Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"শুরুটা অন্যরকমশুরুটা অন্যরকম পর্ব-২৭+২৮

শুরুটা অন্যরকম পর্ব-২৭+২৮

#শুরুটা_অন্যরকম
#পর্ব_২৭
#অধির_রায়

“জেনেভা শহরটি জেনেভা লেকের জন্য বিখ্যাত। জেনেভার বুকের উপর দিয়ে বয়ে গেছে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী জেনেভা লেক৷ এখানে এসেছি আর জেনেভা লোক দেখবো না সেটা কখনো কি হতে পারে? চল আজ আমরা জেনেভার লেকে ঘুরে আসবো৷” নির্বণ নিয়তিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।

— আমার জানা মতে জেনেভা লেক রাতের বেলায় বেশি জমকালো হয়ে উঠে। কিন্তু আমরা দিনের বেলায় যাব৷

— হ্যাঁ রাতের বেলায় জমকালো হয়ে উঠে ঠিক৷ কিন্তু তুমি রাতের বেলায় লেকের চারিপাশ ঘুরতে পারবে। তুমি কোন নৌকা ভ্রমণ করতে পারবে না৷

— নিয়তি অসহায় দৃষ্টিতে বলে উঠে, ” সেখানে না গেলে হয় না৷ আমি নদীতে ভয় পায়৷

— জেনেভার সৌন্দর্য ভেনেভা লেককে নিয়ে। সমুদ্রের মাঝে ভয় পাওনি৷ এখন লেকে ভয় পাবে৷

নিয়তি না চাওয়া সত্ত্বেও নির্বণ নিয়তিকে জোর করে জেনেভার লেকে নিয়ে যায়৷ নিয়তি এখানে এসেই চোখ আকাশ পানে করে রাখে৷ জেনেভা লোক বৃহত্তর দ্বিতীয় পর্যটন কেন্দ্র। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এখানে দর্শনের জন্য উপযুক্ত সময়৷ তাছাড়া সারা বছর এখানে আসা যাওয়া চলে।

জেনেভার লেকের ঘাটে বাঁধা আছে ছোট ছোট অনেক ডিঙ্গি নৌকা। যা দিয়ে দুই জন প্রেমিক প্রেমিকা জেনেভা শহরে ঘুরে ঘুরে দেখতে পারবে। লেকের দুই পাশ দিয়ে রয়েছে অনেক শপিং মল। স্বচ্ছ জলে শপিং মনের প্রতিচ্ছবি তাজমহলের মতো ফুটে উঠেছে।

— নিয়তি আনন্দের সাথে বলে উঠে, “আমি নৌকায় উঠবো।”

— অবশ্যই আমরা নৌকায় উঠবো৷ নৌকায় না উঠলে চলে কি? এখানে নৌকা দিয়ে ঘুরে ঘুরে সব কিছু দেখা যায়৷ জলের সাথে বন্ধুত্ব করা যায়৷

— অ আচ্ছা৷ তাহলে তারাতাড়ি চলেন৷ কিন্তু একটা শর্ত আছে৷

— নির্বণ চকিত চোখে, ” তুফান মেইল তোমার আবার কি শর্ত?”

— ডিঙি নৌকায় আমার খুব ভয় লাগে।আমাকে ধরে রাখতে হবে৷ আমার হাত সব সময় ধরে থাকতে হবে৷

নিয়তিকে নিয়ে নির্বণ একটা নৌকা দুই ঘন্টার জন্য হায়ার করে নদীর মাঝে ঘুরতে চলে যায়৷ আকাশের মিষ্টি সোনালী রোদ নদীর জলে ঝলমল করছে৷ দেখে মনটা খুব ভয়ে যায়। নিয়তি নির্বণকে মাঝে মাঝে জল দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে৷ নির্বণও নিয়তিকে মাঝে মাঝে জল দিচ্ছে। এরই মাঝে মনে পড়ে যায় ছোঁয়ার কথা৷ আজ যদি নিয়তির জায়গায় ছোঁয়া থাকতো৷ তাহলে আমাদের হানিমুনটা অন্যরকম হতো৷ মন খারাপ করে নির্বণ নৌকা ঘুরাতে বলে উঠে।

— নিয়তি নির্বণকে বলে উঠে, “এখনো দুই ঘন্টা হয়নি। তাহলে চলে যাবেন কেন? সম্পুর্ন শহর ঘুরে দেখা হয়নি৷

— নির্বণ মন খারাপ করে, ” আসলে ছোঁয়ার কথা মনে পড়ে গেল৷ তার সাথেও মাঝে মাঝে নৌকা দিয়ে ভ্রমণ করতাম৷”

— সময় কারো জন্য থেমে থাকে না৷ আপনি শুধু শুধু মন খারাপ করেন কেন? সৃষ্টি কর্তা মানুষের কর্মফল পৃথিবীতেই দিয়ে যাবে। কারো জন্য মন খারাপ করবেন না৷ আপনি তো নিজে থেকে ছোঁয়াকে ছেড়ে দেননি৷ ছোঁয়া আপনাকে ধোঁকা দিয়েছে৷ আর কখনও ছোঁয়ার নাম মুখে নিয়ে আসবেন না৷

— নির্বণ ডেভিল হাসি দিয়ে, ” আমি আর কখনও মন খারাপ করবো না৷ এই জন্য তোমাকে কিছু করতে হবে৷

— নিয়তি চকিত হয়ে, ” আমাকে কি করতে হবে? আমি এখন আপনার রাগ ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়াবো৷”

— “সুইটহার্ট এভাবে বলতে নেই৷ তুমিই তো আমার একমাত্র বউ৷ আমার একটা নয় দুইটা নয়৷ আমার একটা মাত্র বউ৷” আহ্লাদী স্বরে।

— বিরক্তি স্বরে, “আমায় কি করতে হবে?”

— নির্বণের গালে হাত দিয়ে, ” তেমন কিছু না৷ শুধু একটা লাভ ব্রাইট দিতে হবে।

— আমি পারবো না৷ সামনে তাকিয়ে দেখেন জেলে নৌকা চালাচ্ছে।

— ওকে আমিও কারো সাথে কথা বলবো না৷ এর পর যেন আমার কোন দোষ না হয়৷

— নির্বণ উল্টো দিক হয়ে ঘুরে বসে৷ নিয়তি হাজার ডাকার পরও নির্বণ কোন রেসস্পন্স করে নি৷ নিয়তি এক প্রকার বাধ্য হয়ে নির্বণের গলা জড়িয়ে ধরে নির্বণের গালে টুপ করে একটা লাভ ব্রাইট দিয়ে দেয়৷
নির্বণ ডিঙি নৌকা থেকে একটা কাগজের ফুল নিয়ে নিয়তির কানে গুঁজে দেয়৷

নৌকায় করে নির্বণ নিয়তি জেনেভার লেকে ঘুরে ঘুরে দেখে৷ সাথে বিভিন্ন ধরনের স্মৃতি করে রেখে দেয়। শুধু নির্বণ আর নিয়তিই যায়নি৷ তাদের সাথে একটা ক্যামেরাম্যানও ছিল।

নৌকা ভ্রমণের পর জেনেভার বুটানিক্যাল গার্ডেনে চলে আসে৷ নিয়তি এমন সবুজের সমাহার দেখে খুব খুশি৷ মনে হচ্ছে সবুজের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে৷ যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির রূপ দেখলেই মন ভয়ে যায়৷ পৃথিবীর প্রায় ১৪,০০০ হাজারও বেশি প্রজাতির গাছ এখানে রয়েছে৷ বিজ্ঞানীরা এসব গাছ থেকে অনেক মহা ওষুধ উৎপন্ন করেন৷

— নিয়তি দুই হাত মিলিয়ে, “ওয়াও খুব সুন্দর জায়গা৷”

— হুম সুন্দর। আর প্রতিটি গাছের পিক তুলে নাও৷ সাথে বৈজ্ঞানিক নামও দেওয়া আছে৷ শিক্ষার্থী এখানে এসে যেন শিক্ষা গ্রহন করতে পারে।

— আরে রাখেন আপনার শিক্ষা। সব দেশের সরকার শিক্ষার মাঝে লগ ডাউন দিয়েছেন। তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না৷ শিক্ষার আলো এখন শীতের দিনে ল্যামপোস্টের আলোর মতো নিবু নিবু হয়ে যাচ্ছে৷

নির্বণ নিয়তির হাত ধরে প্রায় হরেক রকমের প্রজাতির গাছের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়৷ নিয়তির চোখ শুধু নির্বণকে দেখে যাচ্ছে৷ নির্বণ নিয়তিকে এতটা ভালোবাসা দিবে নিয়তি কোনদিন ভাবতেও পারেনি৷

ঘুরাঘুরি শেষ করে তারা দুপুরের খাবার সন্ধায় খায়৷ খাবার শেষে নিয়তি ক্যাফেতেই বসে আছে৷ সে এক পাও নড়ছে না৷ নির্বণের কথা নিয়তির কান অব্ধি যাচ্ছে না৷

— নির্বণ কোমল কন্ঠে বলে উঠে, ” নিয়তি আর ইউ ওকে। কি হলো তোমার? এভাবে অন্য মনস্ক হয়ে বসে আছো কেন?”

— আমার আর হাঁটতে মন চাচ্ছে না৷ বুটানিক্যাল গার্ডনে হেঁটে আমার পায়ের ১২ টা বেজে গেছে।

— নিয়তি এসব বললে চলবে না৷ আমাদের অলরেডি চারদিন চলে গেছে৷ আমাদের হাতে মাত্র একটা দিন আছে৷ আমরা এখানো সম্পুর্ন ঘুরে দেখতে পারলাম না৷

— নিয়তি কাঁদো কাঁদো স্বরে, ” আপনার পা ব্যথা করে না৷ আমি আর হাঁটতে পারব না৷ আমি এখন হোটেলে ফিরে যাব৷”

— আচ্ছা আমরা এখন হোটেলে ফিরে যাব৷

— হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা শুনে নিয়তি মুখে হাসি রেখা টেনে, ” চলেন তাহলে আর লেট করতে পারবো না। ”

— নির্বণ চোখ বড় করে, ” তার মানে তুমি ঠিক আছো।”

— ইয়া আমি ঠিক আছি।

নিয়তি নিজের ফোন নিয়ে আগে আগে হেঁটে যাচ্ছে৷ নির্বণ নিয়তির পিছু পিছু। নির্বণ মনে মনে বলে উঠে, “নিয়তি তুমি আমাকে গাধা বানালে। এখন দেখো আমি তোমাকে কি বানায়?”

— নির্বণ পিছন থেকে বলে উঠে, ” তুমি সিউর তো তুমি আর কোথাও যাবে না৷ সোজা হোটেলে ফিরে যাবে।”

— নিয়তি নির্বণের দিকে তাকিয়ে, ” হ্যাঁ আমি তো ক্যাফেতে তাই বললাম। আমি হোটেলে ফিরে যাব৷

— বাংলার পাঁচের মতোন মুখ করে, ” আমি চেয়েছিলাম পরিবারের সবার জন্য কিছু কিনা কাটা করতে৷ আসলে আগামীকাল রাতেই তো আমাদের ফিরে যেতে হবে৷”

— ইয়া, আমি তো একদম ভুলে গিয়েছিলাম। আপনি এখন তাহলে সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে যেতে যান। তারাতাড়ি কিছুর আয়োজন করেন৷ এই জন্যই তো আমি ফিরে যেতে চাইছি৷

— আমরা তো এখান থেকেই কিছু শপিং করে নিতে পারি৷ বার্ণ শহর আগামীকাল ঘুরে ঘুরে দেখা যাবে৷ আর এখান থেকে হোটেলে ফিরে শপিং করা ঠিক হবে না৷

— তাহলে দেরি না করে চলেন শপিং মলে৷

— আমরা শপিং মল থেকে শপিং করব না৷ আমরা জেনেভার লেক থেকে শপিং করব৷

— নিয়তি ব্রু কুঁচকে, ” আপনি এখন আবার নৌকায় উঠতে চাইবে৷”

— নিয়তি তুমি ভুল ভাবছো। রাতের বেলায় নৌকা চলে না৷ তখন নৌকার মাঝে বসে বসে জাস্ট হালকা জাতীয় খাবার খাওয়া যায়।

— বুঝতে পেরেছি,চলেন তাহলে৷ এখন আর দেরি করতে চাইনা৷

নিয়তি লেকের এসে খুব খুশি। চারিদিকে বাহারি রকমের লাইটিং করা৷ লেকের ধারে বসেছে ছোট ছোট শপিং মল। মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস এখান থেকে কিনে নিচ্ছে৷

নির্বণ নিয়তিকে একটা ছোট দোকানে নিয়ে যায়৷ যে দোকানে ঝিনুক দিয়ে অসাধারণ কাজ চলছে৷ নির্বণ একটা ঝিনুকের মালা নিলে নিয়তির গলায় পড়িয়ে দেয়। ঝিনুকের চুরি, পায়েল নিয়তিকে কিনে দেয়৷ শুধু তাই নয়৷ ঝিনুকের কিছু শু-পিচও কিনে নেয়৷

— নিয়তি চকলেট খাচ্ছে আর হেঁটে হেঁটে লেকের চারিপাশ দেখে যাচ্ছে৷ রাতের বেলায় এতটা জমকালো হয়ে উঠে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারত না।

নির্বণ নিয়তিকে নিয়ে একটা শপিং মলে নিয়ে যায়৷ সেখান থেকে পরিবারের সকলের জন্য কিছু পোশাক কিনে নেয়৷

শপিং করতে করতে অনেক রাত হয়ে যায়৷ যার ফলে দ্রুত গতির গাড়ির সংখ্যা অনেক কমে যায়।

— নিয়তি এখন আর কোন উপায় নেই৷ টোটো করে যেতে হবে, না হয় পাইক্যা করে যেতে হবে।

— এখন আপনি পাইক্যা করে যাবেন৷ তাহলে হোটেলে পৌঁছতে পৌঁছতে সকাল হয়ে যাবে।

— তাহলে তো ভালোই হয়৷ সারা রাত পাইক্যায় বসে তোমার সাথে প্রেম আলাপন বলতে পারব৷

— আপনি তো আগে গোমড়া মুখু ছিলেন৷ কথা বলতে পারতেন না৷ তাহলে এখন এত রোমান্স আসছে কোথা থেকে।

— পাশে সুন্দরী বউ থাকলে রোমাঞ্চকর পরিবেশ এমনি সৃষ্টি হয়ে যায়৷

নির্বণ যদি চেষ্টা করত দ্রুত গতির গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারত৷ কিন্তু ইচ্ছা করেই পাইক্যার ব্যবস্থা করে৷ দুই জনে পাইক্যায় বসে আছে৷ ঝাঁকি খাচ্ছে দু’জনের৷ নিয়তি বার বার রাগি দৃষ্টিতে নির্বণের দিকে তাকাচ্ছে৷ নির্বণের দিকে যতবারই তাকায় নিয়তি ততবারই নির্বণ নিয়তিকে একটা কিস করে৷

__________

নিয়তি নির্বণের খুঁচা খুঁচা দাঁড়ির স্পর্শে মাতু হারা কিশোর হয়ে যাচ্ছে৷ নিয়তি হাসি আটকানোর জন্য নির্বণের ঠোঁট জোড়া দখল করে নেয়৷

চলবে….

#শুরুটা_অন্যরকম
#পর্ব_২৮
#অধির_রায়

নিয়তি নির্বণের খুঁচা খুঁচা দাঁড়ির স্পর্শে মাতু হারা কিশোরী হয়ে যাচ্ছে৷ নিয়তি তার হাসি আটকানোর জন্য নির্বণের ঠোঁট জোড়া দখল করে নেয়৷ হাসি থামতেই নির্বণের ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে নির্বণকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়৷

— লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বলে উঠে, “আপনি সাজ সকাল বেলা কি শুরু করে দিয়েছেন? সারা রাত পাইক্যা করে যাতায়াত করে আমি বড়ই ক্লান্ত৷”

— নির্বণ দুষ্টু হাসি দিয়ে, ” কেন ভালো লাগেনি? রাতের আকাশের তাঁরা মেলার সাথে কথা বলে বলে বার্ন শহরে ফিরে আসলে?”

— আপনার আকাশের তাঁরা আপনি দেখলেই ভালো হতো? আপনি ইচ্ছা করেই আমাকে পাইক্যায় করে নিয়ে এসেছেন৷ আপনি চাইলে টোটো বা কার হায়ার করতে পারতেন৷

— নিয়তিকে কাছে টেনে, ” কার হায়ার করে এখানে আসলে, আমি আমার বউয়ের চাঁদ পানা মুখটা দেখতাম কিভাবে?”

— এক রাশ বিরক্তি নিয়ে, ” আমাকে ঘুমাতে দেন। রাতে একটুও ঘুমাতে পারিনি৷”

— নিয়তির চুলে মুখ লুকিয়ে নেশা ভরা কন্ঠে বলে উঠে, ” সারা রাত আমার বুকে ঘুমিয়ে ছিল কে? মেবি শেওড়া গাছের প্রেত্নী।”

— নিয়তি নির্বণের চোখে চোখ রেখে,” দেখেন আপনি কিন্তু দিনে দিনে আমাকে অপমান করে যাচ্ছেন৷ কই ভালোবেসে কাছে টেনে ঘুম পাড়াবেন? তা না আমাকে প্রেত্নী বানিয়ে দিলেন৷”

নিয়তি মুখ গোমড়া করে উল্টো দিকে ঘুরে শুয়ে পড়ে৷ নির্বণ নিয়তিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিয়তির গলায় কিস করে৷ নিয়তি নির্বণের খুঁচা দাঁড়ি ছোঁয়ায় হাত চেপে ধরে৷ নির্বণ ধীরে ধীরে নিয়তিকে গভীরভাবে কিস করতে থাকে৷ নিয়তি নির্বণের ডিপ কিসে মাতুহার হয়ে যায়৷ নির্বণের দিকে ঘিরে নির্বণকে জড়িয়ে ধরে।

— নির্বণ নিয়তির কানে ফিসফিস করে বলে উঠে, “আমাদের একটা সোনা বেবি দরকার৷ তোমার অভিমত কি?”

নিয়তি লজ্জায় নির্বণের বুকের মাঝে একদম মুখ লুকিয়ে ফেলে৷ যেন কোন কাক চড়ুই পাখির ছানাকে তাড়া করেছে। চড়ুই পাখির ছানা তাড়া খেয়ে যেভাবে মায়ের বুকে মুক লুকায় ঠিক তেমনি নিয়তি নির্বণের বুকে মুখ লুকিয়েছে ৷

নির্বন নিয়তির উত্তর বুঝতে পারে । নির্বণ নিয়তির ঠোঁট জোড়া দখল করে নেয়৷ নির্বণের সাথে তালে তাল মেলায় নিয়তিও৷ আবারও তাদের দু’টো আত্মার মিলন হয়৷ [রিডার্সরা কিভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে? চোখ বন্ধ করেন সবাই৷]

______

বারোটার দিকে নিয়তি ঘুম ভেঙে যায়৷ নিয়তি সেই একই ভাবে নির্বণের লোমহীন বুকের মাঝে শুয়ে আছে৷ নিয়তি গতকালের মতো ভুল আজ আর করতে চাইনা৷ তাই সে তারাতাড়ি উঠে ওয়াসরুমে চলে যায়৷

নিয়তি ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে দেখতে পায় নির্বণ উঠে পড়েছে৷ নির্বণের পীঠ নখ দিয়ে আছড়ানো৷ ফর্সা পীঠ থেকে রক্তের লাভা বেরিয়ে আসছে৷ দৌড়ে নির্বণকে কাছে যায়৷

— হাঁপিয়ে বলে বলে উঠে, ” আপনার পীঠে নখ দিয়ে আছড়ানো কেন? কে করেছে আপনার এমন অবস্থা?”

— নির্বণ ক্ষীণ চোখে নিয়তির দিকে তাকিয়ে, ” এতো দুশ্চিন্তার কি আছে? আমার কিছু হয়নি৷ আমি ঠিক আছি৷”

— হন্তদন্ত হয়ে, ” আপনি একদম ঠিক নেই৷ এগুলো দাগ যদি পীঠে থেকে যায়৷ এখননি এন্টিসেপ্টি মলম লাগাতে হবে।”

— কিছু হবে না নিয়তি। এভাবে ভেঙে পড়তে নেই৷ আমি ঠিক আছি৷ আর দাগ পড়ে গেলেই তো ভালো। ভালোবাসার ছোঁয়া সব সময় কাছে থাকে৷

— চকিত হয়ে, “দাগ পড়ে গেলে ভালো মানে!” আর কিসের ভালোবাসা?

— ডেভিল হাসি দিয়ে, ” তোমার কি কিছু মনে নেই সুইটহার্ট ? তুমিই এই সব দাগ কেটেছো?”

— নিয়তি অবাক চোখে তাকিয়ে, ” আমি কখন এসব করলাম? আমি ভুলেও আপনাকে আঘাতের কথা ভাবতে পারিনা৷” [ লেখাঃ অধির রায় ]

— নিয়তিকে কাছে টেনে নিয়ে, ” আজ সকালে এসব দাগ তুমিই কেটেছো? তোমার কষ্টের কাছে আমার এই কষ্ট কিছুই ছিল না৷”

— নিয়তি নির্বণের কথা বুঝতে পারে। নিয়তি লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে বলে উঠে, ” আপনি বলতে পারতেন আপনি ব্যথা পাচ্ছেন৷ শুধু শুধু কষ্ট সহ্য করলেন৷”

নিয়তি নির্বণের সামনে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না৷ নিয়তি লজ্জা পেয়ে বেলকনিতে চলে যায়৷ নির্বণ মুচকি হেঁসে ওয়াসরুমে চলে যায়।

_________

পরিবারের সবার জন্য শপিং করে সন্ধ্যার দিকে হোটেলে ফিরে আসে নির্বণ এন্ড নিয়তি৷ নির্বণ আগে আগে চলছে৷ আর নিয়তি নির্বণের পিছু পিছু যাচ্ছে। নির্বণ হোটেলের দরজা খুলেই রেগে যায়৷

— অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, ” তুই এখানে কি করে আসলি? তোকে আমাদের রুমে কে নিয়ে এসেছে?”

— নিয়তি নির্বণের কাঁধে হাত দিয়ে, ” প্লিজ মাথা গরম করবেন না৷ আমি তাকে এখানে নিয়ে এসেছি৷”

— নিয়তির দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, ” তোমাকে সব স্বাধীনতা দিয়েছি এই না যে তুমি যা খুশি তাই করবে।”

— আমরা তো ছোঁয়াকে এভাবে একা ফেলে যেতে পারি না৷

— নিয়তি তুমি বুঝতে পারছো না কেন? ছোঁয়া তোমার সরলতার সুযোগ নিচ্ছে৷ সুচ হয়ে ঢুকে খাল হয়ে বের হবে৷ আমি তোমাকে হারাতে পারব না৷

— আপনি কেন এত হাইপার হচ্ছেন? ছোঁয়া আমাদের কিছু করতে পারবে না৷ আমাদের উচিত ছোঁয়াকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া৷

— নির্বণ শপিং ব্যাগ বিছানায় ছুঁড়ে মেরে, “আমি তাকে নিয়ে যেতে পারবো না৷ তার সাথে আমি কিছুতেই কলকাতা ফিরবো না৷”
তুমি বুঝতে পারছো না কেন? সে টাকার লোভে আবার নতুন নাটক শুরু করেছে। এখন তাকে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ফিরে যেতে বল৷

নির্বণ আর কিছু না বলে বেলকনিতে চলে যায়৷ নিয়তি বেলকনিতে আসতে নিলেই ছোঁয়া নিয়তির হাত ধরে, ” আমার জন্য কিছু করতে হবে না৷ আমি এখানে ঠিক আছি৷ আমি জীবনে অনেক অন্যায় করেছি৷ আমাকে কেউ কোনদিন বিশ্বাস করবে না৷ আমার এমন শাস্তি পাওয়ার দরকার৷ ”

— নিয়তি ছোঁয়ার হাতে হাত রেখে, ” তোমার কিছু হবে না৷ আমি সব ঠিক করে দিব৷”

–নিয়তি বেলকনিতে পা রাখতেই নির্বণ বলে উঠে, ” এখানে কেন এসেছো? তুমি তো মানব সেবিকা। সবাইকে সাহায্য করবে৷”

— নিয়তি মাথা নিচু করে, ” আমি আপনাকে না জানিয়ে ছোঁয়াকে এখানে এনে ভুল করেছি৷ আপনি নিজেও জানেন না ছোঁয়ার কি হয়েছে?”

— নির্বণ চকিত হয়ে, ” ছোঁয়ার কি হয়েছে! তার কিছু হয়নি৷ ছোঁয়ার এটা একটা নতুন নাটক।”

— ছোঁয়া কোন নাটক করছে না৷ সে আসলে নিরুপায়। তার সুইজারল্যান্ডে কেউ নেই৷ আমি ডাক্তার আর পুলিশের সাহায্যে ছোঁয়ার পাসপোর্ট বানিয়েছি৷

— তুমি এত কিছু করলে আমাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ টুকুও করোনি৷

— আপনি চাইনি আপনি ছোঁয়ার চিন্তা করে কষ্ট পান৷

— তুমি কেন তাকে এতটা ভরসা করছো? কে হয় তোমার?

— আমার কেউ হয় না৷ কিন্তু তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই আমি এসব করছি৷

— নির্বণ হাসি দিয়ে, ” হাহা, আবারও তোমাকে বোকা বানালো।”

— আমি বোকা হয়নি৷ বোকা হয়েছেন আপনি৷ কারণ ছোঁয়া ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। সে যেকোন সময় মারা যেতে পারে৷ তার রোগটা প্রায় চার বছর থেকে। বর্তামানে তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে তাকে বাঁচানোর কোন পথ নেই৷

নিয়তি কথা শুনে নির্বণের ঠোঁট শুকিয়ে যায়৷ গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না৷ কিছু না জেনে মৃত্যু শরণাপন্ন রোগীকে এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি।

— নির্বণ কাঁপা কাঁপা ভাঙা গলায়, ” তুমি কিভাবে জানলে ছোঁয়ার ক্যান্স্যার ধরা দিয়েছে?”

— ডাক্তার আমাকে তার সকল রিপোর্ট দেখিয়েছে। তার মাকে ফোন করে আমাদের বাড়িতে ঢাকা হয়েছে। আমাকে এসব কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন মা৷

নির্বণ আর কিছু বলল না৷ মনে মনে নিজেকে দোষী মনে করল।
______

ভোর ছয়টায় তারা কলকাতায় পৌঁছে যায়৷ নির্বণ সবাইকে সবার গিফট বুঝিয়ে দেয়৷ নিয়তি ছোঁয়াকে ধরে নিয়ে গেস্ট রুমে নিয়ে যায়৷ গেস্ট রুমে যাওয়ার সাথে সাথে ছোঁয়ার মা ছোঁয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে৷ ছোঁয়ার সমস্ত মুখে ভালোবাসার পরশ একে দিতে থাকে।

সকলে বসে আছে, কিভাবে ছোঁয়ার এমন অবস্থা হলো? ছোঁয়া মাথা নিচে করে বসে আছে৷ ছোঁয়াকে দেখে মনে হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে৷

— নিয়তি আভয় বানী দিয়ে, ” দেখো ছোঁয়া আমরা তোমার পরিবারের লোক৷ কোন সংকোচ না করে আমাদের বলতে পারো। তোমার সাথে অন্যায়ের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করব৷”

ছোঁয়া ছল ছল চোখে একবার নির্বণের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করে, ” বৃষ্টি বাড়িতে আমি আর নির্জন (ছোঁয়ার বয়ফ্রেন্ড) নির্বণকে মেরে ফেলার চেষ্টা করি৷ সেজন্য নির্বণকে নদীতে ফেলে দেয়৷ তারপর বৃষ্টি বাড়ি থেকে সেই রাতে কলকাতায় ফিরে আসি৷ নির্জন অনেক আগেই আমাদের জন্য দুইটা সুইজারল্যান্ডের টিকেট কেটে রেখেছিল।”

— এক গ্লাস জল পান করে আবারও বলা শুরু করে, “পরের দিন সকাল বেলা আমি আর নির্জন সুইজারল্যান্ড চলে যায়৷ নির্জন আমাকে বলেছে সেখানে তার মা বাবা থাকেন৷ তাদের সাথে দেখা করেই আমাদের বিয়ে হবে৷ আমাকে একটা বিশাল বড় বাড়িতে নিয়ে যায়৷ সে জানায় এটা তাদের বাড়ি৷ আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়৷ আমি কল্পনাও করতে পারিনি আমি এত বড় বাড়ির বউ হবো৷ আমাকে লুকিয়ে নির্জন একটা রুমে নিয়ে যায়৷ আমাকে বলে যায়, আমি এখানেই যেন থাকি৷ তার মা বাবাকে সারপ্রাইজ দিবে আমাকে দেখিয়ে। তার কথামতো আমি রুমে অপেক্ষা করি৷ সন্ধ্যার দিকে রুমে মধ্যবয়স্ক দুইজন লোক রুমে প্রবেশ করে। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম নির্বণের বাবা, কাকা৷ কিন্তু আমি ছিলাম তাদের খাবার৷”
নির্জন রুমে এসে বলে উঠে,” স্যার মালটা একদম পিউর৷ কেউ কোনদিন টার্চ করেনি৷ আমার টাকা বুঝিয়ে দেন। এক রাত আমাদের সাথে থাকবে৷ আমি বাহিরে আছি৷”
“নির্জনের কথা শুনে আমি ঘাবড়ে যায়৷ নির্জনের পায়ে পড়ি৷ নির্জন আমাকে লাথি দিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে চলে যায়৷ আমি তাদের কিছু বলতে নিব তার আগেই তারা আমার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়৷ আমার হাত পিছনে বেঁধে ফেলে৷ তার পর তারা আমাকে কুকুরের মতো ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়৷”

ছোঁয়া আর কিছু বলতে পারল না। কান্নায় ভেঙে পড়ে৷ নিয়তির হাত চেপে ধরে আবারও বলতে শুরু করে,” এখানেই শেষ নয়৷ প্রতিদিন রাতে আমি দুইজন তিনজন লোকের ভোগকারী মোহিনী হতাম৷ এভাবে চলে যায় পুরো দুই মাস৷ এক দিনের জন্য বাহিরে বের হতে পারিনি৷ একদিন নির্জন আমাকে খাবার দিতে রুমে আসে, আমি ওয়াসরুমের স্টেন দিয়ে নির্জনের মাথায় আঘাত করি৷ যার ফলে নির্জন মাটিতে থুবড়ে পড়ে। আর সেই দিন নির্জনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়৷ মানে তার হাত থেকে বাচার জন্য তাকে খুন করি৷ রক্তমাখা শরীর নিয়ে বাহিরে বের হলে সেখানকার লোকরা আমাকে ধরে একটা পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়৷ সেখানে দুই বছর আমার জায়গা হয়৷ সেখানেও একদিন সুযোগ বুঝে মালকিনকে মেরে ফেলে পালিয়ে আসি৷ তার পর ভিক্ষা করে চলতে থাকে আমার জীবন।”

সকলে ছোঁয়ার কাহিনী শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে৷ এভানে চলতে থাকে কিছুদিন। হুট করেই একদিন ছোঁয়ার মুখ থেকে ব্লাড ঝরতে থাকে৷ ছোঁয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে৷

চলবে…

ভুল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিবেন৷

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ