Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমি এসেছিলে বলেতুমি এসেছিলে বলে পর্ব-১৬+১৭+১৮

তুমি এসেছিলে বলে পর্ব-১৬+১৭+১৮

#তুমি_এসেছিলে_বলে
পর্ব : ১৬
#নাদিয়া_আক্তার_সিয়া

মেঘ : আপনি তো খুব গুনী মানুষ। আমি তো আমার চোখ সরাতেই পারছিনা এই অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্য থেকে ।

মেহতাব : থাঙ্কস ফর ইউর কমপ্লিমেন্ট । বাট আরো খুশী হতাম যদি তুমি এই ডিজাইন কে না বলে আমাকে বলতে । ( মেঘের দিকে চোখ মেরে )

মেঘ মেহতাবের এই কথার প্রতিউত্তরে কিছু বলতে যাবে । তখনি মেহসান সেখানে উপস্থিত হলো । আর মেঘ আর মেহতাব কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো ,

মেহসান : কি করছো তোমরা ? ( মুচকি হেসে )

মেহসান কে দেখে দুজনে চমকে উঠলো । আর মেহতাব মেঘের থেকে একটু দূরে সরে দাঁড়ালো আর মেহসানের দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠলো ,

মেহতাব : আমরা কিছু করি বা না করি তুই নিশ্চয়ই কিছু একটার ব্যাঘাত ঘটিয়েছিস । ( রাগ দেখিয়ে )

মেহতাব এই কথা বলে নিজের সানগ্লাস টা খুলে হাতে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো । এবার মেহসান সহ সেখানে উপস্থিত সবাই মেঘের দিকে প্রশ্নসুচক দৃষ্টিতে তাকালো । মেঘ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি মুচকি হাসি দিলো । আর মেহসানকে বলে উঠলো ,

মেঘ : তো মেহসান আমার ছোটো দেওর চলো তোমায় রুমে দিয়ে আসি । ( মেহসানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে )

মেহসান : আমি মোটেও ছোট নই ভাবী । আমার শুধু একটু অভিজ্ঞতা কম এই আর কি । ( লজ্জামাখা হাসি দিয়ে )

মেঘ : তাই বুঝি । ( মুচকি হেসে )

তখনি হুল্লোড় পার্টি সেখানে উপস্থিত হলো আর সিমরান মেঘের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো ,

সিমরান : তোমায় দিয়ে আসতে হবে না মেঘ ভাবী । মেহসান আর সৌরভ ভাইয়াদের রুম তো একই । তারা একসাথে যাবে । তুমি বরং মেহতাব ভাইয়ার কাছে যাও । ভাইয়া তো আবার চলে গেলো । ( মুচকি হেসে )

মেঘ : ঠিকাছে তাহলে আমি আসছি । তোমরা সবাইও রুমে চলে যাও দেরি করো না ।

শাম্মী : ওকে ভাবী আমরা তাড়াতাড়ি চলে যাবো । তুমি ফ্রিলি যাও বাই ।

শাম্মীর কথা শুনে মেঘ সবাইকে বিদায় জানিয়ে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে চলে গেলো । তখনি হুল্লোড় পার্টির সবাই মেহসানের দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো আর বলে উঠলো ,

সৌরভ : তুই সুধরাবি না ? কাবাবের মধ্যে হাড্ডি হওয়ার সখ । ঘর শত্রু বিবিশন ।

মেহসান : চিন্তা করো না শুধরিয়ে যাবো একদিন । শুধরাতে তো আর টাকা লাগে না । আর সেটা ঘর শত্রু মেহসান হবে ।( জামার কলার উচিয়ে ভাব নিয়ে )

কেউ আর মেহসানের কথার প্রতিউত্তরে কিছু বললো না । সবাই জানে গরুকে যতই বলুক অন্যের খেতে না যেতে সে তো যাবেই । বোধবুদ্ধি কম কিনা । সবাই এই ভেবে মন কে শান্ত করে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেদের রুমের উদ্দেশ্যে রওনা হলো ।

.

.

( মেহতাবদের রুমে )

মেহতাব রুমে ঢুকেই দেখলো বড় পর্দা দিয়ে বড় বড় জানাল গুলো ঢাকা তাই সে সেগুলো সরিয়ে দিলো যাতে রুমে আলো আসে । তখনি মেঘ রুমে ডুকলো । সে মেহতাবের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো । এক চিলতে রোদ পড়েছে মেহতাবের মুখে তাতে তাকে একদম স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে । অল্প তেই তাকে বেশ সুন্দর লাগে । তখনি মেঘের দৃষ্টি রুমের দিকে গেলো । দুইজনের রুম অথচ ১০ জনের থাকার মতো জায়গা আছে‌ । মেহতাবদের বাড়ির রুম অবশ্য অনেক বড় ছিলো । সে এইসব আর না ভেবে এবার মেহতাবের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো আর মেহতাব কে উদ্দেশ্যও করে বলে উঠলো ,

মেঘ : আপনি কি রাগ করেছেন কোনো কারণে ?

মেহতাব : কেনো আমায় দেখে কী তোমার মনে হচ্ছে আমি রাগ করেছি ? ( ভ্রু কুচকে )

মেঘ মনে মনে বিড়বিড় করে বললো ” তখন তো রাগে বরফের মতো ফুলে গিয়েছিল । যাই হোক উনি রাগলেও ওনাকে সুন্দর লাগে ” ( মুচকি হেসে )

মেহতাব : কিছু যদি বলার থাকে জোরে বলো ? ( মেঘের দিকে তাকিয়ে )

মেহতাবের কথায় মেঘের হুশ ফিরল । সে একটা ছোট হাসি দিয়ে বলে উঠলো ,

মেঘ : না তেমন কিছু না । ( প্রকাশ্য হাসি দিয়ে )
আর মনে মনে আবার বললো , ” আপনাকে নিয়ে কিসব ভাবছি ইচ্ছে তো করছে নিজের মাথায় চাটি দিতে ”

মেহতাব : ওকে তাহলে তোমার মনে মনে কথা বলা শেষ হলে তুমি শাওয়ার সেরে নেও । আমার একটা ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে ।

এই বলে মেহতাব রুম থেকে চলে যাওয়ার সময় আবার কিছু একটা মনে পড়ায় ফিরে এলো । আর মেঘকে বলে উঠলো ” ওয়াশরুম লক করে নিও ”

এই বলে সে আর সময় নষ্ট না করে রুম থেকে চলে গেলো । মেঘ মেহতাবের কথা শুনে একটা স্নিগ্ধকর মিষ্টি হাসি দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো ।

.

.

অন্যদিকে সৌরভ , রৌফ , সিয়াম আর সামির তাদের রুমে কে ওয়াশরুমে আগে যাবে সেটা নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দিয়েছে । সৌরভ ওয়াশরুমের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে । আর সবাই তাকে সরানোর চেষ্টা করছে । তা দেখে সৌরভ বলে উঠলো ,

সৌরভ : ও শুধু আমার ওর গায়ে হাত লাগানোর চেষ্টা টুকু যদি তোগো মধ্যে কেউ করে ভালো হইবো না । ( রাগ দেখিয়ে )

একদিকে সৌরভ আর বাকিরা ঝগড়া করছে আর মেহসান আর সৌম সোফায় বসে মজা দেখছে আর বাজী ধরছে । সৌম মেহসান কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো ,

সৌম : তোর কি মনে হয় কে জিতবে ?

মেহসান একটা হাই তুলে বলে উঠলো , “সৌরভ ভাইয়ার উপরে ২০ টাকা , রৌফ ভাইয়ার উপরে ৫০ টাকা , সিয়াম ভাইয়ার উপরে ১৫ টাকা আর সামির ভাইয়ার উপরে ২ টাকা ।

এই কথা সৌরভদের কানে যেতে দেরি কিন্তু তাদের অগ্নিদৃষ্টি মেহসানের উপর পড়তে দেরি নেই । মেহসানকে তারা ৪ জন যেনো চোখ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে । মেহসান একটা ঢোক গিললো আর রুম থেকে যেতে যেতে সুর দিয়ে বলে উঠলো ,

মেহসান : টয়লেট তুমি বলে দেও তুমি কার ৪ জন মানুষ একটি টয়লেটের দাবিদার । ( সুর দিয়ে )

এই কথা বলে মেহসান যাওয়ার সময় সবাই পা থেকে জুতা খুলে ছুঁড়ে মারলো মেহসানের দিকে । মেহসান জুতোগুলো এড়িয়ে রুমে থেকে দৌড়ে বাইরে চলে গেলো । মেহসান যাওয়ার সময় সবার প্রতিজোড়া জুতো থেকে একটি জুতো নিয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে রুম থেকে চলে গেলো । এবার সৌমিক বলে উঠলো ,

সৌম : তোমরা থামবে না নাকি ? বাচ্চাদের মতো করছো । ওয়াশরুম টার উপর কি অত্যাচার টাই না চালাচ্ছো তোমরা । আমি বরং চলে যাই আমার দ্বারা আর দেখা সম্ভবপর নয় । আমি প্রস্থান করিলাম তোমাদিগ গণকে পানি শুভেচ্ছা ।(গ্লাস থেকে পানি ছিটিয়ে)

এই বলে সৌম চলে গেলো । সবাই সেইদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই সেই সুযোগে রৌফ ওয়াশরুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে দিলো । আর বাকিরা রাগ করলেও আর দাড়ানোর ক্ষমতা না থাকায় নিচে পাবলিক ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য একসাথে দৌড় দিলো ।

.

.

( মেহতাবদের রুমে )

মেঘ শাওয়ার শেষ করে শাড়ি গায়ে প্যাঁচিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে । ওয়াশরুমে শাড়ি ঠিক ভাবে পড়তে পারেনি । তাই সে কিছু না ভেবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ির কুচি গুলো ঠিক করতে থাকলো । হঠাৎ সেই সময় মেহতাব রুমে প্রবেশ করলো আর মেঘকে শাড়ি ঠিক করতে দেখে পিছনে ঘুরে দরজার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে মেঘ কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো ,

মেহতাব : I’m sorry . I didn’t notice you . ( আমি দুঃখিত । আমি তোমাকে খেয়াল করি নি )

মেহতাবের কণ্ঠস্বর পেয়ে মেঘ নিজের শাড়ি গায়ে দিয়ে যেই ওয়াশরুমে প্রবেশ করবে তখনি শাড়ির সাথে পা প্যাচিয়ে ঠাস করে পরে গেলো । মেহতাব শব্দ পেয়েই পিছনে ফিরে তাকালো আর দেখলো মেঘ নিচে পরে গিয়ে কোমরে হাত দিয়ে রেখেছে । সে মেঘকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিলো আর বলে উঠলো ,

মেহতাব : দরজা লক করো নি কেনো ?

মেঘ : আমি বুঝতে পারি নি আপনি এসে পরবেন । আমি দুঃখিত ।

মেহতাব : যাই হোক । কোমরে কি ব্যাথা করছে ?

মেঘ : না অতো ব্যাথা করছে না সামান্য একটু ।

মেহতাব : ব্যাথা করছে বললেই পারো । এতো লজ্জার কী আছে ? ( ভ্রু কুচকে )

তখনি মিথিলা , শাম্মী আর সিমরান রুমে প্রবেশ করলো আর সিমরান বলে উঠলো ,

সিমরান : কে ব্যাথা পেয়েছে ?

মেহতাব : তোর ভাবী আর কে ।

শাম্মী : এখন কেমন আছো ভাবী ?

মেঘ : তেমন কিছু হয় নি ।

মিথিলা : আমার রুমে একটা ক্রিম আছে । কোমড়ের ব্যাথা এক ঝোটকায় শেষ করে দিবে । আমি এনে দিচ্ছি ভাইয়া লাগিয়ে দিবে ঠিকাছে ।

এই বলে তারা মেহতাব আর মেঘ কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাড়াতাড়ি রুম থেকে চলে এলো । আর শাম্মী বলে উঠলো ,

শাম্মী : ভাইয়া ভাবির কোমরে ক্রিম লাগিয়ে দিবে । How romantic ! ভাবতেও লজ্জা লজ্জা লাগে । ( লজ্জামাখা হাসি দিয়ে )

চলবে…….

#তুমি_এসেছিলে_বলে
পর্ব : ১৭
#নাদিয়া_আক্তার_সিয়া

মিথিলা : আমার রুমে একটা ক্রিম আছে । কোমড়ের ব্যাথা এক ঝোটকায় শেষ করে দিবে । আমি এনে দিচ্ছি ভাইয়া লাগিয়ে দিবে ঠিকাছে ।

এই বলে তারা মেহতাব আর মেঘ কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাড়াতাড়ি রুম থেকে চলে এলো । বের হওয়ার সাথে সাথে শাম্মী বলে উঠে ,

শাম্মী : ভাইয়া ভাবির কোমরে ক্রিম লাগিয়ে দিবে । How romantic ! ভাবতেও লজ্জা লজ্জা লাগে । ( লজ্জামাখা হাসি দিয়ে )

শাম্মীর এমন কথা বার্তায় সিমরান আর মিথিলা হেসে দেয় । আর মিথিলা বলে উঠে ,

মিথিলা : আমার হবু দুলাভাইকে বলবো যাতে তোর কোমর সহ হাঁটুতেও মলম লাগিয়ে দেয় বুদ্ধিতো সব হাঁটুর তোলায় এসে পড়েছে । খালি উল্টোপাল্টা কথা গাধা একটা ।

শাম্মী মিথিলার কথার প্রতিউত্তরে রাগ নিয়ে বলে উঠলো ,

শাম্মী : গাঁধী হতে পারি তবে গাধা নই ।

মিথিলা : তোকে নিয়ে পারা যাবে না । ঠিকিই বলেছিস কিন্তু তোর সাথে তুলনা করা মানে গাধার স্ত্রীকে অপমান করা ।

সিমরান : গাঁধী মানে গাধার স্ত্রী বেশ বলেছিস আপু ।

শাম্মী : চুপ থাক সিমরান । ( রাগ দেখিয়ে )

এই সব বলে তারা ক্রিম আনতে রুমে চলে যায় । অন্যদিকে সিয়াম , সৌরভ আর সামির তাদের কাজ সেরে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই সবাই তাদের পায়ের দিকে তাকিয়ে মুখ চেপে হাসতে থাকে । এতে তাদের বেশ অদ্ভুত লাগে । তারা তাদের পায়ের দিকে লক্ষ্য করতেই দেখে তাদের পায়ে জুতো নেই । তাদের খেয়ালই ছিল না । সবার এমন হাসি মজা দেখে সৌরভ মডেলদের মতো ক্যাট ওয়াক করে হেঁটে সামনে যেতে থাকে । তা দেখে সিয়াম বলে উঠে ,

সিয়াম : তুই আবার নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে চাস নাকি ? ( ভ্রু কুচকে )

সৌরভ : নিউ ট্রেন্ড হয়ে যাবে । মানুষ যা দেখে তাকেই ট্রেন্ড মনে করে । সম্মান রাখতে চাইলে অনুসরণ কর ।

তখনি কিছু মেয়ে সামির এর দিকে এগিয়ে আসে আর একটা মেয়ে সামির কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে , ” ভাইয়া ওয়াশরুম যাতে নংরা না হয় তাই জুতো পড়েন নি নাকি ? ( হেসে দিয়ে )

সামির : নাহ বোন । আজ শহিদ দিবস পালন হচ্ছিল টয়লেট এ তাই আর কি সম্মান প্রদর্শন করছিলাম খালি পায়ে ডুকে । তোমরা চাইলে যেতেই পারো আমরা কিছু মনে করব না ।

সামির এর কথায় মেয়েগুলো নিজেদের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে । তারা এই উত্তরের জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলো না । তাদের কে মুরগি বানিয়ে দিলো ।

ততোক্ষনে সামির আর সিয়াম দুজনেই সৌরভ কে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসে ।
.
.

মিথিলা , শাম্মী আর সিমরান একজন স্টাফকে দিয়ে কোমড়ের মলম টা পাঠিয়ে দেয় । তা দেখে শাম্মী বলে ওঠে ,

শাম্মী : আপু আমরা দিলে কি হতো ?

সিমরান : কী আর হতো ? ভাইয়া আমাদের বলতো ভাবীকে দিয়ে দিতে ।

শাম্মী : ওহ তাহলে চল গিয়ে বাকি সিন টুকু দেখে আসি ।( মুচকি হেসে )

শাম্মীর কথা শুনে মিথিলা ওদের দুজনকে বলে ওঠে ,

মিথিলা : নো এরকম হবে না । চল নিচে যাই ।

এই বলে শাম্মী আর সিমরানকে টেনে নিচে নিয়ে যায় মিথিলা । এতে অবশ্য তারা রাগ করেছিলো। কিন্তু মেহতাবদের একান্ত টাইম স্পেন্ড করা উচিত এইভেবে তারাও চলে আসে ।

অন্য দিকে মেহতাব ক্রিম টা হাতে নিয়ে মেঘের কোমরে লাগাতেই মেঘের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলো মেঘের বেশ অস্বস্তি হচ্ছে । মেহতাবের প্রতিটি স্পর্শে মেঘ কেঁপে কেঁপে উঠছে । তা দেখে মেঘ কে উদ্দেশ্য করে মেহতাব বলে উঠলো ,

মেহতাব : তোমার কি অসুবিধা হচ্ছে নাকি ?

মেঘ : উহুম । একটু অদ্ভুত লাগছে জানি না কেনো ?

মেহতাব : তুমি আবার ভালোবেসে ফেললে নাকি আমাকে ? ( ভ্রু কুচকে )

তখনি মেহসান রুমের ভিতর প্রবেশ করলো । মেহসান পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পারলো সে আবার ভুল টাইমে এন্ট্রি করেছে ।

মেহতাব : ওকে ভালো করে লাগিয়ে দিয়েছি । আর তোমার জন্য এখানে খাবার নিয়ে আসছি ?

মেঘ : না আমি যেতে পারবো আপনি শাওয়ার নিয়ে নিন ।

মেহতাব : Are you sure ?

মেঘ : হুম ।

মেঘের কথা শেষে মেহতাব একটা টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকতে ঢুকতে মেহসান কে বললো ,

মেহতাব : মিথিলাদের বলে দিবি মেঘকে নিয়ে নিচে যেতে । আর সৌরভ দের আমার রুমে পাঠিয়ে দিস ।

মেহসান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলো । মেহতাব আর সময় নষ্ট না করে ওয়াশরুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে দিলো । তখনি রুমে হুল্লোড় পার্টির সবাই প্রবেশ করে। একসাথে ডুকতে গিয়ে সৌরভ পরে যেতে নিলেই মিথিলা সৌরভের কোমড় ধরে ফেলে । সেখানে মুহূর্তেই রোমান্টিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায় । সৌরভ মিথিলার দিকে তাকিয়ে আছে আর মিথিলা সৌরভের দিকে তা দেখে সবাই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তাদের দিকে । তাদের নিরবতা ভেঙে সিয়াম বলে উঠে ,

সিয়াম : এমন ভাবে তাকিয়ে আছে দুজনে যেন এখানে রোমান্টিক শুটিং চলছে । কিন্তু ডিরেক্টর ভুলে নায়ককে নায়কার চরিত্রে দিয়ে দিয়েছে আর নায়কাকে নায়কের চরিত্রে । স্ক্রিপ্ট লেখার সময় বানান বেশ ভুল হয়েছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে । ( মুখ টিপে হেসে )

সিয়ামের কথায় সকলে হেসে সহমত জানায় । সিমরান বলে উঠে ,

সিমরান : ডান চোখ টা লাফাচ্ছে আজ কিছু তো হবে । ( মুচকি হেসে )

সবার এমন কথাবার্তায় সৌরভ আর মিথিলা ভরকে যায় । নিজেদের ধাতস্ত করে সৌরভ সকলের উদ্দেশ্যে বলে ওঠে ,

সৌরভ : জনগন পরিবেশকে এভাবে দূষণ কেনো করিতেছো তোমাদের ময়লা ‍কথাবার্তা দ্বারা । এখানে ময়লা কথা বলা নিষিদ্ধ ।

রৌফ : দোস্ত ময়লা আবার কথাবার্তা হয় নাকি ? ( হেসে )

রৌফের কথায় সবাই একটু হাসাহাসি করে । সবার নজর হঠাৎ মেঘের দিকে যায় । মেঘ তাদের কথাবার্তায় হাসছে । তা দেখে সবাই একটু লজ্জা পায় । তখনি শাম্মী বলে উঠে ,

শাম্মী : ভাবী মলম লাগিয়েছো ? এখন কেমন লাগছে ?

মেঘ : হুম ভালো । কোমড়ের ব্যাথা একটুও নেই ।

তা শুনে বাকিরা একসাথে জিজ্ঞেস করে উঠলো , ” কোমড়ে ব্যাথা পেয়েছে মেঘ ভাবী ”

শাম্মী হ্যাঁ সুচক মাথা নাড়ালো ।

মেঘ : ঘাবড়ানোর কারণ নেই তেমন কিছু হয়নি । তোমাদের কথাবার্তা সব ব্যাথা ভুলিয়ে দিয়েছে । ( হেসে )

এতে সবাই আরেকদফা লজ্জা পেলো । তারা সবাই কিছুক্ষণ এইসব নিয়ে কথা বলে নিচে চলে গেলো । সৌরভ আর তার বাকি বন্ধুরা মেহতাবের আসার জন্য সোফাতে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো ।

মেহতাব তখনি একটা কালো রঙের শার্ট আর প্যান্ট পরে বের হলো ওয়াশরুম থেকে । সৌরভদের দেখতে পেয়ে বললো , ” কাল ফিরে যাচ্ছি আমরা ”

হঠাৎ ফিরে যাবার কথা শুনে সবাই একসাথে বিষম খেয়ে উঠলো । সৌরভ বলে উঠলো , ” কালকেই যেতে হবে ”

তারা সবাই মেহতাব আর মেঘকে সেটেল করার মিশন সম্পূর্ন করেই যাবে । তাই তারা যাওয়ার জন্য বেশ আগ্রহ দেখায় না । আর মেহতাব চলে গেলে সেটাতো সম্ভবই নয় । তাই রৌফ চোখের ইশারায় সবাইকে তার কথায় হ্যাঁ মিলাতে বলে দেয়। সবার তার ইঙ্গিত বুঝতে কষ্ট হয় না । মেহতাব তাদের ফিসফিস করতে দেখে বলে ওঠে ,

মেহতাব : তোরা এমন বিহেভ কেনো করছিস ? ( ভ্রু কুচকে )

রৌফ‌ : কি করি দোস্ত কালকেই যাইতে হইবো তাহলে ভাবীর সারপ্রাইজ ডিনার এর কি হইবো ।

এই বলে রৌফ সিয়ামকে ধরে কান্না করতে থাকে । রৌফের কথা শুনে মেহতাব সহ উপস্থিত সকলে বেশ অবাক হয় । রৌফ সৌরভ আর বাকিদের দিকে চোখ মারে সবাই তার প্লান বুঝতে পারে ।

মেহতাব : কাদের সারপ্রাইজ ডিনার ? ( অবাক ভঙ্গিতে )

সামির : কার আবার তোর আর মেঘের । মেঘ তোকে সারপ্রাইজ দিবে তাই আমাদের বলতে নিষেধ করেছে তাই বলিনি ?

মেহতাব এই কথা শুনে বেশ অবাক হয়। কিন্তু নিজেকে ধাতস্থ করে বলে , ” মেঘ ? কখনই না । It’s impossible . I don’t believe ”

সিয়াম : তোকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে । মনে তো পপকর্ন ফুটছে ।

মেহতাব : যাই হোক । I’m not interested .

সৌরভ আর সামির তা দেখে নিজেরা মেহতাব আর মেঘ সাজে আর তাদের অভিনয় করতে শুরু করে । সৌরভ সামির কে বলে উঠে ,

সৌরভ : মেঘ তোমার সেই এক চিলতে হাসি আমাকে তোমার দিকে আকৃষ্ট করে । ( চোখের অনেকগুলো পলক ফেলে )

সামির : কিন্তু আমরা তো নিজেদের ফিলিংস বুঝতেই পারি না । আমাদের প্রজন্ম আসবে কি করে ! ( মেয়েদের নেকা কণ্ঠে )

মেহতাব তাদের এইসব কথা শুনে বেশ বিরক্ত হয় । বিরক্ত সহিত সোফা থেকে একটা বালিশ ছুঁড়ে মারে তাদের দিকে ।

সিয়াম বালিশ টাকে আদর করে সামির এর কোলে দিয়ে বলে , ” এই নিন আপনাদের প্রজন্ম যা ২০৮০ সালে জন্মেছে । ফিলিংস বুঝতে দেরি হয়ে গেলো কিনা । ”

সিয়ামের এমন কথা বার্তায় উপস্থিত সবাই উচ্চস্ব‍রে হেসে দিলো । মেহতাব রাগ দেখিয়ে বলে উঠলো ,

মেহতাব : ওভার একটিং বন্ধ কর । আমি গেলাম বাই । ( রাগ দেখিয়ে )

এই বলে মেহতাব রুম থেকে চলে গেলো । আর সিয়াম বালিশটা নিয়ে পিছনে আসতে আসতে বললো ,

সিয়াম : আপনার প্রজন্ম নিয়ে যান ।

#তুমি_এসেছিলে_বলে
পর্ব : ১৮
#নাদিয়া_আক্তার_সিয়া

মেহতাব : ওভার একটিং বন্ধ কর । আমি গেলাম বাই । (রাগ দেখিয়ে)

এই বলে মেহতাব রুম থেকে চলে গেলো । আর সিয়াম বালিশটা নিয়ে পিছনে আসতে আসতে বললো ,

সিয়াম : আপনার প্রজন্ম নিয়ে যান ।

সকলে লাঞ্চ করার জন্য এসে পড়েছে । সবাই মেহতাব আর সৌরভদের আসার জন্য খাবার টেবিলে বসে অপেক্ষা করছে । মেহতাবরা নিচে নামতেই তারা সকলে নিজেদের জায়গায় বসে পড়লেন । মেহতাব সহ সকলে উপস্থিত হওয়ায় অরিন বেগম বলে উঠলেন ,

অরিন বেগম : আমি আর তোমাদের দাদী চলে যাবো আজকে । তোমরা বরং আর দুটো দিন ঘুরে তারপর এসো ।

আহতাব : কিন্তু কেনো ?

অরিন বেগম : তেমন কেনো কারণ নেই । তোমার দাদীর শরীর টা ভালো নেই । তোমাদের চিন্তা করতে হবে না আমরা যেতে পারবো ।

মেহতাব : আমি তোমাদের গিয়ে দিয়ে আসবো ।

মারজা বেগম : তার কোনো প্রয়োজন নেই দাদু ভাই আমরা চলে যাবো আর ড্রাইভার তো আছেই ।

মেহতাব : কিন্তু ?

অরিন বেগম : কোনো কিন্তু নয় । সবাই খাওয়া শুরু করো ।

অরিন বেগমের কথায় কেউ আর দিরুক্তি করে না । সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে অরিন বেগমদের এগিয়ে দিয়ে আসে ।
অরিন বেগমরা গাড়িতে করে সেখান থেকে চলে যান ।

সবাই আবার রিসোর্টে ফিরে আসে । রিসোর্টে ফিরতেই আহতাব আর অহনা সেখান থেকে অন্যদিকে ঘুরতে চলে যায় । বাকিরা সবাই বাগানের দিকে হাঁটতে শুরু করে । কিছুক্ষণ পর মেহতাব আর মেঘকে রেখে সবাই সেখান থেকে চলে আসে । আর মেহসান বলে ওঠে , ” আমরা পালাচ্ছি‍ কেনো ? ”

সৌমিক : কেনো আবার তাদের প্রাইভেসি দিতে ?

শাম্মী : ঠিকাছে কিন্তু মিথিলা আপু আর সৌরভ ভাইয়া কোথায় ?

শাম্মীর কথায় সবাই চারদিকে তাকায় কিন্তু মিথিলা আর সৌরভকে তারা দেখতে পায় না । এতে সবার বেশ ঘটকা লাগে ।

রৌফ : গেলো কই ওরা ?

সিয়াম : চল সবাই খুঁজে দেখি ?

সামির : খোঁজার কোনো প্রয়োজন নেই আশেপাশেই হবে হয়তো ।

সামির এর কথায় সবাই সামির কে চেপে ধরে । সিমরান বলে উঠে ,

সিমরান : কিছু তো লুকাচ্ছ ‍সত্যি সত্যি বলো সামির ভাইয়া । তুমি জানো আমি জানি ।

সিয়াম : না বললে তোর বিয়া হইবো না ?

তৌফ : এই প্রথম সিয়াম ঠিক কথা কইছে ।

সামির : ওই যে আসতাছে ।

সামির কথায় সবাই সামনে তাকায় সৌরভ আর মিথিলা এসে পড়েছে তা দেখে কেউ আর প্রশ্ন তুলে না ।

সামির : উফ ঠিক টাইম মতো আইছো‍স নাইলে ওরা বিয়ার আগেই বিধবা বানাইয়া দিতো । ( নেকা কান্না করে )

রৌফ : তোর আর ডং করতে হইবো না ।

সৌরভ : চল সবাই ।

সিমরান : কিন্তু কোথায়?

সিয়াম : ডিনার পার্টির জন্য ।

শাম্মী : তোমরা আবার আমাদের বাদ দিয়ে কিছু করেছো । তাই না ?

সৌরভ : বেশি কিছু না তোগো আমি বুঝাইতাছি ।
.

.

মেহতাব আর মেঘ পিছনে ফিরে দেখে কেউ নেই । তাদের বুঝতে বাকি থাকেনা তারা সবাই কেনো চলে গেছে । মেহতাব মেঘকে নিয়ে সামনের একটা নির্জন স্থানে বসে পড়ে । মেহতাব নিরবতা ভেঙে বলে ওঠে ,

মেহতাব : মেঘ আমি কালকে লন্ডন ব্যাক করছি ।

মেহতাব হঠাৎ এমন কথা বলায় মেঘ বেশ হকচকিয়ে যায় । নিজেকে ধাতস্থ করে বলে ওঠে ,

মেঘ : কালকেই ফিরতে হবে ?

মেহতাব : হুম আর্জেন্ট । অনেকদিন হয়ে গেছে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্বে যাদের নিয়োজিত করেছি । তাদের উপর আর প্রেসার ক্রিয়েট করতে চাই না । সো কি করবো বলো ? প্রবলেম নেই তোমার জন্য একটা গিফট রেখে যাবো । যাতে আমার অনুপস্থিতি তোমায় কিছু টা ভুলিয়ে দেয়। আফটার অল আমি তোমার হাজব্যান্ড আমায় তো মনে পড়বেই । ( মেঘের চোখে চোখ রেখে )

মেঘ মেহতাবের থেকে চোখ সরিয়ে নেয় । তার কথার প্রতিউত্তরে কিছু বলে না সে । সে যে তাকে মিস করবে সেটা কিছুটা হলেও সে নিজেও অনুভব করতে পারছে । নিজের অধিকার খাটিয়ে বলার মতো অনুভুতি এখনও তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়নি ।
.

.

সৌরভরা মিলে সবাই প্লান এটে ফেলে । প্লান মোতাবেক মেয়েরা একদল আর ছেলেরা অন্য দলে ভাগ হয়ে যায়। সৌরভরা মেহতাবের কাছে আর মেয়েরা মেঘের কাছে এসে হাজির হয় । আর মেহসানকে আহতাব আর অহনার কাছে ডিনার পার্টির জন্য জায়গা বুক করতে পাঠিয়ে দেয় আহতাবদের আগেই বলে রেখেছে সৌরভ।

শাম্মী মেঘকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলে ওঠে,

শাম্মী : ভাবী চলো আমরা ওই দিক টা ঘুরে আসি ।

মেঘ : কিন্তু ?

সিমরান : কোনো কিন্তু নয় । আমরা ননদ আর ভাবী একটু আলাদা টাইম স্পেন্ড করবো চলো ।

মেঘ আর আপত্তি জানায় না । মেয়েরা মিলে অন্যদিকে চলে যায় । আর সৌরভরা মেহতাবকে নিয়ে তার বিপরীত দিকে চলে যায় ।

সৌরভ : দোস্ত আজকে রাতে মেঘ আর তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে । আসলে তখন বললাম না মেঘ সারপ্রাইজ দিবো ঐটা আসলে সত্যি ছি‍লো না । কিন্তু দোস্ত তোদের আমরা ভালো চাই সো প্লিজ আমাদের গিফট টা নাকোজ করিস না ।

সিয়াম : হুম সৌরভের সাথে আমরা সকলে সহমত ।

সিয়ামের কথায় সবাই মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ‍ সূচক উত্তর দেয় ।
মেহতাব আন্দাজ তো করেছিলো তাই তাদের একটু শায়েস্তা করার জন্য মেহতাব একটু ভেবে বলে ওঠে ,

মেহতাব : I have one condition . যদি তোরা আমার শর্তে রাজি হতে পারিস এন্ড আমার শর্ত পূরণ করিস তাহলে ভেবে দেখবো যে আমি তোদের গিফট একসেপ্ট করবো কিনা ।

সবাই একটু ভেবে রাজি হয়ে যায় । মেহতাব আবার বলে ওঠে ,

মেহতাব : এখান থেকে তোদের মধ্যে একজন কোনো মেয়েকে ইম্প্রেস করতে পারলেই হবে সিম্পল ।

মেহতাবের কথায় সবাই আর না করতে পারে না তারা জানে মেহতাব তাদের ঘায়েল করার চেষ্টা করছে । সৌরভ বলে ওঠে ,

” মেহতাব বুনো শিয়াল হলে আমরাও বাঘা কুমির ”

মেহতাব : প্লিজ কুমির গুলোকে তোদের সাথে তুলনা করে অপমান করিস না আই রিকুয়েস্ট । ( কিঞ্চিৎ হেসে )

সবাই ডোন্ট কেয়ার একটা ভাব নিয়ে হাত পা এদিক ওদিক সরিয়ে ব্যা‍য়াম করতে থাকে । একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিয়ে সামনে থাকা টপস আর জিন্স পরা অনেকগুলো মেয়ের সামনে দাঁড়ায় । রৌফ চুল স্পাইক করতে করতে কবিতার ছন্দে বলে ওঠে ,

রৌফ : আমার বাবার ছিলো বড় বড় গোফ নাম আমার রৌফ ।

রৌফের কথা শুনে একটা মেয়ে বলে উঠে , ” আপনার গোঁফ কেনো নেই তাহলে ”

সৌরভ রৌফ কে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলে উঠে ,

সৌরভ : বাবা-মা করত আমায় নিয়ে গৌরব নাম আমার সৌরভ ।
সৌরভের কথা শুনে আরেকটা মেয়ে বলে উঠে , ” কেনো সৌরভ ভাইয়া করত বললেন কেনো এখন কেউ আর গৌরব করে না ” ( হেসে দিয়ে )

রৌফ , সিয়াম , সামির ভাইয়া নাম শুনে হেসে বলে ” ভাইয়া টিকিটের মেয়াদ শেষ সাইট প্লিজ ”

সামির সৌরভ আর রৌফের সামনে এসে বলে ,

সামির : আমি ছিলাম আগের জন্মের আমির নাম আমার সামির ।

সিয়াম , সৌরভ আর রৌফ ঠাট্টার স্বরে হেসে বলে উঠে , ” গরীবের আমির ”

এবার শেষ পালা সিয়ামের সিয়াম বলে ওঠে ,

সিয়াম : ওগোরে এতিমখানায় দিয়াম নাম আমার সিয়াম ।

আরেকটা মেয়ে হেসে বলে ওঠে ” ধন্যবাদ আমাদের তিনজন লোক দরকার ছিলো এতিমখানা পরিষ্কার করার জন্য । আর এখানে তিনজনের সাথে একজনকে ফ্রি দিচ্ছে ”

মেয়েগুলো তাদের ইজ্জতের তান্দুরি বানিয়ে দিয়েছে । তা আর তাদের বুঝতে বাকি নেই । সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে হাসা হাসি করছে । সিয়াম বলে উঠলো , ” আমি বাংলাতে একটু কাঁচা তাই বানানে বেশ ভুল হয় ” ( জোরপূর্বক হাসি দিয়ে )

চলবে।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ