গল্প- গোপন সংসার
পর্ব ১১
লেখক : রিহান অরণ্য
তূর্য কাল দুপুরে বাসায় আসবে, তাই আজকে সন্ধ্যায় বাহিরে গিয়ে সিফিনের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে আনলাম সাথে তূর্যের জন্য একটা T-shirt কিনে আনলাম, রাতে আবার মেসেজ দিলাম কাল আসবেন তো শিওর? তূর্য বললো হ্যাঁ আসবো,তবে রাতে থাকতে পারবো কি না জানি না । আমি বললাম রাতে থাকা লাগবে না, কয়দিন পর তো এমনি তে আরেক জনের সাথে থাকবেন । আমার মেসেজে উনি রাগের ইমুজি দিলো । আমি বললাম রাগ হওয়ার কোন কারণ নেই, কাল আসেন । সকালে সিফিন কে তার প্লাস্টিকের ক্রিকেট ব্যাট. দিয়ে খেলতে দিয়ে রুমের দরজা আটকিয়ে দিলাম যাতে বাহিরে না যায়, আমি ওকে রেখে বাহিরে যাই কেন তাই ব্যাট দিয়ে আমাকে মা*রে, তখন আমি ওর কানে কানে বললাম এই ব্যাট দিয়ে তোর বাবা রে মা*রবি, তোর বাবা আমাকে রেখে অন্য জায়গায় বিয়ে করতেছে, ওমা এখন উলটা আমার চুল ধরে আমাকেই মারতে লাগলো, যেমন তার বাবা তেমনি তার ছেলে,এতো দিন পর একটা মনের কষ্টের কথা বললাম তা ও আমাকেই মা*রতে লাগলো, রান্না করা শেষ, সিফিন কে গোসল করিয়ে আমি গোসল করতে যাবো তখনি ওর বাবা চলে এসেছে, আমি তূর্য কে বললাম দরজা লাগিয়ে দেন আপনার ছেলে সুযোগ পেলেই বাহিরে চলে যায়, আমি গোসল করে আসি, তূর্য বললো, ঠিক আছে, আমি গোসল করে এসে ৩ জনে এক সাথে দুপুরের খাবার খেলাম, তার পর তূর্য সিফিন কে নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে, আমি ও খাটের এক কোনায় বসে আছি, আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কিছু তো বলছো না,চুপচাপ থাকলে কীভাবে হবে, তখন আমি বললাম বিয়ে কবে করবেন ? তূর্য বললো এখনো জানি না,তবে পরের সপ্তাহে, আমার ইচ্ছে নেই বিয়ে করার কিন্তুু ফ্যামিলি চাপ সহ্য করার মতো না, ওরা আমার জন্য এতোদিন অপেক্ষা করছে, গত বছর আমি তোমাদের না জানিয়ে এসে আংটি পরিয়ে গেছি, আমি বললাম আপনি যে দেশে এসেছেন সেটা আমি জানি, তূর্য বললো তুমি কিভাবে জানো, আমি বললাম স্বপ্নে দেখেছি,থাক এসব বাদ তা আপনি তাহলে বিয়ে করছেন এটা ১০০% শিওর, বুঝতে পারলাম, তবে আমি যে জিনিস টা চাইবো সেইটা কিন্তু না করতে পারবেন না, আমার হাত ধরে কথা দিন, তূর্য বললো হ্যাঁ ,কথা দিলাম, তখন আমি বললাম অর্নিদের বাড়ি তে যাবো আমরা ৩ জন, তূর্য বললো মানে ইন্ডিয়া, আমি বললাম হ্যাঁ, তূর্য বললো এতোদিন পর অর্নির কথা মনে হলো তোমার,আমি বললাম হ্যাঁ,, সিফিন কে প্রথম কোলে নিয়ে আমি তার মার কথা জিজ্ঞেস করছি, আপনি বলছেন সিফিন একটু বড় হলে ওকে নিয়ে যাবেন, এখন সিফিন বড় হয়েছে, সব থেকে বড় কথা হলো আপনি বিয়ে করলে তখন আর কোন দিন সিফিন কে নিয়ে ওখানে যেতে পারবেন না, তা ছাড়া আমি ও থাকবো না, কিন্তু যে এমন একটা ফুল কে জন্ম দিছে তার কবর টা দূর থেকে দেখতে চাই, আর আপনি ও ওর থেকে পারমিশন নিয়েন নতুন জীবনে পা দিবার আগেই, তূর্য বললো রেসি,তুমি সত্যি অনেক ভালো একটা মেয়ে,কেউ কোন দিন আমাকে এভাবে বলবে না,সত্যি তো আমি অর্নি কে ভালোবেসে বিয়ে করছি তার আমানত আমার পাশে, আর যে এতো দূরে ঘুমিয়ে আছে, আমার আরো আগেই অর্নির কথা মনে করার উচিত ছিলো, রেসি আমি কথা দিলাম তোমাকে আমরা যাবো অর্নির বাড়ি,, রেসি, আমি ভাবছি আজকে আমার থেকে আমার কলিজা টা চেয়ে নিতে চাই তা যদি তাহলে তারে দিয়ে দিতাম, সত্যি আজকে তুমি সিফিন কে চাইলে তারে দিয়ে দিতাম আমার কষ্ট হলে ও, কিন্তু তুমি এমন জিনিস চাইলে যারে আমার জীবনের চাই তে বেশি ভালোবাসতাম, যে আমার কলিজা কে জন্ম দিয়েছে,আমি বললাম কে আপনার কলিজা? তূর্য বললো সিফিন আমার কলিজা, আমি বললাম সেটা আমি জানি তাই চাই নি, ( মনে মনে বলতে লাগলাম আমি চাইলে ২ জনকেই চাইবো,) এখন যেটা চেয়েছি সেটা পূরণ করেন প্লিজ, তূর্য সিফিন পাসপোর্ট চেক করে দেখলো একনো মেয়াদ আছে, আমার পাসপোর্ট আছে নাকি জিজ্ঞেস করলো,আমি বললাম না, কিভাবে করে সেটা ও জানি না, তূর্য বললো টেনশন নেই আমি করে দিবো, সিফিন কে বুকে জড়িয়ে শুয়ে আছে তূর্য, সিফিন আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমি ওরে ইশারা দিতেই চলে আসলো আমার কাছে, আমি তূর্য কে বললাম আর ২ মাস পরে এই বাসা ছেড়ে চলে যাবো আমরা, আপনি এক দিকে আমি এক দিকে কোন দিন কি আমার কথা মনে পরবে না আপনার, এটা বলে মাথা নিচু করে ফেললাম তখন চোখের পানি বেরিয়ে সিফিনের গালে পরছে, সিফিন কোল থেকে নেমে তার ব্যাট নিয়ে তার বাবা কে মা*রতে লাগলো, আমি সাথে সাথে ওরে ধরে ফেললাম, আমি বলতে লাগলাম সিফিন আব্বুর সাথে এমন করে না উনি তোমাকে খেলনা কিনে দিবে, তূর্য সত্যি মনে করছে খেলনার জন্য সিফিন এমন করছে,তাই ওকে নিয়ে বাহিরে গেলো, আমি সেই সুযোগে চিৎকার করে কান্না করে নিলাম,, তারা একটু পর বাসায় আসলো, তূর্য বললো রেসি ,তোমার আইডি কার্ড দাও, পাসপোর্ট করবো, আমি যা যা লাগে উনাকে দিলাম উনি সব নিয়ে চলে গেলো, বললো রাতে বাহিরে থাকলে আব্বু আম্মু কে ব*কা দেয়, তাছাড়া কদিন পর এমনি তে ইন্ডিয়া যাবো, এই জন্য অনেক কষ্ট করে বাসা থেকে অনুমতি নিতে হবে, তুমি সিফিনের খেয়াল রেখো, তূর্য চলে গেছে, আমার পাসপোর্ট টা ইমার্জেন্সি করছে, তূর্য তার বাসা থেকে দার্জিলিং বেড়াতে যাবে, লেখা পড়া শেষ করছে একটু বাহিরে ঘুরতে যাবে তার পর বিয়ে করবে এসব বলে তার মার থেকে অনুমতি নিছে, তার মা তার বাবার কাছে বলছে তার বাবা বললো একা যেতে দিবে না যারে বিয়ে করবে তারে নিয়ে যেতে কিন্তুু তূর্য বললো আমরা ছেলেরা ছেলেরা যাবো এখানে মেয়ে মানুষ কেন, তার আম্মু বুঝিয়ে বলে তার আব্বুর থেকে অনুমতি নিলো, আমাকে ফোন দিয়ে বললো রেসি সব কিছু রেডি এখন ঠিকানা যোগাড় করা বাকি, আমি বললাম আপনি এখনে চলে আসেন ঠিকানা আমার কাছে আছে, তূর্য বললো তুমি কিভাবে ঠিকানা জানবা, আমি বললাম এতো কিছু জানার দরকার নেই আপনি টিকেট কেটে আসেন তার পর বাকিটা আমি বলবো, তূর্য বললো টিকেট আগে না, আগে ভিসা নিতে হবে, আমি আজকে ভিসার আবেদন করবো, আমি বললাম ঠিক আছে, যা করার তাড়াতাড়ি করবেন আর মাত্র ১ মাস ১২ দিন বাকি এখান থেকে চলে যাবার, তূর্য বললো ঠিক আছে টেনশন করো না, ২ দিনের মধ্যে ভিসা প্রসেসিং কাজ শেষ করে টিকেট কাটছে, ইন্ডিয়া যাবার আগের দিন রাতে সে আমার বাসায় চলে এসেছে, বাসায় এসেই বললো সব গুছিয়ে রাখো সকালে বের হবো এখন বলো অর্নি ঠিকানা কিভাবে কি, আমি বললাম এই যে অর্নি পাসপোর্ট, আপনি তো এটা সেই প্রথম থেকেই এখানে রেখে গেছেন
আমি অনলাইনে সার্চ দিয়ে সব কিছু খোঁজ নিছি, এমন কি ওর এলাকায় এক জন মেয়ের সাথে ও আমার কথা হয়েছে, আমি ওরে আমার মিথ্যা পরিচয় দিছি, বলছি আমি আগে অর্নির সাথে লন্ডনে ছিলাম এখন বাংলাদেশে, আমরা যাবো শুধু ওর কবরটা দেখার জন্য, তূর্য বললো তুমি এতোকিছু কখন করলা,আমি বললাম সেটা আরো আগেই সারাদিন বাসায় থেকে কোন কাজ নেই তাই সিফিনের আম্মুর ঠিকানা খুঁজে বের করে ওই এলাকার নামে যে স্কুল আছে ওই স্কুলের পেইজ খুঁজে বের করে পেইজে কে কে ফলো দিছে সবার আইডি চেক দিছি, তখন একটা মেডামের আইডি তে রিকুয়েষ্ট দিয়ে উনার সাথে পরিচয় হইছি, কলে কথা বলছি, কাল যে যাবো সেটা ও বলছি বিশ্বাস না হয় একটু অপেক্ষা করেন উনাকে ফোন দেই, আমি মেসেঞ্জারের মেডাম কে ফোন দিয়ে বললাম আপু আমরা কিন্তু কাল আসবো তুমি কিন্তু আমাদের তোমার বাসায় নিয়ে যাবে, উনি বললো ঠিক আছে, আমি আমার হাসবেন্ড কে বলে রাখছি উনি তোমাদের কে বাসায় নিয়ে আসবে, ফোন কেটে দিয়ে তূর্য কে বললাম এখন বিশ্বাস হইলো তো,। তূর্য বললো হ্যাঁ হয়েছে, তুমি যার বউ হবে তার আর কষ্ট করা লাগবে না, এমনিতে তুমি সব কিছু আগে আগে করে নিবা,আমি বললাম কি করে নিবো উনি বললো কিছু না,, রাতে তাদের বাবা ছেলে কে এক সাথে ঘুমাতে বলছি, আমি ওই রুমে চলে যাবো তূর্য বার বার বললো না এখানেই থাকো আমি বললাম না, আপনি ঘুমান, তূর্য বললো তুমি চলে গেলে আমি বাহিরে চলে যাবো রাত শেষ হলে আসবো, আমি বললাম না থাক, আমি আছি, সিফিন কে নিয়ে তূর্য ঘুমিয়ে গেছে, আমি দাঁড়িয়ে আছি তাদের পাশে, ভাবতে লাগলাম সিফিন তার বাবা কে চিনে উনার সাথে থাকতে পারবে আমি না থাকলে ও ওর সমস্যা হবে না, আমি মায়া লাগিয়ে নিজেকে শেষ করলাম কিন্তুু তূর্য যেন সিফিন কে কষ্ট না দেয় এই মায়াবী চেহারাটা যেন কোন দিন কষ্টের ছাপ না আসে, এখন নীচে গিয়ে শুয়ে আছি, কান্নার করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানি না হঠাৎ তল পেটে ঠান্ডা কিছু অনুভব করলাম,চোখ খুলে দেখি সিফিন আমার পাশে শুয়ে তার পা আমার পেটে রেখে দিছে,, আমি উঠে ওর গায়ে চাদর দিলাম ওর ঠান্ডা লাগছিলো, ওয় একা একাই এসেছে আমার কাছে মনে হয় ঘুম ভেঙ্গে যাবার পর আমাকে ওর পাশে না পেয়ে নিচে নেমে এসেছে ওর বাবা ও মনে হয় টের পায়নি, আমি সিফিন কে জড়িয়ে ধরে ২ জনে চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে গেছি, সকালে তার বাবা আমাদের ডেকে তুলছে, তাড়াতাড়ি রেডি হবার জন্য, আমি সিফিন কে আগে রেডি করে দিলাম, তার পর আমি রেডি হলাম, তূর্য কে বললাম আপনার কাছে কি সিফিনের আম্মুর ছবি নাই,তূর্য বললো আছে ল্যাপটপ,আমি বললাম বের করে আমার ফোনে দেন, উনি ছবি বের করে আমার ফোনে দিছে, আমি বললাম ভিডিও থাকলে ও দেন কাজে লাগতে পারে,তূর্য ভিডিও ও দিলো, সিফিন তার বাবা আর তার মা এক সাথে যে ছবি আর ভিডিও গুলো ছিলো সে গুলো আলাদা করে রাখলাম, এখন বাসা থেকে বের হয়ে গেছি, এয়ারপোর্টে যাবো তার পর কলকাতা যাবো সেখান থেকে গাড়িতে বারাসতে, আমরা যথাস ময়ে বোডিং পাস নিয়ে প্লেনে উঠে গেছি,
চলবে।
