#Standing_next_to_you
#অনামিকা_আহমেদ
পর্ব:১৩
ঢাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথেই এক মুহূর্ত দেরি না করে রাহাত দৌঁড়াতে দৌড়াতে হাসপাতালে যায়। আজ যে কোনো প্রকারেই হোক, শুভ্রতার সাথে তাকে দেখা করতেই হবে, বলতেই হবে মনের কথা। আজ না হয় তার বিবেক তার মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।
হাসপাতালে পৌঁছে রাহাত একের পর এক ওয়ার্ডে পাগলের মত খুঁজে চলেছে শুভ্রতা কে। কিন্তু কোথাও তাকে না খুঁজে পেয়ে মুহূর্তে মুহূর্তে উন্মা*দ হয়ে উঠছে সে। ঠিক সেই সময় পরিচিত এক ছেলে রাহাত কে থামায়। তাদের সাথেই একই মেডিকেলে পড়ত সে।
– রাহাত তুই এখানে? তুই তো সিলেট গেছিলি, তাহলে এখানে কি করছিস? জরুরী কিছু?
– ভাই, শুভ্রতা কে দেখেছিস?
– আমাদের শুভ্রতা?
– হে হে, আমাদের শুভ্রতা, বল না ভাই ও কোথায়?
– ও তো স্যারের রুমে, শুভ্রতা এখন স্যারের এসিস্ট্যান্ট। আমি কিছুক্ষন আগেই দেখলাম স্যার শুভ্রতা কে হাত ধরে রুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
– হাত ধরে!!
রাহাত কিছুটা দমে যায়। আজ পর্যন্ত রাহাত কখনও শুভ্রতার হাত ধরার স্পর্ধা দেখায় নি। কিন্তু এই দুইদিনে স্যার শুভ্রতার এতটাই ঘনিষ্ঠ হয়েছে যে জনসম্মুখে হাত ধরে হাঁটতে ও তারা লজ্জা*বোধ করছে না। রাহাত নেতিয়ে গেলেও বুকের ভেতর যে আগুন জ্বলছে টা নিভে না।
– আচ্ছা, আমি আসি।
এতটুকু বলেই রাহাত চলে যায় সেখান থেকে। সাজ্জাদের অফিস রুমের সামনে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো লাভ হয় না। ভেতরে যাবে নাকি যাবে না এই নিয়ে মনের মাঝে যে দ্বন্দ্ব চলছে সেটা কিছুতেই কমছে না। রাহাত তবুও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রুমের দরজা খুললে এক অপ্রী*তিকর দৃশ্য দেখে নিজেই খানিক ভরকে যায়।
শুভ্রতা নিজ হাতে সাজ্জাদ কে খাইয়ে দিচ্ছে। সাজ্জাদ ও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রতার দিকে। তাদের এক ব্যক্তিগত মুহূর্তে রাহাতের অনাকাঙ্ক্ষিত আগমন ঘটে। শুভ্রতা উঠে দাঁড়ালে সাজ্জাদ তার হাত চেপে ধরে শুভ্রতা কে নিজের কোলে বসিয়ে নেয়। রাহাতের বুঝতে কিছু বাকি থাকে না তাদের মধ্যে ঠিক সম্পর্ক বর্তমানে বিরাজমান।
শুভ্রতা পরিস্থিতি সামাল দিতে জোর করে হেসে বলে,
– রাহাত, ভাই তুই কখন এলি? ফোন দিস নি যে।
– দিলেও তো লাভ হতো না, তুই খুব ব্যস্ত কিনা।
রাহাত চোখ সরিয়ে নেয়। তারপর শুভ্রতা আর কিছু বলার আগেই সে সেখান থেকে চলে যায়।
_____________________________
সেই কোন সকালে রাহাত বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, বিকেল পেরিয়ে রাত হতে চললো কিন্তু তার দেখা নেই। চৈতি আজ রাহাতের জন্য তার পছন্দের বেশ কয়েক পদ রেধেছে, যদি এই রান্না দিয়ে তার মনে একটু ঠাঁয় পায়। কিন্তু মানুষটাই যে আসছে না। দেখতে দেখতে ঘড়ির কাটা আটটা ছুঁলে দরজায় টোকার শব্দ হয়। চৈতি তৎক্ষণাৎ খাড়া হয়ে দাঁড়ায়। রাহাত কি এসেছে? মনে মনে ভয় হয়, তবুও কাপা হাতে দরজার ছিটকিনি খুলতেই সে দেখতে পায় বি*ধ্বস্ত রাহাত কে।
– আপনি কোথায় চলে গেছিলেন? চিন্তা হয় না আমার বুঝি?
– আমার জন্য কেও চিন্তা করে না, তবে আপনি কেনো করবেন?
চৈতি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। রাহাত নিজের অসাড় শরীর টা কে টেনে বিছানায় নিয়ে যায়।
– আপনি হাত মুখ ধুয়ে আসেন, আমি খাবার রেধেছি আপনার জন্য, সব আপনার পছন্দের।
চৈতির কথা রাহাতের কানে যায় কিনা সন্দেহ। সে ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠে,
– চৈতি আপনি কি আমায় ভালবাসেন?
চৈতির সারা মুখ লজ্জায় লাল বর্ণ ধারণ করে। সে কখনও ভাবে নি রাহাত তাকে নির্লজ্জে*র মত এই প্রশ্ন টা করবে।
চৈতির নিস্তব্ধতা রাহাতের উত্তর যেনো দিয়ে দেয়।
– বিয়ে করবেন আমায়?
– আমি কারো দয়া চাইনা ডাক্টার সাহেব।
– আমি কখন আপনাকে দয়া দেখলাম? এখানে দয়ার প্রশ্ন উঠছে কেনো?
– আপনার স্পর্শে আমি নিজের স*তীত্ব হারিয়েছি। তাই হয়তো আপনি ভাবছেন আপনি কাল রাতে আমার ওপর জোর খাটিয়েছেন। কিন্তু আমি আপনাকে বলে রাখি, যা হয়েছে সব আমার সম্মতিতেই হয়েছে। আপনার এক পাক্ষিক কোনো দোষ নেই।
রাহাত বেশ কিছুক্ষন চুপ করে বসে থাকে। তারপর চৈতির গা ঘেষে দাড়িয়ে তাকে নিজের বুকে টেনে নেয়।
– চৈতি যদি বলি আপনাকে আমার খুব দরকার তবে কি আমায় বিয়ে করবেন?
চৈতি বোকার মত কাদতে থাকে রাহাতের কথা শুনে।
– প্লীজ চৈতি না করবেন না, আজ আমি বড্ড একা। আপনি ছাড়া আমার আর কেও নেই। প্লীজ আমায় বিয়ে করবেন?
চৈতি নিজের চোখের পানি মুছে মাথা নাড়ায়। রাহাত হাসিমুখে চৈতির কপালে চুমু খায়।
– চলুন।
– কোথায় যাব এত রাতে?
– এখনও কাজী অফিস খোলা পাবো, আজই কাবিন সেরে ফেলি তবে।
চলবে………………….
