#আলো_আধাঁরি |০২|
#নুপুর_মজুমদার_জবা।
নিজের ঘরে বিছানার উপর ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালের রান্নাটা উনি করে রেখে এসেছেন আর আস্তে করে তমাকে আসতে দেখে কাছে ডাকলেন,
__কিরে তমা এই সময় আবার কোথায় যাস? আজ তো তোর কলেজ বন্ধ।
মায়ের ডাকে হুট করেই সন্বিত ফিরলো তমার।অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটার কারণে সামনে কি হচ্ছিল ঠিক খেয়াল করেনি। মেয়ের পেটে হাত দেওয়া দেখি রহিমা খাতুন জিজ্ঞেস করলেন,
__তোর শরীর ঠিক আছে তো এপাশে কি অসুস্থ হয়ে পড়েছিস?
_ না আম্মা হুট করেই পেটে ব্যথা হচ্ছিল এই কারণে।
__তা রান্নাঘরে গিয়ে আদা দিয়ে গরম জল করে খা দেখবি ভালো লাগবে। আর যাওয়ার আগে তোর বড় আপারে একটা কল দে তো।
বিরক্ত হলেও মায়ের কথা শুনে ফোন দিল নিজের বড় আপুকে তমা। দুবার রিং হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই ওপাশ থেকে কল তুললো শারমিন। রহিমা খাতুন তখনই অভিযোগের সুর তুলে উঠালেন নিজের বড় মেয়ের সামনে।
__কিরে শারমিন তুই দেখি আজকাল ভুলেই গেছিস এখন তো মায়ের সঙ্গে কথা বলতেই চাস না। আগে আমার কি পরিমান ভক্ত ছিলি তুই আর এখন দেখ বিয়ের পর কতটা পাল্টে গেছিস।
মায়ের অভিযোগে সামান্য হাসলো শারমিন,
__না মা আসলে তোমার জামাইয়ের চাকরিটা নিয়ে একটু ব্যস্ত তো। তারপরে আবার নতুন শহরে আসার পর থেকেই ঝামেলা চলছে। দেখি এবার শীতে তোমার জামাই ছুটি পেলেই চলে আসব।
__হ্যাঁ, তাই ভালো হবে আমার শরীরটাও আজ কয়েক দিন যাবত ভালো যাচ্ছে নারে। জামাইয়ের ছুটি হলেই চলে আয় দু-এক দিন বেড়িয়ে যায় তারপরে আবার চলে যাস। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে রে মা আর কোন অধিকার থাকে না তার ওপর।
মায়ের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে একবার ভাবল তমার ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করে নিতে।আসিফ ততক্ষণে অফিসে চলে গেছে তাই এই ব্যাপারে ওর সঙ্গে কোন কথা হয়নি। কিন্তু তোমার কি সমস্যা হয়েছে যে ওকে গাইনি ডাক্তারের থেকে রিপোর্ট আনতে হবে। আর আসিফকেই বা কেন যেতে বলল? মায়ের অসুস্থতার কথা ভেবে জিজ্ঞেস করল না আর কিছু শারমিন।
__মা তমা কোথায়?
__ওর শরীরটা একটু খারাপ হয়তো ঘরে শুয়ে আছে রে। কেন কি হয়েছে?
__না ওকে অনেকদিন দেখি না তো এই কারণে জিজ্ঞেস করলাম। এখন তো কলেজ বন্ধ ওকে কয়েকদিনের জন্য আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দাও। যদি ঘুরে যায় তাহলে মনটা ভালো লাগবে।
__আমার শরীরটা ঠিক হোক তারপরে পাঠাবো নইলে আমি এখন অসুস্থতার মধ্যে একলা থাকবো কখন কি প্রয়োজন হয় তার তো ঠিক নেই?
__হ্যাঁ তাও এক কথা।এই শীতে সাবধানে থেকো গোসল করার সময় গরম পানি করে নিও। আর এই অসুস্থ শরীর নিয়ে তুমি রান্না না করে তো তমাকে দিয়েও তো রাধতে পারো। এখন ও বড় হয়েছে আর কয়েকদিন পর বিয়ে দিলে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে কাজ কাম করতে হবে।
__চুপ কর তো তুই শারমিন যদি একবার তোমার শুনে নেয় তাহলে কিন্তু আবার ঝগড়া বাধাবে তোর সাথে। তুই তো জানিস যে ও কেমন একটু থেকে একটু কিছু হলেই ওর মাথাটা খারাপ হয়ে যায়।
__তোমার মেয়ের এত রাগ আসে কোথা থেকে মা? এমন তো না যে ও দুই একটা চাকরি করে সংসার চালাচ্ছে যে এখন ওর কথা শুনে সবাইকে চলতে হবে?
__তুই তো জানিস শারমিন তোর বাবা মারা যাওয়ার পরে কত কষ্ট করে তোদের দুইজনকে আমি মানুষ করেছি। তুই সংসারী হলেও তমা উড়নচন্ডি। দুজন দু রকমের এখন আমি মা হয়ে কোন দিকে যাব তুই বল।
পেছন থেকেই তমার গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। তমা কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে তার রহিমা খাতুন খেয়াল করেনি কিন্তু ফোনের বলা প্রতিটি কথায় তমা শুনতে পেয়েছে। অমনি ওর হম্বিতম্বি শুরু,
__তা তোমার বড় মেয়ে কোন কুমন্ত্রণা দিচ্ছে তোমায় মা? শ্বশুর বাড়ি বসে থেকেও ওর কুটনামি শেষ হয় না? আমার শান্তি কি ও কোনোকালেই দেখতে পারবে না?
মেয়েকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলেন রহিমা খাতুন,
__এই তুই চুপ করতো মা ও তো সত্যি কথাই বলেছে। এই বয়সে এসেও রান্না বানাতে হাত লাগাস না তোর ভবিষ্যতে কি হবে?
__আজীবন শুধু নিজের বড় মেয়ের টান টেনেই যাও মা এরপর যখন দেখবে তোমার ঘাড়ে এসে পড়েছে তখন বুঝতে পারবে।
হই হই করে জোরে জোরে পা ফেলতে ফেলতে হেঁটে চলে গেল তমা। রহিমা খাতুন এর কান থেকে ফোনটা আলগা হয়ে এলো ততক্ষণে বোধহয় কেটে দিয়েছে শারমিন। আজকাল মেয়ের মতিগতি তিনি ঠিক বুঝতে পারেন না ছোট মেয়েটা একেবারে দিন দিন উচ্ছন্ন চলে যাচ্ছে।।
#চলবে
