Friday, June 5, 2026







“জ্যোৎস্নার ছল”পর্ব ৮.

“জ্যোৎস্নার ছল”পর্ব ৮.

সপ্তাহ খানেক পর বাবার রাগ শীতল হয়েছে। অবশ্য তাতে আমার তেমন কিছু যায় আসে না। আমাদের মাঝে এমনিতেই খুব কম কথা হয়। এদিকে আমি আগের চেয়ে জোরালোভাবে পড়াশোনা করতে শুরু করেছি। এই বছর যথেষ্ট হেয়ালিপনা করেছি। বেশিরভাগ সময় রঙধনুর হেডকোয়ার্টারে কাটানো, এরপর সাদিকের আমার জীবনে আসা। এসব মিলিয়ে আমি পাঠ্যবই কি গল্পের বইকে সময় খুব কম দিয়েছি।
আমি আবার কখনও একাকীত্ব বোধ করিনি। জীবনে যেন না চাইতে মন জোড়ানো বৃষ্টি এসেছে। নইলে কখনও আশা করিনি আমার এই বিরক্তিকর জীবনে আনন্দ আসতে পারে। যদিও আমার আর্থিক চাহিদার দিক থেকে বাবা কোনোদিকে কমতি রাখছেন না, তবু আমার জীবনটা ছিল খুবই একরোখা। এখন মনে হয়, জীবনে কতকিছুই না দেখার আছে, শেখার আছে।
কলেজে যেতে হবে। কাল যাওয়া হয়নি। কলেজের জন্য তো এসেছিলাম। কিন্তু সকালে আরসিতে গিয়ে মত পাল্টে গেছে। সাদিক বলল, ‘চল তোমাকে একটি জায়গায় নিয়ে যাব।’
‘কোথায়?’
‘আমার বাসা দেখাব তোমাকে, যদিও ভেতরে নিতে পারব না। আজ তোমাকে নিয়ে সারাদিন ঘুরব।’
‘তোমার আজ কী হয়েছে বলো তো? আমার সামনে পরীক্ষা।’
‘পড়ার যথেষ্ট সময় থাকবে। একটু আনন্দ না করলেও কিন্তু পড়াশোনায় মন বসতে চায় না। একঘেয়েমি আসে। বলো তুমি পরীক্ষায় কি ভালো রেজাল্ট করতে চাও?’
আমি হেসে মাথা নাড়লাম। পাগল একটা! পরক্ষণে আমি তার ভোলা চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে বললাম, তুমি বুঝানোর ক্ষেত্রে এতো দক্ষ কেন বলো তো?
‘কী জানি! কেউ হয়তোবা কথা বলায় দক্ষ, কেউ কথা শোনায়, আর আমি কথা বুঝানোয়। মানুষে মানুষে ট্যালেন্টের কমতি নেই। বোকাও ট্যালেন্টেড হয়ে থাকে। নইলে বোকামো কিন্তু জ্ঞানী লোকেরাও করতে পারে না। হা হা হা।’
আমিও ওর সাথে হাসলাম। এরপর আমরা তার বাসার সামনে গিয়েছি। দেখেছি তার কলেজও। দিনটি কী অসাধারণই না ছিল!
পরদিন কলেজে গিয়ে শুরুতেই দেখতে পেলাম, সেই পরিচিত মেয়েটিকে, যে হাসলে গালের দু’পাশে টোল পড়ে। তার নাম নীলিমা, আমার রক্তের সম্পর্কের বোন। সে পাশ দিয়ে চলে গেল। আমি কিছু বললাম না। একবছর যাবৎ তাকে দেখছি, কিছু বলছি না। প্রথম বর্ষে পড়ে সে। আমি তো কয়দিন পর চলে যাব। তার আর আমাকে দেখতে হবে না। তবে তার অদ্ভুত চাহনিকে আমি মিস করব। মাঝে মাঝে সে এমনভাবে আমার দিকে তাকায়, যেন সে আমাকে নতুন করে আবিষ্কার করছে। এইবারও সে ঠিক ওইভাবে তাকিয়েছিল।
আমি তার চলে যাওয়ার দিকে চেয়ে রয়েছি। পাশে এসে কবে স্বপ্না দাঁড়াল বুঝতে দেরি হয়নি। নীলিমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বললাম, ‘মাঝে মাঝে সে আমার দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে কী দেখে আমি বুঝি না।’
‘আমার লাগছে আমি কারণটা জানি।’
তার দিকে আমি ভ্রূ কুঁচকিয়ে তাকালাম।
‘তুই খেয়াল করেছিস কিনা জানি না, তোর চোখগুলো অবিকল তোর মায়ের মতো হয়ে গেছে, যেটা না পাওয়ার জন্য তোর মা তোকে ইগনোর করত, যেটা নীলিমা পায়নি।’
আমি তার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। কিন্তু কিছু বললাম না। অনেক সময় নীরবতাই অনেককিছু বলে দেয়।
আমার আচমকা খুব করে ওই টানাটানা চোখধারী মায়ের কথা মনে পড়ছে। তিনি কেমন আছেন খুব করে জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। বাবাকে দেখা না দেওয়ার জেদ কী তাঁর এতোই বেশি হয়ে গেল যে, আমার আর ভাইয়ার কথা তাঁর মনে পড়ে না?
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

আমার খুব করে তাঁকে জানাতে ইচ্ছে হয় আমরা দেখতে বাবার মতো হলেও পুরোপুরি তাঁর মতো নই। আমরা বাবার মতো যান্ত্রিক মনের নই। ভাইয়ার সম্বন্ধে অবশ্য জানি না, আমার কিন্তু ফিলিংস আছে। ভাইয়াকে রেখে যাওয়াতে অবশ্য সে কিছু মনে করে না। কিন্তু আমি তো সাদা-কালো উভয়ের সংমিশ্রণে তৈরি। পুরোপুরি নীলিমার মতো না হলেও ভাইয়ার মতো তো নই। তবে কেন বাবার কাছে রেখে গেলেন? আমি এসব কথা উপলব্ধি করে বলার জন্য যথেষ্ট ম্যাচিউর হওয়ার আগে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।
আমার চৌদ্দ বছর বয়সে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। বাবার কাছে মা যথেষ্ট না হওয়ায় তিনি অন্যদিকে আরেক সুন্দর মহিলার সাথে সম্পর্ক রাখতে শুরু করেছিলেন। মা জানতে পারায় সে কি তুমুল ঝগড়া! ভাইয়া কিছু করছিল না। দাঁড়িয়ে বাবার মা’কে চড় দেওয়া দেখছিল। নীলিমা বলছিল, মা, তুমি বাবাকে কিছু করছ না কেন? তিনি দোষ করেও তোমাকে মারতে পারলে তুমিও তাঁকে মারতে পারো।
আমি এসবে ছিলাম না। আমি গিয়ে দু’জনকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। ফলসরূপ বাবা রেগে গিয়ে আমাকেও চড় দিলেন। এরপর তিনি সোজা মায়ের ঘরে গিয়ে তাঁর শাড়ি একটি একটি করে পুড়লেন।
মায়ের বইয়ের শেলফ আমাদের মেয়েদের ঘরে থাকায় তা সেদিন বাবার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। নইলে সেদিন তিনি কাপড় শেষে মায়ের প্রতিটি প্রিয় জিনিস পুড়িয়ে ছারখার করেছিলেন। মা তা করতেও দিলেন। আমরা কেবল ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছিলাম।
তালাকের সময় মা তাঁকে বললেন, তোমার সন্তানগুলোকে তুমি রাখ। আমি নীলিমাকে নিয়ে চলে যাচ্ছি। এরপর বাবা ছোট মা’কে নিয়ে এলেন, যাকে তিনি পছন্দ করতেন, যার কারণে এসব কিছু হয়েছিল। মহিলার অবশ্য একটি ভালো দিক হলো, তিনি রীতিমতো সুন্দরি হলেও তার তাতে অহংকার নেই। রূপকে হয়তো স্বাভাবিক ভাবে নেন। আর গরীব পরিবারের হওয়ায় তাঁকে বিয়ে করার জন্য তিনি হয়তো সারাজীবন বাবার কাছে ঋণী থাকবেন। এইজন্যই হয়তো বাবার এই সম্পর্ক টিকে যাবে।
পরক্ষণে নিজেকে বললাম, আমার কারও প্রয়োজন নেই। নিজেকে একা চালিয়ে নিয়ে দেখাতে পারব। না আমি বাবার মতো হতে চাই, না মায়ের মতো। আমি হব আমার মতো। আমি হব অনন্যা।
স্বপ্নার কথায় কল্পনায় ছেদ পড়ল। সে আমাকে ক্লাস করতে নিয়ে গেল। সারাটি দিন ক্লাসে মন বসেনি। মন ভালো করার জন্য এইবার স্বপ্নার বাসায় গেলাম না। তার ভাইয়ার একাধিক প্রশ্ন, তার মায়ের শতাধিক আবদার, এটা খাও, ওটা খাও, খাও না কেন –এসবের পাল্লায় না পড়তে নিজ বাসায় এসে বই পড়তে শুরু করলাম। দুপুরের খাবার না খেয়ে একটানা চার ঘণ্টা পড়ে একটি গল্পের বই শেষ করে দিলাম।
বই পড়ার পরও মন ঠিক হলো না। যখন আমি শেলফের সামনে দাঁড়ালাম, তখন দেখলাম শাহনাজ আপার কোরআন শরীফটি খুব সুন্দর করে তাকে রাখা আছে। তখনও হাতে বই নিয়ে ছিলাম, শাহনাজ আপা বললেন, ‘এসব পড়া ঠিক নয়। বেশি বেশি ইসলামিক বই পড়। মন শান্তি হয়ে যাবে।’
আমি কিছু বললাম না।
তিনি কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, ‘আচ্ছা, তুমি কি প্রেম করো?’
এই প্রশ্নের জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমাকে তা পুরোপুরি নাড়িয়ে দিলো। তিনি কীভাবে জানলেন?
‘কেন বলুন তো?’
‘এমনিই। আমার মনে হয় তুমি প্রেম করো।’
‘আর কীভাবে তা মনে হলো?’
‘আমার কিছু কিছু অনুমান সত্য হয়ে যায়।’
‘এইবার নাও হতে পারে।’
তিনি মিষ্টি এক হাসি হাসলেন। তার ভোলা চোখগুলো আমাকে সাদিকের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেও ভালো বুঝাতে জানে।
তিনি খুব নম্রস্বরে বললেন, যেভাবে বলে থাকেন, ‘পুণ্য করার জন্য আমাদের জীবন কিন্তু খুব সীমিত। তোমার সেই সংগঠন ‘রঙধনু’, ভালো একটি কাজ করছ। অপরদিকে সেখানে গিয়ে প্রেমও করা কিন্তু আবার পুণ্যের পুরোপুরি ভিন্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
‘আপনি হয়তো বলতে চাইছেন, প্রেম করা ভালো নয়।’
‘ধরো, বেড়াতে যাওয়ার জন্য তোমাকে সাজতে বলা হয়েছে। তুমি অনেক সময় নিয়ে সাজলে। কিন্তু বেড়াতে গেলে না। এখানে সাজার অর্থটা কী, যদি তোমার গন্তব্য বাসায় থাকা হয়?’
‘যদি আমি সেজে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকি?’
‘আসল ব্যাপারটা কিন্তু তুমি নিজেও জানো। প্রেম করাই মূল প্রসঙ্গ নয়। তুমি কি তোমার মা-বাবাকে দেখাতে চাইছ না তুমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে জানো। ওঁদের উপর নির্ভরশীল নও? ওদের কোনো কর্তৃত্ব তুমি রাখতে চাও না?’
আমি তার দিকে তাকালাম। কিন্তু কিছু বললাম না।
‘হয়তোবা তুমি সত্যিই প্রেম করে সুখ পাচ্ছ। কিন্তু আমি তোমাকে চিনেছি। আমি দেখেছি তুমি কতটা শক্ত ধরনের মেয়ে, ঠিক তোমার মায়ের মতো। তোমার মায়ের সম্বন্ধে তোমার বাবা আমায় বলেছেন। আমি শুনেছি কেন তিনি তোমাকে জন্ম থেকে অবজ্ঞা করেছেন। তোমার জীবনে আসা বিপর্যয় সত্ত্বেও তুমি আমার বাসায় খুব স্বাভাবিক ছিলে, যেন কিছুই হয়নি। সেই মেয়েকে যে কেউ দুর্বল করতে পারে, আমি তা ভাবতে পারি না। আমার কী মনে হয় জানো, তুমি নিজেই ছেলেটিকে ধরা দিয়েছো। তুমি আগেই খবর নিয়েছ, ছেলেটি প্রেম করে কিনা, তাকে পটানো যাবে কিনা, কোথায় পড়াশোনা করে, পরিবার কেমন, স্ট্যাটাস কেমন। বলো নাওনি? কেন নিয়েছ? যাতে ভালোবাসার যে রিস্কটা নিচ্ছ, তার কারণে যেন আবার ক্ষতি হয়ে না বসে। এসবকিছুর পরও কি স্পষ্টভাবে বলতে হবে, তুমি কোন কাজে লেগে পড়েছ?’
এসব তিনি কীভাবে জেনেছেন, আমার জানা নেই। আমি বেশ কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললাম, ‘একই মুদ্রার কি দুটো ভিন্ন পিঠ থাকে না?’
‘হু, এটাই স্বাভাবিক। যেখানে ভালো আছে সেখানে খারাপেরও অস্তিত্ব পাওয়া যাবে। তাতেই বুদ্ধিমত্তা লুকিয়ে আছে, যদি তুমি ভালোমন্দ পর্যবেক্ষণ করে চল। মা-বাবা আমাদের যতই অবজ্ঞা করুক, আমাদের জন্ম দেওয়ার ঋণ কখনও শোধ করতে পারব না। আরেকটি কথা, মন্দের প্রতিশোধ নেওয়া যায় ভালো কাজ করে। প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যদি মন্দ কাজই করে বসো, তবে তুমিও ভালোর কাতারে পড়বে না। তোমাকে তোমার বাবা-মা যা দিয়েছে, তাই যদি তুমি তাদের রিটার্ন কর, তবে একদিন তোমার ছেলে-মেয়েও তোমাকে তোমার কর্ম রিটার্ন করবে।’
আমি কয়েকটি দিন কারও সাথে কথা বলিনি। এমনকি শাহনাজ আপাকেও কিছু বলতে দিইনি। তিনিই নিজ থেকে আমার অবস্থা বুঝে চুপ করে আছেন। এই মানসিক অবস্থায় আমার দম ঘুটে আসছে। শুক্রবার দিনে রঙধনুর হেডকোয়ার্টারে গেলাম না। ফরহাদ ভাইয়া যদিও বকেছেন, আমি কিছু বলিনি।
তিনি রাতে বললেন, ‘আজ তোমার আসা উচিত ছিল। তুমি বুঝতে আজ আমি কতটা সার্থক হয়েছি সিস্টার। আজ রঙধনুতে এক লোক এসেছিল। দেখতে খারাপ নয়। সে আমাকে তার মনের কিছু কথা শেয়ার করেছে। বলল, সে খুব কষ্টে আছে। সে তার স্ত্রীর সাথে থাকে। স্ত্রীর সাথে তার খুব ভালো সম্পর্কও আছে। তবু সে সুখী নয়। আগে এমনটা ছিল না। নিয়মমতো অফিসে যেত, পরিবারকে সময় দিতো, বন্ধুদের সময় দিত। এখন সবসময় তার রাগ উঠে। এখন হঠাৎ হতাশা তাকে গ্রাস করেছে..’
‘গ্রাস মানে?’
‘গ্রাস মানে গ্রাস। পুরো লাইনটা বললে মিনিং বুঝে যাবে। শুনো, সে প্রায়ই মনে করে সে যেন কিছু একটা ভুল করেছে। তার মন তাকে খোঁচা দেয়। তার মস্তিষ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে কীভাবে বুঝাই। সে সমস্যাগুলোর কথা বলতে বলতেই মাথা চেপে ধরেছিল। এখন ভেবে দেখ, তার মস্তিষ্কে কতটা চাপ পড়ছে। আমি স্বপ্নাকে নিয়ে ব্যক্তির বাসায় গেলাম। তার স্ত্রীকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলাম। লোকটির সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। সে প্রায়ই বাহির থেকে খাবার খেয়ে আসে, মাঝে মাঝে বন্ধুদের বাসায় খায়, কিন্তু কোনোদিকের খাবারই তার ভালো লাগে না। অফিস থেকে এলে সে স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ অকারণে রাগারাগি করেই। কখনও মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা উঠলে স্ত্রী যখন তাকে মাথায় তেল মালিশ করে দেয়, তখন সে রেগে জিনিস ভাঙচুর করা শুরু করে দেয়। আমি ব্যাপারটা খতিয়ে দেখে..’
‘খতিয়ে মানে?’
‘খতিয়ে মানে খতিয়ে। ফাইন্ড আউট টাইপ। তো আমি ব্যাপারটা খতিয়ে দেখে জানতে পারলাম, একমাস আগে স্ত্রীর ইচ্ছায় লোকটি একটি কাজ করেছিল। সে মনে করত, তাদের দু’জনের জন্যই এটি ভালো। সে তার বৃদ্ধা মা’কে তাঁর এক বোনের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে। সে ছিল তার মায়ের আদরের ছেলে। স্ত্রী পেয়ে সে মাকে বোঝা ভাবতে শুরু করেছিল। অবশেষে রহস্যটা গুছেছে।
সেই বুঝত না, সে মায়ের হাতের রাঁধা খাবারের জন্য আকুপাকু করত। স্ত্রী তার মায়ের মতো করে মাথা মালিশ করতে না পারায় তার মাথা ব্যথা বাড়ত। অফিস থেকে এলে মাই জিজ্ঞেস করত, কেমন আছ বাবা? আসতে দেরি কেন হলো? এসব তার স্ত্রী তাকে বলে না। এজন্যই সে অজ্ঞাত চাহিদায় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এসব উদ্ঘাটন করে সোজা গিয়ে তার স্ত্রীকে বললাম, যদি আপনার স্বামীকে ফিরে পেতে চান এবং সংসারে সত্যিই সুখ ফিরে পেতে চান, তবে আপনার শাশুড়িকে বাসায় নিয়ে আসুন। আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে কিন্তু তিনিই জন্ম দিয়েছেন।’
ভাইয়ার কথা শুনে আমার অদ্ভুতভাবে ভালো লাগল। এক মা তার সন্তানকে কেন ফিরে পাবে? আমি যদি রঙধনুর কথা পরিকল্পনা না করতাম? রঙধনু তো কেবল আমার জন্য নয়, যেকোনো মানুষের জন্য। আমি অন্যের মঙ্গলের জন্য কাজটি করেছি। এটি কি আমার ভালো দিক নয়? আমি কি ভালো নই? অবশ্যই, আমি ভালো। আমার মাঝে ভালো দিকও আছে।
(চলবে..)
লেখা: ফারিয়া কাউছার

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ