Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রিয়তার প্রহরপ্রিয়তার প্রহর পর্ব-১০ + বোনাস পর্ব

প্রিয়তার প্রহর পর্ব-১০ + বোনাস পর্ব

#প্রিয়তার_প্রহর
পর্ব সংখ্যা ( ১০ )
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ

ভয়াবহ এক ঘটনা ঘটছে বিগত কয়েক বছর ধরে। “ফুড অ্যান্ড কোল্ড” নামক বিখ্যাত কোম্পানি কেক, বিস্কিট এ কৃত্রিম ক্ষতিকর রং এবং রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে কেক ও বিস্কিটকে আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু করে তুলছে। যা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অসুস্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি সিলেটের বিখ্যাত লেখিকা ইতিশা নায়েমার বইয়ে প্রকাশ পেয়েছে “ফুড অ্যান্ড কোল্ড” কোম্পানির ওউনার জাফর আলীর ভালো মুখোশের আড়ালে থাকা অযাচিত মুখ। এছাড়াও বইটিতে আরো কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ইতিশা নায়েমার পুত্র ইব্রাহিম নিখোঁজের পেছনে জাফর আলীর হাত রয়েছে। এ সম্পর্কে সিলেট সদর উপজেলার পুলিশ অফিসার আজওয়াদ ইশতিয়াক আমাদের জানাবেন। তার মুখেই আমরা এ তথ্যটির সত্যতা জানবো।

টিভিতে পরিপাটি করে শাড়ি পড়ে মার্জিত ভঙ্গিতে বসে থাকা মহিলাটি এতক্ষণ কথা বলছিলেন। তার কথা শেষ হতেই টিভির স্ক্রিনে ভেসে উঠল প্রহরের গম্ভীর মুখ। পাশেই ইহান আর তানিয়া দাঁড়িয়ে আছে হাস্যজ্জল ভঙ্গিতে। সাংবাদিকরা ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য। শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে প্রহরের সামনে। সব পুলিশদের পরণে ব্লু রঙের শার্ট। কোমরে বন্দুক গুঁজে রাখা। পরিপাটি করে রাখা চুলগুলোর উপরে স্থান পেয়েছে পুলিশের ক্যাপ। সংবাদকর্মীর কথা শেষ হতেই প্রহর বলে উঠল,

” জাফর আলীর কেসটা নিয়ে অনেকদিন ধরে পুলিশ অফিসাররা ছুটছিল। এই কেসের কুল কিনারা পেয়েও যেন পাচ্ছিলাম না। ইতিশা ম্যামের সন্তান নিখোঁজের পর থেকে এ কেসটা আরো ভালোভাবে ঘাঁটতে আরম্ভ করি। অতঃপর সবটা মিলিয়ে গুছিয়ে বুঝতে পারি জাফর আলী এতে যুক্ত। রাসায়নিক পদার্থ লাইক হাইড্রোস ব্যবহার করে জনগনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে জাফর আলীর কোম্পানি। এ সম্পর্কে সব প্রমাণ আমরা উপরমহলের নিকট পেশ করেছি। আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন ইতিশা ম্যাম নিজেই। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তিনি অন্যায়ের সাথে মাথা নত করেননি। বরং সন্তানের চেয়ে দেশকে , দেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন তিনি। দেশ ও দেশের মানুষকে বড়সড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। ইতিশা ম্যামের “দুর্নীতি” বইটা পড়লে আপনারা আরো অনেক কিছুই জানতে পারবেন। এই কেসটায় আমরা তিনজন ছিলাম। ইতিমধ্যে টিমের একজনকে এট্যাক করা হয়েছে। জাফর আলীর মুখে ইব্রাহিমের পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই জানতে পারবো আমরা। ধন্যবাদ আমাদেয পাশে থাকার জন্য।

প্রহর ইহান আর তানিয়া ভিড় ঠেলে জিপের কাছে গেল। জিপের এক কোণে বসে আছে জাফর আলী। তাকে বের করে আনল প্রহর। হেসে বললো,

” আপনার এত এত প্ল্যান নষ্ট করার জন্য আমরা সত্যিই দুঃখিত। অন্যায়কারীকে সব সময় হেরে যেতে হয়।

জাফর আলী মোটেও দুঃখিত হলো না। হেসে ফেলল লোকটা। ধীর কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল,

“এক মাঘে শীত যায় না অফিসার। কতদিন আমাকে আটকে রাখবে। পুলিশ মানেই ঘুষ,জানো তো?

টেনে নিয়ে যাওয়া হলো জাফরকে। তানিয়া ভিত চোখে ইহানের দিকে তাকাল। বললো,
” উনি হয়তো বড় কোন পরিকল্পনায় নেমেছে স্যার। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

ইহান ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। থানার দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক পল। তানিয়ার কথা কুহরে পৌঁছানো মাত্র বললো,

” ও যদি প্ল্যান করে থাকে আমরাও তো বসে নেই। দেখা যাক কি হয়।

টিভিতে প্রহর ও তার টিমের জয়জয়কার চলছে। আনন্দে মেতে উঠেছে থানা। বড়সড় একটা কেস এত সহজে ডিশমিশ হবে কেউই ভাবতে পারেনি। মিসেস নাবিলা আনন্দে কেঁদে ফেলছেন। সাবিনা বেগম এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে টিভি দেখছিলেন। তিয়াশ ও তার বউসহ একটু পরেই গ্রামে ফিরে যাবেন তারা। যাওয়ার আগে ভাইয়ের ছেলের এমন সুন্দর মুহুর্ত দেখে খুশি হলেন তিনি। এনগেইজমেন্টের দিন থেকে নিধি ও প্রহর তার সাথে কথা বলে না। দেখা হলেও খানিক এড়িয়ে যায়। এ বিষয়টা বারবার আহত করছে তাকে। যাওয়ার আগে প্রিয়তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে প্রহর। কিন্তু এটা করলে যে মানসম্মান কমে যাবে তার। নিচু হবে পুচকে একটা মেয়ের সামনে। শেষ বয়সে এসে এমন এক অপমান? কি এমন বলেছে সে? আর মেয়েটার জন্য সবার দরদ উতলে পড়ছেই বা কেন?
_______________

শীত শীত ভাব এসেছে পৃথিবীতে। খুব ভোরে কুয়াশায় ঢেকে যায় দূরের স্থান। গা শিরশির করে ওঠে। সেইভাবে এখনো শীত পড়েনি। পাখা বন্ধ করলে গরম আর মশার জ্বালায় টেকা দায়। অপরদিকে পাখা ছাড়লেই শীতে জুবুথুবু অবস্থা। শীতের শাক-সবজি সেইভাবে উঠেনি বাজারে। তবুও শীত শীত আমেজটা উন্মুক্ত হচ্ছে। নতুন এক প্রকৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছে মানুষ। গরমের উষ্ণতা কমিয়ে শীতকাল তেন মানুষের প্রাণে এক অজানা আনন্দের জোয়ার বইয়ে দেয়।

প্রিয়তা সকালে উঠে নাস্তা বানিয়েছে ডিম ভাজা আর পরোটা। আরহাম খেয়ে পড়তে বসেছে। গতকাল রাতে পড়তে না বসায় সকাল হতেই ছেলেটার সামনে খাতা কলম রেখে দিয়েছে প্রিয়তা। পরোটা বানানো শেষ হতেই প্রিয়তা ঘরে এলো। আরহামের মুখে তুলে দিল পরোটার ছোট ছোট টুকরা। খেতে খেতে আরহাম বলে উঠল,

” আপু।

” বলো।

” আমি ব্যাট মিনটন খেলবো। বাইরে কত্ত জায়গা।

” তুমি তো পারো না ভাই। কেন আবদার করছো?

“তুমি তো পারো । আমাকে শিখিয়ে দিবে। তুমি কি বলো মনে নেই? পানিতে না নামলে সাঁতার শেখা যায় না, হোঁচট না খেলে হাঁটতে শেখা যায় না। কি বলো না?

হাসল প্রিয়তা। বাচ্চাটার মেধা এই বয়সে অনেকটাই ভালো। পড়ালেখা করার সম্পূর্ণ ইচ্ছে আছে আরহামের। প্রিয়তা কোনকিছু বললে ছেলেটা মনে রাখে। পালন করার চেষ্টা করে। সর্বক্ষণ এটা ওটা জিজ্ঞেস করতেই থাকে। জানার কৌতুহল আরহামের অনেক আগে থেকেই। ভাইয়ের এহেন কথায় গাল টিপে দিল প্রিয়তা। আরেকটা পরোটার টুকরো মুখে গুঁজে দিয়ে বললো,

” শীত ভালো মতো পড়ুক। কিনে দিবো। ও বাড়ি থেকে তো কিছুই আনা হয়নি।

” না আপু। আমি আজই খেলবো। তুমি এনে দাও না। নইলে আমাকে নিয়ে যেও ও বাড়িতে। আমি নিয়ে আসবো।

প্রিয়তার আত্মা কেঁপে উঠল। ও বাড়ি যাওয়ার কথা ভুলেও আরহামের মাথায় ঢোকানো যাবে না। গেলে হয়তো আর আসতেই চাইবে না ছেলেটা বাবাকে ছেড়ে। আর প্রিয়তা তো আরহাম ছাড়া থাকতেই পারবে না। খানিক নিচু স্বরে থমথমে মুখে আরহামকে মিথ্যে সান্ত্বনা দিল প্রিয়তা। বললো,

“টিউশন থেকে আসার পথে কিনে আনবো।

আরহাম খুশি হলো। পড়তে বসল আবার। খেয়াল করলে ছেলেটা বুঝতে পারতো প্রিয়তার মলিন মনোভাব। টাকা পয়সা হাতে নেই বললেই চলে। ছোট খাটো কম দামি ড়্যাকেট কিনতে গেলেও দুশো-তিনশো টাকা লাগবেই। এত এত খরচ হজম হচ্ছে না প্রিয়তার। বাজার সদাইয়ে হাত দেওয়া যায় না। আলুর কেজি আজ সত্তর টাকার নিচে নেই। পেয়াজ রসুনের দাম তরতর করে বাড়ছে। মাছের কথা তো ভুলেই গিয়েছে প্রিয়তা। কালকের গরুর মাংস পুরোটাই আরহামকে খেতে গিয়েছে। দই আজ বিকেলে ফ্রিজ থেকে বের করে আরহামকে দেবে। নিজে না খেয়ে কোনোভাবে ছেলেটার চাহিদা পূরণ করছে প্রিয়তা। শীত ঝেঁকে বসলেই শীতের পোশাক চাইবে আরহাম। সেগুলো কিনতেও কত খরচ। কিভাবে কি সামলাবে প্রিয়তা? কোন দিকে যাবে?
প্রিয়তা থালা-বাসন ধুয়ে ভাবতে বসল। হিসেব কষল সবকিছুর। মাথায় চিন্তা নিতে নিতে প্রিয়তা দূর্বল হয়ে পড়েছে। চোখের নিচে কালি পড়েছে। আগের থেকে রোগা দেখায় তাকে। তবুও যেন চিন্তা কমে না।

প্রিয়তা ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য তৈরী হলো। ফোনটা রাখল আরহামের কাছে। ভাইকে কিছু উপদেশ দিয়ে বের হওয়ার পূর্বেই দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। প্রিয়তা দরজা খুলল একটু সময় নিয়ে। দরজার ওপাশে সাবিনা বেগমকে দেখে কিছুটা অবাক হলো প্রিয়তা। সাবিনা বেগমের মুখটাও থমথমে। প্রিয়তা ঘরে আসতে বলবে কি না ভেবে পেল না। আতিথেয়তা করতে চেয়েও কেন যেন মন তাতে সায় দিল না। প্রিয়তা জিজ্ঞেস করলো,

” আপনি এখানে? কিছু বলবেন?

সাবিনা বেগম বাধ্য হয়ে এসেছেন এখানে। প্রহরকে তিনি নিজের ছেলের চাইতে বেশিই ভালোবাসেন। সেই ছেলে তার সাথে কথা বলে না। সকালে থানায় যাওয়ার আগে সাবিনাকে অনুরোধ করেছিল প্রিয়তার কাছে আসার জন্য, ক্ষমা চাওয়ার জন্য। তাইতো ক্ষোভ আর রাগ থাকা সত্বেও এখানে এসেছেন তিনি। প্রিয়তার কথার প্রতিত্যুরে তিনি বললেন,

” দেখো মাইয়া, তুমি আমার অনেক ছোট। আমি সেদিন যা কইছি কইছি। মনে রাইখো না। গায়ে মাইখো না। আংটি হারানোর শোকে কি থিকা কি কইছি নিজেও জানি না।

প্রিয়তা হাসল। এটুকু বলাতেই কি সব অপমান ফিরিয়ে নেওয়া যায়? কলঙ্ক মুছে দেওয়া যায়? প্রিয়তা ক্ষমা করতো, যদি ঘটনাটা শুধু তার সাথেই ঘটতো। এ ঘটনার সাথে আরহাম ও জড়িত। কি করে এত সহজে ভুলবে সে? কাঁধে ব্যাগটা ভালো করে চেপে প্রিয়তা বললো,

” আমি যদি এখন হেসে বলি আমি কিছু মনে করিনি, ভুলে গিয়েছি, মনে রাখিনি, তবে তা হবে আমার জীবনে বলা সবচেয়ে বড় মিথ্যে। আমি মিধ্যে বলি না আন্টি। আপনাকে মিথ্যে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। আমি চাইলেও কোনকিছু ভুলতে পারবো না। না চাইতেও বারবার ওই ঘটনা আমার চোখে ভেসে ওঠে। তাই ভুলে যাবো, গায়ে মাখবো না এ কথা দিতে পারছি না। তবে আমি চেষ্টা করবো আপনাকে মন থেকে ক্ষমা করার। আজ আসি। আসসালামু ওয়ালাইকুম ।

প্রিয়তা জুতোর খটখট শব্দ করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল। সাবিনা বেগম থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। এইটুকু মেয়ের এত চ্যাটাং চ্যাটাং কথা? সাবিনা বিরক্ত হলেন বেশ। রাগে গা শিরশির করে উঠলো তার। কি এমন করেছে সে? দু কথা বললে কি হয়? বয়সে তো মেয়েটা ছোট। অথচ কথাবার্তা কি পাকা পাকা। এজন্যেই বাবার বাড়িতে টিকতে পারেনি। নিশ্চয় বাবা-মা এই আচরণের জন্যে মেয়েটাকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

_______________

তানিয়া বাড়িতে বসেই জাফর আলীর বিরুদ্ধের কেসটা ক্লোজ করার কিছু তথ্য একত্রে করছে। নিয়াজ একটু আগেও দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ডেকে গেছেন তানিয়াকে। কাজে লেগে পরলে আর উঠতে মন চায় না তানিয়ার। কেননা উঠলে আর কাজে হাত লাগাতে ইচ্ছে করে না। অলসতা লাগে। আজকাল এই অলসতা যেন বেড়েছে। জাফরের কেসটা নেমে যেতেই নিজেকে স্বাধীন মনে হচ্ছে তানিয়ার। বাবার ডাকে এইবার বিরক্ত হয়েই খাবার টেবিলে বসল তানিয়া। নিয়াজ আজ কাতলা মাছ রেঁধেছে। প্রতিদিন রান্না করে তানিয়াকে তিনি একটা কথাই জিজ্ঞেস করেন “রান্না কেমন হয়েছে, ভালো না”?

কিন্তু আজ এই ধরণের প্রশ্ন করলেন না নিয়াজ। বিষয়টাতে খুব অবাক হলো তানিয়া। এই প্রশ্ন রোজ একবার না শুনলে মনে হয় কিছু একটা সমস্যা রয়েছে। রোজ এক প্রশ্ন করতে করতে নিয়াজের যেমন অভ্যেস হয়ে গেছে, তেমনি একই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে তানিয়া। নিয়াজের এইরুপ পরিবর্তনে একটু ঘাবড়ে গেল সে। পুলিশে জয়েন করার পর নিয়াজের সাথে তার দুরত্ব বেড়েছে। আগের মতো বাবার সাথে আড্ডা দেওয়া হয় না তানিয়ার। এত এত কাজ করে রাতে আর ইচ্ছে হয় না বাবার সাথে গল্প করার। যদিও নিয়াজের সব কথাই শোনে তানিয়া। এই যেমন বিয়ের বিষয়টা। এই বিয়েটা তানিয়া পুরোপুরি মানতে চায়নি। হয়তো চাইলেই মানতে পারতো। কিন্তু কেন যেন মন, মস্তিষ্ক সম্পর্কটাকে জোড়ালো করতে পারেনি। তানিয়া খেতে খেতে নিয়াজের উদ্দেশ্যে বললো,

” জিজ্ঞেস করলে না রান্নার কথা?

নিয়াজ হাসলেন। বললেন,
” রোজ এক প্রশ্ন করি। তুমি তো রোজই বলো ভালো হয়েছে।

“ভালো হলে বলবো না? আমাকে তো রান্না করতেই দাও না।

“সারাদিন যে পরিশ্রম করো তার পর আর রান্নার ঝামেলা নিতে পারবে? বাবা হয়ে এটুকু কষ্ট যদি বুঝতে না পারি তাহলে কেমন বাবা হলাম?

তানিয়া নড়েচড়ে বসল। বললো,

” এত ভালোবাসো কেন বাবা? কতদিন
করবে এইভাবে?

” যতদিন বেঁচে থাকি ততদিনই করবো।

” একটা কথা বলতে চাই তোমায়। বলবো?

নিয়াজ মেয়ের দিকে তাকালেন। খেতে খেতে বললেন,
” অনুমতি চাইতে হবে না। নির্দ্বিধায় বলো।

” তুমি বিয়ে করো বাবা।

তানিয়ার এহেন বাক্যে বিদ্যুতের ঝটকা খেলেন নিয়াজ। খাবার মুখেই কেশে উঠলেন। তানিয়া দ্রুত হাত বাড়িয়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দিল নিয়াজের সম্মুখে। কথাটা শুনে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গিয়েছেন নিয়াজ। মেয়ের মুখে এমন কথা কোন বাবাই বোধহয় সহজ ভাবে নিতে পারে না। নেওয়ার কথাও নয়। কাশি কমলে তিনি ভালো করে দম নিলেন। বুকটায় একটা ব্যথা শুরু হলো এভাবে কেশে ওঠার কারণে। সময় নিয়ে তিনি বললেন,

“মজা করছো বাবার সাথে?

” মোটেই না।
শান্ত, গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল তানিয়া। পুনরায় বললো,

” তুমি লজ্জা পাচ্ছো বাবা। কিন্তু কথাটা বলতে আমার মোটেও লজ্জা লাগেনি। আম্মু মারা গিয়েছে প্রায় চৌদ্দ বছর হয়েছে। আমি তখন ছোট। দশ বছর বয়স মাত্র । তোমার সাথে আম্মুর যখন বিয়ে হয়েছিল তখন তোমার বয়স ছিল পনেরো, আম্মুর বারো। খুব কম বয়সে তোমাকে সংসারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আম্মুর সাথে তুমি খুব সুখেই ছিলে। সংসার জীবন তোমার সুন্দর ছিল। হুট করে জ্বরের ঘোরে মারা গেল আম্মু। আমি একা হয়ে গেলাম। আম্মুর সাথে তোমার সংসার জীবন ছিল এগারো-বারো বছরের। আম্মু মারা যাওয়ায় শুধু আমিই আম্মুর অভাববোধ করিনি। আমি দেখেছি তুমি নিজেও আম্মুর মৃত্যুতে একা হয়ে গিয়েছিলে। কষ্টে পেয়েছিলে ভিষণ। প্রায় রাতেই চোখের পানি ফেলতে। বিয়ে মানে শুধু দৈহিক চাহিদা নয় বাবা। বিয়ে মানে মনের শান্তিও। আমাদের প্রত্যেকের কিছু মৌলিক চাহিদা থাকে। এর মাঝে সুখের জন্য কাউকে কাছে রাখা এক ধরনের চাহিদা। একজন সবসময় পাশে থাকবে, সব কথা শুনবে, কেয়ার করবে, অসুস্থ হলেও দোয়া করবে এ কথা ভাবতেই তো ভালো লাগে তাইনা? স্ত্রী মানে যে শুধু সন্তানের জন্মদান তা কিন্তু নয়। স্ত্রী মানে জীবন সঙ্গি, যার সাথে জীবনের প্রত্যেকটি মুহুর্ত ভাগাভাগি করা যায়। আমি অফিসে থাকি,সময় হয় না। তুমি সারাদিন একা একা ঘরে বসে বইপত্র পড়। এই সময় তোমার একজন মানুষ প্রয়োজন যে তোমার খেয়াল রাখবে, যে তোমাকে সঠিকভাবে গাইড করবে, তোমার সুখ-দুঃখের কথা শুনবে মনোযোগ দিয়ে। তোমায় মানসিক শান্তি দেবে এমন কজন দরকার।

“কি বলছো তুমি? পাগল হয়েছো? উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন নিয়াজ। এমনটা তিনি ভেবেছেন আগে। কিন্তু এখন বিষয়টা অন্যরকম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বয়সে এসব মানায়?

” আমি জানি সৎ মা আমাকে ভালবাসবে না ভেবে তুমি বিয়ের কথা কখনো চিন্তা করোনি। নতুন মা আমাকে কিভাবে ট্রিট করবে এ চিন্তা মাথায় রেখে নিজের চাহিদা পূরণের কথা ভাবোনি। কিন্তু এখন দেখো, আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। আর ছোট নেই আমি। দুদিন পর আমার বিয়ে হয়ে যাবে। আমি বেশিদিন এ বাড়িতে থাকবোও না। তুমি তো তখন পুরোপুরি একা হয়ে যাবে আব্বু। আমি আমার আম্মুর জায়গা কাউকে দিতে পারবো না, দিবোও না। কিন্তু তুমি চাইলেই সেই জায়গাটা অন্যকে দিতে পারবে। আমি চাই অন্তত শেষ বয়সে এসে তুমি ভালো থাকো। নিজের করে একটা মানুষ পাও, বাকিদের কথা না ভেবে নিজের কথা ভাবো। এই কথাটা আমি আগে বহুবার তোমায় বলতে চেয়েছি। কিন্তু আমি জানতাম আমার কথা ভেবে তুমি বিয়ে করতে চাইবে না। তাইতো থানায় নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার পর এ কথাটা তোমাকে বলতে এসেছি। আমি জানি কোন বয়সটায় কি প্রয়োজন। শুধুমাত্র শারীরিক সন্তুষ্টির জন্য মানুষ বিয়ে করে এমনটা নয়। মানসিক সন্তুষ্টি বলেও একটা বিষয় আছে।

নিয়াজ চুপ করে রইলেন। তার ও ইচ্ছে হয়েছে একটা মানুষকে নিজের করে রাখতে। স্ত্রীকে তিনি অনেক ভালোবাসলেও মনের চাহিদা সবসময়ই তাড়া করেছে। সুখ-দুঃখের কথা বলার জন্য একটা মানুষের প্রয়োজন বোধ করেছেন। কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যত ভেবে এতদিন সে পথে পা বাড়াননি তিনি। আজ মেয়ের এমন কথা শুনে যুবকের ন্যায় টগবগ করে ফুটল নিয়াজের ব্যক্তিসত্ত্বা। চুপচাপ টেবিল থেকে উঠে গেলেন তিনি। যাওয়ার আগে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। তানিয়া সম্মতি পেল যেন। মুচকি হেসে বাবার হাতে হাত রাখল। নিয়াজ চলে যেতেই ফোনটা হাতে নিয়ে Ehan Sir এর নাম্বারে ডায়াল করল তানিয়া। ইহান কল ধরতেই তানিয়া উত্তেজিত, উৎফুল্ল কণ্ঠে বললো,

” স্যার আমি পেরেছি। আব্বুকে আমি বুঝিয়েছি। আমার মন বলছে আব্বু রাজি।

” বাহ্। অভিনন্দন।

” আপনি যা যা বলেছিলেন আমি সবই বলেছি। অ্যান্ড আব্বুর মুখ দেখে মনে হচ্ছে আব্বু নিজেও এটা চাইতো মনে মনে। কখনও প্রকাশ করার সুযোগ পাননি।

” হয়তো। আঙ্কেলের জন্য এখন মেয়ে দেখো তাহলে। দায়িত্ব বাড়ল তোমার।

” হ্যাঁ তাই তো। এখন মিশন হলো নতুন মা। আপনি আমাকে হেল্প করবেন তো? এই বিষয়ে?

” একা একাই চেষ্টা করো তানিয়া। তুমি পারবে।

” কিন্তু কেন স্যার? আপনি থাকবেন না? মন খারাপ হলো তানিয়ার।

” আমি তো সবসময় থাকবো না তানিয়া। নিজেকে এমন ভাবে গড় যেন আর কাউকে প্রয়োজন বোধ না হয় জীবনে।

তানিয়া হাসল। বললো,

” একা একা বাঁচা যায় না স্যার। এই প্রথম আপনার কথায় একমত হতে পারছি না। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কারো না কারো সাহায্য প্রয়োজন পড়েই। কোন মানুষই সব গুনের অধিকারি হতে পারে না। তাকে অন্যের কাছে যেতেই হয়। একা একা কোন কিছুতেই জয়ী হওয়া যায় না।

_____________________

বাড়ি ফেরার পথে তন্ময়ের সাথে হাঁটতে লাগল প্রিয়তা। ছেলেটার সাথে অনেকদিন ভালো মতো আড্ডা দেওয়া হয় না, কথা বলা হয় না। তন্ময় মুখিয়ে থাকে প্রিয়তার সাথে কথা বলার জন্য। তন্ময়ের দু কাঁধে ব্যাগ। শার্ট প্যান্টের সাথে ইন করা। চুল পরিপাটি করে গোছানো। তন্ময় ছেলেটা সুদর্শন। কিন্তু মাঝে মাঝে ছেলেটাকে হাবাগোবা মনে হয় তার স্টাইলের কারণে । হাউয়াই মিঠাই মুখে দিয়ে প্রিয়তা বললো,

” তোর কি খবর দোস্ত? মাঝরাতে ফোন বিজি দেখায় কেন?

তন্ময় থতমত খেল। প্রিয়তাকে এ নিয়ে সে কিছু বলতে চায় বুঝতে পারলো প্রিয়তা। উদগ্রীব চাহনি নিক্ষেপ করলো ছেলেটার দিকে। তন্ময় বললো,

” আমার হয়ে একটা টিউশনি করবি প্রিয়তা?

প্রিয়তার কপালে ভাঁজ পরল। এই ছেলেটা বলে কি? নিজেই কয়েকটা টিউশনি করে হাত খরচ চালাতে পারে না। আবার একটা টিউশনি প্রিয়তাকে দিয়ে দিতে চাচ্ছে? প্রিয়তা বলে উঠল,

” আমার একটা ব্যাচ আর দুটো টিউশনি আছে। তোকে আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তুই তোর টিউশনি আমায় কেন দিবি?

তন্ময়ের মুখটা ছোট হয়ে গেল। ছেলেটা কিছু ভাবছে অনবরত। আগের মতো উৎফুল্ল ভাবটা নেই। কেমন মিইয়ে গেছে। প্রিয়তার কথার উত্তরে বললো,

” আমি টিউশনিটা ছেড়ে দিবো। তাই তোকে বলছি। না নিলে আর কি করার?

” কিন্তু ছাড়বি কেন? ততক্ষণাৎ প্রশ্ন করলো প্রিয়তা।

” আমি যেই মেয়েটাকে পড়াই সেই মেয়েটা মুসলিম। মেয়েটা নাকি আমাকে ভালোবেসে ফেলেছে। এইটা কোন কথা হলো বল? ও মুসলিম আর আমি হিন্দু। এইসব তো কোনদিন সম্ভব না। রোজ রাতে কল দেয় মেয়েটা। পাগলামি করে। আমি ওকে বোঝাতে পারি না।

অবাক হলো প্রিয়তা। বললো,

” কি বলছিস?

” হ্যাঁ রে। মেয়েটা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে। ওর নাম রিয়া। ইন্টারে পড়াশোনা করে। ধনী পরিবারের মেয়ে। পড়াশোনা একদমই করতে চায় না। ওর বাবা আমাকে টিউটর হিসেবে নিযুক্ত করেছে। কয়েক মাস যেতেই আমি বুঝতে পারি রিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি আমার প্রতি স্বাভাবিক নয়। রিয়া ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। আমার এখন ওর কাছ থেকে সরে আসা উচিত। আমি এটা কোনমতেই সম্ভব হতে দিতে পারি না। বারবার বুঝিয়েছি ওকে। কোন লাভ হয়নি।

প্রিয়তা ভড়কাল। কি বলবে এখন ও? হিন্দু মুসলিমের প্রেম বা বিয়ে সম্পর্কে ওর ধারণা নেই। তাছাড়া এই বিষয়টিও দৃষ্টিকটু। মুসলিম হয়ে অন্য ধর্মের ছেলেকে ভালোবাসবে, বিয়ে করবে এটা মানানসই নয়। কেউই কারো ধর্ম ত্যাগ করতে পারবে না। তন্ময় ভালো ছেলে। হিন্দু হলেও কখনো প্রিয়তার সামনে ভগবানের নাম নেয়নি। বলতে গেলে ভগবান আর আল্লাহ্- দুটোকেই মোটামুটি মানে ছেলেটা। যখন প্রিয়তার সাথে থাকে তখন আল্লাহ্কে নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। প্রিয়তার আড়ালে কি করে তা প্রিয়তার জানা নেই।

ভাবতে ভাবতে দুজন হাঁটতে লাগল। পরিস্থিতি ভিন্ন হলো। একটু আগে দুজন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল। আর এখন নিশ্চুপ। প্রত্যেকটি মানুষের কোন না কোন জটিল সমস্যা থাকেই। সমস্যা ছাড়া কোন মানুষই নেই পৃথিবীতে। তন্ময় সবসময় ফ্রি আর রিল্যাক্স থাকতে চাইতো, অথচ ছেলেটাকে এখন কি সব চিন্তা মাথায় রাখতে হচ্ছে। প্রিয়তা রাস্তা ক্রস করার জন্য ডায়ে বামে তাকাল। একটা মাইক্রো আসতে দেখলো ডান পাশ থেকে। কি মনে করে প্রিয়তা বায়ে তাকিয়ে আবার গাড়িটির দিকে চাইল। গাড়িতে থাকা মানুষগুলোকে দেখে প্রিয়তার মন আরো বিষিয়ে গেল। ছুপসে গেল মুখমণ্ডল। গাড়ির আয়নায় দেখতে পেল প্রীতিলতার হাস্যজ্জল মুখ। স্বামীর সাথে বোধহয় ঘুরতে বেরিয়েছে। প্রিয়তা নিজেকে আড়াল করলো কোনরকমে। মন চাইল ছুটে গিয়ে মায়ের সাথে গল্প করতে। কিন্তু মনকে প্রশ্রয় দেওয়ার কথা মাথায় আনল না প্রিয়তা। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখল। মায়ের সুখ দেখে ভালোই লাগল তার। একটা অপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখছিল দুজন। আজ তারা মুক্ত, দুজন দুদিকে পা বাড়িয়েছে দ্বিধা ছাড়াই। প্রিয়তা হেসে বিড়বিড় করে বললো,

” নারীরাই নারীদের সবচেয়ে বড় শত্রু। নারী যেমন একটি সংসারকে পরিপূর্ণ করে, তেমনি এক নিমিষে একটি সংসারকে তছনছ করে দিতে পারে।

পুনরায় বললো,

” তুমি সুখে থাকো মা। এত এত সুখ তোমার সহ্য হোক।

___________________

চলবে?

#প্রিয়তার_প্রহর
বোনাস পর্ব
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ

প্রিয়তা এক অন্যরকম নারীতে রূপান্তরিত হয়েছে। আগে তার দিনের অগ্রভাগ কাটতো ফোন টিপে,ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিয়ে আর নয়তো টিভি দেখে। এখন সেসবের কিছুই হচ্ছে না। বরং বাইরে বাইরেই কেঁটে যাচ্ছে সময়। আরহামকে সময় দেওয়া হচ্ছে না। নিজেকে নিয়েও ভাবতে ভালো লাগে না প্রিয়তার। বিকেলে আজ ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরল প্রিয়তা। সদর দরজার সামনেই আরহামকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। ছেলেটার গা উন্মুক্ত। নীল রঙের একটি ঢিলঢালা প্যান্ট পরেছে। প্রিয়তাকে দেখে এক দৌড়ে ছুটে আসল আরহাম। হেসে বোনের কোলে উঠতে চাইল। ক্লান্ত থাকা সত্বেও আরহামের নরম শরীরটা বুকে আগলে নিল প্রিয়তা। ছেলেটাকে দেখলে বোঝাই যায় না ওর পাঁচ বছর। যে কেউ দেখে বলবে বড়জোর চার বছর। রোগা পাতলা বলে আরো ছোট লাগে। উদাম শরীরে আরহামকে আরো মোহনীয় দেখায়। সমস্ত সৌন্দর্য ভর করে ছেলেটাতে। ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আরাম অনুভব করলো প্রিয়তা। ক্লান্তি দূর হয়ে গেল যেন। প্রশান্তিতে চোখ বুজে নিল। আরহামের নাকে চুমু খেয়ে বললো,

” গোসল করো নি? বিকেল হয়ে গিয়েছে।

আরহাম প্রিয়তার মতো ভ্রু কুঁচকে তাকাল। পিটপিট করে চোখের ঘন পাপড়ি একত্রে করল। আগ্রহী কণ্ঠে বললো,

” তুমি কি করে জানলে আমি গোসল করিনি?

” আমি বুঝি। গা খালি কেন তোমার?

” গুসল করতে ভালো লাগে না। শীত লাগে।

“গরম পানি করে দেই? গোসল না করলে মন ও শরীর দুটোই খারাপ লাগে বুঝলে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হয় সবসময়। তাহলে সবাই বাচ্চাদের ভালোবাসে।

হাঁটতে হাঁটতে ঘরে এলো প্রিয়তা। গ্যাসের চুলায় পানি বসাল পাতিলে। হালকা গরম হলেই নামিয়ে নিল পাতিল। ঠান্ডা পানির সাথে গরম পানির মিশ্রণে আরহামের গায়ে ঢালল। খিলখিল করে হেসে উঠল আরহাম। এখন কোন অভিযোগ নেই তার। গায়ে পানি ঢালতে আরাম বোধ হচ্ছে। গরম পানির পরিমাণ একদমই হালকা দিয়েছে প্রিয়তা। ঠান্ডা এখনো সেইভাবে পড়েনি।

গা মুছে দিতে দিতে প্রিয়তা আজকের সব কথা জানতে চাইল। সারাদিন আরহাম কি কি করেছে সেসবের কৈফিয়ত চাইল। আরহাম কথার মাঝে একসময় ডেকে উঠল। বললো,

“আপু।

প্রিয়তা আরহামের শরীরে লৌশন দিতে দিতে বললো,

” বলো।

” না কিছু না। অন্যরকম ভঙ্গি করলো আরহাম।

” কি বলো?

” আমার র‌্যাকেট কই? তুমি না আনবে বলেছিলে?

প্রিয়তা অপ্রস্তুত হলো। আজকে ভার্সিটির মাসিক ফি দিয়ে এসেছে। তবুও কম দামি র‌্যাকেট কিনে দিতে চেয়েছিল আরহামকে। কিন্তু আসার পথে সে কথা ভুলেই গিয়েছে সে। মনে নেই বললেই আরহাম মন খারাপ করবে। প্রিয়তা বোকা হেসে বললো,

” দোকানে ভালো র‌্যাকেট পেলাম না ভাই। কাল মার্কেটে তোমায় নিয়ে গিয়ে কিনে দিবো। কাল তো ফ্রাইডে। আমি তো আছিই। একসাথে খেলবো।

আরহাম মাথা নাড়ল। প্রিয়তার শরীর ভালো লাগছে না। মাথা ব্যথা করছে। একটু বিশ্রাম নিয়ে গোসল করবে ভাবল প্রিয়তা।

_______________

ছাদে বাতাস নেই। তিন তলা থেকে চারপাশটা ভিষণ সুন্দর লাগছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে চারপাশ। প্রিয়তার চা খাবার অভ্যেস নেই। তবে আজ চা নিয়ে ছাদে এসেছে সে। আকাশে পাখিগুলো উড়ে বেড়াচ্ছে। বাড়ি ফেরার তাড়া বুঝি সকলেরই আছে। প্রিয়তার মায়ের কথা মনে পরল। কি সুন্দর তার মা অন্য একটা পুরুষের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রীতিলতার নেই কোন পিছুটান, নেই কোন মাতৃত্বের টান। চায়ে চুমুক দিয়ে প্রিয়তা আকাশের কয়েকটি ছবি তুলল। কয়েকটা ছবি তুলল নিজের ও। প্রিয়তার চুলগুলো ছেড়ে রাখা। ঢিলেঢালা সুতির কামিজ পড়েছে সে। মিসেস নাবিলা প্রিয়তার ছাদে থাকাকালীন সময়ে ছাদে এলেন। প্রিয়তাকে দেখে এগিয়ে এলেন সামনে। পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললেন,

“আরহাম কোথায়? আর আমাদের বাড়ি আসে না কেন।

প্রিয়তা পাশ ফিরে তাকাল। কয়েকদিনের মাঝেই এই মহিলা খুব আপন হয়ে উঠেছে প্রিয়তার। মাঝখানে যেই ঘটনা ঘটল তাতে কারো প্রতি বিশ্বাস সেইভাবে নেই বললেই চলে। তবুও পরিচিত মানুষ হিসেবে ধরা যায়। প্রিয়তা মিথ্যে বলে এ বাড়িতে উঠেছে। মিসেস নাবিলা জানেন না প্রিয়তার পরিবারের ঘটনা, জানেন না প্রিয়তা ব্রোকেং ফ্যামিলি থেকে এসেছে। চায়ে আবার চুমুক দিয়ে প্রিয়তা বললো,

” আমি যেতে নিষেধ করেছি আন্টি।

” যা হয়েছে তা ভুল হয়েছে। কিন্তু আমরা তো কিছু করেনি। কেন ভুল বুঝছো?

” এটাই তো আন্টি। আপনি কিছু করেননি বলেই আমি লজ্জিত হয়েছি। আপনি যদি জোর দেখিয়ে বলতেন আমি বা আরহাম এসব করতে পারি না, তাহলে বোধহয় এতটা অপমানিত হতাম না আমরা। অবশ্য আমরা নতুন ভাড়াটিয়া। এতটা বিশ্বাস করবেন-ই বা কি করে? দোষ আমারই

” সাবিনা তো ক্ষমা চেয়েছে। ক্ষমা করে দাও।

” হ্যাঁ চেয়েছে। কিন্তু উনার কণ্ঠে অনুতপ্ততা ছিল না, ছিল না লজ্জিত বোধ।

” বুঝেছি। তুমি শুনবে না আমার কথা। যা ভালো বুঝো করো।ভালো থাকো। নিজের খেয়াল রেখো।

” আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে আন্টি। আমার মনে হয় আজ তা বলা প্রয়োজন। মিসেস নাবিলা চলে যেতে নিলে কথাটি বললো প্রিয়তা। দৃঢ় কণ্ঠ তার। কাঠিন্যতা বজায় চোখেমুখে।

” কি বলবে? কৌতুহলী চাহনি মিসেস নাবিলার।

” আমার বাবা-মা বিদেশে নন। উনারা বাংলাদেশেই আছেন। আমি আপনাকে মিথ্যে বলেছি।

মিসেস নাবিলা অবাক হলেন। বললেন,

” তাহলে কোথায় তারা? মিথ্যে বলেছো কেন?

প্রিয়তা বুঝতে পারল তার চোখ আর নাক চুলকাচ্ছে। যেকোন সময় টুপ করে নোনা পানি ঝরবে। প্রিয়তার এটা বদ অভ্যাস। কাউকে কোন দুঃখের কথা বলতে গেলে বেশি দুঃখ লাগে। যাকে বলা হচ্ছে তার প্রতি যদি বেশি এসপেক্টটেশন থাকে তাহলে আরো বেশি কান্না পায়। প্রিয়তা আবেগঘন মুহুর্ত কাটানোর চেষ্টা করল। বললো,

“আমার আব্বু আম্মু আমার ষোল বছর বয়স থাকতেই পরকিয়ায় লিপ্ত হয়েছিলেন। আম্মু আব্বুকে রেখে অন্য এক পুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। আব্বু জেনে গিয়েছিলেন আম্মুর এই অবৈধ সম্পর্কের কথা। আম্মুকে বারবার বুঝিয়ে বলেছিলেন আব্বু। কিন্তু অন্ধ প্রেমে আটকে আম্মু আব্বুকে কোন রকম সুযোগ দেননি। তাই তো চাহিদা পূরণের জন্য অন্য এক নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন আব্বু। তখন এই সম্পর্কে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম আমি আর আরহাম। কারণ তাদের দুজনের নতুন সঙ্গী আমাদের মানতে চায়নি। আব্বুর প্রেমিকা শুধু আব্বুকেই চেয়েছিল। আব্বুর সাথে বাড়তি সন্তানকে মানবে না বলে জানিয়েছিল। অপর দিকে আম্মুর প্রেমিকও স্ত্রীর সাথে এত বড় একটা মেয়েকে সংসারে তুলবে না বলে জানিয়েছিল। তাই এই সম্পর্ক এভাবেই অবৈধ ভাবে চলছিল। এতগুলো দিন শেষে আমি বুঝতে পারলাম এভাবে আর চলতে পারে না। আমাকে কিছু করতে হবে। আব্বু আমার বিয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আরহামকে আব্বুর প্রেমিকা মেনে নিয়েছে খুব তোষামোদ করে। দুজনেই ভালো সুযোগ পেলেন। আমাকে তাড়িয়ে নতুন জীবনে পা রাখার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু আমি জানি আরহামকে তার সৎ মা ভালো বাসবে না, ভালো রাখবে না। আর আমিও ততক্ষণাৎ বিয়ে করে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে পারবো না। তাই বাবার বাড়ি থেকে আমি চলে এসেছি। একেবারের জন্য চলে এসেছি। আর আমরা চলে আসার কয়েকদিনের মধ্যেই আব্বু আম্মু দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তারা সুখে আছেন। এদিকে আমরা..

মিসেস নাবিলার চেহারা পাল্টে গেল মুহুর্তেই। প্রিয়তা এত বড় মিথ্যে বলবে তা বোধহয় ভাবেননি তিনি। তিনি ভাড়া দিয়েছিলেন এমন একটি মেয়েকে যার কিনা বাবা-মা বিদেশে থাকে। কিন্তু তা তো নয়।

মিসেস নাবিলা গম্ভীর স্বরে বললেন,

” এসব কথা আমাকে আগে বলোনি কেন?

” আমি যখনই কোন বাড়িওয়ালাকে বলেছি আমরা ব্যাচেলর থাকবো, তখনই তারা ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই মিথ্যে বলতে বাধ্য হয়েছি।

” এটা ঠিক করোনি প্রিয়তা।

” আপনার কি মতামত আন্টি? আপনি যদি না চান তো আমরা এই বাড়িতে থাকবো না।

“গেলে দু মাস আগে থেকে বলে দিতে হয়। এটা রুলস। তোমার ইচ্ছে।

মিসেস নাবিলা হনহন করে চলে গেলেন। প্রিয়তা মুচকি হেসে অন্যদিকে চাইল। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভালো লাগল না। একদম ঠান্ডা, মিষ্টি হয়ে গিয়েছে চা। প্রিয়তা বেরিয়ে আসার আগমুহুর্তে প্রহর হেডফোন গুঁজে ছাদে প্রবেশ করলো। প্রিয়তার দিকে এক ঝলক চেয়ে কথা বলায় মনোযোগ দিল। প্রিয়তা তাকিয়ে রইল অহর্নিশ। প্রহরের ফোনে কথা শেষ হতেই প্রিয়তা জিজ্ঞেস করলো,

” উনি ধরা পড়েছে? কি যেন নাম?

” জাফর আলী।

” এর সাথে আমি কিভাবে যুক্ত হলাম? মানে উনি কেন আমার সাথে দেখা করতে এলেন জানতে পেরেছেন?

” নাহ্। জানার চেষ্টা করছি।

‘ ওও।

“প্রিয়তা। প্রহরের নরম কণ্ঠ।

” জি?

” আরহাম মন খারাপ করে বসে আছে সিড়িতে। কেন?

আরহাম মন খারাপ করে সিঁড়িতে বসে আছে? মনে প্রশ্ন জাগল প্রিয়তার। দ্রুত পায়ে দু তলার সিঁড়িতে নেমে এলো। দেখতে পেল সিঁড়ির মাঝে দু গালে হাত দিয়ে বসে আছে আরহাম। ছেলেটার মুখটা শুকনো। প্রিয়তা আরহামের পাশে এসে বসল। কি বলবে ভেবে নিল। নিচু কণ্ঠে বললো,

“মন খারাপ কেন আমার ভাইটার?

আরহাম তাকাল প্রিয়তার দিকে। ছেলেটার চোখের মণি ঘোলা। মুখটা মলিন। বোনের গা ঘেঁষে বসে আরহাম বললো,

” আব্বুর কাছে যাবো আপু। ভালো লাগছে না।

প্রিয়তা জড়িয়ে নিল আরহামকে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। বললো,

” আমি তো আছি। আব্বু কয়েকদিন পর এসে আমাদের নিয়ে যাবে। মন খারাপ করো না।

__________________

জাফর আলীর সম্পর্কে শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, অন্যান্য দেশের মানুষ ও জেনে গিয়েছে ইতিমধ্যে। ইন্টারনেটে ঢুকলেই জাফর আলীর ছবি দেখা যাচ্ছে। পুরো দেশের মানুষ হতবাক। এত বড় একটা ব্যবসায়ের লুকিয়ে রাখা সত্য এত জঘণ্য?

থানায় ঢুকে একটা লোক জাফরের সাথে দেখা করে এসেছে। পুলিশ লোকটাকে চেক করে দেখা করতে দিল জাফরের সাথে। জাফর হাজতে বসে আছে। কিছু একটা ভাবছে বোঝা যাচ্ছে। লোকটা জাফরকে দেখেই মাথা নিচু করল। বললো,

” আপনি ঠিক আছেন স্যার?

জাফর রেগে গেল। এই মুহুর্তে এ ধরনের কথা শুধু বলদ রাই বলবে। এই সব লোক নিয়ে কিভাবে সে কাজ করে? এখন এ প্রশ্ন করার সমৎ? রাগান্বিত কণ্ঠে জাফর বললো,

” আমাকে দেখে কি তোমার ঠিক মনে হচ্ছে? এই রকম প্রশ্ন করো কিভাবে?

” আপনি ওই মেয়েটাকে রিজেক্ট করে দিলেন কেন স্যার? ওই পুলিশ অফিসারের জন্য মেয়েটা যথেষ্ট ছিল। এমন ফাঁদে ফেলতো যে অফিসার পুলিশ গিরি ছেড়ে দিত। নারীর ফাঁদ বড় জটিল ফাঁদ স্যার।

জাফর হাসল। বললো,
” ওই অফিসারের জন্য আমি আরেকটা মেয়েকে সিলেক্ট করেছি। গতকাল যেই মেয়েটার সাথে দেখা করলাম, প্রিয়তা। প্রিয়তা মেয়েটাকে টোপ হিসেবে ধরবো বুঝলে? অফিসারের সাথে মেয়েটার খুব ভাব। শুনেছি পাঁচ বছরের এক ভাই ছাড়া মেয়েটার আর কেউ নেই। খুবই গরীব জীবনযাপন করছে। মেয়েটাকে কাজে লাগাতে হবে।

” মেয়েটা মানবে স্যার? যদি বলে দেয় অফিসারকে? সব ঘেটে যাবে না?

” আগে আমাকে বের করো এখান থেকে। আমি দেখে নিবো। তোমরা রিল্যাক্সড থাকো।

” আপনি বললে এখনই বের করতে পারি আপনাকে স্যার। সবই ঘুষের মামলা। উপরমহলে একটু বেশিই টাকা ঢালতে হবে। ওই অফিসার আপনার কিচ্ছু করতে পারবে না।

” কাল এখান থেকে আমি বের হবো। অফিসার বুঝবে আমাকে থানায় আনার শাস্তি কতটা ভয়াবহ। আমাকে আটকে রাখা কি এত সহজ? পুরো বাংলাদেশের সাতটা জেলায় আমার ব্যবসা। বড় বড় মন্ত্রী, ব্যারিস্টারের ডান হাত আমি। এত সহজে আমাকে হারাবে এই নাদান পুলিশ অফিসার? ফু দিলেই তো উড়ে যাবে।

হাসল দুজনে। প্রতিশোধের নেশা চাপল জাফরের মনে। এতদিনের সুনাম একদিনে বদলে গেল, এত টাকার লস হলো। এমনি এমনি ছেড়ে দেবে পুলিশকে?

_________________

অফিসে একটা নতুন কেস এসেছে। মাদকের ব্যবসা চলছে পুলিশের অগোচরে। পুরো টিমটাকে ধরতে হবে। কেসটা নেয়ার আগে প্রহর আর তার টিমকে সম্মানিত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল সকালে সম্মাননা দেওয়া হবে আর বিকেলে হবে অভিযান। থানার সকলেই এ নিয়ে খুব খুশি। তানিয়া এত বড় একটা জয়ে অংশ নিতে পেরে ভিষণ খুশি। তাই তো ট্রিট দিতে এসেছে কফিশপে। কফিশপে স্যারদের সাথে চা খেতে খেতে তানিয়া বললো,

” ইতিশা ম্যাম ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য তাইনৃ। উনি আমাদের তথ্য না দিলে আরো অনেক দিন লাগতো কেসটা হ্যান্ডেল করতে।

প্রহর সায় জানাল। বললো,

” ইতিশা ম্যাম সম্মাননা অবশ্যই পাবেন। সেসব পরে ভাবো। নতুন কেসটা নিয়ে কিছু ভেবেছো? অভিযানে যেতে হবে। ব্যবসার আসল জায়গাটা খুঁজে পেতে হবে। হাতেনাতে ধরতেই হবে।

তানিয়া বললো,

” কিন্তু রিস্ক আছে এই কেসটায়। পুরো টিমকে কিভাবে যে ধরবো। এত ঝামেলার কেস কেন আমাদেরই দেওয়া হয়?

ইহান বলে উঠল,

” এর চেয়ে বড় বড় কেস পেয়েছি তানিয়া। তোমার ভয় হলে তুমি যেও না। আমরা তোমাকে নিতেও চাইছি না। কখন কোন বিপদ হয়।

” আমি মোটেই ভিতু নই স্যার। আমি আপনাদের সাথে যাবো। পুলিশের পোশাক পড়ার পর আমি আর আপনাদের বন্ধু থাকি না। তাই এত সহানুভূতি দেখাতে হবে না। গর্বের সাথে বললো তানিয়া।

প্রহর গা এলিয়ে চেয়ারে বসল।বললো,

” অভিযান থেকে আমরা নাও ফিরতে পারি তানিয়া। ভেবে দেখো। ব্যবসাটা অনেক বড়। লোকসংখ্যা প্রচুর। আমাদের বাংলাদেশের পুলিশ গুলো শুধু নামেই পুলিশ। প্রকৃত পুলিশ সংখ্যা যেমন কম, তেমনি সাহস, পরিশ্রম ও কম। ওখানে কোথা থেকে কে এসে এট্যাক করবে আমরা ধারণাও করতে পারছি না। কালকের দিনটা আমাদের জন্য যেমন খুশির, তেমনি ভয়ঙ্কর। নিজেকে তৈরী রাখো।

চলবে?

(বিঃদ্রঃ প্রিয়তার জন্য ভয় পাবেন না। অনেক কিছুই বাকি আছে মেয়েটার জীবনে।)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ