Friday, June 5, 2026







জলছবি পর্ব-২৮

#জলছবি
#পার্ট_২৮
#কাজী_সানজিদা_আফরিন_মারজিয়া
.
লেকের পানিতে পা ভিজিয়ে বসলো নোলক। এক পায়ের নূপুরখানা জলে ভিজে শব্দ হারালো। পানি থৈ থৈ করে কেঁপে উঠলো। গাছ থেকে শুকনো পাতা, ঝড়ে যাওয়া ফুল পড়লো সেই থৈ থৈ করা পানিতে।
মৃদু বাতাসে মাথা ওড়না খানিক সরে গিয়ে, আলগা চুল এসে পড়লো অভিযোগ মাখা স্নিগ্ধ চোখে। ইশান তখনও আসেনি।
সে আসলো আরো মিনিট দশেক পর। চুপটি করে নোলকের পাশে বসলো। নোলক ভাবান্তরহীন দৃষ্টিতে চাইলো।
ইশান সুন্দর করে হাসলো। মাড়ির কিনারের বাঁকা দাঁতটা ভেসে উঠলো। তবে এই হাসি, অন্য হাসি। তা অবশ্য বোঝার উপায় নেই। নোলক মুখ ফিরিয়ে নিলো। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞেস করলো,
“কখন এসেছো? বেশিক্ষণ অপেক্ষা করালাম, না?”
নোলক ভণিতা ছাড়াই বলে,
“উঁহু, বেশিক্ষণ হয়নি। কিন্তু আমি বিরক্ত হয়েছি।”
ইশান তপ্ত নিশ্বাঃস ফেললো। তারপর কন্ঠে প্রচুর দরদ মেখে প্রশ্ন ছুড়লো,
“একটা সত্যি কথা বলি?”
নোলক চাইলো কেবল। ইশান বলল,
“এই যে স্পষ্ট করে সত্যি কথা বলে ফেলো, এটা আমি খুব পছন্দ করি। আমরা অনেকেই মুখের উপর সত্যি কথা বলতে পারি না!” বলেই হাসলো। একটু থেমে জিজ্ঞেস করলো,
“কেমন আছো?”
নোলক ছোট্ট করে শুধু বলল,
“ভালো।”
ইশান আনমনে কিছু ভাবলো। নোলক ভাবনা এগোতে দিল না। বলে উঠল,
“কেন ডেকেছেন? কী বলতে চান?”
“অনেক কিছু! অনেক কিছু বলতে চাই অগ্নিশর্মা। শুনবে প্লিজ? কত কথা জমে আছে, সব কথা তোমায় দিতে চাই। নিবে প্লিজ?”
নোলক ইশানের মুখের দিকে তাকায়। এমন নির্লিপ্ত, অসহায় মুখের ইশানকে তার অপরিচিত লাগে। সারাক্ষণ ‘অগ্নিশর্মা অগ্নিশর্মা’ বলে অগ্নিকুন্ডলি হয়ে জ্বলে থাকা ছেলেটাকে ভারী অদ্ভুত লাগে। এ যেন অন্য ইশান!
মুখে কিছু না বলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চায় নোলক। ইশান চোখ সরিয়ে অন্যদিকে চায়। দু’হাতে নিজের হাঁটু আঁকড়ে ধরে পিঠ খানিকটা পিছনে হেলে দেয়। দখিনা বাতাস এসে লাগে চোখে, মুখে, মনে! বলে,
“তোমাকে একটা গল্প বলি? অনেক কথার ছোট একটা গল্প?”
নোলক সুধায়,
“গল্প?”
“হুম, গল্প। আদ্র’র গল্প, আমার গল্প, আমদের বন্ধুত্বের গল্প।”
নোলকের আর কথা আসে না। দুজনেই বেশ খানিকটা সময়জুড়ে আনমনা হয়ে থাকে। তেজহীন সূর্য এসে যখন চোখে লাগে, ঠিক তখন ইশান বলতে শুরু করে,
“তখন সম্ভবত সপ্তম শ্রেনীতে পড়ি আমি, আমরা। হোস্টেলে আমাদের দুজনের একই রুম কিন্তু ওকে আমি একদমই পছন্দ করি না। দুজনের স্বভাব ভিন্ন বলেই অপছন্দ করতে শুরু করি। অল্পবয়সে আদ্রর অমন মস্ত বড় ছেলেমানুষ হয়ে যাওয়াটাও অপছন্দের শক্তপোক্ত কারণ। কেমন গম্ভীর! সমবয়সী একটা ছেলে, রাগি স্যারদের মতো গম্ভীর হয়ে থাকে! কেমন অদ্ভুততুড়ে না?
আমার তখন অনেক বন্ধু। আদ্র’র কোনো বন্ধু নাই। সারাক্ষণ বই হাতে নিয়ে বসে থাকতো। স্কুল, হোস্টেলের রুম, রুমের টেবিল, বিছানা আর বিছানার পাশের খোলা জানালায়া ছাড়া ওর দুনিয়ায় আর কিছুই নেই যেন!
মাঝে-মধ্যে প্রচুর বিরক্ত লাগতো। এত পড়তে হবে কেন? এত পড়ে কি হবে? হলো অবশ্য অনেক কিছুই, স্যার ম্যামদের প্রিয় ছাত্র হয়ে উঠলো অল্প ক’দিনেই। পরপর মারাক্তক ভালো রেজাল্ট!
অন্যদিকে আমি, সন্ধ্যে হলে কিছুক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকি, তারপর ঘুমিয়ে পড়ি। পড়াশোনা ভাল্লাগে না। ভাবি, অত পড়ে কি হবে? তার চাইতে বরং ঘুমাই! শুধু ঘুমালেও চলতো, ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও খেলি!
ছেলেটা রাত জেগে পড়ত। পড়াশোনা ছাড়া এই জগতে যেন তার কোনো ধ্যানধারণা নাই। তার দুটো চোখের কাজই যেন বইতে নিবদ্ধ রাখা। আমি তো মনেমনে মনের জ্বালা মিটিয়ে মিনিটে মিনিটে বলতাম, চোখ দুটো খুলে বইয়ে স্কচটেপ মেরে রাখ না বেটা! হা হা হা!

মাঝেসাঝে সেধে সেধে কথা বলতে গেলেও আদ্র ‘হু’ ‘হা’ অব্দি-ই সীমাবদ্ধ। আমার রাগ আরো বেরে যেত!
অন্যদের সাথে আমার খুব ভাব, কিন্তু ওরে দুই চোক্ষে সহ্য করতে পারি না।
একবার হলো কি? আমার জ্বর হলো। যেমন তেমন জ্বর না। মরা বাঁচা টাইপ জ্বর। সে রাতে আমার মনে হলো, আমি বোধহয় মারা যাচ্ছি। জ্বর হওয়ার কারন টানা তিন ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলেছি ছাদে। যে ক’জন ভিজেছিলাম সবাই মারও খেয়েছি, হোস্টেলের নিষেধ অমান্য করে বৃষ্টিতে ভিজে ছাদে ফুটবল খেলায়। অমন মাইর তখন প্রায়শই খাই, তাই মাইর খাওয়াতে দুঃখ নাই। আসল যন্ত্রনা টের পেলাম রাতে।
জ্বরের তাপে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কথা বের হয় না মুখ দিয়ে। ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ! কি যে কষ্ট! আদ্র তখনও সজাগ। ওর রাত জাগাটা আমার বিরক্তি ছিল, কিন্তু সেবার সেটাই সাংঘাতিক রকম কাজে লেগে গেল। আদ্র কাছে এসে কপালে হাত রাখলো। কেঁপে উঠে বলল, তোমার কি বেশি খারাপ লাগছে, ইশান? জ্বর এসেছে তো খুব!
কিছু বলতে পারলাম না আমি।
আমার কাঁপুনি দেখে ফ্যান অফ করে দিল, কাথা জড়িয়ে দিল গায়ে। ঝটপট করে জলপট্টিও দিল। এটুকুই মনে রইলো।
তারপর কি কি করলো আর জানি না। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে হসপিটাল আবিষ্কার করলাম। দম বন্ধও লাগছিলো না, খারাপও লাগছিল না। তবে একটু ক্লান্ত লাগছিলো শুধু। মা-বাবা সবাই চলে এলো গ্রাম থেকে। জানতে পারলাম দুদিন যাবত হসপিটালে। মাঝের কিছুই মনে নেই আমার। পরে জেনেছি আদ্রই সবাইকে খবর দিয়েছে। হল সুপারকে মাঝরাতে জাগিয়ে পুরো হোস্টেল জাগিয়ে ফেললো। ভাবতে পারছ? যাকে শুরুতে অপছন্দ করলাম সে আমার কেমন কাজে লেগে গেল? কেমন করে আপন হয়ে আগলে নিলো?
মা-বাবার সাথে সেদিন আদ্রকেও দেখতে পেলাম বেডের পাশে। নিজের চোখের থেকেও মোটা ফ্রেমে চশমা পড়া ছেলেটা সেদিন থেকে আমার খুব কাছের হয়ে গেল। খুব প্রিয় হয়ে গেল। মা-বাবার পাশে একটা দায়িত্বশীল বন্ধু দেখতে পেলাম, একজন খুব আপন ভাই খুঁজে পেলাম। সেই যে পেলাম, আর হারালাম না। একদম শক্ত করে আঁকড়ে ধরলাম।
এক জ্বরে একদম সোজা হয়ে গেলাম। আদ্র আর আমি মিলে আমরা হয়ে গেলাম। বন্ধু, ভাই। ও যে একটা সম্পর্ক নিয়ে কতটা সেন্সেটিভ, তুমি জানো না অগ্নিশর্মা! তুমি জানলে অবাক হবা অগ্নিশর্মা! সেই যে আমার জ্বর হলো না? আদ্র ভয় পেল, এরপর আর কোনদিন বৃষ্টিতে ভিজতে দিল না আমাকে।
এরপর যতবার যত সমস্যায় পড়েছি কেমন করে যেন আমার সেই ছোট্ট বন্ধু, আমার সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। হাত কাটা, পা কাটা যা যা একবার ওর চোখে পড়েছে তা আর দ্বিতীয়বার হতে দিত না। ফুটবল খেলে পা কেটে রুমে আসতাম, ওর একটা ফার্স্টএইড বক্স ছিল। এখনও আছে। সবকিছুতে গোছালো সে, শুধু নিজের ব্যাপারে ছাড়া! ওইটুকু ছেলে তার ফার্স্টএইড বক্স থেকে কি কি বের করে সেবা যত্ন করে করে ঠিক করে দিত। কাউকে জানতে দিত না, স্যার জানলে মারবে যে! তবে সে নিজেই শাসিয়ে বলতো, পরেরবার এমন দেখলে পা কেটে দিব কিন্তু!
আমি হাসতাম! আদ্রর কড়া চাহনী! যেন ও-ই আমার গার্ডিয়ান! ওর সংস্পর্শে এসে অন্য আমি হয়ে গেলাম। পড়াশোনায় ভালো হয়ে গেলাম। অথচ এর আগে প্রতি পরিক্ষা ডাব্বা মারতাম, হা হা হা।

এরপর একদিন জানতে পারলাম ওর মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে গেছে। আদ্র বলেনি কিন্তু। ওর ডায়রি পড়ে জেনেছি। আমার অভিভাবক হয়ে উঠা ছেলেটার অভিভাবক নড়বড়ে জেনে সেই প্রথম ভীষণ অবাক হলাম।
সম্পর্ক ভাঙনে ওর মারাক্তক ভীতি! ওর ধারনা, প্রিয় মানুষ অপ্রিয় হওয়ার চাইতে জীবনে কেউ প্রিয় হিসেবে না আসাই উত্তম। ও কিন্তু সেই ফর্মুলা ম্যানটেইন করেই চলত। যদি হারিয়ে যায় এর এই ‘যদি’ টাকেই কখনো সুযোগ দিতে চাইত না।
ছোট থেকে বড় হলাম আমরা। বন্ধু থেকে ভাই হলাম। কিন্তু আমার পর দ্বীপ ছাড়া আর কেউ খুব কাছে আসতে পারলো না ওর।
সবাইকে এড়িয়ে চলার এই যুক্তিটা ফিকে করতেই উঠে পড়ে লাগলাম আমি। ও বোধহয় খানিক আশ্বস্ত হলো শেষে এসে। জীবনে আরশিকে ঠাঁই দিল।
আফসোস! মেয়েটা ওর ভাবনা আরো বাস্তব করে চলে গেল। ওর এই হতাশার জন্যেও নিজেকে দায়ি মনে হয়!
আরশি যাওয়ার পর ভয় বেড়ে গেল আদ্রর, ওর ধারনা সত্য থেকে আরো সত্য হয়ে গেল। ভেবে বসলো, প্রিয় বলে কিছু হয় না, নিজে ছাড়া নিজের কাছে আর কিছু প্রিয় হতে পারে না, সব আসলে অপ্রিয়, ঠুনকো, ফাঁকা মায়া!”

অনবরত কথাগুলো বলে ইশান একটু থামল। ঢোক গিললো। গলার মাঝের উচু হারটা নড়ে উঠলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে বুক ভোরে শ্বাস নিল। একটা ঘাসফড়িঙ উড়ে এসে ইশানের কাঁধে বসলো।
নোলকের নতুন রোগটা মাথা চারা দিয়ে উঠে।গলা ধরে আসে, কান গরম হয়ে যায়, মাথা ধরে যায়। পানি থেকে ঝুপঝুপ আওয়াজে পা তুলে অন্যদিকে তাকায়। চোখ জ্বালা করে।
ইশান মাথা ঘুরিয়ে প্রথমে নোলকের দিকে তাকালো। কেমন যেন লাগলো তার! তারপর সেই ঘাসফড়িঙ এর দিকে তাকিয়ে আলতো করে, মায়া নিয়ে বলল,
“তুমি জানো না মেয়ে! তুমি এমন একজন মানুষের উপর অভিমান করছো, যার মনে এই পুরো পৃথীবি জুড়ে, পৃথীবির মানুষগুলোকে নিয়ে কত কত অভিমান, অভিযোগ আর রাগ!
তোমায় আদ্র ভয় পায় অগ্নিশর্মা! বহুদিন পর ওর মাঝে প্রিয় মানুষ হারানোর ফোবিয়া জেগে উঠেছে।
আর ওর এই ভয়টাকে আরো বেশি মজবুত করতেই এলো আদ্র’র এই রোগটা!
তুমি জানো? আদ্র যতটা দায়িত্বশীল বন্ধু, আমি ঠিক ততটাই দায়িত্বহীন বন্ধু।
সেই ছোট বেলা থেকে ওর কোনো সমস্যার সমাধান আমি হয়ে উঠতে পারলাম না! ওর কোনো অসুস্থতা আগে টের পেলাম না! একটা বন্ধু হিসেবে আমি খুব জঘন্য, খুব! পারফেক্ট বন্ধু হতে পারলাম না আজও। আজ কদিন ঘুমাতে গেলে মনে হয় আদ্র’র চোখ দুটো ড্যামেজ হওয়ার পেছনে ও যতটা কেয়ারলেস এর ভূমিকা রেখেছে তার থেকে বেশি ভূমিকা আমার। আমি তো জানতাম বলো? ও নিজেকে নিয়ে কত উদাসিন! ওর ঘন ঘন মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা! তবুও দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো এতদিন ডক্টর না দেখিয়ে চোখের চেইক-আপ না করিয়ে রেখে দিলাম। খুব দেরি করে ফেললাম অগ্নিশর্মা! খুব দেরি করে ফেললাম।”
শেষের কথাগুলো নোলক ঠিক বুঝতে পারলো না। ইশানের ঠিক মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কিসের দেরি? চোখ ড্যামেজ মানে? ক-কি হয়েছে তার? কি বলছেন?”
ইশান বলল,
“তুমি জানো না? কাল গেলে যে?”
নোলক অস্থির হয়ে বলল,
“আমি কী জানবো? আমি তো তার জন্য যাইনি! আমায় বলুন প্লিজ! তার কী হয়েছে?”
ইশান তপ্ত এক নিশ্বাঃস ফেললো। বুঝতে পারলো নোলক কিছুই জানে না! আর জানে না বলেই, অভিমানী কন্যাটি হয়ে আছে! নোলকের অস্থিরতাময় দৃষ্টিতে দৃষ্টিপাত করে বলে,
“আদ্রর গ্লুকোমা ধরা পড়েছে, অগ্নিশর্মা! গ্লুকোমা এমন একটা রোগ যার ফলে চোখের স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখের দৃষ্টি হ্রাস পায়। একসময় অন্ধত্ব বরণ করে নিতে হয়।

অগ্নিশর্মা? বললাম না? আদ্র যতটা অন্যদের নিয়ে কেয়ারফুল, ঠিক ততটাই নিজের ব্যাপারে কেয়ারলেস! ও কখনো নিজের সমস্যা কাউকে বলে না, বলতে চায় না। আর ওর এই উদাসিনতার কারণেই আমি জাস্ট ধারনাও করতে পারিনি নিজের এতটা ক্ষতি ছেলেটা করে ফেলেছে!
এই যে ওর এত ঘন ঘন মাথা ব্যাথা হতো, চোখ ব্যথা হতো, চোখে ঝাপসা দেখতে লাগলো এসব কিছুই কিন্তু আমায় বলেনি! ডক্টর দেখায় নি! আমি এতটা ফালতু বেস্ট ফ্রেন্ড যে, একটুখানি আঁচও করতে পারিনি কি সর্বনাশ হতে যাচ্ছে! মাঝে-মধ্যে দেখতাম মাথা আর চোখের যন্ত্রনায় আবোল-তাবোল বলছে। এমন ও সব সময়-ই করে। মাইগ্রেনের ব্যথা হলেই উল্টা-পাল্টা বলে। তাই জাস্ট মাইগ্রেনের ব্যথা হিসেবে ধরে রেখে হেলা করলাম।
যেহেতু ওর অতিরিক্ত মাইনাস পাওয়ার সেকারণে দুই একমাস পরপরই ‘আই ও পি’ মাপা হত।
কতদিন হয়ে গেল ওর আই ও পি মাপা হয়নি! এই গ্যাপটাও একটা কাল হয়ে দাঁড়াল!
সেদিন রাতে এত অসুস্থ হয়ে পড়লো ছেলেটা! হসপিটাল নিলাম। ডক্টর নানান চেইক-আপ করালেন। যেহেতু প্রবলেমটা বেশি চোখেই তাই অপটিকেল নার্ভ হেডের পরিক্ষা করালেন। তাদের সন্দেহ বাড়ল। অটোমেটেড পেরামেট্রি করান এবং তাদের সন্দেহ সঠিক হলো!
শেষে গোনিওস্কোপি করিয়ে জানান, আদ্রর ক্লোজড অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা। যতক্ষণে ওর এই সমস্যা ধরা পড়লো ততক্ষনে অনেকখানি ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে!
এই গ্লুকোমা নিরবে এত দ্রুত ক্ষতি করে ফেলে যে ধারনাও করা যায় না। এই রোগের এমন কোনো চিকিৎসা নেই যার ফলে পুনরায় দৃষ্টিশক্তি ফেরত পাওয়া যায়। আদ্র’র অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। ও এখন ক্লিয়ারলি কিছুই দেখতে পায়না। ডে বাই ডে আরো খারাপ হচ্ছে! আমি কিছুই করতে পারছি না। আগেও পানিনি এখনও পারছি না। হসপিটালে রেখেছি তাও এমনি! কোনো ফায়দা নেই।
বন্ধু হলাম ঠিক, কিন্তু সত্যিকারের বন্ধু হতে পারলাম কই? পৃথিবীতে অনুতাবোধের চাইতে ভয়াবহ যন্ত্রনা আর কিসে আছে, বলতে পার?
চারদিক থেকে সকল অনুতাপ এসে আমায় মেরে ফেলছে। ওর জন্য কিচ্ছুটি করতে না পারার যন্ত্রনায় আমি ক্রমশ মরা যাচ্ছি, অগ্নিশর্মা!
প্লিজ ওর উপর অভিমান করে থেকো না। ও যা বলে, তা সত্য না।
শোনো মেয়ে? ওর জীবনের যত সত্য, সব আমি চুরি করে ডায়রি পড়ে জেনেছি! ওর মাঝের তুমিটাকেও আমি ডায়রি পড়েই জেনেছি! ভাগ্যিস পুরোনো এই অভ্যাসটা আমি ত্যাগ করিনি! নয়তো এমন সত্যটা জানতাম-ই বা কী করে? হা হা হা! ওর কাছে ওর চোখের দ্যুতি তুমি। চোখ হারিয়ে অত দুঃখী নয়, যতটা ভয় ওর তোমায় হারানোয় হয়! ভালোবাসা, ভালোবাসা, ভালোবাসা! হায় ভালোবাসা!”

এইযে এতটা সময়? নোলক চুপটি করে শুনলো, কোনোরূপ বাক্যব্যয় ছাড়া! এবার? এবার তারে চুপ করিয়ে রাখে কে? মাথার ব্যথা, বুকের আর্তনাদ আর আটকাতে পারলো কই?
হাঁটুমুড়ে হাঁটুর উপর মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো। তার মায়া, তার দরদ, তার টান সব যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো।

ইশান তাকায়। এই দরদে মাখামাখি মানবীটাকে দেখে তার শরীর কেঁপে উঠে। কি যন্ত্রনা, কি যন্ত্রনা! চোখ সরিয়ে নেয়।
ঘাস ফড়িং উড়ে গিয়ে জলের কোনের ঘাসে বসে। জলে জলে ঘুরে বেরিয়ে জলে রাঙা ছবি আঁকে। জলছবিটা না হলেও, কিছু একটা হলো তো?
পানির আলোয় পড়ন্ত সূর্যের রশ্মি, ঝলমলিয়ে কেঁপে উঠে যেমন করে? ইশানের দহন বাড়ে তেমন করে! মস্তিষ্কে বয়ে বেড়ায় এলোমেলো শব্দ।
“সত্য না, সত্য না!
মেয়ে তুমি সত্য না!
তুমি আমার স্বপ্নে দেখা,
মায়াবী এক কল্পনা!”

(চলবে)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ