Saturday, June 6, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_১১

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_১১
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

গাড়ি ছুটে চলছে চেনা পরিবেশে । সারা রাস্তা বেলী অনেক চুপচাপ করে আছে । ইরফান কত কিছুই সাধলো বেলীকে । কিছুই খেলো না মেয়েটা । শুধু তার আবদার ছিল জানালার পাশের সিট টাতে বসবে । সেখানে বসে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত বাহিরের প্রকৃতি দেখছে সে । সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই ঘুমিয়ে পড়ে বেলী আর সারা রাস্তা ইরফানও বোবা মূর্তির মত বসে ছিল । কতক্ষণ আর মোবাইল চালানো যায় । তাই সে কিছুক্ষন মোবাইল চালায় আবার চুপ করে বসে থাকে । তাদের পাশের দুইটা সিটে এক জোড়া বয়স্ক দম্পতী বসে আছে । তারা কিছুক্ষণ পর পর ইরফান আর বেলীর দিকে তাকিয়ে থাকে । আবার নিজেদের মাঝে কথা বলে । এই ব্যাপারটা কয়েকবার ইরফান খেয়াল করলো । তার একটু অস্বস্তি হচ্ছে তবুও চুপ করে আছে কারণ তারা বয়স্ক মানুষ ।
বার বার তাকাচ্ছে বলে এইবার ইরফান নিজেই তাদের বলে উঠে ,

– জ্বি কিছু বলবেন ,,,,,?

ইরফানের কথায় বয়স্করা অনেকটা ভীতু হয়ে যায় । ইরফান তাদের চেহারা দেখেই বুঝে যায় ব্যাপারটা । তাই নিজেকে আরও রিলেক্স করে হাসি মুখে আবারও জিজ্ঞেস করে ,

– কিছু বলবেন ?

তখনই বৃদ্ধা মহিলা জবাব দেন ,

– না ভাই , কিছু বলুম না ।

ভাই বলাতে ইরফান ভেবে নেয় তাকে নাতির মত ভেবেছে । আর তারাও অনেকটাই বয়স্ক মানুষ । দাদা/নানা , দাদি/নানির মত আর কি । তাই ইরফানও মুচকি হেসে দেয় । ইরফানের হাসি দেখে বৃদ্ধা মহিলা জিজ্ঞেস করে ,

– ওয় কি তোমার বউ ?
– জ্বি ,

তারপর বয়স্ক মহিলা বয়স্ক পুরুষকে বললেন ,

– এক্কেরে আমাগো রাইসুলে আর রাইসুলের বউয়ের মত , তাই না ?
– হ , এক্কেরে রাইসুলের মত দেহা যায় ।

ইরফান সাইড থেকে সব শুনছিলো । তখন হালকা মুচকি হাসি দিয়ে সে মোবাইল টিপছে । তখনই বয়স্ক মহিলা বলে ,

– তোমার নাম কি ভাই ?
– আমার নাম ইরফান ,
– আমাগো নাতি আছে একটা , পুতের ঘরের নাতি নাম রাইসুল এক্কেরে তোমার মত দেহা যায় তারে । তারও এমন একটা বউ আছে ।
– ওহ ,
– আমাগো রাইসুলের বউয়ের নাম মনি তোমার বউয়ের নাম কি গো ভাই ?
– ওর নাম বেলী ।
– মাশাল্লাহ , অনেক সুন্দর নাম । তোমার বউরে কও এট্টু এইমিক্কা চাইতো , এট্টু দেহি ।
– ওইদিক ফিরে ঘুমাচ্ছে তো , উঠলে বলবো , কেমন ?
– আইচ্ছা ।
– তোমরা কই যাইবা ?
– কামরাঙ্গিরচর ,
– ওহ ,
– আপনারা যাবেন কোথায় ?
– আমরা এইতো পরের স্ট্যান্ডে নাইমা যামু
– ওহ আচ্ছা ।

ইরফানের বেশ ভালো লাগছে তাদের সাথে কথা বলে । অন্যদিকে বেলী তো ঘুমে ডুবে আছে । সে বলতেই পারবে না এইসব কিছু । ইরফান ওনাদের সাথে আবার কথায় মন দেয় ।

– তা , দাদার নাম কি ?
– গফুর মিয়া ,
– আর দাদুর নাম ?
– জয়তুন্নেসা ,
– ওহ অনেক সুন্দর নাম তো । তা কপোত কপোতী একা একা কোথায় যাচ্ছেন ?
– ঢাকাতে গেছিলাম নাতির বাসাত , ওই যে কইলাম রাইসুল , তার বাসাত গেছিলাম , এহন বাইত যাইতাছি পুতের কাছে ।
– ওহ , নাতি কি করে দাদা ?
– একটা কোম্পানিতে চাকরি করে ।
– ওহ ,
– আমার নাতি বউ মনি , সেও চাকরি করে আমার নাতির লগে । তারা পেরেম কইরা বিয়া করছে । নাতি বউ অনেক ভালা । আমাগোরে অনেক আদর করে ।
– ওহ , যাক ভালো । তা দাদু কিছু খাবেন ?
– নাহ ভাই কিছু খামু না । বাইত বউয়ে ভাত রাইন্দা রাখছে , বাইত যাইয়া ভাত খামু ।
– ওহ আচ্ছা ।
– আমরা তো আরেকটু ফরে নাইমা যামু তোমার বউরে উডাও তো ভাই , এট্টু দেহি তোমার বেলীফুলরে ।

বয়স্ক মহিলার কথা শুনে ইরফানের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠে । তার বেলীফুল , মহিলা অল্প ভাষাতেই অনেক কিছু বুঝিয়ে দিলেন । তার বেলীফুল , যেই বেলীফুলকে রোজ রোজ সে নিজেই নিংড়েছে অনেক । তার বেলীফুল যেই বেলীফুলকে কারণ ছাড়া অনেক কিছু সহ্য করতে হয়ে এবং এখনও হচ্ছে । হ্যাঁ , তার বেলীফুল , যে কিনা নিঃশব্দে বলে যায় হাজারো না বলা কথা । যা লিখতে বসলে উপন্যাসের পাতা শেষ হয়ে যাবে তবু কথা শেষ হবে না । হ্যাঁ এ তার বেলীফুল , শুধুই তার বেলীফুল । বেলীর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে এক মনে এইসব ভেবে যাচ্ছিলো ইরফান । হঠাৎ করেই বয়স্ক মহিলা আবারও ডাক দেয় ,

– ও দাদুভাই , বউরে কি দেখাইবা না আমাগোরে ?

ওনার কথায় ধ্যান ভেঙে যায় ইরফানের । তারপর বেলীর দিকে হালকা ঝুকে আস্তে করে ডাক দেয় সে বেলীকে ।

– বেলী,,,,,, বেলী,,,,,,?
-…………
– এই বেলী,,,,,,,,,?

তারপর ইরফান আস্তে করে হালকা করে ধাক্কা দেয় বেলীকে । চমকে গিয়ে ঘুম থেকে উঠে যায় বেলী । বেলী ভাবছে হয়তো চলে আসছে তারা ।

– চলে আসছি ?
– আরে নাহ , পাশের সিটের দাদা দাদি র মত বয়স্ক মানুষরা আছে না ?
– হু ,
– তারা তোকে দেখতে চায় , তুই ওইদিকে মুখ ফিরে ঘুমাচ্ছিস , তারা সামনেই নেমে যাবে তাই নামার আগে তোকে দেখতে চায় ।
– ওহ ,

ফিস ফিস করে ইরফান বেলীকে বলে দেয় সবটা । ইরফানের কথায় বেলী নিজে ফ্রী হয়ে তাদের দিকে তাকায় । হাসি মুখে অত্যন্ত ভদ্রতার সাথে সালাম দেয় ওনাদের ।

– আসসালামু আলাইকুম ,
– ওয়ালাইকুম আসসালাম ,
এইডা নি তোমার বেলীফুল দাদু ভাই ?

বয়স্ক মহিলার কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় বেলী । একবার ইরফানের দিকে তাকায় সে । এমতাবস্থায় ইরফান কি বলবে , ভেবে পাচ্ছে না । তবুও হু সূচক মাথা নাড়ে ।

– বাহ , বেশ বেশ । আমাগো মনির মত হের বউডা , তাই না ?
– হ ,
– কি গো দিদিভাই , এত ঘুমাও কা ?
– বাসে উঠলে আমার ঘুম আসে দাদু ,
– ওহ , তোমার জামাইডা মাশাল্লাহ এক্কেরে সাবের বাচ্চার লাহান ।
– দোয়া করিয়েন দাদু ।
– তুমিও এক্কেরে পরীর লাহান । দুজনেরে অনেক সুন্দর মানাইছে ।
– হ আমাগো রাইসুল আর মনির মতন ।
– রাইসুল,,,,,,মনি,,,,,,,?
– রাইসুল ওনাদের নাতি আর মনি নাতি বউ ।

ইরফানের কথায় তখন পুরোটা বুঝে যায় বেলী । তারপর বেশ কিছুক্ষন ওরা কথা বলে । একটা সময় স্ট্যান্ডে বয়স্ক মানুষ দুজন নেমে পড়ে । স্ট্যান্ডে ওনাদের জন্যে ওনার ছেলে অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন , বাস থেকে নামার পর তিনিই এনাদের নিয়ে যান । দুজনের চেহারা মাশা-আল্লাহ নুরানি চেহারা । একদম মায়া মায়া , যাদের দেখলে কলিজাটাও ঠান্ডা হয়ে যায় । হাসি তো একদম চাঁদের আলোর মত । বাস আবার ছেড়ে দেয় । বেলীর এখন আর ঘুম আসছে না বাহিরের প্রকৃতির ঘন অন্ধকার দেখছে সে । এই কালো অন্ধকারের মত এখন তার জীবনটা । চারপাশে শুধু কালো ছায়া ।

রাত প্রায় ৮ টা বেজে যায় বেলী আর ইরফান পৌঁছাতে পৌঁছাতে । ইরফান তার বাবার সাথে কথা বলে সোজা বেলীকে নিয়ে বেলীদের বাড়িতে চলে যায় । বেলী বাড়িতে ঢুকার সাথে সাথে বেলীর মা দৌড়ে এসে নিজের মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন । মাকে এতদিন পর পেয়ে মেয়েও মা বলে চিৎকার দিয়ে উঠে । ইরফান যে সাথে আসে তা তারা ভুলেই গেছে । মেয়ে মাকে জড়িয়ে কেঁদে দেয় আর মাও মেয়েকে পেয়ে নিজের বুক ঠান্ডা করে ।
মা মেয়ের কান্নায় স্তব্ধ ইরফান চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে পাশে । কিছুক্ষণ পর বেলীর মা জামাই মানে ইরফানকে দেখে হাসি দিয়ে কথা বলে । ইরফানের বাবা বার বার বলেছিল বেলীর মায়ের পায়ে হাত দিতে যাতে সালাম করে সে । তাই বেলীর মায়ের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে ইরফান ।

– কেমন আছ বাজান ?
– ভালো , আপনি
– আর আমার থাহা , আইও ঘরে আইও , বেলীফুল জামাইরে নিয়া আয় ।

বাড়ির উঠানে এসে বেলী খানিকটা অবাক হয়ে যায় । উঠানের এক কোণায় দুইজন বাবুর্চি রান্না করার জন্যে সব ঠিকঠাক করছে । আর দুইজন মহিলা মশলা পিষে দিচ্ছে । গ্রামের আরও কয়েকজন মহিলারাও সেখানে ছিলেন । সবাই বেলীকে দেখে হাসি খুশি ভাবে কথা বলছে । বেলীর মা তখন ঘরে ছিল , বেলী ইরফানকে নিয়ে ঘরে যায় আর নিজে আগে যেই রুমে থাকতো ওই রুমে ইরফানকে নিয়ে গিয়ে বসায় । তারপর বোরখা আর হিজাব খুলে গায়ের ওড়নাটা দুই পেচ দিয়ে পরে মায়ের কাছে আসে ।

– মা , এইসব কি , এত রান্না কিসের ?
– কাইলকা তোর বাবার মিলাদ , তাই ২০ জন হুজুর আর গেরামের কয়েকজন খাওয়াইবো ।
– কে খাওয়াইবো ,
– আর কে তোর জামাই ,
– কিহ !
– হ , বেয়াই সাবে আইজ্জা বেহানে আইছিল , আইয়া কইলো শুক্কুরবারের সব খরচ জামাই দিছে , বড় কইরা মিলাদ দিতে , আমি তো ভাবছিলাম ৫ জন হুজুর খাওয়ামু , আমার যেমন ওসাড় তেমনই তো করুম । মানুষটায় তো আমারে একলা ভাসাইয়া থুইয়া গেছে গা ।

এই বলে বেলীর মা কেঁদে দেয় । আর তার সাথে বেলীও । অন্যদিকে ইরফান বেলীর রুমের মধ্যে বসে আছে । বেশ গুছানো রুমটা । বিয়ের পর এই প্রথমে এইভাবে বেলীদের ঘরে আসছে । এর আগে একদিন বিয়েতে এসেছিলো কিন্তু তখন উঠানেই বসা ছিল সে । বেলীদের টিনের চৌকাঠ করা ঘর , কিন্তু এই রুমটা বেশ গুছানো । হয়তো বেলী আসবে শুনে বেলীর মা গুছিয়ে রাখছে । ইরফান বেশ সুচিবায়ু সম্পন্ন মানুষ । ময়লা , ধুলাবালি কিছুই তার পছন্দ না । কিন্তু এইখানে একদম তার বিপরীত । একটু ময়লাও খুজে পাবে না সে এই রুমে । কিছুক্ষণ পর একটা ট্রে তে করে শরবত , আপেল মালটা নিয়ে আসে বেলী । বেলীকে দেখে ইরফান তাকিয়ে থাকে তার মুখের দিকে , চোখ মুখ আবারও ফুলে আছে তার । নিশ্চয়ই ভেতর থেকে কান্না করে আসছে । ইরফান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে মুখের দিকে , তারপর বলে ,

– কান্না করছিস ?
– উহু ,
– চোখ মুখ এমন যে ?
– এমনিতেই , মা দিছে খেয়ে নেন ।
– তুই খাবি না ?
– নাহ ,
– ওহ তুই তো আবার হাওয়া খাস ,
– অনেক ধন্যবাদ আপনারে , আমার বাবার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী এইভাবে পালন করলেন , এত বড় করে মিলাদ দিলেন ।
– ইংলিশে একটা শব্দ আছে , ফর্মালিটি । জানিস ?
– হু ,
– অর্থ বুঝিস ?
– হু ,
– করতে আসিস না আমার সাথে ।
– একটা কথা বলতাম ?
– বল ,
– দুইদিন থাকবো তো , আপনি সবার সামনে আমারে তুমি বইলা কথা বইলেন ।
– দুই দিনের জন্যে বলতে চাই নাই , সারাজীবনের জন্যে চেয়েছিলাম , ঢাকায় কি বলছিলি , ভুলে গেছিস ?
– আপনি এইদিকে তুমি করে ডাকিয়েন নাইলে মা দুঃখ পাবে ।

এইবার ইরফানের মেজাজ খারাপ করে । বিছানা থেকে হুট করেই উঠে বেলীর হাতটা মুচড়ে দেয় । ব্যাথা পাওয়ার পরেও দাত মুখ খিটে আছে । ইরফান বেলীকে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় । বেলী ব্যাথা পাওয়ার পরেও টলমলে চোখে ইরফানের দিকে চেয়ে আছে । পানিগুলো তার চোখের কোণায় চলে আসছে । হয়তো আরেকটু হলে গাল বেয়ে পড়ে যাবে । ইরফান বেলীর একদম কাছে চলে যায় ।

– যদি ডাকি , তাহলে দুই দিনের জন্যে না , যতদিন বেঁচে থাকবি বা আমি বেঁচে থাকবো ততদিন ডাকবো । এর পরে যদি শুনি একটু আওয়াজ করছিস এই ব্যাপারে তখন দেখবি আমি কতটা খারাপ হই ।
– কতটা খারাপ ? লাথি ঘুষি তো পুরাতন ওষুধ আমার জন্যে । তাহলে কি এইবার শেষ ওষুধটা রাখছেন আমার জন্যে ?
-…………
– চিন্তায় পড়ে গেছেন ? আপনার কাছে আমার জন্যে হয়তো শেষ ওষুধটা মৃত্যু । তাই না ?

আজ কেন জানি বেলী সাহস করে এইভাবে কথা গুলো বলে ফেলল । কথাটা বলে বেলীও বেক্কল হয়ে গেছে । বুঝতে পারে বেলীর গাল বেয়ে চোখের পানিগুলো ঝরে যাচ্ছে । ঠিক বাগানের গাছে ফোঁটা বেলীফুলের মত । ইরফান বেলীর এই কথাটা শুনে বেলীর হাতটা ছেড়ে দেয় । হাতটা ছাড়ার পর বেলী মনে হয় তার জানটা ফিরে পায় । বেলী চলে যেতে নিলে ইরফান আবারও বেলীর হাতটা টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে । তারপর কেন জানি জড়িয়ে ধরে বেলীকে । বেলী জোড়াজুড়ি করে নাই , কারণ সে জানে এখন জোড়াজুড়ি করেও লাভ নেই , জোড়াজুড়ি করলে সে আরও বেশি করে করবে । তাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে । একবারের জন্যে ইরফানকে ধরেও নি বেলী ।
কিছুক্ষণ পর ইরফান নিজেই ছেড়ে দেয় বেলীকে । নিজেকে ইরফানের থেকে মুক্ত পেয়ে ইরফানের দিকে চেয়ে থাকে বেলী । তারপর নিজেই বলে উঠে ,

– মায়া বাড়াইয়েন না , অনেক কষ্ট হবে আমার পরে । মায়া বাড়াইয়েন না , না হয় আমি আপনাকে ছাড়া বেঁচে থেকেও থাকবো মরা হয়ে ।

কথাটা বলে বেলী দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যায় । আর ইরফান সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে মূর্তির ন্যায়ে । বেলীর কথাটাও ন্যায় সংগত । ইরফান ক্ষনিকের মায়ায় বাধতে চায় বেলীকে , যেদিকে পরবর্তীতে কি হবে তা বেলী এবং ইরফান দুজনেরই ভালো মত জানা । তাই হয়তো না পারতে বেলী আজ মায়ার কথাটা বলে ফেললো ।
ইরফানের এইসব ভাবনার মাঝেই হঠাৎ তার মোবাইল ফোন বাজতে শুরু করে । ইরফান মোবাইলটা হাতে নেয় । আর দেখে মোবাইলের এক পাশে উঠে আছে Reject মাঝে আছে Slide up to answer আর উপর তার উপর একটা নাম ভেসে উঠেছে । নামটা হচ্ছে Rubi .

.
.

চলবে…………….

[ বিঃদ্রঃ চলার পথে হাজারো মানুষের সাথে দেখা হয় কথা হয় । কেউ কেউ আবার ক্ষনিকের দেখা হয়ে যাওয়ার মাঝেও অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায় । তেমনি দুটি চরিত্র গফুর মিয়া আর জয়তুন্নেসা । বয়সের সন্ধিক্ষণে এসেও আজ তারা একে অপরের সাথে যুক্ত । আর তাদের নাতি সেও হয়তো ইরফানের মতই একজন তবে সম্পূর্ণ আলাদা । ‘তোমার বেলীফুল ‘ উক্তিটি দিয়ে ইরফানকে যা বুঝিয়েছেন সেটার মর্ম ইরফান কতটুকু বুঝেছে আমার জানা নেই , তবে ভালোবাসার একটা সঠিক সময় এবং সঠিক গন্ডি থাকে । দুই নৌকায় কি পা দিয়ে কখনো মানুষ সামনে এগুতে পেরেছে , পারে নি । হয়তো সাময়িকী ভাবে এগিয়েছে । কিন্তু এক সময় সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই হয়তো নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারাতে হয় । আবেগের বশে কাছে টেনে বিবেকের তাড়নায় আবার ছুড়ে ফেলে দেয়াটা হয়তো খুব সহজ কিন্তু , যাকে একবার কাছে টেনে আবার ছুড়ে ফেলা হচ্ছে সেই মানুষটা কিভাবে বেঁচে থাকতে পারে ? বেঁচে থাকা যায় কি ? আমার জানা মতে যায় না , বার বার এত কষ্ট এত অপমান এত লাঞ্চনা সহ্য করে বেঁচে থাকা হয়তো যায় কিন্তু জীবন্ত লাশ হয়ে । বরাবরের মতই প্রশ্ন হাজার কিন্তু উত্তরের খাতাটা আজও শূন্য । হাজারের মাঝে একজন বেলীর উত্তরের খাতাটা এই সেই উত্তরের খাতা যার ফলাফলটা হয় বরাবরের মতই শূন্য । আমার কথা গুলো দ্বারা কারো মনে কষ্ট আসলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত ]

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ