#Standing_next_to_you
#অনামিকা_আহমেদ
পর্ব: ১৪ ( অন্তিম পর্ব )
– আপনি আমাকে রাহাতের সাথে কথা বলতে দিলেন না কেনো?
– কারণ আমি চাই না আমার বউ পরপু*রুষের সাথে কথা বলুক।
– আমি আপনার বউ?
– কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়ে যাবে।
এই বলে সাজ্জাদ উঠে দাঁড়ায় সাথে সাথে শুভ্রতা কেও টেনে তোলে। শুভ্রতা কিছুক্ষণ অবাক চোখে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
– আর লিনা? আপনার সাথে যার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে তার কি হবে? সে কি এসব মেনে নিবে চুপ করে?
– অবশ্যই না, তাই আমি আগে ভাগেই লিনা আর ওর পরিবার কে আন্ডার*গ্রাউন্ড করে দিয়েছি।
– মানে কি? কখন করলেন এসব?
– সেটা তোমার জানার কথা না। এখন চল শুভ কাজ টা সেরে ফেলি। আমার আবার বাসর বাসর পাচ্ছে।
________________________________________
শুভ্রতা আর সাজ্জাদ বর বউ সেজে শুভ্রতার বাবা মায়ের সামনে দাড়িয়ে আছে। রুমা ঠিক এই ভ*য় টা পাচ্ছিল মনে মনে। সে নব দম্পতিকে কোনো উচ্চ বাক্য শোনানোর আগেই ইফতিয়ার রুমা কে থামিয়ে দেয়।
– আমাদের জানালে কি আমরা না করতাম তোদের? নিজেরা নিজেরা বিয়ে করে নিলি, দুই পরিবারেরই তো কত আয়োজন করে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তাই না?
শুভ্রতা মাথা নিচু করে রাখলেও সাজ্জাদ তার মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। সে যে তার মা কে ঠিক চিনতে পেরেছে তার দৃষ্টি সেটা জানান দিচ্ছে। রুমা চোখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বলে,
– যা হবার হয়েছে। এখন ঘরে যাও, আর বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে লোক হাসিয় না।
শুভ্রতা কিছু বলতে চেয়ে ও বলল না। বাবার দিকে একবার ক্রন্দনরত চোখে তাকিয়ে তারপর নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়, ইফতিয়ার ও মেয়ের পিছন পিছন চলে যায়।
– কাজটা কি তুমি ঠিক করলে সাজ্জাদ?
– পঁচিশ বছর আগে আমাকে ছেড়ে যখন চলে গেছিলেন তখনও কি কাজ টা ঠিক হয়েছিল?
– কিসের সাথে কিসের তুলনা করছো তুমি? শুভ্রতা এখন আমার মেয়ে, ওর ভালো মন্দ আমাকেই দেখতে হবে। আর তোমার পরিবার তো ওকে মেনে নিবে না।
– সেটা না হয় আমি বুঝব, আমি এখন শুভ্রতার হাসবেন্ড। কে কে মানবে না মানবে সেটা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না, মা।
রুমা চোখ ছলছল করে উঠে সাজ্জাদ এই প্রথম তাকে মা বলে দেখেছে। সাজ্জাদ একবার এক হাসি দিয়ে নিজেও রুমের ভিতর চলে যায়।
সমাপ্ত।।।।।।।।
