Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"পূর্ব-রোদ পর্ব-৬+৭

পূর্ব-রোদ পর্ব-৬+৭

পর্ব ৬+৭
@পূর্ব-রোদ?
#পর্ব_০৬
#লেখিকা_আমিশা_নূর

রোদের পরিক্ষা আর মাত্র দুটো বাকি।তবে আজ শুক্রবার।সকাল বেলা চোখ খুলতেই বিরিয়ানি’র সুগন্ধি নাকে বেঁধে গেলো।সুবাশে রোদ চোখ বন্ধ করে সুগন্ধ অনুভব করলো।একটুপর বিছানা ছেড়ে তাড়াতাড়ি রান্না ঘরে গেলো।গিয়ে দেখলো তার মায়ের চুলার উপরে থাকা বিরিয়ানির নেড়ে দিচ্ছে।তার পাশে রাফিয়া বসে নিজের ইচ্ছে মতো কথা বলছে।

“মামুনি বিরিয়ানি রান্না করছো?”
“নাহ!কচু রাঁধছি।ফাজিল দেখছিস না বিরিয়ানি করছি।”
“সুন্দর করে বললেই তো হয়।”
“আমি তো সাত-সকালে বিরিয়ানির সুগন্ধ পেয়ে চলে এলাম!”

যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে রাফিয়া কথাটি বললেও তার সব আত্মবিশ্বাসে জল ঢেলে দিয়ে রোদ বললো,

“জানি তো খাবারের গন্ধ তোর নাকে লাগলেই ছুটে চলে আছিস।”রোদের কথা শুনে রাফিয়া প্রচন্ড রেগে গেলো।রোদকে বকা দেওয়ার জন্য মিসেস ছায়া’র দিকে রাফিয়া অসহায় দৃষ্টতে তাকালো।

“রোদ কানের নিচে দিবো একটা চড়।যা গিয়ে মুখ-হাত ধুয়ে আয়।”
“ছিঃ রোদ তোর মুখ থেকে গন্ধ বের হচ্ছে।ওয়াক!”

রাফিয়া মন্তব্য শুনে রোদ ক্ষেপে গেলো।তেড়ে গিয়ে মারতে যাবে তখনি আলো এসে বললো,”আপি!তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয়।”
“ক্যান?কোথায় যাবো?”
“পায়েস রাঁধবি!”
“পায়েস!ইয়াহু।আমি এখনি আসছি।”

অন্যকিছুর চেয়ে রোদ পায়েসটা ভালো রাঁধে তাই আলো ওর কাছে সবসময় আবধার রাখে পায়েসের।আর রোদও কোনোদিন তার বোনের আবদার ফেলে না।

রোদ মুখ-হাত ধুয়ে পায়েস রাঁধার জন্য জোরজার করতে লাগলো।রাফিয়া আর আলো পাশে বসে ইচ্ছে মতো বকবক করছে।পড়াশোনা নিয়ে রাফিয়া’কে প্রশ্ন করলো,

“রবিবারে তোর কী পদার্থবিজ্ঞান?”
“হ্যা।তোদের তো যুক্তিবিদ্যা মনে হয়।”
“হুম।বাই দ্যা ওয়ে রোদ সেদিন আমরা একটা ছেলে দেখলাম না ইন্না-লিল্লাহ?”
“হ্যা।তো?”
“রাফিয়াপু তুমি ছেলেটার সাথে প্রেম করতে চাচ্ছো না তো?”

আলো’র কথা শুনে রোদ হেসে ফেললো।রাফিয়া মুখ গোমড়া করে বললো,
“হ্যা রে।ছেলেটা পুরাই চকলেট!”
“একটা মেয়ে হয়ে ছেলের প্রেমে পড়ে তুই মেয়েজাতির অপমান করছিস।”
“যাহ!অপমান না।”

“কী রে?কী এতো কথা বলছিস তোরা?”

রোদের মা রান্না ঘরে চলে আসায় রাফিয়ার কথা চাপা পড়ে গেলো।তিনি রোদের রান্না করা পায়েসের দিকে তাকিয়ে বললো,

“মাশাল্লাহ!খুব ভালো সুগন্ধি বের হচ্ছে।”
“কিন্তু মামুনি আজকে এতো রান্না আর এসব কেনো?”
“ও মা! তুই জানিস না?আজকে পূর্ব আসছে।”
“হরিচন্দন?ও কেনো আসছে?”
“সে কি কথা?জামাই এ বাড়িতে আসবে না?”
“ও কি নতুন জামাই?”
“তুই বুঝবি না এসব।পায়েস হলো?”
“হ্যা।”

চুলার পাশ থেকে রোদ সরে এলো।তার মাথায় কু-বুদ্ধি’র উদয় হচ্ছে।পূর্ব তাদের বাড়িতে একা আসছে তারমানে পাল্টা জবাব দেওয়া উত্তম সুযোগ।রোদ পূর্ব’কে কীভাবে শিক্ষা দিবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করে ফেললো।রোদ বাকা হেঁসে বললো,”এতোদিন তোকে না জ্বালিয়ে আমার পেটের ভাত হজম হচ্ছিলো না।ঘুম তো হারিয়েই গেছে।আজকে রাতে শান্তি মতো ঘুম হবে আমার।আহা!”


“পূর্ব বাবা তুই রোদের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।”
“রোদ কোথায়?”
“রুমে আছে।পড়ছে হয়তো।”
“আচ্ছা।”

রোদের মায়ের সাথে কথা শেষ করে পূর্ব রোদের রুমে আসার জন্য পা বাড়ালো।মাত্র কিছুক্ষণ আগে পূর্ব রোদের বাসায় আসলো।মূলত পূর্ব এসেছে রোদের মায়ের সাথে দেখা করতে।পূর্ব রুমে ডুকতেই নজরে পরলো রোদ মাথা নিচু করে পড়ছে।চুলগুচ্ছ কাটি দিয়ে বেঁধে রাখা।পরনে এ্যাস কালারের সেলোয়ার-কামিজ।পূর্ব বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে ওয়াশরুমে ঢুকলো।

দরজা লাগার আওয়াজে রোদ পেছনে তাকিয়ে দেখলো পূর্ব ওয়াশরুমে ঢুকছে।পূর্বকে দেখেই তার মুখে হাসি ফুটলো।দৌড়ে নিচে গিয়ে রোদ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে ফেললো।

পূর্ব ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো রোদের চেয়ারে বসে নেই।ড্রয়িং রুমে আছে ভেবে পূর্ব চলে গেলো।

“পূর্ব আয় বস!” (ছায়া)
“কী রেঁধেছো তুমি?”
“তুই যা যা খেতে চাইছিলি সব।”
“বিরিয়ানি?”
“হুম।”

রোদের মা আর পূর্বের কথা শুনে রোদ বিড়বিড় করে বললো,”আদিক্ষেতা!”আগে থেকে বেড়ে রাখা বিরিয়ানি মুখে দিতে চিবোতেই পূর্বের শরীর সারা শরীর ক্ষেপে উঠলো।মুহুর্তেই কালো মেঘে ঢেকে থাকা রোদের চেহেরাটা যুুদ্ধজয়ে হাসি ফুটে উঠলো।

“আহ!মামুনি।” এক ডাক দিয়ে পূর্ব গ্লাসে থাকা সব জল শেষ করে ফেললো।জগ কাঁধ করে গদগদ জল খেতে লাগলো।সামনে পায়েসের বাটি দেখে পায়েস মুখে দিয়ে আরেক ঝটকা খেলো।মুখের ভিতর যা ছিলো তা বেসিনে গিয়ে সব ভমি করে দিলো।বেসিন থেকে মুখে জল ছিটিয়ে শান্ত হয়ে চেয়ারে বসতেই রোদেল হাসায় আওয়াজ কানে বাজলো।পূর্বের বুঝতে বাকি রইলো না যে সব কাজ রোদ করেছে।হাসতে হাসতেই রোদ হাতে থাকা তোয়ালে পূর্বের দিকে এগিয়ে দিলো।মুখ মুছে পূর্ব তোয়ালেটা রোদের মুখে ছুঁড়ে মারলো।রেগে গিয়ে রোদ কথা বলতে যাবে তখনি তার মামুনি বললো,

“পূর্ব কী হয়েছে তোর?ঠিক আছিস?”
“হ..হ্যা মামুনি।জানি না হুট করে ভমি এলো।”

পূর্বের কথা শুনে রোদের মুখ থেকে রাগি ভাব দূর হয়ে আবারো হাসির চিহ্ন রেখে বললো,”ও মা!কংগ্রাচুলেশন আপনি মা হয়ে চলেছেন!স্যার বাচ্চার বাবা কে?”নিজে নিজে কথা বলে রোদ ফিক করে হেসে দিলো।রোদকে ধমক দিয়ে মিসেস ছায়া বললেন,

“পূর্ব তুই যেভাবে জল খেলি মনে তো হলো বিরিয়ানি যথেষ্ট জাল হয়েছে।দেখি তো..”

রোদের মা বিরিয়ানির বাটি’টা নিতে গেলে রোদ চমকে গেলো।ঐ বাটির বিরিয়ানি খাওয়ার পর রোদের মা জেনে যাবে বিরিয়ানিতে এক্সট্রা মরিচগুঁড়া দেওয়া হয়েছে।তখন নিঃসন্দেহে তীরটা রোদের দিকে ছুঁড়ে মারবে সবাই।এসব ভাবতেই আপনা-আপনি ডান হাতের অনামিকা আঙ্গুল দাঁতে কামড়ে ধরলো।কিন্তু রোদকে অবাক করে দিয়ে রোদের মা বাটি নেওয়ার আগেই পূর্ব সেই বাটি তুলে নিলো।রোদের মা’কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পূর্ব গড়গড় করে বললো,

“সত্যি বলছি মামুনি বিরিয়ানিটা জাস্ট অসাধারণ হয়েছে।এত্তো ভালো বিরিয়ানি লাইফে ফাস্ট খেলাম।”

রোদের মায়ের চেহেরা দেখে পূর্ব বুঝতে পারলো তার কথায় তিনি একশো পার্সেন্ট বিশ্বাস করেনি।বিশ্বাস করানোর জন্য পূর্ব আরেক চামচ বিরিয়ানি মুখে ভরে দিলো।তৃপ্তির হাসি দিয়ে মিসেস ছায়া স্থান ত্যাগ করলো।কিন্তু তারপরও পূর্ব বিরিয়ানি মুখে ভরে যাচ্ছে।আর সহ্য করতে না পেরে রোদ বিরিয়ানির বাটি’টা নিয়ে বাকি অংশটা ময়লার ঝুঁটি’তে ফেলে দিলো।বাটিতে থাকা পায়েস টাও ফেলে দিয়ে নতুন পায়েস এনে পূর্বের মুখের সামনে রেখে বললো,”নে।এই পায়েসে লবণ বেশি নেই।”
“কী বিশ্বাস যে নেই?”
“আমি বলছি তো।”
“তোমাকে…”

পূর্বকে আর বলতে না দিয়ে রোদ তার মুখে চামচে করে পায়েস মুখে ভরে দিলো।আরেকবার মুখ খুলতেই আবারো দিলো।কয়েক চামচ এভাবে দেওয়ার পর রোদ নিজের রুমে এসে ওয়াশরুম ঢুকলো।

খুব অস্থির লাগছে রোদের।পূর্বের কষ্ট’টা সে কিছুতেই মানতে পারছে না।পরিকল্পনা’টা করার সময় তো এমন অস্থিরতা হয়নি।তাহলে পূর্বের রিয়াকশন দেখে এখন কেনো এই অদ্ভুত অনুভূতি কড়া নাড়ছে?এমনটা তো আগে কোনোদিনও হয় নি।গত একমাসে কী এমন হলো যার জন্য রোদ নিজেকে নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারছে না?

রোদ নাকে মুখে জল ছেটালো।তার চোখের সামনে শুধু পূর্বের চেহেরা ভাসছে।আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে নিজে বকে দিয়ে রোদ বললো,”কী দরকার ছিলো ওর পেছনে আবার লাগার?তুই তো বলছিলি না ও কে এড়িয়ে যাবি?ওর পেছনে আর লাগবি না।তাহলে?গত একমাস ধরে পূর্ব তোর সাথে ঝগড়া দেয়নি তো?তাহলে তুই ক্যান সেজেগুজে গেলি ঝগড়া করতে?পূর্বকে কষ্ট যখন দিয়েছিস ভালো কথা!কিন্তু এখন কেনো কষ্ট হচ্ছে?রোদ তোকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিলাম!”

নিজের সাথে বোঝাপড়া করে রোদ বেরিয়ে এলো।ওয়াশরুম থেকে বেরুতেই পূর্বের সামনে পড়লো।যথা সম্ভব রোদ নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো।কারণ কয়েকদিন ধরে পূর্ব সামনে এলে মনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আবাস পায়।

“আমার জন্য গর্ত খুড়ে,আমাকে সেই গর্তে ফেলে আবার আমাকেই কি’না গর্ত থেকে উদ্ধার করলা?ভেরি ইন্টারেস্টিং!”
“মোটেও আমি তোকে বাঁচাই নি।ওটা তো মামুনির জন্য…”
“ওহ হো।মামুনির জন্য তাহলে।”
“হুম।”
“তা এখন সেদিনের প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেছে।”
“একদম!”

দাঁত দেখিয়ে রোদ হাসি দিলো।রোদের সামনে পূর্ব নরমাল বিহেভ করলেও রোদের করা একটু আগে ব্যবহারে পূর্বের ভয় হচ্ছে।রোদের মনে পূর্বে জন্য কোনো মায়া বা প্রেম কড়া নাড়ছে না তো?তাহলে যে পূর্ব নিজের কাছে অপরাধী হয়ে যাবে।কারণ যে যাই হোক অন্তত একটা মেয়ের মন নিয়ে পূর্ব খেলতে পারে না।

#পর্ব_০৭
#লেখিকা_আমিশা_নূর

দাঁত দেখিয়ে রোদ হাসি দিলো।রোদের সামনে পূর্ব নরমাল বিহেভ করলেও রোদের করা একটু আগে ব্যবহারে পূর্বের ভয় হচ্ছে।রোদের মনে পূর্বে জন্য কোনো মায়া বা প্রেম কড়া নাড়ছে না তো?তাহলে যে পূর্ব নিজের কাছে অপরাধী হয়ে যাবে।কারণ যে যাই হোক অন্তত একটা মেয়ের মন নিয়ে পূর্ব খেলতে পারে না।


“রাফিয়া পরিক্ষা কেমন হলো তোর?”
“লাড্ডু হয়েছে।তোর প্রেকটিক্যাল কেমন হলো?”
“আমার তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো।তোর লাড্ডু হলো ক্যান?”
“আর বলিস না।লাফিং গ্যাস নিয়ে কী কী হলো।”
“লাফিং গ্যাস কী?”
“লাফিং গ্যাস মানে হলো হাসার গ্যাস।”
“মানে?বুঝিয়ে বল।”
“একটা সিসির মধ্যে লাফিং গ্যাসকে আবদ্ধ করে রাখা হয়।যদি কারো নাক বা মুখের সামনে ওটা স্প্রে করে দেওয়া হয় তখন সেই ব্যাক্তি একাধারে হাসতে থাকে।”
“র‍্যালি?ইন্টারেস্টিং!আচ্ছা কোথায় পাওয়া যাবে ঐ গ্যাস?”
“আমাদের ল্যাবে আছে।তুই বললে তোকে এনে দিতে পারি।”
“কাল’কে তুই আমাকে এনে দিবি।ওকে?”
“ওক্কে!”

রোদ মনেমনে হাসলো।গতকালই তাদের প্রেকটিক্যাল পরিক্ষা শেষ হলো।কালকে রোদ পূর্বের বাড়িতে চলে যাবে।তাই আজকে সারা-রাত আলো আর রাফিয়া’র সাথে আড্ডা দিবে বলে ঠিক করেছে।আলো ফ্রেঞ্চ-ফ্রাই আনতে গেছে।এই ফাঁকে রোদ সাউন্ড বক্সে গান ছেড়ে দিলো।শব্দের ধ্বনি বারবার প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছে।সাউন্ড বক্সে বাজতে থাকা “DJ ওয়ালে বাবু মেরা গানা চালাতো” গানের তালে তালে রাফিয়া আর রোদ নাচছে।নাচতে নাচতেই রাফিয়া বলে উঠলো,

“রোদ জানিস আদিত্য’কে হেব্বি লাগে।”
“হু ইজ আদিত্য?তোর কয় নাম্বার ক্রাশ?”
“বাদশা’র রিয়েল নাম আদিত্য।ওর দাড়ির স্টাইলটা উফ!জাস্ট ওয়াও।”
“তুই দেখিস আদিত্যের রিয়েল নামপ জেনে রাখছিস।”
“ক্রাশ বলে কথা!”
“তুই জীবনেও মানুষ হবি না।থাম এবার।”

রোদের কথায় রাফিয়া নাচা থামিয়ে দিলো।দুজন গিয়ে খাটে বসতে বসতে ওড়না দিয়ে কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে ফেললো।এক হাতে ফ্রেঞ্চ-ফ্রাই অন্য হাতে সসের বোতল নিয়ে রুমে প্রবশ করতে করতে বললো,

“রাফিয়াপু এমন একটা ছেলের নাম বলবে যার উপর তুমি ক্রাশ খাওনি?”
“হ্যা তো!হিরো আলম।”

আলোর কাছ থেকে ফ্রেঞ্চ-ফ্রাই নিয়ে হাসতে হাসতে রোদ বললো,

“হাহাহাহা।আমি তো ভাবছিলাম তুই হিরো আলমকেও বাদ দিস নি।যাক তাহলে তুই পুরা পাগল নই।”
“এই রোদ।ভালো কথা মনে পড়লো।জি..আই মিন পূর্বের যে বন্ধু আছে না?”
“কে?ইন্না-লিল্লাহ?”
“হ্যা।কাল রাতে ও’কে স্বপ্ন দেখলাম।”
“বলিস কী?কেমন স্বপ্ন দেখলি?রোমান্টিক?ভয়ংকর?”

ভ্রু কুঁচকে আলো নাকে ঢগায় নেমে আসা চশমা ঠিক করে রোদ আর রাফিয়া’র কথায় মনোযোগ দিলো।রাফিয়া অনেক’টা ভাব নিয়ে বললো,

“দেখলাম আমরা হানিমুনের জন্য সুইজারল্যান্ডে আছি।”
“নাউজুবিল্লাহ!আল্লাহ তোরে হেদায়েত দান করুক।”
“রাফিয়াপু!বিয়ে,প্রেম সব কিছু বাদ দিয়ে ডিরেক্ট হানিমুন?ইউ আর সো ফাস্ট!”
“তোর লজ্জা করে না রাফিয়া।স্বপ্ন নিয়ে মিথ্যা কথা বলিস?”
“আরে না।ট্রাস্ট মি।”
“কী রে?কি করিস তোরা?”

ওদের কথার মাঝখানে রোদের মা ঢুকে পড়লো।রোদের মা তার প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষা না করে রোদের উদ্দেশ্য বললো,

“তোর ফোন কোথায়?”
“ফোন তো..কই ফোন?”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে রোদ মনে করার চেষ্টা করলো।তখনি মনে পড়লো জানালার পাশে আছে মোবাইলটা।রোদ বিছানা থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিলো।তখনি দেখলো আননোন নাম্বার থেকে অনেকগুলা কল।রোদ ভ্রু – কুঁচকে তার মায়ের দিকে তাকালো।ধমকের স্বরে রোদের মা বললো,

“ফোন কোথায় রাখিস নিজেও জানিস না।পূর্ব কতো কল করছে দেখ।”
“পূর্ব?মানে হরিচন্দন?”
“হ্যা।কেনো দেখছিস না?”
“ও কেনো শুধু আমাকে কল করবে?মাথার তার কী ছিড়ে গেছে?”
“আজেবাজে কথা বন্ধ করে কল ফিরা।”
“কিন্তু মা..”

রোদের কথা না শুনে তার মা রুম থেকে চলে গেলো।রোদ কল লিস্টের দিকে তাকিয়ে আছে।পূর্বের ব্যবহার তাকে অবাকের পর অবাক করে দিচ্ছে।রোদের সাথে পূর্বের কোনোদিন মোবাইলে কথা হয়নি তাই নাম্বারও জানে না।রোদের অবস্থা দেখে রাফিয়া বললো,

“রোদ আমার মনে হয় পূর্ব পাল্টে গেছে।”
“উঁহু!এতো সহজে হরিচন্দন তো পাল্টাবে না।সবকিছুর পেছনে কোনো “কারণ” আছে।”

রোদ মোবাইলের স্কীনে তাকিয়ে আছে।রোদ একবার কল করতে চাইছে আবার না।খু-ব করে চাইছে রোদ যেন পূর্ব আরো একবার কল করে।রোদ অনুভব করতে পারলো তার এক মন দু’কথা বলছে।হুট করে রোদ মোবাইল ফোনটা বন্ধ করে দিলো।এমনটা রোদ কেনো করেছে জানে না।


“তিহান আমার মনে হয় রোদ আমার প্রতি উয়িক হয়ে পড়ছে।”
“ইন্না-লিল্লাহ!এমন কেনো মনে হচ্ছে?”
“জানি না।কিন্তু আমি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে রোদ আগের মতো জেদি নেই।”
“সেটা হলে তো ভালো।তুই..ইন্না-লিল্লাহ!এমনটা হলে তো রোদ ঠকবে।”
“তাই তো বলছি।”
“কিন্তু রোদ ঠকলে তোর কী?তুই তো শুধু নিজের স্বপ্নটা পূরণ করতে চাস।যার অস্ত্র রোদ।”

তিহানের কথায় পূর্ব জবাব দিলো না।সে এক ধ্যানে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছে।এতোক্ষণে নিশ্চয়ই মামুনি রোদকে বলেছে কলে’র কথা।তাহলে রোদ কল ব্যাক কেনো করছে না?নিজের অজান্তেই সে একটা কলে’র অপেক্ষা করছে।মোবাইল নিয়ে পূর্ব আরেক বার ডায়েল করলো।কিন্তু পরক্ষণে আবার লাইন কেটে দিলো।তখনি তিহান বলে উঠলো,

“ইন্না-লিল্লাহ!পূর্ব কোথায়ও তুই প্রেমে যাস না আবার।”


“মা আমি সিলেট ইন্টারনিং করতে যাচ্ছি।ভ্রমণ করতে যাচ্ছি না যে সাথে করে জাদুমন্ত্রী’কে নিয়ে যাবো।”
“রোদ’কে যদি তোর সাথে নিয়ে যাস তাহলেই তুই সিলেট ইন্টারনিং করতে যেতে পারবি।”
“রোদ সিলেট গিয়ে কী করবে?”
“ওর কম্পিউটার কোর্স আছে।”
“কম্পিউটার কোর্স তো এখানেও করতে পারে।”
“তোর সাথেই যাবে।”
“মা দেখো আমি তোমার সব কথা মেনে নিয়েছি তার মানে এই না যে এটাও মেনে নিবো।”
“আমার কথা মেনেছিস কবে?নিজের স্বার্থের জন্য রোদের সাথে ভালো ব্যবহার করছিস।এতে আমার লাভের কিছু নেই।”
“রোদকে সাথে করে কিছুতেই আমি সিলেট যাবো না।”
“”তাহলে তোর সিলেট যেতে হবে না।চট্টগ্রামে ইন্টারনিং করবি।”
“ধ্যাত!”

আর এক সেকেন্ডও না দাঁড়িয়ে পূর্ব রুম থেকে বেরিয়ে এলো।চাঁদনি মোহাম্মদ পূর্বকে আটকালো না।কারণ একটুপর পূর্ব নিজে এসে বলবে সে রোদের সাথেই সিলেট যাবে।

সিলেট যাওয়ার কথা উঠতেই রোদ রাজী হয়ে গেলো।কিন্তু যখন শুনলো পূর্বের সাথে যেতে হবে অমনি হাসি মাখা মুখটা মেঘে ঢেকে গেলো।দুদিন হলো সে শ্বশুরবাড়ি এসেছে।পূর্বের ব্যবহার গত দিনগুলোর মতোই ছিলো।তবে দুজন আলাদা রুমেই থাকতো।যখন শুনলো সিলেট যাচ্ছে তখন রোদ লাফিয়ে উঠলো।ছোট বেলা থেকে রোদের শখ ছিলো সিলেট ভ্রমণ করা।কিন্তু পরিস্থিতির জন্য সেটা হয়ে উঠেনি।এখন যখন সুযোগ নিজে এসে ধরা দিলো তখন “পূর্বে”র জন্য রোদ তা নষ্ট হতে দিতে পারে না।একরকম দু-টানায় ভুগছিলো।রোদ মনে মনে ঠিক করে নিলো পূর্ব নিজে এসে বললে তবে যাবে।কেনো জানে না আজ-কাল সবকিছু পূর্বের উপর নির্ভর করে।


“রোদেলা সিলেট যাবা আমার সাথে?”

মাত্র জায়নামাজ থেকে আসরের নামাজ পড়ে রোদ চাইলো পূর্ব নিজেকে এসে বলুক।এখন সত্যি সত্যি তা হওয়ার পর রোদের মুখটা “ও” আকৃতি’র হয়ে গেলো।তুড়ি বাজিয়ে পূর্ব আবারো জিজ্ঞেস করলো,

“কী হলো?যাবা?”
“এ্যাহহ?পূর্ব মোহাম্মদ আমার মতামত জানতে চাইছে?”

রোদের কথায় পূর্ব ক্রোধিত হলো।এমনিতেও মায়ের জন্য রোদকে সাথে করে নিয়ে যেতে হচ্ছে।তার উপর রোদের এতো ভাব।রাগিরাগি কন্ঠে পূর্ব রোদকে ধমকের স্বরে বললো,

“জাদুমন্ত্রী কালো জাদুর কথা না ভেবে দয়া করে আপনার মতামত জানাবেন?”
“হরিচন্দন নিজে এসে আমাকে বলছে..নিজে এসে?আর আমি কি’না ছোট খাটো একটা মানুষ হয়ে উনার আবদার ফেলবো?না বাপু।আমি সিলেট যাচ্ছি।”
“এতো না পেচিয়ে সোজা কথাটা বললেই তো হয়।ঢং!”

তখনি রোদ পড়ার টেবিল থেকে একটা লম্বা আকৃতির সিসির নিয়ে পূর্বের মুখের সামনে ফিস করে স্প্রে করে দিলো।দু’সেকেণ্ড বাদেই পূর্ব খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।পূর্ব খুব করে চাইছে না হাসতে কিন্তু রোদের কর্মে সে হাসতে বাধ্য।হাসতে হাসতে একসময় সোফায় বসে গেলো।বাড়ি থেকে আসার সময় রাফিয়ার দেওয়া লাফিং গ্যাস নিয়ে এসেছে রোদ।এখন পূর্বের অবস্থা দেখে রোদ নিজেও হাসতে লাগলো।দুজনে একসাথে হাসতে।

তখনি রোদের রুমে চাঁদনি মোহাম্মদ প্রবেশ করতে যাচ্ছিলো।কিন্তু ওদের হাসির শব্দ শুনে থেমে গেলো।দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলো দু’জন হেসেই চলছে।এমন একটা দৃশ্যের জন্যই তো চাঁদনি মোহাম্মদ এতোকিছু করলো।অবশেষে সে সফল!কিন্তু তিনি তো জানেন না তাদের হাসিটা কৃত্রিম!দাঁড়িয়ে না থেকে তিনি দরজার সামনে থেকে সরে গেলেন।

“হাহাহাহা!আরেক বার থেকে নাকের ঢগায় রাগ নিয়ে কথা বলবি তো এই লাফিং গ্যাস স্প্রে করে দিবো।হাহাহাহা।হাসতে থাক তুই।”
“হাহাহা তোকে তো..হাহাহা তোকে আমি হাহাহ দেখে নিবো।”
“ওকে।যত ইচ্ছে দেখিস।তুই তো আর পরপুরুষ না।”

কথাটি বলে রোদের হাসি থেমে গেলো।পরপুরুষ না মানে?রোদের মন কী পূর্ব’কে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করছে?কী হচ্ছে তার সাথে এসব?


“রোদ সব গোছগাছ করে নিয়েছিস?বেরুতে হবে তো।”
“হ্যা আম্মি।আমি সব কিছুু গুছিয়ে নিয়েছি।তুমি চিন্তা করো না।”
“আচ্ছা আয়।পূর্ব গাড়িতে বসে আছে।”

চাঁদনি মোহাম্মদের পিছু পিছু কাপড়ে ব্যাগ নিয়ে রোদ নিচে গেলো।চাঁদনি মোহাম্মদ আর সূর্য মোহাম্মদ থেকে দোয়া চেয়ে পূর্ব-রোদ সিলেটের উদ্দেশ্য রওনা দিলো।

(চলবে)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ