Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"রোমান্টিক_অত্যাচারঃ_২রোমান্টিক_অত্যাচার -২ পর্ব-১৩

রোমান্টিক_অত্যাচার -২ পর্ব-১৩

রোমান্টিক_অত্যাচার -২
পর্ব-১৩
লেখিকাঃ #Israt_Jahan
ধারনাঃ #Kashnir_Mahi
-“আলিশা কেঁদেই চলেছে কথাগুলো শেষ করে।
শান্তনা ব্যাপারটা ও এখন ওকে দেওয়া ঠিক হবেনা। কিন্তু এই ব্যাপারটা এখন ওকে কি করে বোঝায় যে কেউ যদি মন থেকে না চায় কাউকে ভালোবাসতে তাহলে সেটা জোড় করে ভালোবাসানো সম্ভব না।কি করে যে বোঝাবো ওকে? আচ্ছা এখন আপাতত একটু একা থাকুক।বিষয়টা নিয়ে আমি একটু ভাবনা চিন্তা করে দেখি কি করা যায়। মাহিকে নিয়ে বরং এখন রুমে চলে যায়।পাশে ফিরে তাকাতেই দেখলাম মাহি পাশে নেই।ও কখন উঠে চলে গেছে টেরই তো পেলাম না।আমি আলিশা কে বললাম,
-“আলিশা সিস?
-“হুম বলো।
-“প্লিজ এভাবে আর কেঁদোনা।সমস্যা থাকলে তার সমাধান ও নিশ্চই আছে।তুমি এখন কান্নাকাটি বন্ধ করো।আর একটু রেস্ট নাও।আমরা তোমার সাথে পরে এই ব্যাপারে কথা বলছি।
হতাশাগ্রস্ত চেহারায় আলিশা একটা হাসি দিয়ে কথা বলল,
-“আর কি কথা বলবে?
-“তুমি এতো ভেঙ্গে পড়ছো কেনো?তুমি তো এমন ছিলেনা।আমি তো জানতাম তোমার মাঝে অনেক কনফিডেন্স আছে। তুমি কারো উপর ডিপেনডেন্ট নও। তাহলে এগুলো কি আলিশা?আমি সত্যি তোমার থেকে এটা আশা করিনি।
আলিশা প্লিজ নিজেকে সামলাও।
-“আশফি আমি নিজেকে সত্যি সামলাতে পারতাম যদি ও আমাকে বেসামাল পরিস্থিতিতে না ফেলতো। তুমি বিশ্বাস করো ওর কোনো কিছু দেখে আমার একবার ও মনে হয়নি যে ও আমাকে ভালোবাসেনা।
-“হুম।বিষয়টা যা দাড়াচ্ছে তাতে এখন ওর সাথেই কথা বলতে হবে মনে হচ্ছে।আচ্ছা ওর ডিটেইলটা আমাকে দাও তো।
-“ওয়েট।
আলিশা নিজের পার্স থেকে একটা ভিজিটিং কার্ড বের করলো।তারপর আশফিকে বলল,
-“এটা ওর ভিজিটিং কার্ড এখানে ওর কাজের সব ডিটেইল দেওয়া আছে আর ওর ইমেইল এড্রেস টা দেওয়া আছে ওখানে ঢুকলেই ওর সব ইনফরমেশন পেয়ে যাবে।
-“ওকে,তুমি টেনশন নিও না।একটু রেস্ট নাও।
আলিশার সাথে কথা শেষ করে রুমে চলে এলাম।রুমে এসে দেখি মাহি বিছানার এক কোণে বসে আছে পিসি সামনে করে।কি কাজ করছে ও পিসিতে?আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম।
-“কি করছো ডিয়ার?
-“একজনকে খুঁজছি।
-“কাকে খুঁজছো?আর কোথায় খুঁজছো?
-“সেটা তো খুঁজে পাওয়ার পর বলতে পারবো।
মাহি আসলে যাকে সন্দেহ করছে তার নামটা দিয়ে ভার্চুয়াল সাইটগুলোতে তাকে সার্চ করছে।
-“আচ্ছা আলিশার ব্যাপারটা নিয়ে একটু কথা বলতে চাইছিলাম। আলিশার থেকে ছেলেটার ভিসিটিং কার্ড নিয়েছি। আশফি ভিসিটিং কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখতেই ওর চোখ আটকে গেলো কার্ডটার উপর।ও ভাবছে ভিসিটিং কার্ডে যার ডিটেইল দেওয়া আছে গত তিন বছর আগেও এমনই একটা কার্ড ওর কাছে ছিলো।কেউ ওকে দিয়েছিল।আর সেটা ওর খুব ভালো করে মনে আছে। সেইদিন ঐ কার্ডটা ওকে কে দিয়েছিল।কারণ ও তার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। তার নামটা ও ওর স্পষ্ট মনে আছে।তার নামটা ছিল ড. দুপুর হাসান। আর এখন ওর হাতে যে কার্ডটা আছে সেখানেও ঐ একই নাম।
-“তার মানে দুজনই একই ব্যক্তি?
-“কি বলছো?কারা একই ব্যক্তি?
-“মাহি তোমার কাছে একটা ঘটনা বলাই হয়নি আমার।দেশে থাকতে লাস্ট যে এক্সিডেন্টটা তোমার সাথে হয়েছিল সেদিন তোমার একজন পরিচিত তোমার অপারেশন টা করেছিল।তোমার জন্য তখন সে ও অনেক চিন্তিত ছিল।তারপর উপরওয়ালার অশেষ ক্রিপাতে আর তার চেষ্টাতে তুমি সুস্থ হও।
-“কে সে?
-“ড. দুপুর হাসান।
মাহি নামটা শুনে কিছুটা বিস্মিত হলেও তারপর নিজেকে সামলে নিল।আশফি আবার কথা বলা শুরু করলো,
-“সেদিন আমাকে সে বলেছিল তোমার সাথে তার কিভাবে পরিচয়।
-“ও আচ্ছা,তোমার পরিচয় জানতে চাইনি?
-“হুম।চেয়েছিল তো। আমি তখন আমার পরিচয় দিয়েছিলাম আমি তোমার উডবি হাজবেন্ড।আচ্ছা সে কথা বাদ দিই।এখন আমি তার কথা তোমাকে কেনো বলছি সেটা জানতে চাইবেনা?আলিশা যাকে পছন্দ করে সে এই দুপুর হাসান।
-“হুম।বুঝলাম।
-“বুঝলাম মানে? এমন ভাবে বললে শুনে মনে হলো তুমি অনেক আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিলে।
-“আন্দাজ তো আগেই করতে পেরেছি।দুপুর যে এখনো সেদিনকার ঐ কথা ধরে রেখে সত্যি সত্যি সারাজীবন নিজেকে একা রাখার সিদ্ধান্ত নিবে তা আমি ভাবতেও পারিনি। আর ঘুরে ফিরে দুপুরের বিষয়টা যে আবার আমার জীবনে আসবে সেটা ও ভাবিনি।কিন্তু এখন তো দেখছি আলিশা আর দুপুরের সম্পর্কটা না হওয়ার পেছনে আমার ভূমিকাটাই বেশি।হয়তো সেটা অনিচ্ছাকৃতভাবে।কিন্তু দায়ী তো আমিই হচ্ছি। এখন তো ব্যাপারটা আশফির সাথে শেয়ার না করলেই হচ্ছেনা।
-“আশফি?আরে লোকটা কোথায় গেলো?
বেলকোনিতে চোখ পড়তেই দেখলাম ও ফোনে কথা বলছে।
-“উফ কি যে যন্ত্রণা!
-“কি হয়েছে?
-“ঐ যে সেদিন বললাম না একটা কোম্পানি আমাদের কোম্পানির সাথে ডিলে আসতে চাইছে।যেভাবে রিকোয়েস্ট করছে তাতে তো আমার সন্দেহ হচ্ছে।
-“সন্দেহ করার কি আছে? তার হয়তো সত্যি বেনিফিট হবে আমাদের কোম্পানির সাথে ডিল করলে।
-“সে তো হবেই।কিন্তু আমি আরো কিছুদিন ভেবে দেখতে চাইছি।আচ্ছা কয়টা বাজে এখন?
-“রাত ৯.০০ টা বাজতে চললো প্রায়।
-“আপনার যে ডিনারের সময় হয়ে গেছে তা কি ভুলে গেছেন?
-“ও হ্যা আলিশাকে ও তো খেতে দিতে হবে।চলো ওকো নিয়ে ডিনার সেড়ে নিই।
-“হুম চলো।
ওরা তিনজন একসাথে রাতের ডিনার করলো। ডিনার করে রুমে এসে মাহি আশফির সাথে কথা বলছে,
-“তোমাকে একটা বিষয় জানানোর আছে।
-“জানিয়ে ফেলো।
-“প্লিজ ফোনটা রাখো।
কথাটা মন দিয়ে শুনে।
-“তোমার সব কথায় আমি মন দিয়ে শুনি সে চোখ আমার যেদিকেই থাক।
-“দুপুর…….
বলতে গিয়েও মাহির গলায় কথাটা আটকে আসছে।
কেমন একটা আতংক কাজ করছে ওর মাঝে।আসলে এটা ভেবেই ওর মাঝে আতংক কাজ করছে যে দুপুর আর ওর ব্যাপারটা জানার পর আশফির রিয়্যাকশানটা কেমন হবে। যদিও আশফি অনেক ঠান্ডা মাথার মানুষ কিন্তু রেগে গেলে তো ওকে সত্যিই অনেক ভয়ংকর দেখায়। মাহির ভাবনা চিন্তার মাঝে আশফি কথা বলে ওর চিন্তা ভাবনার ছেদ ঘটালো।
-“দুপুর কি?বলতে গিয়ে থেমে গেলে যে?
-“দুপুরের সাথে একসময় আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো অনেক ভালো বন্ধুর মত।তারপর ও একদিন আমাকে প্রপোজ করে আমি সেটা এক্সেপ্ট করতে পারিনি।এক্সেপ্ট না করার কারণ ও ওকে আমি বলেছিলাম।সেদিন দুপুর আমাকে কিছু কথা বলেছিল।কথাগুলো ছিল………
মাহির গুলো কথাগুলো আশফি শেষ হতে দিলোনা।মাহি বলার আগেই আশফি মাহির মুখ থেকে কথাগুলো কেড়ে নিয়ে নিজে বলা শুরু করলো।
-“কথা গুলো ছিল তুমি যদি ওকে ভালো না বাসো ওকে বিয়ে না করো তবে ও নিজেও কোনোদিন তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবেনা। রাইট?
আশফির কথাগুলো শুনে মাহি বিস্মিত চোখে আশফির চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।হয়তো কিছুটা ভয় ও কাজ করছে ভেতোরে।আশফি হঠাৎ মাহির দুই কাঁধ ধরে ঝাঁকি দিলো।তারপর বলল,
-“এই মেয়ে কোথায় হারিয়ে গেছো বলো তো?
মাহি চিন্তার জগত থেতে বেরিয়ে এলো।
-“তুমি?
-“আমি কি?
-“না মানে তুমি ব্যাপারটা সিম্পলি নিয়েছো তো?
-“সিম্পলি না নেওয়ার তো কিছু দেখছিনা।
-“আসলে এই বিষয়টা কখনো তোমার কাছে বলার প্রয়োজন মনে করিনি।মানে এটা যে বলার মত বিষয় সেটা মনে করিনি।
-“ওহ্ আচ্ছা তুমি ভেবেছিলে আমি তোমার থেকে এগুলো জানার পর ওভার রিয়্যাক্ট করবো? হুম করতাম যদি এগুলো আমার আর তোমার দেখা হওয়ার পরে ঘটতো।তবে ওভার রিয়্যাক্ট করতাম না তোমাকে বারণ করে দিতাম যাতে ওর সাথে আর কথা না বলো।এমনি বন্ধুত্ব আমি মেনে নিতে পারি কিন্তু সে যদি তার থেকে বেশি কিছু ভাবে তোমাকে বা বন্ধু হয়েছে বলে বারবার তোমার হাত ধরে,তোমাকে টাচ্ করে এসব কায়দায় তোমার সাথে কথা বলে সেটাও আমি মেনে নিতে পারবোনা।আর তোমার আর দুপুরের ব্যাপারটা যেহেতু আমি তোমার জীবনে আসার আগে ঘটে গেছে তাই সেটা আমি একদম সহজ ভাবেই দেখছি।
-“হুম।
-“হুম কি হ্যা?তুমি এই তিনটা বছরেও আমাকে পুরোটা চিনতে পারলেনা।
-“স্যরি।
-“স্যরি বলার কিছু দেখছিনা।সেটা আমার ব্যার্থতা।
-“আরে ধুর তোমার ব্যার্থতা হতে যাবো কেনো?
-“থাক হয়েছে অনেক। এখন প্লিজ ঘুমিয়ে আমাকে শান্তি দিন।
-“তার মানে কি?আমি জেগে থাকলে তুমি অশান্তিতে থাকো? এরকমটা তুমি বলতে পারলে?
-“আরে বাবা কেনো অশান্তিতে থাকি সেটা তো শুনবে।
-“অশান্তিতেই তো থাকো। সে যে জন্যই হোক।
আশফি মাহির হাত ধরে টেনে আনলো ওর বুকের কাছে।তারপর বলল,
-“তুমি জেগে থাকলে যে তোমার কাছে না আসা পর্যন্ত যে আমার শান্তি লাগেনা।কিন্তু বাঁধা তো একটা জায়গায়।
-“এর জন্যই বুঝি?
-“ইয়েস ডিয়ার।আচ্ছা তোমার তো কিছু দেওয়ার কথা ছিল আমাকে।
-“কি দেওয়ার কথা ছিল?
-“ভুলে গেছো নাকি ভুলে যাওয়ার ভান করছো?
-“না আমার কিছুই মনে পড়ছেনা আমার ঘুম পাচ্ছে। সরো আমারকে শুতে দাও।
-“এখন হঠাৎ করে ঘুম আসলে কোথা থেকে?
-“তুমিই তো ঘুমাতে বললে।
-“তুমি যে দিন দিন কত বড় ফাঁকিবাজ হচ্ছো!
-“আমি কোনো ফাঁকিবাজ টাকিবাজ নই।সরো না শুতে দাও।
মাহি আশফি ঠেলে সরিয়ে শোয়ার চেষ্টা করছে।
তারপর বালিশটা নিয়ে শুতে গিয়েই আশফি মাহিকে বাঁধা দিল।
-“খবরদার একদম শুবে না।বালিশটা রাখো।
জোড় গলায় বলছে আশফি।
-“কেনো?কি সমস্যা?
-“আমাকে আদর না করে ঘুমাতে পারবেনা।
-“তোমার হয়টা কি মাঝেমাঝে?একটু আগে নিজেই বললে আমি জেগে থাকলে আমার কাছে আসতে ইচ্ছা করে তোমার। তাই তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করো আমাকে।এখন আবার আদর নেওয়ার জন্য কত তালবাহানা।
-“তার জন্য তুমি দায়ী।
-“কিভাবে?
-“তুমি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছো।
-“কখন?কিভাবে?
-“এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবোনা।আদর দিতে বলছি আদর দাও।
-“আর যদি না দিই?
-“চরম ভোগ আছে তোমার কপালে। সারারাত তো ঘুমাতে পারবেনা।
-“কি করবে যে ঘুমাতে পারবোনা?
-“জামাকাপড় খুলে ফেলবো।
-“কার?
-“তোমার।
-“তুমি না সত্যি অনেক বড় মাপের একটা ফাজিল।
-“আর তুমি অনেক বড় মাপের একটা ফাঁকিবাজ। তখন বললে যে রাতে হাফ পেমেন্ট সহ আবার ডাবল পেমেন্ট দিবে এখন সেটা ভুলে যাওয়ার ভান করছো?
-“হি হি হি।
-“এরবম শয়তানি হাসির দেওয়ার কি হলো?
-“কিছুনা।তোমাকে না মাঝেমাঝে এই একটা ব্যাপারের মাধ্যমে কাবু করা যায়।
-“হুম।তার মানে তখন আমার থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য মিথ্যা বলা হয়েছিল?
মাহি মিটিমিটি হাসছে।
-“তো এখন কিভাবে রেহায় পাবে ডিয়ার? এখন তো তুমি আমার বাহুডোরে আটকে আছো।
মাহিকে জড়িয়ে ধরে কথাগুলো বললো আশফি।
-“আচ্ছা ঠিক আছে বাঁধা দিবোনা।লাইটটা অফ করে দিয়ে এসো।
-“ওকে।
উঠে গিয়ে লাইটটা অফ করে ওর কাছে এলাম। ওকো শুইয়ে দিয়ে ওর কপালে আলতো করে চুমু খেলাম।
-“আশফি?
-“হুম।
-“আই লাভ ইউ।
মাহির এই কথাটা শুনে আশফি অবাক হয়ে মাহির দিকে তাকালো।কারণ এই এতোগুলো বছরে আশফি মাহিকে কখনো এভাবে লাভ ইউ কথাটা বলেনি আর মাহি ও বলেনি।এই প্রথম মাহিই বললো।
-“কি হলো?এভাবে চেয়ে আছো কেনো?
-“আমাদের মাঝে আজই এই বাক্যটা প্রথম ব্যবহৃত হলো।
-“আই লাভ ইউ। দ্বিতীয়বার হলো। কিন্তু উত্তরটা এখনো পেলাম না।
-“প্রপোজটা যেহেতু আজই করলে তাই উত্তরটা ও সময় বুঝেই দিবো।
মাহি একটু রাগ করে গালটা ফুলিয়ে রাখলো।
-“রিফিউজড করবে নাকি?
-“উমমম…..জানিনা। ভেবে দেখার জন্য তো সময় নিলাম।
মাহি আশফির বুকে আস্তে করে একটা ঘুষি দিলো। তারপর বলল,
-“পাঁজি ছেলে। দাম বেড়ে গেছে তাইনা,মেয়ে হয়ে আগে প্রপোজ করেছি বলে?
-“হুম তা তো একটু বেড়ে গেলোই।একটা বিষয় জানো মাহি এর আগে আমি যতবার রিলেশন করার প্রপোজাল পেয়েছি আর তারা যতবার আমাকে লাভ ইউ বলেছি তার একবার ও তারা আমার থেকে তার উত্তরটা পাইনি।
-“তো তুমি আমাকে তাদের কাতারেই ফেললে বুঝি?
-“আজ্ঞে না মহারানী। কারণ ঐ উত্তরটা একজনের জন্য তোলা ছিল।
-“কার জন্য?
-“আমার চান্দুর মামনির জন্য।তবে ভাবিনি চান্দুর মামনি নিজেই আমাকে আগে প্রপোজ করবে। ভেবেছিলাম আমি তাকে আগে বলবো।কিন্তু সেরকম ভাবে কথাটা বলা হয়ে উঠেনি।তবে আপনি যেহেতু আজকে বলেই ফেললেন উত্তরটা ও অবশ্যই পাবেন শুধু একটু সময় সাপেক্ষের ব্যাপার।
-“হাহ্।আমি সত্যিই ধন্য এমন ইউনিক চরিত্রের একটা বর পেয়ে।
আশফি মাহির নাকে চুমু দিয়ে বলল,
-“আর আমিও।
বলার পরই আশফি মাহিকে আদর করতে শুরু করলো। এরপর মাহি আর আশফি আলিশাকে প্রতিদিন মেইন্টালিভাবে সাপোর্ট দিতে শুরু করল যাতে আলিশা দুপুরের বিষয়টা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা না করে। কিন্তু আলিশার কাছে মাহি আর দুপুরের ব্যাপারটা হাইড রাখলো ওরা।ওরা দুজন যে প্ল্যান করেছে দুপুরকে রাজি করানোর জন্য সেটা আর আলিশাকে ওরা বললোনা। তবে যে প্ল্যানটা ওরা করেছে সেই প্ল্যান টার কার্যক্রম শুরু হবে মাহির বেবি হয়ে যাওয়ার পর। তার আগে তেমন কিছুই ওরা করতে পারছেনা। আর আলিশাকে ও ধৈর্য রাখতে বলেছে।তারপর আলিশা ওদের সাথে সময় কাটানো শেষ হলে দেশে ফিরে গেলো।তার ২ মাস পরের ঘটনা।
-“আআআআ……. আর পারছিনা। এতো পেইন কেনো?
-“একটু কষ্ট করো ডিয়ার আমরা চলে এসেছি তো।
আশফি মাহিকে নিয়ে হসপিটাল এসেছে। হুইলচেয়ারে বসে মাহি চিল্লাচ্ছিল।তখন মাহিকে কেবিনে শিফট করতে নিয়ে যাচ্ছিল আশফি।
-“উহ্ মাগো আর পারছিনা। হায় আল্লাহ্ কেনো এতো কষ্ট দিচ্ছ?
-“ধৈর্য রাখো ডিয়ার। কষ্ট তো একটু হবেই। তবে বেশিক্ষণ কষ্ট পেতে হবে না,দেখো।
-“একদম চুপ।কোনো কথা বলবে না তুমি। তোমার জন্য এতো কষ্ট হচ্ছে। তোমাকে আমি ছাড়বোনাআআআআ।
-“ওকে তুমি ছেড়োনা ডিয়ার।আমরা চলে এসেছি।
নার্স এসে মাহিকে কেবিনে(ডেলিভারি রুম) নিয়ে গেলো। আর আশফি বাইরে দাড়িয়ে থাকলো। বাইরে থেকেই মাহির চিৎকার শোনা যাচ্ছে।
-“ওহ্ গড কি যে ভুল করেছি ওকে বাবু দিয়ে। এর জন্য যে আমাকে কতকিছু শুনতে হলো তা তো তুমি দেখলেই।এই কয়টা মাস আমার উপর দিয়ে যা গেছে নেক্সট টাইম আমি আর এমন ভুল করছিনা।আর আমি ওকে প্রেগন্যান্ট করছিনা।
কিছুক্ষণ পর একজন নার্স কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো। তারপর আশফিকে বলল,
-“স্যার আপনার মিসেস আপনাকে ছাড়া ডেলিভারী কাজ করতে দিবেনা। উনি আমাদের কোনো কিছুই করতে দিচ্ছেন না। বলছে এটা নাকি আপনাকেই করতে হবে।এমনকি ড. কে ও পর্যন্ত কাছে আসতে দিচ্ছে না।
-“কি?কি করছে মেয়েটা? ও হ্যা ও তো আমাকে বলেছিল যে ওর ডেলভারীটা ও আমাকে করতে হবে কারণ কাজটা আমিই করেছি তাই। মাহিটা আসলেই একটা পাগলী।এটা কি আমি কখনো করতে পারি?
-“স্যার প্লিজ আপনি ভেতোরে আসুন।কারণ টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে আবার এদিকে বেশি দেরী হলে ওনার প্রবলেম হবে।
-“হ্যা তাইতো।চলুন।
আশফি ভেতোরে যাওয়ার পর মাহি ঠান্ডা হলো। কিন্তু আশফির দিকে চোখগুলো গোল গোল করে তাকিয়ে রইলো।কারণ আশফি ওর কথা রাখেনি।
-“ডিয়ার তুমি কি ভয় পাচ্ছো?
-“তোমার মাথা। তুমি বাইরে দাড়িয়ে ছিলে কেনো?
মাহি ব্যাথায় কাতরাচ্ছিল আর আশফিকে বকছিল।
-“ওকে ওকে। আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আর এরকম হবেনা। এবারের মত আমাকে মাফ করে দাও?
-“পরের বার তোমাকে আর সুযোগ দিলে তো? উহ্…ঐ ড. কে আমার কাছে আসতে বারণ করো। এই কাজটা তুমিই করবে। তোমার করার কথা ছিল।
মাহি রাগী কন্ঠে আশফিকে বলছিলো।আর মাহির কথাগুলো শুনে নার্স আর ড. সবাই হা করে তাকিয়ে ছিল।কথাগুলো মাহি জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজে বলছিল।
-“ডিয়ার এগুলোতে আমি অভ্যস্ত নই।আর অভ্যস্ত হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসছেনা কারণ আমি ড. নই।আর একজন ড. ছাড়া এ ধরনের কাজ আমরা কিভাবে করবো?
-“আমরা নই বলো আমি।
-“ও স্যরি।হ্যা আমি। তো তুমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছো নিশ্চই।কিন্তু আমি তোমার পাশে আছি।আর আমাদের এসব কথার জন্য কিন্তু সময় নষ্ট হচ্ছে।এতো তোমার আর আমাদের চান্দুর দুজনের ক্ষতি
হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।বুঝেছো?
-“হুম।তাহলে আমার হাতটা ধরে আমার পাশে দাড়িয়ে থাকো।একদম নড়বেনা।ওকে?
-“ওকে ডিয়ার।
আশফি মাহির হাতটা ধরে মাহির পাশে দাড়িয়ে আছে। আর মাহিকে শান্ত করার চেষ্টা করছে,মাহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। বেশকিছুক্ষণ পর জাপানিজ দের মত দেখতে একটা ধবধবে ফর্সা গায়ের রঙের ফুটফুটে একটা কন্যা জন্ম নিলো।চোখ দুটো একদম ছোট ছোট, ঠোঁটটা একদম রক্তের মত লাল আর মাথা ভর্তি কালো চুল।হাত পায়ের আঙ্গুল গুলো কিছুটা লম্বা লম্বা হয়েছে।যাকে দেখতে হূর দের থেকে কম সুন্দর লাগছেনা। মাহির চোখ দিয়ে তখনও পানি ঝরছিলো।কিন্তু বেবিটাকে দেখার পর শান্তিতে যেনো সবকিছু স্তব্ধ হয়ে গেছিলো। সেই সাথে আশফির ও শান্তি আর খুশিতে চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো। আশফি আর মাহি দুজন দুজনের দিকে তাকালো। তারপর আশফি মাহির কপালে চুমু খেয়ে বলল,
-“আই লাভ ইউ টু ডিয়ার।
আম্পটিন লাভ ফর ইউ।
চলবে……
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ