Saturday, June 6, 2026







Standing next to you পর্ব-১১+১২

#Standing_next_to_you
#অনামিকা_আহমেদ
পর্ব:১১

সকালে শুভ্রতার ঘুম ভাঙে গাড়ির হর্নের শব্দে। পিটপিট করে চোখ খুলে তাকালে দেখতে পায় সকাল হয়ে গেছে, কিন্তু কিছুতেই হর্নের শব্দ বন্ধ হচ্ছে না। শুভ্রতা গায়ের চাদর সরিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়ে। এমনিতেই ঘুম পাগল সে, তার ওপর মোটামুটি সকালেই এভাবে শব্দদূষণের শিকার হয়ে কাঁচা গুমতা ভেঙেছে তার, না এটা মানা গেলো না। এলোমেলো চুল, গায়ের কাপড় ঠিক না করেই হাতে একটা বালিশ নিয়ে শুভ্রতা ছুটে যায় বারান্দায়। শুভ্রতা দেখতে পায় তার বারান্দার ঠিক নিচেই এক সাদা গাড়ি দাঁড়ানো। এটা দেখেই চড়চড় করে রাগ উঠে যায় শুভ্রতার মাথায়, তাকে উদ্দেশ্য করেই এই বিশ্রী শব্দটা করা হচ্ছে। শুভ্রতা হাতে থাকা বালিশ টা গাড়ির ওপর ছুঁড়ে মারে। কিন্তু সেটা গাড়িতে না বাড়ি খেয়ে পড়ে যায় গাড়ির পাশে দাঁড়ানো মানুষটার মাথায় যাকে শুভ্রতা তার আধখোলা চোখে দেখতেও পায়নি।

– স্টুপিড ইরিটেটিং ফুল, এত সকালে কে অসভ্যের মত হর্ন বজায় তাও কোনো কারণ ছাড়া। সামনে পেলে তোর হর্ন ভেঙে তোর কানে ঢুকিয়ে দিতাম। আর একবার যদি তোকে দেখি এসব করতে তাহলে তোর নামে মানহানির মামলা দেবো। শালা খবিশ একটা।

সাজ্জাদ ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকে শুভ্রতার দিকে। শুভ্রতার অগ্নিমূর্তি তার দেখা বাকি ছিল, আর সেই অপূর্ণতা ও পূর্ণ হয়ে গেছে। সাজ্জাদ বালিশ টা হাতে নিয়ে শুভ্রতার দিকে ছুঁড়ে মারে আর বলে,

– আমি তোমার শালা নই মিস শুভ্রতা মাহতাব, বরং তোমার আপকামিং হাজবেন্ড বলা চলে। তোমাকে পাঁচ মিনিট দিচ্ছি রেডি হয়ে নিচে এসো, তানাহলে আমি তোমার বাসায় ঢুকবো।

সাজ্জাদের কন্ঠ কানে এলে শুভ্রতার চোখের স্কোলোল ঘুম সরে যায়। চোখ কচলে ভালো করে তাকিয়ে দেখে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে শয়ং সাজ্জাদ। গলা শুকিয়ে আসে তার, সাজ্জাদের ধমকানি শুনে আরও ভয় করছে তার। এই মুহূর্তে বাসায় সাজ্জাদ আসলে নিশ্চিত সে মা বাবার মুখোমুখি হবে, আর তখন বাসার পরিস্থিতি কি হবে শুভ্রতা ভালই বুঝতে পারছে। তাই দেখি না করে সে সাথে সাথেই বাথরুমে চলে যায় রেডি হওয়ার জন্য।

কিছুক্ষন পর শুভ্রতা নিচে আসতেই দেখতে পায় ইফতিয়ার এর সাথে সাজ্জাদ বসে আছে সোফায়, কোনো একটা বিষয় নিয়ে ভালই কথা বার্তা বলছে তারা। আর রুমা রান্নাঘর থেকে এক দৃষ্টিতে সাজ্জাদ কে দেখে যাচ্ছে, যেনো অনেক দিন পর খুব পরিচিত কারোর দেখা পেয়েছে। শুভ্রতার উপস্থিতি টের পেয়ে সাজ্জাদ তার দিকে হাসি মুখে তাকায়।

– আর শুভ্রতা মা , আয় মা আয় বস। সাজ্জাদ আজকে এসেছে তোকে নিতে। সাজ্জাদ বাবা তোমরা কথা বলো, আমি দেখি তোমাদের নাস্তার ব্যবস্থা করি।

এই বলে ইফতিয়ার উঠে চলে যায় রান্নাঘরে। ইফতিয়ার চলে যেতেই শুভ্রতা সাজ্জাদের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়। এতে সাজ্জাদ ও ভীষণ মজা পায়।

– এভাবে তাকিয়ে থাকো না সোনা। ভয় লাগে তোমায়।

– আপনি এখানে এলেন কেনো?

– আমি তোমাকে পাঁচ মিনিট সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় ওভার হয়ে গেছে তাই কথামত আমি তোমার বাসায় এসেছি। আমি কিন্তু ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করেছি তোমার জন্য, আমি এক কথায় মানুষ।

– পাঁচ মিনিট বললেই কি পাঁচ মিনিটে রেডি হয়ত যায়? একটু সময় লাগে তো।

– হ্যাঁ, মেয়েদের তো ওই একটাই দোষ রেডি হয়ে সময় লাগে।

শুভ্রতা আর কিছু বলার আগেই রুমা খাবার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। রুমা সাজ্জাদ কে দেখে , সাজ্জাদ ও রুমা কে দেখে কিন্তু কেও কাউকে কিছু বলে না। সাজ্জাদ ঠিকই নিজের মাকে চিনতে পারে, অনেকগুলো বছর কেটেছে তার মাকে ছাড়া। অভিমান কম নয় কিন্তু তাও প্রথম দেখায় মা কে জড়িয়ে ধরতে খুবই ইচ্ছা করে তার। কিন্তু তাও অভিমান কে বড় করে দেখে সে, অন্যদিকে রুমা সাজ্জাদ কে চিনতে না পারলেও কেনো যেন তাকে ভীষণই আপন লাগছে তার। মুখে কিছু বলতে না পারলেও চোখ দুটো যেন সাজ্জাদের দিক থেকে সরছেই না।

খাওয়া দাওয়ার পালা চুকিয়ে সাজ্জাদ শুভ্রতা কে নিয়ে বাইরে চলে আসে। তারপর শুভ্রতাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিজে ড্রাইভার সিটে বসে পড়ে।

– আমি নিজে যেতে পারব, কেনো আমাকে জোর করে গাড়িতে তুললেন আপনি?

– আমি তোমার কাছে পারমিশন চাইনি শুভ্রতা মাহতাব। মনে রাখবে আমি তোমার বস, আর boss is always right। আর এখন থেকেই এসবের অভ্যাস করে নাও কারণ তোমার প্রেমিক ভীষণই পাগলাটে।

প্রতিউত্তরে শুভ্রতা কিছু বলার আগেই সাজ্জাদ নিজের ঠোঁট দুখানা চেপে ধরে শুভ্রতার ওপর। দুজনের অনুভূতি মিলে একাকার হয়ে যায়। শুভ্রতা ও শেষে জোর হারিয়ে সাড়া দিতে থাকে সাজ্জাদের ডাকে সেই সাথে সে খামচে ধরে সাজ্জাদের চুল। দীর্ঘক্ষণ চুম্বন শেষে সাজ্জাদ শুভ্রতা কে ছেড়ে হাঁপাতে থাকে, শুভ্রতার ও একই অবস্থা। কিন্তু তার ক্লান্তির সাথে লজ্জা মাখা। সাজ্জাদ গাড়ি স্টার্ট করলেও শুভ্রতা লজ্জায় তার দিকে তাকায় না, তার দৃষ্টি বাইরের দিকে স্থির।

________________________________________________

– ভালই রান্না করেন। তবে ঝাল টা একটু বেশি হয়েছে, একটু কম হলে ভালো হতো। আমি আবার ঝাল তেমন খাই না।

রাহাত মাছের কাটা বাছতে বাছতে কথাগুলো বলে। কিন্তু যাকে উদ্দেশ্য করে বলে এই তখন মূর্তির মত বসে আছে। রাহাতের খেয়াল হয় চৈতি কিছুটা গুমোট হয়ে গেছে, তার সাথে ঠিকমতো কথা বলছে না।

– আপনি খাবেন না?

চৈতি রাহাতের দিকে এবার তাকায়। চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। রাহাত প্রথমে অবাক হলেও পরক্ষণেই উঠে তার কাছে যায়।

– কি হয়েছে চৈতি? আপনার কি কোন সমস্যা হচ্ছে? আমাকে বলতে পারেন।

চৈতি এবার নিজের মাথাটা রাহাতের বুকে রেখে শব্দ করে কেঁদে ফেলে। রাহাত এক হাত রাহাতের পিঠে রেখে তাকে শান্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসময় চৈতি কান্না থামায় তবুও কণ্ঠের জড়তা কাটে না। ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে সে বলে উঠে,

– সমস্যা তো আমি, আমার আবার কিসের সমস্যা হতে পারে। দেখুন না, আমার জন্য আপনার কত কষ্ট করা লাগছে। মিথ্যা বলা লাগছে, আমি চলে গেলে দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে। আর কতদিন আপনার ঘাড়ে বসে খাবো।

রাহাত চুপ হয়ে যায়। কি বলবে বুঝে পারছে না সে। দুই তিন দিন হয়েছে সে সিলেটে এসেছে, কিন্তু এর মধ্যেই চৈতি তার সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছে। এমন একটা অবস্থা হয়ে গেছে যে রাহাত ও চৈতির ওপর অনেকাংশ নির্ভর করা শুরু করেছে তবে তাকে বিয়ে করা বা তার সাথে সংসার পাতার মত সৎসাহস এখনও হয়নি রাহাতের। তার মনের অর্ধাংশ যে এখনো শুভ্রতার কবলে।

– চৈতি, আমার কোনো ব্যবহারের কারণে কি আপনি কষ্ট পেয়েছেন? যদি পেয়ে থাকেন তাহলে আমি অনেক দুঃখিত। প্লীজ আপনি যাওয়ার কথা বলবেন না।

– আর আমি থেকেই বা কি করবো বলুন রাহাত। আমি কি হই আপনার? আপনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। এখন আমার চলে যাওয়া উচিত।

রাহাত আর কিছু বলে না। সে নিজের জায়গায় ফিরে এসে খাবারের প্লেট টা হাতে নেয়। তারপর অল্প অল্প করে খাবার তুলে খাওয়াতে থাকে চৈতি কে। প্রথম দিকে চৈতি খেতে না চাইলেও পরে ঠিকই রাহাতের হাতে খাওয়ার সুযোগ টা মিস করে না, বরং লুফে নেয়। নিজের ঠোঁট দিয়ে রাহাতের হাত স্পর্শ করার সুযোগ সে পাচ্ছে এটা কি ছাড়া যায়।

খাওয়া শেষে রাহাত উঠতে গেলে চৈতি তার হাত ধরে ফেলে।

– শুভ্রতা আপনার কে হয়?

– একই প্রশ্ন আপনি কতবার করবেন? ও আমার বন্ধু হয়।

– বন্ধু? শুধুই যদি বন্ধু হয় তাহলে কেনো আপনি সারাদিন ওর কথাই বলেন? কেনো ও ফোন দিলে আপনি ওর সাথে হাসতে হাসতে কথা বলেন? কেনো আপনি ওর ছবির দিকে তাকিয়ে থাকেন? কেনো আপনি আমার দিকে তাকান না?

শেষ বাক্য টা চৈতি অনেক ধীরে বলে তবুও সে রাহাতের কানে পৌঁছায়।

– মানে? আপনার দিকে না তাকানোর কি আছে? কি বলতে চাচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি না চৈতি।

– কিছু না, কিছুই না।

– চৈতি দেখুন, শুভ্রতা কে টেনে প্লীজ কথা বলবেন না। ও আমার যা হোক, সেটা আমার ব্যাপার। আপনি প্লীজ শুভ্রতা কে বারবার টানবেন না।

চৈতির চোখ আবারো ছলছল করে উঠে। রাহাতের দিকে তাকালে দেখতে পায় সে চোখ ফিরিয়ে রেখেছে, তার মুখে বিরক্তি স্পষ্ট।

– ঠিক বলেছেন আমি তো আপনার কেউ না তাও আপনার বিষয়ে নাক গলাচ্ছি।

এই বলে রাহাত কে কিছু বলতে না দিয়ে চৈতি দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

রাত তখন প্রায় বারোটা। হাতে বিয়ারের বোতল নিয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে আছে রাহাত। অন্ধকার আকাশে চাদের আলোর ছিটেফোঁটা নেই। তবুও সে এই অন্ধকারের দিকে চেয়ে আছে। আজ নিজের মনের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ লড়ছে সে।

শুভ্রতা নাকি চৈতি, কাকে সে চায় নিজের জীবনে। শুভ্রতা কে চড় সে বাঁচতে পারবে না কিন্তু চৈতি ও এই কয়দিনে আর জীবনের অনেক বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চৈতির নেশায় সে আসক্ত। হাসপাতালের কাজ সেরে রুমে ঢুকতেই চৈতির গায়ের গন্ধ তার মস্তিষ্কে এক অদ্ভুত অনুভূতিকে সজাগ করে। সে অনুভূতি গুলো নিষিদ্ধ কিন্তু তবুও নিজেকে দমাতে পারে না রাহাত। চৈতির সাথে কাটানো সময়টায় কখনোই শুভ্রতার কথা মনে আছে না রাহাতের। তবে কি ধীরে ধীরে শুভ্রতার জায়গা চৈতি দখল করে নিচ্ছে।

কিছুই বুঝতে পারছে না রাহাত। একের পর এক বিয়ারের ক্যান খালি করে সে। নেশা ধরে গেছে ভালই, একটু ঘুম দরকার। তাই রাহাত খালি ক্যানগুলো ছাদে ফেলে নিজের রুমে চলে যায়।

চলবে……………….

#Standing_next_to_you
#অনামিকা_আহমেদ
পর্ব:১২

রাহাত টলতে টলতে ঘরের ভিতর ঢুকে। চোখ দুটো খুলে রাখতে তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তাও দুই হাতে এইটা ঐটা ধরে শরীর কে টেনে রুমে নিয়ে আসে। বেদ রুমে একটাই বিছানা সেখানে চাদর গায়ে জড়িয়ে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে চৈতি। ডিমলাইটের স্তিমিত আলোয় তার মুখের গঠন ভালই বোঝা যাচ্ছে। রাহাত তাকে দেখে মুচকি হাসে। ধীরে ধীরে চৈতির দিকে এগিয়ে যায় রাহাত। মাথা কাজ করছে না তার, ন্যায় অন্যায় বোধ বিসর্জন দিয়ে আদিম লালসা জাগ্রত হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।

এসময় একটা শব্দে চৈতির ঘুম ভেংগে যায়। চোখ খুলে সে রাহাত কে এত কাছে দেখে কিছুটা চমকে উঠে। তার চোখে লালসা আর কামনার চাহনি চৈতির মেরুদন্ড বেয়ে শিহরণ বয়ে যায়। রাহাত ধীর হাতে চৈতির মুখে থাকা এলোচুল গুলো যত্নে কানের পিছনে গুঁজে দেয়। তারপর নেশা ধরা কন্ঠে সে বলে,

– চৈতি, তোমাকে আমার লাগবে। অনেক ভালবাসি তোমাকে।

চৈতি আবারো অবাক হয়। সে কি সত্যি শুনছে? এই কথাই তো সে শুনতে চেয়েছিল রাহাতের মুখ থেকে। রাহাত চৈতির আরো কাছে চলে আসে। একে অপরের কপালে কপাল ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ জোরে জোরে শ্বাস নেয় দুজন। বেয়ার খাওয়ায় রাহাতের মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে, চৈতি বুঝতে পারে রাহাত নেশা করেছে। তাই সে তাকে ছেড়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়।

– আপনি নেশা করেছেন রাহাত?

– নেশা? হে করেছি, তোমার নেশা।

এই বলে রাহাত জোরে জোরে হাসতে থাকে। চৈতি অবস্থা বেগতিক দেখে রাহাত কে বিছানায় শুইয়ে দেয়। রাহাত প্রথমে ভদ্র ছেলের মত বিছানায় শুয়ে পড়লেও চৈতি চলে যেতে নিলে রাহাত হুট করে তার হাত ধরে ফেলে। তারপর একটানে তাকে নিজের বুকের ওপর নিয়ে নেয়।

– রাহাত কি করছেন আপনি –

– হুস।

রাহাত নিজের আঙ্গুল চেপে ধরে চৈতির ঠোঁটে। তারপরও চৈতি হাত পা ছোড়াছুড়ি করতে থাকলে রাহাত তাকে নিচে ফেলে নিজে চৈতির ওপর উঠে বসে। রাহাত সোজা চৈতির ঘাড়ে মুখ গুজে দেয়। এই প্রথম নিজের শরীরে কোনো পুরুষের কামোনাময় স্পর্শ, তাও ভালোবাসার পুরুষের, এতে চৈতি সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে রাহাতের কাছে। সময়ের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে রাহাত ডুবতে থাকে চৈতি নামক ঘোরের মাঝে। মিলনের এক পর্যায়ে রাহাত ক্লান্ত দেহ ছেড়ে দেয় চৈতির নগ্ন দেহের ওপর, ঘুমের দেশে তলিয়ে যায় দুজনে।

________________________________________

সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গলে চোখ খুলতেই তীব্র আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে যায় রাহাতের। সকালের তাজা রোদ কিছুক্ষণের জন্য মাথা ব্যথা ভুলিয়ে রাখলেও আস্তে আস্তে রাহাত অনুভব করতে পারে তার মাথা যেনো ফেটে যাচ্ছে। হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে রাহাত বিছানায় উঠে বসে। আশেপাশে তাকাতেই বিছানার করুন দশা দেখে তার মনে পড়ে যায় কাল রাতের কথাগুলো। এই মুহূর্তে রাহাতের লজ্জায় মারা যেতে ইচ্ছা করছে। যখন রাহাত চোখ মুখ কুঁচকে নিজেকে শান্ত করতে ব্যস্ত, ঠিক তখন চায়ের কাপ হাতে চৈতি রুমে আসে। তার গায়ের শুভ্রতা আর মাথার ভেজা চুল জানান দিচ্ছে এই মাত্র ফরজ গোসল সেরে এসেছে সে।

– আপনার চা।

চৈতি কাপা হাতে চা ভর্তি কাপ টা রাহাতের দিকে এগিয়ে দেয়। রাহাত তার দিকে না তাকিয়েই চায়ের কাপটা যেনো হাতিয়ে নেয়, সর্বনিম্ন সময়ের তোয়াক্কা ও করতে চায় না। রাহাতের এমন ব্যবহারে চৈতি কষ্ট পেলেও মন কে শক্ত করে সে বলে,

– চা খাওয়া শেষ হলে গোসলটা সেরে নিয়েন।

মুহূর্তেই রাহাতের মেজাজ গরম হয়ে যায়। রক্তবর্ণ চোখে চৈতির দিকে তাকিয়ে সে বলে,

– থামালেন না কেনো আমাকে কাল রাতে? কেনো নিজের স*ম্ভ্রম লুটতে দিলে আমায়?

চৈতির নিস্তব্ধতা রাহাতের রাগ কে দ্বিগুণ হারে বাড়িয়ে দেয়। হাতের কাপটা সজোরে মেঝের ওপর ছুঁড়ে মেরে তৎক্ষণাৎ রাহাত দাড়িয়ে যায়।

– কি ভেবেছেন কি আপনি? এসব করলে আমার মনে জায়গা পেয়ে যাবেন? বউ করে ঘরে তুলবো আপনাকে? কখনোই না, আমি শুভ্রতা কে ভালবাসি। ও ছাড়া আর কেও নেই আমার মনে।

চৈতি এবার মৌনতা ভেঙে ছলছল চোখে তাকায় রাহাতের দিকে। এতে তার তেজ খানিক কমলেও মুখের রুক্ষতা কমে না।

– রাহাত, থামুন। দোয়া করে আমার সামনে শুভ্রতার নাম নিবেন না। আমার সহ্য হয়না।

শেষের বাক্যটা ধীরে বললেও রাহাত ভালই শুনতে পারে সেটা। ক্রো*ধে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে।

– সত্যি কারোর ই সহ্য হয় না। কিন্তু যেটা সত্যিই সেটা সত্যিই। শুভ্রতা ছাড়া আমার জীবনে আর কোনো নারীর অস্তিত্ব নেই। কখনও ছিল না, আর ভবিষ্যতেও থাকবে না।

এই বলে রাহাত আর দাঁড়ায় না। আলমারি থেকে একটা শার্ট বের করে গায়ে জড়িয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

চলবে………………

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ