Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_৫

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_৫
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

রান্নাঘর থেকে পানি নিয়ে আসে মিনু । ইরফান তখনও দাঁড়িয়ে আছে সেখানে । মিনু গরম পানি রেখে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায় ।

– ভাই আপনে যান ফ্রেশ হইয়া নেন , আমি ভাবীর গা ডা মুইছা দিয়া খাবার দিমু নে ।
– ওর কি বেশি খারাপ লাগে ? তাহলে ডক্টর খবর দেই ।
– নাহ থাউক , ডাক্তারে জিগাইলে কি কইবেন আপনে ? যে বউরে ফিডাইছেন । মানুষ জানাইয়া কি লাভ ভাই । আমিই ভাবীরে মালিশ কইরা দিমু নে । আপনে যান এইখান থাইকা ।

মিনু দরজা বন্ধ করে দেয় । ইরফান মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে । নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতেই বেলীর রুম থেকে আর্তনাদ ভেসে আসে ।

– ও মাগো ,,,,,,
– ভাবী বেশি ব্যাথা করে ?
– মিনু ডইলো না , আর পানি দিও না জ্বলে ।
– ভাবী রক্ত গুলি মুইছা দেই ।
– ও মাগো,,,,,,,, মিনু আস্তে ,
– আইচ্ছা ভাবী ।
– আহহহ , ও মাগো,,,,,,
– ভাবী এত মাইর কেমনে সহ্য করেন আপনে , ব্যাথা ফাওয়ার ফরেও এমনে খিট্টা থাহেন কেমনে আপনে ?

ইরফান আর দাঁড়ায় নি সেইখানে । সোজা রুমে চলে আসে । এসে কিছুক্ষণ পায়চারি করে , আর তারপর কি যেন ভেবে দেয়ালের মধ্যে জোরে নিজের হাত দিয়ে একটা ঘুষি মারে ইরফান । এতটা নির্দয় সে কবে থেকে হয়েছে তাও শুধু বেলীর সাথে , কেন ? কিছুক্ষণ পর ওয়াসরুমে যায় ইরফান । শার্টের বোতাম গুলো খুলে শার্টটা খুলতে যাবে ওমনি শার্টে লেগে থাকা ছোট একটা জিনিসে নজর যায় ইরফানের । ছোট আর চিকুন একটা কানের বাউচি । বাউচিটা হাতে নেয় ইরফান । কিছুক্ষণ ভাবার মনে পড়ে তার বেলীর কানে সেইদিন এমন দুল দেখেছিল সে । বেলী যখন রাতে পানি খেতে আসছিল । তার মানে আজকে মারার সময় হাত পা ছুড়তে গিয়ে বাউচির হুক খুলে গিয়ে তার শার্টের মধ্যে আটকে যায়
। ভাবতেই চোখ বন্ধ করে নেয় ইরফান , এতটাই নির্দয়ের মত মেরেছে সে বেলীকে , কে জানে কানের কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা ।
শাওয়ার নিয়ে রুমে আসে ইরফান । ক্ষুধাও লাগছে ভিষণ তার । কিন্তু বেলী কি খাবার দিবে টেবিলে ? তার কিছুক্ষণ পরই মিনু এসে ডাক দেয় ,

– ভাই আছেন নি ?
– হ্যাঁ মিনু আয় ,
– ভাই খাবার দিছি , আসেন
– যা আসছি

মোবাইলটা চার্জে দিয়ে ইরফান খেতে যায় । টেবিলে সব খাবার সাজানো কিন্তু তবুও কেন জানি ইরফানের ভালো লাগছে না । মিনু টেবিলটা সাজিয়েছে ঠিকই কিন্তু বেলীর মত না ।

– মিনু ,
– জ্বে ,
– ভাতের বোল টা এইদিকে দে ,
– নেন ভাই ,
– জুঠা ফালানোর প্লেট কই ?
– দেই নাই ?
– কই আর দিলি ,
– আনতাছি

মিনুকে বলে বলে সব করায় ইরফান । এক প্রকার বিরক্ত হয়ে গেছে সে । এইভাবে বলে বলে করানো যায় নাকি ? বেলী হলে সব করে রাখতো । মনে মনে ভাবছে আর খাচ্ছে ইরফান ।

– তোরা খাবি না ,
– ভাবী ঘুমাইয়া গেছে আমি আর খামু না ।
– ওহ ,

ইরফান কয়েক লোকমা খেয়ে খাবার টেবিল থেকে উঠে যায় । অন্যান্য দিন তৃপ্তি নিয়ে খায় সে কিন্তু আজ তার খাবার মনে হয়েছে গলা দিয়েই নামছে না । তাই দ্রুতই উঠে যায় সে । মিনু সব গুছিয়ে নিয়ে বেলীর রুমে চলে যায় ।
রাত প্রায় ৪ টার বেশি বাজে , ইরফানের চোখে ঘুম নেই । বার বার বেলীর মুখটা ভেসে আসছে তার চোখের সামনে কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো রুবি যে চলে গেছে তাতে তার কোন মাথা ব্যাথাই ছিল না । সে এপাশ ওপাশ করছে কিন্তু তার ঘুম আসছে না । টেবিলের উপরে থাকা বেলীর কানের ছোট দুলটা নজরে যায় তার । দুলটার দিকে তাকিয়ে আছে সে পলকহীন চোখে । কিছুই বুঝতে পারছে না সে , কেন এতটা অত্যাচার করে সে বেলীর উপরে । আর বেলীই বা কেন মা’র খেয়েও পড়ে আছে তার কাছে । চারদিকে আজানের শব্দ শুনা যাচ্ছিলো তখন । ইরফান বুঝে যায় পুরো একটা নির্ঘুম রাত পার করলো সে । ফজর নামাজের আজান পড়ে গেছে , নিশ্চয়ই বেলী এখন উঠবে । কারণ এর আগেও একদিন সে দেখছে বেলী ফজর নামাজ আদায় করার কোরআন শরীফ পড়ে । ইরফান বিছানা থেকে নেমে স্যান্ডেল জোড়া পরে নিয়ে রুম থেকে বাহিরে যায় ।
বেলীর রুমের দরজা খোলা । অন্যান্য দিন তো দরজা আটকানো থাকে আজ খোলা কেন , আর আজ বেলী উঠে নাই ? প্রশ্ন গুলো কৌতুহল জাগায় ইরফানের মনে । পরে ভাবে এই কাজ মিনুর । মিনু অনেক ভুলভাল কাজ করে থাকে , হয়তো দরজা দিতে ভুলে গেছে মেয়েটা । ইরফান বেলীর রুমের দরজার সামনে আসে , নিচে মিনু কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে আর খাটের উপরে বেলী এপাশ ফিরে গালে হাত দিয়ে ঘুমাচ্ছে । ড্রীম লাইটের আলোতে সব কিছুই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে । প্রায় ৫ টা বাজে আজ বেলী উঠে নাই কেন নামাজ পড়তে ? প্রশ্নটা বার বার মনে খচ খচ করছিলো ইরফানের । আগের বারও তো মা’র খেয়েও নামাজ পড়তো তাহলে আজ কেন পড়লো না । ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে যায় ইরফান । চুপ করে শুয়ে শুয়ে বেলী কেন নামাজ পড়তে উঠলো ন সেই কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ লেগে গেছে বলতেই পারেনি ইরফান ।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয় ইরফান । অফিসে তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে হবে তাকে । প্রজেক্ট নিয়ে সারাক্ষণই ব্যস্ত সে । তার উপর , উপরমহল থেকেও অনেক চাপ আসছে তার । কিন্তু নাস্তা কি পাবে সে ? বেলী যদি নাস্তা না দেয় ? এইসব ভাবতে ভাবতে ডাইনিং টেবিলের কাছে যায় সে । অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে টেবিলের দিকে ইরফান । আগের মত করে সব সাজানো আছে টেবিলে , ঠিক যেমন বেলী সাজায় তেমনটাই আছে । রান্নাঘরের দিকে হাক্লা উঁকি দেয় সে , দেখে সেখানে মিনু আর বেলী দাঁড়িয়ে আছে । সেই আগের মত মাথায় ওড়নাটা দুই পেচ করে পরা । পরোটা , ডিম ভাজি , গাজর আর আলুর মিক্সড ভাজি , জুস সহ সব কিছু দেয়া আছে টেবিলে । ইরফান মোবাইলটার ঘড় দেখে টেবিলে বসে পড়ে । মিনুর হাত দিয়ে চা পাঠিয়ে দেয় বেলী তবুও নিজে সামনে যায়নি ।

– ভাই আপনের চা ।
– রাখ ,

মিনু দিয়ে চলে আসে । ইরফান আরও একবার রান্নাঘরের দিকে তাকায় । দেখে বেলী ওইদিকে মুখ করে রান্না করতেছে । ইরফান আর কিছু না বলেই খেয়ে চলে যায় । ইরফান চলে গেলে বেলীও সব কাজ শেষ করে বিছানায় এসে শুয়ে যায় ।
অন্যদিকে , অফিসে বসের কাছে ইচ্ছামত ঝাড়ি খেয়েছে ইরফান । হাউজ বিল্ডিংয়ের প্রজেক্টটা অনেক জরুরী । আর এর সাথে জড়িয়ে আছে ইরফানের প্রমোশন । বাসায় এত সমস্যার কারণে বেচারা কাজ ঠিক মত করতে পারেনি বলে বস ঝেড়েছে । বসের কেবিন থেকে এসে নিজের কেবিনে বসে পড়ে ইরফান । এমন সময় হঠাৎ আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসে । ইরফান ফোন রিসিভ করার পর একজন ভদ্রমহিলার কন্ঠস্বর শুনা যায় ।

– হেলো ,,,,,,
– হ্যালো কে বলছেন ?
– বাজান আমি , বেলীর মায় কইতাছিলাম ।

এই সময়ে বেলীর মাকে একদম আশা করেনি সে । কিন্তু এই সময়ে হঠাৎ বেলীর মায়ের ফোন । তবুও কথা বলে ইরফান ।

– জ্বি বলুন ,
– কেমন আছো বাজান ?
– জ্বি ভালো , আপনি ?
– ভালা আছি , বাজান বেলীফুলে কই , একটু কতা কইতাম ।
– আমি তো অফিসে , ও বাসায় ।
– আসলে কাইলকা দুফুরে মাইয়াডায় একটা নাম্বারের তন ফোন দিছিলো , জিগাইলাম কার মোবাইল কইলো দোহানের মোবাইল । বাজান ওরে একটা মোবাইল দিতা , আমার লগে একটু কতা কইতো । মন ডা আনচান আনচান করে মাইয়াডারে কত দিন হইছে দেহি না ।

বেলীর মায়ের এমন কথায় হতভম্ব হয়ে যায় ইরফান ।।

– তার মানে কাল দুপুরে বেলী তার মায়ের সাথেও কথা বলেছিল । আর আমি রুবির কথায় এইভাবে বেলীকে………. [ মনে মনে ]

– হেলো বাজান ,
– জ্বি বলুন , নাম্বার পেলেন কোথায় আমার ?
– তোমার আব্বার কাছ থেকে নিছিলাম ।
– আচ্ছা আমি বাসায় গিয়ে বেলীর মাখে কথা বলিয়ে দিবো আপনাকে ।
– আইচ্ছা বাজান আইচ্ছা , তাইলে রাহি এহন ?
– জ্বি ভালো থাকুন ।
– তোমরাও ভালা থাহো ।

এইবলে ইরফান লাইনটা কেটে দেয় । অফিসের কাজে মন দেয় । অন্যদিকে একা ঘরে বেলী কঁকিয়ে মরছে । ব্যাথায় আর যন্ত্রণার চোটে কাঁদছে মেয়েটা । বাসাতে একটা মোবাইলও নেই যে ইরফানকে ফোন দিবে মিনু ।
রাত ৮ টার পর ইরফান বাসায় আসে । মিনু দরজা খুলে দেয় । ইরফান মিনুর মুখের দিকে তাকায় , মিনু মুখটা গম্ভীর করে আছে । তাই নিজ থেকেই প্রশ্ন করে ,

– মিনু বেলী কোথায় ?
– শুইয়া আছে , আপনে ফেরেস হোন ভাই , কফি আনতাছি । আর আইজ্জা আমি বানামু , খারাপ অইলে বইকেন না ।

এইটা বলে মিনু রান্নাঘরে চলে যায় । ইরফান দরজা লাগিয়ে বেলীর রুমের দিকে যায় । খাটের মধ্যে উপুর হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা । এক পায়ের সেলোয়ার উপরে উঠা , গায়ে ওড়না নেই । ইরফান যখন অফিস থেকে বাসায় আসে ওই সময় বেলী নামাজে থাকে । ইরফান প্রায় সময়ই দেখেছে কিন্তু আজ বেলী নামাজও পড়ছে না এইভাবে শুয়ে আছে , কারণ টা উপলব্ধি করে পারেনি ইরফান ।
নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নেয় ইরফান । এর মাঝে আজ সারাদিনেও রুবির খবর নেয় নি সে । আর রুবিও নেয় নি ।
কফি নিয়ে রুমে আসে মিনু ।

– ভাই আপনের কফি ,
– দে ,
– ভাই এইডা ভাবী আপনেরে দিতে কইছে ।
– আর কইছে আজকেই লাগবো , আপনেরে আরও আগেই কইতো কিন্তু মোবাইল নাই কি দিয়া কইবো ।
– কিসের কাগজ এটা ?
– আমি জানি না ভাই , আপনে আইনা ভাবীরে দিয়া আইসেন ।
– আচ্ছা যা তুই ।

মিনু গেলে ইরফান কাগজের ভাজটা খুলে । ভাজে একটা জিনিসের নাম উল্লেখ ছিল , আর এক পাতা ‘এলজিন’ ট্যাবলেটের নাম লিখা ছিল । ইরফান এখন বুঝেছে বেলীর নামাজ না পড়ার কারণ । বেলীর মা গ্রাম্য হলে কি হবে মেয়েকে সব ধরনের ভালো জিনিস দেয়ার চেষ্টা করেছেন সব সময় । বেলীর হাতের লিখায় মুগ্ধ ইরফান । হাতের লিখাটা অনেক সুন্দর ছিল । ইরফান আর দেরী করেনি সোজা নিচে নেমে হাটা শুরু করে । মোড়ের মাথার সামনে ফার্মেসি আছে সেখানেই যায় ইরফান । প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনে সাথে একটা হট ওয়াটার ব্যাগও কিনে নেয় । যত তাড়াতাড়ি হাটা যায় হেটে বাসায় পৌঁছায় ইরফান । মিনু তখন নাটক দেখে টিভিতে । ইরফান সোজা বেলীর রুমে ঢুকে যায় । বেলী তখন ওপাশ ফিরে আছে । কয়েকবার ডাকে বেলীকে ইরফান । সাড়া দেয়নি বেলী , হয়তো লজ্জায় তাকাতে পারেনি । ইরফান ততটাও বোকা নয় বুঝে যায় সবটা সে । তাই নিজে নিজেই বলা শুরু করে ।

– এখানে ওইটার থেকেও ভালোটা আছে । আর এলজিন তিন পাতা আছে দিন দুইটা করে খেলেই হবে । হটব্যাগটা দিয়ে ছ্যাক দিলে ব্যাথা কমে যাবে হয়তো । আর আজ রাতে খাওয়া দাওয়া করবো না আমি , কিছু বাড়তে হবে না আমার জন্যে ।

এইটা বলে ইরফান রুম থেকে বেরিয়ে যায় । ইরফান বের হলে বেলী তাড়াতাড়ি উঠে ওয়াসরুমে যায় । ইরফান রুমে এসে একটা কথাই ভাবতে থাকে , বেলী এতটা চাপা স্বভাবের কেন ? হয়তো ওর মাঝে এমন কিছু দেখেছিল তার বাবা দেখেছিলেন যার জন্যে বেলীকে তার সাথে বেঁধে দিয়েছে ।
কিন্তু ঝোকের বসে কিছু ভুল পদক্ষেপও অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।

অনেক রাতে টিভির আওয়াজে রুম থেকে বের হয় ইরফান । ইরফান তখন ল্যাপটপে কাজ করছিল । ড্রইং রুমে টিভি চলতেছে । মিনু সেখাই সোফার মধ্যে টিভি চালিয়ে ঘুমিয়ে গেছে । রুবি না থাকলে মিনু এ বাড়িতে ভালোই স্বাধীনভাবে চলতে পারে । ইচ্ছামত টিভি দেখা আর যা মন চায় খেতে পারে । বেলী কিছুই বলে না আর না বলে ইরফান । টিভি অফ করে সামনে পা বাড়াতেই দেখে বেলীর রুম থেকে আওয়াজ আসতেছে । ইরফান একটু এগিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে বেলী নিচে বসে উপুর হয়ে আছে । দুই হাত দিয়ে পেটে চাপ দিয়ে ধরে কাঁদছে বেলী । ব্যাথাটা হয়তো অনেক বেড়ে গেছে । আজ মিনুও ড্রইং রুমে ঘুমাচ্ছে । যন্ত্রনার চোটে নিচে এসে পড়ে আছে মেয়েটা । ইরফান প্রথমে দেখে ভয় পেয়ে যায় । ওই মুহুর্তে ইরফান কি করবে না করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না সে । ধীর পায়ে এগিয়ে যায় সে বেলীর দিকে । বেলী তখনও ফ্লোরে মুখ গুজে আছে আর ব্যাথার চোটে কাঁদছে । ইরফান বেলীর পিঠে হাত রাখার পর পরই বেলী ফ্লোরে মুখ গুজেই বলা শুরু করে ,

– মিনু আমাকে ধরো , আমার আর সহ্য হচ্ছে না । আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মিনু । অনেক ব্যাথা করছে ।

কথাটা ইরফানের বুকে গিয়ে লাগে । বেলী ভেবেছে হয়তো তার কান্নার শব্দ শুনে মিনু উঠে আসছে । বেলী কেঁদেই যাচ্ছে তল পেটে হাত দিয়ে । পরক্ষনেই ইরফানের মনে পড়ে যায় কাল রাতে মাইরের সময় এলোপাথাড়ি লাথি দিয়েছিল , লাথি গুলো পেটে পড়ে নাই তো আবার । ইরফান আর দিক বিক না ভেবে বেলীকে কোলে তুলে নেয় । এইভাবে হঠাৎ কারো কোলে চড়ে বেয়াক্কেল হয়ে যায় বেলী । ইরফানের দিকে তাকিয়ে আছে বেলী । ইরফানও বেলীর দিকে তাকিয়ে আছে । চোখ মুখ ফুলে একাকার বেলীর । বিছানায় শোয়ানোর পরেও বেলী চাপা স্বরে ‘ ও মাগো ‘ বলে পেটে চেপে ধরে । ইরফান বেলীর কাধে হাত দিয়ে ,

– একটু সহ্য করো , আমি আসতেছি ।

ব্যাথার ঘোরেও ইরফানের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা ‘ তুমি ‘ শব্দটা বেলীর কানে জোরেই গিয়ে লাগে । তখনও বেলীর চোখ বেয়ে পানি পড়ছে । কিছুক্ষন পর , ইরফান হট ওয়াটার ব্যাগে করে গরম পানি আনে । এনে বেলীর তল পেটে দিতে চায় । কিন্তু বেলী হাত সরায় নি । তাই ইরফানই জোর করে হাত সরিয়ে নিয়ে গরম পানির ছ্যাক দিয়ে দিচ্ছে । প্রায় অনেক্ষণ যাবত ছ্যাক দিয়ে দেয়ার পর ব্যাথাটা অনেকটাই দমে যায় বেলীর । তবে নিরবে কাঁদছে সে । এই প্রথম ইরফান তার একটু হলেও সেবা করেছে ।

– ব্যাথা কমছে ?
– …………
– কি হলো ব্যাথা কমে নাই ?
– কমছে ,
– ট্যাবলেট খাবা ?
– তুই টাই ঠিক আছে , অভ্যাস হয়ে গেছে শুনতে শুনতে ।

ইরফান এই কথাটা শুনে উঠে যাওয়া নেয় , তখনই বেলী কিছু বলে ,

– শুনেন ,,,,,,,?
– হু ,
– আমি যদি মরে যাই , আপনি কি খুব ভালো থাকবেন ?
-…………
– বলেন না , আমি যদি মরে যাই আপনি ভালো থাকবেন তো ? বিশ্বাস করেন এত মা’র আর নিতে পারি না । আর পারি না নিতে । তার থেকে বরং মেরেই ফেলেন । আমি মরে গেলে আমার লাশটা আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েন । বিশ্বাস করেন আমার পুরো শরীরটা ব্যাথা হয়ে গেছে । আর পারি না ব্যাথা সহ্য করতে ।

ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে কথা গুলো এক নাগারে বলে দেয় বেলী । আর ইরফানের চোখ থেকে কেন জানি হঠাৎ করেই দুই দন্ড পানি বেয়ে পড়ে যায় ।
ইরফান আর এক মুহুর্তও দাঁড়ায়নি সেখানে । সোজা বেরিয়ে নিজের রুমে চলে যায় । আর বেলী তখন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায় ।

[ বিঃদ্রঃ আজকের ব্যাথাটা কেন ছিল সেটা হয়তো সবাই উপলব্ধি করতে পেরেছেন বিশেষ করে মেয়েরা । মান্থলি অসুস্থতার সাথে প্রত্যেক মাসে সবাই লড়াই করে আসছি আমরা । এই অসুস্থতায় যার ব্যাথা হয় সেই আসলে বুঝে ব্যাথা কি জিনিস । এতটাই ব্যাথা অনুভব হয় যে এক এক সময় মনে হয় যেন নিজের শরীরের মাংস নিজে কামড়ে নেয় । এই যন্ত্রণাটা এতটাই কষ্টের হয় যে পুরো শরীরটাকে কুচকে দেয় । নারীজাতিকে আল্লাহ পাক এমন যন্ত্রণা দিয়েই তৈরি করেছেন যাতে নারী জাতির জন্যে পুরুষদের মনে একটু হলেও সম্মান আসে । কিন্তু আমাদের সমাজে এমন অনেক পুরুষ আছেন যারা নারীদের সম্মান কি করবে তাদের সম্মান নিতেই ব্যস্ত যার বাস্তব উদাহরণ গুলো প্রায় প্রতিদিনই আমরা টিভির হেডলাইনে দেখে থাকি । আবার কিছু কিছু পুরুষ আছেন যারা নিজেদের থেকেও নারীজাতিকে সব সময় সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে যাচ্ছেন । যেমন এক পুরুষ এস এস সি পাশ করেও বউকে মাস্টার্স অবদি পড়িয়েছেন এখন সেই বউ সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষিকা । দুটি সন্তান নিয়ে সুখের সংসার তাদের । আবার কিছু কিছু পুরুষ আছেন যারা ইরফানের মতও হয়ে থাকেন যারা বউ পিটিয়ে আবার সেই বউয়ের সেবা করতেও দ্বিধা করেন না । এই কথা গুলোর অর্থ হচ্ছে আমাদের সমাজে সব ধরনের নারী এবং পুরুষ আছেন । ভালো খারাপ উভয় মিলেই তো জীবন । তাই না ? আমার কথা গুলো হয়তো কিছু কিছু ভাইয়াদের মনে কষ্ট দিবে । তার জন্যে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত । কিন্তু কষ্টের হলেও এটাই সত্যি । ]

.
.

চলবে…………….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ