Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"দূর হতে আমি তারে সাধিবদূর হতে আমি তারে সাধিব পর্ব-০৬

দূর হতে আমি তারে সাধিব পর্ব-০৬

#দূর_হতে_আমি_তারে_সাধিব
#পর্ব_০৬
#অনন্যা_অসমি

সবকটা ফুল নাড়াচাড়া করে দেখছে তোহা। ঠোঁটের কোণে ঝুলে আছে বিষাদের হাসি। এই ফুল সে নিজের পছন্দের মানুষকে দেওয়ার জন্য কিনছে তবে এই ফুলের তোড়া তার পছন্দ পুরুষটা দেবে অন্য এক রমণীকে যার নাম ইশরা। বেশ কয়েকটা তোড়া দেখার পর একটা তোড়া পছন্দ করলো সে। সাফাইত বিনা বাক্যে সেটাই নিয়ে নিল।

পাশাপাশি নীরবে হাঁটছে তোহা এবং সাফাইত৷ নীরবতা ভেঙে সাফাইত অস্থির কন্ঠে ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,

” ইশরা মানবে তো?”

তোহা নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল, ” চেষ্টা করে দেখ।”

” আমি সত্যি বলছি ওকে আমি খেয়াল করিনি। না-বুঝে ওভাবে সরিয়ে দিয়েছিলাম।” অনুশোচনা করে বলল সে।

” মেয়েরা স্বভাবগত একটু কোমল হয়। তোর হঠাৎ আচরণে তার মন খারাপ হয়েছে তবে তা ক্ষণস্থায়ী। দেখবি তুই ওর সাথে একটু ভালোবেসে ব্যবহার করলে ও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

কথা বলতে বলতে দু’জনে ক্যান্টিনে চলে এসেছে। কোণার একটা টেবিলে দেখল ইশরা একা বসে বই পড়ছে। ফুলের তোড়াটা তোহার কাছে রেখে সাফাইত ছুটে তার পেছনে এসে দাঁড়াল এবং হুট করে হাত দিয়ে চোখজোড়া চেপে ধরল। ঘাবড়ে গেল ইশরা। চোখ থেকে হাত সরানোর চেষ্টা করতে লাগল।

” কে এটা? চোখ ছাড়ো বলছি।” বিরক্তি নিয়ে বলল সে। সাফাইত খানিকটা কন্ঠস্বর পাল্টে বলল,

” বাবু তুমি আমাকে চিন্তা পারছ না? আমি আকাশ, তোমার আকাশ।” বলে মুখ টিপে হাসল সে।

” কে আকাশ? কোন আকাশ? ছাড়ুন আমার চোখ তারপর যা বলার বলুন। কি হলো ছাড়ুন।”

সাফাইত ঘাড় গুঁড়িয়ে কিছু দূরে থাকা তোহার দিকে তাকাল। সে ইশরায় বলল ছেড়ে দিতে। এরই মাঝে ইশরা ঝাড়া দিয়ে হাতটা সরিয়ে দিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল, ” এই কে আপনি? হুট করে…..” সাফাইতকে দেখে কথা বন্ধ হয়ে গেল তার। রাগের পরবর্তীতে মুখশ্রীতে গম্ভীরতা ছেঁয়ে গেল। চুপচাপ চলে আসতে যাবে কিন্তু সাফাইত দিল না। জোর করে তাকে চেয়ারে বসিয়ে নিজেও পাশে বসল। যেন উঠতে না পারে তাই হাতজোড়া চেপে ধরল।

” ইশরা আমি সত্যিই দুঃখিত, অনুতপ্ত আমি। ছেলেটা তোহার সাথে বাজে ব্যবহার করেছে জেনে আমার মেজাজ ঠিক ছিল না তখন। তাই না বুঝতে তোমাকে আঘাত করে বসেছি। প্লিজ ইশরা এবারের মতো ক্ষমা করে দাও। তুমি এভাবে কথা না বলে থাকলে যে আমার ভালো লাগছেনা, দমবন্ধ লাগছে। প্লিজ ইশু এবারের মতো ভুলটা ক্ষমা করে দাও।”

কথার মাঝে তোহার কাছ থেকে ইশরার অগোচরে তোড়াটা নিয়ে নিলো সাফাইত। সেটা ইশরার দিকে বাড়িয়ে ছোট বাচ্চাদের মতো বলল,

” যদি তুমি এটা নাও তাহলে বুঝব আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছ।”

বেশ কিছুসময় পরেও যখন ইশরা তা নিল না তখন সাফাইতের মন ভেঙে গেল। মাথা নিচু করে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল, ” কি ব্যর্থ প্রেমিক আমি। প্রেমিকার রাগ ভাঙাতে পারছিনা। প্রেমিক নামে কঙ্কল আমি। প্রেমিক সমাজ থেকে না আমাকে বিতারিত করে দেয়।”

এই সিরিয়াস মোমেন্টে সাফাইতের এধরণের হেয়ালিপনা দেখে ইশরা ফিক করে হেসে ফেলল। যা দেখে সাফাইতের খুশিতে লাফিয়ে উঠল।

” এই তুমি হেসেছ তাই না? তার মানে তুমি আর রেগে নেয়।”

” কই হেসেছি? আমি তো হাসিছি।” হাসি আটকে রেখে বলল সে। সাফাইত বুঝল ইশরা তার মজা নিচ্ছে। তাই সেও মজা নিতে বলল,

” ও… তাহলে হয়তো আমিই ভুল দেখেছি। থাক আর কি করার। এই ফুলের তোড়া দেখি কাকে দেওয়া যায়৷ সাথে প্রেমিক সমিতি থেকে নামটা কেটে দিতে হবে।”

ইশরা তোড়াটা কেড়ে নিয়ে বলল, ” কাকে দেবে শুনি? আমার জন্য আনা জিনিস অন্যকাউকে দিলে খবর আছে।”

সাফাইত চোখ ছোট করে তার দিকে তাকালে ইশরা না হেসে পারলনা। তাদের এই মান অভিমানের পালা শেষ হয়েছে দেখে তোহা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল। এতোসময় পর সাফাইতে প্রাণ খুলে হাসতে দেখে তারও মন ভালো হয়ে গেল। নীরবে সেখান থেকে সরে এলো সে।
.
.

ভাসির্টির সময় তখন প্রায় শেষ। সেসময় কোন পূর্বাভাস ছাড়াই ঝুম করে বৃষ্টি নামল। তোহার কাছে সবসময় ছাতা থাকে বিধায় তার কোনরূপ চিন্তা ছিল না। একহাতে ছাতা অপর হাতে পায়জামা খানিকটা উঁচু করে ধরে সাবধানে মাঠ পেরিয়ে গেটের কাছে যাচ্ছিল তোহা। সেরকম কোথা থেকে দু’জন ছুটে এসে তার ছাতায় ঢুকে তাকে দু’পাশ থেকে চেপে ধরল। আচমকা এধরণের ঘটনায় চমকে উঠল সে। তবে নিজের পাশে সাফাইত এবং ইশরা দেখে ভীতি দূর হলো তার।

” উফ… তোরা! আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কে না কে ধরেছে ভেবে।”

” তোকে আসলেই তুলে নিয়ে যাওয়া দরকার। তুই একা ছাতা নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছিস৷ এদিকে যে আমাদের কাছে ছাতা নেয়, তুই তো একবারো আমাদের খোঁজ নিলি না।”

তোহা খানিকটা বিরক্তি নিয়ে বলল, ” তোমাদের কাছে যে ছাতা নেয় তা আমি কি করে জানব? আমি কি অন্তর্যামী? তুমি আমাকে না বলেই কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছ। নিজেও তো একবার ফোন করোনি।”

” আরে বাবা কুল কুল। এতো রেগে যাচ্ছিস কেন? এই বৃষ্টির দিনে ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাথা গরম করা ঠিক না। তোর বেশি মাথা গরম হলে যা কিছুক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজে আয়।”

তোহা রাগী চোখে তার দিকে তাকাল। ইশরা পাশ থেকে বলল,

” উফ… তুমিও না। সারাদিন আপুর পেছনে লেগে থাকো। আর বিরক্ত করো নাতো। আপু রেগে গেলে ঠেলে তোমাকে ছাতা থেকে বের করে দেবে। তখন ভিজে ভিজে যেতে হবে।”

” আমি ওকে ভয় পাই নাকি? আমাকে ছাতা থেকে বের করে দিলে ওকে আমি ছেড়ে দেবো?”

তার কথার মাঝে তোহা ছাতাটা সাফাইতের হাত ধরিয়ে দিয়ে ছুটে একটা রিকশায় উঠে গেল। তার দিকে একবারো ফিরে তাকালো না সে, রিকশাচালকে দ্রুত রিকশা টানতে বলল। ঘটনা এতো তাড়াতাড়ি ঘটে গিয়েছে যে সাফাইত এবং ইশরার বিষয়টা বুঝতে কিছুটা সময় লাগল।

” এটা কি হলো?” অবাক কন্ঠে বলল সাফাইত।

” আমিও তাই ভাবছি। আপু কোন কথা না বলে এভাবে চলে গেল কেন?”
.
.

রিকশা থেকে নেমে একছুটে বাড়ির ছাদে চলে গেল তোহা। ছাদের দরজা বন্ধ করে বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে চোখের জল বির্সজন দিতে লাগল সে। প্রথমে নীরবে কান্না করলেও একসময় নিজের অনুভূতিকে আর ধরে রাখতে পারল না। ধপ করে মাটিতে বসে পড়ল সে। চিৎকার করে কান্না করতে লাগল। বৃষ্টির শব্দে আশেপাশের কেউ শুনতে পাবেনা বলে সে প্রাণ খুলে কান্না করতে লাগাল।

” কেন, আমার সাথেই কেন এরকমটা হলো? কি ক্ষতি করেছি আমি? কেন আমি নিজের অনুভূতিকে আটকে রাখতে পারিনি? কেন আমি সাফাইতকে দেখলে দুর্বল হয়ে পড়ি? কেন তাদের দু’জনকে একসাথে দেখলে আমার কষ্ট হয়? সাফাইত ইশরার মাঝে কি এমন পেয়েছে যা আমার মধ্যে ছিল না? কোন গুণের কারণে সাফাইত ইশরাকে বেছে নিয়েছে? এতোবছর ধরে সে আমাকে দেখছে একটুও কি বুঝলো না আমার অনুভূতি?”

পরক্ষনেই সে চোখ মুছে ফেলল।

” না না এসব আমি কি বলছি। সাফাইত কিভাবে বুঝবে? সে যেন না বুঝতে পারে সেই চেষ্টাই তো আমি করছি। নিজের অনুভূতিকে নিজের মধ্যে দাফন করে রাখেছি। এতে সাফাইতের তো কোন দোষ নেই৷ ইশরা যথেষ্ট ভালো মেয়ে। সাফাইত এরও তো নিজস্ব অনুভূতি আছে। আমি তাকে জানাতে পারিনি এটা আমার ব্যর্থ।না না, এখন তাদের সুখের নজর দেওয়া উচিত হবেনা।”

এসব বলে নিজেকে বোঝাল তোহা। তবে তখনো তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে এখন দোটানায় ভুগছে। প্রতিনিয়ত পছন্দের মানুষকে অন্যজনের পাশে দেখে একপাক্ষিক প্রণয়ের অনলে দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে সে।

চলবে……

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ