Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ওগো বধু সুন্দরীওগো বধু সুন্দরী পর্ব-১০+১১

ওগো বধু সুন্দরী পর্ব-১০+১১

#ওগো_বধু_সুন্দরী
পর্ব—-১০+১১
কাহিনী ও লেখা : প্রদীপ চন্দ্র তিয়াশ।

—আচ্ছা শ্রেষ্ঠা শোনো,

—বলুন,

–কফিটা খেতে ভালো লাগছে তো?

—হ্যাঁ, খুব ভালো লাগছে।

—অস্বাভাবিক কিছু কি লক্ষ্য করেছো,

—নাতো,কি !?

—কফিটা কি একটু অন্যরকম লাগছে না খেতে?

—উফফফফ, কি যে বলেন না আপনি। কেমন লাগবে আর খেতে!?

—বিষের গন্ধ পাচ্ছো কোথাও?

—বিষ, কিসের বিষ!?কি বলছেন আপনি?

আমি ওর কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলি!

—কেন কফির ভেতরে বিষের গন্ধ পাচ্ছো না তুমি, আমি যে বিষ মিশিয়ে দিয়েছি এই কফিতে!

আমার কথা শুনে ও হাত থেকে কফির কাপটা ফেলে দিলো…ভয়ে যেন চোখজোড়া বড়ো হয়ে যেতে লাগলো তার।

—কি হলো,ভয় পেয়ে গেলে নাকি?

—আপনি সত্যি বিষ মিশিয়েছেন কফিতে?

—সেটা তো তুমিই ভালো বুঝতে পারবে।তুমি কফি টেস্ট করেছো,আমি করি নি।

—আপনি মজা করছেন আমার সাথে তাই না?

—কি জানি হয়তো মজা করছি,হয়তোবা না?

আমি লক্ষ্য করলাম ভয়ে শ্রেষ্ঠার প্রান ওষ্ঠাগত।ভীষণ হাসি পাচ্ছে ওর এই দূরাবস্থা দেখে।

—আহ!আমার গলাটা জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে…,শ্বাস নিতে পারছি না কেন আমি?(শ্রেষ্ঠা ধরেই নিয়েছে কফিতে বিষ মিশিয়েছি আমি,তাই ওর অন্তরের ভয় ওকে সত্যিকারের বিষের উপলব্ধি করাচ্ছে।যেমনটা আমরা কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পেলে করি।)

আমার সামনে ছটফট শুরু করে দিলো শ্রেষ্ঠা।

—নাহ!আপনি আমার সাথে এটা করতে পারেন না।কিছুতেই পারেন না।

—ওহহ,,তার মানে বিষ তার কাজ শুরু করে দিয়েছে।তাহলে আমি এবার নিশ্চিন্ত।(বেশ ঠান্ডা মাথায় শ্রেষ্ঠাকে উদ্দেশ্য করে বলি)

—কেন করলেন আপনি এটা আমার সাথে,স্ত্রী হই আপনার আমি।কি এমন ক্ষতি করেছিলাম আমি আপনার!

—ক্ষতি,নাতো তুমি আমার কোনো ক্ষতি করো নি।ক্ষতি তো আমি নিজেই নিজেকে করেছি। আর সেটা হলো তোমায় না চিনতে পেরে।আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো তুমি একটা ফেইক।

—কি বলছেন আপনি এগুলো,আমি ফেইক কেন হতে যাবো।আমি আপনার স্ত্রী শ্রেষ্ঠা।
যাকে আপনি নিজের থেকেও বেশী ভালোবাসেন।আর আমিও আপনাকে খুব ভালোবাসি…আমি কোনো ফেইক নই।

আমি নকল শ্রেষ্ঠার করা অনবরত নাটকগুলো সহ্য করতে পারছিলাম না।তাই রাগের বশে ঠাস করে ওর গালে একটা চড় বসিয়ে দেই।

—একদম চুপ করো ড্রামা কুইন,আর একবার নাটক করার চেষ্টা করলে তোমার জ্বীভ উপড়ে নেবো আমি।

এই বলে আমি নকল শ্রেষ্ঠাকে ধরে একটা রুমের
ভেতরে নিয়ে যাই।ওকে একটা ধাক্কা মেরে সোফার ওপরে ফেলে দিলাম।তারপর ওকে উদ্দেশ্য করে বলি।

—আমার সাথে আর নাটক করে কোনো লাভ নেই,আমি জেনে গেছি তুমি আসলে শ্রেষ্ঠা নও
তুমি শ্রেষ্ঠার একটা কপি।আর তুমি যে এই অবুঝ শিশুর মতো আচরণ করে বেড়াও,সেটাও তোমার একটা মুখোশ।তাই বলছি,আমার সামনে একদম নাটক করো না।অবশ্য সেটা করার সুযোগ পাবে কিনা,তাও বলতে পারছি না আমি এই মূহুর্তে।

—তুমি মেরে ফেলবে আমায় তাই তো?

–নাহ!এখন তো আর কিছুই করবো না আমি। যা করার তোমার শরীরে আমার দেয়া বিষ করবে।এতোক্ষনে সে তোমার রক্তের প্রতিটি ফোঁটায় মিশতে শুরু করেছে।তারপর ধীরে ধীরে তোমার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়বে….. তারপর কি ঘটবে আশা করি আর বুঝিয়ে বলতে হবে না।

—আমি মরতে চাই না,প্লিজ বাঁচিয়ে নাও আমায়।

—বাঁচিয়ে নেবো,কিন্তু কেন?

—আমি এতো কিছু জানি না,তুমি বাঁচাও আমায়।প্লিজ সেইভ মি।

—তোমায় বাঁচিয়ে আমার কি লাভ,আমার তো বিশেষ কোনো লাভ নেই?

—কি চাও তুমি,আমায় শুধু একবার বলো,

(আমি গিয়ে শ্রেষ্ঠার বিপরীতে রাখা সোফাটায় আরাম করে বসলাম)

—চলো একটা ডিল করা যাক।

—ডিল, কিসের ডিল।

—তুমি নিজের আসল পরিচয় আমার কাছে প্রকাশ করো।কে তুমি,কোথা থেকে এসেছো।কি চাও…..ইত্যাদি ইত্যাদি।এই সমস্ত কিছু খুলে বলো আমায়।তবেই এই বাড়িতে একটা এম্বুলেন্স আসবে।আর সেই এম্বুলেন্সে চেপে তুমি হাসপাতাল যাবার সুযোগ পাবে।আর যদি আমার শর্ত না মানো নিজেকে এই ঘরে মরতে দেখার জন্য প্রস্তুত হও।

—-তুমি আমার সাথে এতো বড়ো চালাকি করলে?

—কেন চালাকি কি তুমি একাই করতে পারো ভেবেছো,ধোঁকা তুমি একাই দিতে পারো।

—আমি সব বলবো তোমায়, তার আগে বাঁচাও আমায়।নয়তো তোমার প্রশ্নের উত্তরে দেবার জন্য বেঁচে থাকবো না আমি।

—ভেবো না,এই বিষ এতো সহজে মারবে না তোমায়।এখনো যথেষ্ট সময় আছে। আমায় সবটা খুলে বলো,তোমার জীবন রক্ষা করার দ্বায়িত্ব আমার।আর যদি না বলো, তোমাকে মারার দ্বায়িত্বটাও কিন্তু আমার।

—আমি রাজি… বলো কি জানতে চাও……

—এইতো পথে এসেছো,সবার আগে নিজের মুখে স্বীকার করো তুমি শ্রেষ্ঠা নও।যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিলো আমার সে তুমি নও।

—হ্যাঁ,আমি শ্রেষ্ঠা নই।আমি শ্রেষ্ঠা সেজে তোমার বাড়িতে ছিলাম এতোদিন ধরে।তুমি যাকে ভালোবাসতে সে অন্য কেউ।আমি নই।

এইমাত্র আমার স্ত্রীর মুখ থেকে যে কথাগুলো বের হলো,এই উত্তর যদিও আমার অনেক আগে থেকেই জানা। তারপরো ওর মুখে শুনে কেমন জানি একটা ধাক্কার খেলাম।বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।জানিনা কেন হচ্ছে এমনটা।

—বলো,এরপর আর কি জানতে চাও তুমি….এতো সময় কেন নিচ্ছো….আমায় না মেরে শান্তি পাচ্ছো না তুমি… তাই না?

নকল শ্রেষ্ঠা আবারো ছটফট করতে লাগলো।এক প্রকার চিৎকার শুরু করে দিলো সে।আমি নিজেও অবাক হয়ে যাচ্ছি,কারণ ঐ কফিতে কোনো বিষ মেশানো ছিলো আমার।আমি শুধু ভয় দেখানোর জন্য বিষের কথাটা বলেছিলাম।কিন্তু এতে তো ওর এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা নয়।কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না কিছুই।আমি ছুটে গেলাম ওর দিকে।

—কি হলো তোমার,?শরীর কি খুব বেশী খারাপ করছে।

—জানিনা শ্বাস নিতে পারছি না আমি।আমার কথা ছাড়া,আগে তোমার প্রশ্ন করো।তারপর হাসপাতালে নিয়ে চলো আমায়।তোমার পায়ে পড়ি।বাঁচিয়ে নাও আমায়।

শ্রেষ্ঠার(বার বার নকল শ্রেষ্ঠা বলতে বা শুনতে ভালো লাগে না,পাঠকরা সবাই নিজ দায়িত্বে বুঝে নিবেন আশা করি)অবস্থা আরো বেগতিক হতে লাগলো।মনে হচ্ছে বিষের ভয় খুব বাজে ইফেক্ট পড়ছে ওর ওপর। কিন্তু এই মুহুর্তে ওর কোনো ক্ষতি হোক আমি চাই না।কারণ ওর ক্ষতি হয়ে গেলে আমি আমার প্রশ্নের উত্তরগুলোর এতো কাছে এসেও সবটা হাতছাড়া করে ফেলবো।এখন যেকরেই হোক শ্রেষ্ঠাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে সুস্থ করে তুলতে হবে।

—কি হলো,তুমি কথা দিয়েছিলে আমি তোমার শর্ত মানলে বাঁচিয়ে নেবে আমায়।এখন কেন এভাবে সময় নষ্ট করছো।

—আচ্ছা,তোমার কী বেশি কষ্ট হচ্ছে?

—একটু জল দাও প্লিজ,বুকটা শুকিয়ে যাচ্ছে আমার।

এই রুমে কোথাও জল নেই।এখন জল আনার জন্য বাইরে যেতে হবে।শ্রেষ্ঠাকে বিশ্বাস নেই আমার।ওর পক্ষে সব সম্ভব।তাই দরজাটা বাহির থেকে বন্ধ করে জল আনতে গেলাম। একটু পরেই এক গ্লাস জল নিয়ে ফিরে আসি।তারপর আবারো দরজাটা খুলি।দরজা খুলে দেখি ভেতরে শ্রেষ্ঠা নেই।একটা সোফার ওপরে বসা ছিলো ও,সেখানে নেই ও।ভালো করে দেখার জন্য একটু সামনে এগিয়ে গেলাম।

ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম আমার পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।বিষয়টার সত্যতা প্রমাণ করার জন্য ঘুরে তাকালাম আমি।ঠিক তখন আমাকে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়েই একটা প্রচন্ড ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দিলো শ্রেষ্ঠা।ওকে সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক লাগছে।তারমানে এতোক্ষণের অসুস্থতাও নাটক ছিলো ওর।শিট!মেয়েটা আর কতো বোকা বানাবে আমাকে। একের পর এক ছলনা করে যাচ্ছে আমার সাথে।

আমায় রুমের ভেতরে রেখে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দিলো,তারপর জানলার পাশে এসে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে :

—কি ভেবেছিলে,আমায় বিষের ভয় দেখিয়ে মুখ থেকে আসল সত্যিটা বের করবে।কিন্তু জানো কি,তোমার থেকে আমার মাথার বুদ্ধির পরিমানটা সামান্য হলেও বেশি।তাই তো তোমাকেই তোমার জালে তোমাকেই ফাঁসালাম!

—-দরজা বন্ধ কেন করেছিস,সাহস থাকলে একবার দরজাটা খুলে দেখা বহুরূপী।

—তোমার আমার আসল পরিচয় জানবার খুব ইচ্ছা তাই না,কিন্তু আমি যে মরে গেলেও বলতে পারবো না সেটা ।

—কেন বলতে পারবে না,তুমি কি ভাবছো সবকিছু জানার পরেও আমি সংসার করবো তোমার সাথে?

—তুমি কি সংসার করবে আমার সাথে,আমি তো তোমাকে আর সেই সুযোগটাই দেবো না।জানো, আমি কিন্তু তোমার কোনো ক্ষতি করি নি।আমি সত্যিই চেয়েছিলাম শ্রেষ্ঠা হয়ে তোমার সাথে সংসার করতে।কিন্তু তোমার দুর্ভাগ্য….?মৃত্যু যে বার বার আহ্বান করছে তোমায়।তাই আমার পেছনে লেগে নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনলে।

—তুমি কি বলছো এসব,এতো বড়ো একটা অন্যায় করে আবার সেটা বড়ো গলায় স্বীকার করছো!?

—দেখো,আমার কোনো ইচ্ছে নেই তোমাকে মারার।এখন যখন তুমি আমার আসল পরিচয় জেনেই গেছো।আমি জানি তুমি সব জানার পরে আর সংসার করবে না আমার সাথে।এখন তোমাকে বাঁচিয়ে রাখা মানেই নিজের সর্বনাশ করা।আমি তোমার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে পালিয়ে বাঁচতে পারবো না,তাই একটু কষ্ট করে তোমাকেই সরে যেতে হবে আমার রাস্তা থেকে।

—মানে,কি করতে চাইছো তুমি?

—কি আর করবো,আমার হাতে যে দিয়াশলাইয়ের বক্সটা দেখতে পাচ্ছো।আর এই কেরোসিন বটলটা।একটু পরেই এই ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠবে।আর সেই আগুনে পুড়ে ….. (হাহাহাহা)

শ্রেষ্ঠার কথা শুনে ভয়ে গলা শুকিয়ে যেতে লাগলো আমার,ও নিশ্চয়ই আমাকে এগুলো ভয় দেখানোর জন্য বলছে না।কারণ মানুষ যখন হিংস্র হয়ে ওঠে, তখন তার পক্ষে সবকিছু সম্ভব।

দেখতে পাচ্ছি,শ্রেষ্ঠা বাহির থেকে ঘরের ভেতরে আর দরজার সামনে কেরোসিন ছিটিয়ে দিচ্ছে।আমার কোনো নিষেধই কানে তুলছে না ও!!এক পর্যায়ে বটলটা খালি হতেই একটা দিয়াশলাই জ্বালিয়ে নেয়।তারপর সেটা জানালা দিয়ে আমার রুমের ভেতরে ছুড়ে মারলো…..!!!!!

চলবে,,,,
#ওগো_বধু_সুন্দরী
পর্ব—-১১(রহস্য উন্মোচনের সূচনা🔥)
কাহিনী ও লেখা : প্রদীপ চন্দ্র তিয়াশ।

মূহুর্তেই সারা ঘরে দাউ দাউ করে করে আগুন জ্বলে উঠলো।আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।বাইরে বের হবার একটা মাত্র দরজা, সেটাও শ্রেষ্ঠা বন্ধ করে রেখেছে।আমার কোনো আকুতি মিনতিই কানে তুলছে না ও।

—মাথাটা কি খারাপ হয়ে গেছে তোমার,কি করছো এগুলো।দরজা খোলো বলছি।

—না,দরজা আমি খুলবো না।আজকে এখানেই মরতে হবে তোমায়।আমার পেছনে লাগার খুব শখ তাই না!?

—তুমি এটা কিছুতেই করতে পারো না আমার সাথে!আমি ছাড়বো না তোমায়।

—চুপ থাকো,একদম চুপ।মরার সময়েও দেখছি তোমার তেজ কমে নি।আমাকে আর রাগিয়ে দিও না।

আমি বুঝতে পারি,শ্রেষ্ঠা আমার কথা শোনার মানুষ নয়।ও আমাকে এখানে মারার জন্যই ছেড়ে দিয়েছে।নিজেকে বাঁচাতে হলে আমাকেই কিছু করতে হবে।একটু পরে শ্রেষ্ঠার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলো।তার মানে ও চলে গিয়েছে।আমাকে মৃত্যুর হাতে একা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে ও!

অবশ্য ঘর থেকে বেরোনোর একটা রাস্তা আছে, আর সেটা হলো জানালা।কাচের জানালা ভেঙ্গে ঝাপ দিতে হবে আমায়।সোজা ছয় তলা বিল্ডিং এর ওপর থেকে ঝাঁপ দিতে হবে আমায়।আমি জানি না,এখান থেকে ঝাঁপ দেবার পরে বেঁচে থাকবো কিনা।কিন্তু এই সময়ে ঘরের ভেতরে পুড়ে মরার থেকে জীবনের ঝুঁকি নেয়াটা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।কারণ ঘরের ভেতরে থাকলে নিশ্চিত মৃত্যু আমার,আর ঝাঁপ দিলে তাও একটা বাঁচার আশা থাকবে।

এই ভেবে জানলার পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়ি, তারপর নিচের দিকে তাকাই।যতোই মনস্থির করি না কেন,এতো উপর থেকে ঝাঁপ দিতে বেশ ভয় করছে আমার।ভয়ে পা কাঁপতে লাগলো।একটা কথা ভালো করেই জানি আমি,আমাকে কোনোভাবেই হেরে গেলে চলবে না।নিজের মায়ের খুনির শাস্তি নিশ্চিত না করে আমি মরে গিয়েও শান্তি পাবো না।আমাকে আর কোনো কারণে না হোক,মৃত মায়ের কথা ভেবে বাঁচতে হবে।যদি বাঁচতে নাই পারি!অন্তত বাঁচার আপ্রান চেষ্টাটা তো করতে পারি।আর কিছু না ভেবে চোখ জোড়া বন্ধ করলাম,তারপর নিচে ঝাঁপ দেই।






চোখ খুলে দেখতে পাই একটা রুমে শুয়ে আছি আমি।অপরিচিত একটা রুম।যেখানে আমি আগে কখনোই আসিনি।ধীরে ধীরে সবটা মনে পড়তে লাগলো আমার।নকল শ্রেষ্ঠার সাথে ঝামেলা হওয়া,আমাকে বন্দী করে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া,তারপর আমার বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দেওয়া।এরপরে আর কিছুই মনে নেই আমার।এখন এখানেই বা কিকরে এলাম জানা নেই আমার।অনুভব করছি সারা গায়ে প্রচন্ড ব্যথা।অনেকটা জায়গা কেটে গিয়েছে।আবার সেখানে মেডিসিনও লাগিয়ে রাখা হয়েছে।খুব জানতে ইচ্ছে করছে,কে আমাকে সেবা শুশ্রূষা করে সারিয়ে তুললো।কারণ এই পৃথিবীতে আমার মঙ্গল চাইবার মতো কেউ আছে বলে জানা নেই আমার।

আরো কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো।চারপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।ধীরে ধীরে উঠে বসলাম আমি।তারপর নিচে পা বাড়াবো ঠিক তখন ভেতরে কেউ ঢুকে পড়লো।তাকে দেখে যেন বিষ্ময়ে চোখ উল্টে যাওয়ার উপক্রম আমার।মনে হচ্ছে চোখের সামনে স্বপ্ন দেখছি।আমার সামনেই শ্রেষ্ঠা দাঁড়িয়ে আছে!!!না,এ আমার স্ত্রী,সেই নকল শ্রেষ্ঠা নয়।আসল শ্রেষ্ঠা দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে।আমি তাজ্জব বনে গিয়েছি নিজেকে তার ঘরে দেখে।যে কিনা আমার মৃত্যু চায় সে বাঁচালো আমায়!!শ্রেষ্ঠাকে এই মুহূর্তে কি বলবো বুঝতে পারছি না।ও নিজেই আগে মুখ খুললো!

—এখন কেমন লাগছে??(অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করলো)

—-তুমি আমাকে বাঁচিয়েছো তাই না?আমাকে সুস্থ করে তুলেছো তুমি?

—কি মনে হচ্ছে দেখে তোমার?

—না…আমি সত্যি বুঝতে পারছি না।তুমি আমাকে বাঁচালে কেন,তুমি সেদিন নিজের মুখে স্বীকার করেছো আমার ক্ষতি চাও তুমি।আমায় শেষ করে দিতে চাও।তাহলে,,

—হ্যাঁ,চেয়েছিলাম, কিন্তু তখন চাইলে এখনো যে চাইতে হবে এটা কোথায় লেখা আছে?

—আমি সত্যি তোমার কথার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না।কি চাইছো তুমি ক্লিয়ার করে বলো।আচ্ছা এটাও তোমার নতুন কোনো চাল তাই না?

—না,আমি কোনো চাল চালছি না।আমি জানি আমার পূর্বের রুপ দেখে আমার প্রতি এক প্রকার ঘৃনাবোধ কাজ করছে তোমার!আর সেটা অস্বাভাবিকও নয়।

—তুমি আমাকে বাঁচালে কিকরে,?আমার যতোদূর মনে পড়ে,আমি ঝাঁপ দিয়েছিলাম নিজের বিল্ডিং থেকে।তারপর…তারপর কি হলো,তুমি আমাকে পেলেই বা কিকরে?

—আমি অনেক আগে থেকেই ওখানে ছিলাম, তোমার বাড়িতে!!!

—হোয়াট,কি বলছো তুমি এসব??(আশ্চর্যজনক স্বরে আমার প্রশ্ন)

—হ্যাঁ,সত্যি।আমি নিজের মনের একটা সন্দেহ থেকেই তোমার বাড়িতে গিয়েছিলাম।

—সন্দেহ,কিসের সন্দেহ?

—মনে পড়ে তুমি জোর করে সেদিন আইডিনিটিফাই করেছিলে আমায়,আমি যদিও নিজের পরিচয় স্বীকার করি নি সেদিন তোমার কাছে।তোমার সেই ব্যবহারে কয়েকটা অদ্ভুত আর খটকা প্রশ্ন ঘিরে ধরে আমায়,আমি দেখতে চেয়েছিলাম কেমন সংসার করছো তুমি,তোমার বৌকে দেখতে গিয়েছিলাম।কিন্তু আমি নিজেও জানতাম না ওখানে কতো বড়ো সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে আমার জন্য।

—বুঝলাম না।

—বুঝলে না,বুঝিয়ে বলছি।আমাকে জানানো হয়েছিলো তুমি আমাকে ছেড়ে বিয়ে করে সুখে সংসার করছো।আমাকে বোঝানো হয়েছিলো তুমি ধোকা দিয়েছো আমায়।

—জানানো হয়েছিলো,কে জানিয়েছিলো তোমায়।আর কেই বা বুঝিয়েছিলো আমি তোমায় বিয়ে না করে ধোঁকা দিয়েছে?

—সব বলছি,আগে আমার কথা শোনো।

আমি দেখতে গিয়েছিলাম ঐ বাড়িতে তুমি আমাকে ভুলে ঠিক কেমন সংসার করছো।কিন্তু তোমার বাড়িতে গিয়ে আমি দেখি ওখানে হুবহু আমার মতো দেখতে কেউ আছে।এটা দেখেই খটকা লাগে আমার।ভাবলাম হয়তো কোনো বড়ো ভুল করতে চলেছি আমি।তোমার সাথে অনেক বড়ো অন্যায় করে ফেলছি আমি।এরপর আমার চোখ আর মন থেকে অবিশ্বাসের পর্দা পুরোপুরি সরে গেলো,যখন আমি শুনতে পাই তুমি নিজের স্ত্রীকে শ্রেষ্ঠা বলে সম্বোধন করছো।আমি বুঝতে পারি,তুমি হয়তো তাকেই শ্রেষ্ঠা ভাবছো।কিন্তু সে তো প্রকৃতপক্ষে শ্রেষ্ঠা নয়।এরপর তুমি তাকে ব্ল্যাক কফিতে বিষ মেশানোর মিথ্যে ভয় দেখালে।আমি সবটাই লুকিয়ে দেখছিলাম,,

—-এক মিনিট,,,তুমি আমার বাড়িতে ঢুকলে কিকরে?সেটা তো বললে না।

—যেহেতু বাড়িতে তুমি আর সেই বহুরূপী ছাড়া কেউ ছিলো না,তাই বাড়িতে লুকিয়ে থাকতে সমস্যা হয়নি আমার।আর যদি বলো তোমার বাড়িতে ঢোকার কথা,এসব কোনো ব্যপার নয় আমাদের মতো মানুষদের জন্য।আমি লক কেটে ঢুকেছিলাম তোমার বাড়িতে,

—আচ্ছা,বুঝলাম।তারপর?

—-তুমি তোমার স্ত্রীকে একটা ঘরের ভেতরে নিয়ে গেলে,তারপর কথা বলছিলে তার সাথে।যদিও বাহির থেকে সব কথা শুনতে পাই না আমি। যতোটুকু শুনতে পেরেছি,আমি এইটুকু বুঝেছি তুমি আমার সাথে কোনো প্রতারণা করো নি।প্রতারণা করা হয়েছিলো তোমার সাথে।আর আমাকে একটা চরম ভুল আর মিথ্যার জালে জড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো।একপর্যায়ে তোমার স্ত্রী ঘরের ভেতর দরজা বন্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেয়।যাতে সে সবার অগোচরে তোমাকে খুন করতে পারে,কিন্তু আমি সেটা কিকরে হতে দিতে পারি।তোমার স্ত্রী চলে যাবার পরে যখন ভাবলাম তোমায় বাঁচাবো আমি,কিন্তু তুমি আমাকে সেই সুযোগ না দিয়েই জানলা ভেঙে ঝাঁপ দিলে।আমি এটা দেখে দ্রুত নিচে চলে যাই।তারপর তোমাকে সেইভ করি।ভাগ্যিস তুমি একটা বড়ো ডাস্ট স্তুপের ওপর পড়েছিলে।তাই তেমন বড়ো কোনো ক্ষতি হয়নি তোমার।আমি সবাইকে বুঝিয়ে তোমায় অজ্ঞান অবস্থায় হসপিটালে নিয়ে যাই।তারপর সেখান থেকে আমার বাড়িতে।

শ্রেষ্ঠার কথাগুলো শুনে সবটা পরিস্কার না হলেও এইটুকু বুঝতে পারলাম ও ইচ্ছে করে এমন খারাপ পথে আসে নি।আমার প্রতি ওর আক্রোশের অন্য কারো হাত নয়।আর শুধু হাত নয়,সে এমন কিছু করেছিলো যাতে শ্রেষ্ঠা আরো বেশী হিংস্র হয়ে ওঠে,হিতাহিতজ্ঞানশূন্য করে দেয়া হয়েছিলো শ্রেষ্ঠাকে।

—তুমি তো এতো কিছুই বললে, এখন পর্যন্ত এটা বললে না আমার প্রতি তোমার মনে বিষ কে ভরেছে?কে ভুল বুঝিয়েছে তোমায়?

—শুনতে চাও তার নাম, অবশ্য তুমি হয়তো আন্দাজ করতে পারছো,খুব একটা অবাক হবে না শুনলে।কারণ সে আর কেউ নয়,তোমার নিজের বাবা!!!!!তোমার বাবার জন্যই আজ আমার এই দূর্দশা।।তবে আমি নিজেও বুঝতে পারি না, সে তো তোমার নিজের বাবা,তাহলে তোমাকে শেষ করে কি লাভ তার??কোনো বাবা নিজের সন্তানের সাথে এটা দুঃস্বপ্নেও করতে পারে!

—-এই প্রশ্নের উত্তর আমার মাথাও ঘুরপাক খাচ্ছে সবসময়ের জন্য শ্রেষ্ঠা,আর আমি এটাও জানি এতোটা পথ পর্যন্ত যখন আসতে পেরছি বাকি পথটাও ঠিক পার করতে পারবো।কিন্তু তুমি আমায় এটা বলো,তোমার সাথে তো বিয়ে ঠিক হয়েছিলো আমার।তাহলে তুমি আমার থেকে দূরে সরে গেলে কিকরে?আর আমাদের মাঝখানে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে এই নকল শ্রেষ্ঠা চলে আসলো কিকরে???

Running…….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ