Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুভূতি পর্ব ৬

অনুভূতি পর্ব ৬

অনুভূতি
পর্ব ৬
মিশু মনি
.
৮.
মিশু চোখ মুছতেও ভূলে গেছে। তাক লেগে হা করে চেয়ে আছে মেঘালয়ের দিকে। মেঘালয় অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে।
এবারে বলল, “কাঁদার মত কিছু ঘটেছে কি?”
– “সরি। আসলে সাধারণত এমনটা তো হয়না।”
মেঘালয় মুখ টিপে হেসে বলল,”আমি একটু অসাধারণ তো তাই আরকি। নাও খাও এবারে।”
মেঘালয়ের তাড়া দেখে মিশু একটু একটু করে খেতে আরম্ভ করলো। ওর এখন বেশ ভয় ভয় লাগছে।মেঘালয় কেমন রহস্যময় ভাবে হাসি দিচ্ছে। এই হাসিতে কিছু লুকিয়ে নেই তো? বড়লোকের ছেলেদের কত কত পরিকল্পনা থাকে! কিন্তু মেঘালয় তো সেরকম নয়। তবুও ওর হাসি দেখে ভয় হচ্ছে মিশুর। এভাবে হাসছে কেন ছেলেটা?
মেঘালয় মিশুর কান্না দেখে হাসছে। আর ওর চাহনী টাই কেমন রহস্যজনক! মিশু অযথাই ভূল বুঝছে ওকে। কিন্তু সে কথা কে বোঝাবে মিশুকে? মিশু তো ভয়েই অস্থির হয়ে বারবার তাকাচ্ছে মেঘালয়ের বাঁকা ঠোঁটের দিকে।
মেঘালয় বললো, “ম্যাম কি কিছু ভাবছেন?”
– “আমি মনের কথা চেপে রাখতে পারিনা।একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না তো?”
– “না, বলো।”
– “আসলে বলছি যে, আপনি এরকম একটা চাকরীর ব্যবস্থা করে দিলেন আবার আমাকে নিয়ে ট্যুরে যেতে চাইছেন। আমার না খুব ভয় করছে। আপনার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই তো?”
মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে তাকালো। যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর টাইপ অবস্থা। মিশুর জন্য এতকিছু করার পরও সে ভাবছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা? আসলে মেয়েরা বোধহয় এমনই। ওরা সবকিছু ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু সন্দেহ ছেড়ে দিতে পারেনা।সন্দেহ এদের রক্তের সাথে মিশে আছে।
মিশু বললো, “আপনি কি রাগ করলেন?”
– “না,আমি বড্ড আনন্দ পাচ্ছি। এভাবে কৃতিত্ব দিলে কি রাগ করা যায়?”
– “না মানে আমি এভাবে বলতে চাইনি। মাথায় হুট করে আসলো তাই। সরি।”
– “গভীর রাতে একা পেয়েও যে আপনাকে সম্মানের সহিত ফার্মেসি তে নিয়ে গেলো, বাপের ঘুম ভাঙিয়ে বিকাশে টাকা নিয়ে ওষুধ নিয়ে দিলো, আবার বাসায় পৌছে দিলো, সে এত বড় সুযোগ হাতছাড়া করে আপনাকে নিয়ে অন্য কোনো উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করবে? আজব!”
মিশু খুব লজ্জা পেয়ে গেলো মেঘালয়ের কথা শুনে। সত্যিই তো! এত কিছুর পরও কেন যে মিশু সন্দেহ প্রবণ হয়ে পড়লো নিজেও বুঝতে পারছে না।
মিশু বললো, “আমি দুঃখিত। প্লিজ কিছু মনে করবেন না। আমি আসলে এসব ভেবে বলিনি কথাটা। আমি না একটু এরকম ই।”
মিশুর অসহায় মুখ দেখে হাসি পেলো মেঘালয়ের। হেসে বলল,”ঠিক আছে বুঝতে পেরেছি। তোমাকে আমাদের সাথে ট্যুরে যেতে হবেনা। আমিই একটু বেশী বেশী বলে ফেলেছি বোধহয়। অফিসের ঠিকানা দিচ্ছি,চাইলে চাকরীতে জয়েন করতে পারো। আমার বাবার নিশ্চয় ই কোনো উদ্দেশ্য নেই।”
মিশু বেশ লজ্জা পেয়ে গেলো মেঘালয়ের কথা শুনে। মাথা নিচু করে ফেলল। ওর কান্না পেয়ে যাচ্ছে। আসলে একটু বেশিই ইমোশনাল এই মেয়েটা। কথায় কথায় কান্না আসে ওর। কেউ কঠিন করে কিছু বললেই চোখে পানি এসে যায়।
মেঘালয় মিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে আবারো মুখ টিপে হাসলো। মেয়েটাকে নিয়ে দারুণ মুশকিলে পড়া গেলো তো। কিছু বললেও সে সহ্য করেনা, আবার না বললেও পারা যায়না কিছুতেই। মাথাটা ঝাঁকিয়ে মেঘালয়, উঠে এসে মিশুর পাশে বসতে বসতে বলল,”আচ্ছা ঠিকাছে বাচ্চা মেয়েটা। মন খারাপ করোনা কেমন? তুমি যা চাইবে, তাই হবে। এবার খেয়ে নাও।”
মিশু চুপচাপ খেতে আরম্ভ করে দিলো। টুকটুক করে খাবার মুখে দিতে দিতে বারবার আড়চোখে মেঘালয়ের দিকে তাকাচ্ছিলো। ছেলেটা আসলেই অনেক ভালো। একটু রহস্যময় হলেও খুব উদার মনের। পর্বতারোহী রা বুঝি এমন ই হয়!
মেঘালয় উঠেই গিয়ে ফোনে কথা বলে আসলো। মিশুর খাওয়া ততক্ষণে হয়ে গেছে। মেঘালয় এসে সামনে বসলো। মিশু খেয়েদেয়ে চুপচাপ চেয়ে আছে মেঝের দিকে।
মেঘালয় আর কিছু না বলে উঠে দাঁড়াল। মিশুও পিছুপিছু এলো। কেউ কোনো কথা বলছে না। মেঘালয় যেদিকে যাচ্ছে,মিশুও পিছুপিছু যাচ্ছে ওর। একটা চেম্বারে নিয়ে এসে মেঘালয় মিশুকে বসতে বসলো। এটা যে ডাক্তারের চেম্বার সেটা বুঝতে মোটেও অসুবিধা হলোনা মিশুর। কিন্তু অসুখ টা আবার কার? মেঘালয় কি অসুস্থ?
একটু পরে মিশুর বিস্ময় আরো বেড়ে গেলো যখন ডাক্তার এসে ওকেই নানান প্রশ্ন করতে লাগলো। তাহলে এই হচ্ছে আসল ব্যাপার! সামান্য শরীর খারাপের কথা শুনে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছে। অদ্ভুত মানুষ একটা!
ডাক্তার জানালেন অনেক আগে থেকেই মিশুর শরীরে জ্বর বইছে। শরীর অনেক দূর্বল আর অপুষ্টিতে ভুগছে। একটু পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে, আর কিছু ওষুধ লিখে দিলেন। ওষুধ গুলো ফার্মেসি থেকে কিনে নিয়ে মেঘালয় মিশুর হাতে দিয়ে বললো, “এইগুলা নিয়ম করে খাবেন ম্যাডাম। অসুস্থ শরীরে অফিসে কাজ করবেন কি করে?”
মিশুর মুখে কোনো কথা নেই। ও বিস্ময়ের ঘোরে শুধু বারকয়েক বিড়বিড় করলো। মেঘালয় এগিয়ে এসে রাস্তায় সিএনজি দাড় করালো। তারপর মিশুকে তাতে উঠতে বললো। মিশু অবাক করা চোখে ওর দিকে চেয়ে থেকে গাড়িতে চেপে বসলো। মেঘালয় ওর পাশেই বসে পড়লো।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো, “তোমার বোনের শরীর কেমন এখন?”
-“মোটামুটি সুস্থ। ওষুধ খেলেই ও ঠিক হয়ে যায়।”
– “ওহ আচ্ছা। তুমিও ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যাবা।”
– “আচ্ছা। এখন আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
– “আমরা নেভারল্যান্ডে যাচ্ছি।”
মিশু ফিক করে হেসে ফেললো, “সিএনজি তে করে নেদারল্যান্ড? বাহ! আজকালকার সিএনজি বুঝি ফ্লাইং করে?”
মিশুর হাসি দেখে মেঘালয় ও হেসে ফেললো। হাসতে হাসতে বললো, “নেদারল্যান্ড নয় মিশু, নেভারল্যান্ড।”
মিশু ভ্রু কুঁচকে বললো, “নেভারল্যান্ড! সেটা আবার কোথায়? ”
মেঘালয় মুখ টিপে হাসলো। হা করে চেয়ে থাকা মিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে ও বললো, “নেভার ল্যান্ড মিরপুরে অবস্থিত ম্যাম।”
-“জীবনেও নাম শুনিনি আমি। কি আছে সেখানে? প্লেন উড়াউড়ি করে নাকি?”
– “আজব প্রশ্ন! প্লেন উড়াউড়ি কেন করবে? সেখানে আমরা বেড়াতে যাচ্ছি। তুমি না বললা খুব বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করছে?”
মিশু লজ্জা পেয়ে গেলো খুব। লাজুক স্বরে বলল, “ও আচ্ছা। সেখানে কি কি আছে? পার্ক?”
– “নদী, নৌকা, রেস্টুরেন্ট আর সবুজে ঘেরা একটু প্রকৃতি। মজার ব্যাপার কি জানো? প্লেনের উড়াউড়ি না থাকলেও সেখানে ময়ূরপঙ্খী আছে।”
মিশু অবাক হয়ে বললো,”ঢাকার ভিতরে এমন প্লেস আছে! আমিতো জানতাম না। ময়ূরপঙ্খি আছে! উফফ তাড়াতাড়ি চলুন না প্লিজ।”
– “সিএনজি কি আমি চালাচ্ছি?”
মিশু আবারো লজ্জা পেয়ে গেলো। মুচকি হাসলো এবার ও। মেঘালয়ের খুব আনন্দ হচ্ছে। মেয়েটির এই আনন্দিত মুখটাই দেখার জন্য ওকে সীতাকুণ্ড ট্যুরের প্লানটা জানিয়েছিলো। সামান্য কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনলেই মেয়েটি বড্ড আনন্দিত হয়ে ওঠে। পাগলী একটা! এই ফুটফুটে মেয়েটাকে কি ওইরকম বন্দি দশায় মানায়? এ জন্যই বড্ড মন কেমন করছিলো মেঘালয়ের।
মেঘালয় বলল,”ওটা মূলত একটা রেস্টুরেন্ট। তবে শ্যুটিং স্পট। পরিবেশ টা অনেক সুন্দর করেছে। আর রেস্টুরেন্ট এ চাইনিজ,থাই থেকে শুরু করে দেশী খাবার দাবার ও পাওয়া যায়।”
মিশু অবাক হয়ে বলল,”আপনি যে বললেন ময়ূরপঙ্খী? রেস্টুরেন্ট এর ভিতরে নৌকা চলে?”
মেঘালয় এবারে হো হো করে হেসে উঠলো। আচ্ছা পাগলি মেয়ে তো। রেস্টুরেন্ট এর ভিতরে নৌকা কখনো চলে নাকি? বরং অনেক সময় নৌকার উপরেই রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠে। কিন্তু নেভার ল্যান্ড তো কয়েক একর জমির উপরে তৈরী। রেস্টুরেন্ট একদিকে আছে। এটা বুঝতেও কষ্ট হচ্ছে ওর?
মেঘালয়ের উত্তর শুনে মিশু লজ্জা পেয়ে বলল,”আমি একটু এমন ই। কিচ্ছু বুঝিনা। তবে একবার বললে আর ভূলিনা।”
মেঘালয় হাসল। এই বাচ্চা স্বভাব টাই দেখার অপেক্ষায় ছিলো ও এতদিন! মেয়েটি বড্ড মায়াবী, শুধু মায়ায় জড়িয়ে ফেলে!
মিশু সিএনজির ভিতর থেকেই বাইরে টা দেখার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। মেঘালয় বললো,”তোমার কি সবকিছু দেখতে খুব ভালো লাগে?”
– “হ্যা লাগে। খুউউব লাগে। কিন্তু দেখার সুযোগ পাইনা তো। সারাক্ষণ অফিসে বন্দি থাকতে হয়। আর এখন এই দেখুন সিএনজি থেকে কিচ্ছু দেখা যায় না।”
মিশুর ছেলেমানুষি কণ্ঠ শুনে আবারো হাসি পেলো মেঘালয়ের। ও মনে মনে ভাবলো, এখন থেকে বাইক নিয়ে বের হতে হবে। তাহলে ঘুরাঘুরি করে খুব আনন্দ পাবে মেয়েটা।
মিশুর পরিবারের অবস্থা শুনতে শুনতে অনেক দূর চলে এলো ওরা। মেঘালয় সিএনজি থেকে নেমে রিক্সা নিলো। এবার মিশুর মুখটা উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। রিক্সা থেকে সবকিছু বেশ সুন্দর দেখা যায়! একদম বাচ্চাদের মত লাফিয়ে উঠছে আনন্দে।
নেভারল্যান্ডে ঢোকার আগেই মিশুর খুশি আর দেখে কে? রাস্তার দুপাশের সৌন্দর্য দেখে দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছে ও। রাস্তাগুলো এত সুন্দর কেন! নদীও দেখা যাচ্ছে। মিশু আনন্দে লাফাচ্ছে।
চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখানোর পর মিশুকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট এ এসে বসলো মেঘালয়। খাবারের মেন্যু দেখে খাবার অর্ডার করতে বলল মিশুকে। মিশু কি অর্ডার করলো নিজেও জানেনা। খাবার চলে আসতেই হা করে চেয়ে রইলো মেঘালয়ের দিকে। এই খাবার জীবনেও দেখেনি ও। কিভাবে খেতে হয় তাও জানেনা। মেঘালয় কাঠি ও কাটা চামচ দিয়ে ওকে শিখিয়ে দিলো কিভাবে খাবার টা খেতে হবে।
মিশু মেঘালয়ের দেখাদেখি খাবার খাচ্ছে। এখন একটু একটু খেতে পারছে। কিন্তু খাবারের স্বাদ বেশী সুন্দর না,শুধু নামেই সুন্দর। এজন্যই বিদেশী খাবার গুলো ভালো লাগেনা ওর। খাবার খেতে খেতে রেস্টুরেন্ট এর পরিবেশ উপভোগ করছিলো মিশু। বেশ উন্নত আর সুন্দর, সাজানো গোছানো পরিবেশ। চারদিক টা অনেক সুন্দর বলতে হবে। মেঘালয় দারুণ একটা সারপ্রাইজ দিলো আজ ওকে।
কিন্তু ময়ূরপঙ্খী তে ওঠা হলোনা। অল্প ক’জন যাত্রী নিয়ে ময়ূরপঙ্খী যাত্রা করেনা। যাত্রী পূর্ণ হলে তবেই নৌকা ছাড়ে। মিশুর খুব মন খারাপ হয়ে গেলো এটা শুনে। মেঘালয় ওকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আরেকদিন নিয়ে আসবো এখানে।
অনেকবার বলার পর একটু মন ভালো হলো মিশুর। পুরোটা বিকেল জায়গাটায় ঘুরাঘুরি করে বাসার উদ্দেশ্যে বের হলো ওরা। এর মধ্যে টুকটাক কথা হয়েছে দুজনাতে সেটা শুধুমাত্র পড়াশুনা, ছেলেবেলা এসব নিয়েই। লোকাল বাসে করে রওনা দিলো ওরা। মিশু জানালার পাশে বসে বাইরে চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগলো। মেঘালয়ের ইচ্ছে করছে রোজ মিশুকে এভাবে বাইরে ঘুরতে নিয়ে বের হতে। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব?
৯.
রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ইয়ারফোনে গান শুনছিলো মিশু। পুরনো দিনের কিছু গান। শুনতে শুনতে একটা গল্পের বই পড়ছিলো। একটা গান শেষ হওয়ার পর আরেকটা গান আসতেই বেশ চমকালো মিশু! গানটা পুরনো দিনের হলেও তার সুর এত মধুর আর মায়ায় জড়ানো! কিছুক্ষণ পড়া বন্ধ করে গান শুনতে লাগলো। শিল্পী গান গাইতে আরম্ভ করার পর একদম চোখে জল এসে যাওয়ার মত অবস্থা হলো। এত মায়া দিয়ে গান গাইছে সে! কণ্ঠে যেন জাদু আছে। কিন্তু কে এই শিল্পী? ওনার গান তো আগে কখনো শোনা হয়নি। এত ভালো গান গায়, অথচ তার গান আগে শোনা হয়নি!
মিশু অবাক হয়ে প্লে লিস্টে ঢুকলো। গানের ডিটেইলস দেখে ভিরমি খেয়ে গেলো একবার। শিল্পীর নাম দেখে কয়েক মুহুর্ত চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে রইলো, “Meghaloy Ahmed”
এলবামের ছবিতেও মেঘালয়ের ছবি দেয়া। প্রথম টায় স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছিলো মিশুর। এই ছবির ছেলেটার সাথে তো আজকেই সারাদিন ঘুরাঘুরি করেছে ও। তার গান প্লে লিস্টে বাজছে আবার এত মধুর কণ্ঠ! সবকিছু কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে যেন! এটা কিভাবে সম্ভব? মেঘালয় কি গান গায়? এটা তো মিশু জানতো না।
আজ কিছু গান ডাউনলোড করেছে মিশু। এ গানটাও আজকেই ডাউনলোড করা। কিন্তু মিশু তখন জানতো না মেঘালয়ের গাওয়া গানও আছে এতে! আর মেঘালয় তো আরোহী হিসেবেই পরিচিত, সে আবার গান গায় কবে থেকে?
তৎক্ষণাৎ ফেসবুকে ঢুকে গেলো মিশু। মেঘালয়ের নাম দিয়ে সার্চ দিয়ে ওর পেইজে ঢুকে গেলো। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করার পর দেখতে পেলো সত্যিই মেঘালয় মাঝেমাঝে গান গায়। রেডিও তে গাওয়া গান এটা! রেডিও তে গেয়ে রেকর্ডিং করে আপলোড দিয়ে দিয়েছে। দেখার পর অজান্তেই কেঁদে ফেললো মিশু।
বেশ কিছুক্ষণ অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো। ছেলেটা পর্বতারোহী, মাঝেমাঝে গানও গায়। মোটামুটি জনপ্রিয় একজন মানুষ। অথচ এত আপনজন দের মত মিশেছেন যেন মিশু ওনার বন্ধু! রোজ রোজ মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করা, রাতে ওষুধ কিনে দেয়া, বিকাশে টাকা নেয়া, বাইকে তোলা, আবার আজ ডাক্তার দেখানো, স্টার কাবাবে খাওয়াদাওয়া, নেভারল্যান্ডে ঘুরতে যাওয়া সবকিছু স্বপ্নের মত মনেহচ্ছে। এসব শুধুমাত্র স্বপ্নেই সম্ভব। বাস্তবেও সম্ভব সেটা ভাবাই যায়না!
মিশু বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগলো। কাঁদতে কাঁদতে হেডফোনে মেঘালয়ের গানটা ফুল ভলিউম দিয়ে বারবার শুনতে লাগলো। কেন যে কাঁদছে সেটা ও নিজেও জানেনা। গানে মেঘালয়ের মায়াবী সুরের টান শুনে আরো কান্না বেড়ে যাচ্ছে মিশুর।
চলবে..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ