Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বসন্তের ঝরা ফুলবসন্তের ঝরা ফুল পর্ব-১৫+১৬

বসন্তের ঝরা ফুল পর্ব-১৫+১৬

#বসন্তের_ঝরা_ফুল
#পর্ব_১৫
লেখা #নিলুফা_নাজমিন_নীলা

★★★
গোধূলির আকাশ তখন শেষ লগ্নে। সূর্যের অস্ত্র তখন পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। সুন্দর একটা শীতল বাতাস বইছে, যে বাতাস শরীরকে আরাম দেওয়ার সাথে সাথে মনও শান্ত করতে যথেষ্ট। তবে শিউলির উদাসীন মন কোনোভাবেই শান্ত হচ্ছে না। শিউলি শিমুল গাছের নিচে বসে আছে। এই গাছটা বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই।
​সে অধীরভাবে অপেক্ষা করছে তার শিমুল ভাইয়ের জন্য। লোকটা কাজে গেছে, কখন আসবে শিউলির জানা নেই। কিন্তু সে নিশ্চয়তা ছাড়াই বসে অপেক্ষা করছে যদি সন্ধ্যার আগে ফিরে আসে, তাহলে হয়তো দেখা হয়ে যাবে।

​আজ শিউলির মনটা একদমই ভালো নেই। কলেজ ছুটির পরই তামিমের সাথে দেখা। সে ছেলেটাকে ঠিক বুঝে পায় না। এই তামিম ছেলেটা অন্য কোনো মেয়েকে কখনোই বিরক্ত করে না, একমাত্র শিউলিকে ছাড়া।
​কলেজ থেকে ফেরার পথে শিউলি দেখেছিল তামিম দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তখন প্রতিদিনের মতো ছেলেটার হাতে সিগারেট ছিল না। ছেলেটা একদম ভদ্র ছেলেদের মতোই বলল,
“শিউলি, সত্যিই আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি যদি আমার বেকার, ভণ্ড চরিত্রের জন্য অপছন্দ করো, তাহলে খোদার কসম, আমি সব ছেড়ে দিব। শুধু একবার বলো, ভালোবাসি।”
​শিউলি শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। এতটা শান্ত গলায় কথা বলতে তামিমকে কখনোই দেখেনি শিউলি।
​আজ হঠাৎ শিউলির তামিমের জন্য অন্যরকম সহানুভূতি কাজ করছিল।
আবারও তীব্র বাতাস এসে শিউলির মাথা থেকে ওড়নাটা পড়ে গেল। শিউলির ধ্যান ভাঙল। সে নিজেকে শাসন করল কেন সে তামিমের কথা ভাবছে! সে আবারও তাকাল সেই পথে, যে পথ দিয়ে শিমুলের আসার কথা। তখন মাগরিবের আযান দিবে দিবে অবস্থা। শিউলি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাড়ির দিকে মুখ ফেরাল।
​কয়েক কদম হাঁটার সাথে সাথে পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে আসল এক অচেনা নামে,
“ফুল…!”

​শিউলির পা থেমে গেল। কণ্ঠটা তার চেনা। কিন্তু এই ডাক, ‘ফুল’ এই ডাকে তো কখনোই ডাকেনি! শিউলি তৎক্ষণাৎ পিছু ফিরল। দেখা গেল শিমুল হাসোজ্জ্বল মুখখানা নিয়ে এগিয়ে আসছেন। এতক্ষণের ক্লান্তি শিমুলকে দেখার সাথে সাথে উবে গেল।
​শিউলির মনে হলো, সে আজ অন্যরকম এক শিমুল ভাইকে দেখছে। লোকটার চোখে-মুখে সারাদিনের কাজ করার ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।

​শিমুল শিউলির মুখপানে তাকিয়ে থেকেই প্রশ্ন করল,
“এইহানে কী করস?”

​“অপেক্ষা…”

​“কার লাইগা?”

​“আমার জীবনের সকল অপেক্ষা, সুখ, দুঃখ, আনন্দ, হতাশা, মানসিক শান্তি একমাত্র শিমুল ভাইকে ছাড়া আর কার জন্য অপেক্ষা করব! বলতে পারো কি?” শিউলি শিমুল ভাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল।

​শিমুল চোখে হাসির ঝলক নিয়ে নিচু হয়ে বলল,
“এত্ত সুন্দরী একটা মাইয়া শিমুল গাছের নিচে দাঁড়াইয়া আছে গোধূলি বেলায়। যদি কোনো ভূত-পেত্নী আছর করে তহন?”

​“করলে করুক, তাতে ক্ষতি কী? তবে করবে না। এত সুন্দর আমাদের জোড়া দেখে তারা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইবে।” শিউলি হেসে বলল।
শিউলি আবারও বলল,
“সারাদিন কাজ করেছ, খুব কষ্ট হয়েছে তাই না শিমুল ভাই?”

​শিমুল উদাস ভাবে হাসল। তার চোখে ভালোবাসার এক নীরব স্বীকারোক্তি, যা সারাদিনের ক্লান্তিকে যেন তুচ্ছ করে দেয়।
“আরে না, কিসের কষ্ট? তোর মতো এত সুন্দর মুখের দর্শন হলে কষ্ট থাকে নাকি?”

​শিউলি শিমুল ভাইয়ের কথায় মুচকি হাসল। তার মন ভরে গেল এই সরল প্রশংসায়। শিমুল ভাই বলল,
“গাছের নিচে একটুখানি বসবি?”

শিউলি শিমুল ভাইয়ের কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে, সবুজ ঘাসের নিচে গিয়ে বসে পড়ল।
​শিমুলও শিউলির ঠিক সামনেই বসল। শিমুল নিজ শার্টের বুকপকেট থেকে যত্ন করে মোড়ানো একটি কাগজ বের করে আনল। শিউলির বুক ধুকধুক করছে কী আছে সেই মোড়কের ভেতর?
​শিউলি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “এটা কী শিমুল ভাই?”

​শিমুল শিউলির কথায় উত্তর না দিয়ে, ধীরে ধীরে মোড়কটি খুলল। ভেতরে বেরিয়ে এল রূপালী রঙের ঝুমঝুমে দুটো নতুন নূপুর।
​শিউলি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। মুখ দিয়ে অস্ফুটে বেরিয়ে এল, “নূপুর?”

​শিমুল তার চোখে চোখ রেখে বলল,
“হুম, নূপুর। নূপুর পরতে তো তোর ভীষণ পছন্দ, তাই না? কয়েক দিন ধরেই দেখলাম তোর পায়ে নূপুর নাই। এই সুন্দর চরণ দুটো খালি থাকলে ঠিক মানায় না।”

শিমুল এখন বুঝদার হয়েছে। সে শিউলির ছোট ছোট ইচ্ছেগুলোও মন দিয়ে খেয়াল করে।
শিমুল গভীর আবেশে বলল,
“আমার প্রথম রোজগার শিউলি।আ্যইজ তিনশ টাকা কাম কইরা পাইছি।।হঠাৎ দেখলাম রাস্তার পাশে বিভিন্ন রকম মাইয়াগোর জিনিস লইয়া দোকান বইছে।আমি তো অন্য কিছু জিনিসের নাম জানিনা তাই এই নুপুর জোড়া আনলাম।”

​শিউলির মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। ইদানীং যা ঘটছে, সবই তার কাছে যেন নিছক কাল্পনিক মনে হয়। ভালোবাসার এমন নিবিড় স্পর্শ সে কখনো কল্পনা করেনি।
​শিমুল এবার আরও নরম স্বরে বলল,
“তোর পা দুটা সামনে বাড়া। পরাইয়া দেই নূপুর।”

​শিউলি যেন সম্মোহিতের মতো তার সুন্দর, লাজুক পা দুটি শিমুলের দিকে এগিয়ে দিল। এই প্রথম শিমুল শিউলির পায়ে হাত দিল। এক পবিত্র ভালোবাসার উষ্ণতা অনুভব করল শিউলি।
শিউলি আজ আশ্চর্যের ওপর আশ্চর্য হচ্ছে। এটাও কি হতে পারে?
​শিমুল শিউলির ফর্সা চিকন পা দুটোর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তারপর দৃঢ় হাতে নূপুর দুটো পরিয়ে দিলেন। শিউলির চোখ শিমুল ভাইয়ের দিকেই নিবদ্ধ। নূপুরের ঝুমঝুম শব্দে চারপাশের নীরবতা যেন আরও গভীর হলো।
​শিমুল হেসে বলল, “বাহ্, এহন পা দুইটা পরিপূর্ণ।”

​শিউলিকে দেখে মনে হচ্ছে সে এই পৃথিবীতেই নেই। সে এক প্রাণহীন, চাপা আকাঙ্ক্ষার কণ্ঠে বলল,
“আমি তো পরিপূর্ণ সেদিন হবো, যেদিন তুমি আমার হবে…”
​শিউলির গাল বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে তার অজান্তেই। শিউলির চোখের জল দেখে শিমুল ঘাবড়ে গেল। কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ত…তোর কী হইছে শিউলি? কান্দোস ক্যান?”

​শিউলি দ্রুত নিজের চোখ মুছে নিল। হাসি মুখে বলল,
“কই না তো, কই কান্দি! জানো শিমুল ভাই, আমার যখনই মনে হয় তুমি আমার হচ্ছো, ঠিক তখনই আমার মনে ভয় চলে আসে যে আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলব।”

​শিমুল শিউলির কথার প্রত্যুত্তরে কিছু বলতে পারলেন না।
​হঠাৎ শিউলির নজর গেল শিমুল ভাইয়ের হাতের দিকে। সেই দিকে নজর যেতেই শিউলি চমকে উঠল। কী করুণ অবস্থা হাতের! হাতে কেমন ঘা-য়ের মতো হয়ে গেছে।
​শিউলি চমকে শিমুলের হাত দুটো নিজের হাতে তুলে নিল।
“এসব কেমন করে হলো শিমুল ভাই? এগুলো কী হয়েছে?”

​শিমুল হেসে নিজের হাত দুটো শিউলির থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
“তেমন কিচ্ছু না রে। ওই যে ইট হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে গেলে তো হাতে একটু আঘাত লাগবই। আজ প্রথম দিন তাই এমন হইছে, পরে আর হইব না।”

শিউলির ঠোঁট দুটো অবিরত কাঁপছে। শিউলি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“তোমার আর কাজ করতে হইব না। তুমি আর কাজে যাইবা না।”

​শিমুল এবার সরাসরি শিউলির চোখের দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়, যা এই প্রথম শোনা গেল।
“কাজ না করলে মেম্বার কি তার মাইয়ারে একটা বেকার পোলার হাতে তুইলা দিব?”

​শিউলি আবারও থমকে গেল। তার মানে! তার মানে শিমুল ভাই কাজ করছে একমাত্র আমার জন্যই! যাতে সে আমাকে বিয়ে করতে পারে, আব্বা যাতে ‘বেকার’ বলে আপত্তি জানাতে না পারে!
​এসব চিন্তা মাথায় আসতেই শিউলির মুখে এক স্বর্গীয় হাসি ফুটে উঠল। সে অবিশ্বাসের স্বরে বলল,
“তার মানে… তার মানে তুমি আমারে ভালোবাসো?”

​শিমুল শিউলির কথার উত্তর না দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যেন এই মুহূর্তের তীব্রতা থেকে দু’জনকে বাঁচাতে চাইলেন।
“চল শিউলি। মাগরিবের আযান দিয়া দিব একটু পরই। চল, বাড়িতে যাই।”
​শিউলিও কোনো আপত্তি না করেই উঠে দাঁড়াল। তার মুখে তখন এক নীরব তৃপ্তির হাসি। শিমুল সরাসরি ‘ভালোবাসি’ না বললেও, তার নূপুর, তার পরিশ্রম এবং তার এই কথা সবকিছুই শিউলির কাছে সেই তিনটি শব্দের চেয়ে বেশি দামি।
​দুজন একসাথে হেঁটে চলল। আজ তাদের এই সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী রইল সেই শিমুল গাছ, আর সন্ধ্যা নেমে আসার আবছা আলো।
★★★
শিউলি বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই মাগরিবের আযান প্রতিধ্বনি হতে শোনা গেল। শিউলির আজ ভয় নেই। যখন বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তখন তার আব্বা এবং আম্মা দুজনকেই বলে গিয়েছিল বৃষ্টিদের বাড়ি যাচ্ছে একটা গুরুত্বপূর্ণ নোট আনার জন্য। বৃষ্টিদের বাড়ি তেমন দূরে নয়। আর যাওয়ার সময় দেখেছে মিলি শুয়ে আছে। মেয়েটা সকাল থেকেই কেমন মনমরা হয়ে শুয়ে আছে।
​শিউলি ঘরে ঢোকার আগেই ভেতর থেকে কারো আওয়াজ শুনতে পেল।
​শিউলি ঘরে ঢোকার আগেই উঁকি দিয়ে দেখল ভেতরে বসা সোহাগ। শিউলি চমকে উঠল। এই লোক আজ এই সন্ধ্যার সময় শহর থেকে কেন আসল? কিছুই বুঝতে পারছে না সে। ভেতরে কেমন যেন একটা ভয় ভয় করছে। কে জানে, আবার কী ঝামেলা শুরু হয়!

#চলবে…

#বসন্তের_ঝরা_ফুল
#পর্ব_১৬
লেখা #নিলুফা_নাজমিন_নীলা

★★★
শিউলি নিজের রুমে ঢুকেই দেখল মিলি মেয়েটা নিজের ব্যাগ গুছাচ্ছে। শিউলি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল। মেয়েটাকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না হাত দুটো অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। শিউলি সামনে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“মিলি, তোর কি হয়েছে? ব্যাগ গুছাচ্ছিস কেন?”

​মিলি থামল না। এমন মনে হচ্ছে যেন সে শিউলির কথা শুনতেই পেলো না। শিউলি এবার অধৈর্য হয়ে মিলির হাত ধরে টেনে তার সামনে দাঁড় করাল। মিলির চোখ দুটো ফুলে আছে। অস্বাভাবিক ভাবে লাল হয়ে আছে। ‘মেয়েটা কি কেঁদেছে! তাই হবে হয়তো!’ শিউলি মিলির দুই গালে নিজের দু’হাত রেখে জিজ্ঞেস করল,
“কী হয়েছে তোর? তোর চোখগুলো এমন দেখাচ্ছে কেন?”

​শিউলির কাছ থেকে মিলি নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। এমন ভাবে ছাড়িয়ে নিল, যেন সে শিউলিকে নিজের সামনে দেখতে একদমই পছন্দ করছে না। মিলি আবারও নিজের কাপড় গুছাতে লাগল। শিউলি এবার টান দিয়ে ব্যাগ কেঁড়ে নিয়ে সামান্য রাগি কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“কথা বলছিস না কেন? আর সোহাগ এসেছে, তুই নাকি দুপুরে কল দিয়ে আজই আসতে বললি, তুই শহরে ফিরে যাবি বলে। কী সমস্যা তোর, আমাকে বল!”

মিলি চিৎকার করে উঠল,
“প্লিজ আপু, লিভ মি অ্যালোন।”

​মিলির চিৎকারে শিউলি হালকা কেঁপে উঠল। মিলি মেয়েটা হঠাৎ কেঁদে উঠল। সে বিছানায় ধপ করে বসে মুখে হাত ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠল। শিউলি থমকে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর মিলির পাশে বসে মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে নিল। কারো কান্না দেখলে শিউলির নিজেরই কান্না চলে আসে। কিছুক্ষণ মিলিকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে রাখল, তারপর আবারও একই প্রশ্ন করল,
“কী হয়েছে?”

​মিলি নিজের চোখ মুছে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপু, জানো? আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, ভীষণ।”

শিউলি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। মিলি আবারও বলল, “আপু, ক্ষমা করো। তোমার ডায়রিটা আমি তোমাকে না বলেই পড়ে নিয়েছি।”

​মিলির কথা শুনতেই শিউলির শিরদাঁড়া দাঁড়িয়ে গেল। শিউলির ডায়রিতে শিমুল ভাইকে নিয়ে সকল মনের কথা লেখা। শিউলি তো বুঝতে পেরেছিল আগেই যে মিলি শিমুল ভাইকে ভালোবাসে। মিলি আবারও বলল, তবে এবারের কণ্ঠে মিলির অসহায়তা ভর করল,
“আমি এই পনেরো বছরে স্যাক্রিফাইস করতে শিখে গেছি আপু।”

​শিউলি কিছু বলতে পারল না। চুপ করে তাকিয়ে রইল মিলির দিকে। মিলি আবারও বলল,
“আচ্ছা আপু, আমি যদি তোমাকে বলি যে শিমুল ভাইকে তুমি আমাকে দিয়ে দাও। দিবে তুমি? বলো না আপু, আমাকে দিয়ে দিবে ওই একটা মানুষকে? পারবে তুমি স্যাক্রিফাইস করতে?”

​শিউলির হৃৎস্পন্দন অবধি কেঁপে উঠল। শিমুল ভাইকে কাউকে দিয়ে দিতে কি সে আদৌও পারবে? না, কখনোই পারবে না। শিউলি পাথরের মতো বসে থেকে বাম-ডানে মাথা নাড়াল, যার অর্থ ‘না’।
​মিলি অট্টহাসি হেসে উঠল। সে হাসতে হাসতে বলল,
“দেখছো আপু? তুমি আঠারো বছর হয়েও সামান্য একটা স্যাক্রিফাইস করতে পারছো না, আর আমি মাত্র পনেরো বছরের এক কিশোরী হয়ে আমার বয়ঃসন্ধিকালের প্রথম প্রেমকে মাটি চাপা দিয়ে দিলাম হৃদয়ের মাঝে! তাহলে বলো, আমি জিতে গেলাম না বলো?”

​মিলি হঠাৎ নিজের মাঝে একটা অন্য রকম পরিবর্তন এনে সামনে এগিয়ে এসে বলল,
“তুমি যদি শিমুলকে ভালোবাসো, তাহলে আমার ভাইকেও কেন ঠকাচ্ছো? ভাইয়ার সাথে তো তোমার বিয়ে হবে ক’দিন পর, তখন কী করবে?”

​শিউলি এই ভয়টাই পাচ্ছিল যদি এখন মিলি সবাইকে শিমুল ভাইয়ের ব্যাপারে বলে দেয়, তখন কী হবে! যদি বলে দেয় যে শিউলি শিমুলকে ভালোবাসে, তাহলে যে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল এক মাস পর, সেই বিয়েটা হয়তো আজ রাতেই দিয়ে দিবে। শিউলি অনুনয় করে বলল,
“প্লিজ বোন আমার, কাউকে বলিস না এসব কথা। তোর ভাইয়াকে আমি সব খুলে বলব, তবে তার আগে আমার একটু সময় দরকার।”

​মিলি মুচকি হেসে বলল,
“চিন্তা করো না আপু, বলব না আমি। আমি না হয় না পাওয়ার যন্ত্রণাটাই সহ্য করি। তুমি শিমুল ভাইকে যত্নে রেখো।”
​শিউলি কিছু বলল না, শুধু তাকিয়ে রইল মিলির দিকে।
★★★
রাতে মিলি আর সোহাগকে শহরে যেতে দেওয়া হলো না। কারণ, এতটা দূর রাস্তা রাতে যাওয়া ঠিক না। সকাল সকাল সোহাগরা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আর শিউলি এখন কলেজ যাচ্ছে, সাথে তার বান্ধবী বৃষ্টি। শিউলি মনমরা হয়ে পথ চলছে। শিউলিকে এমন অবস্থা দেখে বৃষ্টি জিজ্ঞেস করল,
“কী হয়েছে তোর?”

​“তেমন কিছু না।”

​বৃষ্টি জেদ করল, “বল না, কী হয়েছে আমাকে?”

​শিউলি ধীর কণ্ঠে বলল,
“সোহাগের সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।”

​বৃষ্টি নিশ্চিত হতে চাইল,
“তোর খালাতো ভাই?”

“হুম।”

“কত তারিখে ঠিক হলো বিয়ে?”

“চৈত্র মাসের ত্রিশ তারিখ।”

​বৃষ্টি শিউলির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“আজ তো ১৫ই চৈত্র। বিয়ের তো বেশি দিন বাকি নেই। বিয়েটা করে নিবি নাকি?”

​শিউলি থমকে দাঁড়িয়ে গেল। বৃষ্টির দিকে পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে বলল,
“কী বলছিস তুই! আমি সোহাগ কেন, কোনো পুরুষকেই নিজের জীবনসঙ্গী করতে পারব না একমাত্র আমার শিমুল ভাই ছাড়া।”

বৃষ্টি শিউলির কাঁধে হাত রেখে বোঝানোর স্বরে বলল,
“সত্যি কথা বলতে হলো, আমার মনে হয় না তুই শিমুলকে পাবি। আর শিমুলও তোকে নিজের করে নিতে পারবে না। আর তোর কি মনে হয়, তোর বাপ মেম্বার হয়ে শিমুলের হাতে তোকে তুলে দিতে রাজি হবে?”

​“কেন রাজি হবে না! শিমুল ভাই এখন টাকা আয় করছে। কাজ করছে।”

​শিউলির কথা শুনে বৃষ্টি হেসে বলল,
“ভালো কথা। কিন্তু তোর কি মনে হয়, তোর বাপ মেম্বার হয়ে একটা গরীব, দিন আনে দিন খায় ছেলের হাতে তোর বিয়ে দিবে?”

​শিউলি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বৃষ্টি যা বলছে, তা একদমই ভুল না। মেম্বার হয়ে কি নিজের মেয়েকে শিমুলের মতো ছেলের হাতে তুলে দেবে?
শিউলি জিজ্ঞেস করল,
“তুই কী বলতে চাস?”

​“আমি বলতে চাচ্ছি, তুই শিমুলকে ভুলে যা।”

​শিউলি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল, বলল,
“কেউ কি নিজের নিশ্বাস নেওয়া ভুলতে পারে? আমি কী করে আমার শিমুল ভাইকে ভুলে যাব? শিমুল ভাই যে আমার জীবনে বসন্তের রঙিন ফুল হয়ে এসেছে!”

​“বসন্তের ফুল সবসময় থাকে না, কখনো না কখনো ঝরে যায়।” বৃষ্টি শিউলির সাথে কথায় ব্যর্থ হয়ে বলল বৃষ্টি।

​তখনি হঠাৎ পেছন থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসল তামিমের।তামিম ছেলেটা শিউলির একদম সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
“মনে আছে তো? আজ তিন দিন হয়ে গেছে। কী সিদ্ধান্ত নিলে?”

​“আমি আগেও বলেছি, আমার সিদ্ধান্ত একই থাকবে। আগেও না করেছি, এখনও না-ই থাকবে।”

​তামিম ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেট ধরিয়ে বলল,
“ঠিক আছে, সুইটহার্ট। এবার যা করার আমি করব।”

​শিউলি আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সেই স্থানে। আবারও দ্রুত পা বাড়াল কলেজের দিকে।
​শিউলি সিদ্ধান্ত নিল শিমুল ভাইকে বিয়ের বিষয়ে জানাতেই হবে। সোহাগের সাথে বিয়ের কথা ছিল বৈশাখ মাসে বিয়ের তারিখ ঠিক হবে, কিন্তু আজ সোহাগের বাবা কল করে ত্রিশ তারিখেই বিয়ের তারিখ ফাইনাল করেছে। শিমুল ভাই বাড়িতে আসতে আসতে সন্ধ্যার পর আসবে। তাই আজ সন্ধ্যার পরই দেখা করতে হবে।
★★★
শিউলি টেবিলে বসে পড়ছে। পড়ার ওপর তার কোনো মনোযোগ নেই। তার মনোযোগ পুরোটাই ইদ্রিস খন্দকার কখন বাড়ি থেকে যাবে, আর সে শিমুল ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যেতে পারবে সেই দিকে। বেশিরভাগ সময়ই ইদ্রিস খন্দকার সন্ধ্যার পরই বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে যান আর বাড়ি ফেরেন দশটা-এগারোটার দিকে। কিন্তু আজ এখনো বাজারে যাননি। তিনি বসে বসে গল্প করছেন।
​অনেকক্ষণ এভাবেই কাটল। ফুলঝুরি এসে বায়না করল যে, তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিক।
​শিউলি ধমক দিয়ে বলল,
“যা, গিয়া আম্মার সাথে ঘুমা। আমার কাছে কী?”

​ফুলঝুরি কেঁদে উঠল, আর চিৎকার করে বলতে লাগল,
“আম্মা, আপা আমারে মারে!”

​শিউলি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল,
“কখন মারলাম আমি? কী মিথ্যাবাদী মেয়েরে বাবা!”
​শিউলি বুঝতে পারল, এই মেয়ে যা বলছে, তাই করতে হবে।
“আয়, ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।”

​শিউলি ফুলঝুরির সাথে শুয়ে ফুলঝুরির ছোট ছোট চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। এতক্ষণে ইদ্রিস খন্দকারও বাজারে চলে গেছে।শিউলি উঠে দেখল, জাবেদা বেগমও ঘুমিয়ে গেছেন।
​এই সুযোগ! শিউলি নিঃশব্দে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসল। সে সোজা চলে গেল শিমুল গাছের তলায়। সে শিমুল ভাইকে বলে রেখেছে সন্ধ্যার পর শিমুল গাছের কাছে আসতে। তার বুকে তখন এক দুরন্ত অস্থিরতা, কারণ হাতে সময় মাত্র পনেরো দিন।শিউলি সেখানে পৌঁছাতেই দেখল
শিমুল বসে আছে গাছের নিচে। শিউলির পদশব্দ পেয়ে শিমুল মাথা তুলে তাকাল। শিমুল উঠে এসে বলল,
“আমারে ক্যান এইহানে আসতে কইলি?”

​“কেন, তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো আমার সাথে দেখা করে? যদি তাই হয়, তাহলে চলে যাও।”
শিউলি অভিমানী স্বরে বলল।

​“আরে না, বিরক্ত হমু ক্যান? কোনো কারণ তো থাকার কথা আমার লগে দেখা করনের। কী কারণ?”

​“তোমাকে দেখার তৃষ্ণা পায় যে আমার সর্বক্ষণ।” শিউলি শিমুল ভাইয়ের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকাল।

​শিমুল বলল, “এত তৃষ্ণা ভালা না।”

​শিউলি সহসা বলে উঠল,
“তোমাকে দেখার তৃষ্ণায় আমার মৃত্যু হোক, তবুও সেই তৃষ্ণা এই জীবনে না মিটুক।”

​শিমুল আর কথা বলার জন্য জায়গা পেল না। চুপ করে চেয়ে রইল। শিউলি আবারও বলে উঠল,
“শিমুল ভাই, তোমার থেকে একটা স্বীকারোক্তি নিতে এসেছি। তোমার স্বীকারোক্তির উপর নির্ভর করবে আমার জীবন, অথবা আজই হবে তোমার-আমার শেষ দেখা।”

​শিমুল চুপ করে তাকিয়ে রইল। শিমুল বুঝে উঠতে পারছে না, কী এমন স্বীকারোক্তি।
​শিউলি শিমুল ভাইয়ের চোখের দিকে দৃষ্টিপাত করল। শিউলির মনে হয়, এই লোকটার চোখে ভিন্ন কিছু আছে, যার ফলে তার মনে হয় যে এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র তার শিমুল ভাই ছাড়া কেউ নেই।
​শিউলি বলে উঠল,
“শিমুল ভাই, তুমি আমারে ভালোবাসো না কেন? আমারে কেন তুমি ভালোবেসে নিজের বুকে আগলিয়ে নাও না?”

​শিউলির কণ্ঠ কাঁপছে। চোখে পানি টলমল করছে।​শিমুল ভাই তখনও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে, একটা পাথরের মূর্তির মতো। শিউলি শিমুলকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
“আমারে ভালোবাসো না, তাই তো? আচ্ছা, প্রয়োজন নাই তোমার ভালোবাসা। যেদিন আমি অন্যের বউ হয়ে তোমার সামনে দিয়ে চলে যাব, সেদিন বুঝবা তুমি কী হারাইছো।তারপর কাঁদতে কাঁদতে মমতাজের গান গাইবা। ”

​শিউলি বাড়ির উদ্দেশ্যে মুখ ঘুরিয়ে হাঁটা শুরু করল। হঠাৎ পেছন থেকে শিমুল ভাইয়ের কণ্ঠ শোনা গেল,
“পৃথিবীতে এতো মানুষ থাকার পরও আমার শুধু তোরেই লাগবো, এর থাইকা আর বড় স্বীকারোক্তি কী হইতে পারে?”

​শিউলি থমকে দাঁড়িয়ে গেল। যেন সে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। শিউলি ততক্ষণাৎ পেছন ফিরে তাকাল। সে বলে উঠল,
“সত্যি, তুমি আমারে ভালোবাসো?”

শিমুল এগিয়ে আসলো।একদম শিউলির সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
​“ভালোবাসি কিনা, জানি না। শুধু এইটুকু জানি, তোরে ছাড়া আমার একটা জীবন পার করা সম্ভব না। বসন্তের হিমেল হাওয়ার মতন তোরে আমার লাগব।ফুল ছাড়া যেমন বসন্তকাল অসম্পূর্ণ তেমনি শিউলি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। ”

​শিউলির মুখে অমায়িক হাসি ফুটে উঠল। শিমুল ভাইয়ের মুখ থেকে এই কথাগুলো শোনার জন্য কতগুলো বছর অপেক্ষা করতে হলো! ইচ্ছে হচ্ছে শিমুল ভাইকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু এখন ধরা যাবে না। একবারে বিয়ের পর শিমুল ভাইয়ের বুকে মাথা রাখবে বলে পণ করল শিউলি।

#চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ