Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুই শুধু আমার ভালোবাসাতুই শুধু আমার ভালোবাসা পর্ব-০৯ + বোনাস পর্ব

তুই শুধু আমার ভালোবাসা পর্ব-০৯ + বোনাস পর্ব

#তুই_শুধু_আমার_ভালোবাসা
#Hridita_Hridi
#পর্ব_৯

সন্ধ্যা ছয়টা,
কলিং বেল বাজতেই রমা বেগম দরজা খুলে দিতেই সালাম করে উঠে দাঁড়ায় সাগর। রমা বেগম সাগরের কান ধরে টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে যায়।

সাগরঃ আহ! আম্মা ছারো লাগছে তো! কি করছোটা কি। তোমার ছেলেমেয়েদের সামনে আমার প্রেস্টিজটাকে তো একেবারে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছো।আরে বর্ষণ, তুই অন্তত কিছু বল আম্মাকে যেন আমার কানটা ছেড়ে দেয়।

বর্ষণঃ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলে, না ভাই আমি কিছু বলতে পারবোনা। আমার কান দুটো যে ঠিকঠাক আছে এই ঢেরবেশি।যেচে কানমলা খাওয়ার ইচ্ছে আমার কোনো কালেই ছিলোনা, আজও নেই।

রমাঃ ছেড়ে তো দিবোই, তার আগে বল এই বাসা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই আম্মাকে ভুলেই যাস তাইনা?

সাগরঃ তোমার বর মানে আমার স্যার, সে তো আমার মাথায় পৃথিবী চাপিয়ে দিয়েছে। সেটা ফেলে আমি আসি কি করে বলো!

রায়হানঃ আমার নামে কি বলছো সবাই।

সাগরঃ না না আঙ্কেল আমি বলছিলাম তুমি খুব ভালো। তোমার মতো মানুষ পৃথিবীতে আর একটাও নেই। তুমি আমাকে কিছুই করতে দাওনা।

রমাঃ সাগরের কান ছেড়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বলে ওরে দুষ্টু তাই বুঝি? তোরা বোস আড্ডা দে আমি তোদের খাওয়ার ব্যাবস্থা করি।

হাসি আড্ডা খাওয়া দাওয়ায় কেটে গেলো দুই ঘন্টা। এখন বর্ষণের বের হওয়ার পালা।দশটায় ফ্লাইট। এখন বের হতে না পারলে লেট হয়ে যাবে।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে বর্ষণ গাড়িতে উঠতে যাবে তখন ফিরে তাকালো। দেখলো বর্ষা গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।বর্ষণ ফিরে এসে বললো—

শোন বর্ষা আমি এক সপ্তাহ থাকবোনা সাবধানে থাকবি। একা বাইরে বের হবিনা,সাগর তোকে ভার্সিটিতে দিয়ে আসবে আর নিয়ে আসবে চুপচাপ শান্ত হয়ে থাকবি একদম দুষ্টুমি নয় ঠিক আছে? আর….

বর্ষাঃ আর কি?

বর্ষণঃ যখন ভার্সিটি যাবি যাওয়ার আগে আমায় ভিডিও কল করবি।

বর্ষাঃ 😲 কেন!!

বর্ষণঃ আমি বলেছি তাই। আমার কথার যেনো কোনো নড়চড় না হয় mind it.বলেই একটুও দেরি না করে গাড়িতে উঠে পরে।

রাত ১ঃ৩৫ মিনিটে কুয়ালামাপুরে পৌঁছেছে বর্ষণ। পৌঁছে রায়হান খানকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে সে।
আগে থেকেই বর্ষণের জন্য গাড়ি নিয়ে ওয়েট করছিলো সবুজ। বর্ষণ যে কুয়ালালামপুর এসেছে সেটা সবুজ ছাড়া আর কেউ জানে না। সবুজ হলো বর্ষণের খুব বিশ্বস্ত।তাই বর্ষণ শুধু সবুজকেই বলেছে আসার কথা।

সবুজঃস্যার, আপনি এভাবে কাউকে কিছু না বলে চলে আসলেন?

বর্ষণঃ দুদিন পরেই সেটা বুঝতে পারবে। Just wait and watch.

নিজের এপার্টমেন্টে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পরে বর্ষণ।
সবুজ আগে থেকেই সব রেডি করে রেখেছিলো।

সকাল….

বর্ষা রেডি হচ্ছে, প্রায় শেষ। একটা হিজাপ পিন আটকানো হলেই কমপ্লিট। তখনই ফোনটা বেজে ওঠে বর্ষার। পিনআপ করে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে বর্ষণ কল করেছে। ভিডিও কল।

ফোন তুলতেই বর্ষণ ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে ঘুম জারানো কন্ঠে বলে ঐ ফোন দিসনি কেনো?

বর্ষাঃ তুমি ফোন করবে তাই।

বর্ষণঃ ঠিক আছে ঠিক আছে, আর পাকামি করতে হবে না। সাগর এসেছে?

বর্ষাঃ হুম। নিচে ওয়েট করছে।
বর্ষণঃ ঠিক আছে সাবধানে থাকবি। সারাদিন হয়তো ফোন করার টাইম পাবোনা। রাতে কথা হবে বাই বলে ফোন রেখে দেয় বর্ষণ।

বর্ষাও ভার্সিটিতে চলে যায়।

রিহার্সাল নিয়ে সবাই খুব ব্যাস্ত। বর্ষা সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছে ঠিকঠাক মতো।এই কয়েকদিনের মধ্যে সব পার্টিসিপ্যান্টদের সম্পুর্ন ভাবে গড়ে তুলতে হবে।

বর্ষা কখনো নাচ দেখাচ্ছে, কখনো গান গাইছে, কখনো অভিনয় করছে তো আবার কখনো আবৃত্তি করে যাচ্ছে।তাও আবার খুব নিপুণ ভাবে। যারা রিহার্সাল করছে তারা মুগ্ধ হয়ে দেখছে বর্ষার এমন নিপুণ নৃত্য, এমন সুরেলা কন্ঠের গান আর এতো সুন্দর আবৃত্তি আর অভিনয়।

রিহার্সাল এর পাশাপাশি নবীনবরণ এর কাজ চলছিল জোরদার ভাবে। সবকিছু সুন্দর ভাবে চলছে।

এদিকে
বর্ষণ অফিসে গিয়ে নিজের কেবিনে বসে।সেটা দেখে তো অফিসের সকলের চোখ কপালে। কাউকে কিছু না বলে স্যার হঠাৎ কেনো চলে আসলো।

বর্ষণঃ আশরাফ সাহেব আপনি এই মুহুর্তে আমার কেবিনে এসে দেখা করুন ফার্স্ট! বলেই ফোন রেখে দেয়।
আশরাফ সাহেব হলেন বর্ষণের কোম্পানির সকল দায়িত্বে আছেন। সকল কনফিডেনসিয়াল বিষয় তিনি জানেন।
সকল দায়িত্ব তার উপর ই ন্যাস্ত।

আশরাফ সাহেব তো ফোন পেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বর্ষণের কেবিনে এসে নক করে। May I come in sir?

বর্ষণঃ Come in..

আশরাফঃ স্ স স্যার আপনি! কিছু না বলে হঠাৎ!

বর্ষণঃ আমি আসাতে আপনার বড় প্রবলেম হয়ে গেলো? নাকি আপনার প্ল্যান ভেস্তে গেলো।

আশরাফঃ কি বলছেন স্যার!

বর্ষণঃ আমাদের অফিসের কনফিডেনসিয়াল ফাইলগুলো কোথায়? ওগুলো দুই মিনিটের মধ্যে আমার হাতে এনে দেবেন। এক্ষুনি যান।

আশরাফ সাহেব বর্ষণের দিকে তাকিয়ে দেখলো চোখ মুখ লাল বর্ণ হয়ে আছে বর্ষণের।

আশরাফ সাহেব কিছু না বলে চলে যায়। আর ফাইগুলো সব বর্ষণের হাতে তুলে দেয়।

অফিসের ফাইলগুলো সব খতিয়ে দেখছে বর্ষণ। তাকে সহযোগিতা করছে সবুজ।
অফিস মিটিং এসব ব্যাস্ততায় কেটে যাচ্ছে বর্ষণের সময়।

বর্ষার ও ব্যাস্ত সময় কাটছে নবীনবরণের সকল আয়োজন করতে করতে সময়টাও পার হয়ে গেছে। খুব ব্যাস্ততার মধ্যে সময় কেটে গেছে বর্ষার।

আজ বুধবার..

বর্ষা রেডি হয়েছে ভার্সিটি যাবে। বর্ষণ ফোন করে কথা বলছে। কথা শেষ করে বর্ষা ভার্সিটি চলে যায়।

বর্ষাঃ গাড়িতে বসে ভাবছে বর্ষণ ফোন করে ঠিকই।
শুধু জিজ্ঞেস করে এখনি বের হবো নাকি। সাগর এসেছে নাকি। আমি কেমন আছি। এটুকু জানতে কি বর্ষণ ভাইয়া রোজ সকালে ফোন করে?এসব ভাবতে ভাবতেই ভার্সিটির গেটে চলে আসে বর্ষা।

ঐদিকে..
বর্ষণের সকল প্রায় শেষের দিকে। তবে যেটা বেশি ইম্পর্ট্যান্ট ছিলো সেটা হয়ে গেছে। আশরাফ সাহেবকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আশরাফ সাহেবের জায়গায় সবুজকে বসানো হয়েছে।
আশরাফ সাহেব সকল কনফিডেনসিয়াল ফাইলগুলো অন্য কোম্পানিকে দিয়ে দিচ্ছিলো কিছু টাকার বিনিময়ে। সে খবর পেয়েই বর্ষণ মালয়েশিয়ায় এসেছিলো।

মঙ্গলবারের মিটিং ও সাকসেসফুল হয়েছে বর্ষণের। যেখানে অন্য একটা কোম্পানির সাথে ডিল ফাইনাল হলো। যেটা ছিলো নব্বই কোটি টাকার।

——-

বর্ষা গাড়ি থেকে নেমে ক্যাম্পাস দিয়ে হাটছে। হঠাৎ পেছন থেকে নদী এসে বর্ষাকে জড়িয়ে ধরে।

বর্ষাঃ কিরে শাঁকচুন্নি এভাবে আচমকা এসে ঘাড়ে চাপলি কেনো।

নদীঃ তোকে একটা খবর দেওয়ার আছে সেটা জানাতেই তোর ঘাড়ে চেপেছি।

বর্ষাঃ তা খবরটা কি জানতে পারি?

নদীঃ হুমমমমমম! অবশ্যই শাঁকচুন্নির কলিজা 😇
শোন..

চলবে…..

#তুই_শুধু_আমার_ভালোবাসা
#Hridita_Hridi
#বোনাস_পার্ট (সারপ্রাইজ পর্ব)

নদীঃ শোন শাফিন ভাইয়া বলেছে আজ সরাসরি রিহার্সাল রুমে না গিয়ে ক্লাসে বসতে।ভাইয়ারা নাকি কিছু কথা বলবে আগামীকালের ব্যাপারে তারপর রিহার্সাল রুমে গিয়ে একবার করে রিহার্সাল দিয়েই আজকের মতো ছুটি।

বর্ষাঃ ওহ্ আচ্ছা এই কথা। তা তোকে এ খবরটা কে দিলো শুনি?
নদীঃ আসতে শাফিন ভাইয়ার সাথে দেখা হয়েছিল তখন বলেছে।

নদী আর বর্ষা কথা বলতে বলতে ক্লাসে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে শাফিন ভাইয়া আর তার বন্ধুরা আসে ক্লাসরুমে।

শাফিনঃ তোমরা তো জানোই আগামীকাল নবীনদের মানে তোমাদের বরণ ।সবাইকেই থাকতে হবে এটাও নিশ্চয়ই জানো।তবে আমি তোমাদের যেটা বলতে চাই সেটা হলো যেহেতু আয়োজন টা আমরা সবাই মিলে করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি আমরা।

তাই আমরা কেউ ই চাইবোনা একটু ত্রুটির জন্য কিংবা অবহেলার জন্য আমাদের আয়োজনের সৌন্দর্য্য নষ্ট হোক। তোমরা হয়তো জানোনা ভার্সিটির প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে মনে মনে একটা প্রতিযোগিতা চলে যেখানে সবাই চায় তাদের ডিপার্টমেন্ট টপে থাকুক তাই আমরাও এটাই চাইবো।

তোমাদের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য। ফার্স্ট ইয়ারের সকল মেয়েরা আগামীকাল লাল পেড়ে সাদা শাড়ি আর ছেলেরা খয়েরী পাঞ্জাবী আর সাদা পাজামা পরে আসবে। আর সকাল নয়টার মধ্যে সবাই ক্যাম্পাসে এটেন্ড থাকবে।
আর অন্য সিনিয়র ব্যাচে, মেয়েরা আকাশি কালার শাড়ি পরে আসবে আর ছেলেরা ব্লু পাঞ্জাবী আর সাদা পাজামা পরবে। যেন সহজেই নতুন আর পুরাতনদের চেনা যায়।

শাফিনের কথায় সবাই সায় দিলো। আর বললো আমরাও চাই আমাদের ডিপার্টমেন্ট টপে থাকুক। তাই আমরাও সুন্দর পারফর্ম করে দেখিয়ে দিতে চাই।

শাফিনঃ তোমাদের কথা শুনে খুব ভালো লেগেছে। অল দ্যা বেস্ট। আর নদী বর্ষা তোমরা কিন্তু লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরতে পারবেনা কারণ তোমরা ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করছো। এখন বলো তোমরা কি শাড়ি পরতে চাও।

বর্ষাঃ চুপ থেকে ভাবছে কি কালার টা সিলেক্ট করবে। হঠাৎ বর্ষার মনে পরে গেলো বর্ষণ ওকে একটা বাসন্তী কালার শাড়ি গিফট করেছিলো অনেক আগে। তাই বর্ষার মুখ থেকেও বাসন্তী নামটা বের হয়ে গেলো।

শাফিনঃ ওকে তাহলে তোমাদের জন্য বাসন্তী শাড়িই ফাইনাল হলো।সবাই একবার রিহার্সাল রুমে এসো স্যাররাও ওখানে আছেন। যেহেতু আজ শেষ রিহার্সাল। তাই স্যাররা দেখতে চায় তোমাদের প্রস্তুতি টা কেমন। বলে শাফিন ওর বন্ধুদের নিয়ে চলে যায়।

সবাই রিহার্সাল রুমে নিজের নিজের পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যাস্ত সবার পারফরম্যান্স দেখে স্যারেরা তো খুব খুশি। খুব প্রশংসা করছিলেন তারা। রিংকু স্যার ( যে স্যার বর্ষাকে ভলেন্টিয়ার হিসেবে সিলেক্ট করেছিলেন) সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের এতো সুন্দর পারফরম্যান্সে সহোযোগিতা করেছে কে?

তখন সবাই মাথা ঘুরিয়ে বর্ষার দিকে তাকায়।বর্ষা মাথা নিচু করে বসে ছিলো বলে কিছু দেখতে পায়নি।নদী তখন বর্ষাকে ধাক্কা দিয়ে উঠে দাঁড়াতে বলে।নদীর কথায় বর্ষা উঠে দাঁড়ায়।তখন স্যারেরা সহ বাকি সবাই করোতালি দিয়ে অভিনন্দনঅভিনন্দন জানায় বর্ষাকে।

এসবের মাঝ থেকে একটা সেকেন্ড ইয়ারের একটা স্টুডেন্ট (মেয়ে) বলে ওঠে। স্যার সবার তরফ থেকে আমার একটা রিকুয়েষ্ট আছে। যদি আপনি অনুমতি দেন তাহলে বলতে পারি।

স্যারঃ ওকে বলো কি বলতে চাও।

তখন বললো আমাদের সবাইকে এই বর্ষা গাইড করেছে আমাদের একটা রিকুয়েষ্ট আছে সেটা হলো বর্ষাকে একটা গানে ড্যান্স করতে হবে। ওর কথাতেে সবাই খুশি হয়ে করতালি দিতে শুরু করলো।

বর্ষা উঠে দাঁড়িয়ে বলে স্যার আমি ড্যান্স করিনা।

স্যারঃ আরে আরে বর্ষা। কিছু হবেনা এতোগুলো মানুষের রিকুয়েষ্ট অগ্রাহ্য করবে তুমি?

স্যারের কথা শুনে বর্ষা আর কিছু বলতে পারলোনা। চুপচাপ স্টেজে উঠে গেলো।

শাফিন মিউজিকের ওখানে ছিলো। বর্ষা গান সিলেক্ট করে দিলো

🎶 এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়
একি বন্ধনে জরালে গো বন্ধু (২)
কোন রক্তিম পলাশের স্বপ্ন
মোর অন্তরে ছড়ালে গো বন্ধু
এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়
একি বন্ধনে জরালে গো বন্ধু……

বাকিটা নিজ দায়িত্বে শুনে নেবেন 🥰

গান বেজে যাচ্ছে আর তার তালে তালে নৃত্য করছে বর্ষা। এতো নিখুঁত নৃত্য করতে পারে বর্ষা সেটা দেখে সবাই হতবাক হয়ে গেছে। শাফিন তো মুগ্ধ হয়ে শুধু বর্ষাকে দেখেই যাচ্ছে।

স্যার সহ উপস্থিত সবাই বাহবা না দিয়ে পারলো না। সবাই তো বর্ষার পারফরম্যান্স এ মুগ্ধ। নৃত্য শেষে সবাই বর্ষার অনেক প্রশংসা করছে বর্ষা লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে।শাফিন তো বর্ষাতে হারিয়ে গেছে।শুধু মুখ দিয়ে একটা কথাই বললো Wonderful performance.

বর্ষা আর নদী বাসায় ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে হাটছে মেইন গেটের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ শাফিন দৌড়ে এসে বললো এই নদী বর্ষা তোমরা কিন্তু কাল আটটার মধ্যে চলে আসবে তোমাদের যে কাজগুলো আছে সেগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে তো।

নদীঃ ঠিক আছে ভাইয়া। আমরা চলে আসবো।

——

বাসায় এসে সাওয়ার নিয়ে লাঞ্চ করে বর্ষা একটা লম্বা ঘুম দিলো। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে সবাই একসাথে আড্ডা দিচ্ছে আর কফি খাচ্ছে বর্ষা।
তখন ফোন বেজে ওঠে বর্ষার , তাকিয়ে দেখে নদী ফোন করেছে। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে..

নদীঃ এই বর্ষা তুই শাড়ির সাথে কি ব্লাউজ পরবি? কিভাবে চুল বাঁধবি? নাকি চুল খোলা রাখবি? ঠোঁটে কেমন লিপস্টিক দিবি? কপালে টিপ পরবি?চোখে কি কাজল দিবি?

বর্ষাঃ আরে পেতনী থামবি এবার? আমি শাড়ি চুরি গহনা কাজল টিপ কিছুই পরবোনা। তুই পর আমার জন্য ও পর ডাবল করে পর। স্টুপিড কোথাকার।

নদীঃ এই যাহ্! কি বললাম যে রেগে ফোনটাই কেটে দিলো!

রমাঃ কিরে শাড়ি পরে যেতে বলেছে তোদের?
বর্ষাঃ হুম বলে সবকথা বলতে শুরু করে।

রমা বেগমঃ সব শুনে বর্ষাকে শাড়ি পড়তে বলে।আর বর্ষাকে বলে বর্ষণের ব্যাপারটা আমার উপর ছেড়ে দে। আমি সামলে নেবো।

সকালে——

বর্ষার খাবার রুমে নিয়ে খাইয়ে দিয়ে তারপর শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে রমা বেগম। চুল খোপা করে সুন্দর করে চুলে কাটা দিয়ে খোপায় ফুল গুঁজে দেয়। মাথায় টিকলি গোল্ড প্লেটের উপর স্টোনোর জুয়েলারি সেট। হাত ভরা চুড়ির হালকা মেকআপে আর বাসন্তী শাড়িতে বর্ষাকে যেন স্বর্গের অপ্সরী লাগছে। রমা বেগম বর্ষার কপালে চুমু এঁকে দিয়ে বলে, যেনো নজর না লাগে আমার মেয়েটার।

রমা বেগম আর নিপু রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। শাড়ি সামলাতে ব্যাস্ত হয়ে পরে বর্ষা। একদম অভ্যাস নেই শাড়ি পরার।

যেটা সামলাতে পারিসনা সেটা পরতে যাস কেনো?

কথাটা শুনেই বর্ষা ঘুরে তাকায়। অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বর্ষা।

বর্ষাঃ তুমি!! তুমি কখন এলে।
বর্ষণঃ রাতের ফ্লাইটে……

চলবে……

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ