Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তি আমো পর্ব-২২+২৩

তি আমো পর্ব-২২+২৩

#তি_আমো❤
#পর্ব_২২
Writer: Sidratul muntaz

🍂
নিহার প্রতি আমার এই বাছবিচারহীন মাইরের শব্দে সাফিন ভাইয়া ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বিস্মিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,

“কি হলো? কি হলো? আমার বউটিকে এইভাবে মারছো কেনো শালিকা?”

আমি মাথা তুলি সাফিন ভাইয়ার দিকে তাকালাম। দাত কিড়মিড় করে চুল ঠিক করে বিছানায় ধপ করে বসলাম। আর বললাম,

“আপনার বউটি যে কাজ করেছে, ওকে শুধু মাইর কেনো? গলা টিপে মেরে ফেলা উচিৎ। ”

সাফিন ভাইয়া চেয়ারে বসতে বসতে বললেন,

“হায় হায় কউ কি? বিয়ার পরের দিনই বিধব আমি?”

“বিধব? ”

আমি অবাক হয়ে উচ্চারণ করলাম। সাফিন ভাই দাত কেলানো হাসি দিয়ে বললেন,

“ওই বিধবার মেইল ভারসন আর কি!”

আমি আর কিছু বলার আগেই নিহা শব্দ করল, “দোস্ত আমার একটা কথা শোন।”

আমি চেচিয়ে উঠে নিহার দিকে আঙুল ঘুরিয়ে বললাম,

“তুই আর কথাই বলিস না। যা হচ্ছে সব তোর কথার জন্যই তো হচ্ছে। তুই দয়া করে মুখটা বন্ধ রাখ।”

নিহা রাগ দেখিয়ে বলল, “আরে আমি কি ইচ্ছে করে করছি নাকি আজিব? তোর ভালোর জন্যই তো করতে যাচ্ছিলাম।”

“আমার ভালোর জন্য? এইটা তুই আমার ভালো করছিস?”

আরেকটা কিল লাগালাম নিহার কাধ বরাবর। সাফিন ভাইয়া এবার চেয়ার থেকে উঠেই আসলেন,

“আরে আবারও মারামারি কেনো?”

নিহা বলল,” সত্যি কথাটা বলে দিলে তখন ভাল্লাগতো?”

আমি তাল মিলিয়ে বললাম,” হ্যা তাই করতি। সত্যিটাই তুই বলে দিতি। মিথ্যে কেনো বলতে গেলি?”

নিহা বিস্ফোরিত চোখে তাকাল,” কি? সত্যিটা বললে মোহনা আন্টি হার্ট ফেইল করতো।”

আমি বললাম, “করলে উনি একা হার্ট ফেইল করতো। আর এবার তো ভাইয়া, মা, বুড়ি, ঈশান, আমি নির্বিশেষে সবাইকে হার্ট ফেইল করাবে।”

সাফিন ভাইয়া বললেন, “কেনো? আজকে কি হার্ট ফেইল ডে নাকি?”

আমি নাক ফুলিয়ে সাফিন ভাইয়ার দিকে তাকালাম,

“না! তবে আপনার বউটির জন্য আজকে থেকে ক্যালেন্ডারের পাতায় এই দিনটি যোগ হবে হার্ট ফেইল ডে নামে। এইটুকু আমি বলতে পারি।”

নিহার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আমি বিছানা ছেড়ে উঠে আসলাম। সাফিন ভাইয়া কৌতুহল নিয়ে নিহাকে জিজ্ঞেস করলেন,

“কি হয়েছে বলোতো?”

নিহার উত্তর শোনার আগেই আমি সীমান্তের বাহিরে। বাগানের পেছন দিকে ভাইয়া ফোনে কথা বলছিলেন। মা এর ঘরে উকি মেরে দেখে আসলাম মা আর বুড়ি ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে। নিহার বিদায়ের পর্ব শেষে আমাদেরও বিদায় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবার সেটা হয়ে উঠবে কিনা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। মোহনা আন্টিকে যদি কোনোভাবে আটকানো যায়, সেই আশায় ভাইয়ার উপর নজর রাখছি আমি। মোহনা আন্টি এদিকটায় আসলেই যেকোনো বাহানায় আটকাতে হবে। আমি নিহাদের স্টোর রুমের দেয়াল ঘেষে দাড়িয়ে রইলাম। ভাইয়া অনেকটা দূরে গেন্দাফুল গাছের কাছাকাছি দাড়িয়ে। মোহনা আন্টি আচমকাই ভাইয়ার পেছনে এসে দাড়ালেন। ভাইয়া মোহনা আন্টিকে দেখে যতটা না চমকালেন তার থেকেও অধিক আমি চমকে উঠলাম। উনি কোনদিক দিয়ে আসলেন আর কখনই বা আসলেন? দেখলাম না তো! ভাইয়া ফোনটা পকেটে ভরেই কপালে বিরক্তির ভাজ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

“কিছু বলবেন?”

মোহনা আন্টি হাত ভাজ করে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “বলবো বলেই তো এসেছি। খুব জরুরি বিষয়।”

ভাইয়া কপাল কুচকে তাকিয়ে থেকে উচ্চারণ করলেন, “কি জরুরি বিষয়?”

“জরুরি বিষয়টা তোমার বোনের বিয়ে নিয়ে। এই বিয়েটা হচ্ছে না। আমি হতে দিচ্ছি না।”

“আমার বোনের বিয়ে আপনি হতে না দেওয়ার কে?”

“আমি কেউ না! কিন্তু তুমি তো ওর বড়ভাই। যদি সত্যিকার অর্থে বড়ভাই হয়ে থাকো, তাহলে পাত্রের চরিত্র সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর নিজেই বিয়েটা ভেঙে দিতে চাইবে।”

ভাইয়া চরম বিরক্তি আর বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “মানে?”

“মানে যেই ছেলের সাথে তোমার বোনের বিয়ে দিবে বলে ঠিক করেছো, সে একটা অসভ্য, ইতর, বেলেল্লা, চরিত্রহীন, মেয়েদেরকে ইভটিজিং করে, অসম্মান করে, ভীড় জমানো জায়গায় মেয়েদের সাথে অসভ্যতা করার সুযোগে এক চুলও ছাড় দেয়না। ফালতু, টাউট, ফ্যামিলির কোনো শিক্ষা দীক্ষা বলতে কিচ্ছু নেই। বংশ পরিচয়টা তো আচরণের সাথেই পাওয়া যায়। এই ছেলের আচরণগত কোনো বৈশিষ্ট্যই নেই। ছি ছি ছি!”

আমি দেয়াল চেপে ধরে মোহনা আন্টির কথা শুনছিলাম। পেছন থেকে ঈশান আমায় ধাক্কা দিলেন। আমি ঘুরে তাকালাম৷ ঈশান ভ্রু কুচকে সামনে ইশারা করে জানতে চাইলেন,

” তারিন, মম কার উপর এতো ক্ষেপলো হঠাৎ? কাকে বকছে এভাবে? ”

আমি কোমরে হাত গুজে বললাম, “আপনার মাম আপনাকেই বকছে।”

ঈশান মুখ কুচকে বলল, “হোয়াট? আমি এরকম?”

ঈশানের থেকে দ্বিগুন শব্দে ভাইয়া উচ্চারণ করলেন,” হোয়াট? ঈশান এরকম?দেখুন ম্যাডাম আপনি এইমাত্র যা কিছু বললেন সেগুলো আপনার একমাত্র ছেলের বিশেষ গুণ। আমার ভাইয়ের না। সে একজন সৎ, দায়িত্ববান, পরিশ্রমী ছেলে। আদর্শ শিক্ষক। আপনার ছেলের মতো লাফরাঙ্গা না। সবাইকে নিজের গোয়ালের গরু ভাববেন না।”

এই কথা শুনে ঈশান বিষম খেলেন। ঘুরে ফিরে সেই একই তো হলো। ভাইয়াও ঈশানকে বকছেন, আন্টিও ঈশানকেই বকছেন। আবার দুজনেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে।

মোহনা আন্টি বললেন, “কি? আমার ছেলে লাফরাঙ্গা? তুমি আমার ছেলের বিষয়ে কতটুকু জানো? ”

ভাইয়াও আঙুল তুলে বললেন,

“আপনি আমার ভাইয়ের বিষয়ে কতটুকু জানেন?”

“আমি জানি বলেই তো বলছি। নিজের কানে শুনেছি তোমার পছন্দের পাত্রের গুণগান। ”

“আমিও নিজের কানেই শুনেছি আপনার ভদ্র ছেলের গুণগান।”

“কি শুনেছো তুমি আমার ছেলের ব্যাপারে? হলফ করে বলতে পারি সব ভুল শুনেছো। কোনো ধারণাই নেই তোমার আমার ছেলে সম্পর্কে। ”

ভাইয়া মাথা দুলিয়ে বললেন, “হ্যা! সেইম আমিও বলতে পারি। আপনিও ভুল শুনে এসেছেন। আমার ভাই সম্পর্কে আপনারও কোনো ধারণা নেই।”

মোহনা আন্টি বললেন, “ঠিকাছে তাহলে ডাকো।”

“কাকে ডাকবো?”

“তোমার পছন্দের পাত্রকে ডাকবে। আমি নিজে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। আর তারিনকেও ডাকো। তারিন কোথায়?”

“হ্যা তাহলে আপনিও নিজের ছেলেকে ডাকুন না। আমারও অনেককিছু জিজ্ঞেস করার আছে।”

“হ্যা ডাকবো প্রবলেম কই? ঈশান? ”

তীক্ষ্ণ শব্দে উচ্চারণ করলেন মোহনা আন্টি। ভাইয়াও উচ্চশব্দে বললেন, ” ঈশান?”

মোহনা আন্টি তাকাতেই ভাইয়া বললেন, “ঈশান আহমেদ। আমার ভাইয়ের নাম।”

মোহনা আন্টি হাত ভাজ করে বললেন, “তারায জোহান ঈশান। আমার ছেলের নাম।”

পেছন থেকে নিহা হুট করে এসে বলল, “ঈশান ভাইয়া আপনার নিজের নাম মনে আছে তো? মানে কার ডাকে সাড়া দেবেন? তাই জিজ্ঞেস করছিলাম। ”

ঈশান সোজা হয়ে দাড়িয়ে আছেন। জড়বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মতো। এদিকে আমার মাথা ঘুরছে।
🍂

চলবে

#তি_আমো❤
#পর্ব_২২(অতিরিক্ত অংশ)
Writer: Sidratul muntaz

🍂
আমি নিহার গাল বরাবর থাপ্পড় দিলাম। নিহা গালে হাত রেখে কটমট চোখে বলল, “ওই মারলি কেন? মারলি কেন?”

“সব ভেজাল বাধিয়ে এখন মজা নিতে এসেছিস? মারবো না তো কি করবো? তোকে আরো দুটো থাপ্পর দেওয়া উচিৎ। ”

ধমকানো উত্তর দিয়ে আমি নিহার দিকে এগিয়ে গেলাম। নিহা চটজলদি ঈশানকে পিলার বানিয়ে পেছনে লুকিয়ে পড়ল। ঈশান আমার দুই হাত টেনে ধরে বললেন,

“তারিন কাম ডাউন। সিচুয়েশন টা আগে বুঝতে দাও। মাথায় কিচ্ছু আসছে না। হোয়াটস গোয়িং অন?”

ওদিকে গলা ফাটিয়ে ডাকাডাকির পর ঈশান ওরফে ঈশানের তো কোনো সাড়া পাওয়া গেলোই না উল্টো সুমনা আন্টি, মা, বুড়ি, সাফিন ভাইয়া এক কথায় বাড়ির অর্ধেক মানুষ জড়ো হয়ে গেছে। আর আমরা তিনজন স্টোর রুমের ভিতরে ঢুকে উকিঝুকি মারছি। ঈশানকে তো বের করা যাচ্ছে না, আমি বের হলেও আন্টি আর ভাইয়ার গোয়েন্দা টাইপ প্রশ্নের উত্তর দিবে হবে। আর নিহা? ওর কারো সামনে না যাওয়াই মঙ্গল। ভাইয়া মাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“মা ঈশানকে দেখেছো?”

মা কুণ্ঠিত হয়ে বললেন, “না.. সকাল থেকে তো দেখলাম না। ”

ভাইয়া বুড়ির দিকে তাকালেন, “দাদী তুমি দেখেছো?”

“আমি কইত্তে দেহুম? ঘুমেত্তুন উটলামই কতখান আগে। আর উইটটাই শুনি তোগো চিক্কুর চেচামেচি। কিয়ের কেচাল লাগসে মাষ্টররে লইয়া? এই বেডি কিতা কয়?”

মোহনা আন্টি রাগে অগ্নিশর্মা রুপ নিয়ে সুমনা আন্টির দিকে এগিয়ে গেলেন, “ভাবী! ঈশানকে দেখেছো?”

সুমনা আন্টি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে উত্তর দিলেন, “হ্যা.. সকালে দেখেছিলাম। ব্রেকফাস্টের সময় সাফিনের সাথে কিচেন সাইটে এসেছিল। তারপর আর দেখিনি। ”

মোহনা আন্টি সাফিন ভাইয়ার দিকে তাকালেন। সাফিন ভাইয়া বিহ্বল হাসি নিয়ে বললেন,

“হঠাৎ ঈশানকে এতো খোজাখোজি?”

মোহনা আন্টি ধমক দিয়ে বললেন,” ঈশান কোথায় আছে জানো কি-না সেটা বলো।”

তারিফ ভাইয়া ভাবলেশহীন ভাবে উচ্চারণ করলেন,

“ছেলেটা গেলো কই? এতো ডাকাডাকির পরেও আসছে না কেনো?”

মোহনা আন্টি গর্জন করে বললেন, “আসবে কিভাবে? এখন তো ধরা পড়ার সময় হয়েছে। তাই আসবে না। ছেলেটা হয়তো তার কু কীর্তির পর্দা ফাস হওয়ার খবর পেয়ে গেছে। আর সেই ভয়েই এখন পালিয়েছে। পার্টির দিনও এমন হয়েছিল। ধরা পড়ার ভয়ে পালিয়ে গেছিল। এই ছেলে ভীষণ চতুর। গভীর জলের মাছ। ”

ভাইয়া বললেন, “এইযে দেখুন! আপনি কিন্তু বেশি বেশি বলছেন। পালাবে কেনো? পালানোর মতো কি এমন করেছে সে? বরং আমি তো বলবো আপনার ছেলে পালিয়েছে। মুখোশ খুলে যাওয়ার ভয়ে।”

“আমার ছেলে পালিয়েছে? আচ্ছা পালালে পালিয়েছে।ভালো কথা। দিনশেষে তো তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে। কিন্তু তোমার ওই ধোকাবাজ প্রিয়পাত্র আর জীবনেও ফিরবে না। যদি ফিরেও আসে তাহলে আমি তাকে ভাড়া করা গ্যাং দিয়ে এমন টাইড দিবো.. তারিনের ‘ত’ টা পর্যন্ত ভুলে যাবে। জীবনে কোনোদিন তারিনের নাম মুখে আনার আগেও আমার কথা হাজারবার চিন্তা করবে। ”

সুমনা আন্টি মায়ের কাধ ধরে বললেন,” মোহনা শান্ত হও! কি শুরু করেছো?”

ভাইয়া তেড়ে এসে বললেন,

“এই এক্সকিউজ মি! কি বললেন আপনি? ভাড়া করা গ্যাং? গুন্ডা? আপনি আমার ভাইকে গুন্ডা দিয়ে মার খাওয়াবেন? আপনার প্রবলেমটা কোথায় বলুন তো? সাইকো নাকি আপনি? আপনার ছেলে যেই কাজ করেছে, আমরা যে এখনো ওর নামে মামলা তুলে বাড়িতে পুলিশ আনি নি এইটাই আপনাদের মা-ছেলের গুডলাক। আসলে কি বলুন তো? আপনার লাফরাঙ্গা ছেলেকে রিজেক্ট করে একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত ছেলের সাথে বোনের বিয়ে দিচ্ছি তো! এইটাই আপনার ইগো তে লাগছে। আর তাই ইনোসেন্ট ছেলেটার নামে এসব বাজে ব্লেম দিয়ে বিয়েটা আটকাতে চাইছেন। ”

মোহনা আন্টি কিছু বলতে নিলে ভাইয়া হাত উঠিয়ে বাধা দিলেন। বললেন,

“বাট আমি এটা হতে দিচ্ছি না। আমার বোনের বিয়ে হবেই। আমি যার সাথে চাইবো তার সাথেই হবে।কেউ বিয়ে আটকাতে পারবে না।”

“তুমি তো আচ্ছা ঘাড়ত্যাড়া ছেলে! এতো করে বুঝাচ্ছি তাও বুঝো না? আরে মেয়েটার লাইফটা নষ্ট হয়ে যাবে।”

“নষ্ট হোক। আমার বোনের লাইফ নষ্ট হবে তাতে আপনার কি?”

“আমার কি মানে? আমি নিজে একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের লাইফ হেল হয়ে যাওয়া দেখবো? সবকিছু জেনেও হাত গুটিয়ে বসে থাকবো? কক্ষনো না। তারিনের বিয়ে আমি হতে দিবো না, দিবো না, দিবো না!”

“আমার বোনের বিয়ে আমি দিয়েই ছাড়ব, দিয়েই ছাড়ব, দিয়েই ছাড়ব। কি করবেন!”

মোহনা আন্টি কটমট চোখে তাকালেন। মা ভাইয়ার হাত টেনে ধরে বললেন,

“তারিফ! আমার বয়সী একজন মহিলার সাথে এভাবে কিভাবে ঝগড়া করছিস বল তো?”

ভাইয়া হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললেন, “দেখছো না ঈশানের সম্বন্ধে কি উল্টা পাল্টা কথা বলছে? রীতিমতো ইনসাল্ট করছে ছেলেটাকে। ঈশান এসব শুনলে কি মনে করতো?”

আমি ঈশানের দিকে তাকালাম। ঈশান সবই শুনছে। অস্থিরতা নিয়ে পুরো স্টোর রুমে পায়চারী করে বেড়াচ্ছে।

সাফিন ভাইয়া হঠাৎ মাথা চুলকে বললেন,” আচ্ছা ঈশানকে একটা ফোন করলেই তো হয়। প্রবলেম সোলভড!”

বলেই তুরি বাজিয়ে হাসলেন সাফিন ভাইয়া। নিহা কিছুটা শব্দ করে বলে উঠল,”না!”

আমি নিহার মুখ চেপে ধরলাম। নিহা আমার হাত সরিয়ে বলল, সাফিনকে এখন হাতের কাছে পেলে গুনে গুনে দশটা চড় দিতাম। কি ফালতু আইডিয়া দিল! এবার ধরা পড়ে গেলে?”

আমি ক্ষুব্ধ কন্ঠে বললাম,” তোরা দুটোই এক। অর্ধেক ঝামেলা তো তুই বাধিয়েছিস। এবার বাকিটা সাফিন ভাইয়া বাধাবে। তোদের বর-বউয়ের এই অতি বুদ্ধির কারণে আমার আর ঈশানের জীবন ফানা ফানা। ”

“আচ্ছা এখন কি আমি কিছু করেছি? একটু চুপ থাক না।”

“না তুই তো কিছুই করিস নি। অথচ তোর জন্যই সব হচ্ছে। ”

“আমার জন্য সব হচ্ছে? তোর বুঝি কোনো দোষ নেই? তোরা মিথ্যা বলেছিস কেনো?”

“সেটাও তো তোদের জন্যই বলেছি। সব সমস্যার গোড়া আসলে তোর আর সাফিন ভাইয়ার জুটি। তোরা এ্যাংগেজমেন্টটাই করতে গেলি কেন? বিয়েটাই বা কেন করলি? তোদের বিয়ের জন্য এখন আমাদের বিয়ে হচ্ছে না।”

“ও হ্যালো হ্যালো! আমাদের বিয়ে না হলে তোদের প্রেমটাও হতো না। সেলফিশের মতো এই জিনিসটা ভুলে যাস না।”

ঈশান ধমক দিয়ে বললেন,” প্লিজ চুপ করো তোমরা। এতো কথা কিভাবে বলো আজিব তো!”

মাথার চুলগুলো ঠেলে পেছনে নিয়ে কোমরে হাত রেখে দাড়ালেন ঈশান। বড় বড় শ্বাস ছেড়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন উনি। জিহবা দিয়ে ঠোট ভিজিয়ে নাক, গলার ঘেমে যাওয়া অংশ মুছে নিচ্ছেন। সহজ কথায় টেনশনে বিধ্বস্ত অবস্থা হয়েছে উনার।ভীষণ টেনশন করছেন। আমার তো উনার দিকে খেয়াল রাখা উচিৎ। তা না করে আমি নিহার সাথে ফালতু বকবক করছি ধুর! আমি ঈশানের কাছে গিয়ে উনাকে ধুলিমাখা বেঞ্চটার উপর বসালাম। ঈশান এখনো বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। আমি ওরনা দিয়ে উনার ঘাম মুছে দিয়ে বললাম,

“একটু শান্ত হয়ে বসেন প্লিজ। আর আপনার ফোন?”

ঈশান পকেটের উপর হাত দিয়ে বললেন, “ফোন সাইলেন্ট আছে।”

আমি জানালার দিকে তাকালাম। মোহনা আন্টির সাথে সাথে ভাইয়াও ঈশানকে অবিরত ফোন করে যাচ্ছেন। আর দুজনেই বলছেন, নেটওয়ার্ক বিজি। আমি কপালে হাত রাখলাম। দুইজন মিলে এক নাম্বারে ফোন দিলে নেটওয়ার্ক তো বিজিই হবে। ভাইয়া হঠাৎ অতি চালাকি দেখিয়ে বললেন,

“এই ওয়েট! আপনি আবার আমার ভাইকে কিডন্যাপ করেন নি তো?”

মোহনা আন্টি অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,”আমার তো উল্টোটা মনে হচ্ছে। তুমি আমার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছো?”

“আপনার ছেলের মতো কীট কে কিডন্যাপ করে হাত নাপাক করার কোনো ইচ্ছে নেই। তবে একটা কথা বলে দিচ্ছি, আমার ভাইয়ের যদি কিছু হয়.. আপনার ছেলেকে কিন্তু আমি ছেড়ে দেবো না ম্যাডাম।”

আমি ঈশানের বাহু খামচে ধরলাম। পরিস্থিতি ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে। সব জটলা পাকিয়ে যাচ্ছে। এবার কি আমাদের ধরা দেওয়া উচিৎ?
🍂

চলবে

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ