#কবুল_নামা🩷 [অন্তিম পর্ব]
~আফিয়া আফরিন
রাফসানের পেছন পেছন ঘরে ঢুকে নীরু দরজার পাশে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ভেতরটা দুলছিল। রাফসান জানালার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে আলতো করে ঘরের দরজাটা ভেজিয়ে দিল। নীরু ভাবল, রাফসান হয়তো মায়ের মুখে তরকারিতে লবণ বেশি হওয়ার কথা শুনে ওর ওপর রাগ করবে। কিন্তু রাফসান যখন ওর সামনে এসে দাঁড়াল, নীরু দেখল রাফসানের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। রাফসান ভারী গলায় বলল, “মা তোমাকে কী বলছিল?”
নীরু কেঁপে উঠল। শাশুড়ির কঠোর হুঁশিয়ারি আর সংসারের অশান্তির ভয়টা আবারও ওর মনে জেঁকে বসল। কোনোমতে চোখের পলক ফেলে আমতা আমতা করে বলল, “কিছু না তো।”
“মিথ্যা বলো না নীরু।” রাফসানের গলার আওয়াজ আরও একধাপ নেমে গেল, যা ঘরের ভেতরের থমথমে পরিবেশটাকে ভারী করে তুলল।
নীরু কিছু বলল না, অপরাধীর মতো চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। ওর নীরবতা রাফসানের ভেতরের অপরাধবোধ আর চেপে রাখা ক্ষোভকে যেন উসকে দিল। সে নীরুর খুব কাছে এসে দাঁড়াল। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে কড়া সুরে বলল, “কথা বলছ না কেন? মা বাইরে যা যা বলছিল, সবটা আমি নিজের কানে শুনেছি। তারপরেও তুমি আমার কাছে লুকাচ্ছ? কেন নীরু? আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে কিন্তু!”
রাফসানের চড়া আর বিক্ষুব্ধ কণ্ঠস্বর নীরুকে চমকে দিল। মানুষটা সাধারণত এতটা উত্তেজিত হয় না। অন্তত নীরু কখনো দেখেনি। ও ওড়নার খুঁটটা শক্ত করে চেপে ধরল। তারপর শান্ত কণ্ঠে বলল, “এতটুকুতে আপনার ধৈর্য্যর বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে? মা তো প্রতিদিন এসব কথাই বলেন, আজ নতুন করে তো কিছু বলেননি। আপনি আজ শুনেছেন, কিন্তু আমি বিয়ের পর থেকে প্রতিদিন শুনে আসছি। তাই আমার কাছে এখন আর আলাদা কিছু মনে হয় না।”
নীরুর শান্ত অথচ নির্মম সত্য কথাটা তীরের মতো গিয়ে বিঁধল রাফসানের বুকে। সে স্তম্ভিত হয়ে নীরুর দিকে তাকিয়ে রইল। অবিশ্বাস ভরা দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করল, “মা… মা তোমাকে প্রতিদিন এসব বলে?”
নীরু এবার চোখ সরাল না মলিন মুখে বলল, “বলে।”
“আগে বলোনি কেন?” রাফসানের কণ্ঠস্বরে তীব্র আকুলতা ফুটে উঠল।
“মা বলতে মানা করেছিল।” নীরুর ওড়নার খুঁট মোচড়ানোর গতি আরও বেড়ে গেল।
রাফসান নীরুর দুই কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরল। ওর চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে তার অধিকারের সুরে জিজ্ঞেস করল, “তোমার স্বামী কে? আমি, নাকি মা?”
রাফসানের এমন আকস্মিক প্রশ্নে নীরু সম্পূর্ণ হতচকিত গেল, “আপনি!”
“তবে তুমি কার কথা শুনবে? আমার, নাকি মায়ের? কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবে না? আমাদের বিয়ের প্রথম দিন রাতে তোমাকে কী বলেছিলাম, মনে আছে?”
নীরু নিচু স্বরে বলল, “কী?”
“বলেছিলাম না, এই ঘরটা যতটা আমার, ততটা তোমারও? কোনো কিছু নিয়ে মনে ভয় রেখো না? তবে কেন সব মুখ বুজে সহ্য করলে?”
নীরু অবুঝের মতো বলল, “মেয়েদের সবকিছু মানিয়ে নিতে হয়।”
“কে বলেছে তোমাকে?” রাফসান প্রায় চিৎকার করে উঠল।
“মা বলেছে। আমার মা, আপনার মা, আশেপাশের সবাই বলেছে। ছোটবেলা থেকেই তো দেখে আসছি, মেয়েদের মানিয়েই নিতে হয়।”
রাফসান নিজের কপাল চাপড়াল। তীব্র অপরাধবোধ আর অসহায়ত্ব তাকে গ্রাস করল। সে নিজের চুলগুলো মুঠো করে ধরে বলল, “আজ যদি আমি হুট করে না আসতাম, তবে কোনোদিন জানতেই পারতাম না যে আমার মা তোমাকে প্রতিদিন এভাবে বাপের বাড়ি নিয়ে বিষাক্ত কথা শোনায়!”
রাফসান নিজের উপচে পড়া রাগ আর ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বিছানার একপাশে ধপ করে বসল। নিজেকে একটু শান্ত করে নীরুর দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে অনুনয়ের সুর, “তুমি আমাকে সব সত্যিটা বলো। আমি জানতে চাই নীরু, আমার অনুপস্থিতিতে ঠিক কী কী হচ্ছে তোমার সাথে?”
নীরু নির্লিপ্ততায় মাথা নাড়ল। যেন এই অপমানগুলো ওর গা-সহা হয়ে গেছে। শান্ত স্বরে বলল, “বিশেষ কিছু না।”
“তবে?” রাফসান বিছানা থেকে উঠে আবার ওর সামনে এসে দাঁড়াল, “আমার থেকে এভাবে দূরে দূরে থাকার কারণ কী? আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আমার উপস্থিতিটাই পছন্দ করছ না।”
নীরু চোখের পানি আটকে রাখতে পারল না। চোখের বাঁধের সাথে মুখের বাঁধও খুলল, “মা বলেছিলেন… আমি নাকি আপনাকে জাদু করেছি। আপনি প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে আসেন বলে আসা-যাওয়ার খরচের টাকা কি আমার বাপের বাড়ি থেকে দেবে? মা বলেছিলেন আপনার সামনে যেন বেশি না যাই, দূর দূর হয়ে থাকি। আমি যদি আপনাকে সব বলতাম, তবে আপনি হয়ত মায়ের সাথে অশান্তি করতেন নয়ত আমাকে ভুল বুঝতেন। আমি চাইনি আমার জন্য মা আর ছেলের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হোক।”
রাফসানের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। এক লহমায় তার সব ভুল ধারণা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আকুল হয়ে বলল, “পাগলী একটা! মায়ের সাথে ছেলের দূরত্ব হওয়ার ভয়ে তুমি নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিচ্ছিলে? আর খরচের কথা বলছ? আমি তোমায় এক নজর দেখার জন্য, তোমার পাশে থাকার জন্য নিজের উপার্জনের টাকা খরচ করে আসতাম। সেখানে তোমার বাপের বাড়ির কথা কেন আসবে? যে মা আমাকে জন্ম দিয়েছেন, তাকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তিনি আমার স্ত্রীর ওপর অন্যায় করবেন আর আমি মুখ বুজে তা দেখব।” রাফসান থামল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীরুর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “মা আগের যুগের মানুষ নীরু, এতকিছু বোঝে না। প্রাচীনপন্থী চিন্তাভাবনা তার। তাই বলে তুমি মায়ের কথাগুলোই ধ্রুব সত্য ধরে বসে থাকবে? আমাকে একটুও ভরসা করতে পারো না? আমার চেহারা দেখে কি ভরসা করার মতো মানুষ মনে হয় না তোমার? চলো, মায়ের কাছে চলো। তার সাথে আজ আমার কথা আছে।”
নীরু আর দাঁড়াল না। নিজেই এক পা বাড়িয়ে খিলটা খুলে আগে বের হলো। কিন্তু দরজা খুলে বের হতেই চমকে উঠল। মাজেদা বেগম ঘরের দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এতক্ষণ ধরে কান খাড়া করে ভেতরে ছেলে আর বউ কী বলাবলি করছে, সেই কথা শোনার জন্য ওত পাতছিলেন তিনি। বউকে ঘর থেকে বের হতে দেখেই মাজেদা বেগম কোমরে হাত দিয়ে মুখ বিকৃত করে চেঁচিয়ে উঠলেন, “হইছে? শাশুড়ির নামে পোলার কানভারী করা শেষ হইছে? নির্লজ্জ কোনহানকার! ভরদুপুরে ঘরের দোর দেয়! কত বড় সোয়ামী সোহাগী রে আমার!”
তখনই নীরুর পেছন থেকে ঘর থেকে বের হয়ে এল রাফসান। মায়ের কুৎসিত বাক্যবাণ সে আবারও হাতেনাতে ধরে ফেলল। মায়ের অবিন্যস্ত আর কটু কথাগুলো শুনে ভেতরের রক্ত টগবগ করে ফুটলেও সে নিজেকে অসম্ভব দক্ষতায় শান্ত রাখল। এক পা এগিয়ে এসে মায়ের সামনে দাঁড়াল। রাফসান নিরাসক্তি ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, “মা, তুমি দুপুরের খাবার খেয়েছ? শরীর ভালো আছে তোমার?”
মাজেদা বেগম কেমন দমে গেলেন। আমতা আমতা করে বললেন, “হ… হ খাইছি। শরীর তো আগের লাহানই আছে। তা তুই হঠাৎ অফিস কামাই কইরা আইলি যে? শরীর ভালো তো বাজান?”
রাফসান সোফায় বসতে বসতে বলল, “আমার শরীর ভালো আছে মা। তবে তোমার কথাগুলো শুনে মনে হলো তুমি ভালো নেই। এই যে এত রাগ তোমার, তরকারিতে সামান্য লবণ বেশি হওয়া নিয়ে এত চিল্লাচিল্লি; সবটার পেছনে কারণ কি আসলেই লবণ? নাকি অন্য কিছু?”
মাজেদা বেগম ছেলের ঠান্ডা চাল বুঝতে পারলেন না। তিনি ভাবলেন ছেলে হয়তো তার পক্ষই নিচ্ছে। তিনি আবার চড়ে বসলেন, “অন্য কিছু না তো কী! তোর চোখ নাই বাজান? তুই দেখস না কেমন আক্কেলহীন মাইয়া ঘরে আনছি? বিয়ার পর এতদিন পার হয়া গেল, এখনো রান্ধন-বাড়ন ঠিকঠাক শিখল না। আর শিখবই বা কেমনে? বাপের বাড়ি থেকে তো খালি হাতে আলগা গায়ে উইঠা আইছে। একটা খাট-পালঙ্ক, আলমারি কিচ্ছু দেওয়ার মুরোদ নাই বাপের। তোরে তো এক্কেরে পথের ফকির বানায়া ছাইড়া দিল! পোলার শ্বশুরবাড়ির কোনো জিনিস নিয়া যে বুক ফুলায়া চলব, সেই কপাল কি আমার আছে?”
মায়ের কথাগুলো শেষ হতেই রাফসান সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার মুখের শান্ত ভাবটা এবার কেটে গিয়ে ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা চলে এল। সে মায়ের চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে ধারালো গলায় বলল, “মা, আমরা কি ফকির?”
মাজেদা বেগম আকাশ থেকে পড়লেন, “কী কইলি বাজান?”
“আমি জিজ্ঞেস করছি, আমরা কি ফকির? আমাদের কি নিজেদের থাকার ঘর নেই, শোয়ার খাট নেই, নাকি আমাদের তিন বেলা খাওয়ার অন্ন নেই?” রাফসানের গলার আওয়াজ একটু ভারী হলো, “আমি আমার নিজের যোগ্যতায় আমি উপার্জন করি। ঘরে একটা খাট বা আলমারি কেনার সামর্থ্য কি আমার নেই? নীরুর বাবা অনেক কষ্ট করে তার কলিজার টুকরো মেয়েটাকে লালন-পালন করেছেন তারপর আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি সওদা করতে বসেননি যে আমাকে খাট-পালঙ্ক দিয়ে ঘর সাজিয়ে দিতে হবে। একটা খাট আর আলমারির জন্য তুমি প্রতিদিন একটা মেয়েকে ভিখারিদের মতো খোঁটা দেবে? এত লোভ কেন মা তোমার?”
ছেলের মুখ থেকে ‘লোভ’ শব্দটা শুনে মাজেদা বেগমের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি চিরাচরিত অস্ত্র ধরলেন। কান্নার সুরে বললেন, “তোর মুখে এই কথা শুনন লাগল বাজান? বিয়ার কয়দিন যাইতে না যাইতেই তুই মায়েরে লোভী বানাইলি? তোর বউ তোরে ঘরের ভেতর কী মন্ত্র পড়ায়ে দিছে শুনি? ও তোরে কী কী বানায়া বলছে?”
“নীরু আমাকে কিচ্ছু বলেনি মা। ও বরং তোমার কথাই শুনছিল আর মায়ের সাথে ছেলের দূরত্ব হওয়ার ভয়ে সব মুখ বুজে সহ্য করছিল। আমি যা শোনার, বসার ঘর দিয়ে আসার সময় নিজের কানে শুনেছি।”
মাজেদা বেগম এবারও দমে না গিয়ে কেঁদে কেঁদে বললেন, “আমি ঘরে নতুন বউ আনছি। ও যদি ভুল করে, আমি কি ওরে একটু শাসনও করতে পারব না? শাশুড়ি হয়ে এইটুক অধিকারও আমার নাই?”
রাফসান মায়ের সামনে গিয়ে কাঁধে হাত রাখল। বলল, “শাসন আর অপমান সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস, মা। শাসন করা হয় ভালোবেসে, আড়ালে ডেকে ভুলটা শুধরে দেওয়ার জন্য। আর তুমি তরকারিতে লবণ বেশি হওয়ার অজুহাতে ওর বাপের বাড়ির আর্থিক অবস্থা নিয়ে, খাট-পালঙ্ক না দেওয়া নিয়ে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছিলে। এটা শাসন নয় মা, এটা অপমান। একটা মেয়ের আত্মসম্মান চূর্ণ করে দেওয়া শাসন হতে পারে না।”
মাজেদা বেগম ছেলের কথার পিঠে আর কোনো কথা বলতে পারলেন না, মুখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। রাফসান মায়ের হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে নরম গলায় বলল, “মা, তুমি আমার মা। আমাকে কষ্ট করে বড় করেছ, তোমার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আর শোধ করতে চাইও না। এই সংসারে তোমার জায়গা সবার উপরে, তোমাকে আমি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। কিন্তু মা, নীরুও তো এই বাড়ির একটা অংশ। ও নিজের জগৎ, নিজের বাবা-মাকে ছেড়ে আমাদের বিশ্বাস করে এই ঘরে এসেছে। ওর সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু আমারই। তুমি যদি ওকে বাড়ির বউ না ভেবে নিজের মেয়ে মনে করে ভালোবেসে ভুলগুলো শুধরে দিতে, ও কি শুনত না? ওর বাপের বাড়ি যেমনই হোক, ও এখন আমার অর্ধাঙ্গিনী। ওকে ছোট করা মানে আমাকেই ছোট করা, মা।”
মাজেদা বেগম কিন্তু এত সহজে হার স্বীকার করার পাত্রী নন। ছেলের যৌক্তিক কথার পরেও ওনার ভেতরের অহংকারটা চট করে দমে গেল না। তিনি একঝটকায় নিজের হাতটা ছেদের মুঠো থেকে ছাড়িয়ে নিলেন। তারপর নীরুর দিকে বিষাক্ত চোখে তাকিয়ে আক্ষেপের সুরে বললেন, “মিষ্টি মিষ্টি কথা আর কয়দিন? ঢুইকাই তো গেছে বউয়ের আঁচলের তলায়! হায়রে, আমার দুঃখের দিন শুরু হলো!” এই বলে তিনি আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে গজগজ করে ভেতরের ঘরের দিকে চলে গেলেন। তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বসার ঘরে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। নীরু অপরাধবোধে জড়সড় হয়ে রাফসানের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল, “মা কষ্ট পেল।”
“কষ্ট পায়নি, মা বুঝেছে।”
“কথাগুলো না বললেও হতো।”
“হতো, কিন্তু চলত না।”
নীরু আর কথা বাড়াল না। ব্যস্ত হয়ে বলল, “আচ্ছা অনেক তো হলো, আপনার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করি। সেই কখন এসেছেন, হাত-মুখও ধোয়া হয়নি।” কথাটা বলেই মাথায় ঘোমটা টেনে দ্রুত রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। তবে যাওয়ার সময় বুকের ভেতরটা হালকা লাগছিল, অজানা আনন্দে মনটা ভরে উঠছিল। মানুষটা এত ভালো? রাফসান যদি আজ পাশে এসে না দাঁড়াত, তবেও কিন্তু নীরু মনে কষ্ট রাখত না, কিছু মনেই করত না। কারণ ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছে স্বভাবগতভাবেই ছেলেমানুষ এমনই হয়। তুলির স্বামীটাও ওকে কারণে-অকারণে গালমন্দ করে, ভুল বোঝে। এমনকি বাবা-মাকে দেখে এসেছে; বাবা সামান্য কারণে, পান থেকে চুন খসলে মায়ের ওপর রাগারাগি করতে আর মা মুখ বুজে সহ্য করত। সেই চেনা জগতের বাইরে রাফসানের মতো একজন গম্ভীর মানুষ যে নিজের মায়ের মুখের ওপর স্ত্রীর আত্মসম্মানের জন্য এভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারে, এটা নীরুর কল্পনারও অতীত ছিল।
.
রান্নাঘরের কাজ চটপট সেরে রাতের খাবার বেড়ে দিল নীরু। মাজেদা নিজের ঘর থেকে বের হলেন না, খাবার ঘরেই দিয়ে আসা হলো। রাফসান আর নীরু একসাথে বসে রাতের খাবার খেল। খাওয়ার টেবিলে রাফসান খুব স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করলেও নীরুর ভেতরের আড়ষ্টতা আর জড়তা পুরোপুরি কাটেনি। ও এখনো মেপে মেপে পা ফেলছে।
রাত তখন প্রায় দশটা। ঘরের জানালা দিয়ে রাতের ঠান্ডা বাতাস আসছে। নীরু সমস্ত জড়তা আর এক বুক দ্বিধা নিয়ে ঘরে পা রাখল। দেখল, রাফসান বিছানায় বসে একটা বই উল্টেপাল্টে দেখছে। নীরুকে ঢুকতে দেখে বইটা পাশে রেখে সোজা হয়ে বসল। নীরু দরজার কাছে ইতস্তত করে দাঁড়াতেই রাফসান বিছানা থেকে নেমে ধীরপায়ে এগিয়ে এল। কোনো দ্বিধা না রেখে আলতো করে নীরুর নরম হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় পুরল। তারপর টেনে এনে ওকে বিছানার একপাশে বসাল। নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা নীরু করল না।
রাফসান ওর মুখোমুখি বসে শান্ত গলায় বলল, “তোমার সাথে কিছু কথা আছে নীরু।”
নীরু ফিসফিস করে বলল, “হুম…”
রাফসান ওর বসার ভঙ্গি আর আড়ষ্টতা দেখে মৃদু হাসল। বলল, “নীরু! সাধারণ কথাবার্তা বলব, এত আড়ষ্ট হওয়ার কিছু নেই। একটু সহজ হও তো। আমি কি তোমাকে কামড়ে দেব?”
রাফসানের মুখে এমন কথা শুনে নীরু চোখ তুলে তাকাল, পরক্ষণেই আবার চোখ নামিয়ে মৃদু স্বরে বলল, “বলুন।”
রাফসান নীরুর একটা হাত নিজের হাতের তালুতে রেখে আঙুলগুলো ছুঁয়ে বলল, “বিকেলে তুমি মনে মনে ভাবছিলে না, মানুষটা এত ভালো কেন? পুরুষমানুষ তো সাধারণত এমন হয় না!”
নীরু চমকে উঠল। রাফসান ওর মনের কথা এমন নির্ভুল পড়ে ফেলবে, ও ভাবতেই পারেনি। লজ্জায় আর বিস্ময়ে লাল হয়ে গেল। রাফসান হেসে বলল, “নীরু, তুমি বড্ড সহজ-সরল। দুনিয়াটা এখনো পুরোপুরি চেনার আর বোঝার বয়স তোমার হয়নি। তুমি ছোটবেলা থেকে তোমার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দেখে ভেবে নিয়েছ, মেয়েমানুষের জীবন মানেই শুধু মুখ বুজে সব অন্যায় মেনে নেওয়া। কিন্তু শোনো, সব পুরুষ এক রকম হয় না। আর সব পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র মানিয়ে নিতেও হয় না। অন্যায় যেখানে হবে, সেখানে মাঝেমাঝে নিজের অধিকারের জন্য গর্জে উঠতে হয়। অন্তত নিজের আত্মসম্মানটুকু বিলিয়ে দিয়ে কখনো কোনো কিছু মানাবে না।”
নীরু রাফসানের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। এই চোখের ভাষা ও পড়তে পারছে না, কিন্তু কেন যেন শুনতে খুব ভালো লাগছে।
রাফসান একটু ঝুঁকে এসে আহ্লাদী গলায় বলল, “আর তাছাড়া, কার ঘরের বউ তুমি? আমার! আমার অর্ধাঙ্গিনী তুমি! এই ঘরের ওপর, এই মানুষটার ওপর তোমার ষোলো আনা অধিকার। এখন থেকে কোনো অন্যায় দেখলে সবার আগে এই মানুষটাকে এসে নালিশ করবে, মনে থাকবে? নাকি এখনো আমাকে পর ভেবে খাটের শেষ মাথায় পালিয়ে যাবে?”
রাফসানের কথা শুনে নীরুর ফর্সা গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। বুকের ভেতর যে ড্রামটা এতক্ষণ থমকে ছিল, সেটা আবার দ্বিগুণ বেগে বাজতে শুরু করেছে। ও চট করে নিজের হাতটা রাফসানের মুঠো থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দুই হাতের তালুতে মুখ ঢাকল। নীরুর লজ্জা পাওয়া দেখে রাফসান মৃদু হাসল। নীরুর এক হাত মুখ থেকে সরিয়ে নিজের চোখের দিকে তাকাতে বাধ্য করল। তারপর বলল, “তুমি হয়তো ভাবছ আমি বড্ড গম্ভীর, মেপে মেপে কথা বলি। আসলে কী জানো নীরু? আমি গুছিয়ে প্রেম করতে পারি না, ওসব আমার আসে না। সিনেমা-থিয়েটারের মতো সস্তা রোমান্স করা, বানিয়ে বানিয়ে ডায়ালগ মারা; এসবের ধাতে আমি কোনোদিন ছিলাম না। কিন্তু প্রেম জিনিসটা কী আর ভালোবাসাই বা কী, তফাতটা আমি খুব ভালো করে বুঝি। প্রেম সাময়িক, কিন্তু ভালোবাসাটা চিরকালের। আমি হুট করে আসা বসন্তের মতো আসিনি তোমার জীবনে, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।”
রাফসান নীরুর হাতের আঙুলগুলো নিজের আঙুলের ফাঁকে জড়িয়ে নিয়ে আরও বিস্তারিত বলল, “এই যে আমি ঢাকায় একা একা দিন কাটিয়েছি, একটা মুহূর্তের জন্যও তোমার মুখটা আমার চোখের সামনে থেকে সরেনি। ঘরটা আমার কাছে কেবলই ইট-পাথরের দেয়াল মনে হত। ওটাকে একটা সুন্দর ঘর বানানোর মায়াটা তো তোমার ভেতরেই লুকিয়ে আছে, নীরু। আমি ঢাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে তোমার জন্য আসতাম। আমার বউটার জন্য বুকে এক সমুদ্র টান তৈরি হয়েছিল। যার মুখটা এক নজর না দেখলে আমার পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি কাটত না। অথচ তুমি আমাকে দেখলেই পালিয়ে যেতে!”
রাফসানের অকপট ভালোবাসার স্বীকারোক্তি শুনে নীরুর বুকের ভেতরটা তোলপাড় হয়ে গেল। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে আমতা আমতা করে বলল, “ইয়ে… আমি আসলে…”
রাফসান ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে মৃদু হাসল। নীরুর থুতনিটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে সরাসরি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “নীরু, কবুল শব্দটার অর্থ বোঝো?”
রাফসানের এমন আকস্মিক প্রশ্নে নীরু থতমত খেয়ে গেল। বড় বড় চোখ করে রাফসানের দিকে তাকিয়ে রইল, কোনো উত্তর দিতে পারল না।
রাফসান বলতে শুরু করল, “বিয়ের দিন কাজী সাহেব যখন তোমাকে তিনবার কবুল বলাচ্ছিলেন, তখন তা শুধু মুখের শব্দ ছিল? কবুল মানে হলো, আমি আজ থেকে তোমার ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, রাগ-অভিমান সবকিছুকে নিজের করে গ্রহণ করলাম। এর আসল অর্থ হলো স্বীকার করে নেওয়া। শুধু একটা মানুষকে স্বীকার করা নয়, তার সাথে জড়িয়ে থাকা তার চারপাশের পরিস্থিতি, তার আত্মসম্মান, তার অধিকার; সবকিছুকে নিজের জীবনের চেয়েও বড় সত্য বলে মেনে নেওয়া।”
রাফসান থামল। নীরুর চোখের দিকে তাকিয়ে ওর চুলে আঙুল বিলি করতে করতে আবার বলল, “সমাজ তোমাকে যা শিখিয়েছে সেটাই নিয়ম? মেয়েদের শুধু মুখ বুজে সব অন্যায় মেনে নিতে হয়? না নীরু, ওটা হলো দাসত্ব। এর সাথে স্বামী-স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক নেই। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে তিন কবুলে। একটা অলিখিত চুক্তি, যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ঢাল হবে। সমাজ বা চারপাশের মানুষ যখন তোমার দিকে আঙুল তুলবে, তখন তোমার হয়ে লড়ার প্রথম অধিকারটা আমার। তোমার ভয়, জড়তা দূর করে তোমাকে ঘরের রানি বানিয়ে রাখার অধিকারও আমার।”
নীরু কিছু বলল না, শুধু পলকহীন চোখে রাফসানের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ দুটো কান্নায় ছলছল করে উঠল। রাফসান নীরুর চোখের অশ্রুটুকু বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে দিয়ে ম্লান হাসল, “আমি জানি তুমি মুখে কিছু বলবে না, বলতে পারবেও না। কারণ তোমাকে শুধু মুখ বুজে সহ্য করতেই শেখানো হয়েছে, নিজের অধিকার চেয়ে নিতে শেখানো হয়নি। বিয়ের র সময় তোমার কাছে কবুল শব্দটা ছিল অজানা ভয়ের নাম, অচেনা ঘরের খাঁচায় বন্দী হওয়ার দলিল। তুমি শুধু নিজের কপালকে মেনে নিয়েছিলে। কিন্তু আজ… আজ যখন আমি মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে তোমার অপমানের প্রতিবাদ করলাম, তখন তোমার ভেজা চোখ দুটো আমাকে বলে দিচ্ছে যে তুমি মনে মনে আমাকে তোমার স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছ। মুখে না বললেও, তোমার নরম হাতের আঙুলগুলো যেভাবে আমার শার্টের হাতাটা আঁকড়ে ধরেছে, তাতেই আমি আমার কবুল নামা’র জবাব পেয়ে গেছি, নীরু।”
রাফসানের কথায় হুট করে নীরুর সম্বিৎ ফেরে। ও খেয়ালই করেনি যে অবচেতন মনে রাফসানের শার্টের হাতাটা খামচে ধরে রেখেছিল! নিজের কাণ্ড দেখে ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেল। তড়িঘড়ি করে শার্ট থেকে হাত সরিয়ে নিতে নেয়, কিন্তু রাফসান ওকে সেই সুযোগ দিল না। সে চট করে নীরুর হাতটা আরও শক্ত করে নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে বলল, “থাকুক। তুমিও থাকো।”
রাফসানের স্পর্শে নীরুর পুরো শরীর শিউরে উঠল। বুকের ভেতরের ড্রামটা এবার যেন কান ফাটানো আওয়াজে বাজতে শুরু করেছে। ও নিজের হাতটা ছাড়ানোর মৃদু চেষ্টা করে, চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী মাথাটা একদম নিচু করে, গাল দুটো লজ্জায় লাল করে ফিসফিসিয়ে বলল, “ছাড়ুন না… কেউ দেখে ফেললে কী ভাববে! খিলটাও ঠিকঠাক দেওয়া হয়নি।”
রাফসান নীরুর অবুঝ কথায় শব্দ করে হেসে উঠল। ঘরের থমথমে পরিবেশটা তার হাসিতে হালকা হয়ে গেল। সে নীরুর হাতটা না ছেড়েই বলল, “আরে বোকা মেয়ে! মাঝরাতে আমাদের ঘরে কে আসবে শুনি? আর দেখলেই বা কী? নিজের বউয়ের হাত ধরেছি, চুরি তো আর করিনি!”
নীরু আর যুক্তি খুঁজে পেল না। লজ্জায় মুখ লুকানোর জায়গাও খুঁজে পেল না। রাফসান আলতো করে নীরুর মাথায় হাত রেখে বলল, “এবার বলো, আগামী পরশু আমার সাথে ঢাকায় রওনা হচ্ছ তো? নাকি এবারও বলবে, না না?”
নীরু রাফসানের বুকে মুখ গুঁজে রেখে মাথা নেড়ে সায় দিল। ফিসফিস করে বলল, “যাব।”
এরপর সত্যি সত্যি নীরু রাফসানের সাথে ঢাকায় চলে গেল। তবে এই ক’দিনের অভিজ্ঞতায় নীরু একটা জিনিস খুব ভালো করে বুঝে গেছে, ও যদি এই বাড়িতে থেকে যেত তবুও মনে ভয় বা সংশয় কাজ করত না। চারপাশের মানুষের কটু কথা, শাশুড়ির কড়া চাউনি কিংবা তরকারিতে লবণের অজুহাতে খোঁটা দেওয়া; সবকিছুই এখন তুচ্ছ। যেখানে স্বামী পাহাড়ের মতো অটল হয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে দুনিয়ার কোনো ঝড়ই ওকে স্পর্শ করতে পারবে না।
আসলে ওই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাফসানের মায়ের মুখোমুখি হওয়াটা নীরুর জন্য প্রয়োজন ছিল। অন্যায় যে নীরু করেনি, সেটা মায়ের চোখে আঙুল দিয়ে যেমন দেখানোর প্রয়োজন ছিল, ঠিক তেমনি নীরুর ভেতরের আত্মসম্মানবোধটাকে জাগিয়ে তোলার জন্যও এই ঝড়টার দরকার ছিল। এই এক চিলতে ঝড় না এলে হয়তো নীরু কোনোদিনও বুঝত না যে, সংসার মানে কেবল দাসত্ব আর মুখ বুজে সহ্য করা নয়; সংসার মানে একে অপরের পরিপূরক হওয়া, একে অপরের সম্মানের ঢাল হওয়া।
তবে এই মুহূর্তে নীরুর জন্য রাফসানের শহরের ছোট্ট বাসাটায় যাওয়াটাও দরকারি ছিল। যৌথ সংসারের গণ্ডি, সারাক্ষণের পিছুটান আর লোকলজ্জার ভয় থেকে দূরে গিয়ে রাফসানের একান্ত সান্নিধ্য ওর বড্ড প্রয়োজন। যেখানে শুধু শাশুড়ির বউ কিংবা বাপের মেয়ে পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে শ্বাস নিতে পারবে। রাফসানের গম্ভীর রূপের আড়ালে যে এক সমুদ্র ভালোবাসা আর নির্ভরতা লুকিয়ে আছে, তা এই নির্জন বাড়িতে প্রতিটি দিন কাটানোর মাঝে নীরু নতুন করে আবিষ্কার করে। একান্তে থেকে নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগা আর অধিকারের কথাগুলো স্বামীকে মুখ ফুটে বলতে পারছে। ঘরের জানালা খুলে বাইরের আকাশ দেখতে পারছে, লোকলজ্জার ভয় ছাড়াই বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাফসানের সাথে গোধূলির আলোমাখা বিকেল উপভোগ করতে পারছে। এতদিন যে মেয়েটির দিন কাটত অন্যের মন জুগিয়ে চলার অলিখিত নিয়মে, ও এখন অবলীলায় নিজের ভালো লাগার গানটা গুনগুন করে গাইতে পারছে। রাফসানের আনা নতুন উপন্যাসের পাতা উল্টে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারছে। সবচেয়ে বড় কথা, নীরু বুঝতে পারছে যে এই বাড়িটায় শুধু রাফসানের নয়, ওর নিজেরও সমান অধিকার আর একচ্ছত্র স্বাধীনতা রয়েছে।
একজন নারীকে পুরো পৃথিবী জয় করার শক্তি জোগাতে যে স্বামীর চেয়ে বড় কোনো শিক্ষক হতে পারে না, তা রাফসানের হাত ধরেই নীরু প্রথম শিখেছে!
.
.
.
সমাপ্ত।
[কার্টেসী ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ]
শব্দ সংখ্যা— ৩২৯৯।
