Saturday, June 6, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_১৮

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_১৮
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

বেলীর পুরো শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে । বিছানায় আধ-মরা হয়ে থাকা বেলীকে দেখে বড্ড বেশি মায়া হচ্ছে ইরফানের । শরীর হাত পা কেমন ঠান্ডা হয়ে গেছে বেলীর । অনেক ভয় পাচ্ছে ইফরান । কি করবে না করবে বুঝতে পারছে না সে । নিশ্চুপ হয়ে পড়ে থাকা বেলী একবারের জন্যেও চোখ খুলছে না ।

অন্যদিকে অফিস থেকে এসেই ইরফানের বেলীর রুমে যাওয়া একদম সহ্য হয় নি রুবির । সে রুমের মধ্যে বসে থেকেই নিজের তেজ কমাচ্ছে জিনিসের উপর । সে শুধু অপেক্ষায় আছে কখন ইরফান এই রুমে আসবে আর সে ইরফানকে ধরবে । অনেক হিসেব নিকেশ বাকি আছে তার ইরফানের সাথে । সব কিছুর শোধ তুলতে হবে তাকে । আজ এক্ষুনি এবং এই মুহুর্তে ।

ইরফান তাড়াতাড়ি নিজের রুমে আসে থার্মোমিটার নেয়ার জন্যে বেলীর জ্বর মাপবে বলে । আর কোন রকম চেঞ্জ করে বেলীর কাছে যাবে বলে । কিন্তু ইরফান রুমে আসার সাথে সাথে রুবি দরজা আটকে দেয় । মোট কথা সে এই রুম থেকে আজ ইরফানকে বের হতে দিবে না । রুবিকে দেখে ইরফানের মেজাজ এমনিতেই অনেক খারাপ তার উপর এইভাবে দরজা আটকে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকায় আরও মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে তার । প্রথমে কিছুই বলে নি ইরফান । ওয়াসরুমে গিয়ে কোন রকম ফ্রেশ হয়ে টাউজার আর গেঞ্জি পরে থার্মোমিটার হাতে নিয়ে দরজার কাছে যায় ইরফান । রুবি এত পরিমান ঠ্যাটার ঠ্যাটা যে সে ওইখানেই এখন অবদি দাঁড়িয়ে আছে । এইবার ইরফান আস্তে করেই কথা বলে রুবির সাথে ,

– কি ব্যাপার , এইখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে কেন আছো ?
– কোথায় যাচ্ছো তুমি ?
– বেলীর কাছে ।
– কি কারণে , আমি যে তোমার ঘরে আছি , এতে তোমার হয় না ?
– দেখো রুবি রাত সাড়ে ৯ টা বাজে । আমি খুব ক্লান্ত , তার উপর বেলীর প্রচন্ড জ্বর । আমাকে যেতে দাও ,
– ও মরে যাক , তবুও তুমি যাবে না ।

রুবির কথা শুনে ইরফানের পায়ের রক্ত মাথায় চড়ে যায় । এটা কি বললো রুবি , এ কেমন মানুষ যে অন্য আরেক মানুষের মৃত্যু কামনা করে । তবুও নিজের মেজাজ কন্ট্রোলে রেখে ঠান্ডা মাথায় আবারও রুবিকে বোঝাতে থাকে সে ,

– রুবি আমি এখন ঝগড়ার মুডে নাই , প্লিজ আমাকে যেতে দেও ।
– তুমি যাবে না ,
– আমি তো যাবোই রুবি ,
– নাহ যাবা নাহ ।
– তোমার সমস্যা কোথায় ?
– আমার সমস্যা ওই বেয়াদব মেয়েটা , ও কি তাবিজ করেছে তোমাকে যে আমি থাকা স্বত্ত্বেও তুমি ওর দিকে যাচ্ছো । আগে তো ও-কে দেখতেই পারতা না , এখন কি হয়েছে ইরফান ।
– একটা কথা আছে জানো তো রুবি , যার চিন্তাভাবনা যেমন সে বলবেও তেমন । তুমি একজন এডুকেটেড মেয়ে হয়েও এইসব নোংরা মানসিকতার চিন্তাভাবনা নিয়ে পড়ে আছো ।
– হ্যাঁ আমি নোংরা মানসিকতার মানুষ তবুও তুমি যাবা না ওর কাছে ।
– লাষ্ট টাইম বলতেছি আমি , তুমি সরে যাও আর আমায় যেতে দাও ।
– তুমি যাবা না , যাবা না , যাবা না ।
– আমি যাবো , যাবো , যাবো ।
– ইরফান তুমি বদলে গেছো , ওই গাইয়া মেয়েটার জন্যে তুমি বদলে যাচ্ছো ইমরান
– হ্যাঁ , আমি বদলে গেছি । আমি আগে জানোয়ার ছিলাম এখন মানুষ হচ্ছি ।

বিগত ৫ মিনিট যাবত একই বিষয়ে ঘ্যান ঘ্যান করেই যাচ্ছে রুবি যা আর সহ্য হয় নি ইরফানের । ইরফান এইবার ধাক্কা দিয়ে রুবিকে সরিয়ে দেয় ।

– বলেছিলাম না , বেশি বিরক্ত করো না আমাকে ।
– তুমি আমাকে ধাক্কা দিলা ?
– মাত্র তো ধাক্কা দিলাম , এরপর বেশি বাড়াবাড়ি করলে পা ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিবো । মাথায় রাখবে কথাটা ।
– ইরফান তুমি যাবা না ,
– আমি যাবো , বিয়ে যেমন দুইটা করেছি । দায়িত্বটাও সমান ভাবেই নিবো আমি ।
– হয় তুমি ওরে রাখবা নয়তো আমায় ।
– তুমি থাকতে চাইলে থাকবে না থাকতে চাইলে চলে যাবে , ব্যাস ।
– ইরফান ,,,,,,,,,,,,?
– গলা নামিয়ে কথা বলো , বার বার বলেছি আমি ক্লান্ত আমি ক্লান্ত , ডিস্টার্ব করো না আমায় । মেয়েটা জ্বরে অচেতন হয়ে পড়ে আছে আর তুমি এখানে আমায় আটকে রেখেছো , এইগুলা কি মানুষের কাজ ?
– আজ হঠাৎ মানুষ হয়ে গেলে , অন্যান্য দিন তো বেলী বলতেই মারধর আর আজ আদর যত্ন , ব্যাপার কি ?
– আগে অমানুষ ছিলাম , এখনও অমানুষই আছি আমি । মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি শুধু । বাকি উত্তর গুলো সময় অনুযায়ী পেয়ে যাবে ।

ইরফান রুবির সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায় রুম থেকে । আর রুবি রুমের মধ্যে থেকেই সব তোলপাড় করে ফেলছে । তার একটাই সমস্যা ইরফান কেন বেলীর কাছে যায় । ইরফান এই মুহুর্তে আর অন্য কিছু ভাবতে ভালো লাগছে না । সে এখন থেকে এই মুহুর্ত থেকে শুধুই বেলীকে নিয়ে ভাবছে ।

বেলীর রুমে এসে অচেতন বেলীর শরীরের তাপমাত্রা চেক করার জন্যে থার্মোমিটার কাজে লাগায় ইরফান । ওয়াসরুম থেকে বালতি ভরে পানি নিয়ে আসে বেলীর মাথা ধুইয়ে দিবে বলে । বেলীর শরীরের বিন্দুমাত্র শক্তি নেই যে সে উঠে বসবে বা শুয়ে থেকেই শরীর নাড়াবে । থার্মোমিটারে ১০৩ ডিগ্রী জ্বর দেখে ঘাবড়ে যায় ইরফান । ধরেই জ্বর ১০৩ এ পৌঁছে গেছে । এইজন্যই হুশ নেই বেলীর , হু , হা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না সে । ইরফান মিনুর কাছ থেকে পলিথিন নিয়ে এসে বেলীকে ঠিক করে শুইয়ে দেয় বিছানায় । আজ ইরফান কফিও খায় নি । মিনু এসে দেখে ইরফানের কফির মগে কফি পড়ে আছে ।

– ভাই , কফি খাইলেন না ?
– নাহ , নিয়ে যা ।
– আপনের তো কফি না খাইলে হয় না ।
– কফি না খেলে মরে যাবো না , তুই নিয়ে যা । আর ও কিছু খেয়েছে ?
– নাহ ভাই , ভাবী তো কিছুই খায় নাই ।
– আচ্ছা যা , আমি ওর মাথায় পানি দিয়ে দেই আর তুই ওর খাবারের ব্যবস্থা কর ।
– আইচ্ছা ভাই ।

এই সময়েই মিনুর মাথায় চট করে বুদ্ধি আসে । এই সুযোগ , সুযোগটা কাজে লাগাবে সে । আজ রুবি যা যা বেলীকে যা যা বলেছে যা যা করেছে সব বলে দিবে সাথে বাড়তি কথাও বলবে । মিনু মানেই ধামাকা , তাই সে আর সময় নষ্ট করে নি ।

– হায়রে ভাবী , যত কইলাম আমি ধুইয়া দেই আমি ধুইয়া দেই হুনলেন না আমার কতা ।
– কি হইছে , কি ধুয়েছে ও ?
– আর কইয়েন না ভাই , রুবি ভাবী আইয়া এইযে শুরু করছে , বেলী ভাবীরে যা মুখে আইছে তাই কইছে । তারপর ভাবীরে দিয়া সেতির সব জামা কাপড় ধোয়াইছে তাও অবেলায় । এল্লাই মনে হয় জ্বর আইছে ।
– কিহ !!
– হ ভাই , ছে ছে কি বিচ্চিরি গালি দিছে ভাবীরে , ভাবী চুপ কইরা আছিলো । কিছুই কয় নাই । খালি কানছে ,
– তুই যা , বাকি কাজ কর ।

মিনুর কথা গুলো শুনে ইরফানের শরীরটা রাগে কাঁপতে থাকে । ইচ্ছা করছিলো রুবিকে এক লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দিতে । কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই তার । রুবিও তার স্ত্রী , তার উপর ভালোবেসে বিয়ে তাদের । এখন চাইলেও এইভাবে কিছুই করা সম্ভব না । সব ভুলে গিয়ে বেলীর মাথায় পানি ঢালে ইরফান । মেয়েটা এত অসুস্থতার মাঝেও টু-শব্দও করছে না ।

– তুই এত সহজ সরল কেন বেলী , কেন আমাদের জীবনটা এমন হয়ে গেলো ? আমি এত অবুঝ হয়েছিলাম যে তোকেই বুঝলাম না । এত মারধরের পরেও আমার কাছেই আছিস , এত চুপচাপ কি করে থাকিস তুই ? এত চাপা স্বভাবের কেন তুই বেলী ? আমার মনটা কেন জানি তোর দিকেই ঘুরে যাচ্ছে রে । প্লিজ ভালো হয়ে যা তুই ।

এই কথাগুলো মনে মনে বলতে থাকা ইরফানের অন্তরটা হু হু করে উঠে । বেলীর জন্যে তার মায়া দিনকে দিন বেড়েই চলছে । কেন যেন নিজের মনকে সে বশে রাখতে পারছে না । বার বার মন তার বেলীর দিকেই টানছে । আসলে সবাই ঠিকই বলে , বেলীফুল সবার মাঝে শুধু সুবাস ছড়াতেই পারে বিনিময়ে তার কিছুই চাই না ।

প্রায় এক ঘন্টা সময় নিয়ে ইরফান বেলীর মাথায় পানি দিয়েছে । তারপর টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছে দিয়েছে । শরীরে অনেক তাপমাত্রা বেলীর , তাই ভাবছিল যদি পুরো শরীরটা মুছে দেয়া যায় তাহলে ভালো হতো । এই এত দিনের মাঝে বেলীকে এত অসুস্থ হতে সে আজ দেখলো । ফার্মেসিতেও যাবে সে জ্বরের মেডিসিন নিয়ে আসবে বেলীর জন্যে ।
মিনুকে ডেকে বেলীর কাছে মিনুকে রেখে ইরফান বাসা থেকে বেরিয়ে যায় । ওইদিকে রুবির মেজাজ তুঙ্গে পৌঁছে গেছে । সে এইসব কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না । তার এই মুহুর্তে বেলীকে গিয়ে বিষ দিতে মন চাইছে । কিন্তু উপায় নেই ।

আধা ঘন্টা পর ইরফান মেডিসিন নিয়ে বাসায় আসে । মিনুকে খাবার আনতে পাঠিয়ে দিয়ে সে বেলীর পাশে বসে যায় । বেলী তখনও জ্বরের ঘোরেই আছে । মিনু এইদিক দিয়ে বেলীর শরীরটা মুছে দেয় । মিনু ভাত নিয়ে এলে বহু কষ্টে ইরফান বেলীকে ভাত খাওয়াতে পারে । বেলী তো ঠিকমত বসতেই পারে না ভাত খাবে কি । তার একটাই কথা ,

– এইগুলা সরান সামনে থেকে , আমি খাবো না ।
– মেডিসিন নিতে হবে তো , অল্প কয়টা খাও ।
– খাবো না সরান এইগুলা সামনে থেকে ।
– অল্প কয়টা ভাত খাও বেলী এমন করো না , হা করো ।
– এইগুলা কি ?

তখন মিনু বলে উঠে ,

– অকি ভাবী , আপনেই তো রানলেন , মুরকার মাংস । লন ভাত খাইয়া লন ।
– এইগুলা সরান সামনে থেকে , গন্ধ লাগে এইগুলা ।
– অকি , কি সব কয় মাতারি । ভাবী পোলাপাইনের মত কইরেন না তো । খাইয়া লন হেরফরে ওষুধ খান ।

বেলী খাবেই না , তরকারি দিয়ে তো আরও আগেই খাবে না । তাই ইরফান ভাতে পানি দিয়ে পানিভাত করে খাইয়ে দেয় বেলীকে । বেলীর জ্বরের ঘোর প্রকট হলেও সে বুঝতে পেরেছে ইরফান তাকে খাইয়ে দিচ্ছে । আর ইরফানের হাত থেকে বিয়ের এতদিন পর সে খাচ্ছে । মুহুর্তেই তার চোখে পানি চলে আসে । তবে ইরফান ভাবছে শরীরের যন্ত্রণার জন্য বেলী কাঁদছে । সর্বোচ্চ ৬/৭ লোকমা ভাত খায় বেলী । তারপর আর পেটে যায়নি তার । ইরফানও আর জোর করে নি । যতটুকু পেরেছে খেয়েছে । তারপর ওষুধ খাইয়ে দেয় বেলীকে সে ।

কিছুক্ষণ পর বেলী চাপা আর্তনাদ শুরু করে । পুরো শরীর ব্যাথা তার । ব্যাথার চোটে কাঁদছে সে । ইরফান তখনও বেলীর পাশেই বসা । বেলীর কান্না সহ্য হচ্ছে না তার । আজ রাতে সে ভাতটাও খায়নি । সেই যে বেলীর কাছে বসা ছিল তখন থেকে এখন অবদি বসেই আছে সে । ঘড়ির দিকে নজর দিতে দেখে ঘড়িতে তখন ১২ টা বেজে ৫৫ মিনিট বাজতেছে । এতটা সময় পাড় হয়ে গেছে অথচ ইরফান বলতেও পারবে না । বিছানায় বেলী শরীর ব্যাথায় কাঁদতে থাকে ।

– বেলী কি হইছে ?
– আমার পুরো শরীর ব্যাথা করতেছে । উফফফ রে কি ,
– কোথায় কোথায় ব্যাথা ?
– পুরো শরীরটাই ব্যাথা , আল্লাহ রে ।
– বলো ,
– মাজাটা ফেটে যাইতেছে , পায়ের গিট গুলা ব্যাথা করতেছে ।

জ্বরের সময় অনেকের শরীর হাত পা অনেক ব্যাথা করে । তেমনটাই বেলীর হচ্ছে । এর আগের বারের কথা মনে পড়ে যায় ইরফানের । ঠিক এইভাবেই মান্থের পেইন সহ্য করতে হয়েছিল ও-কে । আর আজ আবার জ্বরের তাড়ণায় পাগল হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা । ইরফান মুভ এনে বেলীর হাতে পায়ে মালিশ করে দেয় । বেলীকে কাত করে এক পাশ করে শুইয়ে দিয়ে বেলীর কোমড়ে মুভ মালিশ করে দেয় সে । প্রায় অনেক্ষণ পর বেলী একটু শান্ত হয় । জ্বরটাও একটু নিয়ন্ত্রণে আসে আর শরীর ব্যাথাটা কিছুটা হলেও কমে বেলীর । শুয়ে শুয়ে ইরফানকে দেখছিল বেলী । ভেতরটা কেমন জানি করে উঠে তার । খুব খারাপ লাগছে ইরফানের জন্যে । নিজেকে অনেক বেশি অসহায় মনে হচ্ছে তার । ইরফানের মুখটাও কেমন শুকিয়ে আছে ।

– আপনি খাইছেন ?
– উহু ,
– মিনু কোথায় ?
– গেষ্ট রুমে , ঘুমাইতেছে ।
– চলেন আপনাকে খেতে দেই আমি ।

বেলীর মুখ থেকে এমন কথা আশা করেনি সে । নিজেই অসুখে মরে যাচ্ছে আর এখন সে ইরফানের খাবারের কথা ভাবছে । একি মানুষ নাকি অন্যকিছু । অবশেষে ইরফান নিজেই বলে ,

– কথা কম বলে শুয়ে থাকো ।
– খাবেন না তাই বলে ,
– ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিবো আমি । শুয়ে থাকো তুমি ।
– হু ,

ইরফানের কেন জানি বেলীকে কিছু বলত ইচ্ছে হচ্ছে । বেলীর কাছে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে । বেলীকে জড়াতে ইচ্ছে হচ্ছে ।

– বেলী ,,,,,,,,?
– হু ,
– একটা কথা বলি ?
– হু ,
– আমি তোমাকে ভালোবাসি ।

জ্বরের মাঝেও এমন কথা শুনে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায় বেলীর । ইরফানের মুখ থেকে এই কথাটা তাও এই মুহূর্তে সে একদম আশা করেনি । এরই মাঝে ইরফান আবারও বলা শুরু করে ।

– ভালোবাসি তোমাকে আমি !

এর পর বেলীও বলতে শুরু করে ,

– এটা শুধুই আবেগ ,
– আবেগ নয় , সত্যিই আমার মনটা বার বার তোমার দিকে ঘুরে যাচ্ছে ।
– আমরা আর দুজন নেই , আমরা এখন তিন জন কেন বুঝেন না আপনি ?
– তিন জন কিভাবে ?
– আপনার দ্বিতীয় স্ত্রী , সে কি দোষ করেছে , সেও আপনাকে ভালোবাসে ।
– কিন্তু আমি যে তোমায় ভালোবাসি ।
– আপনি আমার ভালোবাসেন না , ভালোবাসলে আমি সতীন নিয়ে সংসার করতাম না ।
– এই ভুল টাই আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
– বেলী ফুল ঝরে যায় , দিন শেষ সে ঝরে যায় । আমিও ঝরে যাবো । জানি না কবে তবে আমিও ঝরে যাবো , যাওয়ার আগে আপনাকে অনেক কিছু দিয়ে যাবো ।
– বেলী ,,,,,,,,,?
– ঘুমাবো একটু , অনেক ঘুম পাচ্ছে । আপনি রুবি আপুর কাছে যান ।
– আমি তোমার কাছে এসেছি আর তুমি আমায় ওর দিকে পাঠাচ্ছো , কেন বেলী ?
– বেলীফুল তার সুগন্ধে সবাইকে মাতায় বিনিময়ে সে নিঃশেষ হয়ে যায় ।
– সেই ৯ টা থেকে এখন অবদি আমি তোমার কাছে বসা আর এখন তুমি আমায় রুবির কাছে যেতে বলো ?
– আমার কথা বলতে ভালো লাগে না , আমি ঘুমাবো ।
– ঘুমাও , আমি আছি এখানে ।
– কতক্ষন বসে থাকবেন ?
– শুতেও তো বলছো না ,
– আমি কে যে আমার কাছে শুবেন আপনি ?
– মাইর খাবা কিন্তু ,
– ওইটাই কপালে আছে আমার ।

এই বলে বেলী চুপ করে চোখ বুজে যায় । বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে তার । মানুষটাকে আজ কেন যেনো খুব কাছে পেতে ইচ্ছ্ব করছে তারও । কিন্তু আবার কেন জানি সংকোচ লাগছে । বন্ধ চোখের কোণা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে বেলীর । আজ নিজের শরীরে ইরফানের হাতের ছোয়াটার মায়ায় পড়ে গেছে ।

অন্যদিকে ইরফানের মনটাও বেলীর কাছে যেতে চাইছে । বেলীকে জড়াতে চায় সে । বেলী তার বিবাহিতা স্ত্রী । অন্য নারী নয় । তাই সে লাইট অফ করে দরজা লাগিয়ে বিছানায় গিয়ে বেলীর পাশে শুয়ে পড়ে । বেলী টের পেয়েও চুপ করে পড়ে থাকে । ইরফান আচমকাই বেলীকে নিজের একদম কাছে নিয়ে আসে । জড়িয়ে ধরে বেলীকে সে ।

– ছাড়েন ,
– ঘুমাও তুমি ।
– এইভাবে থাকলে আমার ঘুম আসবে না ।
– আমি কি তোমাকে কামড়াচ্ছি নাকি ? চুপ করে শুয়ে থাকো ।

ইরফানের এমন কথায় বেলী চুপ হয়ে যায় । তাই বেশি কিছু বলেনি সে । এমনিতেও অনেক রাত হয়ে গেছে । তার উপর নিজের শরীরও ভালো না । তাই আর বাড়াবাড়ি করেনি সে । হঠাৎ করেই ইরফান বলে উঠে ,

– তোমার প্রতি আমার করা অন্যায় গুলো খুব বেশিই ছিল । হয়তো এর ক্ষমা হয় না । এত মারধর করেছি যে নিজের দিকে তাকাতেও এখন লজ্জা লাগে আমার । বার বার বোঝাতে চেয়েও মনটা বুঝে নাই আমার । বার বার তোমাকেই পেতে চায় । কেন জানি তুমি নামক ফুলটা আমার জীবনে সুবাস ছড়িয়ে দিয়েছো । আমি ভালোবাসি তোমাকে বেলী । তোমাকে ফুল ভেবে নয় ভালোবাসার কলি করে কাছে পেতে চাই আমি । আমি শান্তি পাই তোমার মাঝে বেলী । জানি না কেন , কিন্তু আমি শান্তি পাই তোমার মাঝে ।

বেলীর পিঠের সাথে ইরফানের মুখটা লেগে আছে । বেলীর পিঠের ভেজা ভাবটাই বেলীকে জানান দিচ্ছিলো ইরফানের চোখের পানি তার শরীর স্পর্শ করছে । বেলীর বুকের ভেতরটা কাতর হয়ে আছে । আর সহ্য করতে পারেনি সে । এইদিক ফিরে জ্বরের মাঝেই জড়িয়ে ধরে নিজের স্বামীকে সে । ভালোবাসে বেলী মানুষটাকে । কি করে আর দূরে থাকতে পারে সে । বেলীর জড়িয়ে ধরা দেখে ইরফান আরও জড়িয়ে নেয় বেলীকে । কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে ,

– ঘুমিয়ে যাও তুমি , আমি আছি এখানে ।

বেলী চুপ করে চোখ বুজেই ইরফানকে ধরে রেখেছে । আর মনে মনে বলছে ,

– কি ঠিক কি ভুল জানি না । কিন্তু মানুষটাকে আমি ভালোবাসি অনেক । তাজে ছাড়তে পারবো না । ভালোবাসি আমি আপনাকে , অনেক ভালোবাসি ।

পরে নিজেই মুখ খুলে বলে ,

– আমি মরে যাবো আপনাকে ছাড়া । শুধু পালটে যাইয়েন না । আমি মরে যাবো , একদম মরে যাবো ।

বেলীর কথা শুনে বেলীকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ছেড়ে দেয় ইরফান । তার নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ,

– ভালোবাসি রে বেলীফুল , তোকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি আমি । তোকে ছেড়ে কোথাও যাবো না আর তোকেও কোথাও যেতে দিবো না । ভালোবাসি অনেক তোকে ।

বেলীও পরম মমতায় নিজের হাতের বাধনে আবদ্ধ করে নেয় ইরফানকে । সেখানেই আস্তে করে ঘুমিয়ে যায় বেলী ।

.
.

চলবে……………………..

[ বিঃদ্রঃ দয়া করে কেউ হাইপার হবেন না । এটাই বাস্তবতা । স্বামী স্ত্রী শত ঝগড়া মারামারির পরেও এক হয় । আর বাংলাদেশে এখনও অনেক মেয়েরাই আছে যারা সতীন নিয়ে সংসার করে । আমার নিজের চোখে দেখা এমন ৪ টা পরিবার আছে যারা এখনও সতীন নিয়ে ঘর করছে । তাই এটাকে বাস্তবতার দিক থেকে দেখবেন সবাই । একজন পুরুষ একজন নারীর সান্নিধ্য যেমন ছাড়তে পারে না তেমন একজন নারীও তার স্বামীর সান্নিধ্য ছাড়তে পারবে না । তাই সবাই যখন পড়বেন তখন বুঝবেন , আর রইলো কথা রোমান্টিকতা আর কাল্পনিকতা । তাও হালকা পাতলা দেয়া হবে । রোমান্টিকতা ছাড়া গল্প জমে না । আর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বিবাহিত আপু+ভাইয়াদেরও কিন্তু রোমান্টিক মুহুর্ত আসে । সো এটাও কিন্তু বাস্তবতার মাঝেই পড়ে । তাই সবাই উপভোগ করবেন ।
আর এখন আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছি চেষ্টা করবো রেগুলার গল্প দিতে । আপাতত বুলবুলের টেনশনে আছি । কখন না জানি উড়িয়ে নিয়ে যায় । দোয়া করবেন সবাই । আর আমার পক্ষ থেকেও সবার জন্যে দোয়া রইলো ]

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ