Saturday, June 27, 2026







শরতের কাশফুল পর্ব-১২

#শরতের_কাশফুল
#লেখনীতে_মাহ্জাবীন
#পর্ব_১২(১)

“আমি আজকে গার্ড দিতে পারবো না! অন্য কাউকে পাঠাও!”

গরগর আওয়াজ তুলে রুক্ষ স্বরে বললো নক্ষত্র।
দুই ভ্রু জোড়ার মাঝে সামান্য ভাঁজ পড়লো মুহূর্তের। সামনে দাঁড়ানো দুই হাইব্রিডার্সকে কিয়ৎক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলো সে।
নক্ষত্র এবং সাম্য, এই দুজনের ডিউটি পড়েছে আজ স্বর্গভূমির মূল ফটকে। দুজনকেই বেশ বিচলিত দেখাচ্ছে। মুহূর্ত এর কারণ উদ্ধার করতে ব্যর্থ। গেটে হেটার্স গ্রুপ বিক্ষোভ প্রদর্শনে সবসময়ই ভীড় জমিয়ে রাখে। সেটা নতুন কিছু নয়। সেসবে ভয় পাওয়ার তো কথা নয় এদের!

“কেন? কি হয়েছে?”

মুহূর্তের প্রশ্নে বারকয়েক চোখের পলক ফেলে নক্ষত্র তাকায় সাম্যের দিকে। সাম্য কাঁধ ঝাঁকায় সামান্য। নক্ষত্র কিছু বলার জন্যে মুখ খুললেও, কোন শব্দ বের করতে পারে না। চোখমুখ কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে সে শেষমেষ বলে,

“তুমি নিজে গিয়ে দেখো।”

মুহূর্ত দুজনের দিকে তাকিয়ে রয় কিছুক্ষন। কি হয়েছে, বা হতে পারে সেটা আদো আন্দাজ করতে পারে না সে। হাফ ছেড়ে পিছিয়ে গিয়ে মুহূর্ত হেলমেট পরে উঠে যায় ওয়াচ টাওয়ারে। কি হয়েছে সেটা স্বচক্ষে দেখতে। প্রথম সেকেন্ড খানেক অস্বাভাবিক কিছুই নজরে আসে না তার। বরাবরের মতই হাইব্রিডার্সদের বিরোধীরা গেটের সীমানা পেরিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করছে। প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন বানিয়ে প্রদর্শন করছে নিজেদের বিরোধিতা। হাইব্রিডার্সদের উৎখাত ও নির্মূল চায় তারা। তাদের মতে এই অর্ধমানবদের জায়গা দিয়ে পবিত্র ভূমি নোংরা করছে সরকার। HFT-এর পাঁচ ছয়জন সশস্ত্র অফিসার ছড়িয়ে ছিটিয়ে গার্ড দিচ্ছে স্বর্গভূমির প্রবেশপথ ও তার আশপাশটা।

“Hey!!!!! Hybrid guy!!!!!”

বিক্ষোভকারীদের থেকে কিছুটা দূরত্বে দাঁড়ানো একটা মেয়ে চেচিয়ে উঠলো হঠাৎ। তার আওয়াজ শুনে অন্যদের দৃষ্টিও এসে পড়লো মুহূর্তের উপর। মুহূর্ত এবার লক্ষ্য করলো, বেশ কিছু বিদেশী মেয়েদের ব্যাগপত্র সমেত দেখা যাচ্ছে একপাশে। ওদের হাতেও প্ল্যাকার্ড, ব্যানার দেখা যাচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীদের থেকে ভিন্ন লেখা সেসবে। ‘Marry Me!’, ‘I wanna be a Hybrid Bride!’ এধরনের লেখার সাথে কিছু আপত্তিজনক লেখাও দেখা যাচ্ছে ব্যানারগুলোতে।
মুহূর্ত বুঝলো, এরা হাইব্রিডার্সদের সমর্থক গ্রুপ। এখানে এধরনের ব্যানার নিয়ে মেয়েগুলো কেন দাঁড়িয়ে আছে, সেটা তার বোধগম্য হলো পরবর্তী সেকেন্ডে। মেয়েগুলো তার উপস্থিতি টের পেয়ে জোরে জোরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলো।

“সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি! কোথায় ছিলে তুমি?”

“গাইস! যেমনটা তোমরা দেখতে পারছো, আমি এসে গেছি স্বর্গভূমিতে! খুব শীঘ্রই ভেতরে যাবো আমি। আর তারপর তোমরা দেখবে আমার গ্র্যান্ড ওয়েডিং! দেখা যাক, কে হয় সেই লাকি হাইব্রিডার্স, যে আমাকে বিয়ে করবে! আমার বিয়ে লাইভ দেখতে চাও কে কে, কমেন্টে জানাও এক্ষুনি!”

“এই! এই তাকাও! তাকাও আমার দিকে! আমি তোমার জন্যই তো এসেছি বেবী!”

“বেবী ওদের গেট খুলতে বলো না! আমাকে তোমার কাছে আসতে তো দাও!”

মেয়েগুলোর অবস্থা দেখে চক্ষু চড়কগাছ মুহূর্তের। একজন তো সোজা বক্ষবন্ধনী খুলে তার দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চালাচ্ছে। মুহূর্তের কান গরম হয়ে আসে। সে আর দাঁড়ায় না উপরে। অবিলম্বে নেমে আসে ওয়াচ টাওয়ার থেকে। নীচে নেমে এসে নক্ষত্র ও সাম্যকে জিজ্ঞেস করে,

“কখন থেকে শুরু হয়েছে এসব?”

“ঘন্টা তিনেক হবে। আমাদেরকে দেখলেই চিৎকার চেঁচামেচি করছে।”

“ভালোই তো। ঘোস্টকে দেখে সবার আফসোস হচ্ছিল না? এবার ঠেলা সামলাও।”

কিছুটা কৌতুকের ছলে বলে উঠলো মুহূর্ত। অনামিকা ও ঘোস্টের বিয়ের কথা প্রকাশ পাবার পর থেকেই অনলাইনে হাইব্রিডার্সদের বিয়ে করার ফ্যান্টাসি ছড়িয়ে পড়েছে একদল মেয়েদের মধ্যে। প্রথমে এটা ছিল শুধুই প্রশংসা থেকে উৎপত্ত চিন্তাধারা। ঘোস্টের অনামিকাকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিপন্ন করা মন ছুঁয়েছিল সবার। কিন্তু এখন এই চিন্তাধারা বিকট রূপ ধারণ করেছে। কিছু মেয়েরা এখন নিজেদের হাইব্রিডার্সদের ফ্যান দাবি করে উল্টো পাল্টা সব ফ্যান্টাসি প্রকাশ করে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেটে।

“সর্বনাশ!”

মুহূর্তের কথা শুনে হঠাৎ করে কিছু একটা মনে পরে নক্ষত্রের। আতঙ্কে ফ্যাকাশে হয়ে আসে তার চেহারা।

“আবার কি হলো?”

“হলো না, হয়ে গেছে!”

“কি?”

“ঘোস্টের বিয়ের পর আমিও একটা বউয়ের জন্যে আবেদন করেছিলাম! এখন যদি স্বাধীন আমাকে এখান থেকে একটা ধরিয়ে দেয়?!”

“ভালোই তো হবে। মেয়েরা রেডি, তোমারও রেডি। একটা বেছে নিয়ে বাড়ি চলে যাও।”

“অসম্ভব!”

জোরালো কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়ে উল্টো ঘুরে দৌড়াতে শুরু করে নক্ষত্র। মিনিটখানেকের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায় সে। নির্ঘাত স্বাধীনকে খুঁজে বের করতে গেছে, যাতে আবেদনপত্র ফেরত নিতে পারে।

ঠোঁটের কোণে কৌতুকাত্মক হাসির রেখা ফুটে উঠলো মুহূর্তের। ঘোস্টের একটা মানুষের মেয়েকে বিয়ে করা নিয়ে হাইব্রিডার্সদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা তর্ক বিতর্ক ও প্রশ্নের। তন্মধ্যে কিছু সমীকরণের উত্তর মিললেও, কিছু রয়ে গেছে এখনো অজানা।
সেই অসমাপ্ত সমীকরণের জের ধরেই ছেলেদের মধ্যে কয়েকজন চেপে ধরেছিল ন্যায়কে যেন তাদের মানুষের মেয়ে এনে দেওয়া হয়। ঘোস্টের মত বিয়ে করতে ইচ্ছুক তারা। দুঃখ ব্যতীত অন্য কিছু তো পাওয়া হয়নি এ অবধি জীবনে। একটু সুখের আশায় একান্ত নিজের বলতে একটা মানুষকে পাওয়ার লোভ জেঁকে ধরেছিল তাদের। কি যত্ন করে মেয়েটা ঘোস্টকে! এরকম একটা বউ থাকলে বাকি জীবনটা মন্দ কাটবেনা। সেই ভাবনা থেকেই বিয়ের চিন্তা ভাবনা উকি দিয়েছিল মনে। তবে মেয়ে পাবে কোথায়? হাইব্রিডার্স মেয়েদের তো ধারে কাছে ঘেষাও কঠিন। তাই মানুষের মেয়ে এনে দেবার বায়না ধরে তারা।

অযৌক্তিক হোক বা না হোক, দাবি যেহেতু জানানো হয়েছে, কিছু পদক্ষেপ তো নিতেই হতো। সেজন্যেই ন্যায় সবাইকে বলেছিল, ‘বউ চাই’ বলে আবেদনপত্র দাখিল করতে। আগ্রহী মেয়ে পেলে জানানো হবে। মানুষদের মেয়ে তো আর অনলাইনে অর্ডার দিলেই এসে পরবে না! অন্তত ন্যায় তেমনটাই ভেবেছিল।

“এখন কি করবো? এভাবে কি গার্ড দেওয়া যায়?”

নক্ষত্র যাবার পর জিজ্ঞেস করে সাম্য। মানুষের মেয়েদের অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি দেখতে মোটেও ভালো লাগছে না তাদের। বিরক্ত হচ্ছে তারা। সেজন্যেই মুহূর্তকে ডেকে আনা। আক্রোশকে তো পাওয়াই যায় না আজকাল। আর গেলেও এমন বাজে মেজাজে থাকে যে, কথা বলাই দায়।

“ইগনোর করো এসব। এক কাজ করো, ওয়াচ টাওয়ারে উঠে বসে থাকো। আমি দেখছি কিছু করা যায় কিনা।”

***

স্বর্গভূমির আকাশের রং বদলাচ্ছে। নীল আকাশ এখন নিজেকে অন্ধকারের চাদরে মুড়িয়ে নিয়েছে। অবশ্য, স্বর্গভূমির ছোট্ট একটা জায়গা চেষ্টায় আছে, একঘেয়েমি কাটিয়ে লাল আলোদের মেলা সাজাতে।

হাইব্রিডার্স মেয়েদের হোস্টেল থেকে কিছুটা দূরত্বে, গাছপালায় ঘেরা সরু পথ পেরিয়ে দেখা মেলে এক প্রশস্ত মাঠের। মাঠের একপাশে একটা একতলা বিশিষ্ট ভবন। মাঠের চারপাশে বাড়িটিসহ পাথরের কয়েক ইঞ্চি লম্বা প্রাচীর দেওয়া। সাদা পাথর ও কাঠ দিয়ে নির্মিত বাড়িটি সাধারণত সাপ্লাই এনে রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আজ সেখানে এনে সাজানো হচ্ছে বার্বিকিউ পার্টির সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাড়ির সামনের মাঠে আয়োজিত হচ্ছে পার্টি। খড়কুটো, জ্বালানি কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মাঝারি আকৃতির একটা ফায়ারপিট। এখনো জ্বালানো হয়নি সেটা। সবে তো জায়গাটা সাজানোর চেষ্টা চালাচ্ছে হাইব্রিডার্স মেয়েরা।

বাড়ির উঠানের এক কোণে বড়সড় একটা বার্বিকিউ কর্নার সাজিয়েছে তারা। মাঝখানে রাখা হয়েছে গ্রিল, পাশে ম্যারিনেট করা কাঁচা মাংস, মাছ ও সসেজ। লেবুর রস, তেল, রসুন, আর গোলমরিচের গন্ধ ইতিমধ্যে বাতাসে মৌ মৌ করছে। টেবিলের আরেক পাশে রাখা আছে কাগজের প্লেট, টিস্যু, চাটনি, সালাদ আর ঠান্ডা পানি।
লাল লণ্ঠন, বাহারি রঙের কাগজ ও ফুলের মালা আশেপাশের গাছগুলোতে ঝোলাচ্ছে কয়েকটা মেয়ে। বাড়ির খোলা বারান্দায় একটা মিউজিক সিস্টেম এনে ছেড়ে দিয়েছে রূপ। গানের তালে তালে দুলছে কয়েকজন। চলছে হাসি ঠাট্টা। মিস সু এসে একটা রকিং চেয়ার নিয়ে বসে আছেন ফায়ারপিটের কাছাকাছি। মেয়েদেরকে কয়েকবার বোঝাতে চেয়েছেন, কিভাবে উদযাপন করতে হয় নিউ ইয়ার। তবে সেসবে কান দিচ্ছে না কেউ। ফায়ারপিটে আগুন না ধরিয়ে আগে আগুন জ্বেলেছে গ্রিলে। ইতিমধ্যে ম্যারিনেট করা মাংস উঠিয়ে দিয়েছে তাতে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে অনুপস্থিত হাইব্রিডার্স ছেলেরা। কয়েকজনকে ধরে নিয়ে এসেছেন মিস সু। তবে তাদের অবস্থান এখন দূরের এক কোণায়। পাথরের প্রাচীরের উপর মুরগির বাচ্চার মত লাইন ধরে বসে আছে তারা। কখন কোনদিক দিয়ে পালানো যায় সেই রাস্তা খুঁজছে। আর খুঁজবে নাই বা কেন? একটু নড়াচড়া করলেই কোন না কোন হাইব্রিডার্স মেয়ে এমনভাবে ওদের দিকে তাকাচ্ছে যেন, বড় কোন অপরাধ করে ফেলেছে।

“কানের পর্দা তো ফেটে বেরিয়ে আসবে ভাই! বলো না একটু মিউজিক সিস্টেমটা বন্ধ করতে!”

পাশ থেকে স্বাধীনকে গুতো দিয়ে বললো মুহূর্ত। হাইব্রিডার্স মেয়েদের শ্রবণশক্তি সাধারণ মানুষদের চেয়ে প্রখর। তবে হাইব্রিডার্স ছেলেদের শ্রবণশক্তি তাদের চাইতেও বেশি সংবেদনশীল। মিউজিক সিস্টেমটা মেয়েদের থেকে দূরে রাখলেও, ছেলেদের ওপাশটাতে শব্দরা ঝংকার তুলে কম্পন সৃষ্টি করছে।

“তুমি বলতে পারো না? সব মার খাওয়ার মত কাজগুলো আমাকে ধরিয়ে দাও কেন?”

“আমাকে একটা লেগপিস দিতে বলোনা!”

অন্যপাশ থেকে বলে উঠলো সৌর। চোখদুটো তার আঠার মত লেগে আছে গ্রিলের উপর ঝলসে ওঠা রসালো তাজা মাংসের দিকে। স্বাধীন বিরক্তি নিয়ে একবার তাকালো শুধু। আদো কিছু খেতে পাবে কিনা সন্দেহ! সেখানে এই ছেলে আবার লেগপিসের স্বপ্ন দেখে!

“আর কতক্ষন এভাবে বসে থাকবো? স্বাধীন!”

বিরক্তিতে গরগর করে উঠলো আরেকজন।

“আমি কি সাধে এসেছি! মিস সু জোরাজুরি করলেন বলেই তো!”

“মিস সু নিজেও তো এসে বেশি একটা সুবিধা করতে পারছেন না। ঐ দেখো, ওনাকে কিভাবে ফায়ারপিটের কাছে বসিয়ে রেখেছে!”

“ওনাকে আবার আস্ত মুরগির মত আগুনে পোড়াবে না তো?”

“আরে না! কি বলো এসব!”

“মেয়েদের বিশ্বাস নেই। আমাদেরকে তো মিস সু-ই টেনে এনেছেন। সেই রাগে যদি সত্যি সত্যি আগুনে ফেলে দেয়?”

স্বাধীন আতঙ্কিত দৃষ্টিতে একবার তাকালো মিস সু- র দিকে, তো আরেকবার তাকালো, মেয়েগুলোর দিকে। মিস সু চেয়ারে বসে কাচুমাচু করছেন। মেয়েগুলো আস্ত বাঁদর! ওনার কোন কথা কানেই তুলছে না। অন্যদিকে মেয়েরা নিজেদের মধ্যেই হাসি ঠাট্টায় সময় পার করছে। কিছুক্ষন ভেবে স্বাধীন জোরালোভাবে মাথা নাড়লো। নাহ্! মেয়েগুলো আর যাই হোক মিস সু-কে আগুনে ফেলবে না।

“এখন থেকে বেরোবার কিছু একটা রাস্তা বের করো!”

স্বাধীনকে তাড়া দিয়ে বলে উঠলো আরেকজন। কিন্তু স্বাধীনের মনোযোগ অন্যদিকে। গ্রিলের কাছাকাছি প্রাচীর ঘেঁষে কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। কিছু না, কেউ একজন! আগুনের শিখায় এইতো নেচে উঠলো লেজটা!

“সর্বনাশ!”

“সকাল থেকে এটা আমি দ্বিতীয়বারের মত শুনলাম। কি হয়েছে?”

পাশ থেকে স্বাধীনকে জিজ্ঞেস করলো মুহূর্ত। স্বাধীন মুখে কিছু না বলে ইশারায় দেখতে বললো তাকে। নাহ্! ভুল দেখেনি স্বাধীন। গ্রিলের কাছাকাছি প্রাচীরের আড়ালে বসে লেজ নাড়াচ্ছে লিও।

“ও রেস্ট্রিকটেড জোন থেকে বেরিয়ে এলো কখন?”

ফ্যাকাশে মুখে জানতে চাইলো স্বাধীন। জবাবে মুহূর্ত সেদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই বললো,

“জানি না। রেস্ট্রিকটেড জোনে একা একা হয়ত ভালো লাগছিল না। আমি বলেছিলাম ওকে, আজকে পার্টি হবে। ওর জন্যে ভালো ভালো খাবার আনবো। হয়ত খাবারের লোভে এসেছে।”

মুহূর্ত চট করে একবার চারদিকে নজর বুলিয়ে নিয়ে উঠে দাড়ালো। গ্রিলের কাছে এখন কেউ নেই। মেয়েরা এদিক ওদিক জটলা পাকিয়ে আছে। সামনে দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। চুপিচুপি বাড়ির পেছন দিক দিয়ে ঘুরে গিয়ে ধরতে হবে লিও-কে। স্বাধীনকে ইশারা করে বেরিয়ে গেল সে। তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে, স্বাধীনের সামনে এসে দাড়ালো একটা মেয়ে। শুরু হলো ছেলেদের জেরা করা।
কোথায় গেল মুহূর্ত, কেন গেল, কখন আসবে আবার, কেন আসবে, না আসারই বা কি কারণ, মেয়েরা কি ওদের আসতে বারণ করেছে?

হাইব্রিডার্স ছেলেগুলো যখন সেসবের উত্তর দিতে ব্যস্ত, তখন গ্রিলের দিকে এগিয়ে গেল মম ও হাওয়াই। মমকে আর যেতে দেয়নি হাওয়াই। ঠিক হয়েছে ও আজ হাইব্রিডার্স মেয়েদের সাথেই থাকবে। পাখি শোনার পর আপত্তি করেনি। কাজের প্রেসারে ঘাড় ব্যথা শুরু হয়েছিল পাখির। কোনমতে দেখা দিয়েই ঘোস্টের সাথে বাড়ি ফিরে গেছে সে।

“এগুলো উল্টে দিতে হবে তো! এভাবে রাখলে পুড়ে যাবে।”

বলতে বলতে গ্রিলের উপর রাখা ভেড়ার বড় বড় লেগপিসগুলো উল্টে দিতে লাগলো মম। হাওয়াইও সাহায্য করছে তাকে। তারপর পাশে রাখা বাটি থেকে সস ও লেবুর রস ব্রাশ দিয়ে ভালো করে মেখে দিলো সেগুলোর ঝলসানো মাংসের উপর। অন্যদিকে শিক কাবাবগুলো নামিয়ে টেবিলের উপর রাখলো মম। কোরাল মাছটাও হয়ে গেছে। সেটাকেও নামিয়ে আনলো।

গ্রিল করা আস্ত কোরাল মাছটা টেবিলের উপর রাখতে গিয়ে ভ্রু কুচকে এলো মমর। এইমাত্র যে কাবাবগুলো নামিয়ে এনেছিল, সেগুলো এখন আর নেই। আশে পাশে কোথাও দেখতে পাচ্ছে না সে সেগুলো। প্লেটটা খালি পড়ে আছে।

“মম, এটা মনে হয় হয়ে এসেছে!”

গ্রিলের কাছ থেকে তাকে ডাক দিল হাওয়াই। কাগজের ওয়ান টাইম প্লেট দিয়ে বাতাস করে ধোঁয়া কমাচ্ছে সে। ভেড়ার মাংসে যে ফ্যাট ছিল, সেসব গ্রিলে পরে আশপাশটা ধোঁয়ায় ভরে গেছে। ঠিকমত দেখা যাচ্ছে না কিছু এই ধোঁয়াশায়। চোখজোড়াও জ্বালা করছে তাদের। নাকমুখে রুমাল পেচিয়ে রেখেছে দুজনে।

হাওয়াইয়ের ডাকে এগিয়ে গিয়ে মম গ্রিলের পাশে দাঁড়ালো। গ্লাভস পরা হাত দিয়ে যেইনা সে একটা লেগপিস নামতে যাবে, অমনি তার দৃষ্টি পড়লো গ্রিলের ওপর পাশে। সোনালী হলুদ রঙের তীক্ষ্ম একজোড়া চোখ! ছোট, সরু চেরা দাগের মত চোখের মনি, জ্বলজ্বল করছে অন্ধকারে। আগুনের শিখার প্রতিফলনে আরো ধারালো, হিংস্রাত্মক দেখাচ্ছে চোখদুটো। থমকে তাকিয়ে রইলো মম। বিস্ময়ে মুখ থেকে কোন আওয়াজও বের করতে ভুলে গেল সে। চোখজোড়া নিবদ্ধ মমর উপরেই। ধীরে ধীরে কিছুটা উপরের দিকে উঠে এলো চোখের মালিক। দৃশ্যমান হলো তার চেপ্টা নাক ও সরু ঠোঁট। ঠোঁটজোড়া ফাঁক করে ধারালো দাঁতগুলো বের করলো সে। নিচু স্বরে গর্জন করে উঠলো মমর দিকে তাকিয়ে।

ছিটকে দূরে সরে যাবার চেষ্টা করলো মম। কিন্তু কেঁপে ওঠা পাদুটো একে অপরের সাথে জড়িয়ে গেল। এক ভয়ার্ত চিৎকার বেরিয়ে এলো মমর মুখ থেকে। সময়টাও যেন হঠাৎ থমকে গেল। চোখের সামনে স্পষ্ট হলো জ্বলে ওঠা কয়লা। হাত লেগে উল্টে গেছে গ্রীলটা। ভেতরে থাকা জ্বলন্ত কয়লা এখন শূন্যে।

মাটিতে পড়ে থাকা গরম লোহার শিকটার উপর পড়তে যাচ্ছে মম, আর তার দিকে উপর থেকে ধেয়ে আসছে জ্বলন্ত কয়লার বর্ষণ!

***

চলবে…

#শরতের_কাশফুল
#লেখনীতে_মাহ্জাবীন
#পর্ব_১২(২)

মাটিতে পড়ে থাকা গরম লোহার শিকটার উপর পড়তে যাচ্ছে মম, আর তার দিকে উপর থেকে ধেয়ে আসছে জ্বলন্ত কয়লার বর্ষণ!

ঠিক সেই মুহূর্তেই নিজের শরীরে শক্তপোক্ত একটা টান অনুভব করলো সে। কি হচ্ছে বুঝে ওঠার সময়টাও পেল না মম। ছিটকে কয়েক ফুট দূরে গড়িয়ে পড়লো সে। প্রশস্ত, শক্ত কিছুর সাথে আটকে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে খেতে পাথরের প্রাচীরে গিয়ে ঠেকলো তার পিঠ। এতক্ষণ কিছু ঠাহর করতে না পারলেও, এবারে পিটপিট করে চোখ তুলে তাকিয়ে নিজেকে মুহূর্তের বাহুডোরে আবিষ্কার করলো সে। দুহাতে আগলে রেখেছে সে মমকে নিজের মাঝে। যার দরুন দেয়ালে সরাসরি ধাক্কা খায়নি সে।

“ঠিক আছো তুমি?”

কর্কশ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো মুহূর্ত। চোয়াল শক্ত করে রুক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে। মাথাটা সামান্য নাড়লো মম। ভীষন ভয় পেয়েছে সে। ভয়ে কাঁপছে তার কোমল কায়া। মুহূর্ত ওকে জড়িয়ে ধরে রেখেই উঠে বসলো। ওকে সোজা করে বসিয়ে চেক করতে লাগলো মেয়েটা কোথাও ব্যথা পেয়েছে কিনা।

“আর একটু হলে তো নিজেই গ্রিল হয়ে যেতে! যে কাজ পারো না, সেটা করতে কে বলেছে? আগুনের কাছে গিয়ে কেউ এমন লাফালাফি করে!”

এগিয়ে এসে ঝাঁঝালো গলায় ধমকালো চেরী। তাদের থেকে কিছুটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে পরলো সে। চিন্তিত চোখে পর্যবেক্ষণ করছে সে মমকে।

“আমি…”

মাথা তুলে চেরীর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চাইছিল মম। কিন্তু তার কাঁপা কাঁপা কন্ঠস্বর কারো কানে পৌঁছাবার আগেই ঝট করে উঠে দাড়ালো মুহূর্ত। কর্কশ গলায় গজরাতে গজরাতে মেয়েদের উদ্দেশ্যে বললো,

“তোমাদের কি দরকার ছিল ওকে দিয়ে গ্রীল করানোর? নিজেরা যখন পারবে না, তখন মাতব্বরি করে এসব ঝামেলা করতে গেলে কেন? রেস্টুরেন্টে বলে দিলে তো মানুষরাই সব করে দিয়ে যেত!”

এক সেকেন্ডে থমকে গেল সবাই। বিস্ময় ছড়িয়ে পড়লো বাতাসে। স্বর্গভূমিতে মেয়েদের সাথে আজ অবধি কোন ছেলে এই স্বরে কথা বলেনি। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র একজন। সে ছাড়া কোন হাইব্রিডার্স আজ পর্যন্ত সাহস করেনি মেয়েদের মুখের উপর রুক্ষ স্বরে কথা বলার। আজও সাপে নেউলে সম্পর্ক তার মেয়েদের সাথে। আর সেই বিবাদের সূত্রপাতও হয়েছিল একটা মেয়ের কারনেই। তবে সেই মেয়েটা ছিল একজন হাইব্রিডার্স। ছেলেটার একান্ত আপন, একান্ত আশ্রয়, শুধু তার হয়ে থাকা এক টুকরো পৃথিবী।

কিন্তু মুহূর্ত? সে কেন একটা মানুষের মেয়ের জন্যে এতটা উতলা হচ্ছে, সেটা বিভ্রান্ত করলো সকলকে। লাভলী এগিয়ে এসে দাড়ালো চেরীর পাশে, মুহূর্তের মুখোমুখি। সরু চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো সে মুহূর্তকে,

“কি বললে?”

“কানে শুনতে পাওনি? বলেছি যেটা করার ইচ্ছা রাখো না, সে কাজ শুরু করতে গেলে কেন?”

মুহূর্তের ঝাঁঝালো কণ্ঠের উত্তরে টনক নড়লো স্বাধীনের। লাভলী ও মুহূর্ত দুজনই মুখোমুখি দাঁড়ানো, চোখে চোখ রেখে কথা বলছে, দাঁড়ানোর ভঙ্গিমায় রুক্ষতা স্পষ্ট, চ্যালেঞ্জিং!

“ওকে ধরে বেঁধে কিছু করানো হয়নি। জিজ্ঞেস করেছিলাম। ও পারবে বলাতেই, ওকে করতে দিয়েছি।”

“ওকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনই কেন পরলো? নিজেরা করতে না পারলে শেফদের বলতে। ওকে কেন জড়ালে এসবে?”

অবাক হলো লাভলী। যতটা সে দেখেছে, ছেলেদের মধ্যে মুহূর্ত সবসময় ফুরফুরে মেজাজেই থাকে। সহজে তাকে রাগতে দেখা যায়না। কিন্তু আজ! এই মানুষের মেয়েটার জন্যে হাইব্রিডার্স মেয়েদের উপর চড়ছে সে!

“আসলে ওকে দিয়ে খাটাতে মজা পাচ্ছিলে তোমরা, সেজন্যেই নিজেদের সাথে রাখার বাহানায়, ওকে দিয়ে করাচ্ছিলে সব কাজ, তাই না?”

মুহূর্তের কথার বিপরীতে একটা হিংস্র গর্জন ছাড়লো লাভলী। চোখদুটো তার জ্বলজ্বল করতে শুরু করেছে। সরু হয়ে আসছে চোখের মণি। অবস্থা বেগতিক দেখে স্বাধীন এসে দাড়ালো মুহূর্ত ও লাভলীর মাঝে।

“মুহূর্ত! যা হওয়ার হয়েছে, বাদ দাও।”

“ও একা করছিল না। হাওয়াইও তো ছিল ওর সাথে। এই মানুষের মেয়ে! বলছো না কেন কিছু? বলো, তুমি নিজের ইচ্ছায় করছিলে সব!”

মুহূর্তের পেছনে এখনো প্রাচীরের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে মম। দুরুদুরু করে কাপছে ভেতরটা। নিজেকে স্থির করে উঠতে পারেনি এখনো সে। লাভলী পেছনে তাকিয়ে মমর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেও, মুহূর্ত সেটা করতে দিলো না। চাপা হুংকার ছেড়ে সাবধান করলো সে,

“একদম ওকে ধমকাবে না লাভলী! ভালো হবে না বলে দিলাম!”

“কি করবে তুমি শুনি?
হ্যাঁ! ওকে দিয়ে ইচ্ছে করেই খাটাচ্ছিলাম। তো? মানুষের মেয়েদের প্রতি কি এখন তোমারও দরদ উথলে উঠছে?”

মুহূর্তের দিকে এক কদম এগিয়ে এসে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো লাভলী। মাঝখানে দাঁড়ানো স্বাধীন এবার কড়া গলায় দুজনকেই বললো,

“বন্ধ করো এসব! মুহূর্ত!”

কিন্তু তাতে কাজ হলো না। চোয়াল শক্ত করে গরগর আওয়াজ তুলে পশুসদৃশ স্বরে এরপর মুহূর্ত যেটা জানালো, সেটা ছিল অনেকটা খোলা ময়দানে বাজ পড়ার মত।

“হ্যাঁ, উথলেছে দরদ! ভালোভাবেই উথলেছে। যতটা উথলালে ধমনীতে প্রবাহিত রক্তের গন্ধ বদলে যায়, করো নিঃশ্বাসে মিশে যাওয়া যায়, অস্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে, ঠিক ততটা। এই মেয়েটা আমার! ছোঁবে না ওকে একদম!”

মুহূর্তের দিকে একযোগে তাকিয়ে আছে এখন সবাই। সকলের দৃষ্টিতেই প্রকাশ পাচ্ছে অবিশ্বাস, বিস্ময় ও সন্দেহের ঝিলিক। চারপাশে নেমে এসেছে গাঢ় নীরবতা। কোন কিছু বলা তো দূর, এটুকু শব্দটাও করছে না কেউ। বাতাসও নিজের গতি মন্থর করে নিয়েছে যেন! মুহূর্তের বলা শব্দগুলোর ভার থামিয়ে দিয়েছে তাদের গতিকেও। কারণ সে যা বলছে, সেই শব্দগুলোর গভীরতা শুধু একজন হাইব্রিডার্সই উপলব্ধি করতে সক্ষম। আবেগের বশে বলে ফেলা অর্থহীন শব্দমালা নয় সেটা।

ধমনীতে প্রবাহিত রক্তের গন্ধ বদলে যাওয়া!
নিঃশ্বাসের সাথে মিশে থাকা!
অস্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠা?
মানুষদের কাছে এসবের কোন আক্ষরিক অর্থ না থাকলেও, হাইব্রিডার্সদের কাছে আছে। আর সেই অর্থটার নাম,

অংশীবন্ড সিনড্রোম।

“যা বলছো, ভেবে বলছো তো?”

নীরবতা চিরে থমথমে গলায় জিজ্ঞেস করলো স্বাধীন। একটু দূরত্বে বসা মম হাঁটুতে মুখ গুজে ধীরে ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। ভয় এখনো কাটেনি তার। নিজেকে স্বাভাবিক করতে পারছে না কিছুতেই। এদিকটায় হওয়া কথপোকথনে মনোযোগ নেই তার। আর থাকলেও মুহূর্তের গলার স্বর এতটাই কর্কশ ও রুক্ষ ছিল যে, সে কিছু বুঝে উঠতে পারতো না।

স্বাধীনের প্রশ্নে আড়চোখে একবার তাকালো মুহূর্ত মমর দিকে। তারপর খুব হালকা করে মাথা নেড়ে বোঝালো যে, সে যা বলেছে, বুঝে শুনেই বলেছে।

“কখন?”

একবার চারপাশে নজর বুলায় মুহূর্ত। সবাই কান পেতে আছে উত্তর শোনার অপেক্ষায়। লাভলীসহ হাইব্রিডার্স মেয়েদের চেহারায় এখন ক্রোধের বদলে মিশে আছে কৌতূহল। ধীরস্থির কণ্ঠে নিচু স্বরে মুহূর্ত উত্তর দেয় স্বাধীনকে।

“পাখির বিয়ের সময় ওর ফোনটা কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। তখন মোমোর কল এসেছিল। রিসিভ করে প্রথম ওর আওয়াজ শুনেছিলাম।”

“তখন থেকে?!”

“ঠিক বুঝতে পারিনি। ওকে দেখতে ইচ্ছে করছিল প্রথমে। ভেবেছিলাম কৌতূহল। পাত্তা দেইনি। কিন্তু পাখি বাংলাদেশে যাবার পর হুট করেই অদম্য ইচ্ছা জাগে মনে, একটাবার ওকে দেখার ইচ্ছা। আমি নিজেও বুঝতে পারিনি কি করছিলাম। ঘোস্ট আহত অবস্থায় একা একা কখনোই সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে যেতে পারত না বাংলাদেশে। আমিই নিজ তাগিদে ওকে যেচে সাহায্য করি। মোমোটার জন্যেই।”

“তারপর?”

প্লেনে ওঠার পর থেকেই অস্থিরতা শুরু হয়েছিল তার মধ্যে। ভেতরে ভেতরে ছটফট করছিল সে। মন বলছিল, কিছু একটা হতে চলেছে।
কিন্তু সেসব এইমুহুর্তে সবার সামনে বিস্তারিত প্রকাশ করতে ইচ্ছে করলো না মুহূর্তের। গলার স্বর নামিয়ে রাখায়, স্বাধীন, লাভলী ও চেরী ছাড়া অন্যরা ঠিকঠাক শুনতে না পেলেও, সবার কৌতূহলী দৃষ্টি এড়াতে পারছে না মুহূর্ত।

“তারপর আর কি! গেলাম, দেখলাম, নিয়ে এলাম!”

চোখজোড়া সরু করে তাকালো স্বাধীন। মুহূর্ত যে এবিষয়ে আর কথা এগোতে চাইছে না বুঝতে পারলো সে। কিন্তু ব্যাপারটা এতটাও সহজ না। জটিল প্যাঁচ আছে এখানে। মুহূর্ত না চাইলেও, জবাব তো তাকে দিতেই হবে।
মেয়েগুলোর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে, মুহূর্তকে ইশারায় সরে আসতে বললো সে। দুজনে সবার থেকে আলাদা কিছুটা দূরত্বে গিয়ে দাঁড়ালো। লাভলী পিছু করতে চাইলেও, চেরী কিছু একটা বলায় আর এগোলো না সে। সবার থেকে দূরে এসে, স্বাধীন গম্ভীর মুখে তাকে প্রশ্ন করলো,

“মেয়েটার তরফ থেকে কোন রেসপন্স পেয়েছো?”

মুহূর্ত সরাসরি তাকালো না স্বাধীনের দিকে। সে ভালো করেই জানে, যে পথে সে পা বাড়িয়েছে, সেটা মোটেই মসৃণ হবে না। বহু আঁকাবাঁকা পাথুরে পথ পেরোতে হবে তাকে। স্বর্গভূমির শান্ত সাগরে খুব শীঘ্রই উঠতে চলেছে ঝড়!

“এখনো না।”

“কি করবে এখন? মেয়েটা যদি একই সিনড্রোমে আক্রান্ত না হয়, তখন?”

“এ জন্যেই তো ওকে পটাচ্ছি! ওকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বিয়ে করে রেখে দেবো।”

“তুমি জানো সেটা সম্ভব নয়। তুমি মেয়েটার সাথে কোনরকম জোর জবরদস্তি করতে পারো না। নিয়মবিরুদ্ধ সেটা! ন্যায় কখনোই সেটা সমর্থন করবে না। আর পাখি? পাখি মানবে বলে মনে হয় তোমার?”

মাথা তুলে একটা তপ্ত শ্বাস ছাড়লো মুহূর্ত। তারপর একগাল হেসে স্বাধীনের কাঁধে হাত রেখে সে বললো,

“একমাত্র আমার মোমোটা ছাড়া আর কারো মানা না মানাতে কিচ্ছু আসে যায় না। আর ওকে আমি ঠিক ভুলিয়ে ভালিয়ে রেখে দেব। দেখে নিও!”

“মুহূর্ত…”

“ডাক্তার দেখিয়েছো?”

স্বাধীন আর কিছু বলতে পারার আগেই সেখানে উপস্থিত হয়ে অধীর হয়ে জিজ্ঞেস করে লাভলী। একপলক চোখাচোখি হয়ে যায় মুহূর্ত ও স্বাধীনের মাঝে। মাথা নেড়ে লাভলীর প্রশ্নের না-বোধক উত্তর দেয় মুহূর্ত। বিরক্ত হয় লাভলী। মুহূর্তের মতিগতি একদমই ভালো লাগছে না তার।

“নিয়ম জানো তুমি। রিপোর্ট নিয়ে এসো, তার আগে মানবো না। ততদিন ভুলেও মেয়েটার আশেপাশে ঘেষবে না বলে দিলাম!”

বলতে বলতে পেছনে ঘুরে তাকালো লাভলী। ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে মুহূর্ত দেখলো, মমকে আগলে ধরে ধীরে ধীরে মাঠের বাইরে দাড় করানো একটা জিপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে রূপ। জিপটা লাভলীর। মুহূর্ত বুঝলো, নিশ্চয়ই ওকে নিজেদের হোস্টেলে নিয়ে যাচ্ছে মেয়েগুলো। বুকের ভেতর তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও সেটাকে নিঃশব্দে দমিয়ে রাখলো সে। এতটুকু প্রতিক্রিয়া দেখালো না। সারাদিন দৌড়ঝাঁপের পর একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে মম। মুখটা ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে মেয়েটার। ওর বিশ্রামের দরকার। এ সময় আর ঝামেলা না করাই ভালো। তবে লাভলীর কথাটা চুপচাপ হজম করতেও পারলো না সে। তার মোমোকে নিয়ে সে কি করবে, সেই কৈফিয়ত তো কাউকে দেবে না মুহূর্ত।

“তোমার কথা মানবো কেন? তোমার বাহাদুরি হাইব্রিডার্স মেয়েদের হোস্টেল পর্যন্তই রাখো।”

শান্ত স্বরে, একদম স্বাভাবিকভাবে বলা হলেও, আরেকদফা অবাক হলো লাভলী এবং স্বাধীন। আজকে সম্পূর্ণ অচেনা লাগছে ছেলেটাকে। এই মুহূর্তের সাথে এর আগে সাক্ষাৎ হয়নি তাদের। সরু চোখে কিছুক্ষন তাকে পর্যবেক্ষণ করে লাভলী গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

“তুমি ভুল মেয়েকে বেছে নিয়েছো মুহূর্ত। তুমি ভুলে যাচ্ছো, মেয়েটা HFT- এর ফাউন্ডিং মেম্বার, অনামিকা আহমেদ পাখির বোন। তার উপর স্বর্গভূমিতে ও শুধু কদিনের মেহমান ছাড়া কিছুনা। প্রয়োজনে, ঘন্টাখানেকও লাগবে না তোমাকে বেঁধে রেখে ওকে এখান থেকে বিদায় করতে।”

ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফুটে ওঠে মুহূর্তের। মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় সে। পাশের একটা গাছেই বেশ কয়েকটা লণ্ঠন জ্বলছে। লাল রঙের কাগজে মোড়া লণ্ঠন। ভেতরে মিটিমিটি করে জ্বলছে প্রদীপ। বাতাসের মৃদু ঝাপটায় কেঁপে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। সেদিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকে মুহূর্ত।

“তোমার কথাটা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তুমি ভুলে যাচ্ছো, ও আগে থেকে এখানে ছিল না। ওকে আমি বাইরে থেকেই আমদানি করে এনেছি। আর যেটা একবার পেরেছি, সেটা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ কিংবা বারংবার করার রাস্তাও ঠিক খুঁজে নেব আমি।”

ভ্রু জোড়ার মাঝে ভাঁজ পরে লাভলীর। অন্যদিকে স্বাধীনের ভ্রুদ্বয় কপালে ছুঁয়েছে। পারুক, না পারুক পরের বিষয়। কিন্তু ছেলের কনফিডেন্স আছে!
রেগেমেগে চোয়াল শক্ত করে আরো কিছু কথা তাকে শোনাতে চাইছিল লাভলী। তবে এই বাক বিতণ্ডায় ভাটা পড়ে একটা মেয়ের চিৎকারে।

“হাওয়াই? হাওয়াই কোথায়?”

চিন্তার ভাঁজ মসৃণ হয় না, বরং আরো প্রগাঢ় হয়। এক ঝামেলার সুরাহা হওয়ার আগেই আরেকটা শুরু! দ্রুত ছুটে যায় লাভলী হাওয়াইকে খুঁজতে থাকা মেয়েগুলোর দিকে। মম ও মুহূর্তের দিকে মনোযোগ থাকায় এতক্ষণ কেউ খেয়ালই করেনি হাওয়াইয়ের অনুপস্থিতি। বেশি সময় অবশ্য লাগলো না। মিনিটখানেকের মধ্যেই বাড়ির প্রাচীর ঘেঁষে গাছের আড়ালে পাওয়া গেল হাওয়াইকে। কিন্তু যে পেলো, সে নিশ্চিন্ত হওয়ার বদলে, উল্টো আতঙ্কিত গলায় ডাকলো অন্যদের।

“হাওয়াই? কি করছো তুমি?”

বিভ্রান্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করলো চেরী। গাছের আড়ালে লেজওয়ালা লিও-র কোলে বসে তাকে মাছের কাঁটা বেছে খাইয়ে দিচ্ছে হাওয়াই।

“ওহ্! ও কাটাসহ খাচ্ছিলো! যদি গলায় আটকে যায়? তাই আমি বেছে দিচ্ছি!”

প্রশস্ত হেসে উত্তর দিলো হাওয়াই। চেরীর পেছন থেকে ওদের দিকে উঁকি দিলো স্বাধীন। মুখটা আপনাআপনিই ঈষৎ ফাঁক হয়ে এলো তার সামনের দৃশ্যটি দেখে। মাছের কাঁটা বেছে দু আঙুলের ফাঁকে একটু টুকরো তুলে লিও-র ঠোঁটের সামনে ধরলো হাওয়াই। আর লিও-ও অতি সুবোধ বালকের ন্যায় হা করে সেটা সাদরে গ্রহন করলো। সেটা দেখে খুশি হয়ে হাওয়াই বলে উঠলো,

“দেখো কি কিউট!”

চেরী তখনও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। স্বাধীনের ব্যাপারটা মোটেই হজম হলো না। সে নিশ্চিত হবার জন্যে চেরীকে জিজ্ঞেস করলো,

“কিউট কি আসলেই লিও-কে বললো?”

“আমি ওকে রেখে দেব আমার কাছে! কি কিউট!”

“নাহ্!”
“না!”

একই সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠলো চেরী এবং স্বাধীন। তবে পরক্ষণেই চেরী স্বাধীনকে চোখ রাঙিয়ে বললো,

“না মানে কি? ও চাইলে রেখে দিতেই পারে!”

“সত্যি?”

খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলো হাওয়াই। সেটা দেখে একটু দমে গিয়ে চেরী জানালো,

“না! চাইলে পারো, কিন্তু তুমি চাইবে না। ও রাখার মত জিনিস না।”

“সহমত! ও রাখার মত জিনিস একেবারেই না।”

পাশ থেকে যোগ করলো স্বাধীন। কিন্তু তাদের কথার শেষে শব্দ করে গর্জন ছাড়লো লিও। তারপর হাওয়াইয়ের উদ্দেশ্যে কন্ঠ যথাসম্ভব নমনীয় করে সে বললো,

“তুমি চাইলে আমি থাকবো। অথবা, তুমি আমার সাথে চলো, আমরা একসাথে থাকবো। আমার একটা বাড়ি আছে। অনেক জায়গা ভেতরে। তুমি আরামে থাকতে পারবে।”

“কি বলছে ও!”

সরু চোখে তাকিয়ে চেরী জিজ্ঞেস করলো স্বাধীনকে। স্বাধীন এবার পাল্টা বিপাকে পরে লিওর উদ্দেশ্যে শুধালো,

“কি বলছো তুমি লিও!”

ওদিকে লিওর লেজের দিকে চোখ পড়েছে হাওয়াইয়ের। দুহাতের মাঝে নিয়ে সেটাকে নেড়েচেড়ে দেখছে সে।

“আমি এত সুন্দর লেজ আগে দেখিনি! কি নরম তুলতুলে পশম! তুমি কি লেজে শ্যাম্পু দাও?”

“না, তুমি চাইলে দিতে পারি।”

“আমি দিয়ে দেব?”

কি বলে এই মেয়ে! চেরী চোখ গরম করে তাকালো আবারো স্বাধীনের দিকে।

“স্বাধীন!”

“আমি দিয়ে দেব লিও! সাবান, শ্যাম্পু সব দেব! এদিকে এসো! ছাড়ো ওকে।”

স্বাধীনের কথার বিপরীতে ওকে দাঁত দেখিয়ে ছ্যাত করে উঠে লিও বললো,

“না, তুমি দেবে না! ও দেবে শুধু।”

বলেই হাওয়াইকে নিয়ে উঠে দাড়ালো সে। নিচু হয়ে ঝুঁকে ওকে কাঁধে উঠতে বললো লিও। আর হাওয়াইকে পায় কে! জীবনে কখনো কারো কাঁধে ওঠেনি সে। লিও তাকে কাঁধে নেবে বলতেই লাফিয়ে উঠে গেল মেয়েটা।

“কোথায় নিয়ে যাচ্ছো ওকে লেজওয়ালা লিও! ছাড়ো হাওয়াইকে!”

লাভলীর কর্কশ কন্ঠস্বর ভেসে এলো এবার। একে একে সবাই ভিড় জমিয়েছে এদিকটায়। মেয়েরা ভীতি ও চিন্তা নিয়ে চেয়ে আছে। আর ছেলেদের দেখাচ্ছে বিভ্রান্ত।

“ছাড়ব না! আমি ওকে নিয়ে যাবো আমার সাথে। আমার সাথে থাকবে ও!”

“লিও! ওকে ছেড়ে দাও। তুমি ওকে এভাবে নিয়ে যেতে পারো না।”

“ও আমার!”

“লিও, মেয়েটাকে ছেড়ে দাও। দেখো, কত ভালো ভালো রান্না হচ্ছে! আমরা আছি তো। সবাই একসাথে বসে গল্প করতে করতে খাবো, ঠিকাছে?”

“ছাড়ব না! আমার!”

মুহূর্তের বলাতেও কাজ হলো না। মুখ দিয়ে একটা ‘ফ’ সূচক শব্দ বের করে মুহূর্তকে কিছু একটা ইশারা করলো স্বাধীন। পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত। লিও-র সাথে কয়েকজন মিলেও পেরে উঠবে না ওরা। লিও শুধু নামেই সিংহ নয়, শক্তিতেও তাই। ছিঁড়ে ফুরে কোন অনুশোচনা ছাড়াই মেরে ফেলবে ওদের। আর ভুলবশত যদি হাওয়াইয়ের কোন ক্ষতি হয়! সেই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না কিছুতেই।

“ট্র্যাংকুইলাইজার নিয়ে এসো!”

পেছনে দাঁড়ানো একটা ছেলেকে চাপা স্বরে নির্দেশ দিয়ে আবারও ওকে বোঝাবার চেষ্টা করলো মুহূর্ত।

“লিও, এভাবে একটা মেয়েকে তুমি তুলে নিয়ে যেতে পারোনা। মনে আছে, ন্যায় কি বলেছিল আমাদের? আমরা সবাই মিলে কি ঠিক করেছিলাম? মেয়েরা নমনীয়, কোমল, আবেগতাড়িত। আমাদের কাজ ওদের সুরক্ষিত রাখা, ভয় দেখানো বা আঘাত করা নয়।”

“আমি ওকে আঘাত করবো না, সুরক্ষিত রাখবো!”

কয়েকটা হাইব্রিডার্স ছেলে ওকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করছে। সেটা দেখে ক্ষেপে উঠে আরেকটা হুংকার ছাড়লো লিও।

“ঠিক! ওকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। নামিয়ে দাও ওকে। দেখো, ওর বন্ধুরা ওর জন্যে চিন্তিত।”

“নাহ্! ও আমার!”

“লিও, কথা শোনো। তুমি একাকীত্ব অনুভব করছো, তাই তো? আমরা আছি তোমার সাথে। তুমি আমাদের সাথে হোস্টেলে চলো। সেখানে তুমি অনেক নতুন নতুন বন্ধু পাবে। তোমাকে একা থাকতে হবে না। ওকে ছেড়ে দাও।”

মুহূর্তের কথা শুনে একটু থামলো লিও। নাক কুচকে একটু পরপর বড় বড় শ্বাস টানছে সে। চোখজোড়া ঘোলাটে দেখাচ্ছে, আর সেই সাথে গরগর আওয়াজ তুলছে। একটু সংকোচ নিয়ে সে রুক্ষ স্বরে জানালো,

“ও… ওর সময় শুরু হয়ে গেছে।”

লিওর কথা বুঝতে কিছুটা সময় লাগলো স্বাধীনের। কিন্তু যখন বুঝলো, তখন কলিজার পানি শুকিয়ে এলো তার! জোরে একটা হুংকার ছেড়ে চেঁচিয়ে উঠলো সে।

“ট্র্যাংকুইলাইজারটা কোথায়?! জলদি আনো!”

ট্র্যাংকুইলাইজার মূলত চেতনানাশক। দেখতে গানের মত হলেও, ওতে হাই পাওয়ারের চেতনানাশক ওষুধ ভর্তি থাকে। হাইব্রিডার্সদের উপর যেকোন ধরনের অস্ত্রের প্রয়োগ নিষিদ্ধ। জরুরী পরিস্থিতিতে চেতনানাশক ব্যবহার করা হয় শুধু। কিন্তু সেটা হাতের কাছে নেই এখন। আনতে সময় লাগবে। ততক্ষণ পর্যন্ত লিও-কে আটকে রাখা যাবে বলে মনে হলোনা স্বাধীনের।

“কিসের সময় শুরু হয়েছে? কি বলছে ও?”

বাতাসের প্রবাহ বইছে উল্টোদিকে। অর্থাৎ তারা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেদিক থেকে লিওদের দিকে। যে কারণে হাওয়াইয়ের গায়ের গন্ধ নাকে আসছে না তাদের।

“বুঝতে পারছো না? ওভিউলেশন শুরু হয়েছে মেয়েটার। সেটার গন্ধ পেয়েই ওকে জেঁকে ধরেছে।”

চোখ কপালে উঠলো চেরীর। আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় সে অনুরোধ করে বললো,

“কিছু করো স্বাধীন! ওকে আটকাও!”

এদিকে হাইব্রিডার্স ছেলেরা বেশি একটা সুবিধা করে উঠতে পারলো না। লিও ঠিক হাওয়াইকে নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে গেল সেখান থেকে।

“স্বাধীন!!!”

“যাচ্ছি আমি। রেসকিউ টিমকে এলার্ট করে দিয়েছি। দিয়ে যাব হাওয়াইকে।”

“ঐ লেজওয়ালা লিও যদি ওর কোন ক্ষতি করে…”

“করবে না! আমি কথা দিচ্ছি। মুহূর্ত?”

“আমি যাবো না রেস্ট্রিকটেড জোনে। মুড নেই।”

মুহূর্তের দিকে কয়েক সেকেন্ড সরু চোখে তাকিয়ে থেকে, এরপর একই যেতে লাগলো স্বাধীন রেস্ট্রিকটেড জোনের দিকে। আর বিড়বিড় করতে করতে বললো,

“হাওয়াই! মোমো! পাখি! কিসের মধ্যে আছি আমি! কোন আক্কেলে যে নিজের নাম স্বাধীন রেখেছিলাম! কোথায় আমার স্বাধীনতা?”

***

চলবে….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ