অভিজাত শপে থাকা প্রত্যেকটি মানুষকে একবার হলেও তাদের দিকে আকর্ষণ করছে।কেউ মুগ্ধতা ভরে দেখছে।তো কেউ চোখেমুখে ঘোলাটে ভাব বজায় রেখেছে।এরমধ্যে ত্রিশ অতিক্রম করা সফেদ ত্বকের এক নারী তোশাকে খোঁচা মেরে আস্তে করে বলল,

“কম শপিং করো।তুমি যেভাবে জিনিসপত্র কিনে চলেছো তাতে মনে হচ্ছে এসব জিনিস কেনার সাধ্য কখনো ছিলনা।কিন্তু তোমার মা কে দেখেছিলাম একবার আমার কাজিনের বিয়েতে।ভদ্রমহিলাকে দেখে তো যথেষ্ট ডিসেন্ট লেগেছিলো।তুমি এমন যে কেন?”

তোশা জবাব দিলো না।বরং সব কথাগুলো শুনে নরমভাবে হাসলো।একটু দূূরে বাবা -ছেলে মিলে কী যেন আলাপ করছে।তাদের মন খারাপ হবে দেখে আস্তে করে বলল,

“আমি যার টাকায় এসব কিনছি সে নিজেও আমার আপন।এবং আমার মা তিনিও আমার সবথেকে আপন।দুজনের অর্থের উপর অধিকার আছে।বরং আপনার অধিকার নেই আমার ব্যাপারে মন্তব্য করার।

” তোমার সবকিছু এখন লোকের মুখে মুখে।অধিকার কেন থাকবেনা?”

“আমার কথা টক অফ দ্য টাউন হতে পারে।কিন্তু আমি সহজলভ্য কেউ নেই।”

“কথা দারুণ বলতে পারো।আমাকে চিনো আমি কে?”

“কে?”

ভদ্রমহিলা নিজের স্বামীর ছায়াতলে নিজস্ব পরিচয় বর্ণনা করতে লাগলো।বরং বাড়াবাড়ি পর্যায়ে ব্যাখা করতে লাগলো সব।তোশা শুধালো,

“আপনি কি করেন?”

“আমার হাজবেন্ডের সব আছে।কিছু করতে হবে কেন?”

“আমার হাজবেন্ডেরও সব আছে।তাও আমি অনেককিছু করতে চাই।কী সুন্দর দেখুন আমার ভাগ্য।যা চাই তা পেয়ে যাই।”

ভদ্র মহিলার হাত থেকে পার্সটা টান দিয়ে নিয়ে তোশা পাশের সেলসম্যানকে দিলো।এটা তার পছন্দ হয়নি।কারণ দামটা বেশী।তবে দেখানোর জন্য হলেও সে বিল করার জন্য দিয়ে দিলো।ভদ্রমহিলার মুখটা বেজায় মলিন দেখা গেলো।কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো।কারণটা হলো শুরু সে করেছিলো।

“পরিবেশটাকে ন’ষ্ট করে দিচ্ছো তোমরা।এখানে যে কেন এসেছো।একজন বিশ বছরের ছোট মেয়েকে বিয়ে করেছে আরেকজন..।”

“আমার থেকে বিশ বছরের ছোট একটি মেয়েকে আমি বিয়ে করেছি।এতে চোখ নামানোর কিছু আছে বলে মনে করিনা।এবং মিস খেয়াল করে দেখুন এই শপটি সকলের জন্য।এখানে কে আসবে বা যাবে সেটি দেখার বিষয় বোধহয় আপনার নয়।এবং আমাকে রাগাবেন না।যেহেতু অপরিচিত তাই পরিচিত হতে চাচ্ছিনা।সেটা হতে গেলে বোধহয় আপনার জন্য ভালো হবেনা।

তোশার হাতটা নিজের মধ্যে নিয়ে নিলো কবীর।মহিলার দিকে তর্জনি উঁচু করে বলল,

“ভালো থাকতে চান নিশ্চয়?”

মহিলা জবাব দিলো না।মুখ গোমড়া করে অন্যদিকে চলে গেলো।তোশা ভ্রু কু্ঁচকে শুধালো,

“আপনাকে যতোটা ভালো দেখায় আসলে আপনি ততোটা নন।”

“তো কেমন বেলাডোনা?”

“অন্ধকারের মতোন।জরুরি কিন্তু ভয়া’বহ।”

“দারুণ কথা তোমার সুন্দর নারী।”

“ধন্যবাদ তামাটে পুরুষ।”

দুজনে হেসে উঠলো।তারা জানে এমন ঘটনা প্রায় রোজ আসবে।মাঝেমধ্যে এমন মানুষের সঙ্গে দেখা হবে ।তাদের কাওকে থামাতে হবে কথা দিয়ে।আবার কাওকে অবহেলা করে চলে যেতে হবে।চড়ুই ও বাজপাখির সম্পর্ক অনন্য তখুনি তো হবে।

চলবে।

#মিঠা_রোদ
#পর্ব:৬৭
#লেখা:সামিয়া_খান_প্রিয়া

সন্ধ্যা হয়ে আসছে।সব মানুষের ঘরে ফেরার তাড়া।বিরাট জ্যাম লেগেছে রাস্তায়।একঘেয়ে নিশ্চলতাকে মুখ বের করে দেখছে তোশা।কবীর আদেশ করার ভঙিমাতে বলল,

“মাথা ভেতরে ঢুকাও বেলাডোনা।ব্যাথা পাবে।”

“জ্যাম কখন ছাড়বে?ভালো লাগছেনা।”

পিছন ফিরে তাঁকিয়ে দেখলো আহনাফ একমনে ফোনে কিছু একটা করছে।তোশা একবার ছেলের দিকে আরেকবার দিকে কবীরের দিকে তাঁকালো।দুজনের চেহারাতে কতো মিল।কিন্তু গায়ের রঙে তফাৎ।

“কী দেখছো এভাবে?”

“আপনাদের।”

“মায়ের সাথে কথা হয়েছে তোমার?আমার মা।তোমার শ্বাশুড়ী।”

তোশা ধীর কণ্ঠে বলল,

“বুঝেছি তো।বলিনি রাতে গিয়ে বলে নিবো।”

“এখন তোমার অনেক দায়িত্ব।সেগুলো নিয়ে টেনশন করবে না।খাবে ঠিকমতো।ঘুমাবে ও পড়াশোনা।নিজেকে বড় ভাবার কোনো দরকার নেই।”

“আপনি ও আম্মু আমাকে বড় হতে দিলেন না কখনো।”

“তুমি থাকো না ছোট্ট চেরী হয়ে।এটা ভালো লাগে।আমি তোমার পাগলামি তে মজেছিলাম।”

তোশা লাজুক হাসলো।পিছন ফিরে আহনাফকে দেখলো।যে কানে হেডফোন লাগিয়েছে।আশ্চর্য এই ছোট ছেলেটা কীভাবে বুঝলো বড়রা কথা বলছে সেটা না শুনলে ভালো হয়।কারণ ক্ষণপূর্বেও কানে হেডফোন ছিলনা।তোশার মনটি ফুলে ফুলে ভরে গেলো।দুটো অসাধারণ মানুষের সঙ্গে তার জীবন শুরু হতে চলেছে।দীর্ঘ ক্ষণ পর গাড়ীগুলো আপন গতিতে চলতে লাগলো।এসি বন্ধ করে কবীর জানালা গুলো খুলে দিলো।শীতল সমীরণ তোশার সামনের চুলগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে।কী সুন্দর দিন।কে বলবে কয়েক দিন পূর্বে অসহনীয় আশংকায় মনটা শেষ হয়ে গিয়েছিলো।তোশাকে বাড়ীর সামনে নামিয়ে দিলো কবীর।মেয়েটা চলে যেতে নিলে তার শাড়ীর আঁচল টেনে শুধালো,

“কালকে ভার্সিটি থেকে আমি নিয়ে আসবো তোমাকে।গাড়ী ফেরত পাঠিয়ে দিও।”

“বাবা তুমি সদ্য প্রেমে পড়া টিনেজারের মতোন বিহেভ করছো কেন আইসক্রিমকে দেখে?”

আহনাফের দিকে ভ্রুঁ কুঁচকে তাঁকিয়ে বলল,

“তোমার বয়স কম।তাহলে কীভাবে জানলে টিনেজাররা প্রেমে পড়লে কেমন করে?”

তোশার দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল,

“আইসক্রিম দেখিয়েছে।তুমি জানো একদিন আমাকে জড়িয়ে কী কান্না।তোমার মতোন দেখতে এই কারণে।”

তোশা ভ্রুঁ জোড়া কুঞ্চিত করে বিদায় বলল।কবীর হাসছে।শক্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলল,

“বিদায় বেলাডোনা।সবিনয়ভাবে কবীর শাহ এর ভালোবাসা মনে রাখবেন।”

“ভুললাম কবে?”

তোশা গেটের ভেতর চলে গেলো।হঠাৎ পিছন দারোয়ান ডেকে বলল,

“তোশামণি তোমার জন্য একজন ফুল পাঠিয়েছে।নিয়ে যাও।”

“ফুল?কোথায় দেখি।”

দারোয়ান লোকটি সাদা তিনটা গোলাপ তোশার হাতে রাখলো।সঙ্গে একটি কাগজ।তোশা খুলে দেখলো সেখানে বিয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।আশ্চর্য কারো নাম নেই।সে ততোটা না ভেবে ভেতরে ঢুকলো।কিন্তু ড্রয়িং রুমে টিনাকে বসে থাকতে দেখে চমকে উঠলো।

“আপনি?”

তোশার দিকে তাঁকালো টিনা।মেয়েটাকে পরখ করে বুঝতে পারলো চেহারাতে প্রাণবন্ত ভাব ফুঁটে উঠেছে।

“তোমার বাবার সাথে এসেছি।”

“বাবা এসেছে?কোথায়?”

“ভেতরে গেলো এখন।”

তোশা পা বাড়িয়ে মায়ের রুমের দিকে এগুতে লাগলো।মায়ান যদিও আর কিছু করতে পারবেনা।কিন্তু তবুও তোশা নিজ মা কে আর কথা শোনাতে দিবে না।রুমের কাছাকাছি গিয়ে শুনতে পেলো তাহিয়া বলছে,

“আপনার কথা মানতে আমি বাধ্য নই।তোশার বিয়ে আমার বাসা থেকেই হবে।”

“এটা তোর বাবার বাসা।বুঝতে কেন পারিস না যে তোশার বাবা, দাদা বেঁচে আছেন।তারা কেন বিয়েটা এখানে হতে দিবে।”

“আপনি কালকে কবীরকে আ” ঘা”ত করেছেন।এরপরও মায়ান?”

“সেটা আমার ও আমার বন্ধুর ব্যাপার।তোর কথা বলতে হবেনা।”

“লজ্জাহীন।” বলল তাহিয়া।কণ্ঠে কেমন বিরক্ত হওয়ার ভাব।মায়ান অবশ্য তোয়াক্কা করলো না।বিছানাতে বসে বলল,

“তোর মুখ বেশী চলে।মেয়ের বিয়ের পর নিজে যখন বিয়ে করবি তখন না হয় এই বাড়ী থেকে অনুষ্ঠান করবি।”

“বাবা!”

তোশার কণ্ঠে তাহিয়া কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো।মায়ান মেয়েকে দেখলো।এখনও তার মস্তিস্ক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেনা নিজের মেয়ের বিয়ে বাল্যকালের বন্ধুর সাথে হয়েছে। ভাবতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো।

“ভেতরে এসো তোশা।বসো এখানে।”

“আমার বিয়ে এই বাড়ী থেকেই হবে।জেদ করো না।এখন বাদ দাও আমার মা কে কথায় কথায় খোঁ’চা দেওয়া।দুজন প্রাক্তনকে এভাবে ল’ড়’তে দেখলে আমার মটেও ভালো লাগেনা।”

“তোমার নিজস্ব বাবার বাড়ী ওটা।”

“যে বাড়ীর রাস্তা আমার মায়ের জন্য বন্ধ সেটা আমার বাড়ী নয়।”

মায়ান তর্ক করতে গিয়েও থেমে গেলো।পকেট থেকে একট বক্স বের করলো।যেখানে সুন্দর দেখতে একটি লকেট।

“আমার মেয়ের বিয়ের উপহার।এটা নিবে?”

মায়ানকে অবাক করে দিয়ে তোশা নিজ হাতে পড়িয়ে দিতে বলল।তাহিয়া একপাশে নির্বিকার হয়ে তাঁকিয়ে আছে মেয়ের গলায় ঝুলতে থাকা দামী লকেটটিকে দেখছে।

“আমি ভেবেছিলাম নিবেনা তোশামণি।ভালো থাকবে সবসময়।যদি জীবনের এক পর্যায়ে মনে হয় কোনোভাবে তোমার আরো পাওনা আছে।তাহলে মনে রাখবে বাবা সবসময় তোমার সাথে আছে।”

“আমার বিশ্বাস কবীর শাহ ও আম্মু সবকিছু এনে দিবে আমাকে।বাবা বিশ্বাস করো তোমরা দুজন আমার বাবা-মা হয়ে ল’ড়া’ই করো ভালো লাগেনা।এটা বন্ধ করতে পারবে?আমি হয়তো একটু কম বেশী।কিন্তু দুজনকেই ভালোবাসি।”

“তোমার মা কে বেশী ভালোবাসো?”

“হ্যাঁ।”

“তুমি অনেক সেন্সিবলভাবে কথা বললে।”

“আম্মু শিখিয়েছে এভাবে বলতে।জীবনের সেরা শিক্ষক।দুনিয়ার বেস্ট মা।”

তাহিয়ার চোখেমুখে উজ্জ্বলতা ফু্টে উঠলো।যা মায়ানের চক্ষু আড়াল হলো না।সেদিনের কথার কী সুন্দর জবাব আজ তোশা দিলো।মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বাহিরে চলে এলো মায়ান।টিনা উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাস করলো,

“কী হলো?”

“বিয়ে এখান থেকে হবে।”

“কিন্তু তুমি তো।”

“টিনা একটা কথা কী জানো আমি বোধহয় আমার প্রথম সন্তানের জীবনে কোথাও নেই।তারা মা-মেয়ে আলাদা জগত তৈরী করে নিয়েছে।সেখানে আমার প্রবেশ নি’ষে’ধ।”

“দুঃখ পেওনা।”

মায়ান স্মিত হেসে বলল,

“হচ্ছে না।বরং কয়েকটা লাইনে আমার মেয়ে বুঝিয়ে দিলো পুরো জীবনটাকে আমি যেভাবে দেখেছি সেটি বোধহয় পুরোপুরি সঠিক বা উচিত নয়।আমার অনুমানও সর্বদা সঠিক নয়।চলো আমরা ফিরে যাই।ওদের একা থাকতে দাও।”

টিনার হাত ধরে মায়ান বের হয়ে গেলো।তাহিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে সে এই রমণীর হাতখানা ধরেছিলো।কখনো খারাপ লাগেনি।কিন্তু আজ জিতে যাওয়া তাহিয়া নামক নারীটির মুখখানা দেখে বেশ শূন্য অনুভব হচ্ছে।

চলবে।
এডিট ছাড়া পর্ব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ