Saturday, June 27, 2026







শরতের কাশফুল পর্ব-১৮

#শরতের_কাশফুল
#লেখনীতে_মাহ্জাবীন
#পর্ব_১৮

রাত গভীর। দূর থেকে ভেসে আসা দমকা হাওয়ায় মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে মন্দিরের ভেতরে থাকা ঘন্টাগুলো। মৃদু শব্দ তুলছে সতর্কতার সাথে। ভারী নীরবতা চারপাশ জুড়ে। সেই নীরবতা ভাঙার সাহস, সহসা তাদেরও হচ্ছেনা।
মন্দিরের ভেতরটা ধূপবাতির মিষ্টি গন্ধে মোহাচ্ছন্ন। বুদ্ধের মূর্তির সামনে জ্বলছে কেবল একটি প্রদীপ। আধো আলো ছায়ার খেলা চলছে পুরো হলরুম জুড়ে। মূর্তির সামনে ঠায় অবিচল দাঁড়িয়ে আছে একটি মানবমূর্তি। তার স্থিরতা যেন সামনে থাকা পাথরের মূর্তিটির চেয়েও প্রচন্ড। শুধুমাত্র হাতে থাকা জপমালাটির ছন্দে ছন্দে ঘূর্ণন ছাড়া আর কোন নড়চড় নেই।

স্থির হয়ে দন্ডায়মান ধর্মগুরুর পেছনে কয়েক ফুট দূরত্বে হাঁটু গেড়ে মাথা নত করে বসে আছে তারই এক শিষ্য। গেরুয়া বর্ণের লম্বা আলখাল্লা জাতীয় পোশাক তার পরনে। মাথা অবধি ঢেকে রেখেছে বস্ত্রের হুডিটায়। নাকের কাছ থেকে কয়েক ইঞ্চি লম্বা একটা কাটা দাগ ছেলেটির চেহারার। অনেকক্ষণ যাবৎ একইভাবে বসে থাকলেও বিরক্তি নেই তার ভেতরে। তবে আছে অস্থিরতা। অবশেষে ধৈর্যহারা হয়ে সে ব্যস্ত কণ্ঠে বলে উঠলো,

“কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি মহাথেরো। যারা ভেতরে গিয়েছিল একজনও ফেরত আসেনি। অনেক খুঁজেছি, কিন্তু তাদের টিকিটারও দেখা পাইনি। যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে সবাই!”

বন্ধ হয়ে যায় জপমালাটির ঘূর্ণন। বোধহয় কিছুটা বিরক্ত হলেন গুরু এই বাঁধায়। তবে তার মুখায়ব পরিবর্তিত হলো না। আগের মতই চোখ মুদে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি।

“ভেতরে ঢোকার পর বিশ মিনিটের মত সময় আমাদের যোগাযোগ ছিল। ওরা গেট ভেঙে হাইব্রিডার্স জোনে ঢোকার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তারপর হঠাৎ আমরা কানেকশন হারিয়ে ফেলি। কোন ডিভাইসই কাজ করছিল না। না কোন ক্যামেরা, না ফোন, না অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
আমরা দূরবীন দিয়ে ভেতরে কি হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ভেতরে প্রচুর ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। পুরো স্বর্গভূমি ঢেকে যায় ধোঁয়ার আস্তরণে। আমরা বাইরে থেকে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে এসেছিল ভেতরে।”

অস্থিরতা প্রকাশ পায় ছেলেটির কণ্ঠে। এত লম্বা পরিকল্পনা, এত এত সহযোদ্ধা, এত আর্মস! সবকিছু চোখের পলকে নিঃশেষ হয়ে গেছে। মাসের পর মাস ধরে এত বড় মাপের হামলার পরিকল্পনা নেহাৎ তুচ্ছ হয়ে গেল। ছেলেটার আবারো গম্ভীর মুখে জানালো,

“ভেতরে কি হচ্ছে জানার জন্যে পাঠিয়েছিলাম দুজনকে। ওরাও আর…আর ফিরে আসেনি।”

এখনও চোখ বুজে আছেন গুরু। নূন্যতম হেলদোল দেখা দিল না তার মাঝে। জপ পুনরায় শুরু করলেন উনি।

“এসেছে। তোমরা দেখতে পাওনি।”

গুরুর কথায় চমকে উঠলো তার শিষ্য। এসেছে? কই তারা তো কাউকে দেখিনি! তবে তার ভ্রম বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। জপ শেষে মালাটা হাতে গুটিয়ে নিয়ে চোখ মেলে তাকালেন গুরু। বুদ্ধের মূর্তির দিকে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে বললেন,

“ওরা শহীদ। সত্যের লড়াইয়ে অমরত্বের সর্বোচ্চ স্থান লাভ করেছে ওরা। বুদ্ধের আশীর্বাদে প্রকৃত স্বর্গের পথে যাত্রা শুরু করেছে।”

চমকে উঠলো ছেলেটা। এতক্ষণ মনে সন্দেহ থাকলেও, এবারে গুরুর কথায় আশঙ্কা নিশ্চিত হলো তার। একটা ঠান্ডা শীতল স্রোত নেমে গেল তার শিরদাঁড়া বেয়ে।

“মহাথেরো! সবাই! মানে…”

কথা আটকে গেল তার গলায়। চিন্তাটা সমাপ্ত করতে পারলো না সে। মুখে উচ্চারণ করতে গিয়ে কোথাও একটা আটকে গেল। আতঙ্কে চোখজোড়া স্বাভাবিকের চাইতে বড় হয়ে গেছে। কেউ ফিরে আসেনি! সবাইকে মে’রে ফেলেছে ঐ জা’নোয়ারগুলো!

“এখন কি হবে মহাথেরো? সবাইকে মেরে ফেলেছে ঐ অর্ধমানবগুলো! আমাদের অ’স্ত্রবাহী ট্রাক, আ’র্মড ট্যাংক, সব তাহলে ওদের দখলে? আমরা কি করবো এখন?”

“অস্থির হয়ো না। অস্থিরতা, ব্যাকুলতা ঐ শয়তানেরই হাতিয়ার। আমাদের মনকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে, সত্য থেকে আড়াল করতে চাইছে আমাদের। ভুলে যেও না, এই নশ্বর পৃথিবীতে আত্মা অমর, অবিনশ্বর। আমাদের সাহসী যোদ্ধারা খোলস ছেড়েছে কেবল। সত্যের লড়াইয়ের অংশ হতে, আবার নতুন খোলসে ফিরবে ওরা।”

শান্ত, অবিচল কণ্ঠে বললেন গুরু। ঘুরে দাঁড়িয়ে হাঁটু গেড়ে মাথা নিচু করে বসে থাকা ছেলেটির দিকে তাকালেন উনি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে এক মুহুর্ত পরখ করে নিলেন তাকে। তারপর চোখ সরিয়ে শূন্যে কিছু একটা ভেবে বললেন,

“ওদেরকে ঐ সামান্য অ’স্ত্র দিয়ে হারানো যাবে না। শয়তানকে মোকাবেলা করতে, আমাদের চাই ওদের মতোই শক্তিশালী অ’স্ত্র। ওদের মিথ্যা যত শক্তিশালী, আমাদের সত্য তার চেয়েও উজ্জ্বল। সেই আলোকে শক্তি করে ওদের পরাস্ত করতে হবে।”

হলরুমের এক অন্ধকার কোণায় অস্পষ্ট এক ছায়া। সেদিকে দৃষ্টিপাত করলেন গুরু। তার শূন্য শীতল দৃষ্টির ভার নিজের উপর পরতে দেখে, এগিয়ে এলো সেই ছায়ামানবী। ছেলেটার মতোই গায়ে গেরুয়া বর্ণের আলখাল্লা জড়িয়ে আছে সে। হুডির ভেতর থেকে দু কাঁধে ঝুলে আছে তার লম্বা কালো চুল। বাতাসে ধূপের মোহাচ্ছন্ন গন্ধের সাথে ছড়িয়ে গেল তার পারফিউমের কড়া সৌরভ। গুরুর সামনে এসে ছেলেটির মতই হাঁটু গেড়ে বসলো সে। মাথা নিচু করে চোখজোড়া নিবদ্ধ রাখলো তার পায়ের দিকে। অপেক্ষা করলো আদেশের।

“ক্ষমা করো আমাকে। তোমাকে আবার ঐ নরকে একা ফিরে যেতে হচ্ছে।”

আফসোস মেশানো গম্ভীর স্বরে বললেন গুরু।

“ভেবেছিলাম, বিজয়ের প্রথম উল্লাসধ্বনি সঙ্গী হবে তোমার। তবে সেটা হলো না। নিজেকে প্রস্তুত করো। সামনে আরো কঠিন সময় আসতে চলেছে।”

মাথা তুলে তাকালো মেয়েটা। প্রদীপের আলো ঠিকরে পরলো তার জ্বলন্ত চোখে। মেয়েটির নাম অ্যানি। নিজেদের উদ্দেশ্য পূর্তির লক্ষ্যে সহায়ক হতে স্বর্গভূমিতে প্রবেশ করেছে সে। পৌঁছে গেছে ঘোস্টের টেকনিক্যাল ল্যাব পর্যন্ত।

“আমি প্রস্তুত মহাথেরো। সত্যের সন্ধানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেও প্রস্তুত আমি।”

মেয়েটির কন্ঠ অবিচল। আগুন জ্বলছে তার চোখে। ধ্বংসের আগুন!

“শয়তানের শক্তি অপার। শক্তির চরম চূড়ায় অবস্থান ওদের। নিজেদের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানবসভ্যতার বিনাশ ডেকে আনতে চায় ওরা। ওদের ঠেকানো সহজ হবে না। তবে এটা আমাদের জন্যে আশার। কেন জানো?”

অ্যানির দৃঢ়তা সন্তুষ্ট করলো গুরুকে। চেহারার কঠোর ভাজগুলোর মাঝে ফুটে উঠলো কিছুটা নমনীয়তা।

“কারণ সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পরপরই কেবল মুখ থুবড়ে পরা সম্ভব। ওদের পতনের সময়ও নিকটে।”

অ্যানির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে হাতের জপ মালাটা পুনরায় মুক্ত করে গুনতে শুরু করলেন উনি। তবে এবার জপটা ভক্তির নয়, বরং কুটিলতার।

“ওরা নিশ্চয়ই কোন বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। যার দরুন ভেতরে কি হচ্ছে আমাদের যোদ্ধারা বুঝতে পারেনি। শয়তান ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে বিভ্রান্ত করেছিল আমাদের যোদ্ধাদের। শয়তানি ধোঁয়া গ্রাস করে নিয়েছে আমাদের বীর যোদ্ধাদের পার্থিব শরীর।”

আনমনে ভাবতে ভাবতে ধীর গতিতে পায়চারি শুরু করলেন গুরু। অ্যানি চোখমুখ শক্ত করে তিক্ততার সহিত বলে উঠলো,

“সব ঐ ঘোস্টের কারসাজি, মহাথেরো! পুরো দ্বীপের প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে ও। ওকে শেষ করে দিতে পারলে, ওদের অর্ধেক শক্তি শেষ!”

এতক্ষণ চুপ করে থাকা ছেলেটা এবার পাশ ফিরে অ্যানির দিকে তাকিয়ে বললো,

“চেষ্টা তো করেছিলাম। গুয়াংঝুর সংবাদ সম্মেলনে তিনি তিনটা গুলি লাগার পরও বেঁচে গেল জা’নোয়ারটা!”

“গুলি একটাও তো জায়গামতো লাগেনি। ঠিকঠাক মারতে পারলে, একটাতেই কাজ হয়ে যেত।”

অ্যানির কথায় ক্ষেপে উঠলো ছেলেটা। তেজী গলায় পাল্টা ধিক্কার ছুঁড়ে দিল সে।

“আর তুমি? তুমি কি করেছো? থাকো তো ওর কাছাকাছি। এত কাছে থেকেও কিচ্ছুটি করতে পারলেনা। না পেরেছো ওকে বসে আনতে, না পেরেছো কোন কাজের ইনফর্মেশন জোগাড় করতে!”

চোখমুখ থমথমে হয়ে এলো অ্যানির। ঘোস্টের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে সে বেশ কয়েক মাস হতে চললো। কিন্তু এত মাসেও ঘোস্টের ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারেনি অ্যানি। উদ্দেশ্য ছিল, ঘোস্টকে সিডিউস করে ওদের টেকনিক্যাল ল্যাবে এক্সেস নেওয়া। ভেবেছিল, ঘোস্টের যেহেতু মানুষের মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ আছে, এই পন্থা কাজে দেবে। কিন্তু ঘোস্ট তো ঐ একটা মেয়েতেই আটকে আছে! অনামিকা ছাড়া কাউকে চোখে পরে না তার। অ্যানিকে দেখলেই কুকুরের মত দূর দূর করে ঘোস্ট। এমনকি সরাসরি ওর সাথে কথাও বলেনা। ওকে ইন্সট্রাকশন দেয় মেসেজের মাধ্যমে। এতগুলো মাস ধরে একমাত্র ফালতু ডাম্প ডাটা এনালাইসিস ছাড়া অন্য কোন কাজ দেয়নি সে অ্যানিকে। আর না অ্যানি পেরেছে সুরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে কোন গুরুত্বপুর্ন তথ্য বা এক্সেস পেতে।

“কিছু করিনি আমি? ঘোস্ট আর ওই অনামিকার ছবি আমিই এনে দিয়েছিলাম, ভুলে গেছো? আমি না থাকলে জানতে পারতে ওদের ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারে?”

আহত বাঘিনীর মত চেঁচিয়ে উঠলো অ্যানি।

“কি লাভ হলো তাতে? মরলো তো নাই, উল্টো আক্কেল ছাড়া মানুষগুলো সাপোর্ট করছে ওদের। এতদিনে ওদের কাউন্সিল মেম্বারদের ডিটেইলসও তো বের করতে পারলে না!”

ছেলেটি পাল্টা বিদ্রুপাত্মক কণ্ঠে জবাব দিলো। রেগে কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল অ্যানি। চোখ সরিয়ে তাকালো সম্মুখে নীরবে পায়চারি করতে থাকা গুরুর দিকে। গলার স্বর নরম করে তার উদ্দেশ্যে এবার জানালো,

“একেবারেই যে পারিনি তা নয়।”

থেমে গেলেন গুরু। পাশ ফিরে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকালেন অ্যানির দিকে। HCO (হাইব্রিডার্স কালেকটিভ অর্গানাইজেশন) গঠন করা হয়েছে বারোজন কাউন্সিল মেম্বার নিয়ে। পাঁচটি পরীক্ষাগার থেকে মুক্তি পাওয়া হাইব্রিডার্সদের মধ্যে থেকে দুজন করে মোট দশজন ছেলে সদস্য ও দুজন মেয়ে সদস্য নিয়ে গঠিত হয় কাউন্সিল। তবে জনসম্মুখে শুধু আসে একজন। এই কাউন্সিলের প্রধান ও তেরোতম সদস্য, ন্যায়। বাকিরা রয়ে গেছে আড়ালে আবডালে। এ পর্যন্ত সঠিকভাবে ওদের কাউন্সিলের কোন তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

“পাঁচ জনের খোঁজ পেয়ে গেছি মহাথেরো।”

ঘুরে অ্যানির সামনাসামনি দাঁড়ালেন গুরু। প্রদীপের আলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তার চোখে। আলখাল্লার ভেতর থেকে একটা বড় বাদামি রঙের খাম বের করলো অ্যানি।

“মেয়েদের মধ্যে দুজন লাভলী এবং রূপ।”

খাম থেকে দুজন হাইব্রিডার্স মেয়ের দুটি ছবি বের করে দিল সে। তারপর একে একে বের করে আনলো আর তিনটি ছবি।

“ছেলেদের মধ্যে আছে,

স্বাধীন,

আক্রোশ আর….

মুহূর্ত।”

শেষ ছবিটার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকালেন গুরু। স্থির চোখজোড়ার আড়ালে কিছু একটা চলছে।

“ঘোস্ট?”

পাশ থেকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো ছেলেটা। অ্যানি মাথা নেড়ে উত্তরে জানালো,

“ঘোস্ট কাউন্সিলে নেই। ঘোস্ট অন্যদের চাইতে ভিন্ন। সেজন্যে ওকে অনেকেই বিশ্বাস করে না। আর একটা মানুষের মেয়েকে বিয়ে করায়, সে বিশ্বাস আরো বেশি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ওদের বিয়েটা অনেক হাইব্রিডার্সই এখনো মেনে নিতে পারেনি।”

“বাকি সাতজনেরও খোঁজ বের করো। এই বারো জনকে সরিয়ে দিতে পারলেই, মুখ থুবড়ে পরবে HCO। বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে ওদের মাঝে। নিজেরাই তখন নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করে মরবে।”

গম্ভীর মুখে আদেশ করে বললেন গুরু।

মতবিরোধ, মতবিভেদ যে নেই হাইব্রিডার্সদের মধ্যে তা নয়। নিজেদের অসহায় অতীতের যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা সহজ নয় ওদের জন্যে। ওদের তীব্র শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন স্বভাবের মধ্যেই মিশিয়ে দিয়েছে উগ্রতা, হিংস্রতা এবং শিকারী প্রবণতা। এসবকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিজেদের মধ্যে শৃংখলা ও সৌহার্দ্য আনা সহজ ছিল না। সহজ ছিলনা সবাইকে একত্রিত করে সমতা আনা।

“ন্যায়?”

কৌতূহলী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো ছেলেটা। ওটাকে সবার আগে সরানো উচিত নয় কি? মাথাটা কাটা পরলেই না শরীর প্রাণ হারাবে!
কিন্তু গুরুর মত ভিন্ন। উনি একপলক থেমে মাথা নেড়ে জানালেন,

“ওকে সরিয়ে দিলেও, এদের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ উঠে দাঁড়াবে ওর জায়গায়। কিন্তু এই বারোজনকে ছাড়া ঐ অর্ধমানবটা একা বেশিক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে পারবে না।”

আবারো তার গম্ভীর দৃষ্টিতে নিবদ্ধ করলেন মেয়েটিকে। বললেন,

“খুঁজে বের করো প্রত্যেকটাকে। আপাতত নিষ্ক্রিয় থাকো। আমাদের আগে ভালো করে প্রস্তুতি নিতে হবে। তোমাকে আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে মেয়ে।”

“আদেশ করুন, মহাথেরো।”

“যেকোরেই হোক ওদের সার্ভারে ঢোকো। সেখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ এনক্রিপটেড ফাইল আছে। খুঁজে বের করো সেটা।”

কপালে ভাঁজ পরলো অ্যানির। ঘোস্টের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওদের বিশেষ সার্ভারে ঢোকা এতটাও সহজ হবে না। কিন্তু সহজ কি? স্বর্গভূমিতে ঢোকাটাও তো সহজ ছিল না। নিজেদের উদ্দেশ্য পূর্তির জন্যে এটুকু ঝুঁকি তো নিতেই হবে।

“কোন ফাইলের কথা বলছেন? খুঁজে পাবো কি করে? কি নামে?”

বুদ্ধের মূর্তির দিকে ঘুরে দাড়ালেন গুরু। হাতের মালা জপে পূর্ণ মনোনিবেশ করলেন আবারো। তবে চোখজোড়া বন্ধ করে নেবার আগে জানিয়ে দিলেন নামটা।

“Subject: S.M.

Code: 524”

***

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ