গল্প – গোপন সংসার
পর্ব -৩
লেখক : রিহান অরণ্য
রাত ১২ টার বেশি বেজে গেছে সিফিন এখনো ঘুমায় না, ওর জন্য আমি ও ঘুমাতে পারছি না, তাই ওরে ঘুম পারানো জন্য নিজের বুকের গুলো সিফিন মুখে দিলাম সে তার মুখে নিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু সে তো জানে না আমার থেকে তার খাবার দুধ আসবে না তাই মাঝে মধ্যে বেবি ফিডার দিয়ে ওর মুখে খাবার দিচ্ছি, কুমারী হয়ে ও একটা বাচ্চা কে দুধ খাওয়ানো ফিলিংস টা অন্য রকম ছিলো, সিফিন এখন বার বার আমার বুকের গুলো মুখে নিতে চাচ্ছে, আমি ও ঘুম পারানো চেষ্টা করতে থাকলাম তখনই ওর বাবা রুমে আসলো,এসেই ওনি সব দেখে ফেলছে, আমার এই অবস্থা দেখে ওনি সরি বলে বের হয়ে গেছে, আমি সব সামলিয়ে ওনার রুমে গেলাম, স্যার আমাকে দেখে বলে রেশি তোমাকে বলতে ভুলে গেছি সিফিন রাতে তেমন ঘুমায় না তুমি ওর জন্য
অপেক্ষা না করে ওরে এখানে রেখে ঘুমিয়ে যাও, আমি বলালম সমস্যা নাই ওয় ঘুমালেই আমি ঘুমবো, আপনি ঘুমিয়ে জান স্যার, ওনি বললো আমার ঘুমাতে দেরি হবে ইন্ডিয়া তে একটু কথা বলবো, অনেক চেষ্টায় পর আজকে এক জনের সাথে কথা বলতে পারবো, আমি বললাম আপনার সম্পর্কে কিছুই বললেন না, সিফিন বিষয়ে ও,
স্যার বললো।ওহ আচ্ছা সিফিনের আম্মুর বাসা ইন্ডিয়া তে,
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একটি শহর বারাসাত,
ওর মা আর আমি একি কলেজে পরতাম, আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিলো, সেটা কেউ জানতো না, আমরা এতো বেশি ভালোবাসতাম দুজন দুজন কে, কাবিন ছাড়া শুধু ইমাম সাহেব কে দিয়ে আমরা বিয়ে করে নিছি, বিয়েতে আমার কোন মত ছিলো না, কিন্তুু ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশের মেয়ে গুলো সত্যি অন্য দেশের মেয়েদের থেকে আলাদা তারা বিয়ে ছাড়া কাউকে সব কিছু দেয় না, আমরা এমন দেশে থাকতাম যেখানে বিয়ে ছাড়া হাজার হাজার মানুষ এক সাথে এক ফ্ল্যাটে থাকে,কিন্তু অর্নি সেটা এলাও করে নি, সে বিয়ে ছাড়া এক সাথে থাকবে না, তাই আমরা বিয়ে করে নিছিলাম,
আমাদের ম্যানেজমেন্ট কোর্স ছিলো ৪ বছরের, তাই আমরা গোপনে সংসার গড়ে তুলেছিলাম, সিফিন যখন ওর মার পেটে চলে আসে আমরা ২ জনই হতাস ছিলাম ১ বছর আমরা কেউ দেশে যাইনি, কথা ছিলো আমাদের সব কিছু আমরা পরবর্তী সবার সামনে তুলে দরবো, কিন্তু কি নির্মম পরিহাস সিফিন জন্য নিবার ১ মাস ১১ দিন পর ওর মা রোড এক্সিডেনটে মা-রা যায়, প্রথমে আমি কিছু জানতে পারি নি, ওই দিন আমি বাসায় ছিলাম অর্নি কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয় কিন রাত হয়ে গেছে বাসায় ফিরে নি, নাম্বার অফ ছিলো, ওর ফোন ও ন*ষ্ট হয়ে গেছিলো,
যখন ওর কোন খুজ পাচ্ছিলাম না তখন পরের দিন কলেজে গিয়ে শুনতে পেলাম অর্নি এক্সি*ডেন করছে, তার ম*র দেহ হাসপাতালে ম*র্গে রাখা আছে, সেকেন্ডে মধ্যে আমার মাথায় মনে হয় আকাশ ভে*ঙে পরলো, ছুটে গেলাম হাসপাতালে, সিফিন কে আমাদের পাশের রুমে ইন্ডিয়ান এক দম্পতি ছিলো ওদের কাছে রেখে এসেছি, হাসপাতালে গিয়ে অর্নি কে দেখার ভাগ্য আমার হয়নি, আমি যে তার স্বামী সেটার কোন প্রমান নেই কোন রেজিষ্ট্রেশন নেই, ওর পাসপোর্টে
সে আনমেরিড, তার লা*স ৩ দিন পর ইন্ডিয়া পাঠানো হবে,
ইন্ডিয়া তে তার ফেমিলির সাথে যোগাযোগ করে সব কিছু ঠিক করে নিছে, আমি শত চেষ্টা করে ও তার ম*র*দেহের কাছে যেতে পারলাম না, অবশেষে আমি ও ইন্ডিয়া যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার কলিজা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে তার সাথে অনেক কথা বলার বাকি ছিলো, আমি তার শেষ বিদায়ে তার পাশে থাকতে চাই, অর্নি পাসপোর্ট থেকে ওর ঠিকানা নিলাম,
যে দিন ওরে ইন্ডিয়া পাঠানো হবে সেই দিন ফ্লাইটে কোন ছিট খালি ছিলো না, অনেক চেষ্টা করে ও আমি পারলাম না,
এই দিকে আমার আর অর্নি বিয়ের + বাচ্চা খবর কলেজে ছড়িয়ে গেছে, সবাই আসফোস করতে লাগলো কিন্তু কারো কিছু করার ছিলো না,
আমি বাসায় চলে আসলাম, সাফিন কে যাদের কাছে রেখে গেছি ২ দিন ওরা সাফিনের দেখাশোনা করছে, ২ দিন আমি বাসায় আসি নাই পা*গলের মতো ছোটাছুটি করছি,অবশেষে হার মেনে বাসায় চলে আসলাম,
এতোটুকু বাচ্চা কে আমি এখন কেমনে সমলাবো কি করবো
না করবো সেই চিন্তায় অসুস্থ হয়ে গেছি, এঔ দিনে সাফিনের আম্মু কথা ভেবে অঝোরে কান্না করছি, প্রতিটা মূহুর্তে অনূভব করছি অর্নি কে এখন গোসল দিচ্ছে, অর্নি কে একখন কা*ফন পরিয়ে খাটিয়া তুলছে, এসবের ভাবনায় কখন যে আমি নিজের থেকে হারিয়ে গেছি টের ও পাইনি,
লন্ডনের মাঠিতে অর্নি তার স্বামী সন্তান রেখে সে কেমনে মাটির নিছে শুয়ে আছে, এসব ভেবেই নিজকে নেশায় আসক্ত করে ফেলছি,
অবশেষে একজন পরামর্শ দিলো বাংলাদেশের মাঠিতে সাফিন কে নিয়ে একজন নার্স কাছে রাখতে,
সেই থেকে রেশি তোমার সাথে কথা পরিচয় আজকে এখানে,
স্যার কথা শুনে আমার চোখের পানি চলে এসেছে এমন নির্মম পরিহাস সিফিনের লাইফে,
আমি স্যার কে জিজ্ঞেস করছিলাম ইন্ডিয়া গেছিলো নাকি ওনি বললো না যায় নি ছেলে বড় হলে ওরে নিয়ে যাবে,
আর স্যার বেশিদিন এখানে থাকবে না ওনি লন্ডনে চলে যাবে, ওনি যে দেশে এটা নাকি ওনার পরিবার কেউ যানে না,
ওনার আরো ২ বছর ৭ মাস লাগবে কোর্স শেষ করতে টোটালি ৩ বছর ধরে রাখছে ওনি,
এখন আরেক চিন্তা ওনি চলে গেলে একা একা কি ভাবে সিফিন কে সামলাবো,এই দিকে আমার ও সামনে পরিক্ষা আছে,
আমি স্যার কে জিজ্ঞেস করলাম কবে চলে যাবে ওনি বললো আর ৬ দিন আছি, আমাকে জিজ্ঞেস করলো একা থাকতে সমস্যা হবে কি না,আমি বকলাম না, সমস্যা নেই আমার সাথে আমার বান্ধবী রেশমি তো আছে, স্যার বললো ওরে তো একবার দেখছি তার পর আর দেখি নাই, আমি বললাম স্যার ওয় লজ্জা পায় তাই আপনার সামনে আসে না,
আমি স্যার কে বললাম আপনি যেহুতো ৬ দিন থাকবেন তাইলে আমি ৩ দিনের জন্য বাড়ি থেকে ঘুরে আসি আবার কবে যেতে পারবো জানি না,
স্যার বললো ঠিক আছে কাল সকালেই যাও, ৩ দিন থেকে চলে এসো এখন তো আমি আছি সিফিনের কোন সমস্যা হবে না,
আমি অনেক খুশি, রাতেই সব গুছিয়ে রাখলাম, রেশমি কে বললাম তুই স্যারের জন্য ২ বেলা একটু কষ্ট করে রান্না করে দিবি, রেশমি রাজি হলো,
________________________
পরের দিন সকালে আমি বাসা থেকে বের হয়ে বাড়ির উদেশ্য রউনা দিলাম, বাড়ি যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে আব্বু আমাকে বাস স্টেশন থেকে বাড়ি নিয়ে গেছে,
বাড়িতে গিয়ে ৪ বার স্যার কে ফোন দিছি সিফিন কি করে জানার জন্য, কেমন জানি মনে হলো সিফিন আমার জন্য কান্না করছে,মনে হয় আমি আমার স্বামী সন্তান রেখে বাবার বাড়ি আসলাম, উদাসীনতা কাজ করতে লাগলো, রাতে ঘুমানোর সময় প্রতিদিন সিফিন কে যে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিনয় করতাম এখন সেটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে,
বাড়িতে মন টিকছে না, ১ দিন থেকে আবার ঢাকা চলে আসলাম,
আসার সময় কাউকে ফোন দেইনি দুপুরে রউনা দিলাম
আসতে আসতে রাত হয়ে গেছে, বাসার চাবি ছিলো আমার কাছে, দরজা খুলে রুমে চলে আসলাম, রুমে এসে দেখি রেশমি অর্ধ নগ্ন হয়ে শুয়ে আছে, আমার উপস্থিতি টের পেয়ে জামা কাপর পরে ফেলছে, ওর এই অবস্থা দেখে আমার নিজের লজ্জা লাগতে শুরু করলো,
চলবে,
