#রহস্য
#সোয়াদ_আল_মাহমুদ_তালুকদার
#পর্ব_২
রুমি ভারত থেকে অবশেষে নিজ দেশে ফিরল।তবে এখন কিছুতেই সে শান্ত থাকতে পারছে না।তার শুধু ঐ ভয়ংকর রাতের কথা মনে পড়ছে। রুমি ভাবল মাকে এখন কিছু জানাবে না।সময় মত সব কিছু বলবে।এখন যেভাবেই হোক নিজেকে শান্ত রাখতে হবে।
রুমি বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে শুতে গেল।তার মা জাহানারা বেগম কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছে।তবে রুমি প্রতি জবাবেই বলছে কিছু হয়নি। জাহানারা বেগম আর তাকে বিরক্ত করেনি।ভ্রমণের ক্লান্তির জন্য এরকম হয়েছে এটাই ভেবে নিল।
রুমির অফিস যাওয়ার জন্য তর সইছে না।তবে অফিস থেকে তাকে তিনদিন পর আসতে বলেছে।কারণ সবেমাত্র বিদেশ থেকে ফিরল।রাতে রুমি বারবার তার বস সবুজকে ফোন দিচ্ছে ।কিন্তু কিছুতেই ধরছে না। এরমধ্যেই তার মার ডাকাডাকি শুরু হলো। জাহানারা বেগম তাকে খেতে ডাকছে।সে রাতে খেয়ে নিলো।তারপর ঘুমিয়ে পড়ল।
দেখতে দেখতে সকাল হলো।এখন পর্যন্ত তার বস ফোন ধরেনি।ওদিকে তার বস সবুজ বাড়ির গ্রাউন্ডে মেয়ের সাথে বল খেলছে।তার স্ত্রী দেখে হাসছে।মনে হচ্ছে যেন পারফেক্ট ফ্যামেলি।সবার চোখেই সে ভালো মানুষ।সবার বিপদে সে এগিয়ে আসে।এই নিয়ে তার কত সুনাম।এইতো অফিসের এক কলিগের মার অপারেশনে সম্পূর্ণ টাকা দিয়েছিল সে।সবার কাছে সে নিতান্ত ভালো মানুষ। সত্যিই কি এটা তার আসল রুপ।নাকি এটা তার মুখোশ।
এর মাঝেই ফোনে তার মেসেজ এলো।যেটা দেখে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
তার স্ত্রী নীলিমা জিজ্ঞেস করল,”কি হয়েছে।”
সে উত্তর দিলো “কিছুই না।অফিসে কাজ পড়ে গেছে।আমি এক্ষুনি আসছি।”
আসলে রুমিই তাকে ম্যাসেজ করেছিল।রুমি বলেছিল,”স্যার আমার ফোন ধরবেন ।নাকি আমি আপনার বাড়িতে আসবো।এসেই আপনার মুখোশ সবার সামনে খুলে দেব।”
রুমির দেওয়া ঠিকানায় সবুজ পৌঁছে গেল।দেখল রুমি রাগি চোখে তাকিয়ে আছে।
সবুজ যেয়ে বলল,”কি হয়েছে।এত ফোনের কি দরকার।”
রুমি সবুজের শার্টের কলার ধরে বলল,”কি হয়েছে বুঝতে পারছেন না।নাকি না বুঝার ভান করছেন।সেদিন হোটেলে আমার সর্বনাশ করেছিলেন কেন। হোটেলের ক্যামেরায় দেখেছি আপনি ছাড়া আমার রুমে আর কেউ ঢুকেনি।তার মানে আপনিই দোষী।”
সবুজ মীচকে হেসে বলল,”ওহ তুমি সব বুঝে গেছ।তবে চিন্তা নেই।এসব ঘটনা তুমি ভুলে যাও।মীরা,পিংকি,সুমির মতো তোমারও প্রমোশন হয়ে যাবে।”
রুমি ঠাস করে সবুজের গালে চড় মারল।আর বলল,”সব মেয়ের সাথে আমার তুলনা দিচ্ছেন।মনে রাখবেন আমি রুমি।আমাকে টাকা দিয়ে কেনা যায়না।আমি আমার সম্মানের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো। আপনার ভালো মানুষের মুখোশ সবার সামনে খুলে দিব।”
সবুজ হেসে বলল,”দেখি তুই কি করতে পারিস।আমার একটা চুলও তুই ছিঁড়তে পারবি না।”
রুমি বলল,”আমি এক্ষুনি পুলিশ স্টেশনে যাচ্ছি তোর নামে নালিশ করতে।”
সবুজ হোটেলের ম্যানেজারকে ফোন দিয়ে বলল,সব প্রমাণ লোপাট করতে। যত টাকা লাগুক সে দিবে।তবে এসব কথা ঘুণাক্ষরে কেউ যেন টের না পায়।
সবুজ মিচকে হাসি বলল,”দেখি রুমি তুই আমার কি করতে পারিস।”
রুমি মনে শক্তি নিয়ে থানায় গেল,দেখা গেল ইন্সপেক্টর আহমেদ বসে পেপার পরছে।বয়সটা ৩০ এর ঘরে হবে।
রুমিকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে বলল,” কি অভিযোগ করতে এসেছেন। নিশ্চয়ই ছিনতাইয়ের অভিযোগ করতে এসেছেন। চোখমুখ দেখে সেরকমই মনে হচ্ছে।আজকাল এরকম ঘটনা নিয়ে প্রায় সবাই আসে”
রুমি বলল,”না আমি আসলে অন্য অভিযোগ নিয়ে এসেছি।আমার সাথে খারাপ কিছু হয়েছে।”
রুমি সব ঘটনা বর্ণনা করতে লাগল। আহমেদ বলল,”এটা কিন্তু খুব ঝামেলার ব্যাপার।কারণ এটা তো আমাদের দেশে ঘটেনি।এটা অন্যদেশে ঘটেছে।তাই এটার এখতিয়ার আমাদের হাতে নেই।এই জন্য আমাদের মুম্বাই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। আপনার মেডিকেল রিপোর্ট এখন আর নেওয়া সম্ভব নয়।আপনি বুদ্ধি করে গোসল না করে কাপড়গুলো রেখে দিতে পারতেন।তাএকটা বিরাট প্রমাণ হতো।আগে প্রমাণ আসুক তারপরেই সবুজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আপনি আপাতত বাড়ি যান। প্রয়োজনে আবার ডাকা হবে। সবকিছু গোপনে করা হবে।”
রুমি আশ্বস্ত হয়ে বাড়ি চলে গেল।
ইন্সপেক্টর আহমেদে তাড়াতাড়ি পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে এই কথা বলল। পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে যোগাযোগ করল।আর মুম্বাই পুলিশের সাথে কন্টাক্ট করে সব বলল। মুম্বাই পুলিশ তদন্ত করতে লাগল।তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ চাওয়া হলো।
এভাবে দুদিন কেটে গেছে। রুমি মাকে সব জানিয়ে দিয়েছে।মা জাহানারা বেগম বলল”,রুমি তুই চিন্তা করিস না।দেখ সব ঠিক হয়ে যাবে।”
রুমি মায়ের কথায় খানিকটা ভরসা পেল।আর একদিন পরই তাকে অফিসে যেতে হবে।এই কথাই সে ভাবছিল। আহমেদের কল পেয়ে সে তড়িঘড়ি করে থানায় গেল।
আহমেদ তাকে বসতে বলল।আর বলতে লাগলো,”বড়লোক বস দেখে নিশ্চিয় সামলাতে পারেননি।এখন মেনে নিচ্ছে না দেখে মিথ্যা রে/প মামলা দিতে এসেছেন।”
রুমি হতভম্ব হয়ে বলল,”এসব কি বলছেন।একটা মেয়ে মানুষ কি এব্যাপারে মিথ্যা বলতে পারে।”
আহমেদ বলল,”এটা আমার কথা কথা নয়।এটা আইনের কথা। মুম্বাই পুলিশ সেখানে গিয়ে কোন প্রমাণ পায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত পায়নি।সেখানে সিসিটিভি নাকি বেশ কয়েকদিন ধরে নষ্ট।আপনি বলেছিলেন যে ,আপনি সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছিলেন।”
রুমি খানিকটা কান্না করা সুরে বলল, “বিশ্বাস করুন আমি সত্যি বলছি। সবুজই টাকা দিয়ে সব প্রমাণ লোপাট করেছে মনে হয়।”
আহমেদ বলল,”এই জীবনে অনেক মানুষকে চিনেছি।তাই আপনাকে দেখে মনে হয় আপনি সত্যিই বলছেন। কিন্তু আইন প্রমাণ চায়।এই কেসটা যদি কোর্টে তোলা হয়।তাহলে সবুজ একই যুক্তিতে ছাড়া পেয়ে যাবে।আর আপনার প্রচুর বদনাম হবে।আর সবুজ এর আগেও এরকম অনেক কাজ করেছে।তাই সে পটু হয়ে গেছে।কোনো প্রমাণই বাকী রাখেনি।”
রুমি বলল,”এবার তাহলে আমি কি করব।”
আহমেদ বলল,”শুনেছি নাকি আপনাদের কোম্পানীর মালিক তিনজন। আর সবুজ ঐ কোম্পানির একটা ইউনিটের প্রধান।সে মালিকদের পক্ষ হয়ে কাজ করে থাকে।
শুনেছি এরকম কোম্পানিতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি থাকে।আপনি সবুজের ব্যাপারে কমিটিতে অভিযোগ জানান। কোম্পানির মালিক নিশ্চয়ই তদন্ত করবেন।আপনিই তো বলেছিলেন , সবুজ এরকম আরো অনেক মেয়ের সাথে এরকম করেছিল।যারা এখনো ওখানে চাকরি করছে।তাদের যদি কোনোভাবে একবার কনভাইন্স কথা যায় ।তাহলে তো কেল্লাফতে।আর যদি হেরেও যান ।তাহলে সমস্যা নেই।কারণ কোম্পানি বদনামের ভয়ে এসব কথা বাইরে আনতে চাইবে না।আর প্রমাণিত হলে আপনি থানায় আসবেন।”
রুমি আহমেদের কথামত কমিটিতে অভিযোগ করল। কমিটি তদন্ত শুরু করল। রুমি মীরা,পিংকি ,সুমিকে অনুরোধ করল যেন মিটিং এ সত্যটটা বলে।এদের মধ্যে সুমি রাজী হলো। রুমি যেন এবার শক্তি পেল।
কমিটির মিটিং এ বসে আছে সবুজ,রুমি আর অন্যান্য সদস্যরা।
চলবে
