Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বিবিবিবি পর্ব-৪৪ এবং শেষ পর্ব

বিবি পর্ব-৪৪ এবং শেষ পর্ব

#বিবি
#রোকসানা_রাহমান
#অন্তিম_পর্ব

কোমল অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলল,
” আমাকে ক্ষমা করে দেও। ”

স্ত্রীর এমন কাণ্ডে নিবিড় যারপরনাই বিস্মিত হলো। কয়েক সেকেন্ডের জন্য জরাগ্রস্ত ও নিশ্চল হয়ে থাকল। পাথরের মতো শক্ত দেহটা অনুভূতি পেল ওয়ার্ডবয়ের কণ্ঠ পেয়ে। সে বলছে,
” স্যার, ইনি কি আপনার পরিচিত? ”

নিবিড় সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সামনের উৎসুক্যে জটলা পাকা শতাধিক চোখগুলোর দিকে তাকাল। দ্রুত দৃষ্টি ঘুরিয়ে এনে রাখল বোরকায় আবৃত কোমলের দেহটায়। কান্নার দমকে মৃদু মৃদু কাঁপছে। আলিঙ্গন হচ্ছে গাঢ়, শক্ত। সংকুচিত। ওয়ার্ডবয়ের প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিজোড়ার দিকে চেয়ে একহাতে জড়িয়ে নিল কোমলকে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,
” আমি একটু বিরতি নিচ্ছি। তুমি সামলে নিও। ”

দরজা ভেতর থেকে আটকে দুইহাতে বেঁধে নিল স্ত্রীর নরম শরীরটুকু। আদুরে স্বরে সুধাল,
” কী হয়েছে? ”

কোমল উত্তর দেওয়ার বদলে আরেকটু বিঁধতে চাইল স্বামীর সুপুষ্ট দেহাভ্যন্তরে। আরও কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে বলল,
” আমাকে কঠিন শাস্তি দেও। যেন সারা জীবন সেই শাস্তির যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে পারি। ”
” আচ্ছা দেব। কিন্তু আগে অন্যায়টা শুনি? ”

নিবিড়ের বুক থেকে মাথা তুলল সে। ভেজা চোখদুটি মেলে তাকাতে সে বলল,
” আগে একটু বিশ্রাম করো। ”

বলতে বলতে একটা চেয়ারে বসাল। পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে বলল,
” আগে নিজেকে সামলাও। আমি বাইরের রোগীদের একটা ব্যবস্থা করে আসি। ”

কোমল বোতলের পানি হাতে নিলে সে বেরিয়ে গেল। ফিরে এলো প্রায় দশ মিনিট পর। হাতে পাউরুরি, কলা, খাবার স্যালাইন, গ্লাস। বোতলের পানি গ্লাসে ঢেলে স্যালাইন মেশাতে মেশাতে স্ত্রীর দিকে তাকাল। সে নিজেকে সামলানোর বদলে আরও ভেঙে পড়েছে। চোখের পানিতে নেকাবসহ বুকের কাছটাও ভিজে গেছে। পাউরুটির প্যাকেট হাতে নিয়ে বলল,
” এখানে আমার অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করবে না। বোরকা খুলতে পার। ”

সে বোরকা খোলার বদলে শব্দ কান্নায় ভেঙে পড়ল। পা তুলে নিল চেয়ারে। হাঁটুতে কনুই ঠেকিয়ে দুহাতে মুখ ঢেকে নিয়ে বলল,
” আমি পাপী। দয়া করে শাস্তি দেও। ”

নিবিড় নিজ হস্তে নেকাব খুলল। বোরকার বোতাম খুলতে খুলতে বলল,
” দেব। আগে খাবারগুলো খেয়ে নেও। তুমি খুব দুর্বল। নিশ্চয় অভুক্ত পেটে এখানে এসেছ। ”

কোমল খাবারের দিকে তাকালও না। আপন ইচ্ছায় অশ্রু বিসর্জন দিয়ে চলল শুধু। নিবিড় নিজেই খাওয়াল। স্যালাইনের অর্ধেক শেষ হওয়ার পর জানতে চাইল,
” এবার বলো, কী পাপ করেছ। ”

স্বামীর অনুমতি পেয়ে অনড়ার ব্যাপারের জানতে পারা সবকিছুই খুলে বলল। সে সবটা শুনে বিন্দুমাত্র অবাক হলো না। সামান্য হেসে বলল,
” আমার কোমল নিজ থেকে ফিরে এসেছে বলে সকল পাপ ক্ষমা করা হলো। যদি আমাকে জোর করে আনতে হতো, তাহলে কঠিন শাস্তি অবশ্যই দিতাম। ”

কোমল অবুঝের মতো পূর্ণদৃষ্টিতে চেয়ে থাকলে সে তার পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসল। কোলে মাথা ফেলে বলল,
” আপনি কোনো অন্যায় করেননি। পরিস্থিতির চাপে পড়ে শুধু একটু বোকা হয়ে গিয়েছিলেন। তার শাস্তিতো পেয়েছেন এতগুলো মাস ধরে। স্বামীর কাছাকাছি ছিলেন অথচ ভালোবাসা পাননি। এর থেকে কঠিন শাস্তি কী হতে পারে? ”
” আমাকে শাস্তি দিতে গিয়ে তুমিও শাস্তি পেয়েছ। ”
” তা পেয়েছি। কিন্তু অকারণে নয়। দোষ আমারও ছিল। আপনার বোকামিকে প্রশ্রয় না দিয়ে অন্যভাবেও সমস্যার সমাধান করা যেত। ”

নিবিড়ের চুলে আঙুল ডোবাল কোমল। মুহূর্তে শরীরের সকল ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। মনের ব্যথা মুখ লুকিয়ে পালাল। বেদনার অশ্রু আনন্দের অশ্রুতে রূপ নিতে হিসেব কষল মনে মনে। শত শত দিন পর এই চুলের স্পর্শ পেল অঙ্গুলিদ্বয়ে। হৃদয় জুড়িয়ে গেল বুঝি!

” এবার মায়ের শাস্তি পাওয়ার পালা। ”

স্বামীর বদলে যাওয়া কণ্ঠস্বরে কোমল চমকাল। উচ্চারিত বাক্যের অর্থটা বুঝে আসতে বুক কেঁপে ওঠল। সভয়ে আপনাআপনি উচ্চারিত হলো,
” আম্মার শাস্তি! ”

নিবিড় মাথা তুলে বলল,
” হ্যাঁ। তাকে সকল সত্য জানিয়ে দিয়ে আমরা ঐ বাচ্চাটিকে দত্তক নেব। তার চোখের সামনে অন্য একটি বাচ্চাকে আদর – ভালোবাসা দিয়ে বড় করব। পিতৃপরিচয় দেব। এটাই তার শাস্তি হবে। ”
” না, তাকে এসব কিছু বলবে না। ”

কোমলের এই প্রতিবাদ একদমই পছন্দ হলো না নিবিড়ের। তার থেকে দূরে সরে বলল,
” অবশ্যই বলব। সে অন্যায় করেছে। শাস্তি তো পেতেই হবে। ”

কোমল চেয়ার ছেড়ে ওঠল। স্বামীর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বলল,
” অন্যায় না, বোকামি করেছেন। আমি, তুমি যেমন পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছি। তিনিও তেমনই। মা হিসেবে সন্তানের সুখ চেয়েছেন। পরিপূর্ণ সংসার দেখতে চেয়েছেন। ”

নিবিড়ও প্রতিবাদ করতে চাইল। কোমল সেই সুযোগ না দিয়ে বলল,
” সেই বোকামির শাস্তি তিনি পাচ্ছেন। ”
” কীভাবে? ”
” তোমার থেকে দূরে সরে। তুমি কি খেয়াল করোনি? আম্মা সরাসরি তোমার সাথে কথা বলে না? ”

নিবিড় একটুক্ষণ চুপ থেকে ভাবতেই মনে পড়ল। তার মা সত্যিই সরাসরি তার সাথে কথা বলতে আসেন না। কোমলকে মাঝে রাখেন।

” একজন মা সন্তানের থেকে দূরে থাকলে কতটা কষ্ট পায় সেটা হয়তো আমি, তুমি উপলব্ধি করতে পারব না। তাছাড়া তিনি তোমার মা। সন্তান হিসেবে তুমি ভুল ধরিয়ে দিতে পার, শাস্তি দিতে পার না। আল্লাহ নারাজ হবেন। ”
” তাই বলে মিথ্যা বলব? ”
” না। আমরা সত্য-মিথ্যা কিছুই বলব না। যতদিন না নিজ থেকে জানতে পারবে ততদিন লুকানো থাক। ”

নিবিড় সহমত প্রকাশ করছে না। দ্বিমতও না। মৌন থাকলে কোমল আবার বলল,
” তার খুশির জন্য আমরা এতগুলো মানুষ যে ত্যাগ করেছি, কষ্ট করেছি তার একটু মূল্য থাকা উচিত। ”

কথার মাঝে স্বামীর ডানহাতটা চেপে ধরল। অনুরোধের সুরে বলল,
” কথা দেও, নিজ থেকে আম্মাকে কিছু বলবে না? ”

নিবিড় স্ত্রীর দিকে কয়েক সেকেন্ড নীরব দৃষ্টি নিবদ্ধ করল। তারপরেই হাতঘড়িটার দিকে চেয়ে বলল,
” রাত খুব বেশি হয়নি। বিবি? চলেন, মায়ের একমাত্র নাতনিকে নিয়ে আসি। ”

____________
অনড়ার এল এল বি কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর এল এল এম করার জন্য কানাডার একটি বিশ্বিবদ্যালয়ে আবেদন করেছিল। একাডেমিকে ভালো ফলাফল থাকায় সুযোগও পেয়েছে। সেখানে যাওয়ার তোরজোর চলছিল। সেই ব্যস্ততার মধ্যে এক সন্ধ্যায় নিবিড়ের উপস্থিত ঘটল। সুমনা দুজনকে রেখে বাইরে যেতেই নিবিড় বলল,
” তোমাকে একটা জিনিস দেওয়া বাকি ছিল। দিতে এলাম। ”

অনড়া কিছু বলল না। দূরে অবনত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিবিড় বসা থেকে উঠে তার দিকে হেঁটে গেল। একটা কাগজ এগিয়ে দিয়ে বলল,
” ডিভোর্স পেপার। আমি সাইন করে দিয়েছি। তুমি এখন পুরোপুরি মুক্ত। ”

অনড়া নত অবস্থায় কাগজটা গ্রহণ করল। নিবিড় কিছুক্ষণ নীরব দৃষ্টি রেখে বলল,
” বুবুর উপর রাগ করো না। ও তোমাকে খুব ভালোবাসে। ”

উত্তরে সে মাথা একপাশে কাত করল। নিবিড় আরও কিছু সময় নীরব থেকে বলল,
” একটা সময় তোমার উপর খুব রাগ হয়েছে। শপথ করেছিলাম, তোমার মুখ আর কখনও দেখব না। ”

অনড়া চোখ তুলে তাকাল। এতটা সময় পর ঠোঁট নেড়ে শব্দ বুনে সুধাল,
” আজ শপথ ভাঙলে কেন? ”
” রাগ নেই তাই। তুমি চলে যাচ্ছ খবর শোনার পরই আমার একটু মনখারাপ হয়েছিল। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, তুমি যেমন আমাদের কষ্ট দিয়েছ, তেমন আনন্দও। তোমার জন্যই আজ আমরা বাবা-মা হতে পেরেছি। একটি পূর্ণ ও সুখী সংসার পেয়েছি। যদিও আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এমনই ছিল। সেই অনিশ্চিত পরিকল্পনা হয়তো এর থেকে বেশি সহজ হতো না। যতটা তোমার জন্য হয়েছে। ”
” ওর নাম কী রেখেছ? ”
” বলব না। ”
” কেন? ”
” আমি চাই, ওর মুখ থেকে শোনো। ”
” কী করে সম্ভব? আমি তো কাল সকালই চলে যাচ্ছি। ”
” একেবারে যাচ্ছ না নিশ্চয়? ”
” ফিরবই এমন নিশ্চয়তাও নেই। ”
” ধরে নিলাম, ওর নাম শোনার টানে একদিন ফিরে আসবে। ”

অনড়া বলার মতো আর কিছু খুঁজে পেল না। চুপ হয়ে গেলে নিবিড় বলল,
” তোমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে যদি একটা উপহার দিই গ্রহণ করবে? ”

অনড়া উত্তর দেওয়ার বদলে হাত পাতল। নিবিড় মাঝারি আকারের একটি প্যাকেট দিয়ে বলল,
” আশা করছি তোমার পছন্দ হবে। ”

একটু চুপ থেকে বলল,
” তুমি তো বেশ শান্ত হয়েছ। ব্যবহারেও ভদ্রতা। আমার দেওয়া লাঠিটা আর প্রয়োজন পড়বে না। ফিরিয়ে দিতে পার। ”

অনড়া সত্যি সত্যি লাঠিটা দিয়ে দিল। নিবিড় বিদায় নিয়ে চলে যেতে চেয়েও ফিরে এসে বলল,
” তোমাকে একটা চুমু খাই? ”

অনড়া চকিতে তাকাল। আবদার করল নাকি অনুরোধ বুঝতে পারল না। কয়েক সেকেন্ড বিস্মিত নেত্রে চেয়ে থেকে অনিচ্ছাতে অনুমতিসূচক মাথা নাড়ল। নিবিড় অনুমতি পেয়ে দূর থেকে ঝুঁকে এসে অনড়ার কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়াল। সঙ্গে সঙ্গে অনড়ার বন্ধ চোখের কার্নিশ বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। নিবিড় মৃদু হেসে সুধাল,
” স্বপ্ন মনে হচ্ছে? ”

অনড়ার কান্না চোখ থেকে ঠোঁটে পৌঁছাল। মৃদুস্বরে উত্তর করল,
” হ্যাঁ। এত ভালো স্বপ্ন আমি আর কখনও দেখিনি। ”
” তোমার বুবু যখন আমায় ভালোবাসে তখন আমারও স্বপ্ন মনে হয়। প্রতিবারই মনে হয়, এত ভালো স্বপ্ন আমি আর কখনও দেখিনি। ”

কথাটা বলেই হাতের তুড়ি বাজাল নিবিড়। অনড়া চমকে চোখের পাতা মেলল। নিবিড় দুষ্টু হেসে বলল,
” আমাদের শালী-দুলাভাইয়ের সম্পর্ক কিন্তু কাগজ-কলমেও ছিন্ন হবে না। সেই হিসেবে তোমাকে আমি ছোটবিবি বলেই ডাকব। পড়াশোনা শেষ করে জলদি ফেরত আসো। শুনেছি, পাত্র পছন্দ করা আছে। নাম-ঠিকানা দিয়ে যেও। বিয়ের সকল ব্যবস্থা করে রাখব। প্লেন থেকে নেমেই বিয়ের পিড়িতে বসে পড়বে। তারপর গুছিয়ে সংসার করবে। ”

অনড়া হালকা হেসে বলল,
” আচ্ছা। ”
” এবার তাহলে আসি? ”
” আচ্ছা। বুবুকে দেখে রাখবেন। ”
” হুম। ”

নিবিড়কে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিল। সে রিকশায় ওঠে বলল,
” ভালো থেকো, ছোটবিবি। অপেক্ষায় থাকব। ”

রিকশা যতক্ষণ না চোখের আড়াল হলো ততক্ষণ রাস্তার পানে চেয়ে থাকল অনড়া। রুমে ফিরে এসে বাকি গোছগাছ শেষ করল। ঘুমের জন্য তৈরি হয়ে শুয়ে পড়েও উঠে বসল। কাগজ-কলম নিয়ে লিখতে বসল,

শ্রদ্ধেয় প্রেরক মশাই,

এই বিদায়বেলায় হুট করেই আপনাকে স্মরণ করছি। মনে হলো, আপনাকে কিছু ব্যক্তিগত কথা বলে গেলে মনটা হালকা হবে। সেজন্যই এই মাঝরাতে কলম হাতে নিয়ে বসা।

আমার মা নেই। বাবা দ্বিতীয় বউ নিয়ে সংসার করছেন। তার জীবনে আমার কোনো অস্তিত্ব নেই। দায় থেকে স্বইচ্ছায় মুক্তি নিয়েছেন। আমিও এই ব্যাপারে কখনও প্রশ্ন তুলিনি। ভুলেই থেকেছি সবসময়। জীবিত আছেন নাকি মৃত জানিও না। কাছের বলতে আমার এক নানি আছেন। পিতা-মাতাহীন এই আমি বড় হচ্ছিলাম তার কাছে। ঠিক সেই সময় এক নারীর চোখ পড়ল আমার উপর। মায়ের মতো মমতা ঠাসা সেই চোখে। স্পর্শ আদুরে। কণ্ঠ দরদভরা। আমাকে এমনভাবে আগলে নিল যে নানির সাথে গাঢ় একটা সম্পর্ক গড়ে উঠার সুযোগ হলো না। দিন-রাত এই মায়ের মতো মেয়েটির কাছেই পড়ে রইলাম। সে যদি আমাকে বুবু ডাক না শেখাত তাহলে হয়তো ভুল করে মা বলেই ডেকে বসতাম। সেই মায়ের মতো বুবুর কাছে আমার সুখ-দুঃখ সবকিছুই জমা রাখলেও মনকে রাখতে পারলাম না। তাকে দান করে বসলাম অপাত্রে। নিষিদ্ধ এক সুদর্শনের কাছে। এই অন্যায়টি আমি আজও বুবুর সামনে আনতে পারিনি। কী করে আনব? সেই সুদর্শন যে আমার বুবুর ভালোবাসা, সুখ, আনন্দ। প্রিয় পাত্র। এরপরের ঘটনাগুলো হয়তো আপনার জানা। যেটা জানা নয় সেটি বলি। এই মানুষটিকে যখন বিয়ে করার প্রস্তাব পাই তখনও আমি শক্ত ছিলাম। একমনে বুবুর সুখ চাচ্ছিলাম। সেই চাওয়া বদলে গেল কবুল বলার পর। আমি দুর্বল হয়ে গেলাম। আমার চোখের সামনে যত আদর্শ স্বামী হিসেবে প্রমাণ দিচ্ছিল তত স্বার্থপর হচ্ছিলাম। একরাতে সুযোগ বুঝে স্বার্থোদ্ধত হয়ে পড়ি। সফল হতে পারিনি। উল্টো ঘুমের ঘোরে দুটো থাপ্পড় মেরে চিরতরে বুঝিয়ে দিল, সচেতন এবং অচেতন সকল সময়েই সে বুবুর অধিকার। সেই অধিকারে আমার আবৃত অথবা অনাবৃত কোনো শরীরই ভাগ বসাতে পারে না। আমার এত রাগ হলো যে তার নগ্ন শরীরে অসংখ্য নখের আঁচড় বসিয়ে দিলাম। সারারাত সেই ক্ষত-বিক্ষত শরীরে চেয়ে ভাবলাম, এমন নিখুঁত পুরুষ মানুষও হয়?

আজ এই নিখুঁত মানুষটা আমাকে গভীরভাবে ভালোবেসে বলেছে আমি নাকি স্বপ্ন দেখেছি। এই মিথ্যা বলার কারণটা আমি বুঝেছি। তাই স্বপ্নই ধরে নিলাম। একদিন বুবুকে বলেছিলাম, আমি তার শুধু বিবি হতে চাই। অথচ আজ বিদায়বেলা যেমন করে ছোটবিবি ডাকল তেমন করে যদি আগে ডাকত তাহলে সারাজীবন ছোটবিবি হয়েই থাকতাম। ভারি আফসোস হচ্ছে। এই আফসোসের কথা জানাতে গিয়ে এতবড় চিঠি লিখে ফেললাম। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ইতি
আপনার স্নেহের অনড়া।

পুনশ্চ-১ঃ আপনার মনে মনে ঠিক করা নামটা আমি বুঝতে পেরেছি। যদি কখনও দেখা হয় সেই নামে পরিচিত হব।

পুনশ্চ-২ঃ আপনি ঠিকই ধরেছিলেন। নোট পাঠানোর জন্য রাগ করিনি। সাহায্য করছেন বলে রাগ করেছি। ছোটবেলা থেকে অন্যের সাহায্য নিয়ে বড় হতে হতে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।

পুনশ্চ-৩ঃ বিদেশের মাটিতে আপনার চিঠি পাঠানো আমার পছন্দ হবে না। আশা করছি পাঠাবেন না। যদি দোষ দেন, আমি নিষেধ করিনি। তাই দোষ কাটিয়ে দিলাম। আমি ওখানে একা থাকতে চাই। আমার মতো করে বাঁচতে চাই। যদি কখনও হাঁপিয়ে উঠি তাহলে আপনাকে আবারও স্মরণ করব।

অনড়া চিঠিটা ভাঁজ করে একটি খামে ভরল। ঠিকানা লিখতে গিয়ে হেসে ফেলল। মানুষটা তার চিঠি পেয়ে কী পরিমাণ অবাক হবে সেটাই ভাবছে। সে হয়তো ভাবতেই পারেনি, প্রথম চিঠি পেয়েই তাকে চিনে ফেলেছে। নিজ হাতে চিঠিবাক্সে ফেলবে দেখে নিজের কাঁধ ব্যাগে আগেই ভরে রাখল। ঘুমাতে গিয়ে আচমকা মনে পড়ল, সে কি প্রেরক মশাইকে অপেক্ষা করতে বলেছে? এমনটা কি উচিত হলো? যদি তার একা জীবন খুব দীর্ঘ হয়? কখনও হাঁপিয়ে না উঠে? তাহলে এই মানুষটির কী হবে? অনড়া চিন্তিত হতে গিয়েও হলো না। চিন্তা উড়িয়ে বলল, ‘ আপনি তো আর বুবুর বরের মতো না যে এক নারীতেই জীবন পার করে দিবেন। কিছুদিন পরেই মন বদলে যাবে, ভালোবাসার পাত্রটিও বদলে যাবে। ‘

#সমাপ্ত

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ