Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_৩

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_৩
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

রাতে ইরফান বাসায় এসে দেখে রুবি বাসায় নেই । এমনিতেই অফিসে প্রেজেন্টেশনের চাপ ছিল । তার উপর বাসায় এসে দেখে বউ নাই মেজাজ আরও গরম হয়ে গেছে । এক কাপ কফির জন্য বেলীকে প্রায় ৫/১০ বার ডেকেছে ইরফান । বেলীও সাড়া দেয় নাই । মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যায় ইরফানের । বাসায় পরা রাবারের স্লিপারটা হাতে নিয়ে বেলীর রুমের দিকে যায় সে । আজকে বেলীকে জুতোপেটা করবে ইরফান । মিনু তখন ড্রইং রুমে বসে স্টার জলসায় ‘ কে আপন কে পর ‘ সিরিয়াল দেখছিল । মিনু আবার স্টার জলসা , জি-বাংলা বলতে অজ্ঞান । টিভিতে এইসব দেখে আর সিরিয়ালের ভিলেনদের ইচ্ছামত গালমন্দ করে সে ।
ওদিকে স্যান্ডেলটা নিয়ে রুমের সামনে গিয়ে দেখে দরজাটা আটানো , পুরোপুরি লক না । ইরফান বাহিরে দেখেই বকাবকি করতেছে ,

– নবাবজাদি দরজা দিয়ে আরাম করতেছে আজকে ওর আরাম ছুটাবো আমি , এত ডাকার পরেও সাড়া দেয় নি ।

ইরফান দরজাটা জোরে ধাক্কা মেরে খুলে দেয় । ‘ বেলী ‘ বলে রুমে ঢুকেই দেখে বেলী জায়নামাজে সিজদাহে আছে । ওড়নাটা দুই পেচ দিয়ে পুরো হাত ঢেকে নামাজ পড়তেছে বেলী । ইরফান পুরো থ হয়ে যায় । সে কাকে জুতা দিয়ে মারবে । ইরফান হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকায় , ৮ টা বাজে তার মানে এখন এশা নামাজের ওয়াক্ত । বুঝতে পারে যে বেলী নামাজে থাকার জন্য সাড়া দিতে পারে নি । জুতা টা আস্তে করে হাত থেকে নামিয়ে নেয় ইরফান । রুম থেকে বেরিয়ে ইরফান মিনুর কাছে যায় । মিনু তখন সিরিয়াল দেখছে আর একা একা বক বক করছে ।

– কেমন অসিভ্য মাতারি , জবারে কেমনে কথা শুনায় । আহারে জবা মাইয়াডা কামের মানুষ দেইখা কি হইছে হেয় তো এহন এই বাড়ির বউ , এই বৌদি না ফৌদি এই মাতারি ডা আসলেই খারাপ ।

এরই মাঝে ইরফান ডেকে বসে মিনুকে ,

– এই মিনু ?
– জ্বে , কিছু কইবেন ভাই ?
– এক কাপ কফি করে দে তো , আর সারাদিন এইগুলি কি দেখস ?
– কে আপন কে পর , মাতারি ডা অনেক খারাপ ভাই , জবারে দেখতে ফারে না । জবা ছেমড়ি ডার কফাল আমাগো বেলী ভাবীর মত

এটা বলেই জিহবায় কামড় দেয় মিনু । টিভি অফ করে দিয়ে তাড়াতাড়ি পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে ইরফান আটকায় তাকে ।

– রুবি কখন বের হইছে বাসা থেকে ?
– ছোড ভাবী বিকালে বের হইছে ।
– ওহ ,
– বেলী ভাবী কই ভাই ,
– ঘরে তুই থাকস , তুই জানস না । সারাক্ষণ টিভি আর সিরিয়াল নিয়ে থাকলে জানবি কিভাবে । বেলী নামাজ পড়ে ।
– আইচ্ছা আমি বানাইয়া দিতাছি

মিনু যেতেই নেয় ওমনি ইরফানের হাতের জুতাটা দেখে ফেলে । মিনুও সব বুঝে যায় । জুতাটা কি কাজে ব্যবহার করতো ইরফান তাও জানে মিনু ।

– ভাই জুতা নিছেন কিত্তে , বেলী ভাবীরে বাইরাইবেন নাহি ?
– তুই তোর কাজ কর , যা । আমি ফ্রেশ হতে যাই , কফিটা রুমে রেখে আসিস ।
– আইচ্ছা ।

ইরফান রুমে এসে টাওয়াল নিয়ে ওয়াসরুমে ঢুকে যায় । প্রায় ১০ মিনিট পরে কফির মগ হাতে বেলী রুমে ঢুকে ।
কফিটা মিনু-ই বানাতো , কিন্তু বেলী নামাজ শেষ করেই রান্নাঘরের দিকে যায় সে ।

– মিনু তোমার ভাই আসছে ?
– হ , হেই কোন সময়ই তো আইছে ।
– রুমে গেছিলো , আমি নামাজের মাঝে ছিলাম তাই উত্তর দিতে পারি নি ।
– হাতের জুতাডাও দেহেন নাই ?
– মানে ,
– মানে সেতের ছোড বউ বাহিরে গেছে আপনেরে আইসা ডাকছে আপনি সাড়া দেন নাই তাই জুতা নিয়া গেছিলো বাইরাইতে ।
– ওহ ,
– হুদা ওহ কইলেন ।
– কি আর করবো , এইসব তো পানি ভাত আমার কাছে । তুমি কি করো ?
– কইলো কপি বানাইয়া দিয়া আইতাম ।
– আচ্ছা যাও , তুমি নাটক দেখো আমিই বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছি ।
– আইচ্ছা ।

তখন বেলীই কফি বানিয়ে নিয়ে যায় । সারা রুমে জায়গায় জায়গায় রুবি আর তার বরের ছবির ফ্রেম । দেয়ালে টাঙানো , বিছানার পাশে থাকা টেবিলে রাখা , সবত্র জায়গাতেই তাদের ছবি টাঙানো । নিজের বরের পাশে সতীনের ছবি । বুকের ভেতর আগুন জ্বললেও ঠোঁটে হাসি টা অবিচল । ভালোবাসার মাত্রা বেশি না হলেও অল্প তো আছে । সেখানেই জ্বালাটা বেশি ।
এরই মাঝে ইরফান ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে যায় । আর দেখে বেলী দাঁড়িয়ে আছে হাতে কফির মগ ।

– কিরে তুই ?
– আপনার কফি ,
– রাখ টেবিলে ,
– হু ,

বেলী চলে যেতে নিলে ইরফান বলে ওঠে ,

– আজকে অফিসে অনেক চাপ ছিল , তোর জামার কাপড়ের কথা একেবারেই ভুলে গেছি । কাল আনবো ,
– আচ্ছা ,

রাত প্রায় ১০ টায় রুবি বাসায় আসে । কিছু শপিং ব্যাগ সাথে তার । ইরফানকে রুমে দেখে বলে ,

– কখন এলে ?
– দুই ঘন্টা হবে ,
– ওহ ,
– এত রাত করে ফিরলা ।
– ফিরতেই পারি , বন্ধুদের সাথে ঘুরলাম , খেলাম , শপিং করলাম ।
– ওহ ,
– একটা নেকলেস কিনেছি ।
– ভালো করেছো ।
– তুমি খেয়েছো ?
– নাহ , তোমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম ।
– ওহ তাহলে খেয়ে নেও , আমি খেয়ে আসছি ।
– ভালো করেছো ।
– আমি ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়বো , ওকে ?
– হুম ।

রুবি ওয়াসরুমে ঢুকে যাওয়ার পরে ইরফান ডাইনিং রুমে যায় । বেলী টেবিল সাজাচ্ছিল সেখানে ।

– প্লেট একটা দে , আরেকটা সরা ।
– রুবি আপু খাবেন না ?
– নাহ খেয়ে আসছে ও ।
– জ্বি আচ্ছা ,

খেতে বসে যায় ইরফান । বেলী ভাত বেড়ে দুই রকমের ভাজি , মুরগীর ঝোল সব সামনে এগিয়ে দেয় । ভাতে হাত দিয়ে বেলীর দিকে তাকায় সে । পাশে দাঁড়িয়ে টুকিটাকি নাড়াচাড়া করছিল সে । বেলীর হাত গুলো ইদানীং কাঁপে ।

– তুই খাইছিস ?
– পরে খাবো নে ,
– কোন পরে খাবি ?
– আপনি খেয়ে যান , আমি আর মিনু খেয়ে নিবো নে ।

আর কিছুই বলে নি ইরফান । চুপচাপ খেয়ে চলে যায় সে । রুমে গিয়ে দরজা আটকে দেয় ইরফান ।

পরদিন সন্ধ্যার পর ইরফান বাসায় এসে আগে বেলীর রুমে যায় । বেলী তখন কোরআন শরীফে ইয়াসিন সূরা পাঠ করছিলো । ইরফান রুমে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বেলী বলে ডাক দেয় । ইরফানের ডাকে এদিক ফিরে চায় সে । কোরআন শরীফ বন্ধ করে মোনাজাত দিয়ে উঠে যায় বেলী ।

– কিছু বলবেন ?
– এই নে তোর কাপড় ,
– আচ্ছা ।
– সাথে স্নো আর তেলও রাখা আছে ।
– শুধু জামার কাপড় চাইছিলাম এত কিছু আনলেন যে ?
– বানাবি কোথায় এইগুলি ?
– মিনুর কাছে দিয়ে দিবো , ও সেলাই করে আনবে ।
– আচ্ছা তাহলে এই টাকাটা রাখ , সেলাইয়ের টাকা দিয়ে দিস ।
– পরে চেয়ে নিবো নে ।
– রাখ এখন , পরে না-ও থাকতে পারে ।

টাকাটা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে যায় ইরফান । রুবি তখন পা এর উপর পা তুলে ম্যাগাজিন পড়ছে । ইরফানকে দেখেই শুরু করে ।

– ইদানীং কি ভালোবাসা বেড়ে গেছে নাকি ?
– মানে ?
– বাসায় এসেই বড় বউয়ের ঘরে ঢুকে গেলে , তাই বলছিলাম আর কি ।
– ওর জন্যে কয়টা জামার কাপড় এনেছিলাম , ওইগুলাই দিতে গেছি ।
– বাহ বাহ , আবার জামার কাপড়ও আনো নাকি ।
– এত কথা কেন বলতেছো রুবি ।
– কি এত কথা বললাম , তুমি কেন যাবা ওই ঘরে হ্যাঁ কেন যাবা ।
– রুবি এই পুরা বাসাটাই আমার , ওকে ?
– তো ? তাই বলে তুমি ওই শালীর রুমে যাবা ?
– রুবি , বড্ড বেশি করতেছো কিন্তু ?

রুবির প্রচন্ড পরিমাণ মেজাজ খারাপ লাগে । তার কথা হচ্ছে বেলীকে কিছুই দেয়া যাবে না । ইনফ্যাক্ট সে একেবারেই বেলীকে বের করে দিতে চায় । রুবি বুঝতে পেরে গেছে কোথাও না কোথাও ইরফানের মনে বেলীর জন্যে মায়া দয়া আছে । আর যেটা তার একদম পছন্দ না । ইরফান যখন বেলীকে মারধর করে সেটা দারুণ ভাবে এঞ্জয় করে রুবি । আর সে এমন কিছু কিছু কর্মকান্ড করে যার পুরো দায়ভার গিয়ে পরে বেলীর উপরে । বেচারি সাদা-সিধে মেয়েটাও বোবা হয়ে থাকে তখন ।

[ বিঃদ্রঃ আমাদের সমাজে এমন কিছু নারী আছে , যারা নিজেরা মেয়ে হওয়ার পরেও অন্য মেয়ের ঘর নষ্ট করে । এক বউ আরেক বউয়ের নামে উষ্কানিমূলক কথা বলে স্বামীর কান ভারী করে তুলে । এক সতীন অন্য সতীনের ছায়াও মারায় না । এমনকি ছেলে মেয়েদের মাঝেও হিংসার বীজ বপণ করে দেয় । বহু বিবাহ , কিংবা পরকীয়া নারী অথবা পুরুষ এইসব ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে । আমরা একটু চিন্তা করলে দেখবো আমাদের আশেপাশেও এইসব মানুষের অভাব নেই , যেখানে নারীরাই নারীদের শত্রু । যেখানে নারীরাই অন্য নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠনের চেষ্টায় মত্ত্ব । আমার ব্যাক্তিগত মতামত একজন পুরুষ দ্বারা নারী ধর্ষিত হয় শরীরে , কিন্তু একজন নারী দ্বারাও আরেকজন নারী ধর্ষিত হয় তা হচ্ছে মনে । যে ছেলেটা বিবাহিত জেনেও আপনি হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন একবারও কি ভেবেছেন তার একটা বউ আছে অথবা সে হতেও পারে সন্তানের বাবা । একজন মা যখন বাচ্চার টিউশন টিচারের সাথে পালিয়ে যায় তখন কি সেই মায়ের মনে তার সন্তানগুলোর মুখ ভেসে ওঠে না , তার মনে কি এটা আসে না যে আমার স্বামী বহু কষ্টে থেকে আমাদের শখ আহ্লাদ গুলো পূরণ করে । একজন পুরুষ ঘরে স্ত্রী রেখেও বাহিরে মেয়েদের সাথে লেপ্টে থাকে তার কি ঘরে থাকা স্ত্রীকে মনে পড়ে না যে আমার বউটা তো আমার অপেক্ষাতেই আছে । কাউকে উদ্দেশ্য কিংবা ছোট করার উদ্দেশ্যে বলি নি , বাস্তবতা তুলে ধরেছি মাত্র । আর এই গল্পটা এই ধারাবাহিকতা মেনেই এগুবে । নিজের দেখা কিছু ঘটনাকেও এড করা হচ্ছে এই গল্পে । আমার দ্বারা কারো মনে আঘাত হলে অথবা আমি নিজের অজান্তে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী ]

রাত প্রায় আড়াইটা । বেলীর ঘুম টা ভেঙে যায় । শরীরটা অনেক ব্যাথা তার । মারধরের ব্যাথা গুলো ইদানীং রাত হলেই বাড়ে তার । নিচে মিনু ঘুমায় । আর খাটে বেলী । খাট বলতে শুধুই খাট যাতে একটা তোশক আর সস্তা বিছানার চাদর , একই স্বামীর স্ত্রী হয়ে সে পায় অবহেলা অপর স্ত্রী পায় সুখ । রুবির খাটে দামী মেট্রিক্স , বেড শীট , কোন কিছুর অভাব নেই । আর বেলীর ঘরে তেমন কিছুই নেই । শরীরের ব্যাথায় উঠে বসে বেলী । গলাটা শুকিয়ে গেছে তার , একটু পানি খেলে ভালো লাগতো সাথে একটা নাপা ট্যাবলেট , খেলে যদি ব্যাথাটা কমে । আস্তে আস্তে খাট থেকে নেমে ওষুধের পাতা থেকে ওষুধ নিয়ে দরজা খুলে ডাইনিং রুমের দিকে যায় সে । পুরো বাসাটাই অন্ধকার । তেমন কিছুই দেখতে পাচ্ছে না বেলী । তাও হাতড়ে হাতড়ে এগিয়ে গেছে টেবিলের সামনে । ওয়ালে হাত রেখে রান্নাঘরের লাইট জ্বালায় বেলী । রান্নাঘরের লাইট অন করে সামনে তাকাতেই বেলী আৎকে উঠে ।

– ও মা গোওওও , কেহ ওইদিকে ?

আসলে ইরফান তখন লেপটপে অফিসের কাজ করছিলো । ড্রইং রুমে সোফায় বসে আরামসে কাজ করছিলো ইরফান । এইভাবে হঠাৎ আলো দেখায় ভয় পেয়ে যায় বেলী । আর তাছাড়া এমনিতেও বেলীর আত্মা ছোট । অল্পতেই ভয় পায় সে । বেলীর হাল্কা চিৎকারে ইরফান তাকায় ওর দিকে । লেপটপ রেখে ডাইনিং রুমের দিকে আসতে আসতে বেলীকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে ,

– ওই চিৎকার দেস কেন ?
– আপনি এত রাতে এইখানে কি করেন ?
– তুই কি করস ?
– একটু অয়ানি খাইতে আসছিলাম ।
– ওহ , আমি কাজ করতেছিলাম । এত ঘামছিস কেন তুই ?
– এমনিতেই ।

ইরফান দেখে বেলী তার ওড়নাটা বুকের মাঝে ভাজ করে সুন্দর করেই পরে আছে । রাতে শোয়াতে চুল খুলে শুইছে । তাই সেই চুল খোলা অবস্থাতেই আছে তবে এলোমেলো । ইরফান চুলের দিকে নজর দিলে দেখে বেলীর হাটু অবদি চুল । ইরফান যখন বেলীর চুল দেখছিলো তখন চুল পিঠ অবদি ছিল এত বড় হয়েছে স্র দেখেও নি । কারণ বেলী দিনের বেলায় মাথায় ওড়না দুই পেচ দিয়ে রাখে । আর ওইদিন মারার সময় বেলীর চুল খোপা করা ছিল । তাই খেয়াল করে নি । ইরফান দেখছে বেলীর জগ থেকে পানি ঢালতেও লেট করছে কারণ ওর হাত গুলো কাঁপছে , কালও দেখছিল তার হাত কাঁপছে ।

– ভালো করে ঢাল , পানি পড়বে তো ?
– হু

বেলী ততটাও ফর্সা না । আবার একেবারে কালো না উজ্জ্বল শ্যামলা রঙের অধিকারীনি সে । ইরফান বেলীর ঘাড়ে নজর করে । সেইদিনের বেল্টের বারির দাগ কালো হয়ে আছে তার ঘাড়ে , মুখটাও শুকনা তবে গালের দাগ গুলো ঝাপসা হয়ে গেছে । ইরফানের সামনে পানি খায় বেলী আর ট্যাবলেটটাও ।

– কিসের ওষুধ খেলি ।
– গা হাত পা ব্যাথা করতেছিল , তাই নাপা খাইলাম ।
– ওহ , সেইদিনের মা’র টা বেশিই হয়ে গেছিল । মাথা গরম হয়ে গেলে কিছুই ঠিক থাকে না আমার ।
– আমাকে মেরে হাত সুখ পেলে ক্ষতি কি ?
– এত মা’র খেয়ে পড়ে থাকিস কেন ?
– যাওয়ার জায়গা আছে ?
– ডির্ভোস দিতে চাইতেছি , তাতেও রাজি হোস না কেন ? ডির্ভোস মানে কি বুঝোস ?
– রুবি আপুর মত ইংলিশে অনার্স না করলেও পেটে বিদ্যা আছে টুকিটাকি । ডির্ভোস মানে তালাক এতটুকু বুঝি । কিন্তু আমি চাই না আপনি আমাকে ডির্ভোস দেন । আমি প্রয়োজনে বাসায় কাজ করেই খাবো । আপনার বাসায় তো কাজের লোকও লাগবে আমিই তো আছি কাজের লোক হিসাবে তবুও ডির্ভোস দিয়েন না আর আমিও সাইন করবো না ।

বেলীর আজকের কথা গুলো শুনে অনেকটাই অবাক ইরফান । যেই বেলী চুপচাপ পড়ে থাকতো সেই বেলী এমন কথা বলবে ভাবে নি সে । ইরফান আবারও বলা শুরু করে ,

– রোজকার অশান্তি একদম ভালো লাগে না আমার । তাহলে তুই গ্রামে চলে যা ।
– গ্রামে গেলে আব্বা কষ্ট পাবে । আর আমি তো অশান্তি করি না ।
– তুই করস না ঠিক আছে , কিন্তু রুবি করে । আর ভালো লাগে না আমার ।
– রুবি আপু কিছু বললে আমাকে এসে মেরে যাইয়েন । জানেন তো , পাগলেও নিজের ভালো বুঝে । আর স্বামীর ভাগ পাগলেও দেয় না , একবার ভেবে দেখেন তো আপনার হাতে কয়েক দফা মা’র খেয়ে তার উপর আপনাকে রুবি আপুকে দিয়ে দিছি আমি কেমন পাগল । আমি নিজেকে পাগল ভাবি না । কারণ আগেই বলছি পাগলেও স্বামীর ভাগ কাউকে দেয় না । তাহলে আমি পাগল না আমি হলাম বদ্ধ উন্মাদ । ঘুমাই পড়েন ,

আজ ইরফান বেলীর কথায় একদম স্তব্ধ হয়ে যায় । বেলী আজ প্রথমবার এত গুলো কথা বলেছে ইরফানকে । আসলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে পিঠও তখন কথা বলতে শেখে । বেলী হেটে যাচ্ছিলো তখনই আটকায় ইরফান ।

– শুন ,
– হু
– তোর কি শরীর বেশি খারাপ ?
– নাহ আমি ভালোই আছি ।
– শরীর খারাপ থাকলে বল , আমি ডক্টরকে বলে ওষুধ এনে দিবো ।
– আমরা গরীব মানুষ , পিডা-ই আমাদের ওষুধ । আপনে মারা ব্যাতিত আমার রুমে হুটহাট ঢুকিয়েন না । রুবি আপুর যা অপছন্দের হয় তা করিয়েন না ।

বেলী রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয় । বেলীর নাক মুখ অনেকটাই ফুলা দেখাচ্ছিল । সোফায় বসে দুই হাত মাথায় দিয়ে নিচু হয়ে ভাবছে ইরফান । কি করবে সে ? কেউই জানে না যে সে দুই বিয়ে করেছে । দুই জায়গায় দুই রকম । কামরাঙ্গীরচরে সবাই জানে রহমান আলীর ছেলে তার বাবার কথায় এক গরীব মেয়ে বেলীকে বিয়ে করেছে । আর অন্যদিকে ঢাকায় সবাই জানে ইরফান আহমেদ বিয়ে করেছে তবে তার বউ প্রভাবশালী এক ধনী লোকের মেয়ে রুবি ইয়াসমিন । দুই জায়গায় দুই রকম পরিচয় তার । আবার বেলীর কথাও ভাবছে সে । এতটা মারধর না করলেও পারতো বেলীকে , আর বেলীও যেমন মা’র শুরু করলে চুপ করে মা’র সহ্য করে যতক্ষণ না মা’র শেষ হয় । কিন্তু কি করবে ইরফান , রুবি যেইভাবে কথা তাকে বলে তার রাগ উঠে যায় ।
ইরফানের অবস্থা এখন , দুই ফুল এক মালি টাইপ । আবার দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার মত । অবশ্য এটাও ভুল । ইরফান একজনকে নিয়েই আছে সে হচ্ছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুবি । তাহলে প্রথম স্ত্রী বেলীর অস্তিত্ব কি তার জীবনে ? প্রশ্ন হাজার কিন্তু উত্তর একটারও নেই , উত্তরের কাগজটা শূন্য পড়ে আছে ।

.
.

চলবে…………………..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ