Friday, June 5, 2026







তুই হবি শুধু আমার ২ পর্ব-০৮

#তুই_হবি_শুধু_আমার (২)💙
#সাইরাহ্_সীরাত
#পর্ব_০৮

-“আপনি এখানে? ”
রোজের প্রশ্নে ফালাক সরুচোখে তাকালো। রোজ হাত দিয়ে ল্যাহেঙ্গা উঁচু করে ধরে, প্রশ্নবোধক চাহুনি নিক্ষেপ করে আছে। ফালাক চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখে নিল। আরশান গাড়ি থেকে নামছে,বাবারাও আরশানের সঙ্গে আসছেন। রোজ পুনরায় প্রশ্নটি করে। ফালাক জবাব দিল না। ধীরে ধীরে বারান্দা জনশূণ্য হয়ে যেতেই সে রোজের হাত চেপে ধরে। এরপর টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো। রোজ বিস্মিত হয়ে বলল,

-“কি অদ্ভুত! টানছেন কেন? আরে, আরে ছাড়ুন। কেন এসেছেন এখানে? ভারি অসভ্য তো! আরে ভাই ছাড়েন না কেন? ”

ছাদে আপাতত কেউ নেই। ফালাক একটু আগে এসেই দেখে গিয়েছিলো। তাই রোজকে সে ছাদে টেনে নিয়ে আসলো। ছাদের দরজা লাগিয়ে সে রোজের হাত ছেড়ে দেয়। রোজের হাত লাল হয়ে গেছে। রোজ হাতে সামান্য ফুঁ দিয়ে বলে,

-“অসভ্যতার চূড়ান্ত,, ”

-“তোমার কাছে কোনো পার্সেল এসেছিল? ” রোজকে থামিয়ে বলে উঠল।

-“কেন? ”

-“বাড়তি কথা বলবে না। শুধু উত্তর দেবে। এসেছিল? হ্যাঁ কি না। ”

-“হ্যাঁ। ”

-“কি লেখা ছিল তাতে? ”

-“এক বোকা রাজার হুমকিমূলক চিঠি। ”

-“ওটা তোমায় মুগ্ধতা পাঠিয়েছিলো। ”

-“ওহ প্লিজ! আমি সমকামী না, আ’ম নট এ লেসবিয়ান ভাইয়া। তাই এসব বলবেন না প্লিজ!”

রোজ চোখ বুজে তাচ্ছিল্য করে হেসে অভিনয় করে বলে ওঠে বাক্যটা।ফালাক হতভম্ব চোখে তাকায়। রোজ পরক্ষণেই নিজের চেহারা স্বাভাবিক করে বলে,

-“আপনি দাদাইয়ের ছোট ভাই, এটা সত্যিই অনেক পরে জেনেছি। সেদিন লাইব্রেরিতেই আপনার ব্যবহার দেখে বুঝেছিলাম। তাঁরছেড়া আরশানের তাঁরকা’টা ছোট ভাই ফালাক। পার্ফেক্ট কম্বিনেশন আপনাদের। কিন্তু এই চিরকুটের কাহিনি বুঝলাম না। মুগ্ধতা কেন চিঠি দেবে আমায়? এমন বিশ্রি রসিকতা আমার পছন্দ নয়। ”

-“বেয়াইন হও!আর আমাদের সম্পর্কে রসিকতা থাকবে না এটা হতে পারে? ”

রোজের হাত পেছনের দিকে নিয়ে মুচড়ে ধরে ফালাক। রোজের দৃষ্টি ফালাকের চেহারায় নিবদ্ধ। রাগে সারা শরীর রি রি করে উঠলো রোজের। এটা কেমন ধারা মশকরা? মুগ্ধতা পাঠিয়েছে শাড়ি গহনা, এটা বলে সে সেদিনের কথাটার শোধ নিলো? রোজ বলেছিল সে বিয়েশাদীতে আগ্রহী নয়, ওয়াইফ গার্লফ্রেন্ড ম্যাটেরিয়াল না। সেজন্য? মহা বেয়াদব তো ছেলেটা। রোজ বলল,

-“মিথ্যা বলা কেউ আপনার থেকে শিখুক। ”

-“আমি মিথ্যা বলছি না। ওটা আসলেই মুগ্ধতা পার্সেল করেছিল। রোজা নামটা বউমনির বোনের আর মুগ্ধতা জানে না তুমি বউমনির বোন।তাই ওর হাতেই পার্সেলটা দিয়েছিলাম আমি। আর ও নিজে সেটা তোমার ঠিকানা দেখে পাঠিয়েছে।আর কি বললে?বোকা রাজা? হুমকি? হুমকির তো কিছুই লিখিনি। তোমার সেদিনের ব্যবহারে আমার রাগ যে কতটা বেড়েছে তা তোমায় বলে বোঝানো যাবে না। আমার এই রাগটা যার তার ওপর গিয়ে পড়ছে।ভাইয়ার বিয়েতে অবধি আসছিলাম না। কোনো কাজে মন দিতে পারছিলাম না। রাগটা দ্রুত মিটিয়ে দাও। এমন কিছু করো, যাতে আমার রাগ চলে যায়। ফাস্ট।”

রোজের হাতের কালো চুড়িগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ছাদের মেঝেতে পড়ছে। রক্ত বেরিয়ে টপটপ করে পড়ছে। ফালাকের রাগের বহিঃপ্রকাশ রোজের হাতের ওপর দারুনভাবে প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। হাতের শিরা কেটে যেতেই র’ক্তক্ষরণ বেড়ে গেল। রোজের চেহারায় ব্যাথায় আভাস পাওয়া গেলো। রোজ চোখ বুজে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বলল,

-“আমাকে পাওয়া সহজ হবে না। রোজ যেকোনো রাজা বা রাজত্বের রানি হবে না। তাছাড়া আপনি তো আমায় রানি করতে চাননা। আমি শুধু আপনার প্রয়োজন। তাই না?রাজত্ব বাড়াতে আমায় চান আপনি। কিন্তু সেটা তো সম্ভব না। আপনি আমার শত্রু আর শত্রুই থাকবেন। এই শত্রুতা বহমান থাকবে ফালাক মাহতাব নীরদ! ”

-“শত্রুতা ঘোচাতেও চাই না আমি। তোমার মতো শত্রু পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। ”

-“সত্যিই সৌভাগ্যবান আপনি। এবার হাতটা ছাড়ুন। ব্যাথা পাচ্ছি আমি।”

-“রোজ ব্যাথাও পায়? ”

-“বিশ্বাসঘা’ত’কদের আ’ঘা’তে। লেট মি গো নাও প্লিজ। বিয়েটা শুরু করা উচিত। আমি না থাকলে ওরা শুরু করবে না। যেতে হবে তাই। ”

-“আগে আমার রাগ মেটাও। তারপর। ”

-“কি চান? ”

-“যেসব তুমি চাও না। আমার সম্পূর্ণ তুমিটাকেই চাই। শরীর ও মন দুটো দিক থেকেই। বাট নাও যেটা দিতে সেদিন অস্বীকার করেছিলে সেটা চাই। তোমার গায়ের মিষ্টি ঘ্রাণটা।”

-“বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না। পৃথিবির সবথেকে নিকৃষ্ট মানুষ আমি আপনাকে ভাবি। আপনার যা চাই নিয়ে ছাড়ুন। কারন আপনি আমার ধৈয্য ও সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছেন। বিয়েটাতে কোনোপ্রকার ঝামেলা চাই না বলে চুপ আছি। নাহলে আপনাকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার মতো সুযোগ রোজ হাতছাড়া করতো না।”

-“ওহ হো! থ্যাংক্স চাঁদ। ” বাঁকা হেসে।

ফালাক রোজের গলায় মুখ গুজতেই রোজ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।ফালাকের হাতের বাঁধন আলগা হয়। রোজ হাত ঝারা দিয়ে সামনে আনলো। এরপর কোমরে গুজে রাখা ছোট চাকু বের করে ফালাকের পেট বরাবর টান দিল। শেরওয়ানী ছিড়ে ফালাকের পেটের চামড়া কে’টে গেল মুহূর্তেই। ফালাক গলা থেকে মুখ তুলে ফেলে। এরপর হেসে গলায় ঠোঁট গভীরভাবে ছুঁইয়ে ছোট করে চুঁমু খেয়ে মাথা তুললো। রোজ চাকুটা ঘুরিয়ে পেটের ওপর পাশেও সূক্ষ্মভাবে টেনে দেয়। ফালাক এবার শব্দ করে হেসে উঠলো। রোজ চাকুর উপর থেকে রক্তগুলো হাত দিয়ে মুছে বলে,

-“আমি আপনার মতো প্রতিশোধ পরায়ণ নই তবে ঋণ রাখতে পছন্দ করি না। আমার হাত থেকে রক্ত বের করে শত্রুতা মনে করিয়ে যে উপকারটা করে আমায় ঋণী করলেন তাঁর বদলে এটুকু আপনার প্রাপ্য ছিলো। আর আমাকে স্পর্শ করার দুঃসাহস দেখিয়ে যে অন্যায় করেছেন তার শাস্তিও অতিশিঘ্র পাবেন। ”

-“শত্রুতা তুই নিজে তৈরি করেছিলি চাঁদ। আমি না। ”

-“আমাকে তুই বলে সম্বোধন করবেন না। আর আমার নাম সাইরাহ্ সীরাত রোজা। রোজ বললেও হয়। এসব চাঁদ তারা বলা বন্ধ করুন। ”

-“ভুল আমি করিনি, ভুল তোর ছিল। তাই শত্রতা আমিও সমানভাবে নেভাবো। আমাকে না দেখে, না জেনে, না শুনে যেই শত্রুতা এতবছর পুষে রেখেছিলি সেটা প্রকাশ করার সময় এসেছে।তবে মনে রাখিস আমি সেদিনও,”

ফালাকের কথা শেষ করতে না দিয়ে রোজ দ্রুত বলে উঠল,
-“ভাগ্গিস আপনাকে চিনতাম না আমি। আপনার মুখদর্শনও আমার জন্য পাপের সমান। তাই এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত নিশ্চই করবে রোজ। ”

রোজ চলে যেতেই ফালাক নিজের পেটের দিকে আর মেঝেতে পড়ে থাকা রোজের র’ক্তের দিকে চাইলো।এটা ওর চাঁদ না। চাঁদ হতেই পারে না। যে মেয়েটাকে ফালাক এতবছর ধরে পেতে চাইলো। তাঁর মন পাওয়া যে সহজ হবে না সেটা জানতো ফালাক। তবে এতটা কঠিন হবে তা কল্পনাও করেনি আগে। একটা ভুল কতগুলো মানুষ ও তাদের জীবন নষ্ট করে দিলো। ফালাকের রাগ বেড়ে যাচ্ছে। মনে চাচ্ছে এই মুহূর্তে রোজকে নিয়ে গিয়ে সেই ভুল সংশোধন করতে। কিন্তু এটা করা যাবে না। তাহলে খেলায় ভুল চাল দেওয়া হবে। তাতে তাদের জীবনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। রোজের এত পরিশ্রম, ফালাকের এত ধৈর্য সবকিছুর ফল তিক্ত হতে দেবে না ফালাক।

🍁🍁🍁

রোজের জীবনের প্রথম দশটি বছর ঢাকাতেই কেটেছিল। ওর বয়স যখন দশ তখন ওরা সিলেটে চলে যায়।তাই আরশান রোজকে চিনতো।বাবার কাজের সূত্রে আনসারী সাহেবের কাছে আসার সময় সে প্রায়ই অয়ন্তি ও রোজকে দেখতো।তবে তাঁর ছোটভাই ফালাক কখনও রোজদের দেখেনি। সে ছিলো কানাডায় নিজের মামাদের বাড়িতে।

আজ থেকে আট বছর আগে রোজের বয়স যখন সবে পনেরো আর ফালাকের তেইশ! ফালাক ও রোজের রাজারানি হওয়ার গল্পটা তখন থেকেই শুরু হয়েছিলো।বলতে গেলে অতিতের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে,তখন ফালাক ছিল তেইশ বছরের যুবক যখন রোজের সম্পর্কে সে প্রথম জেনেছিল। আর আজ রোজ তেইশ বছরের যুবতী যখন সে ফালাককে চিনেছে, জেনেছে।

রোজ, আনসারী সাহেব এবং রেণুর সঙ্গে যখন সিলেটে ছিলো তখন ফারদিন সাহেবরা সেখানে তাদের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ফালাক আরশানও গিয়েছিলো। কিন্তু সেদিন রোজ বাড়িতে ছিল না। রোজ গিয়েছিলো স্কুলের পিকনিকে। ফালাক বাড়িটা ঘুরে দেখার সময় সোফার ওপর রোজের স্কার্ফ পায়। প্রথমে তোয়ালে ভেবে সে ভুল করে স্কার্ফ দিয়েই মুখ মুছে ফেলে। মুখ মোছার সময় একটা অপরিচিত ভিন্ন মিষ্টি সুভাস পায় ফালাক। পরে জানতে পারে আনসারী সাহেব তাঁর একমাত্র প্রিয় কন্যার জন্মদিন উপলক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে তাঁর বন্ধুকে দিয়ে অতীব সুন্দর এবং ব্যায়বহুল পার্ফিউম আনিয়েছেন। ঘ্রাণটা সেটারই। আর রোজ নাকি এই পার্ফিউম ছাড়া অন্য পার্ফিউম ব্যবহার করে না। ফালাক পার্ফিউমটা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিলো। স্কার্ফের ঘ্রাণটায় পার্ফিউমের থেকেও বেশি মাদকতা ছিল। বাড়িতে কিংবা আনসারী সাহবদের ফোনেও রোজের কোনো ছবি ছিল না। আনসারী সাহেব কখনও রোজকে সামনে আনেননি নিজের পেশার জন্য। সর্বদা রেণুই বাবার ভূমিকা পালন করেছে, আনসারী সাহেব শুধু দূর থেকে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তাই ফালাক রোজকে তখনও দেখতে পায়নি। তবে আরশানের কাছ থেকে জেনেছিলো রোজ দেখতে শুনতে ভালো।ফালাক স্কার্ফটা নিজের সঙ্গে করেই ঢাকাতে নিয়ে আসে। প্রায়ই কল দিয়ে আনসারী সাহেবদের খোঁজখবর নিতে শুরু করে। উদ্দেশ্য একটাই পরিচিত পরিবারটির অপরিচিত মেয়েটার কন্ঠ শোনা, তাঁর চেহারা দেখা। এভাবেই একদিন ফোন করতে করতে ফালাক অপেক্ষা করছিল। “যদি আজ রোজ ফোনটা ধরে”। এই কামনা বারবার করছিল। অপেক্ষার ফলও মিষ্টি হলো। রোজ বাড়ি ফিরে দেখলো মায়ের ফোনটা বেজে চলছে অনবরত। রেণু বাথরুমে গোসল করছে দেখে রোজ ফোনটা রিসিভ করে সালাম দিলো। ফালাকের হৃদপিন্ড কেঁপে ওঠে, কন্ঠস্বরও টলে যায়। রোজ প্রশ্ন করে,

-“হ্যালো কে? মামনি নেই, পরে ফোন করুন। ”

-“আমি ফারদিন মাহতাবের ছেলে ফা..”

-“ফারদিন মাহতাব! সেটা আবার কে? আমি চিনতে পারছি না দুঃখিত।”

-“তোমার বাবার বন্ধু। তুমি কি রোজ? ”

-“হুম। ”

-“কেমন আছো? ”

-“আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন? ”

-“আলহামদুলিল্লাহ। ”

-“মামনি বের হয়েছে। দাড়ান ফোন দিচ্ছি। ”

-“না, আমার কথা শোনো। হ্যালো, হ্যালো রোজ।”

রোজ শুনলো না। ফোনটা রেণুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো। বেচারা ফালাক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনের দিকে তাকায়। ফালাকের হাতে রোজের স্কার্ফটা। স্কার্ফটা নাকের কাছে নিয়ে লম্বা শ্বাস নিল ফালাক। সেদিনের পর থেকেই ফালাক রোজদের বাড়িতে ফোন করা পুরো দমে চালু করে। মাঝে মাঝে তুমি থেকে তুই সম্বোধনেও চলে আসতো স্বল্প পরিসরের বন্ধুকথন। তবে ফালাক ওকে নিজের নাম নীরদ বলে। কারন মায়ের পরে যাকে সে এতটা ভালোবাসে তাঁর মুখ থেকে মায়ের দেওয়া ডাকনামটাই বেশি ভালো লাগবে। ফালাকের পাগলামি বাড়ে।সে হুটহাট সিলেটে গিয়েও উপস্থিত হত। কিন্তু ও যখন যখন যেত রোজ তখন তখন কোনো না কোনো কাজে বাইরে থাকতো। ফালাক তাঁর নিষ্ঠুর ভাগ্যকে নির্মমভাবে দোষারোপ করে। তাই বোধ হয় ভাগ্যটাও নিজের নির্মমতা প্রকাশ করলো। প্রেমের গল্পটা শুরু হবার আগেই শেষ করে দিলো। মাস তিনেকের মধ্যেই ওদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলো আনসারী সাহেবের সিম বদলানোর কারনে।

কলেজের প্রথমদিন রোজের ওরনা ছেলেগুলোর হাত থেকে ছাড়িয়ে ফেলার পর যখন বাতাসের গতিবেগের কারনে ওরনাটি উড়ে ফালাকের মুখের ওপর এসে পড়েছিলো। ফালাকের ঘ্রাণেন্দ্রিয় তখনই পরিচিত ঘ্রাণটির কথা জানান দিয়েছিল। ফালাক নিশ্চিত হতেই ওরনা ধরে ঘ্রাণ নিতে গিয়েছিল কিন্তু রোজের হাতে থা’প্পড় খেয়ে অবস্থা হিতে বিপরীত হয়ে যায়। এরপর খোঁজ নিয়ে যখন রোজের পুরো নাম ঠিকানা ও পরিচয় জানে তখন বোঝে এটা সেই মেয়েটা যাকে সে নিজের পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ ভাবে। ওর চাঁদ ভাবে। পৃথিবির যেমন দ্বিতীয় কোনো উপগ্রহ নেই, আসবে না। ওর জীবনেও দ্বিতীয় কোনো নারী নেই আর আসবেও না। তবে ফালাক এটাও জানতে পারে রোজ সাধারণ কাউকে জীবনসঙ্গী বানাবে না, নিজের মতই কোনো এক কঠিন স্বভাব চরিত্রের মানুষকে নির্বাচন করবে। কারন ওর চাঁদ আলাদা,সব মেয়েদের থেকে, সবার থেকে। ফালাক পলিটিক্স করে, প্রচন্ড রাগি, সাইকিক বিষয়গুলো প্লাস পয়েন্ট হলেও রোজের ব্যাপারগুলোতে সে ভীষণ নরম। রোজের কথা আসলে সে কঠিন হতে পারে না।এই অতি খারাপ দূর্বলতা নিয়েও সে চেষ্টা করেছে রোজের মতো করে রোজকে জেতার। কিন্তু মেয়েটার জেদ অনেক। আর সবথেকে বড় বাঁধা অতিতের কিছু ভুল। সেগুলো সংশোধন করতে সময় লাগবে, মেয়েটা তো ভুল বুঝে আরও দূরে চলে যাচ্ছে। শত্রুতা করে বেড়াচ্ছে। ফালাক কি পারবে ওর মন থেকে বিষাদময় ঘটনাগুলো মুছতে? নতুন করে ওকে পুরোনো রোজ করে তুলতে। যে মেয়েটা ভালোবাসতে ভালোবাসতো তাকে ফিরিয়ে আনতে।

চলবে?

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ