Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বসন্তের ঝরা ফুলবসন্তের ঝরা ফুল পর্ব-১৯+২০

বসন্তের ঝরা ফুল পর্ব-১৯+২০

#বসন্তের_ঝরা_ফুল
#পর্ব_১৯
লেখা #নিলুফা_নাজমিন_নীলা

★★★
শিউলির ভেতর তখন তীব্র ভয় খেলা করছে। এই লোক এখানে কী করে? কোন মতলবে এলো? শিউলি আবারও কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি এখানে কেন এলেন? কীভাবে এলেন?”

​শিউলির কথায় বিছানায় বসে থাকা তামিম উঠে দাঁড়াল। সে সামনে এগিয়ে আসল। আর শিউলি ভয়ে কয়েক কদম পেছনে সরে গেল। তামিম বাঁকা হেসে বলল,
“বুঝতে পারছো না সুইটহার্ট কেন এসেছি? খালি বাড়ি… এর চেয়ে ভালো সুযোগ কী হতে পারে বলো?”

​শিউলির শিরদাঁড়া খাড়া হয়ে গেল। এই লোকের চোখে-মুখে সে ভয়ংকর উদ্দেশ্য স্পষ্ট দেখতে পেল। শিউলি জলদি রুম থেকে বের হতে চাইলে তামিম দরজা আগলে দাঁড়ালো। শিউলি চিৎকার করে বলল,
“দরজা ছাড়ুন! তা না হলে আমি চিৎকার করব!”

​তামিম অট্টহাসি হেসে বলল,
“চিৎকার করবে? হুম, চিৎকার করো! অনেক মানুষ আসবে, চিন্তা নেই।”

​শিউলি শিমুলের থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময় টের পেয়েছিল মানুষের চলাচলের আওয়াজ, আর এখন তামিমের কথা শুনে সত্যিই মনে হচ্ছে, বাড়িতে অনেক মানুষ আছে। কিন্তু সেই মানুষগুলো কি তার জন্য?
​শিউলি ভয়ার্ত গলায় বলল,
“আপনি কী করতে চাইছেন? প্লিজ এখান থেকে চলে যান। আব্বা-আম্মা কিছুক্ষণের মাঝেই এসে যাবে। বুঝতেই পারছেন, ওরা আসলে আপনাকে ছেড়ে দিবে না।”

শেষের কথাগুলো শিউলি তামিমকে ভয় দেখানোর জন্যই বলেছে, যদিও সে জানে তার বাবা-মা ফিরতে দেরি হবে। শিউলির হৃদপিণ্ড তখন দ্রুত তালে বাজছে, আর চোখ দুটো ভয়ে ছলছল করছে।
তামিম আবারও হাসল, যেন তার কথায় ছেলেটা মজা পেয়েছে। শিউলির মন জানান দিচ্ছে আজ ভয়াবহ কিছু হবে। তামিম শিউলির দিকে এগিয়ে আসছে। শিউলি পেছাতে শুরু করেছে। শিউলি পেছাতে পেছাতে বিছানায় গিয়ে পড়ল।
​তামিম বিছানায় এক পা তুলে ঝুঁকে এসে বলল,
“উফফ, সুইটহার্ট! তোমারে ভীষন সুন্দর লাগতাছে, সাথে তোমার ভয়ার্ত চেহারা!”
★★★
​মেম্বার বাড়িতে এখন মানুষে ভরপুর। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ সকলেই উপস্থিত। উপস্থিত হবেই না বা কেন? মানুষের কাজই তো এটা! বিপদের সময় না আসুক, কিন্তু মজার সময় ঠিকই আসবে। এই ভিড় প্রমাণ করে দিচ্ছে, শিউলির এই ব্যক্তিগত বিপর্যয় এখন আর ব্যক্তিগত নেই এটা গ্রামের সর্বজনীন আলোচনার বিষয়, যা তারা উপভোগ করতে এসেছে।

​ঘরের একপাশে ইদ্রিস খন্দকার মাথা নিচু করে বসে আছেন। লজ্জায়, অপমানে তার মুখ রক্তশূন্য। তিনি যেন এই মুহূর্তের ভারে মাটির সাথে মিশে যেতে চাইছেন। তার পাশেই চেয়ারে বসে আছেন চেয়ারম্যান সিদ্দিক ইকবাল নিশ্চুপ, কিন্তু তার উপস্থিতিই বুঝিয়ে দিচ্ছে ক্ষমতার দাপট। অন্যদিকে, ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে আছে তামিম, তার মুখে লেগে আছে এক শীতল, বিজয়ী হাসি। সে যেন নিজের পরিকল্পনা সফল হওয়ার তৃপ্তিতে বিভোর।

​এক নীরব, অস্বস্তিকর পরিবেশ। সেই নীরবতা ভাঙল গ্রামের একজন প্রবীণ ব্যক্তির কণ্ঠে। তিনি ইদ্রিস খন্দকারকে বিদ্রূপ করে বললেন,
“এভাবে বইসা থাকলে কী হইবো মেম্বার? গ্রামের সব বিচার তো তুমিই করো, আর আজ নিজের মাইয়ার বেলায় কী করবা?”

​এরপর মধ্যবয়সী শমসের যেন ফণা তুলে উঠল। তার চোখ-মুখে ছিল চরম ঘৃণা আর পরনিন্দা করার আনন্দ। তিনি গলা চড়িয়ে বললেন,
“কী করবে মানে! ওইরকম মাইয়ারে মাটি চাপা দিয়া দেওন উচিত! গ্রামের মানসম্মান খাইছে। ছিহ! ছিহ! ঘরে পরপুরুষ ঢুকাইয়া পূর্তি করে! এমন মাইয়ারে সমাজে রাখাই উচিত না!”
শমসেরের সাথে তাল মিলিয়ে আরও কয়েকজন বলল, “ঠিক বলেছেন, একদম ঠিক বলেছেন!”
​শমসেরের এই তীব্র রাগের পেছনে কিন্তু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ লুকিয়ে ছিল। শমসের মনে মনে ভাবল, ‘ভালোই হইছে। ওইদিন শিমুলরে কাম করবার কইবার কইছিলাম বইলা আমার সাথে কীভাবে কথা কইছিল! এখন বোঝা যাইবে, কার শক্তি বেশি!’

​ভিড়ের প্রতিটি চোখ শিউলির দিকে তাক করে আছে। ঘরের কোণে শিউলি পাথরের মতো বসে আছে, শুনতে পাচ্ছে তার চরিত্রের উপর ছুঁড়ে দেওয়া প্রতিটি বিষাক্ত মন্তব্য। এই ভিড়, এই অপমানের চিৎকার সবই তামিমের সুপরিকল্পিত প্রতিহিংসার ফল তা শিউলির আগেই বুঝা হয়ে গেছে।পাশেই তার মা জাবেদা বেগম কান্না করছেন। শিউলির চোখের অশ্রু ঝরছে নীরবে।
​জাবেদা বেগম বললেন,
“আমার মেয়ের এত বড় সর্বনাশ কীভাবে করল!”

​শিউলি মায়ের কথায় বলে উঠল,
“আম্মা, কিসের সর্বনাশ? আমারে কিছু করতে পারে নাই আম্মা, বিশ্বাস করো তোমরা।”

​সাথের দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাগুলো থেকে একজন খুবই তিক্ত স্বরে বলে উঠলেন। তার কণ্ঠস্বর ছিল ধারালো ছুরির মতো, যা শিউলির সম্মানকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে চাইল।
“কী বেশরম মাইয়ারে বাবা! ঘরে পোলার লগে ফুর্তি কইরা এখন কেমনে অস্বীকার যায়!”

​শিউলি রেগে বলল,
“মুখ সামলিয়ে কথা বলুন। আমি কিচ্ছু করিনি। আর তামিম আমার ঘরে এসেছিল আমার অজান্তে, কিন্তু আমাকে কিছু করেনি।বিস্বাস না হলে দিলওয়ারা খালারে জিজ্ঞেস করুন। ”

“দিলওয়ারা খালারে জিজ্ঞেস করছে চেয়ারম্যানে ওই কয়ছে দিলওয়ারা সন্ধায় বাড়িত চইলা গেছিল।” পাশ থেকে এক মহিলা কথাটা বলল।

শিউলি বিস্মিত হলো দিলওয়ারা খালা কেন মিথ্যা বলল?উনি তে সন্ধার সময়ও ঘরেই ছিল।আমি যখন শিমুল ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেছিলাম তখন সে ঘুমাচ্ছিল।শিউলি মনে মনে এসব ভেবেই অবাক হচ্ছিল। কিন্তু এখানের কেউ এখন শিউলির কথা বিস্বাস করবে না তাই শিউলি এই বিষয়ে আর মুখ খুলল না।

​ঠিক তখনই পাশের বাড়ির ভাবি ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন। তিনি নরম কণ্ঠে শিউলির পাশে বসে সান্ত্বনার চেষ্টা করলেন।
“আমি তোমারে চিনি শিউলি। তুমি পরপুরুষ ঘরে ঢুকানোর মতো মাইয়া না।”
তবে সমাজের চোখে যা দেখা যায়, তার যুক্তিই ভাবি তুলে ধরলেন, যা শিউলির জন্য আরও ভয়ঙ্কর।
“তোমার কথা অনুযায়ী যদি তামিম নামক পোলাটা তোমার ঘরে যাইয়াও থাকে, তাহলে তো আর এমনি এমনি কিছু না কইরা তোমারে ছাড়ে নাই।”
ভাবির এটা সান্ত্বনা ছিল না বরং কাটা গায়ে নুনের ছিটার ন্যায় ছিল।

​ভাবির এই কথাতেই চারপাশের জনতার কানাকানি আরও বেড়ে গেল। শিউলি বুঝতে পারল, তার সততা এখানে কোনো প্রমাণ নয়। সমাজ ততটুকুই বিশ্বাস করবে, যা তারা বিশ্বাস করতে চায় আর তা হলো কেবল অপমান আর কলঙ্ক।
একটি মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের অবস্থা কেন এরা বুঝতে পারছে না? সমাজ এতটা নির্দয় কেন? কেন মেয়েদের কথাকে এতটা অমূল্য করা হয়? আজ সবাই তিক্ত কথাতে ব্যস্ত। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউ নেই। শিউলির ইচ্ছে হচ্ছে, যদি এখনি মরে যেতে পারত। তাহলে হয়তো এই লোকলজ্জা থেকে বাঁচতে পারত।
​হঠাৎ কোথা থেকে যেন ফুলঝুরি এসে শিউলিকে জড়িয়ে ধরল। ছোট্ট মেয়েটা শিউলিকে জড়িয়ে ধরে অজস্র ধারায় কেঁদে উঠল। ফুলঝুরির সেই বিশুদ্ধ কান্না দেখে শিউলিও এবার মৃদু শব্দে কেঁদে উঠল। ফুলঝুরি কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আপা, সবাই তোমারে খারাপ কথা কইতাছে ক্যান আপা? আমার কষ্ট হইতাছে আপা।”

​খানিক পরেই মজলিসের মধ্য থেকে শিউলিকে ডাকা হলো। কয়েকজন মহিলা ধরে শিউলিকে এত এত মানুষের মাঝে দাঁড় করালো। চারদিক থেকে তিক্ত কথা শিউলির কানে আসছে। এতটাই নষ্ট, খারাপ কথা যে শিউলির ইচ্ছে হচ্ছে, যদি এখনি মাটির তলায় ঢুকে যেতে পারত। শিউলি নিচু চোখেই তার জন্মদাতা পিতার দিকে তাকাল। লোকটা কপালে হাত দিয়ে মাথাটা নিচু করে বসে আছে। লোকটির চোখে জল শিউলির দৃষ্টি এড়াল না। কিন্তু আজ ইদ্রিস খন্দকার মেয়েকে এই বিষয়ে কোনো কথাও জিজ্ঞেস করলেন না।
​শিউলির চোখ চারদিকে একটা মানুষকে খুঁজছে সেটা হলো শিমুল। কিন্তু আজ শিমুল নেই। ‘কেন নেই শিমুল ভাই? আজ আমার এই দুর্দশায় শিমুল ভাই কোথায় হারালেন?’ এই চিন্তা শিউলির বুক বিদীর্ণ করে দিল।

​সিদ্দিক ইকবাল এবার মুখ খুললেন। তার কণ্ঠে কিছুটা কর্তৃত্ব, কিছুটা যেন নিরীহ ভাব। তিনি বললেন,
“আমার ছেলে এই কাজ করেছে, এটার প্রমাণ কী?”

​একজন লোক এগিয়ে এসে বলল,
“আমি তার প্রমাণ।”

​চেয়ারম্যান লোকটি জিজ্ঞেস করলেন,
“কী প্রমাণ আছে?”

​“আমরা বাড়ির পেছন দিয়ে যাওয়ার সময় অস্বাভাবিক আওয়াজ শুনি ঘরে, আর আমরা কৌতূহলবশত ঘরের ভেতর ঢুকে… ছিহ ছিহ চেয়ারম্যান সাহেব! তার পরের কাহিনি আর বলার মতো না।” লোকটি মুখে তিক্ততা নিয়ে বললেন। তার বলা প্রতিটি শব্দ যেন শিউলির গায়ে কষাঘাত হানল।শিউলি বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল। চিৎকার করে ভাঙা গলায় বলল,
“এভাবে কেন আপনারা মিথ্যা বলছেন! আমার আল্লাহর কসম, এরকম কিছু হয়নি। সত্যিটা কী, সেটা আমি বলছি।”

​কথাটি বলা শেষ করার সাথে সাথে পাশের বাড়ির কুলসুমের মা এসে শিউলির গালে জোরে চড় বসিয়ে দিলেন। সেই আঘাত শিউলির মুখটা একদিকে ঘুরিয়ে দিল। তিনি রেগে বললেন,
“কী খারাপ ছেমরি দেখছো নি! কেমন কইরা মিছা কথা কইতাছে?”
​মহিলাটির বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি,এই মহিলাটিও লোকটির কথা বিশ্বাস করে নিল। কিছুদিন আগেই তো মহিলাটা যখন রোগে বিছানায় পড়ে ছিল, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার মানুষ ছিল না, তখন শিউলি নিজে মহিলাটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। আর আজ সবার কী রূপ! এটা

​শমসের মিয়া আবারও তিক্ত কণ্ঠে বলল,
“এসব ন** মাইয়ারা তো এহন অস্বীকারই করব। ওই পোলারে জিজ্ঞেস করলেই তো হয়।”

​শিউলির দু-চোখ বন্ধ হয়ে এল। ‘এই দিনটা দেখতে হতো!’ এতটা খারাপ দিন কী করে আসল আমার জীবনে! কী এমন পাপ করেছিলাম? কী করে বুঝাবো তামিম আমার সর্বনাশ করেনি, বরং সে নিজেই শিস বাজালো, আর তার সাথে সাথে কতগুলো মানুষ ঘরে ঢুকে এলো। তামিম এমনটা করার কারণ শিউলির কাছে স্পষ্ট, তার বদনাম করার জন্য এতশত নাটক। সে শুধু অনুভব করতে পারল, তার সম্মান আর অস্তিত্বের শেষ চিহ্নটুকুও জনতার ক্রোধে চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

তামিমকে জিজ্ঞেস করা হলো যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্যি কিনা। তামিম সবার সামনে গলা উঁচু করে বলল,
“হ্যাঁ, সব সত্যি। আমার সাথে শিউলির প্রেমের সম্পর্ক ছিল, তাই আজ যেহেতু শিউলির আব্বা-আম্মা বাড়িতে ছিল না, তাই এসেছিলাম।”
তামিম কথাটা বলার সময় তার কন্ঠে কোনো বাঁধা ছিল না। তার কারণ সে পুরুষ। কলঙ্ক কখনো পুরুষদের ছুঁতে পারে না,নষ্টা অপবাদ কখনো পুরুষদের হতে পারেনা,চিরত্রহীনা কখনো পুরুষরা হতে পারে না।সকল কলঙ্ক, নষ্টামি নারীরা করে।নারীরা এই সমাজের কাল।নারীদের এই সমাজে থাকার অধিকার নেই।নারীরা কখনো সত্যি বলে না,সবসময় মিথ্যাই বলে।এরকমটাই মনে করে আমাদের সমাজ।শুধু মনে করে না বরং পূর্ণ বিস্বাস করে।

​তামিমের এই ঠান্ডা মিথ্যা স্বীকারোক্তি যেন আগুন জ্বালিয়ে দিল জনতার মাঝে। এবার সকলে এক সাথে ছিহ্ ছিহ্ শুরু করল। শিউলিকে এখনি মেরে ফেলতে পারলো না শুধু মাত্র মেম্বারের ভয়ে তারা পিছপা হলো নয়তো এই জনতা হয়তো তাকে মেরেই ফেলত।
​শিউলি নিজের পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পেল না। কী হচ্ছে তার সাথে? কেন হচ্ছে এসব? তামিমের চোখে সে দেখল চূড়ান্ত প্রতিহিংসা, ভালোবাসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ।
​ছোট্ট ফুলঝুরি এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তার বোনকে জড়িয়ে ধরল। সে ডুকরে কেঁদে উঠল।
“আমার আপা কিছু করে নাই। আমার আপা অনেক ভালা। কেউ আমার আপারে কিছু কইতে আসবেন না। সবাই আমাদের বাড়ি থেকে বাহির হইয়া যান!”

​কিন্তু ফুলঝুরির এই সরলতাও ছাড় পেল না। কয়েকজন বলে উঠল,
“বড়ডা যেমন হইছে, ছোটটাও তেমনি হইব।”

​শিউলি ফুলঝুরির মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল।
“চুপ কর বোইন আমার। মেয়েদের কথা কেউ শুনে না। এই সমাজে মেয়েদের দাম নাই রে বোইন। যেমন করে এই আধুনিক যুগে এসে দুই টাকার কয়েনের কোনো দাম নাই, তেমন কইরা মেয়ে মানুষেরও কথা বলার কোনো মূল্য নাই।”

​জামিল চাচা ইদ্রিস খন্দকারের দিকে তাকিয়ে তার চূড়ান্ত আঘাতটি হানলেন।
“মেম্বার হইয়া মাইয়াডারে মানুষ করতে পারলা না। তোমার তো মিয়া গলায় দড়ি দিয়া মরা উচিত।”

​ শিউলি নিশ্চিত হলো, এই অপমান থেকে বাঁচার আর কোনো পথ খোলা নেই।শিউলি এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তীব্র রাগের স্বরে চিৎকার করে হুশিয়ারি দিয়ে বলল,
“খবরদার! আমার আব্বারে কিছু বলবেন না আপনারা!”

​ইদ্রিস খন্দকার এইবার অসহায় নয়নে নিজের মেয়ের দিকে তাকালেন। এতক্ষণে এই প্রথম তিনি মাথা তুললেন। তার চোখে তখন মেয়ের জন্য কষ্ট আর সমাজের কাছে পরাজিত হওয়ার যন্ত্রণা।
​ঠিক তখনই, ভিড়ের মাঝ থেকে কেউ একজন সজোরে একটি ভাঙা ইটের টুকরা ছুঁড়ে মারল। ইট এসে পড়ল শিউলির কপালের বাম দিকে। শিউলি আর্তনাদ করে উঠল,“আহ্…”
​গলগল করে র’ক্ত পড়তে লাগল কপাল কেটে। জাবেদা বেগম দৌড়ে এসে মেয়েকে ধরলেন। ফুলঝুরি আবারও চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। শিউলির এই সময়টাতে তার মা আর ছোট বোনটা ছাড়া কেউ এগিয়ে আসল না। সমাজের নিকৃষ্ট মানুষগুলো তখন পাথর। তারা যেন শিউলির রক্ত দেখেও তৃপ্ত হতে চাইল।

​শিউলি ততক্ষণাৎ জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল মায়ের কোলে। কিন্তু মেয়েটার এমন মর্মান্তিক অবস্থা দেখেও কারো মনে অনুশোচনা জাগল না। বরং তারা আরও বলতে লাগল, “সবটাই নাটক করতাছে!”
​সেই জনতা, যারা একটু আগে ন্যায়ের কথা বলছিল, তারাই এখন শিউলির রক্তপাতের পরও তাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করতে ব্যস্ত।

#চলবে…

#বসন্তের_ঝরা_ফুল
#পর্ব_২০
কলমে #নিলুফা_নাজমিন_নীলা

★★★
শিউলি একটি খড়কুটোর রান্না ঘরে ভাতের হাঁড়িতে ভাত রান্না করছে। শিমুল ভাই সকালে কাজে গেছে। প্রতিদিনের মতো দুপুরে এসে খেয়ে দেয়ে আবারও ইঁটের ভাটায় কাজ করতে যাবে। শিউলি ভীষণ তাড়াহুড়ো করছে, যোহরের আযান দিয়ে দিয়েছে, কিছুক্ষণের মাঝেই এসে যাবে শিমুল । শিউলি কখনো ভাবতে পারেনি এতকিছুর পর এত সহজ ভাবে তাদের একটা সুন্দর সংসার হবে।শিমুল আর আগের মতো বোকা নেই।ছেলেটা নিজের স্ত্রীর কথা মুখ ফুটে না বললেও বুঝে যেতে পারে এখন।

​হঠাৎ শিমুল শিউলিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। শিউলি চমকে উঠল আকস্মিক জড়িয়ে ধরার কারণে। শিমুল শিউলির কাঁধে মুখ রেখে খুবই আদুরে স্বরে বলল,
“কী হইলো বউ? ডরাইছো নাকি?”

​শিউলি রাগি রাগি মুখ করে শিমুলের দিকে ফিরল। শিউলির এরকম রাগি মুখ দেখে শিমুল ভাই হেসে দিল। শিউলি বলল,
“তুমি দিন দিন পঁচা হয়ে যাচ্ছো শিমুল ভাই। এভাবে কেউ হঠাৎ করে এসে জড়িয়ে ধরে বুঝি?”

শিমুল এক ভঙ্গিতে বলল,
“কেউ না ধরুক, আমি তো আমার বউরে ধরমুই।”

​“হইছে, এবার ছাড়ো। ভাতগুলো বেশি নরম হয়ে যাবে।”

​শিমুল শিউলির কথায় শিউলিকে ছেড়ে দিল। শিউলি ভাতের পানি নিগড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে হাতে গরম পানি পড়ে গেল। শিউলি মৃদুস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠল।
​শিমুল দৌড়ে শিউলির কাছে গিয়ে বসে পড়ল।শিউলির হাত খানা নিজের দুই হাতে আগলে ধরল।তাড়াহুড়ো করে মুখ দিয়ে হাওয়া দিতে লাগল। চিন্তা ভরা কণ্ঠে বলল,
“কইছিলাম সাবধানে কর, কিন্তু না, তুই আমার কথা হুনবি না। এহন দেখ, কতটা ব্যাথা পেলি! হাতটা বোধহয় অনেকটা পুড়ে গেছে।”

​শিউলি শিমুল ভাইয়ের চিন্তা ভরা মুখখানার দিকে তাকিয়ে রইল। শিউলি ফিসফিস করে বলল,
“শিমুল ভাই নামক স্বামী থাকলে গরম পানির কী-ই বা সাহস যে হাত পুড়িয়ে দিবে!”

​শিমুল শিউলির মুখশ্রীর দিকে তাকাল। শিমুলের চোখে জল টলমল করছে। একেই বুঝি ভালোবাসা কয় একজনের ব্যাথায় অন্যজন ব্যাথা পায়। শিমুল সহসা বলে উঠল,
“আমার ফুলের কিছু হইলি আমি কেমনে বাচমু? ”

শিমুল শিউলির কপালের চারদিকে পড়ে থাকা চুলগুলো নরম হাতে সরিয়ে দিয়ে সেখানে নিজের ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিল। শিউলি সেই আদুরে স্পর্শে চোখ বন্ধ করে নিল।

শিউলি ধড়ফড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে বসল। চারদিকে চেয়ে বুঝার চেষ্টা করল, সে তার রুমেই আছে। কোথাও শিমুল ভাই নেই। এতক্ষণ শিউলি স্বপ্ন দেখছিল তার আর শিমুল ভাইয়ের একটা সুন্দর সংসার হয়েছে। এরকম এতটা স্পর্শকাতর স্বপ্ন সে কখনোই দেখেনি, এই প্রথম এতটা গভীর স্বপ্ন দেখল।
​তবে আজকে এত সুন্দর স্বপ্ন দেখার পরও শিউলির ভীষণ কান্না পেতে লাগল। চারদিকে তাকিয়ে বুঝল, সকাল হয়ে গেছে। এতক্ষণ ঘুমালো কিন্তু কীভাবে? কপালে হাত দিতেই ব্যাথা অনুভব করল। মুহূর্তেই তার মনে পড়ল গতকাল রাতের সেই অপমান, সেই চিৎকার আর ইটের আঘাতের কথা।
​অন্ধকার স্বপ্ন ভেঙে আলোতে উঠে এলেও, তার বর্তমান পরিস্থিতি স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি অন্ধকার।
★★★
শিমুল শিউলিদের বাড়ির ভেতর ঢুকল। পুরো বাড়ির পরিবেশ অন্যরকম এক নিস্তব্ধ, ভারী বিষাদের ছায়া। সে যেন কল্পনা করতে পারছিল গতকাল রাতের দৃশ্য। সে তাকিয়ে দেখল, জাবেদা বেগম পাকা দরজায় বসে আছেন, মুখে কষ্ট, চিন্তা আর হতাশার চাপ স্পষ্ট।
​শিমুল গিয়ে ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“শিউলি কই চাচি?”

​তিনি শিমুলের দিকে তাকালেন। সম্ভবত তিনি বুঝতে পারছিলেন শিমুলের আগমনের উদ্দেশ্য। ধীর কণ্ঠে বললেন,
“ঘরে শুইয়া আছে।”

​শিমুল আর কোনো বাক্য ব্যয় না করে শিউলিদের ঘরে ঢুকে পড়ল। সে শিউলির রুম চেনে। দরজার কাছে দাঁড়াতেই দেখল, শিউলি জানালার দিকে মুখ করে বসা। মেয়েটার মুখ মলিন হয়ে আছে যেন সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে কেউ।যে শিউলির মুখটা সবসময় ফুলেদের মতো রঙিন হয়ে থাকতো সেই শিউলির মুখে আজ বিষাদের ছায়া। কপালের আঘাতের দাগটাও স্পষ্ট।
​শিমুল ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করল। সে ভীষণ ধীর কণ্ঠে ডাকল,
“ফুল…”

​ডাকটা শোনার সাথে সাথেই শিউলির আত্মা অবধি কেঁপে উঠল। তবে সেটা ভয়ের কাঁপা নয়, বরং প্রত্যাশিত জিনিস পেয়ে যাওয়ার মতো এক প্রশান্তির কাঁপন। শিউলি তৎক্ষণাৎ পেছন ফিরে তাকাল। শিউলি শিমুল ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়েই কেঁদে উঠল। সে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়ল।
​শিমুলের শুধু ঠোঁট দুটো অনবরত কাঁপছে । সে শিউলিকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না, কারণ জড়িয়ে ধরার অধিকার বা বৈধতা নেই এই মুহূর্তে সমাজের চোখে তারা কেউ নয়।
​শিমুল শিউলির সামনে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল। কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“কাঁদোস ক্যান পাগলি?চাইয়া দেখ আমার পানে।তোর শিমুল ভাই আইছে তো।”

শিউলি মাথা তুলে শিমুলের ভাইয়ের দিকে তাকালো।তারপর হাহাকার ভরা কন্ঠে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আমি কলঙ্কিনী হয়ে গেছি শিমুল ভাই।সমাজের চোখে,এই গ্রামের চোখে,সবার চোখে আমি কলঙ্কিনী হয়ে গেছি।”

শিমুল শিউলির দুই গালে নিজের হাত স্পর্শ করে ধরে বলল,
“পুরো পৃথীবি যদি এই কথাটা বিশ্বাস করে তবুও আমি বিশ্বাস করমু না।আমার ফুল পবিত্র। আমার শিউলি কলঙ্কিনী হতে পারে না।”

শিউলি আবারও কেঁদে দিল।এতটা কান্না হইতো গতকালের ভয়ংকর রাতেও কাঁদেনি মেয়েটি।শিমুলের বুক ফেটে যাচ্ছে এভাবে তার শিউলিকে দেখবে কখনো ভাবেনি। শিউলি ভাঙা কন্ঠে অভিযোগের স্বরে বলল,
“শিমুল ভাই তুমি কই ছিলা?তোমারে কেন আমার বিপদের দিন পাশে পাইলাম না?তুমি জানো শিমুল ভাই আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল তোমাকে না দেখে।তুমি কেন আসলে না?”

শিমুল অসহায় ভাবে বলল,
“তোর লগে দেখা কইরা বাড়িত গিয়াই দেখি আম্মার হাঁপানি ভাসছে।আম্মারে লইয়া তখনি গঞ্জে যাই কবিরাজের কাছে।গঞ্জে যাইয়া আওনের সময় হুনবার পায় তোর কথা।আমি রাতে আইছিলাম শিউলি।কিন্তু বাড়িত তহন কেউ আছিল না।আমি তোর জানালার কাছে পুরো অর্ধেক রাইত দাঁড়াইয়া ছিলাম।কিন্তু তের দেহা পায় নাই।’’

শিউলি আগের থেকেই জানত শিমুল তার বিপদের না এসে পারবে না।শিমুল ভাই সহসা বলে উঠল,
“ওই তামিমরে আমি ছাড়ুম না।ওই আমার পবিত্র ফুলকে সামাজে কাছে অপবিত্র প্রামান কইরা দিতে চাই।”

শিমুল ভাইয়ের কন্ঠে এবার শিউলি সর্বোচ্চ রাগ টের পেল,জিদ টের পেল।এতটা অন্য রকম শিমুল ভাইকে কখন দেখেনি শিউলি।শিউলি শিমুল ভাইকে অনুরোধ করে বলল,
“না শিমুল ভাই তুমি তামিমের কাছে যাইবা না।ওই তোামরে আবার মারব।”

শিমুল জেদি কন্ঠে বলল,
“আমারে বাঁধা দিস না শিউলি…”

শিমুলকে নিজের কথা শেষ করতে দিল না শিউলি। শিমুল ভাইয়ের হাত সহাসা নিজের মাথায় রেখে বলল,
“আমার মাথা ছুঁয়ে বলো তুমি তামিম রে এই বিষয়ে কিছু বলবা না।”

শিমুল অসহায় নয়নে শিউলির দিকে তাকিয়ে রইল।শিউলি আবারও বলল,
“তোমার কিছু হইলে আমি কি নিয়া বাঁচবো! বলতে পরো তুমি?”

শিমুল এবার কিছুক্ষণ শিউলির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
“তোর বাপ কই?”
“জানিনা,মনে হয় বাড়িত নাই।”

শিমুল আর কিছু না বলেই উঠে গেল।শিউলি পেছন থেকে ডেকে বলল,
“কি করবা শিমুল ভাই আব্বারে খুঁজো কেন?”

শিমুল পা তামিয়ে পেছন ফিরে তাকালো।ভীষণ আদুরে মৃদুস্বরে বলল,
“তোরে আমার বউ বানানো লাইগা সব কিছু করতে রাজি আছি রে শিউলি।আগেও বলেছিলাম তোরে ছাড়া এক জনম পার করা অসম্ভব।”

কথাটা বলেই শিমুল একটা বারও থামলো না রুম থেকে বেরিয়ে গেল।শিউলি অবাক হয়ে শিমুল ভাইয়ের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল।মনে মনে বিরবির করল,
‘এতটা বোঝদার আমার শিমুল ভাই কবে থেকে হলো?’

শিমুলকে বের হতে দেখে জাবেদা বেগম বললেন,
“শিমুল শিউলি কি কইলো?মাইয়াডারে আমার সমাজের লোকেরা ভাইঙা ঘুরাইয়া দিছে।”

শিমুল জাবেদা বেগমের কথার উত্তর না দিয়ে বলল,
“চাচি, চাচা কই?”

“শিউলির বাপ চেয়ারম্যানের বাড়ি গেছে।”
​শিমুল আর দাঁড়ালো না, বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে গেল। জাবেদা বেগম জানেন না, শিউলি আর শিমুল দু’জন দু’জনকে ভালোবাসে। জানলে কি শিমুলকে ঘরে ঢুকতে দিত! এই সমাজে প্রেম করা মহা অন্যায়। গ্রামীণ সমাজে প্রেমকে মানুষ ধর্ষণের চেয়েও ভয়ংকর মনে করে।

​জাবেদা বেগম শিউলির রুমে ঢুকে গেলেন। দেখলেন শিউলি বিছানায় মাথা নিচু করে বসা। জাবেদা বেগম ধীর পায়ে মেয়ের কাছে গেলেন। মাকে দেখেও শিউলি মাথা তুলল না।মা হয়ে হয়তো মেয়ের কষ্ট বুঝতে পারছিলেন তিনি।জাবেদা বেগম চুপ করে থেকে তারপর মুখ খুললেন,
“আই, হাত-পা ধুয়ে খাবার খাইয়া নে।”

​শিউলির মাথায় তখন ঝড়ো হলো অন্য চিন্তা। গতকাল রাতে শেষ ফয়সালা কী হয়েছিল। সে তাড়াহুড়ো করে জিজ্ঞেস করল,
“আম্মা, গতকাল আমি অজ্ঞান হওয়ার পর কী হইছিল?”

​জাবেদা বেগম শিউলির কথার উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলেন। শিউলি অস্থির হয়ে বলল,
“ও আম্মা, বলো না কী হইছিলো?”

​জাবেদা বেগম মুখ তুলে অত্যন্ত বিষণ্ণ স্বরে বললেন,
“তোর আর তামিমের বিয়ে ঠিক হইছে। ত্রিশ তারিখেই।”

​কথাটা কর্ণপাত হতেই শিউলির পুরো শরীর বেয়ে কী যেন দৌড়ে গেল। পুরো শরীর অচলের মতো হয়ে গেল। তামিমের সাথে বিয়ে! ওই লোকটার সাথে, যে শিউলির নামে এত বড় অপবাদ দিল? অবশ্য তামিম তো এটাই চেয়েছিল, যাতে শিউলিকে বিয়ে করতে পারে। যখন দেখল তার বাপকে পাঠিয়েও কাজ হচ্ছে না, তখন এই ভয়ংকর খারাপ জিনিসটা করল।

জাবেদা বেগম আবারও বলে উঠল,
“একদিকে ভালাই হয়ছে।এখন সমাজের লোক এই নিয়া কথা কম কইবো।”

শিউলি মায়ের এমন কথায় চমকে তার মায়ের দিকে তাকালো।পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে বলল,
“ভালো হয়ছে?কীভাবে ভালো হইছে?ওই ছেলেটাকে কীভাবে বিয়ে করতে পারি?যে ছেলেটা আমার এত বড় ক্ষতি করল!”

জাবেদা বেগম শিউলির কথা ধীর কন্ঠে বলল,
“তুই ভালোই থাকবি তামিমের লগে।”

শিউলি নিজের মা কে চিনতে পারছে না।তার মা সবসময় নিষ্ঠা শিক্ষা দিয়েছে ছোট থেকে।কিন্তু আজ তিনি কেন এসব বলছেন।তখনি শিউলির মনে প্রশ্ন জাগল।সে নিজের মনের প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করেই ফেলল,
“আচ্ছা মা তুমিও গ্রামের সবার মতো ওই নোংরা মিথ্যা কথাটাই বিস্বাস করো?”

জাবেদা বেগমে শিউলির কথায় থতমত খেয়ে গেলেন।তিনি আর বসলেন না, শুধু রুম থেকে বেরিয়ে গেল।শিউলি জাবেদা বেগমের যাওয়ার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে রইল।শিউলি মনে মনে বিরবির করল,
‘তার মানে সমাজের সকলের মতো আম্মা-ও বিস্বাস করে আমি অপবিত্র,কলঙ্কিত,চরিত্রহীন!কেন আমার কথা বিস্বাস করছে না কেউ?কিন্তু শিমুল ভাই তো ঠিকই বিশ্বাস করল।’

ইচ্ছে হলো ফ্যানে ঝুলে পরতে।কিন্তু তা করা যাবে না।শিমুল ভাইয়ের জন্য হলেও আমাকে বাঁচতে হবে।আমাদের সুন্দর একটা সংসারের জন্য হলেও বাঁচতে হবে।শিমুল ভাইয়ের সাথে এক জনম পার করতে হলেও আমাকে বাঁচতে হবে।
#চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ