Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রয়োজনে প্রিয়জনপ্রয়োজনে প্রিয়জন পর্ব-৩৮+৩৯+৪০

প্রয়োজনে প্রিয়জন পর্ব-৩৮+৩৯+৪০

#প্রয়োজনে_প্রিয়জন
#পর্ব_৩৮
#তানজিলা_খাতুন_তানু

– আমার ছেলে মেয়ে দুটোকে দেখে রাখবি প্লিজ।

আকরাম খাঁন কিছু বলতে যাবে তার আগেই টুসির শ্বাস কষ্ট শুরু হয়, আকরাম খাঁন তাড়াতাড়ি করে ডক্টরকে ডাকতে যায় কিন্তু তার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়।

আকরাম খাঁন এসে দেখেন টুসি শে/ষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। আকরাম খাঁনের মনটা ভীষন খারাপ হয়ে যায়। বাচ্চাগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,

– জন্মানোর সাথে সাথেই তোরা যে অনাথ হয়ে গেলি।

তখনি আকরাম খাঁনের কাঁধে একজন হাত দিলো, পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখল ওনার শশুর মশাই।

– বাবা আপনি।
– আকরাম বাবা একটা খারাপ খবর আছে।
– কি।
– বেবিটাকে বাঁ/চানো যায়নি।

আকরাম খাঁন মাথাতে হাত দিয়ে বসে পড়লেন। একদিকে বান্ধবী আর অন্যদিকে সন্তান হারিয়ে প্রচন্ড রকমের ভেঙে পড়লেন উনি।

– আকরাম বাবা একটা কথা বলব।
– কি বাবা বলুন।
– ওই দুটো সন্তানকে নিজের সন্তানের পরিচয় দাও।
– আপনি এইসব কি বলছেন?
– দ্যাখো তোমার বান্ধবীর তো দুই সন্তান হয়েছে আর তোমাদের সন্তান তো নেই। ছেলে মেয়ে দুটোর প্রয়োজন বাবা মা, আর তোমাদের প্রয়োজন সন্তান। এইরকম অবস্থাতে তোমার কি মনে হয় আকরাম। যেটা তোমার মনে হয় সেটাই করো।

আকরাম খাঁনের শশুর মশাই চলে গেলেন। আকরাম খান কি করবে বুঝে উঠতে পারল না। সর্বশেষে অনেক চিন্তা ভাবনা না করে সকলের থেকে সত্যিটা লুকিয়ে রেখে রুহি আর রুদ্রকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেই।

ছোট থেকে নিজের পরিচয়ে বড়ো করে তুলতে থাকে, কখনোই বুঝতে দেয়নি ওরা ওনার নিজের সন্তান নয়।

সবটা শুনে অতসীর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। আকরাম খাঁন নিজের চোখের পানিটা মুছে নিয়ে বলল,

– কখনোই ওদেরকে বুঝতে দিইনি, নিজের সন্তানের মতো বড়ো করে তুলেছি কিন্তু রুহি কি করল আমার মানসম্মান সবটা মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে একজনের সাথে পালিয়ে গেল। এইবার তুমি বলো, আমার রাগ করাটা কি স্বাভাবিক নয়।

অতসী কিছু বলল না। চোখ দিয়ে পানি ঝড়ে পড়ছে‌। আকরাম খান অতসী কে জড়িয়ে ধরলেন, অতসীর কান্নার পরিমান বেড়ে গেল।

– কাঁদিস না মা। রুহি আর রুদ্র আমার নিজের সন্তান না হলেও আমি কখনোই তোর সাথে ওদের পার্থক্য করিনি। রুহির প্রতি আমার রাগ থাকলেও আমি কখনোই আমার কোনো কিছু থেকে ওকে বঞ্ছিত করিনি। আমার প্রতিটি জিনিসই তোদের তিন ভাইবোনের নামে। তোর বাবা এতটাও খারাপ মানুষ নয় রে মা।

অতসী বাবাকে আঁকড়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।

– বাবা।

এতদিন পর অতসীর মুখে বাবা ডাকটা শুনে আকরাম খাঁন ইমোশনাল হয়ে গেলেন। খুশিতে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।

– মারে আমার মা।

অতসীকে শান্ত করে আকরাম খাঁন বলল,
– এতদিন পর তোকে কাছে পেয়েছি আমি আর তোকে হারাতে চাই না। তুই যা বলবি তাই মেনে নেব,তবুও ফিরে চল।

অতসী কিছু একটা ভেবে বলল,

– আমি ফিরতে পারি তবে দুটো শর্তে।
– বল।
– প্রথমত, এই চরম সত্যিটা দাদাভাই বা অন্য কেউ না কোনোদিন জানতে পারে। আমি দাদাভাইকে হারাতে পারব না বাবা।
– তুই না বললেও আমি কখনোই কাউকে বলতাম না। আর রুদ্রকে তো কখনোই না। দ্বিতীয় শর্তটা বল।
– আমি বিয়ে করতে চাই।
– এটা তো খুব ভালো খবর। ছেলেটা কে?
– শর্তটা তো‌‌ এইখানেই।
– মানে?
– আমি যাকে বিয়ে করতে চাই আমার‌ বিয়ে তার‌ সাথেই দিতে হবে।‌ কোনোভাবেই না বলা যাবে না।
– ভালো খারাপ কিছু বলতে পারব না
– এতগুলো বছর তো নিজেই নিজের ভালো খারাপ দেখেছি আর একটা দেখি না।

আকরাম খাঁন কিছু বলতে পারলেন না।

– বাবা আমি কিন্তু আমার সাথে হওয়া ঘটনাগুলো কিছুই ভুলিনি। আপনি যদি আমার শর্তে রাজি না নন, তাহলে আমি কিন্তু আবারো হারিয়ে যাবো আর কখনোই আমাকে খুঁজে পাবেন না।
– না।‌ আমি রাজি তোর কথাতে।

অতসী বাঁকা হাসল। খেলা তো এই শুরু হলো, এখনো অনেককিছুই বাকি আছে।

২দিন পর,

বাড়িতে হঠাৎ করেই গেষ্ট আসাতে আদৃতের মা একটু অবাক হয়েছে।‌ আর তার থেকেও অবাক হয়েছে অচেনা মানুষগুলোকে দেখে।

– আপনারা কারা আমি তো‌ ঠিক চিনলাম না।
– দিদি আমি অতসীর বাবা, একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।

আদৃতের মা অতসীর বাবা কথাটা শুনে চমকে গেলেন। অতসীর বাবা মানে তো রুহির ওহ বাবা।

– আপনি ভেতরে আসুন।
– বাড়ির বাকিদের ডাকলে একটু সুবিধা হতো।
– আমার ছেলে অফিসে আছে আমি ওকে আসতে বলছি

আদৃত দের মা আদৃতকে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলে আকরাম খাঁনকে বসতে বলে নাস্তার ব্যবস্থা করতে লাগল।

আকরাম খাঁন গোটা বাড়িটা দেখছিলেন, বেশ‌ সাজানো গোছানো ঘরবাড়ি। ওনার বাড়ির মতো অনেক বড়ো না‌ হলেও খুব সুন্দর।

আরু বসার‌ ঘরে এসে দেখে একজন লোক বসে আছে। আরুর ভ্রু কুঁচকে যায়, এগিয়ে এসে কোমড়ে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করে,

– আপনি কে?

আচমকা আক্রমনে আকরাম খাঁন চমকে উঠল। কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরু বলল,

– তুমি কি ভিলেন?
– কি!

আরুর কথা শুনে আকরাম খাঁনের চোখ বেড়িয়ে আসার উপক্রম। বাচ্চা একটা মেয়ে ওকে ভিলেন বলছে, ওকে কি দেখতে ভিলেনের মতো।

– হ্যাঁ আমি দেখেছি দুষ্টু লোকগুলো এইভাবে হিরোদের বাড়িতে এসে ঝামেলা করে।
– আমাকে কি তোমার দুষ্টু লোক মনে হয়।
– অচেনা মানুষদের সবাইকেই আমার দুষ্টু লোক লাগে।

আকরাম খাঁন কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদৃতের মা ওইখানে এসে বলল,

– আরু দিদিভাই কি করছ।
– দিদুন ওই লোকটা কি ভিলেন।

আদৃতের মা চমকে উঠল। সত্যি তো আকরাম খাঁন তো ভিলেনই। তবূও নিজেকে সামলে নিয়েবলল,

– দিদিভাই উনি তোমার দাদু হয়। এইভাবে বড়োদের সাথে কথা বলতে হয়? সরি বলো দাদুকে।
– সরি দাদু।
– আরে না বাচ্চা মানুষ।

আকরাম খাঁন আরুকে কোলে বসিয়ে একটা চুমু দিলেন।

– মিষ্টি একটা মেয়ে।

তখনি কলিংবেলের শব্দ হলো। আদৃতের মা এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখলেন আদৃত এসেছে।

– মা এইভাবে আসতে বললে আমাকে, সবকিছু ঠিক আছে তো।
– হুম।‌ ভেতরে আয়।

আদৃত আকরাম খাঁনকে দেখে চমকে উঠল। কিছু বলতে যাবে তার আগে আরু দৌড়ে বাবা বলে জড়িয়ে ধরল আদৃতকে। আদৃতও আগলে নিলো আরুকে। আকরাম খাঁন আদৃতের মাকে জিজ্ঞেস করল,

– উনি কে?
– আমার ছেলে আদৃত।
– আর বাচ্চাটা?
– আমার মেয়ে। (আদৃত)

আকরাম খাঁন চমকে উঠলেন। অতসীর‌ কাছে যেটা শুনেছে ছেলেটারা এক ভাই আর এক বোন। আরু আদৃতের মেয়ে মানে ওহ কি বিবাহিত, সেই কারনেই কি অতসী শর্ত দিয়েছে।

#চলবে…

#প্রয়োজনে_প্রিয়জন
#পর্ব_৩৯
#তানজিলা_খাতুন_তানু

আকরাম খাঁন আদৃতকে কিছু জিজ্ঞাসা করবে তার আগেই আদৃত নিজে থেকেই বলল,

– আপনি আমার বাড়িতে, কোনো প্রয়োজন!
– হ্যাঁ একটা দরকারেই এসেছিলাম। তবে তুমি কি আমাকে চেনো?

প্রশ্নটা আদৃতের কাছে অদ্ভুত লাগল। তবুও মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,

– আপনাকে কে না চেনে, আমিও সবার মতোই চিনি। তবে কোথাও না কোথাও একটু বেশিই।
– মানে?
– মাম্মাম তুমি ভেতরে যাও।
– আচ্ছা।

আরু দৌড়ে ভেতরে চলে গেল। আকরাম খাঁন এখনো কিছুই বুঝতে পারেননি।

– আপনি কি দরকারে এসেছেন বলুন।
– আমি অতসীর বিষয়ে একটা কথা বলতে এসেছিলাম।
– কি কথা।
– অতসীর সাথে আদৃতের বিয়ের বিষয়ে।

আদৃত আর ওর মা দুজনেই চমকে উঠল। আদৃত বলল,
– আপনি কি সবকিছু জেনেই বিয়ের কথা বলতে এসেছেন!
– কি সবকিছু?

আদৃত বুঝলে আকরাম খাঁন এখনো পর্যন্ত কিছুই জানেনি। তারমানে অতসী ওনাকে কিছুই না জানিয়ে,এইখানে পাঠিয়েছে। কিন্তু কেন? এখন সত্যিটা জানলে তো একটা খারাপ সিচুয়েশন ক্রিয়েট হবে। আদৃত কোনো কিছুই না ভেবে বলল,

– আমার অতীত।
– না অতসী আমাকে কিছুই বলেনি। শুধুমাত্র তোমাকে বিয়ে করতে চাই এই কথাটা বলেছে। আর আমি আমার মেয়ের ইচ্ছা রাখতেই এইখানে এসেছি।
– এই কাজটাই যদি ৭বছর আগে করতেন তাহলে হয়তো এতকিছু হতো না।

আদৃত তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে কথাটা বলল। আকরাম খাঁন কিছুই বুঝল না, সবটাই ওনার কাছে এলোমেলো লাগছে।

– কি বলতে চাইছ পরিষ্কার করে বলো।
– রুহিকে চেনেন?

আবারো রুহি। আকরাম খাঁন বিরক্ত হলেন, সবকিছুতেই কেন যেন বারবার রুহি নামটা চলে আসছে।

– হ্যাঁ, আমার.. (অন্যকিছু বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলো, অতসী কে কথা দিয়েছে সত্যিটা কাউকে জানতে দেবে না।) আমার বড়ো মেয়ে।
– রুহি আমার স্ত্রী।

আকরাম খাঁন প্রচন্ড পরিমানে চমকে উঠল। রুহির স্বামীর সাথে অতসী বিয়ে করতে চাইছে এইটা মেনে নিতে ওনার বড্ড কষ্ট হচ্ছে।

– রুহি আমার হাত ধরেই ৭বছর আগে চলে এসেছিল, এবং ৫বছর আগে আমাদের সন্তানকে জন্ম দিতে গিয়ে মা’রা যায়। এই সত্যিটা জানার পরেও কি আপনি আপনার ছোট মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দেবেন?

আকরাম খাঁন সোফাতে বসে পড়লেন। অতসী এইভাবে ওনাকে অপদস্থ করবে সেটা কখনোই ভাবতে পারেনি। যেই ছেলেকে ৭বছর আগে প্রত্যাখান করেছিলেন আজ তার কাছেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। অপমানে লজ্জাতে মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে আকরাম খাঁনের।

দূর থেকে দাঁড়িয়ে সবটাই দেখছে অতসী। ওহ যে এই বাড়িতে আছে সেটা আরু আর আদৃতের মা জানেন, তবে সবকিছুর মাঝে আদৃতের মা কথাটা ভুলেই গেছেন। অতসী দেখতে চেয়েছিল ওর বাবা কি করে, আর তার জন্যই আরুকে তাড়াতাড়ি পড়াতে এসেছিল।

– সরি বাবা। আমি জানি তুমি অপমানিত বোধ করছ, কিন্তু এটার যে অনেক দরকার ছিল। তোমাকে বোঝানোর দরকার ছিল, কাউকে ছোট করলে নিজেকেও ছোট হতে হয়। কাউকে অবহেলা অপমান করলে সেটা একদিন নিজের কাছেও ফিরে আসে। তুমি তোমার জেদ ও টাকার কারনে কিছুটা হলেও অহংকারী হয়ে উঠেছিলে, সেই অহংকার টাকেই আমি শেষ করে দিতে চাই।

আকরাম খাঁনকে এইভাবে বসে থাকতে দেখে, আদৃত ওনার সামনে বসে বলল,

– আপনাকে বাবা বলার অধিকার আমার আছে কিনা জানি না, তবুও বাবা বলছি। আপনি আমার বাবার বয়সী, আমার গুরুজন। সেইদিন সত্যি আমি আপনার বড়ো মেয়ের যোগ্য ছিলাম না, বাবাকে হারিয়ে আমাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল। আমিও বেকার ছিলাম, তবে কয়েকদিন সময় দিলে আমি ঠিকই দাঁড়িয়ে যেতাম। কিন্তু আপনি আমার সাথে কথা না বলে, শুধুমাত্র আমি বেকার বলে রুহির অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করে দিলেন। সেইদিন যদি আপনি বিয়ে ঠিক না করে আমার সাথে একবার কথা বলতেন তাহলে হয়তো এইসব কিছুই হতো না।

আকরাম খাঁন আদৃতের কথাগুলো শুনে নিজের মনেই উপলব্ধি করলেন। হ্যাঁ সেইদিন যদি জেদ দেখিয়ে বিয়েটা ঠিক না করে আদৃতের সাথে দেখা করতেন তাহলে হয়তো এতকিছু ঘটত না।

– রুহি আপনাদের ছেড়ে এসে ভালো ছিল না। একা সময়েই আপনাদের কথা মনে করে কাঁদত। আর আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিয়ে গেছে, সফল হবার জন্য যাতে আমাকে নিয়ে আপনার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারে, গর্ব করে বলতে পারে ভুল মানুষকে বেছে নেয়িন। আমিও প্রতিষ্ঠিত হলাম আর রুহির প্রেগন্যান্ট হবার খবর জানতে পারি। তখন রুহি নিজের মত পাল্টে ফেলে, বেবি হবার পর আপনাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। একটা ফুটফুটে বাচ্চাকে পেয়ে আপনারা কখনোই ওকে ফিরিয়ে দেবেন না এই আশা নিয়ে দিন কাটাতে থাকে। আমাকে সবসময়েই বলত,

– আমাদের বেবি দেখলে বাবা কখনোই আর আমাদের উপরে রাগ করে থাকতে পারবে না দেখবে।
– হুমম তাই যেন হয়।
– জানো আমার না খুব মন খারাপ হয়, প্রতিটা মেয়েই তার প্রথম সন্তানের সময়ে বাবার বাড়িতে থাকে কিন্তু আমি সেটা তো দূর তাদেরকে নিজের পাশেই পাচ্ছি না।
– কেন আমরা কি তোমার দেখাশোনা ঠিক মতো করতে পারছি না।
– আরে না। তোমরা তো আমাকে রাজরানির মতো রেখেছ। মা মিতু তুমি সবাই আমার খুব খেয়াল রাখো। তবুও
– আচ্ছা বাদ দাও মন খারাপ করো না।

– আমরা রুহির খেয়াল রাখলেও ও আপনাদেরকে পাশে চাইত কিন্তু আমি ওকে সেটা দিতে পারিনি। প্রেগন্যান্সির দিন যত বাড়তে লাগল রুহির ছটফটানি ততই বাড়তে লাগল, আপনাদেরকে দেখার জন্য আকুল হয়ে পড়তে লাগল। বুঝিয়ে শুনিয়ে ওকে রেখেছিলাম যে বেবি হবার পর ওকে নিয়ে যাবো কিন্তু তার আগেই রুহি সবকিছু ছেড়ে চলে গেল।

আদৃত নিজের চোখের কোনের পানিটা মুছে নিল। আকরাম খাঁনের চোখেও পানি চিকচিক করছে, রুহি নিজের মেয়ে না হলেও কখনোই ওকে নিজের মেয়ের থেকে কম আদর ভালোবাসায় বড়ো করেননি। কিন্তু নিজের জেদ, অহংকারের বশে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। আজকে আদৃতের কথাগুলো ওনার হৃদয়ের অহংকারগুলোও ভেঙে পড়তে লাগল।

– রুহি চলে যাবার পর আমি আর আপনাদের মুখোমুখি হতে পারিনি। একটা ভয়ে, আপনারা যখন জিজ্ঞেস করবেন রুহি কোথায় তখন কি জবাব দেবো। সেই ভয় থেকেই আমি আরুকে আপনাদের থেকে দূরে রেখেছি পারলে আমাকে মাফ করে দেবেন।
– আমার দিদিভাই কে একটাবার ডাকবে।

আদৃতের মা আঁচলে চোখ মুছে বললেন,
– আমি ডাকছি।

উনি চলে যেতেই, আকরাম খান আদৃতের হাতটা ধরে বলল,

– আমাকে মাফ করে দিও আমি নিজের জেদ, অহংকারের বশে অনেক বড়ো ভুল করে ফেলেছি। মাফ করে দিও।
– এইভাবে বলবেন না আপনি আমার গুরুজন। আর ভুল সবাই করে, কিন্তু ভুলটাকে স্বীকার করতে কজন পারে।

আদৃতের কোমল ব্যবহারে আকরাম খাঁন মুগ্ধ হলেন, সত্যি ছেলেটার তুলনা হয় না। এই কয়েকমিনিটেই ওনার মন জয় করে নিয়েছে, এই জন্যই কি ওনার দুই মেয়েই আদৃতের জন্য পাগল। আকরাম খাঁন আফসোস করতে থাকে, সেইদিনের জন্য। যদি একবার আদৃতের সাথে দেখা করতেন তাহলে হয়তো জীবনের ৭টা বছর এইভাবে কা’টত না।

আদৃতের মা আরুকে নিয়ে এসে আকরাম খাঁনের উদ্দেশ্য বললেন,

– আরু দিদিভাই, ওইটা তোমার দাদুভাই হয় যাও ওনার কাছে।

দিদুনের কথা শুনে আরু আদৃতের দিকে তাকাল, আদৃত অনুমতি দিতে আরু এগিয়ে গেল। আকরাম খাঁন আরুকে কোলে তুলে নিয়ে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলেন।

– আমার দিদিভাই।

আনন্দে ওনার চোখে আবারো পানি চলে আসলো। ছোট আরু কিছুই বুঝল না। পিটপিট করে ওনার দিকে তাকিয়ে থাকল।

সকলেই খুব খুশি, অতসীও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
সবকিছুই ঠিকঠাক হয়েছে।

– তাহলে দাদা আপনি রাতে খেয়ে বাড়ি যাবেন, আমি রান্নার ব্যবস্থা করছি কেমন।
– আরে না আজকে নয় অন্যদিন। আদৃত আমার প্রস্তাবটার কি হবে।
– কি প্রস্তাব।
– অতসীর বিষয়টা?

আদৃত চুপ করে থাকল। আকরাম খাঁন বুঝল আদৃত এখন এই বিষয়ে কথা বলতে পারছে না।

– ওকে আজকে আমি আসছি। পরে কথা হবে। আর আদৃত একদিন তুমি সবাইকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসো, সবাই খুব খুশি হবে।
– আচ্ছা চেষ্টা করব।
– আসছি।
– চলুন আপনাকে আগিয়ে দিয়ে আসি।
– চলো।

আদৃত আকরাম খাঁনকে নিয়ে এগিয়ে গেল। আকরাম খাঁন গাড়িতে উঠার আগে বলল,

– আদৃত আমি সত্যি সবকিছুর জন্য অনুতপ্ত, পারলে আমাকে মাফ করে দিও।
– হুমম। বাবা আপনাকে একটা কথা বলার ছিল।
– কি বলো।
– বাবা আমি অতসী কে বিয়ে করতে পারব না। আপনি প্লিজ ওর পাগলামীতে সায় দেবেন না।
– কিন্তু কেন?
– আসলে বাবা…

আদৃতের কথা শুনে আকরাম খাঁনের মাথাতে আকাশ ভেঙে পড়ল।

#চলবে…

#প্রয়োজনে_প্রিয়জন
#পর্ব_৪০
#তানজিলা_খাতুন_তানু

শাহানা আজকে কলেজে যায়নি, বাড়িতে গেষ্ট আসার কথা আছে। জমজমাট আয়োজন চলছে, শাহানা এখনো বুঝতে পারছে না কে আসবে।

-মা কে আসবে আজকে? এত আয়োজন কার জন্য!
-তোর বাবার বিজনেসের কেউ। আজকে একটা ডিল হবার কথা আছে, যদি ডিলটা আমরা পাই তাহলে কোম্পানির অনেক উন্নতি হবে।
-ওহ।

কলিংবেল বেজে উঠাতে শাহানার মা শাহানাকে দরজা খুলে দিতে বলল। শাহানা বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে চমকে উঠল।

– তুই?

অতসী নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

– কি হলো তুই আমাদের বাড়িতে কেন?

অতসী তখনো চুপ করে আছে, শাহানার রাগ তরতর করে বেড়ে যাচ্ছে।‌ রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগে শাহানার বাবা পেছন থেকে বলে উঠলেন,
– আরে মিস খাঁন আপনি চলে এসেছেন। ভেতরে আসুন।

অতসী শাহানাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল, শাহানা কিছুই না বুঝে দাঁড়িয়ে রইল।

– আপনার আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো।
– না, না।
– আপনি নিজে থেকে এই বাড়িতে এসেছেন, আমি বলে বোঝাতে পারব না আমি ঠিক কতটা খুশি হয়েছি।
– এইভাবে বলবেন না। আর আমার এইখানে আসার তো একটা কারন আছে,তাই এসেছি।
– কি কারন?

অতসী কিছু না বলে মুচকি হাসল। শাহানার বাবা অবাক হলো, এই মেয়েটা এতটা রহস্যময়ী কেন? এত কমবয়সে নিজেকে একটা জায়গাই প্রতিষ্ঠিত করা মুখের কথা নয়, কিন্তু সেটা অতসী করিয়ে দেখেছে। উনিও চান ওনার মেয়েও অতসীর মতো হোক। কিন্তু মেয়েটা তো দিনকে দিন অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে।

শাহানা ততক্ষনে দরজা বন্ধ করে ওদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। শাহানা দেখা মাত্রই অতসী বাঁকা হাসল।শাহানার বাবা শাহানাকে বলল,

– মিস খাঁন ওটা আমার মেয়ে শাহানা। আর শাহানা উনি আমার …
– আমি ওকে ভালো করেই চিনি বাবা।
– এটা তো ভালো খবর। ওকে দেখে ইন্সপায়ার হও।
– না বাবা এটা মোটেও ভালো খবর নয়। আর ওকে দেখে আমি ইন্সপায়ার হবো কেন?
– কেন?
– বাবা এটা অতসী, যে তোমাকে ফোন করে আমার নামে উল্টেপাল্টা কথা বলেছিল।

শাহানার বাবা চমকে উঠলেন। অতসীর মুখে তাকিয়ে দেখল, অতসী চুপচাপ বসে আছে, যেন এইখানে কিছু কথাই হয়নি।

– এসব কি বলছিস তুই। উনি কিভাবে?

শাহানা কিছু বলতে যাবে,তার আগে অতসী বলল,

– আমার পুরো নাম অতসী খাঁন। ……. থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট।

শাহানার বাবার মাথাতে আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম। উনি ভালো করেই বুঝে গিয়েছে অতসীই সেই মেয়ে, যে সেইদিন ফাইট করেছিল। উনি ভেবে পেলেন না সেইদিন অতসীকে যা অপমান করেছে, তারপরেও কি অতসী এই ডিলটা করতে রাজি হবে?

– আঙ্কেল এতটা ঘাবড়ে যাবার কিছুই নেই। আমি আমার পার্সোনাল লাইফের‌ সাথে প্রফেশনাল লাইফটিকে কখনোই গুলিয়ে ফেলি না। আর তার থেকে বড়ো কথা কি জানেন আমার এইখানে আসার কারন একটাই, আমি আপনাদের বোঝাতে চেয়েছিলাম কাউকে কখনো ছোট করা ঠিক নয়। হতে পারে মানুষটি সাধারণ, তবে তার অসাধারণ হতে পারাটা অস্বাভাবিক কিছু না। প্রতিটা মানুষই চেষ্টা করলে সাফল্যের চূড়াতে পৌঁছাতে পারে।

শাহানার বাবা অপমানে মাথা নিচু করে ফেললেন। মেয়ের বয়সী একজন মেয়ে ওনার ভুলটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। উনি মাথা নিচু করে বলল,

– সরি।
– আঙ্কেল আপনার মেয়েটার দিকে একটু নজর দেবেন। মনে রাখবেন, মানুষ হতে সময় লাগলেও অমানুষ হতে কিন্তু সময় লাগে না। আচ্ছা বাদ দিন এইসব কথা, আন্টি আমার জন্য কি রান্না করছে গন্ধেতেই আমার পেট ছু ছু করছে।

অতসীর কথাতে শাহানার বাবা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো। আর যাইহোক মেয়েটা খারাপ না।

অতসী সারাদিন শাহানার পরিবারের সাথে সময় কাটাল। হইহই করে সারাদিন কাটলো, শাহানাও মন খুলে আনন্দ করেছে আজকে।

– আঙ্কেল আমাকে এইবার যেতে হবে।
– আচ্ছা সাবধানে যাবো।

অতসী বেরিয়ে গেল। শাহানার বাবা নিজের মেয়েকে বললেন,

– পারলে এইবার আমার একটু মানুষ হও।

শাহানার বাবা চলে যেতেই শাহানার মা শাহানাকে বলল,

– মেয়েটা খুব মিষ্টি তাই না, কি অমায়িক ব্যবহার।
– অমায়িক ব্যবহারটা তোমার নজরে পড়ল, আর আমাকে যে কত অপমান করল সেটা নজরে পড়ল না।
– তুই অপরাধ করেছিস তাই বলেছে। বেশি কথা বলবি তো আমার হাতে মা/র খাবি।

শাহানা গাল ফুলিয়ে চলে গেল। অতসী বাড়ি ফিরে যাবার সময়ে অতীতে ডুব মারল।

বাড়িভাড়া, কলেজ, সংসার খরচা সবকিছু নিয়ে অতসী হাঁপিয়ে উঠেছে। একটার পর একটা চাকরির খোঁজ করেই চলেছে কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না। তেমনি একদিন একটা কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে গেছে,তখনি ওর সাথে নিলয়ের বাবা দেখা হয়,

– আরে অতসী তুই এইখানে কি করছিস?
– আঙ্কেল তুমি এইখানে?

অতসী সংক্ষেপে ওনাকে সবটা বলল।

– এতকিছু হয়ে গেল আর তুই আমাকে কিছুই জানালি না।
– আঙ্কেল সবটা তো শুনলে বলো।
– জানিস তোর বাবা আগে এইরকম ছিল না, প্রানবন্ত একটা ছেলে ছিল কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গম্ভীর, জেদি আর একরোখা হয়ে গেছে।

অতসী কিছু বলল না। নিলয়ের বাবা আবারো বলল,

– চাকরি খুঁজছিস?
– হুমম।
– আমার কোম্পানিতে চাকরি করবি?

অতসীর একটা চাকরির দরকার, কিন্তু কারোর সুপারিশে চাকরি করতে চাই না। নিজের যোগ্যতায় চাকরি করতে চাই তাই চুপ করে থাকল।

– আমি তোকে একটা কাজ দিতে পারি।
– কি কাজ।
– কম্পিউটারের কিছু কাজ। আবার পক্ষে অনেক চাপ পড়ে যায়, তুই কাজটা করলে আমার বেশ হেল্প হতো।
– কিন্তু আমি কি পারব।
– আমি শিখিয়ে দেবো। আর তুই কাজটা ২-৩ ঘন্টা বাড়িতে বসে করলেই হয়ে যাবে।

অতসী অনেক ভেবে চিন্তে রাজি হয়ে যায়। তারপর থেকে অতসী টিউশনি করানোর পাশাপাশি রাতে কিছুটা সময়ে ল্যাপটপে কাজ করতে শুরু করে। নিজের চেষ্টাতে অতসী ধীরে ধীরে কাজটা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করে ফেলে। আর নিলয়ের বাবার একটা কোম্পানি অতসী দেখাশোনা করতে শুরু করে। নিজের চেষ্টা, পরিশ্রমে অতসী ৩বছরের মধ্যে একটা জায়গা করে নেই।

অতসীর ধ্যান ভাঙে ফোনের আওয়াজে।

– হ্যালো আঙ্কেল বলো।
– কিরে ডিলটা হয়েছে।
– হ্যাঁ।
– খুশি তো তুই?
– হুমম, এইবার শাহানা শুধরে যাবি আশা করি।
– শুধরে গেলেই তো ভালো।
– হুম।

কি মনে হয় আপনাদের, শাহানা কি এইবার শুধরে যাবে?

অতসী বাড়ি ফিরে আকরাম খাঁনকে ফোন লাগল। আদৃতের সাথে কি কথা হয়েছে, সেইসব কিছুই ওর জানা নয়। তবে আদৃত রাজি হয়নি এটা শিওর।

– হ্যালো বাবা।
– হ্যা অতসী বল।
– বলছি বাবা আদৃত কি বলল, তুমি আমাকে বললে না, তো।

অতসীর বাবা কি উত্তর দেবে বুঝতে পারল না। চূপ করে থাকল।

– কি হলো বাবা বলো।
– আদৃতের থেকে জেনে নিস। আমি কিছু বলতে পারব না।
– কিন্তু কেন?
– সব কেন ওর উত্তর হয় না। আমি তোকে কিছূ বলতে পারব না, যদি পারিস আদৃতের থেকে জেনে নিস। আর একটা কথা কালকে বাড়িতে আসিস।
– কেন?
– আদৃত আর ওর বাড়ির সবাই আসছে কাল বাড়িতে। তুই ওহ আসিস তোর মা খুব খুশি হবে।
– চেষ্টা করব।

অতসী ফোনটা কেটে দিলো। কোনো কিছুই মাথাতে ঢুকল না, আকরাম খাঁনের কথার মানে কিছুই বুঝল না।

#চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ