#দ্বিতীয়_বউ
#পর্ব_৯
#আলভিয়া_সামরিন_রায়া
সময় যেন খুব অদ্ভুতভাবে সবকিছু বদলে দেয়।
আয়েশা চলে যাওয়ার পর যে বাড়িটা কিছুদিন নিস্তব্ধ হয়ে ছিল, সেখানে আবার ধীরে ধীরে নতুন আয়োজন শুরু হলো।
রায়হানের বিয়ের আয়োজন।
সাহেরা বেগম আত্মীয়স্বজনদের ফোন করে করে খবর দিচ্ছেন। ঘরে নতুন করে সাজসজ্জা হচ্ছে। রান্নাঘরে ব্যস্ততা, উঠোনে আলো লাগানো সব মিলিয়ে আবার বাড়িটা যেন কোলাহলে ভরে উঠেছে।
কিন্তু সেই কোলাহলের মাঝেও ছোট্ট রোহিনী সবসময় কেমন চুপচাপ থাকে।
সে এখনো মাঝে মাঝে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে,
— দাদু… মা কি সত্যি আর আসবে না?
সাহেরা বেগম বিরক্ত গলায় বলেন,
— এসব কথা ভুলে যা। নতুন মা আসবে, সব ঠিক হয়ে যাবে।
রোহিনী চুপ করে যায়। কিন্তু তার ছোট্ট মনটা যেন কিছুতেই মানতে চায় না।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিনটা এসে গেল।
সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়িতে অতিথিদের ভিড় বাড়তে লাগলো। আলো, গান, মানুষের কথাবার্তা সব মিলিয়ে এক ধরনের উৎসবের পরিবেশ।
মেহরিন লাল শাড়িতে সেজে বসে আছে। তার সাজগোজে আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। গায়ের রঙ ফর্সা, লম্বা গড়ন সাজে যেন অপরূপ সুন্দর লাগছে।
রায়হানও বেশ খুশি। এতদিন পর যেন আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে যাচ্ছে সে।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে বেশ রাত হয়ে গেল। রাত গভীর হলে সবাই একে একে নিজেদের ঘরে চলে গেল।
রায়হানের ঘরটা নতুন করে সাজানো হয়েছে। ফুলের গন্ধে ভরে আছে চারপাশ।
রোহিনী ছোট্ট পায়ে দৌড়ে বাবার ঘরের দিকে এল।
— বাবা… আমি তোমার সাথে ঘুমাবো।
রোহিনীর চোখে সরল আনন্দ।
কিন্তু মেহরিন তখন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। সে ভ্রু কুঁচকে রোহিনীর দিকে তাকালো।
— না, আজ তুমি এখানে ঘুমাবে না।
রোহিনী অবাক হয়ে তাকালো।
— কেন?
মেহরিন ঠান্ডা গলায় বললো,
— আজ থেকে তোমার আলাদা ঘরে ঘুমাতে হবে। বড় মেয়েরা বাবা-মায়ের সাথে ঘুমায় না।
রোহিনীর ছোট্ট মুখটা মুহূর্তেই মলিন হয়ে গেল।
সে আবার বাবার দিকে তাকালো।
— বাবা… আমি তোমার সাথে থাকবো।
রায়হান একটু অস্বস্তি নিয়ে বললো,
— না মা, আজ দাদির কাছে গিয়ে ঘুমাও। ঠিক আছে?
এই কথাটা শুনেই রোহিনীর চোখে পানি চলে এলো।
সে আর কিছু বললো না। মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে দাদির ঘরের দিকে হাঁটতে লাগলো।
ঘরে ঢুকেই সে সাহেরা বেগমকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
— দাদু… আমি বাবার সাথে থাকতে চাই…
সাহেরা বেগম প্রথমে কিছু বললেন না।শুধু রোহিনীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
কিন্তু তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো।
—
সকালবেলা…
রায়হান অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। মেহরিন তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করছে।
রায়হান একটু বিরক্ত গলায় বললো,
— মা, আমার নাশতাটা দাও তো। অফিসে যেতে হবে।
সাহেরা বেগম রান্নাঘরে ছিলেন। কথাটা শুনে তিনি কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইলেন।
তার মনে হঠাৎ করেই আয়েশার কথা ভেসে উঠলো। আয়েশা কখনো তাকে কোনো কাজ করতে দিতো না।
রায়হান কিছু বলার আগেই সব তৈরি হয়ে যেত।
নাশতা, জামাকাপড়, অফিস ব্যাগ সবকিছু।
আর সে হাসিমুখে বলতো,
— মা, আপনি বসুন। আমি করে দিচ্ছি।
সেই মেয়েটাকে তিনি কত কথা শুনিয়েছেন। কত অপমান করেছেন। ভাবতেই সাহেরা বেগমের বুকটা ভারী হয়ে উঠলো। চোখের কোণায় পানি জমে গেল।
তিনি দ্রুত চোখের পানি মুছে নাস্তা বানাতে লাগলেন।
–
হাসপাতালের কেবিনে জানালা দিয়ে সকালের আলো ঢুকছে।
আয়েশা এখন কিছুটা সুস্থ। মাথার ব্যান্ডেজ এখনো খোলা হয়নি, কিন্তু আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছে।
সেই অচেনা মানুষটা প্রতিদিনই এসে তার খোঁজ নেয়। আজও তিনি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
আজ তার পরনে হালকা ধূসর রঙের শার্ট, গাঢ় নীল প্যান্ট। হাতে একটা ঘড়ি। পোশাক-আশাকে খুব বেশি আড়ম্বর নেই, কিন্তু সবকিছুতেই একটা পরিপাটি ভাব।
চেহারা দেখে কেউ বলবে না যে এই লোকটার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। বেশ সুদর্শন। চোখ দুটো গভীর আর শান্ত।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বললেন,
— এখন কেমন লাগছে আপনার?
আয়েশা আস্তে বললো,
— আগের থেকে একটু ভালো।
লোকটা মাথা নাড়লো। তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো,
— একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?
আয়েশা তাকালো।
— আপনার বাড়ি কোথায়?
এই প্রশ্নটা শুনতেই আয়েশার মুখের রঙ বদলে গেল। তার চোখের কোণায় আবার পানি জমে উঠলো।
কয়েক মুহূর্ত পর সে হঠাৎ করেই কান্নায় ভেঙে পড়লো।
লোকটা অবাক হয়ে গেল।
— কি হয়েছে?
আয়েশা কাঁপা গলায় ধীরে ধীরে… থেমে থেমে… সব খুলে বললো।
বিয়ে হওয়া থেকে শুরু করে শ্বশুরবাড়ির অপমান, রোহিনী, ডিভোর্স সবকিছু।
সব শুনে লোকটা কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসে রইলো। তার চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।
কিছুক্ষণ পর সে ধীরে বললো,
— আপনার নিজের বাড়ি?
আয়েশা চোখ মুছে বললো,
— আছে… কিন্তু অনেক দূরে। আর সেখানে ফিরতেও ভয় লাগে। যদি আমাকে থাকতে না দেয়?
লোকটা একটু ভেবে বললো,
— আমি আপনাকে সেখানে পৌঁছে দিতে পারি।
আয়েশা দ্রুত মাথা নাড়লো।
— না… দরকার নেই। আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না।
লোকটা একটু হেসে বললো,
— কষ্ট নয়। এটা দায়িত্ব মনে করুন।
আয়েশা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর খুব আস্তে বললো,
— আপনি এতদিন আমার জন্য যা করেছেন… আমি তো আপনার নামটাই জানি না।
লোকটা মৃদু হেসে বললো,
— আমার নাম আরিফ রহমান।
— আরিফ…?
— হ্যাঁ।
আয়েশা প্রথমবারের মতো লোকটার দিকে ভালো করে তাকালো। তার মনে হলো এই মানুষটার ভেতরে যেন অনেক না বলা গল্প লুকিয়ে আছে।
আয়েশা একটু থেমে আবার বললো,
— আমি জানি আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন।
আরিফ কিছু বললো না। শুধু শান্ত চোখে আয়েশার দিকে তাকিয়ে রইলো।
আয়েশা ধীরে বললো,
— আপনাকে তো আমার টাকা ও ফেরত দিতে হবে। তাই ভাবছিলাম… যদি কোথাও একটা কাজ পেতাম, তাহলে ভালো হতো।
আরিফ ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
— এখন এসব ভাবার সময় না। আগে পুরোপুরি সুস্থ হন। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।
আয়েশা মৃদু মাথা নাড়লো।
— তবুও… আমি আর কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর বললো,
— ঠিক আছে। আপনি সুস্থ হন। আমি চেষ্টা করবো আপনার জন্য একটা কাজের ব্যবস্থা করতে।
আয়েশা একটু থেমে আরিফ রহমানকে বললো,
— আর একটা অনুরোধ করতে পারি?
আরিফ শান্ত চোখে তার দিকে তাকালেন।
— বলুন।
আয়েশা কিছুক্ষণ দ্বিধায় থাকলো। যেন কথাগুলো মুখে আনতে ভয় পাচ্ছে। তারপর খুব আস্তে বললো,
— আমি… আমার…..
চলবে……
#দ্বিতীয়_বউ
#পর্ব_১০
#আলভিয়া_সামরিন_রায়া
সকালের আলো ধীরে ধীরে উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
রান্নাঘর থেকে হাঁড়ি-পাতিলের শব্দ ভেসে আসছে। সাহেরা বেগম একা ব্যস্ত হয়ে নাস্তা তৈরি করছেন।
অন্যদিকে মেহরিন এখনো ঘুম থেকে উঠেনি।
রোহিনী চুপচাপ একটা কোণে বসে পুতুল নিয়ে খেলছে। মাঝে মাঝে সে রান্নাঘরের দিকে তাকায়।
কিছুক্ষণ পর মেহরিন ঘুম থেকে উঠে অলস ভঙ্গিতে ড্রইংরুমে এসে বসল। হাতে মোবাইল।
সাহেরা বেগম রান্নাঘর থেকে বললেন,
— মেহরিন, একটু এদিকে আসো তো।
মেহরিন বিরক্ত গলায় বললো,
— কেন?
— নাস্তাগুলো একটু গুছিয়ে দাও। আমি চা বানাচ্ছি।
মেহরিন ভ্রু কুঁচকে বললো,
— আমি এসব পারবো না।
সাহেরা বেগম অবাক হয়ে তাকালেন।
— মানে?
মেহরিন স্পষ্ট গলায় বললো,
— আমি তো চাকরি করি। অফিসে যাবো। এখন হয়তো কয়েকদিন ছুটি নিয়েছি বিয়ের জন্য। অফিস থেকে এসে আবার ঘরের কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
সাহেরা বেগমের মুখটা শক্ত হয়ে গেল।
— তাহলে ঘরের কাজ করবে কে?
— আপনি তো আছেন।
কথাটা বলেই মেহরিন আবার মোবাইলে মন দিল।
ঠিক তখনই রায়হান অফিসের জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ড্রইংরুমে এল।
— নাস্তা হয়েছে?
সাহেরা বেগম চুপচাপ প্লেটে নাস্তা সাজাতে লাগলেন।
মেহরিন তখন হালকা গলায় বললো,
— আমি কিন্তু এসব ঘরের কাজ করতে পারবো না। আগে থেকেই বলে রাখলাম।
রায়হান থেমে গেল।
— কী বলছো তুমি?
মেহরিন নির্লিপ্ত গলায় বললো,
— আমি সারাদিন অফিস করবো, তারপর এসে আবার রান্না-বান্না করবো? এটা আমার দ্বারা হবে না।
রায়হানের মুখে বিরক্তি ফুটে উঠলো।
ঠিক তখনই রোহিনী ধীরে ধীরে বাবার কাছে এসে দাঁড়ালো।
— বাবা…
রায়হান বিরক্ত হয়ে বললো,
— এখন কী?
রোহিনী একটু ভয় পেয়েই বললো,
— আমি তোমার সাথে যাবো…
মেহরিন সঙ্গে সঙ্গে বললো,
— এসব বাচ্চাদের আদর দিতে দিতে মাথায় উঠিয়ে ফেলেছো।
রোহিনী চুপ করে গেল। তার চোখে আবার পানি জমে উঠলো।
রায়হানও বিরক্ত হয়ে বললো,
— যাও, দাদির কাছে যাও। আমাকে এখন বিরক্ত করো না।
রোহিনী আর কিছু বললো না। ধীরে ধীরে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
সাহেরা বেগম সব দেখেও কিছু বললেন না। কিন্তু তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। রায়হান নাস্তা শেষ করে বের হয়ে গেল।
গাড়িতে উঠতেই হঠাৎ তার মনে অদ্ভুত একটা শূন্যতা অনুভব হলো।
এই একই সকালগুলোতে আগে কী হতো? আয়েশা দৌড়ে দৌড়ে সব সামলাতো।নাস্তা তৈরি, জামা ইস্ত্রি, ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া সবকিছু।
আর হাসিমুখে বলতো,
— একটু সাবধানে যাবেন।
রায়হান হঠাৎ করে অস্বস্তি অনুভব করলো। চোখ-মুখ শক্ত হয়ে এলো।
মনের ভেতর একটা প্রশ্ন হঠাৎ করেই ভেসে উঠলো,
সে কি ভুল করেছে?
কিন্তু পরের মুহূর্তেই সে মাথা ঝাঁকিয়ে ভাবনাটা সরিয়ে দিল।
—
হাসপাতালের কেবিনে তখন বিকেলের আলো ঢুকছে।
ডাক্তার এসে জানিয়ে গেছে,
আয়েশাকে আজই রিলিজ দেওয়া হবে।
এই খবর শুনে আয়েশা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলো। তার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
নিজের বাড়িতে যাওয়ার কথা ভাবতেই বুকের ভেতর ভয় জমে ওঠে।
ঠিক তখনই আরিফ কেবিনে ঢুকলো।
— আজ আপনাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
আয়েশা আস্তে বললো,
— হ্যাঁ…
— তাহলে এখন কোথায় যাবেন?
আয়েশা একটু চুপ করে থেকে বললো,
— কোথাও একটা থাকবো। ছোটখাটো একটা বাসা ভাড়া নেবো।
আরিফ অবাক হয়ে বললো,
— এই অবস্থায় একা থাকবেন?
— আমি কারও বোঝা হতে চাই না।
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
তারপর বললো,
— চাইলে আপাতত আমার বাসায় থাকতে পারেন।
আয়েশা দ্রুত মাথা নাড়লো।
— না… এটা ঠিক হবে না।
— কেন?
— মানুষ কী বলবে?
আরিফ শান্ত গলায় বললো,
— মানুষ সব সময় কিছু না কিছু বলবেই। সেগুলো চিন্তা করলে জীবনে এগিয়ে গিয়ে ও পিছিয়ে যাবেন।
আয়েশা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
শেষ পর্যন্ত ধীরে ধীরে বললো,
— ঠিক আছে… কয়েকদিনের জন্য যাবো।তারপর কিছু একটা কাজ পেলে চলে আসবো।
আরিফ কিছু বললো না। স্থির চোখে আয়েশার দিকে তাকিয়ে রইল।
—
আরিফের বাসায় পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো।
শহরের একটু নিরিবিলি জায়গায় পুরোনো ধাঁচের বড় একটা বাড়ি।
গেট খুলতেই এক বৃদ্ধা মহিলা এগিয়ে এলেন।
— বাবু, আপনি এসেছেন?
আরিফ মাথা নাড়লো।
— হ্যাঁ খালা।
বৃদ্ধা মহিলার নাম হালিমা। তিনি বহু বছর ধরে এই বাড়িতে কাজ করেন। বাড়িটা অদ্ভুত রকম শান্ত।
চারদিকে বড় বড় ঘর, কিন্তু মানুষ বলতে শুধু আরিফ আর এই বৃদ্ধা মহিলা।
রাতে খাওয়ার পর আয়েশা বারান্দায় বসে ছিল।
তার মনে বারবার একটা প্রশ্ন ঘুরছিল।
সে হালিমা খালাকে জিজ্ঞেস করলো,
— এই বাড়িতে আর কেউ থাকে না?
হালিমা একটু হেসে বললেন,
— না মা।
— আরিফ সাহেবের পরিবার?
বৃদ্ধা মহিলাটা একটু থেমে বললেন,
— উনি তো এখনো বিয়ে করেননি।
আয়েশা অবাক হয়ে গেল।
— কেন?
আয়েশা আবার জিজ্ঞেস করলো,
—উনার বাবা-মা?
হালিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— কয়েক বছর আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকে উনি আর বিয়ের কথা ভাবেন না।
ঠিক তখনই পেছন থেকে আরিফের গলা শোনা গেল,
— খালা…
দুজনেই চমকে তাকালো।
আরিফ দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ দুটো অদ্ভুতভাবে গম্ভীর।
সে ধীরে বললো,
— অত পুরোনো কথা বলার দরকার নেই।
হালিমা চুপ করে গেলেন।
আয়েশার মনে কৌতূহল আরও বেড়ে গেল।
ঠিক তখনই হালিমা খালা খুব আস্তে একটা কথা বললেন—
— মা… একটা কথা বলি?
— বলুন।
বৃদ্ধা মহিলা নিচু গলায় বললেন……
চলবে……
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
