Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"কনফিউশন পর্ব ২৩-২৪

কনফিউশন পর্ব ২৩-২৪

কনফিউশন
লেখকঃ মৌরি মরিয়ম
পর্ব ২৩-২৪

যাদিদ চলে যাওয়ার সময় তিরা অদ্ভুত এক কান্ড করলো। সে সবার সামনে বাচ্চাদের মতো চিৎকার করে করে কাঁদতে লাগলো। ওদিকে এই ঘটনায় যাদিদ কিছুটা অস্বস্তিবোধ করতে লাগলো। তিরার বয়স কম ঠিকাছে তাই বলে এমন অবুঝপণা করার মতো কম বয়স তো না। সে ডিফেন্সে চাকরি করে তাকে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হবে এমনটাই স্বাভাবিক। এসব জেনেই তিরা তাকে বিয়ে করেছে। তাহলে এখন কেন এসব অবুঝপণা? অন্যদিকে তিরার জন্য তার মায়াও হচ্ছে। ইচ্ছে করছে এই মেয়েটার আশেপাশেই থাকুক সারাক্ষণ! কিন্তু সেটা যেহেতু সম্ভব না সেহেতু যাদিদ বাস্তবকে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত। তিরারও উচিৎ বাস্তবকে স্বীকার করে নেয়া।

আরশির ফোনটা বাজছে, তিরা ফোন করেছে। গতকাল থেকেই কিছুক্ষণ পরপর ফোন করছে কিন্তু আরশির এখন কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না। তাই ফোন ধরছে না। কড়কড়ে দুপুরেও আরশি জানালা লাগিয়ে পর্দা টেনে ঘর অন্ধকার করে রেখেছে। গত ৭ দিন ধরেই চলছে আরশির এই অন্ধকারবাস। সন্ধ্যা হলেও আরশি ঘরে আলো জ্বালায় না। এর মধ্যেই রশ্নি ঘরে ঢুকে বললো,
“আরশি ঘুমাচ্ছিস?”
আরশি তাকালো না, নড়লো না। যেভাবে শুয়ে ছিল সেভাবে থেকেই বললো,
“না ভাবী এসো।”
“তিরা ফোন করেছিলো আমাকে বলল তোকে নাকি অনেকবার ফোন করেছে? আমাকে বললো খুব নাকি জরুরি কথা আছে তোর সাথে!”
“কথা বলতে ইচ্ছে করছে না ভাবী।”
রশ্নি আরশির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
“ঠিকাছে তাহলে বলতে হবে না। আজকে আমার সাথে বের হবি একটু?”
“না, ভাল্লাগছে না।”
“বের হলে ভালো লাগতো, এভাবে বন্ধ ঘরে থাকলে কোনো চেঞ্জ আসবে না। এর আগেও তো প্রমাণ পেয়েছিস। তারচেয়ে চল কোথাও ঘুরে আসি।”
“ইচ্ছে করছে না ভাবী।”
রশ্নি জানে আরশি নিজ থেকে এ অবস্থা থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত কেউ তাকে বের করতে পারবে না। তবুও চেষ্টা না করলে তো মনে শান্তি মেলে না!
“আচ্ছা রেস্ট নে, কিছু লাগলে আমাকে বলিস।”
রশ্নি চলে যাচ্ছিলো। আরশি ডেকে বললো,
“ভাবী শোনো..”
রশ্নি দাঁড়ালো। আরশি বললো,
“বাবুর ডাক নাম রেখেছি আমরিন, আমার নামের সাথে মিলিয়ে। ভালো নাম তোমরা রাখো।”
রশ্নি খুশি হয়ে বললো,
“বাহ খুব সুন্দর নাম তো! আমার দারুণ পছন্দ হয়েছে।”
“আমরিনকে আমার কাছে দিয়ে যাবে কিছুক্ষণের জন্য?”
রশ্নি একথায় যে কতটা স্বস্তি পেলো তা বোধহয় সে ছাড়া আর কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব না। সে সাথে সাথে গিয়ে তার বাচ্চাকে নিয়ে এলো।

রশ্নি আমরিন কে আরশির কোলে দিয়ে রান্নার অযুহাতে সামনে থেকে সরে গেলো। উদ্দেশ্য আরশিকে কিছুটা সময় নিজের মতো করে ভালো থাকতে দেয়া। কিন্তু রশ্নি অবাক হয়ে দেখলো আরশি আমরিনকে কোলে নিয়েই পর্দা সরিয়ে জনালা খুলে ঘর আলো করে দিলো। তারপর বিছানায় বসে চুপচাপ অনেকক্ষণ কোলে থাকা আমরিনের মুখের দিকে চেয়ে বসে রইলো। আরশির ভাবলেশহীন মুখ দেখে কারো বোঝার সাধ্য নেই সে আমরিনের দিকে তাকিয়ে কী ভাবছে বা আদৌ কিছু ভাবছে কিনা!

রাতেরবেলা আরশি তিরার ফোন ধরলো। তিরা জানে আরশি কেন ফোন ধরেনি। এমন পরিস্থিতিতে আরশি কারো সাথে কথা বলে না তাও সে জানে। আর এটাও জানে আরশির বর্তমান অবস্থার জন্য তার মা দায়ী। তাই ফোন কেন ধরেনি সেসব কথায় আর গেলো না। নিজের কথাই বললো।
“আরু প্লিজ হেল্প মি।”
তিরা কাঁদছিলো, কন্ঠ শুনেই বুঝলো আরশি। এবং প্রচন্ড অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“তা নাহয় করলাম কিন্তু তুই কাঁদছিস কেন?”
“আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। যাদিদকে ছাড়া এভাবে থাকতে পারবো না আমি। কী করবো আমি?”
“বুঝলাম না।”
“যাদিদ গত পরশু চলে গেছে। ওর ছুটি শেষ।”
“ছুটি শেষ বলেই তো এতো তাড়াহুড়ো করে বিয়ে হলো, এটা তো তুই আগে থেকেই জানতি।”
“হ্যাঁ কিন্তু ও যাওয়ার পর এই দুটো রাত আমি একফোঁটা ঘুমাতে পারিনি। দিনেও ঘুমাতে পারছি না।”
“কি বলছিস তোর তো কখনো ঘুমের সমস্যা ছিলো না!”
“ওকে ছাড়া আমি আর ঘুমাতে পারবো না।”
একথা বলে তিরা আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো। আরশি অবাক হচ্ছে কারণ তিরা বড় হয়ে কখনো কিছুর জন্য কাঁদেনি। এতোগুলো ব্রেকাপ হয়েছে কখনো কোনো ছেলের জন্য দুদিনের বেশি আফসোস করেনি কান্না তো দূরের কথা আর আজ সে যাদিদের জন্য এভাবে কাঁদছে! আরশির তো এসব বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতাই নেই তাই প্রথমে কি বলবে বুঝতে পারছিলো না। পরে একটু ভেবে বললো,
“আচ্ছা শোন শান্ত হ, এতোদিন একসাথে ছিলি তো তাই খারাপ লাগছে, ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।”
“অভ্যাস হবেনা তার আগেই মরে যাবো। এভাবে একটানা না ঘুমালে মানুষ বাঁচেনা, জানিস আমার প্রেশার লো হয়ে কি অবস্থা হয়েছিলো গতকাল? আমি আর ঘুমাতে পারবো না বোন।”
“পারবি, আমি যখন ঘুমাতে পারি তখন তুইও পারবি। শুধু সময় অতিবাহিত হওয়া প্রয়োজন। সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে!”
আরশির একথায় আচমকা তিরার কান্না থেমে গেলো। নিজেকে হঠাৎ ভাগ্যবতী মনে হলো কারণ ওর অবস্থা আরশির মতো নয়। সত্যিই তো আরশি ঘুমাতে পারলে তারও পারার কথা। তার মানে সত্যিই শুধু সময় অতিবাহিত হওয়া প্রয়োজন। সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে! তিরা বললো,
“তুই ঠিকই বলেছিস। আমি জানতাম তোর কাছে কোনো না কোনো সমাধান থাকবেই। এজন্যই কাল থেকে তোকে জ্বালাচ্ছিলাম।”
“কোনো ঘুমের ওষুধ খাস না আবার। তিন-চার মাইল দৌড়া বা কয়েশো দড়িলাফ দে। ক্লান্ত হলে এমনিতেই ঘুম আসবে।”
“আচ্ছা।”
ফোন রাখার পর আরশি এক গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেলো। যে তিরা কখনো কাঁদে না সে যাদিদের জন্য পাগলের মতো কাঁদছে, সেই মানুষটার শূন্যতায় সে ঘুমাতে পারছে না। তার মানে তিরা যাদিদকে ভালোবেসে ফেলেছে। সত্যিকারের ভালোবাসা! এতোদিন শুধু সে প্রেমই করেছে, কাউকে সত্যি সত্যি ভালোবাসেনি। আরশি সত্যিই চিন্তায় পড়ে গেছে, ভালোবাসা কি এমনই উন্মত্ত? একজনের অনুপস্থিতিতে আরেকজনের ভেতর এমনই শূন্যতার সৃষ্টি হয়? কই কাব্যর অনুপস্থিতিতে তার ভেতরে তো কোনো শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি! এমনকি সেদিন ভাবী জিজ্ঞেস করার আগ পর্যন্ত মনেও পড়েনি কাব্যর কথা। তার মানে কি সে কাব্যকে ভালোবাসে তার এ ধারণাটা ভুল? তাহলে সে কাব্যকে এতো গুরুত্ব কেন দেয়? কাব্য তাকে ভালোবাসে বলে? অনেকক্ষণ চিন্তা করলো আরশি, এই প্রথম তার কোনো সমীকরণ মিলছে না!

সমীকরণে আরো গোলমাল লেগে গেলো পরেরদিন। যখন তার নামে একটা পার্সেল এলো। পার্সেলটা খুলতেই সে একটা বই পেলো, অরুন্ধতী রায়ের ‘গড অফ স্মল থিংস’। বইটির প্রথম পাতায় লেখা, ‘এক গুণমুগ্ধ নারীর জন্য আরেক গুণমুগ্ধ নারীর এই বইটি ছাড়া আর কিছু খুঁজে পেলাম না। জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা।’
হাতের লেখাটা চিনতে কষ্ট হলো না আরশির। ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ বইটির ভেতরের বুকমার্কের লেখাগুলো পড়েছিল যে!

‘এক গুণমুগ্ধ নারীর জন্য আরেক গুণমুগ্ধ নারীর এই বইটি ছাড়া আর কিছু খুঁজে পেলাম না। জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা।’
লেখাটায় বারবার হাত বোলাচ্ছে আরশি। এই দুটি বাক্যের ভেতর যেন অনেক না বলা কথা, বলতে চাওয়ার ব্যাকুলতা! না আসলে দুটি লাইনে নয়, দুটি শব্দে.. গুণমুগ্ধ নারী! মুহুর্তেই তার ফর্সা গালে লাল আভা জমে গেলো। কী ভীষণ লজ্জা যে লাগছে! এই মানুষটার সামনে কি আর কখনো যেতে পারবে সে? মানুষটা কি কক্সবাজার থেকে ফিরেছে? ফিরলে সে কি এতোদিন খুঁজেছিলো ওকে? খুঁজলে একবারো ফোন করেনি কেন?

চলবে…

কনফিউশন
লেখকঃ মৌরি মরিয়ম
পর্ব ২৪

পার্সেলটা এসেছিলো বিকেলে। কিন্তু এখন অনেক রাত। ইতোমধ্যে ‘গড অফ স্মল থিংস’ বইটির বেশকিছু অংশ আরশির পড়া হয়ে গেছে কিন্তু এখনো প্রাপ্তিস্বীকার বা ধন্যবাদ দেয়নি। আরশির প্রতি কাব্যর ভালোলাগা তার কাজকর্মে আগে বোঝা গেলেও এই প্রথম সে সরাসরি কিছু বললো। গুণমুগ্ধ শব্দটা সাধারণ কিন্তু শব্দটাকে বিশ্লেষণ করলে তা আর সাধারণ থাকেনা। কাব্য লিখেছে সে আরশির গুণমুগ্ধ এটা ভাবতেই তার কী ভীষণ লজ্জা যে লাগে! যদি কাব্য সামনাসামনি কিছু বলে তখন আরশি কি দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে তার সামনে? পরক্ষণেই মনে হলো, সে কি খুব বেশি ভেবে ফেলছে? কাব্য হয়তো শুধুই গুণমুগ্ধ, অন্যকিছু নয়। হয়তো সাধারণভাবেই লিখেছে। সেই অতিরঞ্জিত করে ভাবছে!

আরশি জানালা খুলে নিচে তাকালো, কাব্যর ঘরের লাইট জ্বলছে তার মানে সে জেগে আছে। আরশি ফোন করলো। কয়েকবার রিং হওয়ার পরে ধরলো। ধরেই হেসে বললো,
“কেমন গেল বার্থডে গার্লের দিন?”
“ভালো। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। এরচেয়ে সেরা উপহার আর হয়না।”
“মাই প্লেজার। জানি বই পেলেই তোমার সবচেয়ে ভালো লাগবে।”
“আপনি আমার জন্মদিন কীভাবে জানলেন?”
“দুপুরবেলা তোমাদের বাসায় যে দারুণ সব রান্নাবান্না হয়েছে তার কিছু অংশ আমার কাছেও এসেছে। ভাবিকে উপলক্ষ্য জিজ্ঞেস করতেই বললো আজ তোমার জন্মদিন।”
“ওহ আচ্ছা।”
“অনেকদিন তোমার সাথে দেখা হয়না। বাসায় ছিলে না?”
“ছিলাম। বের হইনি কোথাও।”
“ঘরের জানালাও সবসময় বন্ধই দেখতাম।”
“আলো সহ্য করতে পারছিলাম না কিছুদিন।”
কাব্য অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো রঙ সহ্য করতে পারেনা, এখন আবার আলো! তবে কিছু বললো না। আরশি জিজ্ঞেস করলো,
“আপনি কক্সবাজার থেকে কবে ফিরলেন?”
“যেদিন গিয়েছি সেদিনই ফিরে এসেছি।”
“মাত্র একদিনের জন্য এতোদূর গিয়েছিলেন?”
“না তবে যাওয়ার পর খুব অপ্রীতিকর একটা পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। খুব বিরক্ত লাগছিলো তাই চলে এসেছি।”
“একটানা অনেক জার্নি হয়ে গেল!”
“তা গেল অবশ্য। যাই হোক, আমরা কি একদিন দেখা করতে পারি আরশি?”
“হঠাৎ?”
“অনেকদিন দেখা হয়না তাই।”
“সকালবেলা হাঁটতে যাবো, যাবেন?”
“কোথায়?”
“কোথাও না, রাস্তায়।”
“ফোন করে উঠিয়ে দিও।”
“আচ্ছা।”

রশ্নি সকালবেলা সবার আগে উঠে চুলা জ্বালাবে। তাই আরশি চিরকুট টা চুলার উপরে চামচ চাপা দিয়ে রাখলো। চিরকুটে লেখা,
“আমার খুব হাঁটতে যেতে ইচ্ছে করছে ভাবি। বাইরে হাঁটতে গেলাম। তোমরা ঘুমে তাই জাগালাম না।”
তারপর বেরিয়ে পড়লো। কাব্য তৈরি হয়ে নিচেই দাঁড়িয়ে ছিলো। আরশি যখন সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো কাব্য অবাক হয়ে দেখছিলো৷ এ কদিনে আরশির মুখে বিষণ্ণতা আরো বেড়ে গেছে, চোখের নিচে কালি পড়েছে। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো সব মিলিয়ে ওকে আগের চেয়ে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। নাকি অনেকদিন পর দেখেছে বলে কাব্যর দুচোখ তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে ভুলভাল দেখছে? নাকি আরশির সব রূপই কাব্যকে মুগ্ধ করে?

এই কাকডাকা ভোরে আরশি কাব্য ফুটপাত ধরে পাশাপাশি হাঁটছে। আরশি বাসা থেকে বের হয়ে এতদূর আসা পর্যন্ত একবারো কাব্যর মুখের দিকে তাকায়নি। কীভাবে তাকাবে, সেই তখন থেকে কাব্য অনবরত ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। এই ছেলেটার চোখে চোখ রাখার সাহস আরশির নেই। কিন্তু মাঝেমাঝে খুব ইচ্ছে করে। কাব্য বললো,
“সকালটা সুন্দর।”
“হুম।”
“কেউ যদি তোমাকে আমার সাথে দেখে ফেলে?”
“দেখলে কী হবে?”
“কিছুই হবে না?”
“না।”
“না হলেই ভালো।”
“আপনি সিগারেট একদম ছেড়ে দিয়েছেন?”
“কেন বলোতো?”
“গন্ধ পাচ্ছিনা!”
“চেষ্টা করছি। তিনবেলা তিনটা খাই। এছাড়া রাগ উঠলে, টেনশনে পড়লে বা একাকিত্ব অনুভব করলে একটু বেশি খাওয়া হয়। এই আরকি।”
আরশি হেসে বললো,
“আমার মনে হয় আপনি চাইলে ছেড়ে দিতে পারবেন।”
কাব্য অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আরশির হাসির দিকে। একটা মানুষের মৃদু হাসিই এতো সুন্দর। মানুষটার প্রাণখোলা হাসি কেমন হবে? কাব্য অপেক্ষা করছে আরশি কখন একবার তার দিকে তাকাবে। কাব্য ওই চোখে একবার চোখ রাখতে চায়, ওই চোখের ভাষাটা একবার পড়তে চায়। কিন্তু আরশি একবারো তার দিকে তাকাচ্ছে না।

দুজন একসাথে হাঁটছে কিন্তু তেমন কথা বলছে না। তবুও দুজনেরই খুব ভালো লাগছে। ধীরে ধীরে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে। রিক্সা গাড়ী চলতে শুরু করেছে। ভির বাড়তেই আরশি বললো,
“চলুন ফেরা যাক। এক্ষুণি জ্যাম লেগে যাবে।”
“চলো।”

ফিরতে গিয়েই অঘটনটা ঘটলো। রাস্তায় হাঁটার জায়গা কম থাকায় আরশি কাব্য আগেপিছে হাঁটছিলো। আরশি সামনে, কাব্য তার পেছনে। হঠাৎ একটা অটোরিকশা তাদের পাশ দিয়ে এতো বেপরোয়াভাবে গেলো যে আরশির গায়ে ধাক্কা লেগে আরশি পড়ে গেলো। সাথে সাথে কাব্য চিৎকার করে উঠলো,
“এই মিঁয়া চোখ কি বাসায় রেখে আসছো? এতো তাড়া কীসের?”
এদিকে আরশি ব্যথায় চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলো। যখন চোখ খুললো তখন খেয়াল করলো তার জামার হাতাটা ছিঁড়ে গেছে। সাথে সাথে ওড়না দিয়ে হাতটা ঢেকে ফেললো। সে কখনো ফুল হাতা বা থ্রি কোয়ার্টার হাতা ছাড়া জামা পড়ে না। তাই এই অবস্থায় খুব অস্বস্তি লাগছে।

রিক্সা ততক্ষণে চলে গেছে। কাব্য আরশিকে ধরে উঠালো। একটা বন্ধ চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসিয়ে রিক্সা খুঁজতে লাগলো। কাব্য রিক্সা খুঁজছে, এদিকে ভয়ঙ্করভাবে আরশির বুক ধুকপুক করছে। নিশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম। কাব্য একটু আগে তার হাতের বাহু ধরে তাকে উঠিয়েছে। এই স্পর্শ তাকে মেরে ফেলার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ