Saturday, June 6, 2026







গোপন সংসার পর্ব-০৬

গল্প – গোপন সংসার
পর্ব -৬
লেখক : রিহান অরণ্য

তূর্য আমাকে চুড়ি খুলতে দিচ্ছে না আমি বার বার বললাম শব্দ শুনলে সিফিন উঠে যাবে, তার পর ও শুনে না, আমি ওর চোখে দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ লাল হয়ে আছে, আমি বুঝতে পারলাম তূর্য তার মধ্যে সে নেই, এই অবস্থায় তূর্য কে এখন বেসামাল করা যাবে না, তাইলে আমি শেষ, আর এমনি তে ওনি রেশমির সাথে ওইসব করছে এখন আমি সুযোগ দিলে আমার সব শেষ হয়ে যাবে। তাই রুমের দরজা খুলে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছি, কোথাও যাবার আর জায়গা নেই।

কিছু সময় বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে আবার রুমে গেলাম, গিয়ে দেখি তূর্য নিচে বিছানা করে শুয়ে আছে, আমি সিফিনের পাশে গিয়ে শুয়ে পরলাম, ঘুম আসতেছে না ফোন টিপছি, যতোক্ষণ শুইয়ে ফোন টিপছি তার মধ্যে তূর্য ২ বার পানি খাইছে, সে কি সত্যি পানি খেতে উঠে নাকি আমাকে দেখার জন্য উঠে কে জানে, তার পর ও আমি ঘুমাই না, একটু পর আবার উঠে পানি খেতে গেলো তখন আমি লাইট অন করলাম, দেখি ওনার শরীর ঘেমে গেছে চোখ গুলো লাল হয়ে আছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে ওনি কথা না বলে হাতে ইশারা দিয়ে বললো কিছু না, আমি বিছানা থেকে উঠে দাড়িয়ে গেলাম ওনার কিছু একটা তো হয়েছে, কিন্তুু কি হয়েছে কিছু তো বুঝতে পালাম না।

আমি ওনার কাছে গেলাম জিজ্ঞেস করলাম ওনার শরীর খারাপ নাকি, ওনি কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে আছে।শুধু একবার বললো টক জাতীয় কিছু আছে নাকি রুমে, আমি বললাম টক কিছু নেই, লেবু আছে, ওনি বললো না থাক তুমি শুয়ে থাকো।

এইবার বুঝতে পারলাম ওনি কিছু খাইছে, তার চোখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি নে*শা করেন?ওনি বললো মাঝে মধ্যে তবে আজকে অনেক বেশি, আমি ওনাকে রেখে ভাবির রুমে দরজা টুকা দিলাম জিজ্ঞেস করলো কে, আমি কথা বলতেই বললো ভাবি একটু অপেক্ষা করেন, ২/৩ মিনিট পর দরজা খুললো ভাবি, তা ও ওনার শরীর ঘামে ভিজে গেছে।আমার আর বুঝতে বাকি নাই কেন দেরি হলো দরজা খুলতে, আমি বললাম তোমাদের রুমে কি টক জাতীয় কিছু আছে একটু দরকার, ভাবি বললো তেতুলের আচার আছে, আমি বললাম দাও, ওনি আমার হাতে দিয়ে বললো ভাবি আবার ও কিছু হবে নাকি, আমি বললাম না তবে এইবার আপনার ভাইয়ার হবে ওনার জন্য নিচ্ছি, এই বলে চলে আসলাম, রুমে৷ গিয়ে তূর্যের পাশে বসে ওরে আচার খাওয়া তে লাগলাম, টক খাওয়ানোর পর একটু ঠিক হইছে, রাত অনেক হয়ে গেছে কেউ ঘুমাচ্ছিনা।

আমি তূর্য কে জিজ্ঞেস করলাম এইসব কি ছাড়তে পারবেন, ওনি বললো চেষ্টা করবো তবে আজকে সিফিনের আম্মুর কথা বেশি মনে পরছে, তাই নিজেকে ক*ষ্টের হাত থেকে বাঁচা*নোর জন্য এসব খাইলাম আমি তূর্য কে বিছানায় চলে আসতে বললাম নিচে থাকতে হবে না।ওনি উপরে এসে শুয়ে আছে, আমি ও অপর পাশে শুয়ে আছি, মাঝখানে সিফিন। তূর্য সিফিনের কাছাকাছি এসে শুয়ে আছে, কিন্তু আমি না করলাম কারণ ওনার মুখে গন্ধ বাচ্চার সমস্যা গতে পারে, তাই আমি সিফিন কে নিয়ে নিচে চলে গেলাম, যেই ওরে নিচে নামিয়ে আনালাম এমনি ওর ঘুম ভেঙে গেছে।
কান্না শুরু করে দিছে, ওর কান্নার জন্য ওর বাবা এসে আমার পাশে বসে আছে আর এক পলকে তাকিয়ে আছে সিফিনের দিকে, একটু পর সে আমার পায়ের কাছেই ঘুমিয়ে গেছে, আমি সিফিন কে ঘুম পাড়িয়ে বিছানার উপরে নিয়ে গেলাম আর তার বাবাকে ডেকে তুলে বিছানায় ঘুমাতে বললাম ওনি বিছানায় চলে গেছে। আমি সিফিন কে নিয়ে আমার সাইডে রেখে শুয়ে আছি, কখন ঘুমাইছি টের পাইনি, এই দিকে সিফিন ঘুম থেকে উঠে আমাদের মাঝখানে বসে আছে, কখন উঠলো বুঝতে পারলাম না কিন্তু সে কান্না করে নি কেন, এমন ভাবে আমাদের দিকে তাকাছে কিছু বলতে চাচ্ছে একবার ওর বাবার দিকে তাকায় আবার আমার দিকে।

ওই দিকে ওর বাবা ঘুমাচ্ছে, ভাবছি উঠে গিয়ে রান্না করবো কিন্তু সিফিন আমার সাথে খেলা করছে তাই উঠতেই পারছি না, এখন আবার সে তার বাবার মুখে কি জানি করলো ওর বাবা ও উঠে গেছে, ওনি সিফিনের দিকে তাকিয়ে থেকে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে এসেছে, তার পর সিফিন কে তার বুকের উপর তুলে রাখলো, তার বাবার বুকে উঠে আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো সিফিন, সিফিনের জন্য আমরা একে অপরে এতো কাছে চলে এসেছি যে আমরা বুঝতে পারছিলাম না, আমি লজ্জা পেয়ে উঠে যেতে চাইলাম কিন্তু তূর্য আমার হাত ধরে বললো এখন যেওনা, তুমি চলে গেলে সিফিন কান্না করবে আজকে ওর মুখে অনেক হাসি দয়া করে ওর হাসি টা নষ্ট করো না।আমি কোন উপায় না দিখে চুপচাপ শুয়ে আছি ওনার পাশে,আর সিফিনের সাথে কথা বলছি,আমি যাই বলি না কেন সে শুধু হাসে, একটু দূরে ছিলাম সিফিনের থেকে, তাই তূর্য আমার মাথার তলে হাত দিয়ে একেবারে ওনার বুকে নিয়ে এসেছে সিফিনের পায়ের কাছে, আমি বুঝতে পারলাম না কি হচ্ছে, চোখ সিফিনের দিকে অন্য কোথাও তাকাচ্ছি না।

আমি ভিতর থেকে নিজের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছি, তবুও সিফিনের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলাম,আজকে সিফিন অনেক খুশি, খাওয়ার নাম নাই বাবার বুকে বসে আছে।
আমি একটু সুযোগ খুজেই উঠে যেতে লাগলাম তূর্য তখন আবার আমার কোমরে হাত দিয়ে ধরে রাখছে। আমি বললাম এখন উঠে যাই রান্না করা লাগবে সিফিন জন্য খাবার রেডি করা লাগবে, কিন্তুু তূর্য ছাড়ে না, সে বলতে লাগলো
খাবার একটু পরে খাওয়া যাবে কিন্তুু তুমি চলে গেলে সিফিনের মুখে হাসি চলে যাবে,আমি এই প্রথম আমার ছেলেকে এতো হাসতে দেখলাম,প্লিজ একটু থাকো।
ওনার কথা শুনে আবার সিফিনের পায়ের কাছে মাথা রাখলাম, কিন্তুু জায়গাটা একটা ছেলের বুকে, যেখানে আমারা ২ জনেই প্রাপ্ত বয়স্ক এটা তূর্য বুঝতে পারছে না। মেয়েদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হলো ছেলেদের বুক,তা ছাড়া ওর বুকের পশমের ছোয়া গুলো আমাকে বেসামাল করে দিচ্ছে।
একটু পর তূর্য কে বললাম এখন যাই, ওনি বললো এতো তারা কেন তোমার কি বেশি খিদে পেয়েছে তাইলে তুমি থাকো এখানে আমি বাহির থেকে খাবার নিয়ে আসি। এই কথা শুনে আমি বললাম, না বাহিরে যেতে হবে না। আর এই জায়গায় আমাকে না রেখে রেশমি কে রাখেন। ওয় তো এই জায়গায় আরো আগেই গেছে, আমার কথা শুনে তূর্য বললো মানে, রেশমি কে কেন আমার বুকে রাখবো,আর ওয় আমার বুকে আগেই এসেছে মানে কি? আমি বললাম কেন আমি যখন বাড়িতে ছিলাম তখন রেশমি কে আপনি কিছু করেন নাই মনে হয়?ওয় কি এমনি এমনি সব খুলে শুয়ে থাকতো নাকি,সেটা তো আপনাকে দিবার জন্য করতো এসব।

আমার কথা শুনে তূর্য রেগে গেলো।বুক থেকে সিফিন কে নামিয়ে দিছে, আমার দিকে তাকিয়ে বললো এমন মি*থ্যা অপ*বাদ কেন দিচ্ছো। আমাকে কি তোমার এমন মনে হলো যেখানে রেশমি তোমার বান্ধবী তারে আমি কি ভাবে,ছি ছি।

তবে এটা সত্যি রেশমি সব খুলে সিফিন কে নিয়ে শুয়ে থাকতো এমন কি আমার রুমে ও এসেছে, তার এসব দেখে আমি বুঝতে পারছিলাম সে আমার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে চাই, এটা তার চাহিদা ছিলো ছিলো সার্থ, ওয় আমাকে বলছে সে লন্ডনে যেতে চায় ওরে নিয়ে যেতে সে সিফিন কে দেখে রাখবে, আরো অনেক কিছু, এমনি কি সে আমার সাথে থাকার জন্য অর্ধনগ্ন হয়ে আমার রুমে এসেছে তার চাওয়া ছিলো আমাকে পা*গল করে ওরে যেন লন্ডনে সিফিনের মা পরিচয়ে নিয়ে যাই। কথা গুলো এতোদিন বলি নাই তোমাদের বন্ধুত্ব ন*ষ্ট হবে তাই, তাই তোমাকে বলছিলাম ওরে বার করে দিতে। আর তুমি এইদিকে আমাকে দো*ষী করলে, আমি যদি কাউকে করি সেটা হবে সিফিনের আম্মু, এখন যদি সিফিন তোমাকে আম্মু ডাকতো তাইলে তোমার আর আজকে বিছানা থেকে উঠা লাগতো না, কাল রাতে টক খেয়েছি কি এমনি তেই নাকি।নিজেকে কন্ট্রোল করার জন্য তোমাকে শাড়ি পরা দেখে মাতাল হয়ে গেছিলাম।

আমি মনে মনে বলতে লাগলাম আয় হায় সিফিন তো আমাকে মাঝেমধ্যে মা মা করে ডাকে, প্লিজ সিফিন এখন আর মা ডাকিস না। মনের মধ্যে ভয় চলে আসলো কখন জানি ডেকে ফেলে।আমি তূর্য কে বলে সিফিনের জন্য খাবার রেডি করলাম,আর মনে মনে রেশমির কথা ভাবতে লাগলাম, সে এতো খারাপ অগ্রিম কন*ডোমের প্যাকেট কিনে রাখছে ওর সব দেখিয়ে যদি তূর্য কে বিছানায় নিতে পারে তাইলে তো ওর লাভ, মানুষ এমন কেন এসব মেয়েকে বান্ধবী বলতে ও লজ্জা লাগে।

সিফিনের জন্য খাবার রেডি করে ওরে খাওয়াতে গেলাম তূর্য আমাদের জন্য বাহির থেকে খাবার অডার করছে।

এখন আমার রুম খালি হয়ে গেছে ওনারা চলে গেছে, আমি সিফিন কে আমার রুমে এনে খাওয়ালাম।
একটু পর তূর্য বাহির থেকে খাবার ডেলিভারি দিছে ওটা নিয়ে আমার রুমে, আমি সিফিন কে খাওয়াচ্ছিলাম, ওর বাবা তখন বললো তাইলে এখানেই বসে খেয়ে নেই, তূর্য খাবার শুরু করলো সিফিন তার বাবার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি সিফিনকে তার বাবার সামনে বসিয়ে ফ্রিজ থেকে পানি আনতে গেলাম এর মধ্যে বাপ পোলার মধ্যে কি হয়েছে জানিনা সিফিন ম্যা ম্যা করে কান্না করতে লাগলো,আমি এসে ওরে কোলে নিলাম দেখি ওর মুখে ওর বাবা তার খাবার থেকে একটু সিফিনের মুখে দিছে তাই কান্না শুরু করে দিছে। আমি তূর্য কে বললাম আপনি কি পাগ*ল ওয় বাচ্চা মানুষ এসব খাবার সে কি ভাবে খাবে, আপনি আর এসব দিবেন না ওরে।
আমি সিফিনের মাথা হাতিয়ে দিচ্ছি কোলে নিয়ে, এখন তূর্য বললো ওর মাথায় তো কিছু হয়নি তো মাথা হাতিয়ে দিচ্ছো কেন।আমি বললাম ওয় কষ্ট পেয়ে কান্না করছে তাই মাথা হাতিয়ে দিচ্ছি।ওয় আপনাকে ভয় পেয়েছে, আপনি রুমে চলে যান আমি সিফিন কে নিয়ে আসি আপনার কাছে ২ বাপ বেডা এক সাথে শুয়ে থাকেন, ওরে সময় দিন তখন দেখবেন ওয় আপনার সাথে কথা বলবে, ওহ আপনি তো আর ওর কথা বুঝবেন না, তূর্য বললো না এখন চলে যাবো আম্মু ফোন দিছিলো, আমি বললাম আবার কখন আসবেন,তূর্য বললো জানি না তুমি সিফিন কে দেখে রেখো।
তূর্য রেডি হতে লাগলো আমি আমার রুমে এসে সিফিন কে নিয়ে বসে আছি, তূর্য রেডি হয়ে এসে সিফিনকে কোলে নিতে চাইলে সিফিন সে সময় আমাকে মা ডেকে ফেলছে,এটা তূর্য শুনে ফেলছে, তূর্য আবার বললো আবার ডাকো মা, এইবার আর ডাকে না, তূর্য আমাকে বললো সময় টা কম না হয়।

আমি বললাম কি, আপনি যান এখন বাসায় গিয়ে ফোন দিয়েন, তূর্য চলে যাবার পর আমি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বললাম বাঁচ*লাম আবার যদি মা ডাকতো তাইলে আর আমার র*ক্ষা ছিলো না।

তূর্য চলে যাবার পর ৬ দিন পার হ’য়ে গেছে সে শুধু ফোনে কথা বলছে কিন্তুু বাসায় আসে নি, ওরা নাকি ফ্যামিলির সবাই মিলে ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য ওনার নানার বাড়ি গেছে।ওখান থেকে ফিরে ২ দিন পর সে চলে যাবে,সে কোন ভাবে সময় বার করতে পারছে না।
এই দিকে আমি ও বাসায় একা রুমের ভাড়াটিয়া বেড়াতে গেছে, আমি তূর্য কে বললাম তারাহুরো করার দরকার নেই সময় পেলে আসবেন না হলে আসতে হবে না।সত্যি সে সময় সুযোগ করতে পারছে না বাসা থেকে বের হতে পারিনি, তার ছুটির সময় শেষ।
সে চলে যাবে আমাদের কাছে আসতে পারেনি তাই ওর মন খারাপ সিফিন কে দেখতে না পারায় ওর মন ছটফট করতে লাগলো।আমি বললাম আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, আপনার ফ্লাইট কখন ওনি বললো রাত ১১ টায়, আমি বললাম ঠিক আছে আমি ১০ দিকে সিফিন কে নিয়ে এয়ারপোর্টে থাকবো কথা বলা লাগবে না শুধু সিফিন কে দুই চোখে দেখে যাবেন।

যথাসময়ে আমি সিফিন কে নিয়ে এয়ারপোর্টে গেছি,
তূর্য সাথে ওর বাবা ও থাকবে, ১ নাম্বার টার্মিনালের সামনে দাড়িয়ে আছি তূর্য কে দেখছি না, একটু পর কালো একটা গাড়ি থেকে নামলো ওরা বাপ ছেলে, সাথে ওর আম্মু ও ছিলো, তূর্য দূর থেকে তাকিয়ে আছে আমার আর সিফিনের দিকে, এক মিনিটের মধ্যে সে চলে গেলো, এখন আমারই খারাপ লাগছে,কেমন একটা মায়া কাজ করছে জানি না।

সিফিন কে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম, আমার ও কলেজ খুলা, ক্লাস করতে হবে নিয়মিত আমাকে যারা দুনিয়াতে এনেছে তাদের কে ও তো নিরাশ করতে পারবো না লেখাপড়ার দিকে ও মন দিতে হবে।

বাসায় গিয়ে সব গুছগাছ করে আমি সিফিন কে নিয়ে
টিভি দেখতে বসলাম, একটু পর ভাড়াটিয়া ভাবি আসলো ওনার জামাই বাসায় নেই আমি ভাবি কে বললাম আপনি সিফিনের কাছে একটু থাকেন আমি বাহিরে যাবো কিছু কেনাকাটা আছে, ভাবি কে বসিয়ে আমি বাহিরে গেলাম, বাসার জন্য কিছু জিনিস পত্র কিনে নিয়ে আসার সময় অচেনা একটা নাম্বার থেকে কল আসলো, ফোনটা রিসিভ করতেই একজন বললো আমি তর ফুপি, তর বাপে এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে তুই বাড়ি আয়, সত্যি ওনি আমার ফুপি ছিলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম কেমনে কি হলো এটা না শুনেই ফোন কেটে দিছে, আমি সাথে সাথে মা কে ফোন দিলাম মা ও বললো আমি তর বাবা কে নিয়ে হাসপাতালে আছি
তর যদি মন চায় তাইলে দেখতে আয়।

আমি এখন চিন্তায় পরে গেছি, সিফিন কে কার কাছে রেখে যাবো, আমাকে ছাড়া তো সে থাকবে না,,
আমি চিন্তা করলাম সিফিন কে নিয়ে যাবো, বাসায় গিয়ে ভাবি কে বললাম আমার হাতে সময় নেই সিফিন কে একটু রেডি করে দিন ওরে নিয়ে আমি আমার বাড়িতে যাবো।

ভাবি জানতে চাইলো কি হ’য়েছে আমি বললাম আব্বু অসুস্থ
ভাবি সিফিন কে রেডি করে দিলো আমি ব্যাগে সিফিনের কাপড় সব কিছু নিয়ে সিফিন কে কোলে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছি, টার্মিনালে গিয়ে টিকেট কাটলাম, বাচ্চার টিকেট লাগবে না, ৩০ মিনিট পর গাড়ি ছাড়বে, অপেক্ষা আর শেষ হয়না।

একটু পর ভাবি ফোন দিয়ে বললো আপনি কি গাড়িদিয়ে যাবেন, আমি বললাম হ্যা টিকেট কেটে ফেলছি,ভাবি বললো সিফিনকে নিয়ে এই প্রথম এতদূরে যাচ্ছেন একটু সাবধানে যাবেন, আর না হয় প্রাইভেট কার নিয়ে যান, আমি বললাম সত্যি তো সিফিন কে নিয়ে তাইলে গাড়িতে না প্রাইভেট কারে যাবো টাকা যতো লাগে লাগুক। টিকেট ফেরত দিয়ে গাড়ি ঠিক করলাম।
১৮ হাজার টাকা চায় আমি বললাম কম হলে যাবো অন্য এক জন ১৬ হাজার রাজি হলো আমি বললাম ওই জায়গায় নেমে বিকাশে টাকা দিবো ড্রাইভার রাজি হলো।

সিফিন কে নিয়ে রউনা দিলাম রাস্তায় অনেক বার আমাকে ফোন দিছে কতোদূর আসলাম কয়টা বাজবে আসতে।আমি টাইম বলতে পারছিলাম না শুধু বললাম কোন হাসপাতালে নিছে আমি সোজা হাসপাতালে যাবো ফুপি বললো হাসপাতালে যেতে হবে না বাড়িতে আয়, তর বাবা কে আমরা ডক্টর দেখিয়ে বাড়ি নিয়ে এসেছি, এই খানে যে ওদের চাল ছিলো আমি বুঝতে পারি নি, আমি গাড়ি নিয়ে সোজা বাড়ির গেইটের কাছে গেলাম। গাড়ি দেখে আসেপাশে মানুষ সবাই এসেছে, আমি গাড়িতে বসেই ডাইভার কে টাকা দিয়ে দিছি, গাড়ি থেকে সিফিন কে কোলে নিয়ে নামলাম বাড়ির মানুষ গুলো যতোটা আগ্রহ নিয়ে এসেছে গাড়ির কাছে আমার কোলে বাচ্চা দেখে সবাই পিছিয়ে গেছে, শুধু মা এসে বললো রেসি এটা কার বাচ্চা আমি বললাম ঘরে চলো পরে বলবো,আশেপাশে মানুষ সবাই ধরে নিছে আমি বিয়ে করছি এই বাচ্চা আমার।

বাড়িতে যাবার পর বাবার রুমে গেলাম গিয়ে দেখি হাতে একটু বেন্ডেজ তেমন কোন গুরুতর না, আমি বললাম ফুপি কে এসব নিয়ে মি*থ্যা অভিনয় করবেন না, ফুপি বললো তরে না বললে তুই আসতে নাকি, বাবা জিজ্ঞেস করলো এই বাচ্চা কার,আমি বললাম সবাই জিজ্ঞেস করলে কারে উত্তর দিবো।আমি মাকে বললাম আম্মু তুমি আমার রুমে এসো, আমি আমার রুমে গিয়ে সিফিন কে আমার বিছানায় বসাইলাম,আর মাকে সব কিছু বললাম কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে না, ফুপি আর বাবা মিলে আমাকে রুমে বন্ধি করে রাখলো, আমার ফোন নিয়ে গেছে, বাড়িতে চেচামেচি করতে লাগলো বললো তর আর লেখা পড়ার দরকার নাই, এই বাচ্চা তর না হলে যার বাচ্চা তারে বল বাচ্চা নিয়ে যেতে, আর তর বাচ্চা হলে তার বাবা কে আসতে বল।

ফুপি বললো ওর বলতে হবে না ওর ফোন থেকে নাম্বার বার করে ফোন দেন ভাইজান, আমার বাবা কে বলতে লাগলো ফুপি,

চলবে,

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ