Friday, June 5, 2026







বাড়িগল্প বিভাগছোট গল্প“গল্পঃ ভয়ঙ্কর বউ”

“গল্পঃ ভয়ঙ্কর বউ”

“গল্পঃ ভয়ঙ্কর বউ”
.
.
[ শুনেছি বিয়ের রাতকে বাসররাত বলে, এই রাতে সবায় খুব রোমান্টিক হয়ে যায়। শুনেছি এই রাতে স্বামী স্ত্রী অনেক গল্প করে, সারারাতে নাকি কোন ঘুম থাকেনা…. এসব ভেবেভেবে আমিও আমার মাত্র বা সন্ধায় বিয়ে হওয়া বউয়ের রুমের দিকে যাচ্ছি, বুকে হাজারো স্বপ্ন, মনে কেবল সংশয়। ]

বিয়ে যেভাবেই হোক কিন্তু যখন আমার রুমে একটা নাম না জানা মেয়ে বসে থাকবে… যখন তার সাথে আমাকে সারাজীবন কাটাতে হবে…. যখন তার নামই জানিনা তখন কিভাবে আমি একসাথে একরুমে থাকবো?? বিয়ের আগে দুইদিন বা ১সপ্তাহে কী কাউকে চেনা যায়?? হ্যা মেনে নিলাম এই ক’দিন সে ভালো ব্যবহার করেছে আসলে সব ছিলো অভিনয়। তখন?? হ্যা আমি জানি আমি বোকা তবে আমি আমার মতো করে বুঝতে চায়….
—–
রুমে ঢুকার আগেও মন টা খুব খারাপ ছিলো! নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল…. আর খুব ভয়ভয় করছিল। এ ঘর আমার জানি…. এ রুম আমার জানি… তবুও কেন আজ আমি অজানা ভয়ে ভিতু?? আজ কেন নিজের ঘরের দিকে আমাকে পা যাচ্ছেনা?? ক’টা ছেলে পারে বিয়ের রাতে বুক ফুলিয়ে বউয়ের সামনে যেতে??
—–
ক্ষীণ পা’য়ে দরজা টা আলতো করে খুললাম! বুকটা খুব চেপে আসছিল। আর কেমন যেন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল আর কেনোই বা আসবেনা আজ সে প্রথম দিন….. পা’যেন আর সামনের দিকে আগাচ্ছেই না! এক অন্যরকম ভয় কাজ করছে নিজের মাঝে! তবুও বুকে সাহস সঞ্চয় করে আগাচ্ছি…. ঘরে টিউবের সামান্য আলো টিমটিম করে জ্বলছে!! আর পাশে মোমবাতি জ্বলছে….. রুমে সাজানো নানান ফুল! যে ফুল গুলো থেকে মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে…… তাছাড়া রুমে নানানভাবে সাজানো হয়েছে!! রুম স্প্রে ছিলো রজনীগন্ধা ফুলের ঘ্রাণ সেটায় এখন তিব্র হয়ে নাকে আসছে…….! আমি টেবিলে বসবো নাকি বিছানায় ভেবে পাচ্ছিনা…. ঠিক তখুনি মেয়েটা আমাকে সালাম করতে নিচে নেমে এলো! আমি তাকে থামিয়ে দিলাম!! তার গা’য়ে হাত লেগেছিল থামানোর জন্য! মেয়েটি কেমন যেন নিজেকে ছিটকে নিলো স্পর্শ লাগার কারনে…..
—-
এরপরে সে বিছানায় উঠে বসলো। আমিও বসলাম!! কেউ কোন কথা বলছিনা” দুজন নিরব! মেয়েটি ঘুমটা দিয়ে রেখেছে বেশ বড় করে!! আচ্ছা সে কী চাচ্ছে আমি তার ঘোমটা সরিয়ে দিয়ে তার থুঁতনিতে হাত দিয়ে তাকে দেখি?? নাকি সে চাচ্ছে তার হাত দুটো ধরে কথা বলি?? আচ্ছা সে কী এমন চাচ্ছে যা আমি বুঝছিনা???
—–
চুপচাপ বসেই আছি…. আমি বুকে এইবার সাহস নিয়ে বললামঃ-
আমি — আপনি উঠে ফ্রেশ হয়ে নিন…. (কেপেকেপে)
মেয়েটি– হুম….
তারপর সে ফ্রেশ হতে গেলো! আসলে তার সর্বাঙ্গে ভারিভারি গহনা! তাছাড়া এই মোটা শাড়িটা” স্বাভাবিকভাবে অসস্থি লাগার কথা! ততক্ষনে আমি শেরোয়ানি খুলে একটা গেঞ্জি গায়ে দিলাম!! মেয়েটি সবকিছু আয়নার সামনে রাখলো! তারপর ব্যাগ থেকে ড্রেস বড় করে পড়তে যাচ্ছিল….. আমি বললাম এখুনি শাড়ি খুললে কেমন মানাবে! আপনি শাড়িই পড়ে থাকুন তবে আপনি হলুদ শাড়ি পড়তে পাড়েন।
মেয়েটি বুঝতে পারে হলুদ শাড়ি পড়ছিল!! হ্যা হলুদ শাড়ি আমার প্রিয় তবে সেটা সোজাভাবে আমি বলতে পারছিনা। কিভাবে পাড়ব কেমন যেন লাগছে আমার!! সে ফ্রেশ হতে গেলো!! আমি তখন বসেই আছি!! ভাবলাম মেয়েটিকে কিছু খাবার দেওয়া জরুরী। সেই কখন খেয়েছে কে জানে! আর তাছাড়া এমন দিনে কি মানুষ খেতে পাড়ে?? তাই ভাবিকে বলে কিছু খাবার আগেই নিয়ে রেখেছিলাম! সেটায় টেবিলে রেখে দিলাম…… সে আসলে একসাথে খাবো। বা উনি খাবেন আমি পাশে বসে দেখবো।

আসলে সত্যি বলতে রোমাণ্টিকতা বলতে কী বোঝায়, বা রোমান্টিকতা কী আমি বুঝিনা! নাটক সিনেমা দেখে যতটুকু শিখেছি সেগুলা চেষ্ট করতে যেয়েও পারছিনা। তায় স্বাভাবিক হতে চাচ্ছি….. কারণ সবায় তো এক না! কিন্তু স্বাভাবিকতা সবায় গ্রহণ করে তায় আমি স্বাভাবিক হবার চেষ্টায় আছি…..
—-
উনি ফ্রেশ হয়ে রুমে এলো ! এখন উনাকে বেশ সুন্দর লাগছে! মুখে মেকাপ নেই তাই খুব মায়াবী লাগছিল। আমি তাকে বললামঃ-

আমি– আচ্ছা আপনার নিশ্চয় খুধা লেগেছে? প্লিজ খেয়ে নিন আপনি…
মেয়ে– দেখুন আমি বাসা থেকে খেয়ে এসেছি। আর আপনাদের বাড়ি খেতে আসিনি” তাছাড়া এই বিয়েতে আমার কোন মত ছিলোনা। তায় আপনি আমাকে টাচ করবেননা। তাহলে আমি সুইসাইড করব এই বলে রাখলাম।
আমি মূর্তির মতো হজম করলাম!! কতটা শকড হয়েছি লিখা বোঝাতে পাড়ব না। আমি বললাম আপনি না বললেও আমি টাচ করতাম না। আপনি নির্ভয়ে থাকতে পাড়েন। আর কিছু লাগলে আমাকে বলবেন।
এই বলে আমি সোফায় যেয়ে শুয়ে পড়লাম বালিশ নিয়ে!! হয়ত মেয়েটি কেবল একটা মেয়েই আছে আমার বউ হয়ে উঠতে পারেনি। বা আমি আর স্বামি। সে হয়ত অবাক হয়েছে আমি এভাবে মেনে নিবো এসব ভেবে…..!
—–
সে রাতে তেমন আর কথা হয়নি….. আসলে দুজনি ক্লান্ত ছিলাম তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম!! সকালে ঘুম ভেঙ্গে তাকে ডেকে তুললাম…. সে নিজেকে সামলে নিয়ে বললঃ–

বউ- দেখুন আমাদের বিয়ে হয়েছে ঠিকই কিন্তু এই বিয়েতে আমার কোন মত ছিলোনা… তায় আপনার কাছে আমি আমার সতিত্ব ভিক্ষা চাচ্ছি……
আমি– আপনি কী কাউকে ভালোবাসেন??
— হ্যা…. ওর নাম কাব্য।
— তা আপনার বিয়ে হয়ে গেলো কাব্য সাহেব আটকালো না কেন??
— কাব্য বিশেষ কাজে এখন বাইরে আছে। ও এলে আমরা চলে যাবো।
আমি– আপনি তাহসান আর মিথিলার – মিঃ & মিসেস নাটকের মতো করছেন??
— নাটক জীবন থেকে নেওয়া। তবে আমি আবার ফিরে আসবো ভাবলে ভুল করবেন। যায় হোক আমি এইবাড়ি শুধু অভিনয় করব। আপনি কিন্তু কাউকে বলবেন না।
— জ্বী…. তবে আপনি যে ক দিন আছেন। আমার মা’কে দেখে রাখবেন, তাহলে আর কিছুই চাই না আপনার কাছে।
— চেষ্টা করব।
—-
আমি জীবনে কষ্ট পায়নি। কষ্ট কী জিনিস আমি জানিনা। আসলে ছোটবেলা থেকেই আমি একা থেকে অভ্যস্থ। আর বাবা মা আমাকে কখনওই কারও সাথে মিশিতে দেয়নি। তায় কষ্ট কী জিনিস আমি বুঝিনি। তবে কষ্ট পেলে বুকটা চেপে আসে। এই প্রথম অনুভব করছি। কষ্ট পেলে মানুষ কাঁদতে পারেনা। দুঃখ পেলে কাদে। চোখের জ্বল মাঝেমাঝে মানুষের সাথে বেঈমানি করে। ডাকলেও সে সাড়া দেয়না…….. কষ্ট ব্যাপার টা আসলেই খুব কঠিন। মানুষ এটা সহজে গ্রহণ করতে পারেনা…….! আমার যেন ঠিক তেমন হয়েছে……..।
—–
দুপুরবেলা খেয়ে দেয়ে বসে আছি রুমে। আমাদের রুমে তেমন কেউ আসেনা। সদস্য খুব কম। ভাইয়া- ভাবি, বাবা-মা, আমি আর — আমার মায়া। মায়া কী সত্যিই আমার বউ?? বসেবসে ভাবছিলাম অনেককিছু। তখন ফিল করলাম আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ছে…. এ অশ্রুকণা আমার বালিশের উপর এসে জমা হচ্ছে……! আসলে জীবনে আমি কল্পনাও করিনি আমার সাথে এমন হবে…….! কাউকে ভালোবাসিনি তাকে হারাব ভেবে। আর হারালে কষ্ট সহ্য করতে পারবোনা ভেবে। তবে আজ কেন আমার সাথে এমন হলো?? আমি তো কাউকে ঠকায় নি। আমি তো কাউকে কষ্ট, প্রতারণা করিনি। আমার সাথে কেন এমন হলো। এসব ভাবতে বসে দেখলাম আমি কেঁদে দিয়েছি। কাঁদলে ছেলেরা অনেক দূর্বল হয়ে যায়। একটা ছেলে কখনওই কাঁদতে পারেনা। ঠিক তখন কাদে যখন সে দুনিয়ার সবথেকে নির্মন সত্যের কাছে এসে দারায়। আসলে রিলেশন থাকতেই পারে, কাউকে ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু তাকে বিয়ে করতে না পারলে যে দুজনের জীবন নষ্ট হয়ে যায় সেসব কী আমরা খেয়াল করেছি?
;–
অভিযোগ ব্যাপার টা আমার কখনও ছিলোনা। কেন করব? কাকে করব?? আমি সবসময় মানিয়ে নিতে চেষ্টা করি। প্রথম যৌবনে আমি খুব রাগী ছিলাম। কিন্তু ২৫ বছর এর পরে এসে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শিখেছি। তায় চোখ মুছে ফ্রেশ হতে গেলাম…. হঠাৎ দেখি মায়া আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। কোন ছেলে কাঁদলে নারী জাতী তা ধরতে পারবেই। বিধাতার দেওয়া এটা এক বিশেষ গুণ। মায়া বুঝলো আমি কেঁদেছি। কিন্তু কেউ কিছু বুললাম না…….!!

আগে আমি প্রতিদিন বিকালে হাটতে যেতাম। বা বাসার সামনে বসে থাকতাম। প্রকৃতি আমার খুব ভালোলাগে। কিন্তু এই ক’দিনে আর তেমন বেড় হয়নি। অনেকে ভাবছে নতুন বিয়ে করছি তায় বেড় হচ্ছিনা… বা অনেক কিছুই ভেবেছে আসলে ব্যাপার টা কী সেটা কী কেউ জানে?? বিকালে বসেই আছি ছাদে……
অনেকদিন ডাইরি লিখিনা! তায় চেষ্টা করছিলাম লিখতে!! অনেক কথারা জমা পড়ে আছে, আমি লিখতে বসলাম। কথারা ডানা মেলে আমার ডাইরির পাতায় এসে পড়তে লাগলো। তবে বিশেষ মায়াকে নিয়েই লিখছিলাম!! আমার কিছু ব্যক্তিগত চাওয়া ছিলো, ছেলেদের যা থাকে আর কি। কিন্থ মায়া সেসব জানেনা। বা আমিও জানাতে চাই নাম। তায় ডাইরিতে লিখতে বসেছি। কারণ আমি চাই না মায়া এসব জানুক। মায়ার মনে এসব নিয়ে কোন অনুভূতি আসুক। তখন গোধূলি পেড়িয়ে সন্ধার কাছাকাছি। মন টা বিষণ্ণ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি…. মায়া এসে বললঃ- আম্মু আপনাকে ডাকছে….
আমি– জ্বী বলুন, আসছি।
এই বলে নিচে গেলাম… আম্মা বলছিল দোকান থেকে কিছু সব্জি কিনে আনতে। আব্বু মাত্র ফিরলেন উনি যেতে পারবেননা হয়ত। আমিও চলে গেলাম…. যাবার পথে অনেকে খুঁচা দিচ্ছিল। নতুন বিয়ে করেছি ঘর থেকে বেড় হচ্ছিনা কেন!! বউ রেখে আসতে মন চাই না! কবে বউ দেখাবো এসব নানান কথা…..! আমি সেসব কথায় কান দিলাম না! কারণ এসব কথায় কান দিলে কেবল খারাপ লাগবে এর বাইরে আর কী?? বাজার শেষ করে রুমে এলাম…. আম্মার হাতে ব্যাগ টা দিলাম। তখন রুমে শুয়ে টিভি দেখছি….

আম্মা– আচ্ছা মেঘ বাবা তোর কী হয়েছে বলবি আমাকে??
— কিছুনা আম্মু….
— আমি তোর মা, আমি সববুঝি! বল আমাকে কী হয়েছে…..
— কিছুনা আম্মু, তুমি শুধু চিন্তা করছ…. যাও তো মায়া একা কাজ করছে তুমি ওকে দেখিয়ে দাও…
আম্মা- তুই মিথ্যা বলতে পারিস না, কেন মিথ্যা বলতে যাস…. চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন দেখিস। আল্লাহ্ তোকে মঙ্গল করবেন।
——–
আম্মা এসব বলে চলে গেলো…… আমিও আম্মার দিকে তাকিয়েছিলাম…. আম্মার যাবার কিছুক্ষণ পর বাথরুমে যেয়ে কান্না করছিলাম!! আমি কান্না করলে আমার চোখ লাল হয়ে যায়। সাথে মুখও…. বেড় হবার পর দেখি মায়া আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে…….!! এখনো কিছুই বললাম না……!!

রাতে দুজন শুয়ে আছি…
মায়া বিছানায়, আর আমি ফ্লোরে…. মায়া আমাকে বললঃ–

মায়া– একটা কথা বলবো??
— হুম
— আপনি তখন আম্মাকে কী বলেছিলেন??
— কই কিছুই না। আম্মা শুনছিল আমি চুপ ছিলাম। কিন্তু এই প্রশ্ন??
— না আম্মা তখন কিচেনে যেয়ে বলল আপনার কাছে যেতে। বলছিল যে ” স্বামী ছাড়া কোন স্ত্রী চলতে পারেনা, একটা নারীর ঠিকানা তার স্বামী, একটা নারীর সবথেকে আপন তার স্বামী ” এসব কথা…..
আমি– আপনি তখন কী বললেন??
— আপনার কাছে এলাম, তারপর দেখলাম….
— কী দেখলেন….
— থাক কিছুনা…..
— ( দুজনি চুপ)
আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে….. ঘরের বউ যখন অন্যের প্রেমিকা?? তখন একটা ছেলে কিভাবে মেনে নেবে?? পুরুষত্ব?? জ্বী সেটা আমারো ছিলো, কিন্তু যখন কেউ আপনার কাছে তার সতিত্ব চেয়ে নেবে তখন আপনি কী করবেন?? আমি চাইলেই তাকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পাড়তাম কিন্ত করেনি। কারণ আমি মানুষ, কোন পশু নই! তাছাড়া মায়া আমার কাছে আমানত। ঘুম যেন কিছুতেই আসতে চাইছিলোনা……!!

রাত তখন দুইটা… ঘুম আসছিলোনা দেখে জেগে উঠলাম…. হঠাৎ চোখ পড়লো মায়ার উপর। ঘুমালে মেয়েদের এতো মায়াবী লাগে মায়াকে দেখে বুঝলাম!! ওর ঠোট মেহজাবিন এদ মতো, আর টোল পড়ে ঈশিকার মতো, হাসিটা ঠিক যেন নাদিয়ার মতো। চুল গুলো অনেক বড়…. তাকিয়েই ছিলাম! ইচ্ছা করছিল ওর গালে একটু হাত বুলিয়ে দেয়। কিন্থ মায়া তো আমার কাছে কাব্যের আমানত। তাকে কীভাবে টাচ করি?? এমন কীভাবে হয় আমার বিয়ে করা বৈধ বউ অন্যকারো প্রেমিকা?? এসব ভাবতে ভাবতে ছাগে গেলাম….. আকাশে তারা গুলো জ্বলজ্বল করছে….. আজকে পূর্ণিমা জানতাম না তো! চাঁদের আলো আমার বরাবরি প্রিয়! তায় চাঁদের আলো দেখেই মুগ্ধ হচ্ছিলাম……! চেহারে গাঁ মেলে দিয়ে বসে ভাবছি অতীত নিয়ে! মানুষের জীবন টা কেমন যেন তায়না??? মানুষ চাইলেই সুখি হতে পারেনা। সুখি হতে হলে তাকে সুখ সহ্য করার ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নিতে হয়। কিন্তু আমি তো দুঃখ বিলাসিনী তায় আমার কোপালে কী সুখ সয়বে?? এসব নিয়ে ভেবেই চলেছি। হাল্কা বাতাস হচ্ছে…. আর বাগান থেকে মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে……….!!
——-

আজকে চাঁদ কে খুব মায়াবী লাগছে…. আমি চাঁদের দিকে তাকিয়েছি তখুনি বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো…. এ তো চাঁদ নয় এ যে আজ রাতে দেখা মায়া…..! আমার খুব ইচ্ছা করছে মায়ার কোলে মাথা রেখে চাঁদ দেখবো আর অনেক গল্প করবো…. খুব ইচ্ছা করছে মায়ার হাত টা শক্ত করে চেপে ধরি…. খুব ইচ্ছা করছে মায়ার সাথে আলিঙ্গনে মেতে উঠি…. ইচ্ছা করছে মায়ার কোপালে ছোট্ট একটা চুমু একে দেই। কিন্তু এটা কী সম্ভব?? মায়া কী আমার? মায়া কী বুঝবে এসব?? মায়া তো অন্যের প্রেমিকা সে কী বুঝবে একজন যুবকের করুণ আর্তনাদ। আমি তাকে বোঝাতে চায় না! আমি চেয়েছিলাম মায়া চলে যাক তার প্রেমিকের কাছে… এরপরে আম্মাকে বুঝিয়ে বলবো আমি আর বিয়ে করব না…. আমার কাছে বিয়ে মানে একজনকে ঘরে তোলা… একজনকে ভালোবাসা ও ভালোরাখা তবে কী অন্যের প্রেমিকার দিকে চোখ?? তায় ভেবেছি এর পরে যাকে বিয়ে করব সেই মেয়ে এমন করবেনা এর গেরান্টি কী?? এসব ভেবেছি মাঝেমাঝে। হয়ত উপরওয়ালা চায় না আমি আমি কারো সাথে থাকি তায় এতোটা কাছাকাছি থেকেও আপন হতে পারলাম না। এক অজানা ভয় আমাকে শঙ্কিত করেছে…. বসেই আছি ছাদে……. আজ সারারাত এখানে বসেই থাকবো……

হঠাৎ মন আবার খারাপ হয়ে গেলো!! মায়াকে বিয়ে করেছি মানেই যে তাকে ভোগ করব এমন না। তাকে তো আমি ভালো করে চিনিই না… জানিই না…. তায় সেসব নিয়ে আর ভাবিনা… তবে মায়ার প্রতি আমার যে এক অজানা টান কাজ করে তা আর বলতে বাকি রাখেনা… মায়ার প্রেমে হয়ত পড়েছি বা পড়িনি। কেন পড়ব? কার প্রেমে পড়ব একটা মেয়ে যার কি’না প্রেমিক আছে তার??
—-
মন খারাপ করে চোখ বুজে বসে আছি চেয়ারে…….!! তখনো চাঁদের আলো আছে। তবে তখনকার মতো উজ্জ্বল না ফিকে হয়ে গেছে। হঠাৎ চোখ মেলতেই দেখি মায়া….

আমি– আরে আপনি এখানে??
মায়া– কেন অন্য কারো আসার কথা ছিলো বুঝি??
— না তা হবে কেন। তবে আপনি তো ঘুমাচ্ছিলেন।
— হুম ঘুমাচ্ছিলাম, ঘুম ভাঙতে দেখি আপনি রুমে নেই। তায় ভাবলাম আপনি হয়ত ছাদে বসে আছেন।
— ওহ… এখানে এসেই বসে আছি ঘুম আসছিলোনা তায়।
— আজও কী কেঁদেছেন??
— চুপ
— তবে আপনি কিন্তু চমৎকার ডাইরি লিখেন।
— আপনি পড়েছেন?? এটা কিন্তু ঠিক না। এটা আমার ব্যক্তিগত।
— স্বামীর সব জিনিসের উপর স্ত্রীর অর্ধেক অধিকার আছে। তায় পড়েছি।
— আপনি কী আমার স্ত্রী??
— হ্যা…..
— স্ত্রী মানে বোঝেন আপনি?? আর দুজন এক ঘরে মিথ্যে অভিনয় করার মানে কী স্ত্রী??
— তাহলে দুজন এক বিছানায় ঘুমানো কী স্ত্রী বলে??
— বিয়ে মানেই কী একটা মেয়ে তার সব বিলিয়ে দিবে নাম না জানা, অচেনা এক ছেলের কাছে?? যাকে ভালো করে চিনিই না তার কাছে??
— আমি কী আপনাকে ভোগ করার ইচ্ছা কখনওই আপনাকে জানিয়েছি…..! বিয়ে মানে কখনওই অন্য কারো প্রেমিকা কে আমানত রাখা নয়……
— বিয়ে মানে একটা মেয়ের সবকিছু লুটেপুটে খাওয়া নয়…..
— তাহলে বিয়ে মানে কী??
— বিয়ে মানে↓↓
@ একজন আরেকজন কে বোঝা….
@ একজনের চাহিদা কে মূল্য দেওয়া
@ সবকিছু দুজন মিলে সামলে নেওয়া।
@ বিয়ে মানে সারাজীবন যার সাথে কাটাবো তাকে বোঝা।
@ বিয়ে মানে একটা পরিবার ছেরে নতুন পরিবারে এসে সবার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য মেয়েটিকে সময় দেওয়া।
@ বিয়ে মানে ভোগ নয় ভাগ করা সবকিছু।
@ বিয়ে মানে দুইটা মানুষ কিন্তু একটা মন হওয়া দরকার।
@ বিয়ে মানে ঐ মানুষ টি কেমন হবে। তার ইচ্ছা, চাহিদা গুলো কেমন এগুলো বোঝার জন্য সময় নেওয়া….
@ স্বামী মানেই একজন ব্যক্তি না একজন ভালো বন্ধুও বটে……
@ তবে আপনি আপনার আমানত ভালোভাবে রেখেছেন আপনি খেয়ানত করেননি তায় আপনি এর জন্য যথাযথ পুরষ্কার পাবেন।
—-
কথাটা শুনে অবাক হলাম….
আমি– তাহলে কী আপনি চলে যাচ্ছেন??
মায়া– কেন তাড়িয়ে দিচ্ছেন বুঝি??
— ধরে রাখার শক্তি কোথায় আমার….
— কেউ যদি থাকতে চায় তাকে রাখবেন আপনি??
— না
— আচ্ছা আপনি কাউকে ভালোবেসেছেন?
— হুম একপাক্ষিক। তবে কখনওই বলা হয়নি। আর বলতে চায়ও না।
— হুম বুঝলাম…. অনেক অভিমান জমে আছে আপনার মনে।
—-
আচ্ছা আপনার কারও কোলে মাথা রেখে চাঁদ দেখতে ইচ্ছা করেনা??
— না
— আচ্ছা আপনার কারো ভেজা চুলের ঘ্রাণ নিতে ইচ্ছা করেনা?
— না
— আচ্ছা আপনার কী হাত ধরার ইচ্ছা জাগেনা??
— না
— তায়, আপনার কী কারও উড়ন্ত চুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করেনা??
— না বললাম তো…
— হুম! আপনার কী কাজল কালো চোখের দিকে তাকাতে, মেহেদী রাঙানো হাতের দিকে তাকাতে, আর নুপুর পরা পায়ের দিকে অবাক হয়ে তাকাতে ইচ্ছা করেনা??
— না আমার সব ইচ্ছা মরে গেছে।
— না মরেনি। আপনি তাকে ইচ্ছা করে মেরে ফেলছেন।
— কেন মারবো না অন্যের আমানত কী আমার ভোগের বস্তু??
— বাব্বাহ খুব পাকাপাকি কথা…..!!
—-
মায়া– চোখ দুটো বন্ধ করবেন একটু…..
আমি– কেন??
— করে দেখুনই না…
— না করব না। আপনি রুমে যান ঘুমান।
— না যাবোনা। চোখ বন্ধ করেন। আর উঠে দারান।
— আচ্ছা এই শেষ ইচ্ছা কিন্তু আপনার…..
— ওকে…..

মায়া জড়িয়ে ধরল আমাকে শক্ত করে!! তারপর বলতে শুরু করলোঃ
” কাব্য নামে কেউ নাই আমার জীবনে! আমি কখনওই প্রেম করিনি। আমি ভেবেছি আমি স্বামী হিসাবে যাকে পাবো তাকে আমার মনের মতো করে পাবো, আমি শুধু তাকে আমার করে পাবো। আর অন্য কারো না। যে শুধু আমাকে ভালোবাসবে। একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য যদি মিথ্যে অভিনয় করে ভুল কিছু করে থাকি তাহলে তুমি আমাকে যে শাস্তি দেবে আমি মাথা পেতে নিবো ( তিশা আপুর মতো কান্না) আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি মেঘ। তোমাকে বুঝতে চেয়েছিলাম। তোমার ভালোবাসার মূল্য দিতে চেয়েছিলাম। আমি তোমাকে ছাড়তে পারবোনা মেঘ। ”

কথা গুলো বলছে আর আমার জামা টা ভিজিয়ে ফেলেছে। জীবনে প্রথম কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে……..! সে আর কেউ না, সে আমার মায়া।
আমি তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললামঃ- এতোটা ভয়ঙ্কর রুপ না নিলেও পারতে……. ভয়ঙ্গক বউ………!
শুনে মায়া হেসে দিলো।
—————————
—————————
( গল্পটি কেমন লাগলো কমেন্টস করে জানাবেন)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ