হৃদয়ের টান
পর্ব ০১
The Story Haven
আমার প্রাক্তন স্ত্রী দুটি সন্তান কোলে নিয়ে রাস্তা পার হতে দেখে আমার হবু স্ত্রী আমাকে বলল,
“ভালো করে দেখো ওকে, সায়ন! তোমার প্রাক্তন স্ত্রী শেষ পর্যন্ত দুই যমজ বাচ্চাকে বুকে জড়িয়ে ভাঙারি কুড়াচ্ছে।”
কথাটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।
রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে আমি স্থির চোখে তাকিয়ে রইলাম।, বিবর্ণ সালোয়ার-কামিজ, কাঁধে পুরোনো একটা ব্যাগ। দুই হাতে দুই ছোট্ট শিশুকে সামলে সে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছে। গাড়ির হর্ন, মানুষের ভিড় আর ধুলাবালির মাঝেও আমি তাকে চিনে ফেললাম।
সে মারিয়া।
আমার প্রাক্তন স্ত্রী।
যে মেয়েটা একসময় আমার ঘরের রানী ছিল, আজ সে শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ।
আর আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে মিথিলা, আমার হবু স্ত্রী।
মিথিলা ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
“তুমি তো বলেছিলে ও খুব অহংকারী ছিল। দেখো, ভাগ্য কাকে কোথায় নামিয়ে আনে!”
আমি কোনো উত্তর দিলাম না।
কারণ আমার মাথার ভেতর তখন চার বছর আগের ঘটনাগুলো ঝড়ের মতো ফিরে আসছিল।
চার বছর আগে মারিয়া ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।
মারিয়ার বাবা ছিলেন একজন সৎ স্কুলশিক্ষক। বেশি টাকা-পয়সা ছিল না, কিন্তু মানুষ হিসেবে অসাধারণ ছিলেন।
অন্যদিকে আমার মা ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী আমার নানাভাই তাকে এগুলো দিয়ে গিয়েছিল। আমাদের কয়েকটি বাড়ি, জমি আর একটি বড় শপিং কমপ্লেক্স ছিল।
মা সবসময় বলতেন,
“আমার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবে সেই ছেলে, যে আমার কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে।”
আমি তখন মায়ের কথাতেই চলতাম।
একদিন মা আমাকে ডেকে বললেন,
“মারিয়াকে ডি*ভোর্স দাও।”
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
“কেন?”
মা ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন,
“কারণ আমি ওকে পছন্দ করি না। আর যদি আমার সম্পত্তি চাও, তাহলে আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।”
আমি প্রতিবাদ করতে পারতাম।
আমি মারিয়ার পাশে দাঁড়াতে পারতাম।
কিন্তু আমি সেটা করিনি।
কারণ আমি লোভী ছিলাম।
মায়ের কোটি টাকার সম্পত্তি হারানোর সাহস আমার ছিল না।
সেই দিন থেকেই আমি মারিয়ার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করলাম।
কারণে-অকারণে চিৎকার করতাম।
সামান্য ভুলেও অপ*মান করতাম।
অনেক রাত পর্যন্ত তাকে কাঁদিয়ে রাখতাম।
তবুও মারিয়া আমাকে ছেড়ে যায়নি।
সে শুধু বলত,
“সায়ন, আমি কি এমন ভুল করেছি যে তুমি এত বদলে গেলে?”
আমি উত্তর দিতাম না।
কারণ সত্যিটা বলতে লজ্জা লাগত।
একদিন সে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল,
“তোমার মা যদি আমাকে না-ও পছন্দ করেন, তবু তুমি তো আমাকে ভালোবাসো, তাই না?”
আমি সেদিনও চুপ ছিলাম।
আর আমার সেই নীরবতাই ছিল সবচেয়ে নিষ্ঠুর উত্তর।
কয়েক মাস পরে আমি তাকে ডিভো*র্স পেপার এগিয়ে দিলাম।
মারিয়া কাগজটার দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ কিছু বলতে পারেনি।
তারপর ধীরে ধীরে বলেছিল,
“শুধু একবার সত্যি কথা বলো। তুমি কি আমাকে আর ভালোবাসো না?”
আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলাম।
কারণ আমি জানতাম, আমি এখনো তাকে ভালোবাসি।
কিন্তু সম্পত্তির লোভ আমার ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে গিয়েছিল।
সেদিন মারিয়া কাগজে সই করে চলে গিয়েছিল।
যাওয়ার সময় শুধু একটা কথা বলেছিল,
“একদিন তুমি নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হবে, সায়ন।”
আমি তখন তার কথায় হাসছিলাম।
ভাবছিলাম, কোটি টাকার সম্পত্তি পেলে অনুতাপের কোনো কারণই থাকবে না।
কিন্তু জীবন কখনো কখনো এমন হিসাব মেলায়, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
হঠাৎ একটি ছোট্ট ছেলে মারিয়ার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদতে শুরু করল।
মারিয়া তাকে বুকে টেনে নিল।
অন্য শিশুটিও তার আঁচল আঁকড়ে ধরল।
আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম।
দুই শিশু দেখতে প্রায় একরকম।
যমজ।
আমার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক ভ’য় জন্ম নিল।
কারণ ডিভো*র্সের আগে মারিয়া একবার আমাকে বলেছিল যে সে মনে হয় মা হতে চলেছে।
আর আমি সেই কথাকেও গুরুত্ব দিইনি।
আমি ধীরে ধীরে রাস্তার দিকে এগোতে শুরু করলাম।
মিথিলা বিরক্ত হয়ে বলল,
“কোথায় যাচ্ছ?”
আমি কোনো উত্তর দিলাম না।
আমার চোখ তখন শুধু মারিয়ার দিকে।
হঠাৎ মারিয়ার গাড়ি দেখে দৌড় দেওয়ার সময় তার হাতের ব্যাগ পড়ে গিয়ে পুরোনো ফাইল থেকে কয়েকটি কাগজ বাতাসে উড়ে রাস্তার ওপর পড়ে গেল।
একটি কাগজ এসে আমার পায়ের কাছে থামল।
আমি নিচু হয়ে সেটা তুলে দেখি।
হাসপাতালের রিপোর্ট আর কাগজের উপরে লেখা নামটা দেখে আমার পুরো পৃথিবী যেন থেমে গেল।
সেখানে বড় অক্ষরে লেখা ছিল—
“পিতা: সায়ন রহমান।”
চলবে…
হৃদয়ের টান
পর্ব ০২
কলমে The Story Haven
কাগজটার ওপর জ্বলজ্বল করতে থাকা নিজের নামটার দিকে তাকিয়ে আমার হাত দুটো কাঁপতে শুরু করল। “পিতা: সায়ন রহমান।” চারপাশের সমস্ত কোলাহল, গাড়ির হর্ন, মিথিলার চড়া গলার চিৎকার—সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে গেল। আমার চোখের সামনে শুধু ভেসে উঠতে লাগল চার বছর আগের সেই দিনটার কথা, যেদিন মারিয়া অশ্রুসজল চোখে আমাকে বলেছিল, “সায়ন, আমি মনে হয় মা হতে চলেছি।”
সেদিন সম্পত্তির লোভে অন্ধ হয়ে আমি তার সেই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের খবরটাকে শুধু অবহেলাই করিনি, বরং তাকে একটা মিথ্যে অপবাদে জড়িয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম। আজ নিয়তি সেই সত্যকে এমন এক রাস্তায় এনে আমার পায়ের কাছে আছড়ে ফেলল, যেখানে দাঁড়িয়ে আমি নিজের অস্তিত্বকেই হারিয়ে ফেলছি। তারা আমার সন্তান! ওই দুটো ফুটফুটে যমজ শিশু আমারই র**ক্ত!
”সায়ন! কী হলো তোমার? একটা নোংরা কাগজ হাতে নিয়ে এভাবে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছ কেন? চলো এখান থেকে, রোদের মধ্যে আমার চামড়া পু*ড়ে যাচ্ছে!” পেছন থেকে মিথিলা আমার হাত ধরে টান দিল। তার কণ্ঠের বিরক্তি আর অবজ্ঞা আমার কানে বি*ষের মতো ঠেকল।
আমি মিথিলার হাতটা ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিলাম। আমার চোখ তখন রাস্তার ওপাশে। মারিয়া ততক্ষণে ব্যস্ত রাস্তা পার হয়ে ওপাশের ফুটপাতে গিয়ে বসেছে। সে হাপাচ্ছে। একটা বাচ্চার কান্না থামানোর জন্য সে তার বিবর্ণ আঁচল দিয়ে বাচ্চার মুখটা মুছে দিচ্ছে, আর অন্য বাচ্চাটা ক্ষুধার্ত চোখে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। যে মেয়েটার পায়ের কাছে একদিন চার-পাঁচজন কাজের লোক হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকত, সে আজ ধুলোবালির মধ্যে বসে বাচ্চাদের শান্ত করার চেষ্টা করছে। আর এই সবকিছুর জন্য দায়ী আমি—শুধু আমি!
আমি আর এক মুহূর্তও না ভেবে রাস্তার ওপাড়ে মারিয়ার দিকে দৌড়াতে লাগলাম।
“সায়ন! সায়ন, কোথায় যাচ্ছ তুমি? ওই ভাঙারিওয়ালির কাছে যাচ্ছ কেন? শোনো সায়ন!” পেছন থেকে মিথিলা চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু সেই চিৎকার আমার কান পর্যন্ত পৌঁছালেও মনের ভেতর ঢুকল না।
রাস্তা পার হয়ে আমি যখন মারিয়ার ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, তখন আমার বুকটা ভে*ঙে চুরমা*র হয়ে যাচ্ছিল। তীব্র রোদে মারিয়ার ফর্সা মুখটা পু*ড়ে তামাটে হয়ে গেছে। কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। আমাকে আচমকা তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মারিয়া চমকে উঠল। তার চোখের কোণায় এক পলকের জন্য একরাশ চেনা চাউনি ভেসে উঠলেও, পরক্ষণেই তা এক চরম উদাসীনতা আর অপমা*নে রূপ নিল।
সে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল, দুই বাচ্চাকে দুই কোলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আমার পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল।
”মারিয়া…” আমার গলা দিয়ে শব্দটা প্রায় বুজে এল। আমি তার পথ আটকে দাঁড়ালাম।
মারিয়া থামল। কিন্তু আমার দিকে তাকাল না। নিচের দিকে তাকিয়ে একদম শান্ত, শীতল গলায় বলল, “রাস্তা ছাড়ুন। আমার তাড়া আছে। বাচ্চাদের খাওয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে।”
”ওরা… ওরা আমার সন্তান, মারিয়া? তুমি কেন চার বছর ধরে এই সত্যটা আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখলে?” আমার চোখ দিয়ে তখন টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পায়ের কাছের সেই হাসপাতালের রিপোর্টটা আমি তার সামনে তুলে ধরলাম।
মারিয়া এবার ধীরে ধীরে মুখ তুলল। তার সেই শান্ত চোখের ভেতর আজ কোনো ভালোবাসা নেই, কোনো অভিমানও নেই; যা আছে তা হলো তীব্র ঘৃণা আর অবহেলা। সে একটা শুকনো হাসি হাসল, “আপনার সন্তান? সায়ন রহমান, আপনি বোধহয় ভুল করছেন। চার বছর আগে যেদিন আপনি টাকার লোভে আপনার গর্ভবতী স্ত্রীকে ডি*ভোর্স পেপার এগিয়ে দিয়েছিলেন, সেদিনই এই বাচ্চাদের বাবা ম*রে গেছে। এরা কোনো কোটিপতির সন্তান নয়, এরা এই রাস্তার এক অসহায় মায়ের সন্তান।”
”আমাকে ক্ষমা করে দাও, মারিয়া! আমি ভুল করেছিলাম, আমি লোভে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি সব বুঝতে পারছি। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে মারিয়া, ওদের একবার আমার কোলে দাও…” আমি দুই হাত বাড়িয়ে মারিয়ার কোল থেকে একটা বাচ্চাকে নিতে গেলাম।
কিন্তু মারিয়া এক কদম পিছিয়ে গেল। তার চোখে যেন আগুন জ্বলে উঠল, “খবরদার! আমার বাচ্চাদের গায়ে হাত দেবেন না। যে মানুষটা নিজের র*ক্তের চেয়ে মায়ের ব্যাংকের টাকা আর বাড়ি-গাড়িকে বড় মনে করেছিল, তার কোনো অধিকার নেই এই নিষ্পাপ শিশুদের স্পর্শ করার।”
ঠিক তখনই মিথিলা হাপাতে হাপাতে সেখানে এসে পৌঁছাল। মারিয়া আর আমাকে এভাবে কথা বলতে দেখে তার মুখটা রাগে ও হিং*সায় কুৎসিত হয়ে উঠল। সে আমার হাত ধরে টেনে বলল, “সায়ন! তুমি এই রাস্তার মেয়ের সাথে কী নাটক করছ? আর ও কী বলছে? কিসের বাচ্চার বাবা? তুমি কি এই নোংরা মেয়ের জালিয়াতির ফাঁ*দে পা দিচ্ছ? চলো বলছি!”
মিথিলার ‘নোংরা মেয়ে’ শব্দটা শুনে আমার মাথায় র**ক্ত চড়ে গেল। যে মারিয়াকে আমি একদিন নিজের হাতে ধ্বংস করেছি, আজ অন্য কেউ তাকে অপ*মান করবে, সেটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না।
আমি মিথিলার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠলাম, “মুখ বন্ধ করো, মিথিলা! আর একটাও বাজে কথা বলবে না। ও কোনো রাস্তার মেয়ে নয়, ও আমার মারিয়া। আর এই দুটো বাচ্চা আমার নিজের সন্তান!”
আমার তীব্র চিৎকারে মিথিলা স্তব্ধ হয়ে গেল। তার চোখ দুটো চড়কগাছ। সে হয়তো ভাবতেও পারেনি যে সায়ন রহমান কোনোদিন তার ওপর এভাবে চিৎকার করতে পারে।
মারিয়া আমাদের দুজনের দিকেই একবার তাকাল। তার মুখে এক অদ্ভুত বিজয়ের হাসি ফুটে উঠল, যে হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল এক চরম ধিক্কার। সে মিথিলার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, “ভয় পাবেন না, মিস মিথিলা। আপনার হবু বরের এই ভাঙারি কুড়ানো মারিয়ার প্রতি কোনো লোভ নেই। চার বছর আগে উনি টাকার জন্য আমাকে ছেড়েছিলেন, আজ উনি টাকার জন্যই আপনার পাশে আছেন। ওনাকে নিয়ে যান, ওনার স্থান ওই রাজপ্রাসাদেই মানায়, এই ধুলোবালির রাস্তায় নয়।”
কথাটা বলেই মারিয়া আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। দুই বাচ্চাকে বুকে চেপে ধরে ভিড়ের মাঝে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।
”মারিয়া! শোনো মারিয়া! প্লিজ চলে যেও না!” আমি পেছন থেকে ডাকতে ডাকতে এগোতে গেলাম, কিন্তু মিথিলা আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পথ আটকে দিল।
”সায়ন, তুমি যদি আজ ওর পেছনে যাও, তবে মনে রেখো, আমাদের বিয়ে তো হবেই না, আর তোমার মা তোমাকে ওনার সমস্ত সম্পত্তি থেকে আজীবনের জন্য বঞ্চিত করবেন। তুমি আবার সেই রাস্তায় এসে দাঁড়াবে। ভেবে দ্যাখো, কী চাও তুমি—ওই রাস্তার ভিক্ষুক নাকি মায়ের কোটি টাকার সম্পত্তি?” মিথিলার গলার আওয়াজে এক চরম হু*মকি।
আমি থমকে দাঁড়ালাম। দূরে মারিয়া ততক্ষণে একটা গলির মোড় পার হয়ে চোখের আড়ালে চলে গেছে। একদিকে আমার নিজের র**ক্ত, আমার সন্তানদের কান্না আর অনুতাপের আগুন; অন্যদিকে মায়ের কোটি টাকার সম্পত্তি আর মিথিলার হু*মকি। চার বছর আগে আমি সম্পত্তির লোভ সামলাতে পারিনি। কিন্তু আজ? আজ কি আমি আবার সেই একই ভুল করব? নাকি এবার সব ছেড়ে নিজের সন্তানদের বুকে টেনে নেব?
আমার মাথার ভেতর তখন ঝড় বইছে। আমি মিথিলার দিকে তাকালাম, তারপর দূর আকাশের দিকে। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি আমি।
(চলবে…)
