Saturday, June 6, 2026







অনাকাঙ্ক্ষিত প্রণয় পর্ব-০৩

#অনাকাঙ্ক্ষিত_প্রণয়
#তানভী_ইসলাম_তিশা
#পর্বঃ৩

তুষার সেদিনের ঘটনার পর থেকে নিয়ম করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করেছে। বিশেষ করে নফল দোয়া। দোয়ার বিষয়বস্তু একটাই “হে আল্লাহ! ওই মেয়েকে চীন, জাপান, সুদান যেকোনো দূর দেশে পাঠিয়ে দাও। না হলে আমার মাথায় আগাম টাক পড়ে যাবে।

আজ তুষার রিক্সায় বসে রিল্যাক্স মুডে গান শুনছে… “ আমারও পরাণও যাহা চায়, তুমি তাই তুমি তাই গো ”
হঠাৎ কানে ভেসে এল পরিচিত ভয়ংকর শব্দ।

__আংকেল গো… চাচা গো… চাক্কুওয়ালা গো!

তুষারের হাত থেকে ফোন পরে যেতে যেতে কোনোমতে রক্ষা পেল। কণ্ঠ শুনেই বুঝে গেল বিপদ আবার হাজির।

__তুমি আবার! তুমি এখনও বাংলাদেশেই আছো বুঝি? চীন,জাপান,সুদান চলে যাওনি?

তুষার বিরবির করে বলে আমার দোয়া তাহলে কবুল হয়নি। এ পাগল এখনো বিদায় হয়নি। তুষারের বিরবির করে বলা কথা হৃদিকা শুনে ফেলে। ও তাইলে এই ব্যাপার? হৃদিকা ফিচকে হাসি দিয়ে কাছে এসে বলে….

__ভিসা তো পেয়েছিলাম। কিন্তু আপনি ছাড়া দেশ ছাড়তে মন চাইল না।

তুষার হঠাৎ বুঝে গেল এই মেয়ে তুষারের উপর একপ্রকার এক্সপেরিমেন্ট চালাচ্ছে।

__তুমি আমাকে ফলো করো কেন? আমি কী GPS?

হৃদিকা চোখ টিপে বলে…

__জ্বী না, আপনি তো হ্যান্ড-হেল্ড চাক্কু। যেখানে নিয়ে যাই সেখানেই কাটা-ছেঁড়া করতে প্রস্তুত।

তুষার এবার আর সহ্য করতে পারল না। রিকশা থেকে নেমে পাশের দোকান থেকে একটা ডান্ডা নিয়ে বলে…

__তোমার মাথায় কিছু ঢুকাতে হবে নাকি? চলো নিউরোসায়েন্সে ভর্তি করি। ডাক্তারও তো বোঝে না তুমি কোন লেভেলের পাগল।

__চাক্কুওয়ালা আংকেল মনের ডাক্তার যদি আমাকে দেখে আগে আপনাকে ধরবে। উপরে আমার সাথে এতো রেগে কথা বলেন মানে ভেতরে আপনি আমার উপর ভয়ানক প্রেমে পড়েছেন।

তুষার এবার হাল ছেড়ে দিল। সে চুপচাপ হাঁটছে হৃদিকা পাশে পাশে হাঁটছে আর বলছে…

__আংকেল আপনার নাম রাখা উচিত চাচা বিন ঘোঁৎঘোঁৎ। কারণ রাগলে আপনি হিপ্পো’র মতো হাঁপান।

তুষার ক্ষেপাটে নজরে হৃদিকার দিকে তাকায়। হৃদিকা বলে…

__আবার রাগলেন? আহারে রাগলে তো আপনার গাল ফুলে হাঁসের মতো দেখায়।

তুষার এবার রাস্তার পাশেই বসে পড়ে বলে…

__তুই যা মা! আমারে একটু বাঁচতে দে। আমি শিওর আল্লাহ আমারে জাহান্নামের বদলে তোর হাতে ফেলে শাস্তি দিতেছেন।

হৃদিকা হেসে হেসে বলে….

__তাহলে ধরেন আমি আপনার দোযখ এঞ্জেল। এমন সার্ভিস কী আর সবার কপালে জুটে?

হঠাৎ তুষারের বন্ধু রায়হান আসে….

__মামা তুই এখানে বসে কান্না করছিস? মেয়েটার সাথে ব্রেকআপ হইছে নাকি?

তুষার কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে…ভাই সম্পর্ক থাকলে না ব্রেকআপ হতো। এটা তো একতরফা অত্যাচার। আমাকে হিমালয় পাঠাইয়া দে ভাই।

হৃদিকা জিভ বের করে বলে….

__আপনি হিমালয় যান আমি বরফ হয়ে আপনার পিঠে পড়ে থাকব। প্রেম মানেই তো স্থায়ী জ্বর।

তুষার উঠে দাঁড়িয়ে পাগলের মতো রাস্তা দিয়ে দৌড় দেয় আর বলতে থাকে…

__বাঁচাও… কেউ বাঁচাও… আই নীড মেডিকেল হেল্প।

_____________

তুষার এখন অফিস টাইমে রাস্তায় বের হলে হেলমেট পরে। কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে…..ভাই হেলমেট কেন? সে বলে…. জীবন বাঁচাতে।

তুষারের উত্তরে সবাই বোকার ন্যায় তাকিয়ে রয় আর ভাবে তুষার বোধহয় পাগল হয়েছে। হৃদিকার নতুন শখ হয়েছে তুষারের সামনে হঠাৎ উদয় হওয়া। ঠিক যেমন লাস্ট সীনে হিরোইনের এন্ট্রি। আজ তুষার শান্তভাবে হাঁটছিল হাতে স্যান্ডউইচ, মুখে গান
“ভালো আছি ভালো থেকো…”

হঠাৎ কেউ পেছন থেকে কানের কাছে ফিসফিস করে…

__চাক্কুওয়ালা আংকেল গান ছাড়ুন বরং আমার লেখা কবিতা শুনুন “চাক্কু হাতে দাঁড়ায় যে লোক,
আংকেল বলে তারে সকল লোক।”

তুষার শকড! আবারও এই মেয়েটা।

__তুমি আবার! আমি তো ভেবেছিলাম গতবারের বদদোয়া খেয়ে তুমি অন্তত তিনদিন ঘুমাবে।

হৃদিকা মুখে হাত দিয়ে বলে…ঘুমালেই তো স্বপ্নে আপনি আসেন। আমার তো এখন ইনসোমনিয়া হয়ে গেছে আপনার দুঃস্বপ্নে।

তুষার এবার এক দৌড়ে পাশের চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। চা দোকানদার বলে… ভাই এত ছোটাছুটি কেন? ম্যারাথনে নামছেন নাকি?

তুষার ফিসফিসিয়ে বলে…না ভাই। পেছনে দুঃস্বপ্ন হাঁটে।

এই কথা বলতেই হৃদিকা ঢুকে পড়ে দোকানে। হাতে একটা চিপসের প্যাকেট আর মুখে দুষ্টু হাসি।

__আংকেল আমি এখন ডায়েট করি। আপনার মতো স্ট্রেসফুল লোককে ফলো করলে ওজন এমনিতেই কমে যায়।

তুষার অসহায়ভাবে দোকানদারকে বলে…ভাই এই মেয়ে কোনো চা চাইলে দেবেন না। চা খেলে আমাকে বিরক্ত করার এনার্জি আরও বাড়বে।

হৃদিকা হেসে বলে…চা না খাই। আপনাকে দেখে দেখে এনার্জি পাই। আপনি হচ্ছেন আমার লাইভ রিয়্যাকশন ভিডিও।

তুষার এবার কান চাপা দিয়ে বলে……এই পৃথিবীতে শান্তি বলে কিছু আছে?

হৃদিকা মাথা ঝাঁকায়…..আছে, কিন্তু আপনার জন্য না।

তুষার আর থাকতে না পেরে রিকশা থামিয়ে ওঠে আর চালককে বলে…ভাই, বাসায় না কোনো আশ্রমে নিয়া যান একটু শান্তি দরকার।

হৃদিকা পেছন থেকে চিৎকার করে…আংকেল যদি পাহাড়ে যান আমি পাহাড়ি বৃষ্টি হব। যদি জঙ্গলে যান আমি হনুমান হব।

তুষার আর শুনে না রিকশাওয়ালাকে বলে…

__জোরে চালান ভাই নইলে এই মেয়ে গলায় ঝুলে পড়বে।

রিকশা ছুটে চলে আর পেছনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা হৃদিকা বলে যতই পালাও আংকেল প্রেমের চাক্কু ঠিকই আপনাকে খুঁজে নেবে।

_______________

তুষার আজকে একদম রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হয়েছে। হুডি, মাস্ক, সানগ্লাস এমন ছদ্মবেশে যে নিজের মা-ও চিনতে পারবে না। এইবার তো মেয়েটা ধরতেই পারবে না নিজের মনে বলে তুষার। কিন্তু পৃথিবীর সব চালাকির ওপরে আছে হৃদিকার স্পাই স্কিল। তুষার রাস্তায় কিছুদূর যেতেই দেখে রাস্তার পাশে একটা ফ্লেক্স:
“চাক্কুওয়ালা আংকেল ফ্যান ক্লাব” – সদস্য সংগ্রহ চলছে।
নীচে লেখা…“আংকেলের হাসি, আমাদের ইনস্পিরেশন!”
আর পাশে হৃদিকার হাসিমুখের ছবি।

তুষারের মাথা ঘুরে যায়। সে নিজের চোখে দেখে কয়েকজন কিশোরী দাঁড়িয়ে আছে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে।
“চাক্কুওয়ালা ইজ কিউট”
“হৃদিকার আংকেল, আমাদের হিরো!”

তুষার চিৎকার করে বলে…হায় আল্লাহ! এখন তো মানুষ আমাকে ক্রাশ ভাববে! আমি চাক্কু বিক্রেতা না, গ্যাংস্টার না।

হৃদিকা ওখান থেকে এগিয়ে এসে বলে…

__আংকেল ক্লাবটা খুলেছি আপনাকে সম্মান জানাতে। ভাবছি আপনার নামে টি-শার্টও বানাব।

তুষার হতবাক…তোমার মাথা আছে? আমি কোনো তারকা না, আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ।

হৃদিকা গম্ভীর গলায় বলে… আপনি তারকা না হলে কী হয়েছে? আপনি আমার ‘চির জ্বালানিদাতা’। এ সম্মান আপনি না পেলে কে পাবে?

তুষার মুখে হাত দিয়ে বসে পড়ে….আম্মা গো আমার নাম শুনলে এখন মানুষ চাক্কুওয়ালা ক্লাব মনে করবে।

হৃদিকার চোখ চকচকে…. ভাবছি একটা মিউজিক ভিডিও বানাব চাক্কুওয়ালা আংকেল গো, সবার মন কেড়েছে যে তো….

তুষার এক মুহুর্ত আর দাঁড়ায় না। উঠে হনহনিয়ে চলে যায় সেখান থেকে।

________________

তুষার একটা ফুডকোর্টে ঢুকল বন্ধুদের সাথে। খাবার হাতে নিচ্ছে পেছন থেকে আবার সেই চেনা গলা।

__আংকেল রোল কিনেছি। চাক্কু দিয়ে কেটে দিবেন?

তুষার পিছু ফিরে তাকায়। এবার সে প্ল্যান করেই বলল…

__হ্যাঁ কেটে দেব। আগে তোমাকে কেটে ছেঁটে বাক্সে পুরে ফ্রিজে রাখি, পরে দেখি খাবার কেটে দেব কিনা।

হৃদিকা হাসতে হাসতে বলে…

__আহা! চাক্কুওয়ালা আমার কথা এত ভালো মনে রেখেছেন? আপনার ফ্রিজেও আমি জায়গা করে নিয়েছি বুঝি?

তুষার হতাশ কণ্ঠে বন্ধুকে বলে…

__এই মেয়েকে নিয়া কেউ একটা তবলা বাজাও ভাই আর আমি চলে যাই হিমালয় পাহাড়ে ওখানে কেউ চাক্কুওয়ালা ডাকে না।

________

তুষার হাঁটছে শান্তভাবে। হঠাৎ হৃদিকা সামনে এসে পথ আটকে বলল…

__আংকেল আপনাকে একটা জিনিস দিতে এসেছি।

__কী! চাক্কু?

__না, আপনার নামে লেখা চিঠি প্রাপক: চাক্কুওয়ালা আংকেল প্রেরক: আপনার পেছনের লেজ।

তুষার আর দাঁড়ায় না। ছুটতে ছুটতে রিক্সায় উঠে পড়ে। হৃদিকা পেছনে চেঁচায়…

__চাক্কুওয়ালার বাচ্চা চাক্কুওয়ালা। আমি আবার আসব আবার বলব চাক্কুওয়ালা আংকেল চাক্কুওয়ালা আংকেল।

তারপর ফিসফিস করে বলে….

___আর আপনি যতই পালান আমি আপনার লাইফে ভেসে থাকব চাক্কুর মতোই ধারালো চকচকে হয়ে।

______________

তুষার নিজেকে আয়নায় দেখে মনে মনে বলল….

___এই আমি! এমন ফ্রেশ চেহারা এমন গ্লোয়িং স্কিন। তার উপর রেগে গেলে চোখে লাল রঙ চড়ে ওঠে আর এই মেয়েটা আমাকে বলে চাক্কুওয়ালা আংকেল। ভাগ্য! ধ্বংস। আল্লাহ আমার চেহারায় কী চাচা-লেখা আছে ?

হঠাৎ পেছন থেকে তুষারের ভাতিজা বলে উঠল…

__চাচ্চু আয়নাতে এত তাকিয়ে কী দেখতেছ? নিজের প্রেমে পড়ে গেছো নাকি?

তুষার গম্ভীর মুখে বলল…

__না রে বাপ। নিজেরে দেখে কনফার্ম হইতেছি এই চেহারায় কেউ চাক্কুওয়ালা কেন ডাকে।

তুষার রিক্সা করে বাজার যাচ্ছিল হঠাৎ রিক্সাওয়ালা ব্রেক কষে দাঁড়ায়। সামনে রঙচঙে সালোয়ার কামিজ পরা মেয়ে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে হাতে একটা প্ল্যাকার্ড।

__চাক্কুওয়ালা আংকেল, ভালোবাসা কি দোষের?

তুষার রিক্সা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে…

__এই মেয়ে! আবার নতুন নাটক শুরু করছো?

হৃদিকা ঠোঁটে কটমট হাসি টেনে বলে…

__নাটক না, বাস্তবতা। আপনি আর আমি এই শহরের সবচেয়ে বিতর্কিত জুটি। এখন শুধু মিডিয়ার কভারেজ বাকি।

তুষার মাথায় হাত দিয়ে বলে….

__তুমি কি সত্যিই পাগল না পাগলের অভিনয় করো?

__আমি পাগল? উফফ! ধন্যবাদ আংকেল আজকেও দিনটা আপনার প্রশংসায় শুরু হলো।

তুষার রাস্তায় হাঁটছে। পেছন থেকে হৃদিকার গলা…

__আংকেল একটু থামেন না। আমি এবার আপনার চাক্কুর বিজ্ঞাপন নিয়ে এসেছি।

হাতে পোস্টার:
“তুষার চাক্কু: প্রেমে কাটে, রাগে ছিন্নভিন্ন করে”
সাথে একটা স্মাইলি আঁকা।

তুষার থেমে না গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল….

__এই মেয়ে একদিন সত্যি চাক্কু দিয়ে তোমাকে কাটতে বাধ্য করবা।

_________________

সন্ধ্যায় পার্কের পাশে তুষার ও সবুজ হাঁটছে। হঠাৎ পিছন থেকে কারো গলা….

__আংকেল আজ চাক্কু আনেন নি নাকি?

তুষার থেমে তাকায়। অবশ্যই, হৃদিকা! একটা বেলুন নিয়ে মুখে ফু দিচ্ছে। তুষার চোখ গরম করে বলে….

__এই মেয়ে আমি তোর আংকেল না, বুঝছিস? তুই আবার আমার পেছনে কেন?

হৃদিকা চোখ উলটে বলে…

__আরে আপনি তো নিজেই বলেছেন আমি নাকি আপনার লেজের মতো। যেখানে যান আমি পিছে পিছে যাই। আজকে একটু আগায় গেছি এই আর কি।

তুষার মুখে হাত দিয়ে বসে পড়ে একটা বেঞ্চে।

__হে আল্লাহ! আমার লাইফ তো সিরিয়াল বানায় দিল এই মেয়ে।

হৃদিকা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে….
___চাক্কুওয়ালা আংকেল সাবধানে চাকা ঘোরান।

এরপর হৃদিকা হনহনিয়ে সেখান থেকে ভাব নিয়ে চলে যায়। তার কাজই এমন হুট করে চলে আসবে আবার হুট করেই চলে যাবে। হৃদিকা চলে যাওয়ার পর তুষার আর সবুজ কিছুক্ষণ গম্ভীরভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর হঠাৎ করে তুষারের পেটে খোঁচা মেরে সবুজ বলে…..

__দোস্ত তুই কি জানিস তোর আর ভাঙ্গা ক্যাসেটের প্রেম কাহিনি যদি সিনেমা হয় তাহলে এটা হবে টম অ্যান্ড জেরি: দ্য রিটার্নস।

তুষার চোখ ঘুরিয়ে বলে….

__আমি বলছি শেষবারের মতো ওই মেয়ের কথা যদি আর একবারও বলিস আমি কিন্তু তোর পেছনে কুত্তা লাগিয়ে দিব।

সবুজ মুচকি হেসে বলে….

__তা দে, কুত্তা লাগা প্রেমই তো সবচেয়ে মজার প্রেম। এখন দেখ তুই দৌড় দিবি পিছে ভাঙা ক্যাসেট দৌড় দিবে গান হবে পাগল মন মন রে মন কেন এত কথা বলে।

তুষার এবার রাগে ঠোঁট কামড়ে বলে….

__তুই একটু চুপ করবি? বেশি ফাজলামি করিস না।

সবুজ আর কি মজা লইছে! হঠাৎ করে তার চোখে খটকা লাগে। সে তুষারের দিকে তাকিয়ে বলে….

__দোস্ত একটা কথা বল তো। সত্যি করে বলবি তুই কি একটু একটু করে ওই মেয়েটাকে লাইক করা শুরু করছিস নাকি?

তুষার এমন ভাব নেয় যেন সে দুনিয়ার সবচেয়ে লজ্জার কথা শুনছে।

__কি বলিস এইসব। আমি ওরে লাইক করব? আগে আমি পাগল হই তারপর তারে লাইক করব। ও মেয়ে না একেবারে ফ্রি প্যাকেজে সাইক্লোন।

সবুজ মুখে দুষ্টু হাসি এনে বলে….

__হুম আর তুই হইছিস সেই সাইক্লোনে ঘূর্ণায়মান ছাতা।

তুষার এবার মুখ নিচু করে বাইকের হ্যান্ডেলে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মারে।

__চল বাড়ি। আমার আর পার্কে ঘুরতে ইচ্ছা করছে না।

সবুজ হেসেই যায়। তার হাসি থামছে না।

__হাহাহা, এখনো সময় আছে দোস্ত কই তোর কানে হেডফোন ঢুকিয়ে ভাঙ্গা ক্যাসেট প্লে করে দিই?

“চুপ কর” বলে তুষার বাইকে উঠে বসে।

পরদিন দুপুরে হৃদিকা তার বান্ধবী জীমকে নিয়ে কলেজ শেষে একটা কফিশপে বসে আছে। হালকা ব্রাউন কালারের শাড়ি, হালকা সাজ আর ঠোঁটে হালকা গ্লস দেখে মনে হয় একেবারে মিষ্টি মেয়ে।

জীম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলে…

__তোর গল্প বল তো পার্কে কার সঙ্গে এত আলোচনা করছিলি?

হৃদিকা চোখ বড় বড় করে বলে…

__আর বলিস না ওই চাক্কুওয়ালা আংকেল আবার এসে হাজির। ভাব দেখ মনে হয় আমাকে এড়িয়ে চলতেছে আকাশে তারা দেখতেছে আসলে তো আমাকেই নিজের আশেপাশে চাচ্ছে।

জীম হেসে গড়িয়ে পড়ে…

__চাক্কুওয়ালা আংকেল! ওরে এই নাম দিলি?

__হ্যাঁ রে! ওরে তো আমি এই নাম দিয়েছি আগেই। হাসপাতালে দেখা হয়েছিল। মাথায় চাকু নিয়ে এত ভাব মনে হয় নিজেই পেশাদার গ্যাংস্টার।

জীম মজা পেয়ে বলে…

__তো তুই কী করলি?

হৃদিকা হাসতে হাসতে বলে….

__আমি তো পুরা ওয়্যারলেস চালু করে দিলাম। কথা বলতেই থাকলাম বেচারা ছেলেটা পুরা ঠাস মেরে গেছিল। আর তার সাথে চ্যালাপ্যালা গুলোও ছিল হ্যাবলা।

জীম চোখ টিপে বলে…

__আচ্ছা আচ্ছা!এখনো সময় আছে রিলেশন গড় তোরা চাকু-চাক্কি প্রেম কাহিনি।

__ওরে গাধা! পাগল ভেবে মানুষটা এখনই পালায় রিলেশনে করলে উনি দেশান্তরী হয়ে যাবে।

এই কথা বলে হৃদিকা ও জীম হেসে গড়াগড়ি খায়। তুষার কে বেশ জব্দ করছে আজকাল। হৃদিকা অবশ্য ইচ্ছে করেই তুষার কে জম্পেশ জ্বালাতন করছে। তুষার যখন ক্ষেপে যায় যা দেখতে লাগে না। উফ! হৃদিকা তো বহু কষ্টে হাসি চেপে রাখে। বেচারা তুষার গুন্ডামী করার শখ জন্মের তরে শেষ হয়ে গেছে। এই এক গুন্ডামী করে যা বেহাল দশা। বেঁচে থাকতে গুন্ডামীর নাম আর মুখেও নেবে না।

চলবে।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ