Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অপ্রেমের প্রিয় অধ্যায়অপ্রেমের প্রিয় অধ্যায় পর্ব-১২+১৩

অপ্রেমের প্রিয় অধ্যায় পর্ব-১২+১৩

#অপ্রেমের_প্রিয়_অধ্যায়
#পর্ব_১২ (ঝাল!)
#লেখনীতে_নবনীতা_শেখ

কলটা তড়িঘড়ি করে কেটে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা-টা শরবতের মতো এক চুমুকে গিলে ফেলল তনুজা। নিজেকে স্থির করে ভাবতে লাগল শুদ্ধর বিষয়ে। ছেলেটার চোখ-মুখে মায়া উপচে পড়ে। এত্ত মিষ্টি একটা ছেলেকে এড়ানো যায় না। শুদ্ধর সাথে যদি তনুজার বাচ্চা কালে দেখা হতো, তবে গাল দুটো টেনে দিতে ভুলত না। বলা বাহুল্য, তনুজার মনে শুদ্ধর প্রতি কোনোরূপ দূর্বলতা এখন অবধি নেই; ভবিষ্যতে হবার সম্ভাবনাও তলানিতে। পাথর-হৃদয়া তনুজা, নিজের অনুভূতির পরিচালনা নিজেই করতে পারে। তবুও তনুজা থামল। জীবনের এত এত আফসোসের ভীড়ে আরও একটি আফসোস স্বযত্নে তুলে রাখল, “শুদ্ধ! তুমি কেন আরও আগে এই দুনিয়ায় এলে না?”

ওপাশে শুদ্ধ কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে রইল। তারপরই খেয়াল করল নিজের দিকে। শাওয়ার নিয়ে আর টি-শার্ট গায়ে জড়ায়নি। ব্যাপারটা ‘তাতে কী?’ বলে আকাশে উড়িয়ে দিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে ডাইনিংয়ে এলো। গলা উঁচিয়ে শাওনকে ডাকল, “আ-রে ওও শাওইন্যা! খাবিনি?”

শাওন উত্তর দিতে গিয়েও থেমে গেল—শুদ্ধকে নিজের টোনে কথা বলতে দেখে। তারপর ফিক করে হেসে ফেলল। সঙ্গদোষ বলেও তো একটা শব্দ আছে!

_____
পরদিন শুদ্ধদের সাথে তনুজার ক্লাস ছিল না। তাই শুদ্ধ ভার্সিটিতে গেলেও, ডিপার্টমেন্টের ভবনে ঢোকেনি। জোড়া পুকুরটির পাড়ে বসে রইল সারাটি সকাল। ক্লাসে শুদ্ধকে না পেয়ে তার বন্ধুরা ধরে নিয়েছে—সে তার ম্যামের পিছে পিছে ঘুরছে। কিন্তু বাস্তব তো তা নয়। শুদ্ধ আর যাই করুক না কেন, তনুজার ক্ষতি চায় না।
তনুজা অফিস-রুম থেকে উঁকি দিয়ে বেশ কয়েকবার দেখেছে, শুদ্ধ সেই তখন থেকে এখানটায় বসে আছে। আবারও দেখল। কিছু বলার নেই তার। তাই, চোখের চশমাটা ঠিক করে সামনের বইটা দেখতে লাগল।
পাড়ে বসে পুকুরে পাথর ফেলতে ফেলতে শুদ্ধ ভেবে যাচ্ছিল, জীবন ঠিক কীভাবে এগোচ্ছে। সে সাঁতরে চলেছে। কূল পাচ্ছে না। না না, পাচ্ছে। একটাই পাচ্ছে। সেটা হলো স্বয়ং তনুজা। আনমনে ছক কষতে থাকল কিছু একটার। আর ভাবতে লাগল কোনো এক নন্দিনীর সেই একাকী দিনগুলোর কথা। এগুলো জানতে কী বেগই না পোহাতে হয়েছিল শুদ্ধকে!

ঠিক এভাবেই কেটে গেল আরও দুটো দিন। শুদ্ধ-তনুজার কথা-বার্তা নেই। ক্লাসে এলেও, মাঝে হাজার মাইলের দূরত্ব থাকে; মানসিক দূরত্বটাই তো মূল! তনুজা ভেবেই নিয়েছে, শুদ্ধর মস্তিষ্কে সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে। এদিকে শুদ্ধর মাথায় কী খেলছে—তা হতে সে নিজেই অজ্ঞাত।

সন্ধ্যায় দিশার হলুদ। শাওনের নিমন্ত্রিত হওয়ার দরুন, শুদ্ধও সাথে যাবে। প্রাপ্তি দাদার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে, এজন্য আসতে পারেনি। ওদিকে তুহিন নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ, বরাবরই হৈচৈ এড়িয়ে চলে। তাই আর আসেনি সে।

দুজনেই তৈরি হয়ে সেন্টারে গেল। চতুর্থ তলায় দিশার হলুদ সন্ধ্যা হচ্ছে। শুদ্ধ আর শাওন ভেতরে প্রবেশের পর থেকেই খেয়াল করল, অনেকের দৃষ্টি তাদের উপর। অবশ্য দু’জন পুরুষই ভারি সুদর্শন এবং আকর্ষণীয় বটে! শাওন শুদ্ধকে ইশারায় ওপাশে দাঁড়াতে বলে সোজা হেঁটে দিশার কাছে চলে গেল। দিশার পরনে গাঢ় সবুজ জামদানি, আটপৌরে করে পরা; গায়ে কাঁচা হলুদের গয়না। শাওন মুগ্ধ হয়ে হাসল। স্টেজে দিশাকে একা বসে থাকতে দেখে সে এগিয়ে গিয়ে পাশের খালি জায়গাটায় বসে পড়ল। ফোন বের করে সেলফি তোলার ভান করে বলল, “বিয়ের হলুদ মাখার আগেই দেখি সুন্দরী হয়ে গেছ! দুলাভাই জিতসে, মাশাআল্লাহ্!”

দিশা চোখ তুলে তাকাল। না চাইতেও চোখ দুটো ছলছল করছে। কোনোমতে অশ্রু সামলে নিয়ে শাওনের উদ্দেশ্যে বলল, “তুমি চাইলেই কিন্তু আমি তোমার!”

শাওন ঠোঁট থেকে হাসি একদমই সরাল না। বরং দিশার দিকে আরও খানিকটা চেপে বসে বলল, “চাই না।”

তারপরই সুর করে গেয়ে উঠল, “চাই না মেয়ে তুমি অন্য কারো হওওও! পাবে না কেউ তোমাকে, তুমি কারো নও!”

পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল দিশার চাচাতো বোন। শাওনকে দেখে দাঁড়িয়ে বলল, “বাব্বাহ! ভালো গান জানেন তো!”

শাওন বাঁকা চোখে অপূর্বার দিকে তাকিয়ে বলল, “আসলে সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে দেখলে, গানটা এমনি এমনিই চলে আসে..”

অপূর্বা প্রশংসা গায়ে ভালো মতো মেখে নিয়ে হেসে বলল, “তা বউয়ের কী লাগেন?”

শাওন বাহু দিয়ে দিশাকে সামান্য গুতো দিয়ে বলল, “বলো বলো, কী লাগি!”

দিশা নিজেকে সামলে নিয়ে হাসল, “ফ্রেন্ড লাগে।”

অপূর্বা চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, “এই! তুই এই ফ্রেন্ডকে আগে কই লুকিয়ে রেখেছিলি, আপু? বলতো!”

দিশার কিছু বলার আগেই শাওন বলল, “এতদিন সুন্দরী কাউকে দেখিনি, তাই গর্তে থেকে বের হইনি। আজ বের হওয়া তবে সার্থক, মিস..”

“অপূর্বা!”

“হ্যাঁ, অপূর্বা। বুঝলে?”
এটুকু বলে পকেট থেকে একটা কার্ড এগিয়ে হাতের ইশারায় বোঝাল, “কল মি লেটার!”

অপূর্বা কার্ডটির দিকে না তাকিয়েই মুচকি হেসে হ্যান্ড ব্যাগের ভেতরে ঢুকিয়ে নিল। পেছন থেকে তার মায়ের ডাক আসায়, সে ওদিকটায় চলে গেল। যাওয়ার আগে পরোক্ষভাবে শাওনকে বোঝাল, “আই’ল কল ইউ, টুনাইট!”

অথচ, কার্ডটা ভালো ভাবে দেখলেই বুঝতে পেত, সেটায় কোনো নম্বর নেই। সেটা এক ফার্নিচারের কার্ড। লাস্ট টাইম একটা ফার্নিচারের দোকানে গিয়েছিল তারা। শুদ্ধর রাগের উপকারার্থে টি-টেবিলটি ভেঙে যাওয়ার জন্য নতুন করে কেনার উদ্দেশ্যে গিয়েছিল, সেখান থেকেই দিয়েছিল। পকেটে পুড়ে আর সরাতে মন নেই। আজ হাতে পড়ল, দিয়ে দিলো। সুন্দরী মেয়েদের প্রথম দেখলে, কিছু একটা দিতেই হয়। হোক তা টাকা কিংবা পকেটে অযতনে পড়ে থাকা কাকলি ফার্নিচারের কার্ড।

অপূর্বার যেতেই দিশা মুখ খুলল, “আমাকে দেখিয়ে এসব না করলেই চলত না বুঝি?”

শাওন এক গাল হেসে বলল, “উঁহু, চলত না।”

তারপরই দিশা শাওনের চোখে চোখ রাখল। ঠোঁট চেপে কান্না আটকিয়ে বলল, “আমি কি তোমার এতটাই অযোগ্য?”

_____
শুদ্ধ এক কোনায় জুসের গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে অ্যারেঞ্জমেন্টস দেখছে। দেখতে দেখতে হঠাৎ-ই তার নজরে আটকে গেল, ল্যাভেন্ডার জামদানি পরিহিত এক শুভ্রাঙ্গীর দিকে। সে হেসে হেসে কিছু মহিলাদের সাথে গল্প করে যাচ্ছে। প্রথমে তনুজাকে দেখে বিশ্বাস করতে না পারলেও, পরে ঠিক পাশেই রাবেয়াকে দেখতে পেয়ে শুদ্ধর খেয়ালে এলো, দিশার বাসাটা তো তনুজাদের কলোনিতেই!
বিষয়টা বোধগম্য হতে মোটেও শুদ্ধর বেগ পোহাতে হয়নি। হালকা কেশে গলা ঝেড়ে এগিয়ে গেল সেখানটায়। সেখানে তনুজা বাদেও রাবেয়াসহ আরও দু’জন মহিলা আছে।

শুদ্ধ কাছাকাছি দাঁড়িয়েই মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বলে উঠল, “হেই লেডিস! হোয়াটসআপ!”

আশাতীতভাবে শুদ্ধকে এখানে দেখে তনুজা প্রথমে ভড়কে গেল। এলোমেলো দৃষ্টিতে এদিক-ওদিক তাকাল। শেষ দৃষ্টি গিয়ে ঠেকল শুদ্ধর গভীর চোখপানে। দেখল—সে চোখে দুষ্টুমি খেলছে।

রাবেয়া প্রথমে শুদ্ধকে দেখে ঠিক চিনতে পারল না। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় প্রথম সাক্ষাৎ মনে এলো, এরপরই বলে উঠল, “আর-রে শুদ্ধ, কী খবর! সেই যে, গেলে! এরপর আর দেখাই নেই!”

শুদ্ধ মাথা চুলকে হাসল। পাশের মহিলারা রাবেয়াকে জিজ্ঞেস করছে, “কে, ভাবি?”

রাবেয়া হাসতে হাসতে বলল, “আমাদের তনুজার কাজিন ও। কী মিষ্টি ছেলে! এত সুন্দর সুন্দর কথা বলে না! শুধু শুনতেই মন চায়। এই, তুমি কল দাওনি কেন?”

শেষোক্ত প্রশ্নটি রাবেয়া শুদ্ধকে উদ্দেশ্য করে বলল। শুদ্ধ ঠোঁট উলটে বলল, “দিতাম তো! কিন্তু আমি ভুলে দশ ডিজিট তুলেছিলাম। একটা নম্বর মিসিং!”

“কী বলো! আচ্ছা, আমি আবার দিচ্ছি। নাও।”

শুদ্ধ এবার ভালোভাবে দেখে রাবেয়ার নম্বরটি নিল। কিছুক্ষণ কথা-বার্তা শেষে একে একে করে সবাই কেটে পড়তে লাগল। এই মুহূর্তে রইল রাবেয়া আর তনুজা। রাবেয়া একাধারে শুদ্ধর সাথে কথা বলে যাচ্ছে। অস্বস্তিকর এই পরিবেশটিতে তনুজা কেবল নীরব শ্রোতা। ঠিক সেই মুহূর্তে রাবেয়ার ফোনে একটা কল এলো। বাড়ির কল! বাচ্চাদের রেখে আসায় খুব জ্বালাতন করছে রাবেয়ার স্বামীকে। জলদি ফিরতেই কলটা করেছে। অগত্যা রাবেয়া তনুজাকে হলুদটা উপভোগ করতে এবং শুদ্ধকে ‘তনুজাকে একটু বাড়ি পৌঁছে দিয়ো। রাত হয়ে যাবে তো!’ বলে বিদায় নিল।

জড়িমা কাটাতে শুদ্ধ কাশল। তনুজা তাকাল। শুদ্ধ তা দেখে হাসল। হাসতে হাসতে বলল, “ম্যাম, ভালো আছেন?”

ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে চোখ দুটো ভীড়ে স্থির রেখে তনুজা বলল, “ভালো আছি।”

“আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না?”

তনুজা আবারও তাকাল শুদ্ধর দিকে। বলল, “না।”

শুদ্ধর এতে তেমন কিছুই গেল কিংবা এলো না। পূর্বের ভঙ্গিমায় রইল, সেভাবেই বলতে থাকল, “আমিও ভালো আছি।”

তনুজা শুদ্ধকে এখানে ফেলেই স্টেজের উলটো দিকে হাঁটা দিলো। এতক্ষণ রাবেয়া সাথে থাকায় সে চেয়েও শুদ্ধকে এড়িয়ে যেতে পারেনি। হাঁটতে হাঁটতেই শুনতে পেল, “ম্যাম, এত জোড়ে কেউ হাঁটে? একটু ধীরে হাঁটুন না! আমি পা মেলাতে পারছি না। উফ! শাড়ি পরেও এভাবে কীভাবে হাঁটেন?”

তনুজা ডানে তাকিয়ে শুদ্ধকে দেখল। শুধাল, “পিছু নিচ্ছ কেন?”

“ম্যাম, রাবেয়াপু বলেছিল আপনার খেয়াল রাখতে। আর আমি নিজের দায়িত্বের ব্যাপারে ভীষণ সচেতন। আপনাকে একা কী করে ফেলি, বলুন? তাছাড়া বিয়ে বাড়িতে নানান ধরণের মানুষ থাকে, এর মধ্যে একটা ছেলে আর একটা মেয়েকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেই দাদি-নানিরা তাদের জোড়া বানাতে উঠে-পড়ে লেগে যায়। অত কাহিনির দরকার কী? তার চেয়ে জোড়া-জোড়া ঘুরি, চলুন।”

“তুমি একটু বেশিই বলছ না, শুদ্ধ?”

শুদ্ধ বরাবরের মতো হেসে বলল, “আমি কম বলতাম কবে?”

তনুজা জানত, ছেলেটা এমনই কোনো ত্যাড়া উত্তর দেবে। এর চেয়ে বেশি কী-ই বা আশা করা যায়! শুদ্ধ ওদিকে কথা বলতেই থাকল। আর তনুজা বিশ্বের সেরা শ্রোতার ভূমিকা পালনে ব্যস্ত। এভাবে কিছুটা সময় কাটতে ওরা বুফের পাশে চলে গেল। এখানে ফুচকার ব্যবস্থা আছে। শুদ্ধ তনুজাকে শুধাল, “ম্যাম, ফুচকা খাবেন?”

তনুজারও খেতে ইচ্ছে করছিল। তাই আর না করল না। শুদ্ধ দুই প্লেট ফুচকা দিতে বলে, তনুজাকে জিজ্ঞেস করল, “ম্যাম, ঝাল কেমন?”

“একটু বাড়াবাড়ি রকমের বেশি।”

এমন এক চাঞ্চল্যকর উত্তরে শুদ্ধ না হেসে পারল না। সে ফুচকা খায় না, খেলেও ঝাল ছাড়া; লালের চিহ্ন মাত্র থাকে না। সেখানে আজ শুদ্ধ উভয় প্লেটেই ‘একটু বাড়াবাড়ি রকমের বেশি’ ঝাল দিতে বলল।
ফুচকা হতেই প্রথম প্লেটটা হাতে নিয়ে তনুজার দিকে এগিয়ে দিলো। তনুজা ফুচকা নিল এবং খেতে শুরু করে দিলো। এরপর শুদ্ধও প্লেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তাকিয়ে রইল তনুজার দিকে। তনুজার সে-খেয়াল নেই। সে তো ফুচকায় সমস্ত মনোযোগ স্থির করে রেখেছে। চিত্তাকর্ষক সকল অনুভূতি কেবল শুদ্ধর মধ্যেই খেলে বেড়াচ্ছে। ঠিক এই কারণে সে ফুচকা না খেয়ে তনুজার দিকে তাকিয়ে রইল। প্রচুর ঝাল! প্রতিটা ফুচকার মধ্যে শুকনো মরিচ গুড়ো এবং কাচা মরিচ কুচি—উভয়ই একদম ভরে ভরে দেওয়া। তনুজা খাচ্ছে, বারে বারে শ্বাস টানছে, দম ফেলছে। ঝালে জিভের গোড়া প্রায় অবশ হয়ে যাচ্ছে। তবুও খাওয়া থামাচ্ছে না!

দেখতে দেখতেই শুদ্ধর চোখ গেল, তনুজার ঠোঁটে। স্বীয় মনকে শাসালো সে, “ম্যাম লাগে তোর!”
মন হেসে উত্তর দিলো, “এই মুহূর্তের জন্য সব ভুলে যা, ভুলে যা উনি তোর ম্যাম। একটা সাধারণ মেয়ের মতো ট্রিট কর না!”
“চুপ!”
মনকে ধমকিয়ে চুপ করাল, শান্ত আর সে হতে পারল না। তনুজাকে দেখতে দেখতেই ফুচকা মুখে তুলল। তখনই বুঝল, তার মুখের ভেতরটা ঝলসে যাচ্ছে! এতটাই ঝাল! তনুজার খাওয়া প্রায় শেষ। তাকাল এক পলক শুদ্ধের দিকে। ওকে খেতে না দেখে বলল, “কী? খাও!”

শুদ্ধ হেসে মাথা নেড়ে বোঝাল, “খাচ্ছি!”
কিন্তু খেতে গিয়ে যে কী অনুভব করছে, তা কেউ বুঝতে পারছে না। শেষের দুটো মুখে দিতে গিয়ে শুদ্ধর অবস্থা নাজেহাল। নাক-মুখ গরম হয়ে গিয়েছে। চোখে জল জমা হয়ে আছে। তনুজা চিন্তিত স্বরে শুধাল, “কী ব্যাপার, শুদ্ধ? ঝাল লেগেছে নাকি?”

শুদ্ধ কিছু বলল না। ত্বরিতে কেবল ডানে-বাঁয়ে মাথা নাড়ল। তনুজাও আর কিছু বলল না। এদিকে শুদ্ধ খাওয়া শেষও দিলো না। প্লেটটা রেখে তনুজার উদ্দেশ্যে বলল, “ম্যাম, একটু আসি, কল করব একটা।”

“হুম, যাও।”

অনুমতি পেতে দেরি, শুদ্ধর যেতে দেরি না। এক প্রকার দৌড়েই আড়ালে চলে গেল। আর তারপর হলো বিস্ফোরণ। দু’হাতে মুখ চেপে, ভার্সিটির অধিকাংশ রমনীর বুক-কাঁপিয়ে বেড়ানো শুদ্ধ এখানটায় বাচ্চাদের মতো প্রায় লাফিয়েই উঠল! ইশ! নিজেদের ক্রাশের এই অবস্থা যদি মেয়েরা দেখতে পেত!

চলবে..

#অপ্রেমের_প্রিয়_অধ্যায়
#পর্ব_১৩ (কনে পালানো!)
#লেখনীতে_নবনীতা_শেখ

হলুদের অনুষ্ঠানে আর শুদ্ধ তনুজার সামনে যায়নি। চোখ-মুখের যা অবস্থা! তনুজা দেখলে অবশ্যই তাকে সেই বাচ্চা ভাববে; যেই বাচ্চা ঝাল খেতে জানে না। এগুলো মুখে না বললেও ভাববে। তনুজার ভাবনাতেও তার কোনো খুঁত সে চায় না।

শাওন শুদ্ধর এই অবস্থা দেখে ক্রমাগত শুধিয়ে যাচ্ছে, “কী হইছে তোর? আমার এক্সের বিয়াতে আইসা তুই কানতাছিস ক্যান? বাল, ক কী হইছে!”

শুদ্ধ আর বলে না। নিজেকে ধাতস্থ করতে বেশ সময় লাগাল। ততক্ষণে অনুষ্ঠান শেষ। সময়ের দিকে খেয়াল দিতেই দেখল, এখন রাত সাড়ে দশটা বাজে। শুদ্ধ চকিতে শাওনের দিকে তাকাল। মাথা থেকে তনুজার কথা প্রায় বেরিয়েই গিয়েছে তার।

জলদি দৌড়িয়ে ভেতরের দিকে এলো, প্রায় সব জায়গায়ই তনুজাকে খুঁজল; পেল না। সময় আর অপচয় না করে সে কমিউনিটি সেন্টার থেকে বেরিয়ে গেল। ঠিক সামনের রাস্তাটিতে সিএনজির আশায় তনুজাকে গুটিশুটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, শুদ্ধ স্বস্তির শ্বাস ফেলল। পাশেই ফুলের দোকান আছে, সেখান থেকে একটা ডার্ক পার্পেল রঙা ডেইজি ফুল কিনে তনুজার দিকে ঘুরল। দেখল—সে হেঁটে হেঁটেই এগিয়ে যাচ্ছে। শুদ্ধ বিরক্ত সূচক ‘চ’ উচ্চারণ করে নিজেও পিছু পিছু গেল। তন্মধ্যে শাওনকে ম্যাসেজ করে দিলো, ‘আমি ম্যাডামকে নিয়ে যাচ্ছি। তুই একাই চলে যাস।’

শুদ্ধ কিছুটা এগিয়ে তনুজার থেকে এক হাত দূরত্ব বজায় রেখে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে লাগল। ব্যাপারটা খুবই আকস্মিক হওয়ায়, তনুজা খেয়াল করেনি। শুদ্ধ হেসে ফুলটা নিয়ে পেছন থেকে তনুজার কানের পিঠে গুঁজে দিলো। তৎক্ষনাৎ তনুজা কিংকর্তব্যবিমুঢ় বনে কানে হাত রাখল।

শুদ্ধ ত্বরিতে বলে উঠল, “ফেলবেন না, ফেলবেন না। মানাচ্ছে আপনায়।”

তনুজা ফেলল না। রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ল। শুদ্ধর দিকে মুড়ে বলল, “কী হচ্ছে?”

শুদ্ধ কাঁধ উঁচিয়ে ঠোঁট উলটে বলল, “কী হবে?”

তনুজার মস্তিষ্ক বড্ড উত্তেজিত হয়ে আছে। কিছু বলতে পারছে না। কানে বেজে যাচ্ছে শুদ্ধর একটা কথাই, “ফেলবেন না, ফেলবেন না। মানাচ্ছে আপনায়।”

ইতিহাসের পূনরাবৃত্তি সে যায় না। তাই আর রাখল না। কানের পিঠ থেকে ফুলটি নিয়ে হাতে মুচড়ে নিচে ফেলে দিলো। শুদ্ধ তাতে কিছু মনে করল না। নিজ মনে বলে উঠল, “নো প্রবলেম। ফুলের কানে ফুলের প্রয়োজন নেই।”

তারপরই মিনমিনে স্বরে বলল, “অলকানন্দার জন্য ডেইজি নয়, বরং শুদ্ধ এক পুরুষের প্রয়োজন।”

তনুজা শুনতে পেল না। এতক্ষণে একটা রিকশা পেল। ডাক দিয়ে উঠে বসল। শুদ্ধ হাত উঁচিয়ে বলে উঠল, “সাবধানে যাবেন, ম্যাম। আল্লাহ হাফেজ!”

তনুজা একটু এগিয়ে যেতেই, আরও একটি রিকশা এলো। রিকশাটাকে ডাক দিয়ে শুদ্ধ তড়িঘড়ি করে পড়ে থাকা ফুলটা হাতে তুলে নিল। ধুলো ঝেড়ে বুকপকেটে পুড়ে, এইবারের রিকশাটিতে শুদ্ধ চড়ে বসল। আর বলে উঠল, “শতরূপা হাউজিং-এ চলুন।”

তনুজা রিকশার হুড নামিয়ে দিলো। গভীর এক শ্বাস নিল। বিয়ের প্রথম প্রথম সিদ্দিক তাকে হুট-হাট ঘুরতে নিয়ে যেত। খুব দূর অবশ্য না। এ-ই, রাত করে রাস্তায় হাঁটতে নিয়ে যেত! এমনই এক রাত ছিল। সিদ্দিক অফিস থেকে সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ফিরল। বরাবরের মতোই ঘর্মাক্ত শরীরে তনুজাকে জড়িয়ে ধরল, কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে বলে উঠল, “রেডি হয়ে নিন, ম্যাম। একটু হাওয়া খেয়ে আসি।”

তনুজা নেতিবাচক জবাব দিলো, “সবে এলেন, খুব টায়ার্ড আপনি, রেস্ট নিন। পরে যাওয়া যাবে।”

সিদ্দিক বাচ্চাদের মতো জেদ করল, “উঁহু। এখনই। ঝটপট শাড়ি চেঞ্জ করে ওই হলুদ কুর্তাটা পরুন।”

তনুজা হাসল। একদম সিদ্দিকের পছন্দানুসারে তৈরিও হয়ে নিল। এরপর তারা বেশ রাত অবধি ঘুরল। শহরের কোনো এক গলিতে ছিল তখন তারা। এত রাতে রাজধানীতে ফুলের দোকান খোলা পাওয়াটা খুব একটা আশ্চর্যের বিষয় না। আশ্চর্যের বিষয় হলো সিদ্দিককে সেই দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে এবং ক্ষণকালের মধ্যে একটা হলুদ ডেইজি আনতে।

তনুজা শুধাল, “ফুল?”

সিদ্দিক তনুজার কানে ফুলটা গুঁজে দিয়ে বলল, “আমার ফুলের জন্য একটা ফুল। এই ফুলের সৌন্দর্য আপনার ছোঁয়ায় দ্বিগুণ বেড়ে গেল!”

হাত বাড়িয়ে নিজের কানের ফুলটা ধরতে গেলেই সিদ্দিক বলে ওঠে, “ফেলবেন না, ফেলবেন না। আপনাকে মানাচ্ছে খুব।”

তনুজা কেবল হাসল তখন। তার মতো সুখী মেয়ে কেউ ছিল না, কেউ না। এই-যে এত ভালোবাসা, কে পায়? আর পেয়েও বা কে হারায়? তনুজা ছাড়া কেউই নয়।

সেই কথা মনে করেই তনুজা চুপ হয়ে গেল। সুখ! সে তো সাময়িক রূপ কেবল। জীবন ভিন্ন।
রিকশা অ্যাপার্টমেন্টের সামনে থামতেই, তনুজা ভাড়া মিটিয়ে ভেতরে চলে গেল। আস্তে-ধীরে হেঁটে একদমই মিলিয়ে গেল।

ঠিক একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে আরও একটি রিকশা। রিকশাওয়ালা তখন শুদ্ধকে বলে উঠলেন, “মামা, নামবেন না?”

শুদ্ধ সংবিৎশক্তি ফিরে পেল। তারপর খেয়াল করল, তনুজার ফ্লোরের দিকে। লাইট জ্বলে উঠল, জানালা দিয়ে দেখা গেল তা। সেটা দেখে নিশ্চিন্তমনে রিকশাওয়ালাকে বলল, “না, মামা। কলেজ-রোড চলেন।”

____
ফিরে দেখতে পেল, শাওন ইতোমধ্যে বাসায় চলে এসেছে। তার মুখটা বরাবরের চেয়ে একটু বেশিই ঝলমল করছে। শুদ্ধ জিজ্ঞেস করল, “কী হইছে? আরও কয়েকটা মেয়ে পটাইছিস নাকি?”

শাওন জবাবে কেবল মুচকি হাসল। কিছু বলল না। শুদ্ধ তা দেখে এগিয়ে গেল। শক্ত করে শাওনকে জড়িয়ে ধরল। বাহুবন্ধনী শক্ত করল শাওনও। আনমনে দুজনেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল। শাওন হাসি থামাল এবার। একপ্রকার ছিটকে এলো শুদ্ধর কাছ থেকে। নাক কুঁচকে বলল, “গোসল করোস না কয়দিন ধইরা?”

এতে শুদ্ধ নিজেও কপাল কুঁচকে ফেলল। অনিশ্চয়তার বশে পড়ে একবার নিজের পরনের কাপড় শুকে দেখল। নাহ! বাজে স্মেল আসছে না! নিশ্চিত হয়ে শাওনকে বলল, “কী হইছে, গর্ধব?”

শাওন হাত নেড়ে বলল, “উহহু! ফাকে যা, ব্যাটা।”

শুদ্ধ বিরক্ত হলো। শাওন অলস ভঙ্গিতে হাত-পা নেড়ে নিজের রুমে চলে গেল। শুদ্ধও গেল। পকেটের ফুলটা নিয়ে নিজের টেবিলে রাখল। ডায়েরি বের করল। অফ-হোয়াইট কাগজ। তার মাঝে লাল কলম দিয়ে লিখতে থাকল,

“প্রিয় অনুশোচনা,
আপনাকে ভালোবাসা থেকে নিজেকে আটকানোর অনেক চেষ্টা করে গিয়েছি আমি। কিন্তু পারিনি। এবার যেহেতু ভালোবেসেই ফেললাম, তাই আর নিজেকে সামলাব না। কিছুটা বেসামাল হব। বেখেয়ালি তো আমি সেই শুরু থেকেই ছিলাম!
ইতি
আপনার শুদ্ধ-পুরুষ”

লেখাটা শেষ করে কাগজে চোখ বোলাল বেশ কয়েকবার। পড়ল অনেকটা সময় নিয়ে। এরপর কাগজটা ডায়েরি থেকে ছিঁড়ে নিল। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ফুলটি অতি যত্নে এই কাগজে রেখে, কাগজটি ভালোভাবে ভাঁজ করল। তারপর কাবার্ডের সেই ড্রয়ারটিতে রেখে দিলো। সাথে পকেট থেকে বের করে একটা টিস্যুও রাখল। ফুচকা খাওয়ার সময় যখন ঝালে চোখে জল এসে গিয়েছিল প্রায়, তনুজা কিছু না বলেই এটা এগিয়ে দিয়েছিল। মুচকি হেসে ড্রয়ারটি আঁটকে ফেলল। ঠিক সেভাবেই, যেভাবে আঁটকেছে সে এই পাষণ্ডীর মায়ায়।

_______
পরদিন শুদ্ধর সাথে তনুজার দেখা হলো দিশার বিয়েতে। বড্ড বাজে এক পরিস্থিতিতে। কনে পালানো মুহূর্তে! সাথে আছে শুদ্ধ নিজেই। শাওন এ-ব্যাপারে ঘুণাক্ষরেও জানে না। সে বিয়েতে আসার পর থেকে খেয়ে যাচ্ছে। আর বলছে, এক্সের বিয়েতে কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার মজা, তুম ক্যায়া জানোগে, শুদ্ধ বাবু?

শুদ্ধ সেখান থেকে সরে দিশাকে কল দিয়েছিল। দিশার ফোনে শুদ্ধর নম্বর সেভ করা ছিল। কল রিসিভ করেই বলেছে, “ভাইয়া, তুমি এসেছ কি?”

তখন, শুদ্ধ বলল, “হ্যাঁ, তুমি কই?”

“আমি আমার রুমেই আছি। আপাতত একা। ও কী করছে?”

শুদ্ধ শাওনের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলল, “খাচ্ছে।”

ওদিকে দিশার রাগ হলো। দাঁতে দাঁত পিষে বলল, “খাক ও, জন্মের খাওয়া খাক। তুমি শোনো।”

“হুম, বলো।”

“একটা হেল্প করো তো!”

শুদ্ধ এটারই অপেক্ষায় ছিল। বাকিটা সে জানে। দিশা কী বলবে—তা-ও জানে। জেনেই বলল, “রুম কোনদিকে?”

দিশা জানাল, “দেখো, ভেতর থেকে বুঝতে পারবে না। বাইরে থেকে দক্ষিণের এই বারান্দাসহ রুমটা।”

“বাহ! বারান্দা আছে! মেঘ না চাইতেও জল-ঠাডা সবই পড়ছে!”

“হ্যাঁ, কিন্তু বারান্দা তো বাইরে থেকে লাগানো। লাগানো বলতে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখায় আটকে আছে।”

“সেটা ব্যাপার না। আমি এসে সরাচ্ছি।”

ততক্ষণে শুদ্ধ হাঁটতে হাঁটতে দক্ষিণে চলে এলো। চোখ কুঁচকে বলল, “এদিকটায় এত ফাঁকা কেন?”

“ভাইয়া, বাড়ির পেছন দিক তো! এজন্য কেউ আসে না। তাছাড়া, ওখানে দুটো কবর আছে, দাদার বাবা আর তার দাদার। এজন্য বাচ্চারা খেলার ছলেও আসে না।”

“আচ্ছা, সমস্যা নেই তা। তুমি বিয়ের পোশাকের উপরে বোরকা জড়িয়ে নাও। এক্সট্রা সিকিউরিটি।”

“আচ্ছা, ভাইয়া।”

“জুয়েলারি সব খুলে রেখে এসো। শব্দ হলে সমস্যা হবে।”

“কিন্তু..”

“বেশি কথা বোলো না তো! বি ফাস্ট! আর দরজাটা আটকে নিয়ো। ওয়েট! বিয়ের কনেকে তো একা রাখা হয় না! তুমি একা কী করো?”

“আমি একা ছিলাম না। খালাতো বোন সাথে ছিল। বিয়েতে আমার ফ্রেন্ডের নাম করে ওর বয়ফ্রেন্ডও এসেছে। এখন সেখানে গেছে ও তার সাথে কথা বলতে, লুকিয়ে।”

“আচ্ছা। আমি এসে গেছি। এগুলো সরাচ্ছি। তুমি রেডি হয়ে নাও।”

মিনিট পনেরোর মধ্যেই শুদ্ধ দরজাটা খুলে দিলো। দিশাও দাদির সুন্নতি বোরকা পরে তৈরি। শুদ্ধকে দেখে দিশা নিকাপের আড়ালে এক গাল হেসে বলল, “উফ! তুমি না থাকলে যে কী হতো, শুদ্ধ ভাইয়া! শাওনের মতো তুমিও আমাকে মানা করে দিলে সিরিয়াসলি বলছি, সুইসাইড এটেম্পট করতাম!”

চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ