Friday, June 5, 2026







কলঙ্ক পর্ব-০৬

#কলঙ্ক
#৬ষ্ঠ_পর্ব
#অনন্য_শফিক



আমি ভাইয়ার দিকে তাকাতে চাইলাম।তার ডাকের সাড়া দিতে চাইলাম। কিন্তু সম্ভব হলো না।এর আগেই শরীর কাঁপতে লাগলো কেমন। তারপর সেন্সলেস হয়ে গেলাম আমি!
চোখ খুললো আমার ঘন্টা খানেক পর। চোখ খুলে দেখি আমি খাটের উপর শুয়ে আছি।মা আমার মাথায় পানি ঢালছে। বাবা খাটের উপর পা ঝুলিয়ে বসে আছে।আর ভাইয়া তখনও আমার হাত ধরে বসে আছে আমার দিকে তাকিয়ে।তার চোখ টলমল করছে জলে। আমার চোখের পাতা খুলতে দেখেই সে টপটপ করে চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল ছেড়ে দিলো। তারপর এই কান্নার মাঝেই হেসে ফেললো, শব্দহীন ভাবে।আর আমার হাতটা আরো শক্ত করে ধরে বললো,’এখন কেমন লাগছে তূর্ণা?’
আমি কান্নামাখা গলায় বললাম,’ভালো।’
ভাইয়া একহাতে তার চোখ মুছতে মুছতে বললো,’আমার উপর রাগ করেছিস খুব না?’
আমি কেঁদেই ফেললাম এবার শব্দ করে।
ভাইয়া আমার চোখ মুছিয়ে দিলেন।
আমি ভেজা গলায় বললাম,’ভাইয়া,আমি অনেক বড়ো ভুল করে ফেলেছি।আসলে তখন কিছুই বুঝতে পারিনি। তোদের কারোর কথাই তখন মনে আসেনি।একটা অন্ধ মোহে পড়ে একটা ছেলেকে ভালো ভাবে না জেনে না বোঝে এসব করা আমার ঠিক হয়নি!’
ভাইয়া মৃদু হাসলো। হেসে বললো,’ভুল করার পর ভুল যে বুঝতে পারে সে জ্ঞানী মানুষ।আর ভুল বুঝতে পারার পর যে ভুল শুধরে নিতে পারে সে মহৎ মানুষ!তুই তোর ভুল বুঝতে পেরেছিস এই জন্য তুই জ্ঞানী মানুষ হিসেবে প্রমাণিত হলি। এখন এক কাজ কর।ভুলটা শুধরে নে।’
আমি মৃদু হাসলাম। হেসে বললাম,’আমি আর কোনদিন কাউকে সামান্য দুঃখও দিবো না। কোনদিন না। আমি তোমাদের সব কথা মেনে নিবো।’
মা বললেন,’তাহলে আজ থেকে কোন রকম দুশ্চিন্তা করা যাবে না। এবং তোর অতীতকে চিরতরে ভুলে যেতে হবে!’
আমি বললাম,’ভুলে যাবো মা।’
মা এবার ভাইয়াকে বললেন,’নেহাল,তুই আগামীকাল বারহাট্টা যাবি। ছেলেটাকে গিয়ে দেখে আসবি। ওদের বাড়িঘর,ফ্যামিলি সব দেখবি।আশ পাশের মানুষদের সাথে কথা বলে ছেলের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করবি। সবকিছু ভালো হলে ছেলেকে আসতে বলবি। সাথে মুরব্বিরাও আসবে।’
ভাইয়া মার কথার পর খানিক সময় চুপ করে রইলো। তারপর বললো,’তূর্ণার বিয়ে হবে না!’
বাবা মা দুজনেই চমকে উঠলেন।মা খানিক সময় হা করে থেকে সামান্য তুতলে বললেন,’মানে?কী বলতে চাইছিস তুই?’
‘বলতে চাইছি তূর্ণার বিয়ের সময় হয়নি এখনও।ওর অনেক পড়াশোনা করতে হবে। পড়াশোনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তারপর বিয়ে।’
মা মুখ ভেঙচিয়ে বললো,’বিয়ের বয়স এখনও হয়নি তুই বলতে চাইছিস?’
ভাইয়া বললো,’হুম।তাই।’
মা বললো,’তো সে নিজে নিজে যে বিয়ে করলো ওটা কী? বিয়ের বয়স না হলে সে বিয়ে করলো কীভাবে?’
ভাইয়া খানিক সময় চুপ করে রইলো। তারপর বললো,’মা,একটু আগে তূর্ণা কী বলেছে শুনেছিলে?’
মা অবাক হয়ে বললেন,’কী বলেছিলো?’
‘ও বলেছিলো সে ভুল করেছে।আর কখনও এমন ভুল করবে না। অর্থাৎ ও যে বিয়ে করেছে এটা তার ভুল।সত্যি সত্যি কোন বিয়ে নয়।’
মা বললেন,’তোর কী মাথা টাতা খারাপ হয়ে গেছে নাকি নেহাল? পাগলের মতো বকছিস! শোন, আজগুবি কথাবার্তা বাদ দিয়ে এখন ঘুমোতে যা।কাল সকালে নাশতা করে তুই ছেলের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবি।বুঝলে?’
ভাইয়া বললো,’বুঝেছি। আগামীকাল বারহাট্টা যাবো আমি। গিয়ে ছেলের সাথে কথা বলবো।বলবো,এই হারামজাদা,তোর সাহস কতো বড়ো!তুই আমার বোনকে বিয়ে করতে চাস?’
মা কপট রাগ দেখিয়ে এখান থেকে উঠে যেতে যেতে বললেন,’ঢং হচ্ছে।ঢং!কাল কিংবা পড়শু যখন সব জানাজানি হবে তখন কেমন হবে?আর ঢাকায় তো এতোক্ষণে ওর সব বন্ধু বান্ধব সহপাঠীরা জেনে গেছে। ওদের সামনে আর কখনো যেতে পারবে ও?নাকি লাজ শরম জলের সাথে মিশিয়ে খেয়ে ফেলেছে একেবারে!’
কথাগুলো বলে মা এখান থেকে চলে গেলেন। এবার আমি গভীর চিন্তায় পড়ে গেলাম।মার কথাগুলো মিথ্যে নয়।ঢাকায় আমার সাথে যে মেয়েটি হসপিটালে গিয়েছিল সে আমার ভালো বন্ধু নয়।ওর সাথে আমার শুরু থেকেই নানান কিছু নিয়ে অমিল।দিনে অন্তত তিনবার করে ওর সাথে ঝগড়া হতো আমার। তবুও বেচারি সেদিন কী মনে করে যে আমায় নিয়ে হসপিটালে গেলো তা আল্লাহ ভালো জানে!সে যায়হোক।মুদ্দাকথা হলো, আমার দোষ খুঁজে পেয়ে এতোক্ষণে বোধহয় সে হোস্টেল আর ক্যাম্পাসে প্রতিটি মানুষের কানে কানে পৌঁছে দিয়েছে। সম্ভবত গত কয়েকদিন হোস্টেল আর ইউনিভার্সিটির হট নিউজ ছিলাম আমিই!
ভাইয়া আমায় মুখ কালো করে শুয়ে থাকতে দেখে বললো,’কিরে মার কথায় মন খারাপ হয়েছে?’
আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,’উহু।’
ভাইয়া এবার আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। তারপর বললো,’তুই আগামী সপ্তাহে আমার সাথে ঢাকায় যাবি। আবার হোস্টেলে উঠবি।’
আমি ভয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,’ওরা যে সব জেনে গেছে!’
ভাইয়া বললো,’জেনে গেলে কী হয়েছে?তুই না বললি এটা তোর ভুল?তোর ভুল তুই বুঝতে পেরেছিস এবং তুই এখন ওসব পুরনো ব্যপার ভুলে যেতে চাস এটা তোর মহৎ কাজ।আর যারা তোর মহৎ কাজে বাঁধা দিবে, তোর নামে কুৎসা রটাবে এটাকে তুই দেখবি কেন?তোর তো পেছন ফিরে তাকাবার সময় নাই! তুই আগে বাড়বি। এগিয়ে যাবি শত্রুদের মুখে চুনকালি মেখে দিয়ে।সব সময় মনে রাখবি তুই ভুল করেছিলে।এই ভুলটাকে যে করেই হোক তোর শুধরাতে হবে।বাবা মা আর ভাইয়ের মুখে হাসি ফোটাতে হবে।আজ যারা তোকে নিয়ে হোস্টেল আর ইউনিভার্সিটিতে হাসবে, তামাশা করবে তারাই একদিন তোর সফলতায় নিজে নিজে লজ্জিত হবে।’
আমি হেসে ফেললাম আনন্দে এবং এক ধরনের চাপা উত্তেজনায়।
ভাইয়া বললেন,’তবে মনে থাকে যেন সুযোগ একটাই। আবার নতুন কোন ভুল করা যাবে না এবং অতীতকে কোন ভাবেই টেনে আনা যাবে না সামনে!’
আমি বললাম,’তাই হবে।’

সকাল বেলা মা ভাইয়াকে ডেকে বললো,’কিরে তোর না বারহাট্টা যাওয়ার কথা?’
ভাইয়া বললো,’কাল রাতেই তো বললাম তূর্ণা এখন বিয়ে করবে না। পড়াশোনা করবে।’
‘পড়াশোনা করে কী হবে?জজ ব্যারিস্টার?নাকি আবার আমার মুখ পুড়বে?’
ভাইয়া এবার মার কাছে গেল। পেছন থেকে মাকে জড়িয়ে ধরে মার আঁচলে মুখ ঘসে বললো,’মা, তোমার মেয়েকে অনেক বুঝিয়েছি।সে এখন মেচ্যুয়ূর। এখন আর বাচ্চাদের মতো কোনো ভুল করবে না। আরেকটা কথা হলো, তুমি যে ওকে বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছো বিয়ের পর যদি আবার কোন সমস্যা হয়?যদি কোন কারণে ওদের সংসার ভাঙে? এখন তো অহরহ এমন হচ্ছে।ছেলে মেয়ের মধ্যে মিল হচ্ছে না,তো ডিভোর্স। কোন ভাবে ছেলে মেয়ের কিংবা মেয়ে ছেলের খারাপ কোন অতীত শোনে ফেললো।ওকে, ডিভোর্স। পুত্রবধূ শশুর শাশুড়ির মন মত হয়নি,হয়ে গেল, ডিভোর্স।তো, তোমার মেয়েকে যদি যোগ্য করে না বিয়ে দাও।যদি ওর নিজে কিছু করার যোগ্যতা না থাকে।যদি স্বামীর উপর নির্ভর করে থাকতে হয় তাকে। তবে কোন কারণে যদি আবার ওদের সংসার ভাঙে,ডিভোর্স হয় ওর তখন ভাবতে পারো ওর কী হবে?’
মা এবার চুপ মেরে যান।
বাবা বলেন,’নেহাল, এমন করে তো আমরা ভাবিনি বাবা!’
আমিও মনে মনে বলি, এমন করে তো আমিও কখনো ভাবিনি!
ভাইয়া এবার বলেন,’পড়াশোনা করে নিজেকে যোগ্য করে তুললে আল্লাহর রহমত কোন বিপদ এসে তাকে কাবু করতে পারে না। আজকাল যে মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে তাদের মতো সুখি আর কেউ নাই।মা, তুমি তোমার মেয়েকে সুখি হওয়ার পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিও না!’
মা বললেন,’তোর কথাই যথার্থ।তুই যা বলবি তাই হবে।’
ভাইয়া বললেন,’তাহলে আগামী সপ্তাহেই আমি তূর্ণাকে নিয়ে ঢাকায় যাবো।ওর আরো দু মাস সময় আছে ফাইনাল এক্সামের।দু মাস পড়াশোনা করতে পারলে ও অনেক ভালো করবে।’
মা বললেন,’তাই যা। আগামী সপ্তাহেই যা।’

এই সিদ্ধান্তের পরই একটা ভয় ঢুকে গেল আমার মনে। এই যে আমি আবার হোস্টেলে ফিরবো তখন কেমন হবে?ওরা যখন আমায় শুনিয়ে শুনিয়ে ওসব মন্দ কথা বলবে তখন আমি সহ্য করতে পারবো তো?আর ইউনিভার্সিটিতেই বা কীভাবে যাবো? ছেলে মেয়েরা আঙুল তুলে দেখিয়ে দেখিয়ে বলবে না,এই দ্যাখো প্রস্টিটিউট টা আসছে। শুধু এতো টুকু না এরচেয়ে খারাপ কথাও তো বলতে পারে! তখন? তখন সবকিছু আমি মেনে নিতে পারবো তো?সহ্য করতে পারবো তো সবকিছু?

#চলবে

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ